২৯ সেপ্টেম্বরঃ বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস।
![]() |
| শিশুদের অধিকার |
ভূমিকা
আরবীতে একটা প্রবাদ আছে যার বাংলা অর্থ হলো “প্রত্যেক ব্যক্তির নাম অনুযায়ী তার নসীব।” আর শেক্রপীয়ারের উক্তি হলো “ভাল নাম নর-নারীর মনের মুকুরের প্রত্যক্ষ মণি।” প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের নাম গুলো সুন্দর রাখো।” ইসলামী ভাবধারা সম্বলিত নামকরণ ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামকরণ অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তা, চেতনা ও মানসিকতার উপর প্রভাব ফেলে এবং নামের দ্বারা মানুষের ব্যক্তিত্বেরও বিকাশ ঘটে। তাই শিশু জন্মলাভের পর তার জন্যে ভাল ও সুন্দর নামকরণ করা উচিত।
নাম নিয়ে রম্য কথা
আমাদের দেশে অনেক পিতা-মাতাই সন্তান জন্মলাভের পর তার জন্যে একটি ভাল সুন্দর নামের জন্যে পেরেশানী ভোগ করেন। বিভিন্ন বই পত্রে খুজতে থাকেন একটি সুন্দর নাম। বিভিন্ন ব্যক্তিদের নিকট বলে থাকেন আমাকে একটি সুন্দর নাম দিন। ইদানীং আমাদের কারো মধ্যে এমন প্রবণতাও দেখা দিয়েছে যে, সন্তানের জন্যে এমন একটি নাম হওয়া চাই, যা অত্র মহল্লায়, গ্রামে, ইউনিয়নে, থানায় কারোর নেই। এ প্রবণতার বশবর্তী হয়ে কেউ কেউ সন্তানের জন্যে এমন অদ্ভুত ও বিচিত্র নামকরণ করে থাকেন, যে নাম মহল্লায় বা গ্রামে পাওয়া তো দূরের কথা কেবল নাম শুনে বুঝার কোনো উপায় নেই যে, এটা কোন মানুষের নাম, নাকি জীবজন্তু বা পশু-পাখির নাম। আর মানুষের নাম হলে সে কি ছেলে না মেয়ে? মুসলিম নাকি অমুসলিম। যেমন
প্রচলিত কিছ ু ভুল নামের নমুনা
(দুঃখিত) আব্দুন্নববী, আব্দুর রাসূল, গোলাম নবী, গোলাম রসূল, গোলাম মুহাম্মাদ, গোলাম আহমাদ, গোলাম মুছতফা, গোলাম মুরতযা, নূর মুহাম্মাদ, নূর আহমাদ, মাদার বখ্শ, পীর বখ্শ, রূহুল আমীন, সুলতানুল আওলিয়া প্রভৃতি। এতদ্ব্যতীত (১) অহংকার মূলক নাম, যেমন খায়রুল বাশার, শাহজাহান, শাহ আলম, শাহানশাহ প্রভৃতি; (২) নবীগণের উপাধি, যেমন আবুল বাশার, নবীউল্লাহ, খলীলুল্লাহ, কালীমুল্লাহ, রূহুল্লাহ, মুহাম্মাদ আবুল কাসেম; (৩) কুরআনের আয়াতসমূহ, যেমন আলিফ লাম মীম, ত্বোয়াহা, ইয়াসীন, হা-মীম, লেতুনযেরা; (৪) অনর্থক নাম, যেমন লায়লুন নাহার, ক্বামারুন নাহার, আলিফ লায়লা ইত্যাদি। (৫) কুখ্যাত যালেমদের নাম, যেমন নমরূদ, ফেরাঊন, হামান, শাদ্দাদ, ক্বারূণ, মীরজাফর প্রমুখ । (৬) এতদ্ব্যতীত শী‘আদের অনুকরণে নামের আগে বা পিছে আলী, হাসান বা হোসায়েন নাম যোগ করা। (৭) এছাড়াও ঝন্টু, মন্টু, পিন্টু, মিন্টু, হাবলু, জিবলু, বেল্টু, শিপলু, ইতি, মিতি, খেন্তী, বিন্তী, মলী, নিভা, টিটো, ময়না, পাখি, চাপা, কেয়া, পপি, ডলি, পলি, বেবী, দিপ্তী, রিতা, টিংকু, সেতু, রিংকু, পিংকু, চঞ্চল, রেনুকা, লতা, পাতা, নাট, বল্টু, স্ক্রু ইত্যাদি অর্থহীন নামসমূহ।
আবার কেউ কেউ সন্তানের জন্যে দু’টি নাম নির্বাচন করে থাকেন। একটি হচ্ছে ‘ডাক নাম’। এ নামটি রাখা হয় অতি সংক্ষিপ্ত। এটি অনেক ক্ষেত্রে হয় অর্থহীন নাম। সবাই তাকে এ নামে ডাকে এবং এ নামে সে পরিচিতি লাভ করে। অপরটি হচ্ছে ‘আসল নাম’। এ নামটি প্রায় সবাই একটু বড় করে অর্থবহ নাম করণের চেষ্টা করেন। আসল নামটি কেবল কাগজে কলমে অর্থাৎ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সার্টিফিকেট, চাকুরী ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আসলে, যে নামে সন্তান পরিচিতি লাভ করবে এবং যে নামে সবাই সন্তানকে আজীবন ডাকবে সে নামটি অবশ্য হওয়া উচিত ভালো ও সন্দুর নাম।
ইসলামে নামকরণের গুরুত্ব
ইসলামে নামকরণের গুরুত্ব অপরিসীম। যে কোন জিনিসকেই চিহ্নিতকরণ বা শনাক্তকরণের জন্যে এর নামকরণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু চিহ্নিতকরণ বা শনাক্তকরণেই নামকরণের আসল বা একমাত্র উদ্দেশ্য নয়; বরং ইসলামী ভাবধারা সম্বলিত নামকরণ হচ্ছে ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামে নামকরণ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম তাকে বিভিন্ন জিনিসের নাম শিক্ষা দিয়ে বলেন,
وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَۖ قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ﴿البقرة: ٣١-٣٢﴾
“আর আল্লাহ শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রী ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক। তাঁরা বলল, আপনি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে আপনি আমাদেরকে যা কিছু শিখিয়েছেন (সেগুলো ব্যতীত)। নিশ্চয় আপনি প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, বিজ্ঞ ।” -সূরা বাক্বারা ঃ ৩১-৩২
পবিত্র কুরআনের যে আয়াতটি সর্ব প্রথম নাযিল করা হয়েছে, সেখানেও আল্লাহ তা’আলা নামের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বলা হয়েছে,
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ﴿العلق: ١﴾
“পাঠ করুন ! আপনার পালনকর্তার নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন।” -সূরা আলাক্ব ঃ ১
নাম করণের মূল উদ্দেশ্য যদি কেবলমাত্র শনাক্তকরণই হতো, তাহলে সন্তান ভ‚মিষ্ঠ হবার পর পিতা-মাতা হয়তো সন্তানকে চিহ্নিত বা শনাক্তকরণের জন্যে ১,২,৩ বা অন্য কোন সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতেন এবং সে অংক সংখ্যা বা চিহ্ন দিয়েই সন্তানকে ডাকতেন, আর সন্তানের ভাল নামকরণের জন্যে পিতা-মাতা পেরেশানী ভোগ করতেন না। অন্যদিকে নামকরণের দ্বারা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তা, চেতনা ও মানসিকতারও উন্নতি ঘটে। তাই সন্তানের নামকরণ যেমন উত্তম হতে হবে, তেমনি তা হতে হবে ইসলামী ভাবধারায় পরিপূর্ণ, যাতে নামের দ্বারাই বুঝা যায় যে, লোকটি মুসলমান।
সন্তানের নামকরণের সময়কাল
সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে অথবা এর পূর্বে যে কোন দিন শিশুর নামকরণ করা যায়। এ ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম প্রসারিত। এমনকি কোন কারণে তিন বা সাত দিনে শিশুর নামকরণ করা না হলে পরেও করা জায়েয। এতে ইসলামী শরীয়ায় কোন বাঁধা-নিষেধ নেই বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন। তবে বিলম্ব না করে জন্মের পর পরই তাড়াতাড়ি নামকরণ করা সুন্নত বা উত্তম। এতে তাকে শনাক্তকরণে বা চিহ্নিতকরণে সুবিধা হয়। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে,
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: ্রعَقَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ حَسَنٍ وَحُسَيْنٍ يَوْمَ السَّابِعِ وَسَمَّاهُمَا، وَأَمَرَ أَنْ يُمَاطَ عَنْ رَأْسِهِ الْأَذَىগ্ধ (صحيح ابن حبان)
“রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হাসান (রাঃ) ও হোসাইনের (রাঃ) আকীকা করলেন জন্মের সপ্তম দিনে এবং তাদের দু’ জনের নাম রাখলেন।” -সহীহ ইবন হিব্বান ঃ ৫৩১১
আমর ইবন শুয়াইব তার পিতা হতে তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন,
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِتَسْمِيَةِ الْمَوْلُودِ يَوْمَ سَابِعِهِ وَوَضْعِ الأَذَى عَنْهُ وَالعَقِّ. (ترمذي)
“রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে নামকরণ করতে, মাথা মন্ডন করতে এবং আকীকা দিতে আদেশ দিয়েছেন।” -তিরমিযী ঃ ২৮৩২
সালেম ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: ্রإِذَا كَانَ يَوْمُ سَابِعِهِ، فَأَهْرِيقُوا عَنْهُ دَمًا، وَأَمِيطُوا عَنْهُ الْأَذَى، وَسَمُّوهُগ্ধ (المعجم الاوسط)
“সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে তার নামে রক্ত প্রবাহিত কর, তার শরীরের ময়লা দূর কর এবং তার নামকরণ কর।” -মু‘জামুল আওসাত ঃ ১৮৮৩
عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: وُلِدَ لِي غُلاَمٌ، فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ্রفَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيمَ، فَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ، وَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ، وَدَفَعَهُ إِلَيَّগ্ধ، وَكَانَ أَكْبَرَ وَلَدِ أَبِي مُوسَى (بخاري)
“ আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে আমি তাকে সঙ্গে করে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম এবং একটি খেজুর দিয়ে তিনি তার “তাহনিক” করলেন। আর তার জন্যে বরকতের দু‘আ করলেন। অতপর তাকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিলেন। ইবরাহীম ছিল আবূ মূসা (রাঃ) এর বড় সন্তান।” -সহীহ বুখারী ঃ ৫৪৬৭, ৬১৯৮
মুসলমানেদের জন্যে আরবী নামের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
পৃথিবীতে যত ভাষা আছে সব ভাষারই মর্যাদা রয়েছে। মানুষ যে ভাষাতেই কথা বলুক এবং যে ভাষাতেই আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করুক না কেন, আল্লাহ তা’আলা সব জানেন এবং শোনেন। তদুপরি পবিত্র কুরআন ও হাদীসে বিশেষভাবে আরবী ভাষার মাহত্ম্য, গুরুত্ব ও ফজীলত বর্ণনা করা হয়েছে। আর তাই আমরা বলতে পারি, যেহেতু পবিত্র কুরআনের ভাষা আরবী, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ভাষা ছিল আরবী এবং জান্নাতের ভাষাও হবে আরবী। সেহেতু আরবী ভাষার মাধ্যমে গড়ে উঠে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব। আমেরিকা থেকে অষ্ট্রেলিয়া, পামীর থেকে পিরেনীজ, কাশ্মীর থেকে কন্যা কুমারী যেখানেই এ মুসলিম বাস করুক না কেন, তাদের মাঝে যত বৈচিত্র্যই থাকুক না কেন, আরবী নামের মাধ্যমে তাদের ঐক্য-সংহতি খুজে পাওয়া যায়। যেমনঃ কোন মুসলিম বিশ্বের যে কোন দেশে যে কোন অঞ্চলেই বাস করুক না কেন, তার নামটি শুনেই বুঝা যায় সে আল্লাহর বান্দা মুসলমান। আরবী নাম গ্রহণের বদৌলতেই তিনি পরিচিত হন মুসলিম হিসেবে এবং এরই বদৌলতে জোরদার হয় বিশ্ব মুসলিম ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ। মুসলিম বিশ্বের এ ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরো জোরদার করার জন্যে প্রয়োজন আরবী নামকরণের ব্যাপক প্রচলন।
মনে রাখতে হবে যে, আরবী ভাষায় সব নাম ইসলামী নাম নয়। যে সকল আরবী নামের অর্থের মধ্যে শিরক লুক্বায়িত থাকে কিংবা যে সকল আরবী নামের অর্থ আপত্তিকর বা যার কোন যথার্থ অর্থ নেই, সেই সকল আরবী নামগুলো অবশ্যই পরিত্যাজ্য। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাঃ) নির্দেশিত পন্থায় নামকরণই হচ্ছে ইসলামী নাম।
ইসলামে নামের যে রত্ম ভান্ডার আছে তা বর্জন করে অন্য ভাষায় নামকরণ ইহুদীদের “মান্না ও সালওয়ার”
(المن والسلوي) মতো বরকতপূর্ণ জান্নাতী খাদ্য পরিত্যাগ করে মাটি থেকে উৎপন্ন খাদ্যাদি পছন্দ করার মতোই সর্বনাশা হঠকারি সিদ্ধান্ত। এ প্রসঙ্গে কুরআন শরীফে তাদের উদ্দেশ্যে যা বলা হয়েছে তা সর্বকালেই সর্বলোকের জন্য প্রযোজ্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَىٰ بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ ۚ﴿البقرة: ٦١﴾
“তোমরা কি উৎকৃষ্টতর বস্তুকে নিকৃষ্টতর বস্তুর সাথে বদল করতে চাও”? -সূরা বাক্বারা ঃ ৬১
পিতার নামে সন্তানের পরিচিতি
সন্তান পরিচিতি লাভ করবে পিতার নামে। আমরা কারো সঠিক পরিচয় দানের ক্ষেত্রে কিংবা শনাক্তকরণের জন্যে পিতার নাম ব্যবহার করে থাকি। এটা কিন্তু আমাদের মনগড়া নয়; বরং তা ইসলামের নির্দেশ। কারো পরিচয় দানের ক্ষেত্রে পিতার নাম যুক্ত হওয়া আল্লাহ তা’আলার নিকট পছন্দনীয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ ﴿الأحزاب: ٥﴾
“তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহ কাছে ন্যায়সঙ্গত।’’ -সূরা আহযাব ঃ ৫
নামের শেষে পিতার নাম যুক্ত করে পরিচয় দেয়াই কুরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত শিক্ষা। আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ، وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْগ্ধ (ابو داؤد)
‘‘তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন তোমাদের নাম ধরে এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের নাম ধরে ডাকা হবে, কাজেই তোমরা তোমাদের নামকে সুন্দর দেখে রাখ।’’ -আবূ দাঊদ ঃ ৪৯৪৮
সন্তানের ভাল নাম রাখা পিতার কর্তব্য
সন্তানের নামকরণ করা পিতার দায়িত্ব এবং পিতাই এর প্রকৃত হকদার। সন্তানের জন্য ভাল নাম রাখা এটা ইসলামের দেয়া পিতার ওপর এক আমানত। তাই প্রত্যেক পিতার কর্তব্য হলো সে আমানত সুন্দর ও সুচারু ভাবে পালন করা।
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, যা ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, সাহাবারা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! আমরা পিতা-মাতার হক সম্পর্কে অবগত হয়েছি। কিন্তু সন্তানের হক কি? তিনি (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)) বললেন, “পিতা (সন্তানকে) সুন্দর নাম ও সুশিক্ষা দান করবে।” বায়হাকী
ইবন আব্বাস (রাঃ) ও আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যার সন্তান জন্মগ্রহণ করে সে যেন তার সুন্দর নাম ও সুশিক্ষা দেয় এবং সাবালিক হলে তার বিবাহ দেয়। প্রাপ্ত বয়স্ক হলে বিবাহ না দেয়ার কারণে গুনাহ হলে সে গুনাহ তার পিতার ওপর বর্তাবে। -বায়হাকী
ভাল ও সন্দুর নাম বলতে ঐ সমস্ত নামকেই বুঝায়, যে নাম অর্থবহ এবং ইসলামী ভাবধরায় পরিপূর্ণ। যে নামের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় আল্লাহর দাসত্ব ও তাওহীদের সাক্ষ্যবহন করে এবং যে নাম ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী নয়। নবী-রাসূলগণের নাম, সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীনদের নাম, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ, আল্লাহওয়ালাদের নাম, হক্কানী ওলামায়ে কিরামের নাম, বুযুর্গানে দ্বীন এবং নেককার বিভিন্ন মুসলিম মনীষীর নামে নামকরণ করা ভাল।
পূর্বের নাম পরিবর্তন করার বিধান
আমাদের দেশে অনেকের ধারণা, সন্তানের নামকরণের পর তা আর পরিবর্তন করা যায় না। শিশুকালের নাম পরিবর্তন করা অশুভ। আসলে তা ঠিক নয়। নাম যদি ভাল, সুন্দর ও অর্থবহ না হয়, তাহলে তা অবশ্যই পরিবর্তন করে ইসলামী ভাল নাম রাখা যায় এবং রাখা উচিত। আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর নিকট কেউ আসলে তিনি তার নাম জিজ্ঞেস করতেন। নাম সুন্দর, অর্থবহ ও পছন্দ হলে তিনি খুশী হতেন। আর অপছন্দ, অশুভ, ঘৃণ্য, অর্থহীন নাম হলে তার মুখমন্ডলে বিরক্তির ভাব প্রকাশ পেত এবং অধিকাংশ সময় তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেই নাম পরিবর্তন করে দিতেন।
রায়তা বিনতে মুসলিম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা বলেন, “হুনায়নের যুদ্ধে আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমার নাম জিজ্ঞেস করলে আমি বললাম, “গুরাব (কাক)”। তিনি বললেন, না, তুমি “মুসলিম”। সহীহ বুখারী ও আবূ দাঊদ।
এমনিভাবে হিজরতের পূর্বে মদীনার নাম ছিল “ইয়াছরিব” (দোষ দেয়া)। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হিজরত করে মদীনায় আসার পর এর নাম রাখা হয় “মদীনাতুন নবী” অর্থাৎ নবীর নগর বা দেশ।
ভাল নামের সুফল
মানব জীবনে তার নাম ও নামের অর্থ গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ভাল নামের বদৌলতে অনেক সময় মানুষের চরিত্র, চালচলন ও আচার-ব্যবহার হয় উন্নত এবং জীবন হয় সুন্দর। নাম সুন্দর ও অর্থবহ হলে কেউ যদি কাউকে তার নাম জিজ্ঞেস করে তখন সে জোরে তার নামটি বলতে লজ্জাবোধ করে না; বরং সে মনে আনন্দ পায়। অন্যদিকে কেউ যদি কাউকে ভাল নামে ডাকে, তাহলে তার সে ডাকটিও হয়তো দু‘আয় পরিণত হয়ে যেতে পারে। যেমন কেউ যদি কাউকে নাম নিয়ে ডাক দেয় “ওহে খাদিমুল ইসলাম’। অর্থাৎ “হে ইসলামের সেবক” এবং এ নামে যদি বারবার ডাকে, তাহলে এরই বিনিময়ে আল্লাহর মেহেরবানীত হয়তো একদিন সে সত্যিই ইসলামের একজন সেবক হয়ে যেতে পারে।
মন্দ নামের পরিণতি বা কুফল
পূর্বেই বলা হয়েছে, মানব জীবনে নাম ও নামের অর্থ গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। তাই একদিকে যেমন ভাল নাম জীবনকে যেমন সুন্দর করে, অন্যদিকে খারাপ নাম মানব জীবনে অনেক ক্ষেত্রে বয়ে আনে দুঃখ, দুর্দশা ও অশুভ পরিণতি। নাম অসুন্দর ও খারাপ অর্থের হলে তা কারো নিকট বলতেও নামধারী লোক লজ্জাবোধ করে। মন্দ নাম যে মানব জীবনে করুণ পরিণতি ডেকে আনে এর একটি বাস্তব ঘটনা হলো ঃ
উহুদের যুদ্ধে বিশ্বনবী (সাঃ)-এর চাচা হামযা (রাঃ) শহীদ হয়েছিলেন ওয়াহ্শী নামক এক নিগ্রো ক্রীতদাসের হাতে। ওয়াহ্শী অর্থ হচ্ছে অসভ্য, বর্বর। তার নামটি যেমন ঘৃণ্য, তদ্র“রূপ তার কাজও ছিল ঘৃণ্য। মক্কা বিজয়ের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করায় আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন বটে; কিন্তু বলে দিয়েছিলেন, তুমি আমার চোখের সামনে আসবে না। কারণ তোমাকে দেখলে আমার প্রাণপ্রিয় চাচা হামযার কথা মনে পড়ে যায়। ওয়াহ্শী কোন দিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চোখের সামনে আসতেন না। কিন্তু ইসলাম কবুল করার পর অনুতপ্ত হয়ে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি এমন কিছু কাজ করবেন যা তার পূর্বের কৃতকর্মের ক্ষতিপূরন হয়। আল্লাহ তা’আলা তার অনুশোচনা ও প্রতিজ্ঞা কবুল করলেন। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর খিলাফতের সময় ইয়ামামার যুদ্ধে নুবুয়্যতের মিথ্যা দাবীদার মুসাইলামাতুল কায্যাব-কে ওয়াহ্শী হত্যা করেছিলেন। জানা যায়, ওয়াহ্শী মন্তব্য করেছিলেন, “ইসলাম কবুল করার পূর্বে আমার হাতে ইসলামের এক মহান বীর শহীদ হন, আর ইসলাম কবুল করার পর ইসলামের এক জঘন্যতম নিকৃষ্ট দুশমনকে হত্যা করে সে ক্ষতি পূরণ করার চেষ্ট করলাম।
এ ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, মন্দ নাম মানুষের চালচলন, কথাবার্তা, চরিত্র ও জীবনের উপর মন্দ প্রভাব ফেলে।
আল্লাহ পাকের নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় নাম
আব্দুলাহ ইবন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, اِنَّ اللهَ حُسْنٌ يُحِبُّ الْحُسْنَ “নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সুন্দরকে ভালবাসেন।” -সহীহ বুখারী ও মুসলিম
নামের ক্ষেত্রে আল্লাহ পাকের নিকট সবচেয়ে সুন্দর ও পছন্দনীয় নাম হচ্ছে আল্লাহ পাকের নামের সাথে “আবদ” (বান্দা, দাস, গোলাম) সংযুক্ত নাম। যেমন আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান, আব্দুর রহীম, আব্দুল কাদির, আবদুল মালিক ইত্যাদি। হাদীস শরীফে আছে,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللَّهِ: عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ " رَوَاهُ مُسلم
“ ইবন উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, নিশ্চয় মহিমান্বিত ও সম্মানিত আল্লাহর নিকট তোমাদের নামগুলোর মধ্যে প্রিয়তম হলো ঃ “আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।” -সহীহ মুসলিম; মিশকাত ঃ ৪৭৫২
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَগ্ধ . وَفِي رِوَايَة: ্রوَهُوَ وتر يحب الْوترগ্ধ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
“রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলার নিরানব্বই- এক কম একশতটি (প্রসিদ্ধ গুণবাচক) নাম রয়েছে। যে তা মুখস্থ (স্মরণ) করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”-বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ২২৮৭
শিশুদের একাধিক নামকরণের বিধান
নাম করণের ক্ষেত্রে মানুষের নাম একটিই থাকতে হবে, নাকি একাধিক হতে পারে? পবিত্র কুরআনে আমরা দেখতে পাই, আল্লাহ তা’আলার একাধিক গুণবাচক নাম রয়েছে। আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলেছেন,
وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ﴿الأعراف: ١٨٠﴾
“আল্লাহর অনেক সুন্দর (গুণবাচক) নাম রয়েছে, তোমরা সে নামগুলোতে তাঁকে ডাকো।” -সূরা আরাফ ঃ১৮০
আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) এরও একাধিক নাম রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা তার হাবীব মুহাম্মদ (সাঃ)-কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গুণবাচক নামে সম্বোধন করেছেন। যেমন আহমদ, মবাশ্শির, মুঝ্জাম্মিল, মুদ্দাস্সির ইত্যাদি।
পবিত্র কুরআন ও বিভিন্ন সূরারও রয়েছে একের অধিক নাম। যেমন, ফুরক্বান, হুদা, বায়্যিনাহ।” সূরা ফাতিহাকে বলা হয় সূরা শিফা, দু’আ ইত্যাদি।
সুতরাং মানুষের নামের ক্ষেত্রেও একাধিক নাম হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিভিন্ন কারণে, বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন পরিবেশে, বিভিন্ন অবদানের কারণে কোন মানুষ বা সত্তার গুণগত বৈচিত্রে, সুকীর্তির মহিমায় এবং বৈশিষ্ট্যের উৎকর্ষতায় বিভিন্ন উপাধিতে ভ‚ষিত হতে পারে। কাজেই একই ব্যক্তির একাধিক নাম হতে পারে, এতে আপত্তি থাকার কিছু নেই।
সনাক্তকরণই যদি নামকরণের উদ্দেশ্য হয় তবে একটা নামে যথেষ্ট; বরং তাই উত্তম। তবে কোন শিশুর একের অধিক নাম রাখা যেতে পারে কিন্তু শর্ত হলো আসল এবং ডাক নাম উভয়টিই অর্থবহ ইসলামী ভাবধারা সম্পন্ন ভালো ও সন্দুর নাম হতে হবে যা তাওহীদবাদের সাক্ষ্য বহন করে। তবে সচরাচর একাধিক নামের লোকদের নাম নিয়ে প্রায়ই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এ বিষয়টি ভেবে দেখা একান্ত দরকার।
নামের প্রথমে মুহাম্মদ / মুসাম্মৎ ব্যবহার
আমাদের দেশের অধিকাংশ মুসলিম পুরুষ তাদের নামের পূর্বে ‘মুহাম্মদ’ শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। আর অধিকাংশ নারী নামের পূর্বে ব্যবহার করেন ‘মুসাম্মৎ’। ‘মুহাম্মদ’ শব্দটির সঠিক বানান ও উচ্চারণ হচ্ছে ‘মুহাম্মাদ’(محمد)। এর অর্থ হচ্ছে ‘প্রশংসিত’। বিশ্ব নবীর নাম ছিল ‘মুহাম্মদ’ (সাঃ)। ‘মুহাম্মদ’ শব্দটি হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ অর্থবোধক শব্দ এবং নাম। অধিকাংশ মুসলিম ‘মুহাম্মদ’ (সাঃ) এর নামের বরকত লাভের জন্যে উম্মত হিসেবে তাঁর প্রতি তাদের গভীর ভালবাসা, ভক্তি, শ্রদ্ধা, আনুগত্য প্রকাশ এবং তাওহীদবাদের ঘোষণাস্বরূপ নামের প্রথমে ‘মুহাম্মদ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
কিন্তু মুসলিম নারীগণের নামের প্রথমে ‘মুসাম্মৎ’ ব্যবহার করার কোন যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না। কারণ ‘মুসাম্মৎ’ শব্দটির সঠিক বানান ও উচ্চারণ হচ্ছে‘ মুসাম্মৎ’ (مسمة)। এর অর্থ হচ্ছে ‘নামধারিণী’। এ শব্দটির দ্বারা মানুষের মুসলমানিত্ব প্রকাশ পায় না এবং এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যও প্রকাশ পায় না। সুতরাং মুসলিম নারীদের নামের পূর্বে মুসাম্মৎ শব্দটি ব্যবহার নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়।
উপসংহার
উপরোক্ত আলোচনাকে পর্যালোচনা করলে আমরা এ কথা বলতে পারি যে, অন্ধ অনুকরনে গা ভাসিয়ে না দিয়ে ইসলামী সংস্কৃতিতে আস্থা রেখে সন্তান জন্ম গ্রহণ করার পর পিতা-মাতার উপর দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানের জন্য একটি সুন্দর অর্থবোধক, মার্জিত, রূচিসম্পন্ন ইসলামী নাম নির্বাচন করা।

