Thursday, December 3, 2020

মুনাজাতের শেষে কালেমা তাইয়্যেবা পড়া কি আবশ্যক?





প্রশ্নঃ

কালিমার পাঠের মাধ্যমে দোআ-মোনাজাত শেষ করাকে জরুরি মনে করা।

বা, মুনাজাতের শেষে কালেমা তাইয়্যেবা পড়া কি আবশ্যক?

বা, মুনাজাতের শেষে কালেমা তাইয়্যেবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ দ্বারা মুনাজাত শেষ করায় ইসলামের বিধান কী? এ সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্যই বা কী?

উত্তরঃ

نحمده ونصلى على رسوله الكريم وعلى اله واصحابه اجمعين

উপমহাদেশের অধিকাংশ দোয়া-মুনাজাতে কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ দ্বারা মুনাজাত শেষ করা হয়। রাহে বেলায়াত গ্রন্থ এসেছে,কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ দ্বারা মুনাজাত শেষ করায় হাদিস কিংবা সাহাবাদের শিক্ষা বা কর্মের মধ্যে পাওয়া যায়নি। কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ মুসলমানদের ঈমানের ভিত্তি। আল্লাহর জিকির-আজকারের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির। মুনাজাত শেষ করতে কিংবা অন্য কোনো সময় এ কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পাঠ করা অবৈধ নয়। তবে এটাকে সুন্নাত মনে করে কিংবা রীতি হিসেবে স্থায়ী করে নেয়া সুন্নাত পরিপন্থী। সুন্নাতের পরিপন্থী কোনো কিছুকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ উচিত নয়।

নিয়মিত কোনো কাজে কোনো বিষয়ের ব্যবহার সুন্নাত পরিত্যাগ বা সুন্নাতের অবহেলা করার মতো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। তাই যে জিকির যেখানে যেভাবে করার জন্য হাদিসে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেভাবে তা আদায় করাই উত্তম এবং অধিক সাওয়াবের কাজ। সাহাবায়ে কেরাম আজীবন অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে দোয়া মুনাজাত করেছেন। তারা নিয়মিত তো দূরের কথা কখনো কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ দ্বারা মুনাজাত শেষ করেছেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সুন্নাতের বাইরে কোনো রীতি বা কাজে সাহাবায়ে কেরামসহ কোনো বুজুর্গানে দ্বীনের আগ্রহ ছিল না। তাঁদের একমাত্র আদর্শ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যেহেতু হাদিসে কিংবা সাহাবাদের জীবনে কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এর ব্যবহার ছিল না তাই কালেমাকে রীতি হিসেবে নিয়ে মুনাজাত শেষ করায় বিশেষ ফজিলত আছে মনে করাও ঠিক নয়।

দুআর একটি আদব হলআল্লাহর হামদ-ছানা (প্রশংসা) ও দরূদ শরীফ দ্বারা দুআ শুরু করা এবং শেষ করা। তাছাড়া হাদীস থেকে এ-ও বুঝা যায় যে,দুআ সমাপ্ত হবে ‘আমীন’-এর মাধ্যমে ।

أَبُو مُصَبِّحٍ الْمَقْرَائِيُّ، قَالَ: كُنَّا نَجْلِسُ إِلَى أَبِي زُهَيْرٍ النُّمَيْرِيِّ، وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ، فَيَتَحَدَّثُ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ، فَإِذَا دَعَا الرَّجُلُ مِنَّا بِدُعَاءٍ قَالَ: اخْتِمْهُ بِآمِينَ، فَإِنَّ آمِينَ مِثْلُ الطَّابَعِ عَلَى الصَّحِيفَةِ، قَالَ أَبُو زُهَيْرٍ: أُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ؟ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ قَدْ أَلَحَّ فِي الْمَسْأَلَةِ، فَوَقَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَسْتَمِعُ مِنْهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوْجَبَ إِنْ خَتَمَ»، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: بِأَيِّ شَيْءٍ يَخْتِمُ؟ قَالَ: «بِآمِينَ، فَإِنَّهُ إِنْ خَتَمَ بِآمِينَ فَقَدْ أَوْجَبَ»، فَانْصَرَفَ الرَّجُلُ الَّذِي سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَى الرَّجُلَ، فَقَالَ: اخْتِمْ يَا فُلَانُ بِآمِينَ، وَأَبْشِرْ، وَهَذَا لَفْظٌ مَحْمُودٌ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «الْمَقْرَاءُ قَبِيلٌ مِنْ حِمْيَرَ»

আবু মুসাব্বিহ আল মাকরাঈ (র) বলেন, আমরা হযরত আবু যোহাইর আন নুমাইরী (রা)-র খিদমতে বসতাম এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) এর একজন প্রিয় সাহাবী ছিলেন। তিনি উত্তম হাদিস সমূহ বর্ণনা করতেন। অতঃপর আমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি যখন কোনরূপ দোয়া করত তখন তিনি বলতেন, তোমরা আমীন শব্দের উপর দোয়া শেষ করবে। কেননা আমীন শব্দটি ঐশী গ্রন্থের মোহর বা সিলস্বরূপ। এ প্রসঙ্গে আমি তোমাদের কাছে একটি ঘটনা বর্ণনা করতে চাই।

এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে বাইরে গমন করি। এসময় আমরা এমন এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হই, যিনি অনেক অনুনয়-বিনয় সহকারে দোয়া করেন। নবী করীম (সা) তার কথা শ্রবণের জন্য সেখানে দণ্ডায়মান হন। তখন নবী করীম (সা) বলেন, যদি সে শেষ করে তবে তার দোয়া কবুল হবে। এ সময় সমবেত লোকদের মধ্য হতে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: সে কোন জিনিসের উপর দোয়া শেষ করবে? তিনি বলেন তিনি বলেন, যদি সে আমীনের উপর দোয়া শেষ করে। কেননা যদি সে আমীনের উপর তার দোয়া সমাপ্ত করে তবে তবে তার দোয়া কবুল হবে। অতঃপর প্রশ্নকারী ব্যক্তি দোয়ায় রত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়, যিনি তখন দোয়ার মধ্যে মশগুল ছিলেন। তখন তিনি তাকে বলেন, তুমি আমীন শব্দের উপর তোমার দোয়া শেষ কর এবং সাথে সাথে দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ কর।

AbuMisbah al-Muqra'i said: We used to sit in the company of AbuZuhayr an-Numayri. He was a companion of the Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam), and he used to narrate good traditions. Once a man from among us made a supplication. He said: End it with the utterance of Amin, for Amin is like a seal on the book.

AbuZuhayr said: I shall tell you about that. We went out with the Messenger of Allah (sallallahu 'alaihi wa sallam) one night and came upon a man who made supplication with persistence. The Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam) waited to hear him. The Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam) said: He will have done something which guarantees (Paradise for him) if he puts a seal to it. One of the people asked: What should he use as a seal? He replied: Amin, for if he ends it with Amin, he will do something which guarantees (Paradise for him).

 

Then the man who questioned the Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam) came to the man who was supplicating, and said to him: So-and-so, end it with Amin and receive the good news. These are the words of Mahmud.

কিন্তু অনেক মানুষকে দেখা যায়তারা দুআ শেষ করেন কালিমার মাধ্যমে। এভাবে বলে থাকেন-

হে আল্লাহ! মৃত্যুর সময় যবানে জারি করে দিও- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ  অথবা বলেন,

اجعل آخر كلامنا عند الموت "لا إله إلا الله، محمد رسول الله".

অর্থাৎ কালিমার মাধ্যমে তারা দুআ শেষ করেন। এটি দুআর আদব নয়বরং এর কারণে দুআ সমাপ্ত করার মাসনূন আমল ছুটে যায়।

হাঁ, দুআর মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থনা যেহে আল্লাহ আমার শেষ কথা হোক তোমার কালিমা। হাদীস শরীফে এসেছে-

مَنْ كَانَ آخِر كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ.

যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সে জান্নাতে যাবে। -সুনানে আবূ দাউদহাদীস ৩১১৬

কিন্তু কালিমার মাধ্যমে দুআ শেষ করা একটি রসম মাত্র।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়া-মুনাজাত, জিকির-আজকারসহ যাবতীয় আমল সুন্নাত অনুযায়ী করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

صلى الله على النبى الكريم وعلى اله واصحابه اجمعين

No comments:

Post a Comment