Sunday, June 20, 2021

জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ের গুরুত্ব

 



ভুমিকাঃ

ইসলামের প্রতিটি বিধানেই দুনিয়া ও আখিরাতের অসংখ্য কল্যাণ নিহিত আছে। ঈমানের আলোয় উদ্ভাসিত প্রতিটি হৃদয় সেসব কল্যাণ উপলব্ধি ও অবলোকন করে। মুমিনের জীবনে ঈমানের পর আবশ্যকীয় একটি বিধান হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়। এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পদ্ধতিগত বিধান হচ্ছে জামাতে আদায় করা। এই বিধানটিরও তাগিদের সাথে বহুবিধ গুরুত্ব ও ফায়দার কথা হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সালাতের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। যুদ্ধ কি শান্তিসুস্থ কি অসুস্থ  সকল অবস্থায়  এমনকি ওয়াফতের পূর্বে  মৃত্যব্যাধিতে আক্রান্ত অবস্থায়ও তিনি সালাত আদায়ে অবহেলা করেননি  বিন্দুমাত্র । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর  সাহাবিগণ ও পরবর্তীতে তাবেঈন ও উত্তম পূর্বপুরুষগণ সালাতের প্রতি ছিলেন বর্ণনাতীতভাবে ঐকান্তিকএকনিষ্ঠ ।

 

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি  রীতিমতো ঘাবড়ে দেবার মতো। বর্তমানে  অনেক মুসলমানই  সালাত আদায়ে দারুণভাবে উদাসীন।   জুমার  সালাতে মসজিদে উপচে-পড়া ভিড় হচ্ছে ঠিকই তবে  পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে মসজিদের অধিকাংশ জায়গাই থাকে মুসুল্লিশূন্য।

 

সালাত বিষয়ে মুসলমানদের অবহেলার আদৌ কোন কারণ থাকতে পারে না। সালাত বিষয়ে অবহেলার অর্থ ঈমানের একটি মৌলিক দাবিইসলামের একটি প্রধানতম নিদর্শন বিষয়ে  অবহেলা । আর যারা এ ধরনের অবহেলা প্রদর্শনে  অভ্যস্ত  তাদের অপেক্ষায় থাকবে মর্মন্তুদ শাস্তিকঠিন নারকীয় আযাব। 

 

আমাদের পূর্বপুরুষগণ এবং নবীসাহাবীতাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীগণ জামায়াতভুক্তিতে  সালাত আদায়ের  প্রতি  খুবই যত্নশীল ছিলেন। তাদের নিকট এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম এমনকি জামাত  ছুটে গেলে  খুবই মর্মাহত হতেন। তারা। মনোকষ্টে অশ্রু ঝরাতেন।    সমবেদনা জানাতেন একে অপরকে জামাত ছুটে যাওয়ার  কারণে ।

 

জামায়াতে সালাত আদায়  তাদের নিকট দুনিয়ার সম্পদ অর্জনের চেয়েও  অধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   অথচ আমরা দুনিয়ার পিছনেই লেগে রয়েছি মরিয়া হয়ে। দুনিয়ার অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে  এই ভয়ে  অনেক সময় সালাতও  আদায় করছি দেরি করে। শুধু তাই নয় বরং আমাদের মাঝে এমন অনেকই  আছেনযারা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী চাকচিক্যের পিছনে তাড়িত হয়ে সালাত আদায়ই  ছেড়ে দিয়েছে সম্পূর্ণভাবে।

 

প্রিয় ভাইসব! আমাদের অবস্থা আর সালফে সালেহিনের অবস্থার মাঝে অনেক ব্যবধান তাদের নিকট সালাতের গুরুত্ব ছিল অপরিসীমআর আমরা এর অবমাননা করছি হরহামেশা। তারা এর প্রতি যত্নবান ছিলেন। আর আমরা করছি অলসতা। তারা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী চাকচিক্যের ওপর সালাতকে প্রাধান্য দিয়েছেনআর আমরা দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি এবং একে (সালাতকে) পিছনে ফেলে রেখেছি। এর গুরুত্বপূর্ণ ছাওয়াব ও অফুরন্ত ফজিলতের প্রতি তাদের উসাহ ছিল অপরিসীম। আর আমরা এ থেকে বিমুখ।

 

১-আল্লাহ রুকুকারীদের সাথে রুকু করার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন :

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ ﴿البقرة: ٤٣﴾

তোমরা সালাত কায়েম করজাকাত প্রদান কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর। (সূরা বাকারাহ)  অর্থাৎ- সালাত আদায়কারীর সাথে সালাত আদায় কর।

২- আল্লাহ তাআলা ভীষণ ভয়ের সময় জামাতে সালাত পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ তার নবীকে বলেন 

وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِن وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَىٰ لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ﴿النساء: ١٠٢﴾

এবং যখন তুমি তাদের মাঝে থাকতখন তাদের জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠিত করযেন তাদের একদল তোমার সাথে দণ্ডায়মান হয় এবং স্ব-স্ব অস্ত্র গ্রহণ করে: অতঃপর যখন সেজদা সম্পন্ন করে তখন যেন তারা তোমার পশ্চাদ্বর্তী হয় এবং অন্যদলযারা নামাজ পড়েনিতারা যেন অগ্রসর হয়ে তোমার সাথে নামাজ পড়ে এবং স্ব – স্ব সতর্কতা এবং অস্ত্র গ্রহণ করে। (সুরা নিসা:১০২)

 

 

উল্লেখিত আয়াতটি صلاة الخوف সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। এ বিষয়ে ইজমা বিদ্যমান আছে। আর এ কথা নি:সন্দেহে বলা যায় যেভয়ের সময় যদি জামাত ওয়াজিব হয়তবে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময় ওয়াজিব হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।

 

৩-নবী করিম সা: জামাতে সালাত আদয়ের নির্দেশ দেন

তিনি বলেন : 

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانُوا ثَلَاثَةً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ، وَأَحَقُّهُمْ بِالْإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ». ( ﺭﻭﻩ ﻣﺴﻠﻢ : 672 (

যখন তারা তিন জন হবে তখন তাদের একজন ইমামতি করবে আর তাদের মাঝে যিনি ভাল পড়তে পারবে সেই ইমাম হওয়ার জন্য অধিক বিবেচ্য। (মুসলিম:১০৭৭ )

৪- অন্ধ সাহাবি আব্দুল¬হ ইবনে উম্মে মাকতুম রা. জামাতে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকার অনুমতি চাইলে রাসূল সা: তাকে অনুমতি দেননি। তিনি রাসূলের দরবারে এসে বলেন : 

عَنِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ، أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي رَجُلٌ ضَرِيرُ الْبَصَرِ شَاسِعُ الدَّارِ، وَلِي قَائِدٌ لَا يُلَائِمُنِي فَهَلْ لِي رُخْصَةٌ أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِي؟، قَالَ: «هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ»، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «لَا أَجِدُ لَكَ رُخْصَةً» ( ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮﺩﺍﻭﺩ 552: )

ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আমি একজন অন্ধ মানুষআমার বাড়িও অনেক দূরে এবং আমার একজন পথচালক আছে সে আমার পছন্দনীয় নয়। আমার জন্য ঘরে সালাত পড়ার অনুমতি আছে কি রাসূল সা: বললেন তুমি কি আজান শুন বললেন হ্যাঁ। তার পর রাসূল সা. বললেনতাহলে আমি তোমার জন্য জামাতে অনুপস্থিত থাকার কোন অনুমতি দিচ্ছি না। (আবুদাউদ: 552)

 

অন্যান্য বর্ণনায় বর্ণিত আছে তার বাড়ি ও মসজিদের মাঝে খেজুরের বাগান ও অন্যান্য গাছের বাগান বিদ্যমান। শহরটিতে অধিক হারে হিংস্র পশুকীটপতঙ্গ বসবাস করত। তিবরানীর বর্ণনায় এসেছে 

اﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﻟﻪ «مَا أَجِدُ لَكَ مِنْ رُخْصَةٍ، وَلَوْ يَعْلَمُ هَذَا الْمُتَخَلِّفُ عَنِ الصَّلَاةِ فِي الْجَمَاعَةِ مَا لِهَذَا الْمَاشِي إِلَيْهَا لَأَتَاهَا، وَلَوْ حَبْوًا عَلَى يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ» (المعجم الكبير للطبرانى ـ- 7886 )

তিনি বলেন আমি তোমার জন্য অনুমতি দিতে পারছি না। জামাতে সালাত পড়া হতে বিরত ব্যক্তি যদি বুঝতে পারতো জামাতে সালাত পড়ার কি গুরুত্বতাহলে সে নিতম্বদুই হাত ও দুই পায়ে চড়ে হলেও সালাতে উপস্থিত হত। (তিবরাণী)

 

৫-কোন প্রকার অপারগতা ছাড়া জামাত হতে বিরত থাকলে তার সালাতই হয় না।

রাসূল সা: বলেন-

«مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يَأْتِهِ، فَلَا صَلَاةَ لَهُ، إِلَّا مِنْ عُذْرٍ»

যে ব্যক্তি আজান শ্রবণ করার পর সালাতে উপস্থিত হয় না তার সালাতই হয় না। (ইবনে মাজাহ:৭৯৩)

 

৬- জামায়াতে সালাত হতে বিরত থাকা মুনাফেকের নিদর্শন।

আর এর প্রতি অবমাননা এবং তা আদায়ে অলসতা মুনাফিকের আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে :

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا

মুনাফিকরা অবশ্যই প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে অথচ তারা প্রকারান্তরে নিজেদেরই প্রতারিত করছে । বস্তুত তারা যখন সালাতে দাঁড়ায় তারা  দাঁড়ায় একান্ত শিথিলভাবে।    (সূরা নিসা-১৪২)

 

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে :

وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَىٰ

তারা সালাতে আসে আলস্যভরে (সূরা তওবা : ৫৪)

 

 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى المُنَافِقِينَ مِنَ الفَجْرِ وَالعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

 ‘মুনাফেকের জন্য ফজর আর এশার সালাত যত কষ্টকর অন্য আর কোন সালাত অনুরূপ কষ্টকর নয়তারা যদি এ দুটি সালাতের সওয়াব সম্পর্কে জানতোতাহলে নিতম্বে ভর করে হলেও এ দুই সালাতে উপস্থিত হত। (বোখারি: 657; মুসলিমঃ 651)

 

৭-জামাত বাদ দেয়া বান্দার উপর শয়তানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কারণ।

রাসূল সা: বলেন:

«مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْوٍ لَا تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ، فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ»

কোন গ্রাম বা উপত্যকায় তিন জন লোক বিদ্যমানঅথচ সেখানে জামাতে সালাত হয় না তাদের উপর শয়তান প্রাধান্য বিস্তার করবে। সুতরাংতুমি জামাতকে জরুরি মনে কর। কারণবাঘ সাধারণত পাল হতে বিচ্ছিন্ন বকরিটাকেই আক্রমণ করে। (আবু দাউদ: 547)

৮-জামাত ত্যাগ করা আল্লাহর ক্রোধের কারণ হয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

«لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجَمَاعَاتِ، أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ»

সম্প্রদায়ের লোকেরা হয় জামাত ত্যাগ করা হতে বিরত থাকবেঅন্যথায় আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন অতঃপর তারা গাফেল লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (ইবনে মাজাহ: 794)

৭- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামজামাতে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত লোকদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ইচ্ছা করেছেন।

তিনি বলেন :

«لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ المُؤَذِّنَ، فَيُقِيمَ، ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا يَؤُمُّ النَّاسَ، ثُمَّ آخُذَ شُعَلًا مِنْ نَارٍ، فَأُحَرِّقَ عَلَى مَنْ لاَ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ بَعْدُ»

আমার ইচ্ছা হয় মুয়াজ্জিনকে নির্দেশ দিই সে সালাতের একামত বলে আর একজনকে আদেশ করি সে সালাত পড়াবে অতঃপর একটি অগ্নিকুণ্ড নিয়ে বের হই এবং যারা সালাতে উপস্থিত হয়নি তাদের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিই। (বোখারি:৬৫৭)

 

হাদিসে রাসূল ঐ সকল লোকদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ইচ্ছা করেছেনযারা মসজিদে আসেনিতারা ঘরে সালাত পড়ুকঅথবা নাই পড়ুক। জামাতে সালাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য এটাই সব চেয়ে বড় দলিল। আর যদি জামাত মোস্তাহাব হত তাহলে এ ধরনের পুড়িয়ে দেয়ার মত সংকল্প করা কোনভাবেই সম্ভব হত না।

তবে কিছু অপারগতার কারণে জামাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি আছে। যথা
১. যদি মুষলধারে বৃষ্টি হয় (বুখারি : ১১২৬)।
২. প্রচণ্ড ঠাণ্ডাঘর থেকে বের হলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকলে জামাতে শরিক না হওয়ার অবকাশ আছে (বুখারি : ৬২৬)।
৩. রাস্তায় বেশি কাদা হলে (বদরুল মুনির : ৪/৪১৯)।
৪. অতি আঁধার হওয়া (জমউল জাওয়ামে : ১/৩০৫৮)।
৫. রাতে যদি অতিমাত্রায় মেঘ হয় (মুসনাদে আহমাদ : ৫৩০২)।
৬. অসুস্থ হলে (আবু দাউদ : ৪৬৪)।
৭. দৃষ্টিহীন ব্যক্তির জন্য (সহিহ বুখারি : ৬২৭)।
৮. এমন বৃদ্ধযিনি মসজিদে আসতে সক্ষম নন (ইবনে মাজাহ : ৭৮৫)।
৯. কোনো রোগীর সেবাশুশ্রƒষায় আত্মনিয়োজিত থাকলে (প্রাগুক্ত)।
১০. ঘন ঘন প্রস্রাব-পায়খানার বেগ হলে (তিরমিজি : ১৩২)।
১১. বন্দী অবস্থায় (ইবনে মাজাহ: ৭৮৫)।
১২. এক পা বা উভয় পা কর্তিত হলে (আবু দাউদ : ৪৬৪)।
১৩. এমন রোগ হওয়াযার কারণে চলতে অক্ষম। যেমন অর্ধাঙ্গ রোগ ইত্যাদি (প্রাগুক্ত)।
১৪. খানা সামনেসেও ক্ষুধার্তমনের আকর্ষণ খানার দিকে। এমন অবস্থায় জামাতে না গেলেও চলবে (সহিহ বুখারি : ৬৩১)।
১৫. সফরের প্রস্তুতি গ্রহণের সময় (সহিহ বুখারি : ৩/৬৭)।
১৬. জামাতে নামাজ আদায় করতে গেলে কোনো সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জামাত ত্যাগ করতে পারবে (আবু দাউদ : ৪৬৪)।
১৭. জামাতে যাওয়ার কারণে ট্রেনফ্লাইট বা গাড়ি চলে যাওয়ার আশঙ্কা হলে জামাতে শরিক না হওয়ার অনুমতি আছে (আবু দাউদ : ৪৬৪)।

 

ছলফে ছালেহীন জামাতের সালাতকে সীমাহীন গুরুত্ব দেন। এমনকি জামাত তরক করাকে মুনাফেকের নিদর্শন হিসাবে গণ্য করেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রা. বলেন : 

«مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللهَ غَدًا مُسْلِمًا، فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ، فَإِنَّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَنَ الْهُدَى، وَإِنَّهُنَّ مَنْ سُنَنَ الْهُدَى، وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ، لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ، وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ،.............................. وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ، وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ»

যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে সে আগামী দিন আল্লাহর সাথে একজন মুসলমান হিসাবে সাক্ষাৎ করবেসে যেন সালাত সংরক্ষণ করেযখন তার প্রতি আহ্বান করা হয়। কারণআল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য হেদায়াতের পদ্ধতি চালু করেছেনআর সালাত তার অন্যতমযদি তোমরা পশ্চাৎগামী লোকটির ন্যায় ঘরে সালাত আদায় করতবে তোমরা তোমাদের নবীর আদর্শকে ত্যাগ করলে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর আদর্শকে ছেড়ে দাওতাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। অতঃপর তিনি বলেনআমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর যুগে দেখেছি নামাজে উপস্থিত হওয়া থেকে একমাত্র পরিচিত মুনাফেক ছাড়া আর কেউ বিরত থাকতো নাএমনকি কোন কোন লোককে দেখা যেত দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর করে তাকে নিয়ে আসা হত তারপর তাকে সালাতের কাতারে দাঁড় করানো হত। (মুসলিম:১০৪৬)

 

ইবনে ওমর রা. বলেন :

«كُنَّا إِذَا فَقَدْنَا الرَّجُلَ فِي صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَصَلَاةِ الْفَجْرِ أَسَأْنَا بِهِ الظَّنَّ»

আমরা যখন দেখতাম কোন লোক ফজর ও এশার নামাজে অনুপস্থিত তখন তার প্রতি আমরা খারাপ ধারণা করতাম। (সহীহ ইবনে খুঝাইমাঃ 1485; সহীহ ইবনে হিব্বানঃ 2099)

 

জামায়াতে সালাত আদায়ের ফজিলত


জামায়াতে সালাত আদায়ের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক। তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ :

১। সালাত পাপমোচন এবং মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন :

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟ قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: إِسْبَاغُ الوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ، فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ.

 

আমি কি তোমাদের এমন বিষয় জানাব নাযার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহসমূহ মোচন করে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন সাহাবায়ে কেরাম বললেন : জ্বিহে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনতা হচ্ছে কষ্টের সময়ে যথাযথভাবে অযু করামসজিদের দিকে বেশি বেশি পদচারণ করা এবং এক সালাতের পর অন্য সালাতের  অপেক্ষায় থাকা।   ‌এটাই হল  সীমান্ত প্রহরা। (তিরমিজি : ৪৮)


অন্য হাদীসে এসেছেআব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিতরাসূল (সাঃ) বলেছেন,

 

যে ব্যক্তি জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে যায়তার আসা এবং যাওয়ায় প্রতি পদক্ষেপে গুনাহ মিটে যায় এবং প্রতি পদক্ষেপে নেক আমল লেখা হয়। (আহমাদ : ৬৩১১)

২। সালাত শয়তান থেকে হেফাজত করে
হযরত আবু দারদা (রাযি) থেকে বর্ণিততিনি বলেনআমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি :

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْوٍ لَا تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ، فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ»

যে গ্রামে বা মরুপ্রান্তরে তিনজন লোক অবস্থান করে অথচ তারা জামায়াত কায়েম করে সালাত আদায় করে না,  শয়তান তাদের ওপর চরে বসে।   কাজেই জামায়াতে সালাত আদায় করা একান্ত অপরিহার্য। কারণ বাঘ দলছুট বকরীটিকেই উদরস্থ করে  (আবু দাউদ : ৪৬০)

 


৩। নিফাক থেকে পরিত্রাণ এবং জাহান্নাম খেকে মুক্তি
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,

«أَثْقَلُ الصَّلاَةِ عَلَى المُنَافِقِينَ العِشَاءُ وَالفَجْرُ»

এশা ও ফজরের সালাত মুনাফিকদের নিকট সবচেয়ে বেশি ভারী বোঝা বলে মনে হয়। (বুখারি ও মুসলিম : ১৪১১)

রাসুল (সাঃ) আরো বলেন,

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَلَّى لِلَّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى كُتِبَ لَهُ بَرَاءَتَانِ: بَرَاءَةٌ مِنَ النَّارِ، وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ.

যে ব্যক্তি একাধারে চল্লিশ দিন পর্যন্ত প্রথম তকবিরের সাথে জামায়াতে সালাতে আদায় করেতার জন্য দুটি মুক্তি রয়েছে : জাহান্নাম থেকে মুক্তি আর নিফাক থেকে মুক্তি। (তিরমিজি : ২২৪)

«لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنِ الصَّلَاةِ إِلَّا مُنَافِقٌ قَدْ عُلِمَ نِفَاقُهُ، أَوْ مَرِيضٌ، إِنْ كَانَ الْمَرِيضُ لَيَمْشِي بَيْنَ رَجُلَيْنِ حَتَّى يَأْتِيَ الصَّلَاةِ»،

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি) বলেনএক সময় আমাদের অবস্থা এমন ছিল যেএকমাত্র প্রকাশ্য মুনাফিক ব্যতীত আর কেউ জামায়াতে সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকেনি। (মুসলিম : 654)

 

وَقَالَ: «إِنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَّمَنَا سُنَنَ الْهُدَى، وَإِنَّ مِنْ سُنَنَ الْهُدَى الصَّلَاةَ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يُؤَذَّنُ فِيهِ»

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুসলমানগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য সুনানে হুদা বা হিদায়াতের পন্থা নির্ধারিত করে দিয়েছেন। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সাথে মসজিদে আদায় করাই হচ্ছে সুনানে হুদা।  (মুসলিম : 654)

 

صلاة الجماعة من سنن الهدى

«مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللهَ غَدًا مُسْلِمًا، فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ، فَإِنَّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَنَ الْهُدَى، وَإِنَّهُنَّ مَنْ سُنَنَ الْهُدَى، وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ، لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ، وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ،.............................. وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ، وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ»

 [ رواه مسلم ] .

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন, ‘হে মুসলমানগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য সুনানে হুদা বা হিদায়াতের পন্থা নির্ধারিত করে দিয়েছেন। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সাথে মসজিদে আদায় করাই হচ্ছে সুনানে হুদা।


তোমরা যদি তোমাদের ঘরে নামাজ আদায় করা শুরু করযেমন অমুক ব্যক্তি জামাআত ছেড়ে ঘরে নামাজ আদায় করেতাহলে তোমরা তোমাদের নবির সুন্নাত ছেড়ে দিলে। যদি তোমরা নবির সুন্নাত ছেড়ে দাওতাহলে হিদায়াতের পথ থেকে তোমরা বিচ্যুত হয়ে পড়বে। (মুসলিমমিশকাত)


৪। কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ
হযরত বুরাইদাহ (রাযি) থেকে বর্ণিতরাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

عَنْ بُرَيْدَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

অন্ধকার রাতে মসজিদে গমনকারীদের জন্য কেয়ামত দিবসে পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও। (আব‍ু দাউদ : ৪৪৭)

৫। জামায়াতে সালাত আদায়কারী আল্লাহর হেফাজতে
হযরত উমামাহ (রাযি) থেকে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: رَجُلٌ خَرَجَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُ فَيُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، أَوْ يَرُدَّهُ بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ وَغَنِيمَةٍ، وَرَجُلٌ رَاحَ إِلَى الْمَسْجِدِ، فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُ فَيُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، أَوْ يَرُدَّهُ بِمَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ وَغَنِيمَةٍ، وَرَجُلٌ دَخَلَ بَيْتَهُ بِسَلَامٍ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ "

আবূ  উমামা  আল্  বাহেলী (রা)  হতে বর্ণিত।  তিনি  রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) হতে  বর্ণনা  করেন যে তিনি  বলেছেনঃ  তিন  প্রকার  লোকের  প্রত্যেকেই  মহান  আ্লাহ্  তাআলার  জিম্মাদারিতে  থাকে।

১.  যে  আল্লাহর  রাহে  জিহাদ করার  জন্য  বের  হয় সে  আল্লাহর  জিম্মায়  থাকে।  সে  মৃত্যুবরণ  করলে  আল্লাহ্  তাআলা  তাকে  বেহেশতে  প্রবেশ  করান  অথবা  নিরাপদে  ফিরে  এলে  তাকে পূণ্য  এবং  গণীমতের  প্রাপ্য অংশ  দান  করেন।  

২.  যে  ব্যক্তি  জামাআতে  নামায  আদায়ের  উদ্দেশ্যে  মসজিদের  দিকে  ধাবিত  হয়  সেও  আল্লাহর  জিম্মায়  থাকে।  এমতাবস্থায়  সে  যদি  মারা  যায়  তবে  আল্লাহ্  তাআলা  তাকে  বেহেশত  দান  করেন।  আর  মসজিদ  হতে  ফিরে  এলে  তার প্রাপ্য  পুণ্য  ও  যুদ্ধলব্ধ  সম্পদের  অংশীদার  করে (বাড়িতে) ফিরিয়ে দিবেন।  

৩.  যে  ব্যক্তি  নিজ  বাড়িতে  প্রবেশ  করার  সময়  পরিবারের  লোকজনকে  সালাম  দেয়  সেও মহান  আল্লার  জিম্মায়  থাকে।  

 


তাছাড়া নবি (সাঃ) বলেছেনযে ব্যক্তি সকালের সালাত জামায়াতের সাথে আদায় করেসে আল্লাহর জিম্মায় থাকে। যে আল্লাহর জিম্মাকে অবমাননা করবেআল্লাহ তাকে  জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (দারামি : ৩৩৬৭)

 

একটু ভেবে দেখুন! যে ব্যক্তি সকল ফরজ-সালাত জামায়াতের সাথে মসজিদে আদায়  করে তার অবস্থা কত কল্যাণময় হতে পারে ?
৬। মসজিদে সালাত আদায়ে অধিক ছওয়াব
রাসুল (সাঃ) বলেন,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " صَلاَةُ الجَمِيعِ تَزِيدُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ، وَصَلاَتِهِ فِي سُوقِهِ، خَمْسًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ، وَأَتَى المَسْجِدَ، لاَ يُرِيدُ إِلَّا الصَّلاَةَ، لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً، وَحَطَّ عَنْهُ خَطِيئَةً، حَتَّى يَدْخُلَ المَسْجِدَ، وَإِذَا دَخَلَ المَسْجِدَ، كَانَ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَتْ تَحْبِسُهُ، وَتُصَلِّي - يَعْنِي عَلَيْهِ المَلاَئِكَةُ - مَا دَامَ فِي مَجْلِسِهِ الَّذِي يُصَلِّي فِيهِ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، مَا لَمْ يُحْدِثْ فِيهِ "

জামায়াতের সাথে  সালাত আদায়  ঘরে বা বাজারের সালাতের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি ছওয়াবের অধিকারী বানায়। আর এটা এভাবে যেযখন সে অযু করে খুব সুন্দর করে । এবং  (সালাতের জন্য) মসজিদের উদ্দেশে বের হয়। এ অবস্থায় সে যতবার পা ফেলে,  প্রতিবারের পরিবর্তে একটি করে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে গুনাহ ক্ষমা করা হয়। তারপর যখন সে সালাত আদায় করতে থাকেফেরেশতাগণ তার জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকেন। যতক্ষণ সে সালাতের জায়গায় বসে  থাকে ফেরেশতারা তার জন্য এই বলে দোয়া করেনহে আল্লাহ! এই ব্যক্তির ওপর রহমত নাযিল কর। হে আল্লাহ! এর ওপর দয়া কর। আর যতক্ষণ সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেততক্ষণ সে সালাতের অর্ন্তভুক্ত থাকে। ’ (বুখারি ও মুসলিম : ৬১১)

 

অপর এক হাদীস ২৭ গুণ বেশি সাওয়াবের কথা বলা হয়েছে,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «صَلاَةُ الجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلاَةَ الفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً» (مُتَّفق عَلَيْهِ)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তির জামাআতের সালাত তার একাকী পড়া সালাত অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।’ (বোখারীঃ 645; মুসলিমঃ 650)

 


রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

عَنْ أبي هريرة t عن النَبِيِّ ﷺ قَالَمنْ غدَا إِلَى المَسْجِدِ أَوْ رَاحَ، أعدَّ اللَّهُ لَهُ في الجنَّةِ نُزُلاً كُلَّمَا غَدا أوْ رَاحَ متفقٌ عَلَيهِ.

যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় মসজিদে গমন করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেনযতবার সে সকালে বা সন্ধ্যায় গমন করে ততবারই। (বুখারি ও মুসলিম : ৬২২)


আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত,

عن أبي أمامة رضي الله عنه قالقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من خرج من بيته متطهراً إلى صلاة مكتوبة فأجره كأجر الحاج المحرِم"،

রাসুল (সাঃ) বলেনযে ব্যক্তি নিজ গৃহ থেকে পবিত্র হয়ে ফরয সালাতের জন্য বের হয়তার ছওয়াব একজন হজ পালনকারীর ছওয়াবের সমান। (আবু দাউদ : ৪৭১)

 

জামাতে নামাজ আদায় করলে সারা রাত ইবাদতের সওয়াব লাভ করা যায়। রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন,

عن عُثمانَ بنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عنه، قال: قال رسولُ اللهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم((مَن صلَّى العِشاءَ في جماعةٍ، فكأنَّما قامَ نِصفَ اللَّيل، ومَن صلَّى الصبحَ في جماعةٍ فكأنَّما صلَّى اللَّيلَ كُلَّه  ))

যে ব্যক্তি ইশার নামাজ জামাতে আদায় করে সে যেন অর্ধরাত্রি ইবাদত করল। আবার যদি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে তবে সে যেন পূর্ণ রাত ইবাদত করল (মুসলিম- 656)।

 

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَلَتِ الْبِقَاعُ حَوْلَ الْمَسْجِدِ فَأَرَادَ بَنُو سَلِمَةَ أَنْ يَنْتَقِلُوا إِلَى قُرْبِ الْمَسْجِدِ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُمْ ‏"‏ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِدِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَرَدْنَا ذَلِكَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ يَا بَنِي سَلِمَةَ دِيَارَكُمْ تُكْتَبْ آثَارُكُمْ دِيَارَكُمْ تُكْتَبْ آثَارُكُمْ ‏"‏ ‏.

 


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযি) থেকে বর্ণিততিনি বলেনবনু সালামাহ গোত্র মসজিদের কাছে স্থানান্তরিত হতে মনস্থ করল। তিনি বলেনজায়গা খালি ছিল। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি তাদেরকে বললেনহে বনি সালামাহ! তোমরা তোমাদের বর্তমান বাসস্থানগুলো ধরে রাখ। মসজিদে গমনাগমনের পদক্ষেপগুলো তোমাদের জন্যে লিখে রাখা হবে। তারা বললেনস্থানান্তরিত হওয়া আমাদের কিই-বা আনন্দ দিতে পারে! (মুসলিম: ১০৬৯)


৭। কেয়ামত দিবসে আরশের নিচে ছায়া পাবেন
সাহাবি আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাঃ)  বলেছেন,

سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ، يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ: الإِمَامُ العَادِلُ، وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي المَسَاجِدِ، وَرَجُلاَنِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ، أَخْفَى حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ "

সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা ছায়া দান করবেন ঐ দিনযেদিন আল্লাহর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হল ঐ ব্যক্তি যার হৃদয় মসজিদের সাথে লাগানো। অর্থা সালাত ও জামায়াতের প্রতি আন্তরিকভাবে আগ্রহী। (বুখারি ও মুসলিম : ৬২০)

৮। আল্লাহ তায়ালা মুসল্লির আগমনে খুশি হন
রাস‍ল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

 

 তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পরিপূর্ণভাবে অযু করেঅতঃপর শুধু সালাতের উদ্দেশ্যেই মসজিদে আসেতবে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি এমন খুশি হন যেরূপ খুশি হয় নিরুদ্দেশ ব্যক্তির আচম্বিতে ফেরে আসায়  তার পরিবারের সদস্যরা । (ইবনু খুযাইমাহ : ৮১৩১)


৯। একাগ্রতা অর্জন ও অন্তর বিগলিত হওয়ার উপকরণ
কোনো মুসলিম যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন দুনিয়ার সকল ব্যস্ততা থেকে সে নিজেকে মুক্ত করে নেয়। আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হয়অতঃপর সে মসজিদে আগত মুসল্লিদের আল্লাহর সামনে  রুকু-সিজদারত অবস্থায় দেখে। যিকির এবং কোরআন তিলাওয়াত প্রত্যক্ষ করে। আল্লাহর কালাম স্বকর্ণে শোনার সুযোগ পায়। এসব থেকে  সে বুঝতে পারে এ ময়দান আল্লাহ ও তার  জান্নাত লাভের উদ্দেশে প্রতিযোগিতার ময়দান। আর এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাকারীরাই  আন্তরিকতা ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়।


১০। পারস্পরিক আন্তরিকতা ও মহব্বত সৃষ্টি করে
জামায়াতে সালাত আদায়ের মাধ্যমে মুসলমানগণ দিন ও রাতে পাঁচবার পরস্পর মিলিত হয়। তাদের মাঝে সালাম বিনিময় হয়। একে অপরের  খোঁজ-খবর নেয়। হাসিমুখে একে অন্যের সাথে সাক্ষাত করে। এসব বিষয় পারস্পরিক মহব্বতভালবাসা এবং একে অপরের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেয়।


১১। আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের নিকট মুসল্লিদের নিয়ে গর্ব করেন
হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রাযি) থেকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)  বলেন,

" أَبْشِرُوا، هَذَا رَبُّكُمْ قَدْ فَتَحَ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ السَّمَاءِ، يُبَاهِي بِكُمُ الْمَلَائِكَةَ، يَقُولُ: انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي قَدْ قَضَوْا فَرِيضَةً، وَهُمْ يَنْتَظِرُونَ أُخْرَى "

 তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করতোমাদের প্রভু আসমানের দরজাসমূহের একটি দরজা খুলেছেন। সেখানে তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট গর্ব করে বলেনদেখ আমার বান্দাদেরকেতারা একটি ফরজ আদায় করেছে এবং আরেকটি ফরজের জন্য অপেক্ষা করছে। (আহমাদইবনে মাজাহ্‌ : ৭৯৩ )


১২। অজ্ঞ লোকের শিক্ষা এবং বিজ্ঞের উপদেশ
যে ব্যক্তি জামায়াতের সাথে মসজিদে সালাত আদায় করেসে সালাতের আহকামআরকানসুন্নাত ইত্যাদি বিষয়গুলো আহলে ইলম থেকে শিখতে পারে । আহলে ইলমের সালাত দেখে উক্ত ব্যক্তি নিজের ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন করে নেয়। এমনিভাবে ওয়াজ-নসিহত শুনে ভাল কাজে উসাহিত হয়মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে। এতে সে অনেক উপকৃত হয়যা ঘরে সালাত আদায় করে আদৌ সম্ভব নয়।


১৩। আল্লাহ তায়ালা মুগ্ধ হন
কতই না সৌভাগ্য ঐ ব্যক্তিরযার আমল দেখে সৃষ্টিকর্তা মুগ্ধ হন। হযরত ইবনে উমর থেকে বর্ণিততিনি বলেনআমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি : নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা জামায়াতে সালাত আদায় করাতে মুগ্ধ হন। (আহমাদ)

 

১৪। ছওয়াব লেখা এবং আসমানে উঠানোর ব্যাপারে ফেরেশতাগণ বির্তক করেন

ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিততিনি বলেনরাসূলুল্লাহ (সাঃ)  বলেছেন,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَانِي اللَّيْلَةَ رَبِّي تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ،، قَالَ أَحْسَبُهُ فِي الْمَنَامِ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلَأُ الأَعْلَى؟ قَالَ: قُلْتُ: لاَ،قَالَ: فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَيَّ أَوْ قَالَ: فِي نَحْرِي، فَعَلِمْتُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلَأُ الأَعْلَى؟ قُلْتُ: نَعَمْ، فِي الكَفَّارَاتِ، وَالكَفَّارَاتُ الْمُكْثُ فِي الْمَسَاجِدِ بَعْدَ الصَّلاَةِ، وَالْمَشْيُ عَلَى الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ، وَإِسْبَاغُ الوُضُوءِ فِي الْمَكَارِهِ، وَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ عَاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ، وَكَانَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ،

একরাতে আল্লাহ তায়ালা এক জ্যোর্তিময় অবস্থায় আমার নিকট এলেন । তিনি বলেনসম্ভবত তা নিদ্রায় হবে। এসে বললেন : হে মুহাম্মদ ! ঊর্ধ্বজগতে কি নিয়ে বিতর্ক হয় তুমি জানআমি বললামনা। তিনি বলেনঅতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেনআমি তার শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। (অথবা বললেন আমার গলায়) তখন বুঝতে পারলাম আসমান জমিনের মাঝে কি হচ্ছে তিনি বললেন : হে মুহাম্মদ! তুমি জান উপর আসমানে কি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে আমি বললাম : হ্যাঁকাফফারা সম্পর্কে। কাফফারা হল সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা। পায়ে হেঁটে জামায়াতের জন্য গমন করাকষ্টের সময়েও পুরোপুরি অযু করা। যে ব্যক্তি এটা করবে সে কল্যাণময় জীবন যাপন করবে এবং তার মৃত্যু মঙ্গলময় হবে । তার গুনাহগুলো মিটে এমন হবে যেন সে তার মায়ের উদর থেকে আজই জন্মগ্রহণ করল। (তিরমিজি : ৩১৫৭)


১৫। ভাল কাজের প্রতিযোগিতায় অভ্যস্ত এবং নফলের প্রতি উসাহিত করে
আবু হুরাইরা (রাযি) থেকে বর্ণিতরাসুলুল্লাহ (সাঃ)  বলেছেন,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ، ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي العَتَمَةِ وَالصُّبْحِ، لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا»

যদি লোকেরা জানত আজান এবং প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কি আছেআর লটারির মাধ্যম ছাড়া তা অর্জন করার অন্য কোন পথ না থাকততাহলে তারা অবশ্যই লটারি করত। যদি তারা জানত গরমের সময় ভর দুপুরে মসজিদে যাওয়ার কি ফজিলততাহলে অবশ্যই তার জন্যে প্রতিযোগিতা করত। যদি তারা এশা ও ফজরের সালাতের মধ্যে কি মর্যাদা আছে জানতে পারততাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ দুটি সময়ের সালাতে শামিল হত। (বুখারি ও মুসলিম: ৫৮০)


অনুরূপভাবে সালাতের সাথে সালাত আদায়  ব্যক্তিকে নফল সালাত আদায়েও অভ্যস্ত করে তুলে। যে ব্যক্তি সালাত কায়েমের পূর্বে মসজিদে আসেসে তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের সুযোগ পায়,  সুন্নাত পড়ার সুযোগ পায়কোরআন তিলাওয়াতদোয়া ইসতিগফার ইত্যাদির সুযোগ পায়। আর কিছু না করলেও অন্তত সালাতের অপেক্ষায় চুপ করে বসে থাকতে পারে। আর এ সময় ফেরেশতাগণ তার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকে যে,  হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করতার প্রতি রহম কর।

 

আবু হুরায়রাহ (রাযি) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে,  তিনি বলেন 

قال صلى الله عليه وسلم : (( صلاة الرجل في جماعة تَضْعفُ على صلاته في بيته وفي سوقه خمساً وعشرين ضعفاً ، وذلك أنه إذا توضأ فأحسن الوضوء ثم خرج إلى المسجد ، لا يُخْرِجُه إلا الصلاة ، لم يخطُ خطوة إلا رُفِعَت له بها درجة ، وحُطّ عنه بها خطيئة ، فإذا صلَّى لم تزل الملائكة تُصلِّي عليه ، ما دام في مُصَلاّه ما لم يُحْدِث : اللهم صلّ عليه ، اللهم ارحمه ، ولا يزال في صلاة ما انتظر الصلاة )) [ متفق عليه ] .


রাসুলুল্লাহ (সাঃ)  বলেছেনতোমাদের কোনো ব্যক্তি যখন সালাতের জন্য নিজের মহল্লায় অপেক্ষা করতে থাকেতখন ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ তার অযু ভঙ্গ না হয়। ফেরেশতাগণ বলতে থাকেআল্লাহ! তুমি একে ক্ষমা করহে আল্লাহ! তুমি এর ওপর রহম কর। (মুসলিম : ১০৬৩)

 

عن أبي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عنه، أنَّ النبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم، قال((يَتعاقبونَ فيكم ملائكةٌ باللَّيلِ وملائكةٌ بالنَّهار، ويَجتمعون في صلاةِ الفجرِ وصلاةِ العَصرِ، ثم يَعرُجُ الذين باتوا فيكم، فيسألُهم ربُّهم- وهو أعلمُ بهم- كيف تركتُم عبادي؟ فيقولون: تَركناهُم وهم يُصلُّون، وأتيناهم وهم يُصلُّون  ))  (6) .


6- 
عن عُثمانَ بنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عنه، قال: قال رسولُ اللهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم((مَن توضَّأَ للصلاةِ فأَسْبَغَ الوضوءَ، ثمَّ مشَى إلى الصَّلاةِ المكتوبةِ فصلَّاها مع الناسِ، أو مع الجماعةِ، أو في المسجِدِ، غَفَرَ اللهُ له ذُنوبَه  ))  (7) .


7- 
عن أُبيِّ بن كَعبٍ رَضِيَ اللهُ عنه، قال: قال رسولُ اللهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم((صلاةُ الرَّجُلِ مع الرَّجُلِ أَزْكى من صلاتِه وحْدَه، وصلاتُه مع الرَّجُلينِ أزْكى من صلاتِه مع الرجُلِ، وما كثُرَ فهو أحبُّ إلى اللهِ عزَّ وجلَّ  )) 

 

غُفران الذُّنوب
3- وقال صلى الله عليه وسلم : (( من توضّأ فأَسْبَغ الوضوء ، ثم مشى إلى صلاة مكتوبة فصلاّها مع الإمام ، غُفِرَ له ذنبه )) [ رواه ابن خزيمة وصحَّحه الألباني ] .

 

মহিলাদের জামায়াতে অংশগ্রহণ সম্পর্কে হাদীসঃ

তবে মহিলাদের সম্পর্কে রাসূল (সাঃবলেন,

 

মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বিরত রেখ না তবে (নামায পড়ার জন্য) ঘরই তাদের জন্য উত্তম। আবূ দাউদ।

 

জামায়াতে সালাতের  সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব

জামায়াতে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সমাজে গড়ে ওঠে ভ্রাতৃত্বঐক্যসংহতিশৃঙ্খলাবোধনিয়মানুবর্তিতা এবং নেতার

প্রতি আনুগত্য। একটি আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য সালাতের শিক্ষা খুবই কার্যকর। দৈনিক পাঁচ বার সালাত আদায় করার জন্য উত্তম রূপে পাক পবিত্র হতে হয়। উযূ-গোসল করতে হয়। উযূর পূর্বে মিসওয়াক করা সুনড়বাত। এতে মুখ পরিষ্কার হয়। উযূ গোসলের মাধ্যমে বিভিনড়ব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করতে হয়- এর ফলে শারীরিক পরিচ্ছনড়বতা আসে। শারীরিক পরিচ্ছনড়বতার সাথে সাথে মনকেও যাবতীয় কুচিšÍ হতে মুক্ত করতে হয়। এতে মানসিক প্রশান্তি আসে। তাছাড়া সালাত আদায় করতে হলে ওঠা-বসা করতে হয়। এর মাধ্যমে দৈহিক কসর হয়। এতে দেহ সতেজ সবল হয় এবং দেহ মনে প্রফুল্লতা আসে। সালাতের এতসব কর্মকান্ডের কারণে মুসল্লি দৈহিক দিক থেকে ও মানসিক দিক থেকে অনেক রোগ-শোক ও টেনশন থেকে মুক্ত থাকেন। পবিত্র দেহ মন নিয়ে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার প্রেরণায় উজ্জীবিত হন।

 




 

No comments:

Post a Comment