Showing posts with label ডাউনলোড. Show all posts
Showing posts with label ডাউনলোড. Show all posts

Monday, February 21, 2022

ঘরে বসে আরবী কোরানের ভাষা শিক্ষা কোর্স-২০২২ (২য় ব্যাচ)





রেজিস্ট্রেশন
ঘরে বসে আরবী কোরানের ভাষা শিক্ষা কোর্স-২০২২ (২য় ব্যাচ) ভর্তি হতে এখনি রেজিস্ট্রেশন করুন: (বিস্তারিত জানতে ও রেজিস্ট্রেশন করতে নিচের গুগল ফর্ম এ ক্লিক করুন)

অথবা

Saturday, January 8, 2022

Color coded Hafeji quran -in-15-lines-with-rules-of-tajweed হাফেজী কালার কোডেড কোরান

Tuesday, October 5, 2021

আরটিএসি-১৫ এর সকল তথ্য




একটি ইসলামীক ওয়েব সাইট। এখানে আরটিএসি-১৫ এর সকল গ্রুপ প্রেজেন্টেশন, আইএপি, আইএটি, সেমিনার-১ এবং সেমিনার-২ সহ জুমার খুতবা, মোনাজাত, মোটিভেশন ক্লাস, দরসে কোরান / হাদীস অডিও / ভিডিও, প্রশ্নোত্তর, সীরাত, প্রবন্ধ ইত্যাদি পেতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।



Monday, November 16, 2020

মিম্বারের আহবান (প্রথম পর্ব-৩০ ও দ্বিতীয় পর্ব-৩৩ সর্বমোট- ৬৩ টি বিষয়)

  মিম্বারের আহবান (প্রথম পর্ব-৩০ ও দ্বিতীয় পর্ব-৩৩ সর্বমোট- ৬৩ টি বিষয়)

শুধুমাত্র আলোচনা/ডিসকাস কোরান ও হাদীস সংবলিত সর্বমোট ৬৩ টি বিষয়মিম্বারের আহবান (প্রথম পর্ব-৩০ ও দ্বিতীয় পর্ব-৩৩ সর্বমোট- ৬৩ টি বিষয়)যা আলোচনার করার জন্য খুব দরকারী/উপকারী/সহজতর হবে বলে আমি মনে করছি। এটি ডাউনলোড করতঃ প্রিন্ট করে বই আকারে বাধাই করে রাখা যেতে পারে। বইটির MS Word File সংগ্রহে রাখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

এছাড়া এখানেও পাওয়া যাবে

২। MS Word File

অথবা লিখুনঃ https://drive.google.com/drive/folders/1SWvY5VjbOxFrcybxPgVqF9-FaayfMHfL?usp=sharing

অথবা সরাসরি ভিজিট করতে গুগল ব্রাউজারে গিয়ে লিখুন www.membarerdhoni.xyz



Saturday, October 17, 2020

মিম্বারের আহবান (দ্বিতীয় পর্বঃ ৩৩ টি বিষয়)

 মিম্বারের আহবান (দ্বিতীয় পর্বঃ ৩৩ টি বিষয়)

শুধুমাত্র আরবী খুতবা ও তার বাংলা অনুবাদ ৬৩ টি বিষয় সংবলিতমিম্বারের আহবান (দ্বিতীয় পর্বঃ ৩৩ টি বিষয়)যা পাওয়ার পয়েন্টে স্লাইড বানাতে খুব দরকারী/উপকারী/সহজতর হবে বলে আমি মনে করছি। এটি ডাউনলোড করতঃ প্রিন্ট করে বই আকারে বাধাই করে রাখা যেতে পারে। বইটির PDF File সংগ্রহে রাখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

বইটির MS Word File সংগ্রহে রাখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

এছাড়া এখানেও পাওয়া যাবে

১। PDF File

২। MS Word File

অথবা লিখুনঃ https://drive.google.com/file/d/1Bhi5tN-WIe8KEjR7gDRavj_VfbyansKf/view?usp=sharing

অথবা লিখুনঃ https://drive.google.com/file/d/186zB9BvVXhRqR7DZVy2vI8Ki-c9kvlC-/view?usp=sharing

অথবা সরাসরি ভিজিট করতে গুগল ব্রাউজারে গিয়ে লিখুন www.membarerdhoni.xyz






Tuesday, October 13, 2020

আল-ফুরক্বন সহজ পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষা

Friday, October 9, 2020

‘মিম্বারের আহবান’ আরবী ও বাংলা খুতবা

মিম্বারের আহবান

(প্রথম পর্বঃ ৩০ টি বিষয়)

শুধুমাত্র আরবী খুতবা ও তার বাংলা

অনুবাদ ৬০ টি বিষয় সংবলিত

মিম্বারের আহবান (প্রথম পর্বঃ ৩০ টি বিষয়)

যা পাওয়ার পয়েন্টে স্লাইড বানাতে খুব দরকারী/উপকারী/সহজতর

হবে বলে আমি মনে করছি।

এটি ডাউনলোড করতঃ প্রিন্ট করতঃ বই আকারে বাধাই

করে রাখা যেতে পারে।

বইটির PDF File সংগ্রহে রাখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

বইটির MS Word File সংগ্রহে রাখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

এছাড়া এখানেও পাওয়া যাবে

১। PDF File

২। MS Word File

অথবা লিখুনঃ

ttps://drive.google.com/file/d/1pTcHM0LQc1dt-ewBVHrE-XQHSjpL8ZGY/view?usp=sharing

অথবা লিখুনঃ

https://drive.google.com/file/d/1_bL_o1WC798F7AxBckj3Yx4EbZBhfvVj/view?usp=sharing

অথবা সরাসরি ভিজিট করতে

গুগল ব্রাউজারে গিয়ে লিখুন www.membarerdhoni.xyz

Thursday, September 3, 2020

ফরজ সালাত শেষে রাসূল (সাঃ)-এর পঠিত দোয়া ও যিকির


 ফরজ সালাত শেষে রাসূল (সাঃ)-এর পঠিত দোয়া ও যিকির ব্যানার আকারে পেতে এখানে ক্লিক করুন।



ফরজ সালাত শেষে রাসূল (সাঃ)-এর পঠিত দোয়া ও যিকির ব্যানার আকারে পেতে এখানে ক্লিক করুন।


Wednesday, September 2, 2020

আন্তর্জাতিক হিজাব সংহতি দিবস<> ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক-পরিচ্ছদ।


আন্তর্জাতিক হিজাব সংহতি দিবস।

ক। ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক-পরিচ্ছদ।

ভূমিকা

মানুষ ও পশুর মধ্যে যতগুলো পার্থক্য রয়েছে তম্মধ্যে উলে­খযোগ্য একটি পার্থক্য হল পোশাক। পশুরা পোশাক পরে না, কিন্তু মানুষ পোশাক পরে। যার মাধ্যমে তারা তাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে, সাজসজ্জা করে এবং শীত-গ্রীষ্ম থেকে আত্মরক্ষা করে। 
পোশাকের উপকারীতা 
প্রথম উপকার 
পোশাকের প্রথম উপকারীতা হল লজ্জাস্থান আবৃত করা, কারণ লজ্জা হল মানুষের ভূষণ। মহানবী ﷺ লজ্জাশীলতাকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলে অবিহিত করেছেন। তাই তো জান্নাতে আদম ও হাওয়া -এর শরীর থেকে যখন জান্নাতী পোশাক খুলে পরে যাচ্ছিল তখন তারা লজ্জায় গাছের পাতা দ্বারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে আবৃত করার চেষ্টা করছিলেন। আল­াহ তা‘আলা বলেছেন,
فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى ﴿طه: ١٢١﴾
‘‘অত:পর তারা উভয়েই জান্নাতের নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ-পত্র দ্বারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে আবৃত করতে শুরু করল।’’ -সূরা ত্ব-হা ঃ ১২১
দ্বিতীয় উপকার 
শালীনতার সীমারেখার মধ্যে অঙ্গ সজ্জা করা। নির্লজ্জতাই সকল পাপের মূল।
তৃতীয় উপকার 
শীত, গ্রীস্ম হতে আতœরক্ষা করা। 
আল-কুরআনে উলে­খ রয়েছে,
وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُم بَأْسَكُمْ ﴿النحل: ٨١﴾
“তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরী করে দিয়েছেন, যা তোমাদেরকে গ্রী®ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে।’’ -সূরা নাহাল ঃ ৮১
পোশাক-পরিচ্ছদের উপর পাঁচটি বিধান/স্তর 
পোশাক-পরিচ্ছদের উপর ইসলামের যে নির্দেশনা, তাকে আমরা মোটামুটিভাবে পাঁচ স্তরে বিভক্ত করতে পারি। (১) ফরয, (২) মুস্তাহাব, (৩) জায়েয, (৪) হারাম ও (৫) মাকরূহ। নিæে সেসব স্তরসমূহের উপর বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করা হলঃ
১। ফরয পোশাক 
সতর আবৃত করা যায় এ পরিমাণ পোশাক পরিধান করা নারী, পুরুষ সকলের জন্য ফরয তথা অবশ্য পালনীয়, এতে বিন্দুমাত্র কম করার অধিকার কারও নেই। তবে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সতরের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। 
(ক) মহিলাদের সতর 
হাদীস শরীফে বলা হয়েছে,
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهَا ثِيَاب رقاق فَأَعْرض عَنهُ وَقَالَ: ্রيَا أَسْمَاءُ إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَنْ يَصْلُحَ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَاগ্ধ . وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَّيْهِ. (رَوَاهُ أَبُو دَاوُد)
আসমা বিনতে আবূ বকর  রাসূলুল­াহ ﷺ এর দরবারে প্রবেশ করলেন, আর তার পরনে ছিল আঁটসাঁট পোশাক। নবীজি ﷺ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: হে আসমা! নারীরা যখন ঋতুবতী হয় তখন তাদের এমন অঙ্গ ব্যতিত অন্য কোন অঙ্গ দেখা (পরপুরুষের জন্য) বৈধ নয় একথা বলে তিনি তাঁর মুখমন্ডল ও হাতের তালুদ্বয়ের দিকে ঈশারা করলেন।’’ -আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৪৩৭২
(খ) পুরুষের সতর 
পুরুষদের জন্য শুধুমাত্র তাদের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশই সতরের অন্তর্ভুক্ত। একদা আলী  কে সম্বোধন করে নবী করীম ﷺ বলেন,
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: ্রيَا عَلِيُّ لَا تُبْرِزْ فَخِذَكَ وَلَا تَنْظُرْ إِلَى فَخِذِ حَيٍّ وَلَا مَيِّتٍগ্ধ (رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه)
“হে আলী! তোমার রান প্রকাশ কর না। আর তুমি কোন জীবিত বা মৃতের রানের প্রতি দৃষ্টিপাত কর না।’’ -আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৩১১৩
২। মুস্তাহাব পোশাক - নামাজে রুচিসম্মত পোশাক পরিধান করা- আল­াহ তা‘আলা বলেছেন,
يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ ﴿الأعراف: ٣١﴾
“হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও।’’ -সূরা আ’রাফ ঃ ৩১ 
ঈদ, জুমু‘আ বা কোন প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাতের দিন অপেক্ষাকৃত উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। 
রাসূলুল­াহ ﷺ নিজেও ঐসব দিনগুলোতে উত্তম পোশাক পরতেন। হাদীসে রয়েছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: ্রكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ يَوْمَ الْعِيدِ بُرْدَةً حَمْرَاءَগ্ধ (المعجم الاوسط للطبرانى)
“রাসূলুল­াহ ﷺ ঈদের দিনে লাল ডোরা কাটা চাদর পড়তেন।’’ -তাবারাণী ঃ ৭৬০৯
(গ) সাদা কাপড় পরিধান করা
عَن سَمُرَة أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রالْبَسُوا الثِّيَابَ الْبِيضَ فَإِنَّهَا أَطْهَرُ وَأَطْيَبُ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَه) 
“তোমরা সাদা পোশাক পরিধান কর, কেননা ইহাই তোমাদের জন্য উত্তম পোশাক। আর তোমাদের মৃতদেরকেও সাদা কাপড়ে কাফনও পড়াও।’’ -আহমদ; তিরমিযী; নাসাঈ; ইবন মাজাহ; মিশকাত ঃ ৪৩৩৭
(ঘ) অনাড়ম্বর পোশাক পরিধান করা
রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ دَعَاهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُلَلِ الإِيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا. (ترمذى)
“যে ব্যক্তি ভাল পোশাক পরার সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও আল­াহর উদ্দেশ্যে বিনয় ও নম্রতার দরুন তা পরিহার করে, আল­াহ পাক কিয়ামতের দিন তাকে সমগ্র সৃষ্টি লোকের সামনে ডেকে ঈমানের দৃষ্টিতে যে কোন মূল্যবান পোশাক পরার অনুমতি দেবেন।’’ -তিরমিযী ঃ ২৪৮১
৩। হারাম পোশাক 
(ক) পুরুষের জন্য রেশমের কাপড় পরিধান করা
হাদীসে উলে­খ রয়েছে,
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ্রلَا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَلَا الدِّيبَاجَ وَلَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَهِيَ لَكُمْ فِي الْآخِرَةِগ্ধ (مُتَّفق عَلَيْهِ)
“হুযায়ফা  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল­াহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, তোমরা (পুরুষরা) মোটা কিংবা মিহি রেশমী বস্ত্র পরিধান কর না। এবং সোনা ও রূপার পেয়ালায় পান কর না। আর উহার পাত্রে খেয়ো না। কেনন, এগুলো হল তাদের (কাফেরদের) জন্য দুনিয়াতে আর তোমাদের (মুমিনদের) জন্য এগুলো হল আখিরাতে।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ৪২৭২
(খ) পুরুষের টাখনুর নিচ পর্যন্ত পোশাক পরিধান করা
টাখনুর নীচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করাকে ইসলামে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সে পোশাক লুঙ্গি হউক চাই প্যান্ট হউক কিংবা অতিরিক্ত লম্বা জুব্বাই হউক এবং অহংকারসহ পরিধান করা হউক আর অহংকার ছাড়াই পরিধান করা হউক সবই হারাম। রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ্রإِزْرَةُ الْمُؤْمِنِ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ لَا جُنَاحَ عَلَيْهِ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَيْنِ مَا أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي النَّارِগ্ধ قَالَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ্রوَلَا يَنْظُرُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًاগ্ধ )رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه(
“মুমিন ব্যক্তির লুঙ্গি তার দু’ জঙ্ঘার মধ্যাংশ পর্যন্ত (প্রলম্বিত হতে পারে), তবে জঙ্ঘা থেকে গোছা পর্যন্ত (প্রলম্বিত হওয়ায়) কোন দোষ নেই। কিন্তু গোছার নিম্মাংশে পৌঁছলে তা জাহান্নামে যাবে। এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন। যে ব্যক্তি অহংকারবশে তার লুঙ্গি (গোছার নিচে) ঝুলিয়ে পরে আল­াহ্ তার দিকে তাকাবেন না।’’ -আবূ দাঊদ; ইবন মাজাহ; মিশকাত ঃ ৪৩৩১
(৩) অহংকার ও বাহাদুরী প্রকাশক পোশাক 
অন্যকে তুচ্ছ বিবেচনা করা এবং তাদের উপর নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করার জন্য যে পোশাক পরিধান করা হয় তা হারাম। রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍٍ منَ الدُّنْيَا أَلْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِগ্ধ )رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه)
“যে ব্যক্তি সুখ্যাতি প্রদর্শনের জন্য পোশাক পরিধান করবে, আল­াহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে অপমানের পোশাক পরিধান করাবেন।’’-আহমদ; আবূ দাঊদ; ইবন মাজাহ; মিশকাত ঃ ৪৩৪৬
(গ) মহিলা ও পুরুষ উভয়ের জন্য পাতলা বা আটসাঁট কাপড় পরা
 যে ধরণের পাতলা কাপড় পরিধান করলে চামড়ার সাদা, লাল কিংবা কাল রং বাহির থেকে দৃশ্যমান হয় এমন পাতলা কাপড় পরিধান করা পুরুষ মহিলা সকলের জন্যই নাজায়েয। তদ্র“প এ ধরণের আটসাঁট কাপড় ব্যবহার করাও মাকরূহ, যা পরলে গুপ্তাঙ্গ দেখা যায় না বটে, তবে শরীরের বাহির থেকে শরীরের গঠন, আকার-আকৃতি ইত্যাদি স্পষ্ট ফুটে উঠে। হাদীসে রয়েছে, 
قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا: قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ رؤوسهم كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَتُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا " )رَوَاهُ مُسلم)
‘‘দু’ শ্রেণীর জাহান্নামী এমন রয়েছে যাদেরকে আমি এখনও পৃথিবীতে দেখছি না। একশ্রেণী হল ঐ স¤প্রদায় যাদের হাতে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকে যা দ্বারা তারা মানুষকে প্রহার করে (অত্যাচার করে)। এবং অপরজন হল এমন নারী স¤প্রদায় যারা পোশাক পরিহিতা অথচ উলুঙ্গ (অর্থাৎ তারা এমন পোশাক পরিধান করে যা উলঙ্গ থাকারই নামান্তর)। এরা নিজেরাও পরপুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, পরপুরুষদেরকেও নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করবে। তাদের মাথা হবে পোষ না মানা উষ্ট্রের উঁচু চুঁটের (শিরের) ন্যায়। এসব মহিলারা জান্নাতে যাবে তো দূরের কথা, জান্নাতের সুঘ্রানও পাবে না।’’ -মুসলিম; মিশকাত ঃ ৩৫২৪
ঘ। সাদৃশ্য পোশাক 
যে এলাকায় যে ডিজাইনের পোশাক নারীদের পোশাক হিসেবে প্রচলিত সে সব পোশাক পুরুষের জন্য নাজায়েয।
রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন, 
্রلَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِالرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ، وَلَا مَنْ تَشَبَّهَ بِالنِّسَاءِ مِنَ الرِّجَالِগ্ধ (مسند احمد) 
‘‘যে সব মেয়েলোক পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং যে সব পুরুষ মেয়েদের বেশ ধারণ করে তারা কেউ আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’’ -মুসনাদে আহমদ ঃ ৬৮৭৫
৪। মাকরূহ পোশাক 
নিজ মর্যাদার চেয়ে নিম্মামানের পোশাক পরা
আল­াহ তা‘আলা যাকে যে ধরণের সামর্থ্য দিয়েছেন তার শরীরে সেই মানেরই পোশাক দেখতে আল­াহ তা‘আলা পছন্দ করেন। নিজ মর্যাদার চেয়ে নিæ মানের পোশাক পরিধান করা এক প্রকারের অকৃতজ্ঞাই বটে। হাদীসে রয়েছে,
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ يُرَى أَثَرَ نِعْمَتِهِ على عَبدهগ্ধ )رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ) 
“আল­াহ তা‘আলা বান্দার মাঝে তাঁর প্রদত্ত নি‘য়ামতের আলামত দেখতে পছন্দ করেন।’’ -তিরমিযী; মিশকাত ঃ ৪৩৫০
অপরিচ্ছন্ন ও রুচীহীন পোশাক পরিধান করা
হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَائِرًا فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا قد تفرق شعرُه فَقَالَ: ্রمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ رَأْسَهُ؟গ্ধ وَرَأى رجلا عَلَيْهِ ثيابٌ وسِخةٌ فَقَالَ: ্রمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ؟গ্ধ )رَوَاهُ أَحْمد وَالنَّسَائِيّ)‏ ‏
“জাবির () হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল­াহ ﷺ আমাদের নিকট আসলেন। তিনি এক ব্যক্তিকে এলোমেলো চুলে দেখলেন অতঃপর বললেন: সে কি এমন কিছুই (চিরুনী) পায়নি যা দ্বারা তার মাথাটাকে পরিপাটি করে নেয়! তিনি আর এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার পরনে ছিল ময়লাযুক্ত পোশাক। তিনি বললেন: সে কি এমন কিছুই (সাবান) পায়নি যা দ্বারা তার কাপড়টি পরিস্কার করে নেয়।’’ -আহমদ; নাসাঈ; মিশকাত ঃ ৪৩৫১ 
৫। জায়েয পোশাক
(ক) সতরসমূহ আবৃত থাকা। 
(খ) পোশাক আঁটসাঁট ও পাতলা না হওয়া।
(গ) পোশাকে অহংকার, গর্ব বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য না থাকা।
(ঘ) অপব্যয় বা অপচয় না হওয়া। 
(ঙ) মহিলাদের জন্য পুরুষের এবং পুরুষের জন্য মহিলাদের পোশাক না পরা।
(চ) পোশাক-আশাকে কোন বিজাতির অনুকরণ না হওয়া। 
(ছ) পোশাকটির ব্যাপারে এবং পোশাকের রংগে শরীয়তে কোন সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকা।
উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে তৈরী ও ডিজাইনকৃত আমাদের দেশে প্রচলিত শার্ট, ফুলপ্যান্ট, পায়জামা, পাঞ্জাবী, লুঙ্গি, ফতুয়া, জুব্বা, চাদর, কোর্ট, সাফারী, শিরওয়ানী, আচকান, গেঞ্জী, নেংটা, সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার ইত্যাদি পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করা নি:সন্দেহে জায়েয।’’ -আপনাদের প্রশ্নের জওয়াব-৩য় খন্ড-প্রশ্ন নং-১৭৯৫

সুন্নতী পোশাকের স্বরূপ
রাসূলুল­াহ ﷺ বলেন, “মুমিনের জামা হবে তার পায়ের নলাদ্বয়ের মধ্যখান পর্যন্ত। অবশ্য পায়ের নলা থেকে টাখনুর মধ্যে যে কোন স্থানে থাকলেও তা নিন্দনীয় হবে না। 
عَن ابنِ عمَرِ قَالَ: مَرَرْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي إِزَارِي اسْتِرْخَاءٌ فَقَالَ: ্রيَا عَبْدَ اللَّهِ ارْفَعْ إِزَارَكَগ্ধ فَرَفَعْتُهُ ثُمَّ قَالَ: ্রزِدْগ্ধ فَزِدْتُ فَمَا زِلْتُ أَتَحَرَّاهَا بَعْدُ فَقَالَ: بَعْضُ الْقَوْمِ: إِلَى أَيْنَ؟ قَالَ: ্রإِلَى أَنْصَافِ السَّاقَيْنِগ্ধ )رَوَاهُ مُسلم ,مشكوة- ৪৩৬৮)
“আব্দুল­াহ্ ইবন উমর  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল­াহ ﷺ-এর সম্মুখ দিছে যাচ্ছিলাম। সে সময় আমার ইযার (লুঙ্গী) ঝুলান ছিল। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আব্দুল­াহ্! তোমার ইযার উঠিয়ে নাও। তখনি আমি উহা উঠিয়ে নেই। অতঃপর বললেন, আরো উঠাও। সুতরাং আমি আরো উঠালাম। এরপর হতে আমি সর্বদা উহা উপরে বাঁধতে তৎপর থাকতাম। কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করল, কতটুকু উপরে উঠাতে হবে। তিনি বলেন, দুই পায়ের অর্ধ নলা পর্যন্ত।” -মুসলিম; মিশকাত ঃ ৪৩৬৮
টুপি 
এ প্রসংগে রাসূলুল­াহ ﷺ -এর আমল নিম্মরূপ ঃ
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ الله صَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم يَلْبَسُ قَلَنْسُوَةً بَيْضَاءَ -(كنز العمال- ৩৮ / ২২৮)
রাসূলুল­াহ ﷺ কোন কোন সময় সাদা টুপি পরিধান করতেন।’’ -কানযুল উম্মাল ঃ ২২৮
পাগড়ী 
এ প্রসংগে রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ عُبَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রعَلَيْكُمْ بالعمائم فَإِنَّهَا سيماء الْمَلَائِكَة وأخوها خلف ظهوركمগ্ধ (رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ ,مشكوة : ৪৩৭১)
“তোমাদের জন্য পাগড়ী পরিধান করা আবশ্যক, কেননা ইহা ফেরেশতাগণের নিদর্শন। আর উহার প্রান্ত ভাগকে তোমাদের পিঠের পিছনে (ঝুলিয়ে) রাখবে।’’ -বায়হাক্বী; মিশকাত ঃ ৪৩৭১
পায়জামা পরিধানকারীদের জন্য দু‘আ 
রাসূলুল­াহ ﷺ এর পায়জামা পরিধানের ব্যাপারে যদিও উপযুক্ত প্রমাণ নেই, তবে তিনি পায়জামা পছন্দ করতেন এমনকি তিনি একবার পায়জামা ক্রয়ও করেছিলেন। পায়জামা পরিধান কারীর জন্য দু‘আ করেছেন। যে সব মহিলা পায়জামা পরিধান করে আল­াহ্ তাদের প্রতি রহমত করুণ। 
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : كُنْتُ قَاعِدًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْبَقِيعِ فِي يَوْمٍ دَجِنٍ مَطِرٍ ، فَمَرَّتِ امْرَأَةٌ عَلَى حِمَارٍ مَعَهَا مَكَارٍ ، فَهَوَتْ يَدُ الْحِمَارِ فِي وَهْدَةٍ مِنَ الأَرْضِ ، فَسَقَطَتِ الْمَرْأَةُ ، فَأَعْرَضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْهَا بِوَجْهِهِ ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّهَا مُتَسَرْوِلَةٌ ، فَقَالَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُتَسَرْوِلاتِ مِنْ أُمَّتِي ثَلاثًا ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّخِذُوا السَّرَاوِيلاتِ فَإِنَّهَا مِنْ أَسْتَرِ ثِيَابِكُمْ ، وَحَصِّنُوا بِهَا نِسَاءَكُمْ إِذَا خَرَجْنَ (بيهقي-১/৩০৫)
“নবীজি ﷺ দু‘আ করেছেন, হে আল­াহ! আমার উম্মতের পায়জামা পরিধানকারীনী মহিলাদের ক্ষমা করুণ। একথা তিনি তিনবার বলেন। হে লোকেরা! তোমরা পায়জামা তৈরী করে নাও। কেননা, এটা লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য অধিকতর উপযোগী পোশাক। যখন তোমাদের মহিলারা বাহিরে যাবে তখন তাদের দৃঢ়ভাবে পায়জামা পরতে বলবে।” -বায়হাকী ১/৩০৫
উপসংহার 

গল্পে ও কবিতায় ইংরেজী ব্যাকরণ (সংক্ষিপ্ত)

গল্পে ও কবিতায় ইংরেজী ব্যাকরণ

সৈনিক জীবনে ধর্ম, আইন, সংস্কৃতি (Culture) এবং ঐতিহ্য (Traditions) ও প্রথা




গত ০৪/০২/২০২০ তারিখে সাভার সেনানিবাসে ধর্মীয় শিক্ষকদের সেমিনার থেকে সংগ্রহ করেছি। 

সৈনিক জীবনে ধর্ম, আইন, সংস্কৃতি (Culture) এবং ঐতিহ্য (Traditions) ও প্রথা

ভূমিকাঃ
১।     সামরিক শৃংখলা দ্বারা নিয়ন্ত্রিতি সৈনিকজীবন এবং ধর্মীয় নিয়ম-নীতির আলোকে পরিচালিত মানব জীবনের কর্মকান্ড মূলত একই পথে চলমান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দৈনন্দিন কর্যক্রম শুরু হয় সকালে সূর্যোদয়ের পূর্বেই। দৈনন্দিন সৈনকি জীবনের প্রথম পিরিয়ড (সময়/ঘন্টা) শুরু হয় শারীরিক প্রশিক্ষণ (পিটি পিরিয়ড) প্রদানের মাধ্যমে, যা সাধারণত ভোর ৬ টায় শুরু হয়। এই পিটি পিরিয়ডে উপস্থিত থাকার জন্য সামরিক সদস্যদের ঘুম থেকে উঠতে হয় কমপক্ষে সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে। আর একজন ধর্মপরায়ণ সৈনিকের জন্য ফজরের  নামাজ সময়মত মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করার নিমিত্তে ঐ একই সময়ে ঘুম থেকে উঠাই যথেষ্ট। এভাবেই দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সামরিক কর্মকান্ড এবং ধর্মীয় কর্মকান্ড সমান্তারালভাবে চালিয়ে নেয়া একজন সৈনিকের জন্য অত্যন্ত সহজ এবং সাবলীল। দিনের শুরুতে ফজরের নামজ আদায় করে নামাজ আদায়কারী আল্লাহ তাআলা জিম্মায় থেকে তার কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারে, যা নিম্মের হাদীস দ্বারা প্রতিয়মান হয়।
عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.
সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) থেকে র্বণতি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলছেনে, ‘যে ব্যক্তি ফজররে নামাজ পড়লো সে মহান আল্লাহর যিম্মায় রইলো।’ (আহমাদঃ ১৯৬০৬; তরিমযিীঃ ৩৯৪৬)

২।     বাংলাদেশ সেনাবহিনীতে সামরিক কার্যক্রম এবং ধর্মীয় কার্যক্রম সেনাবাহিনীর জন্মলগ্ন থেকে এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। সেনাবাহিনীর পিটি পিরিয়ডের পূর্বে ধর্মীয় শিক্ষক কর্তৃক কুরআনের অংশ বিশেষ পড়ে শুনানোর মাধ্যমে একজন সৈনিককে ধর্মীয়ভাবে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ ও পথ নির্দেশ প্রদান করা হয়। আমরা পবিত্র কুরআন মাজীদে পাই:
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿الجمعة: ١٠﴾
অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধকি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সূরা জুমআঃ ১০)

৩।     উক্ত আয়াতের নির্দেশনা হল, নামাজ তথা নির্ধারিত ইবাদত শেষে জীবিকা নির্বাহের জন্য জমিনে ছড়িয়ে পড়া। সুতরাং সকালবেলা ফরজ নামাজ শেষে জীবিকা নির্বাহের নিমিত্তে হালাল পথে উপার্জনের জন্য যে কোন কাজে লিপ্ত হওয়া ইবদাতের শামিল। আবার যদি বিশেষভাবে সৈনিক জীবনের পিটি পিরিয়ডের কথাই বলি, আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم { اَلْمُؤْمِنُ اَلْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اَللَّهِ مِنْ اَلْمُؤْمِنِ اَلضَّعِيفِ" (رواه مسلم ,مشكوة-৩/ ১৪৮-৫২৯৮)
আবূ হুরায়রা (সাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল­াহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘দুর্বল মুমিনের তুলনায় শক্তিশালী মুমিন অধিকতর কল্যাণময় এবং আল­াহ্র নিকট অধিকতর প্রিয়।’ (মুসলিম ঃ ৬৫৩২ ই.ফা.বা; ৬৫৮৪ ই.সে; মিশকাত ঃ ৫২৯৮

এই হাদীসের আলোকে সেনাবাহিনীর একজন সদস্যের জন্য পিটি পিরিয়ডে উপস্থিত থেকে শারিরীক যোগ্যতা অর্জন করা ইবাদতের অন্তর্ভূক্ত।

৪।     আমরা সেনাবহিনীতে দেশের তরে জীবন উৎসর্গ করার বাধ্যবাধকতার শপথ গ্রহণ করতঃ দেশের সেবায় নিয়োজিত আছি। এমন একজন জীবন উৎসর্গকারী সদস্যের পক্ষেই ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই শতভাগ নিশ্চয়তাসহ সামরিক কাজে নিয়োজিত হয়ে অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।

৫।     ইসলাম ধর্মের নির্দেশিত বিধানসমূহ বুঝা এবং মানার জন্য নিম্মবর্ণিত কুরআনের আয়াত এবং হাদীসসমূহ প্রণিধানযোগ্যঃ আল্লাহ্ তাআলা বলেন,
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿الحشر: ٧﴾
রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সূরা হাশর ঃ ৭)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا ﴿النساء: ٥٩﴾
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।’ (সূরা নিসা ঃ ৫৯)
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ﴿البقرة: ٢٨٦﴾
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কােন কাজরে ভার দনে না, সে তাই পায় যা সে উর্পাজন করে এবং তাই তার উপর র্বতায় যা সে কর।ে’ (সূরা বাকারা ঃ ২৮৬)
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন,
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَأَبْشِرُوا وَاسْتَعِينُوا [ص:৩৯২] بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَيْءٍ مِنَ الدُّلْجَةِগ্ধ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ-সরল। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দ্বীন তার উপর বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং (মধ্যপন্থার) নিকটবর্তী থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও।’ (বুখারীঃ তা.পা ৩৯, ৫৬৭৩, ৬৪৬৩ এবং ৭২৩৫ ( আ.প্রঃ ৩৮, ই.ফা. ৩৮)
عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ () قَالَ ‏ "‏ يَسِّرُوا وَلاَ تُعَسِّرُوا، وَبَشِّرُوا وَلاَ تُنَفِّرُوا ‏"‏‏.
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা (দীনের ব্যাপারে) সহজ পন্থা অবলম্বন করবে, কঠিন পন্থা অবলম্বন করবে না, মানুষকে সুসংবাদ শোনাবে, বিরক্তি সৃষ্টি করবে না।’ ( বুখারীঃ তা.পা ৬১২৫; মুসলিম ৩২/৩ হাঃ ১৭৩৪, আহমদ ১৩১৭৪) ( আ.প্রঃ ৬৯, ই.ফা. ৬৯)

৬।     আজকের সেমিনারে উত্থাপিত বিষয়ের মাধ্যমে ধর্ম এবং সৈনিক জীবনের কার্যক্রম একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক তো নয়ই বরং একে অপরের পরিপূরক, তা স্পষ্ট করনের প্রয়াস নেয়া এবং আনুষঙ্গিক বিষয় কুরআন ও হাদীসের আলোকে উপস্থাপন করা হবে।

আলোচনার বিষয়বস্তু।
৭।     আজকের সেমিনারের বিষয়বস্তুসমূহ নিম্মরূপ ক্রমধারায় উপস্থাপন করা হবে।
            ক।     সৈনিক জীবনে ধর্ম এবং সেনাবাহিনীর কার্যক্রম।
            খ।     পোশা পরিচ্ছদ।
(১)    টাখনুর উপরে কাপড় পড়।
(২)    হাফপ্যান্ট পড়া।
গ।     দাড়ি রাখা।
ঘ।     পুরুষ ও নারীর জন্য পর্দার বিধান।
ঙ।     বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক।
চ।     মাদকাসক্তি।
ছ।     অবৈধ লেনদেন।
জ।     প্রভিডেন্ট ফান্ড।
ঝ।     সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ঞ।     নামাযের জামাত এবং সরকারী কাজের ভারসাম্য।
ট।     ধর্মীয় অনুশাসন এবং সেনা শৃংখলার আলোকে একজন আদর্শবান সৈনিকের সেনাজীবন পরিচালনার উপায়।

সৈনিক জীবনে ধর্ম এবং সেনাবাহিনীর কার্যক্রম।
৮।     সেনাবাহিনী তার প্রতিটি সদস্য থেকে যা আশা করে তা হলো দেশের প্রয়োজনে সর্বদা জীবন উৎসর্গ তথা মৃত্যুুর জন্য প্রস্তুত থাকা। মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত এককজন সেনাসদস্য নির্ভয়ে এবং নির্দিধায় শত্রæর বলেট মোকাবেলায় অগ্রসর হবে, এমনটাই কাম্য। সদা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত এ রকম একজন সেনাসদস্য তৈরি করার জন্য তাকে ধর্মীয়ভাবে পরিচালনা করাই একমাত্র উপায়, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে নিম্মের হাদীর দুটি প্রণিধানযোগ্য,
يَخْطُبُ فِي حَجَّةِ الوَدَاعِ فَقَالَ: اتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ، وَصَلُّوا خَمْسَكُمْ، وَصُومُوا شَهْرَكُمْ، وَأَدُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ، وَأَطِيعُوا ذَا أَمْرِكُمْ تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ،
আবূ উমামা (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিদায় হাজ্জের ভাষণে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলাকে ভয় কর, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় কর। তোমাদের রামাযান মাসের রোযা রাখ, তোমাদের ধন দৌলতের যাকাত আদায় কর এবং তোমাদের আমীরের অনুসরণ কর, তবেই তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (তিরমিযী ঃ ৬১৬; মিশকাত ঃ ৫৭১)
وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: بَايَعْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِي الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ وَالْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَهِ وَعَلَى أَثَرَةٍ عَلَيْنَا وَعَلَى أَنْ لَا نُنَازِعَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ وَعَلَى أَنْ نَقُولَ بِالْحَقِّ أَيْنَمَا كُنَّا لَا نَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ. وَفِي رِوَايَةٍ: وَعَلَى أَنْ لَا نُنَازِعَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ إِلَّا أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِنَ اللَّهِ فِيهِ بُرْهَانٌ
উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর কাছে সুখে-দুঃখে, সন্তোষে-অসন্তোষে, এমনকি আমাদের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেয়া হলেও (নেতার কথা) শ্রবণ করা এবং তাঁর আনুগত্য করার শপথ করেছি। আমরা আরো শপথ করেছি যে, (নেতার দৃষ্টিতে) কোন যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব অর্পণ করা হলে আমরা তাতে আপত্তি করব না বা বাধা দেব না এবং আমরা যেখানেই থাকি না কেন সর্বাবস্থায় হক কথা বলব, আল্লাহর (নির্দেশ মানার) ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করব না।’ (মুসলিম, ই.ফা. ৪৬১৬ ই.সে. ৪৬১৭ ( বুখারীঃ তা.পা ৭১৯৯, ১৮) ( আ.প্র. ৬৬৯৪, ই.ফা. ৬৭০৭)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর হাদীসদ্বয়ে ধর্মীয় অনুশাসন এবং নেতৃত্বের আদেশ পালনের মাধ্যমে সেনাজীবনের কার্যক্রম সুচারুরূপে পালনের নির্দেশনা পাওয়া যা।
হাদী

পোশাক পরিচ্ছদ।
৯।     পোশাক পরিচ্ছদ আল্লাহ তাআলার অনন্য নিয়ামত যা তিনি আদম সন্তানদের দিয়েছেন এবং এর দ্বারা মানুষকে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন। পোশাকের দ্বারা মানুষ ও অন্যান্য জীব জন্তুর মাঝে স্বাতন্ত্র সৃষ্টি হয়েছে। পোশাকের বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের নিম্মবর্ণিত উদ্ধৃতি উল্লেখযোগ্য: আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ ﴿الأعراف: ٢٦﴾
হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, , যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। (সূরা আরাফ ঃ ২৬)
কোরআন মাজীদে আরো উল্লেখ আছে,
يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا ﴿الأعراف: ٢٧﴾
হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। (সূরা আরাফ ঃ ২৭)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন,
৪৩৭২ -[৬৯] (حسن)
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهَا ثِيَاب رقاق فَأَعْرض عَنهُ وَقَالَ: ্রيَا أَسْمَاءُ إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَنْ يَصْلُحَ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَاগ্ধ . وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَّيْهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট পাতলা কাপড় পরে হাযির হলে, তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন এবং বলেন, হে আসমা! যখন মেয়েরা সাবালিকা হয়, তখন তাদের এমন পাতলা কাপড় পরা উচিত নয়, যাতে তাদের শরীর দেখা যায়। তবে তিনি ইশারা করে মুখমণ্ডল ও দুহাতের কব্জা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেন।’ (আবূ দাঊদ ঃ ৪১০৪; মিশকাত ঃ ৪৩৭২)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আবূ হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাকে এমন ব্যক্তির জন্য অভিশাপ দিয়েছেন যিনি একজন মহিলার মতো পোশাক পরে এবং মহিলাকে পুরুষের মতো পোশাক পরে।’ (আবূ দাঊদ ঃ ৪০৯৮)

টাখনুর উপরে কাপড় পড়
১০।    এ প্রসঙ্গে কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তবে হাদীসে এ ব্যাপারে নির্দেশনা নিম্মরূপঃ
وَعَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রمَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِগ্ধ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِزَارِي يَسْتَرْخِي إِلَّا أَنْ أَتَعَاهَدَهُ. فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّكَ لَسْتَ مِمَّنْ يَفْعَلُهُ خُيَلَاءَগ্ধ . رَوَاهُ البُخَارِيّ
সালিম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে নিজের পোশাক ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ তার প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না কিয়ামতের দিন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! আমার লুঙ্গির এক পাশ ঝুলে থাকে, যদি আমি তাতে গিরা না দেই। নবী (সাঃ) বললেনঃ তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত নও, যারা অহংকার করে এরূপ করে। ( বুখারীঃ তা.পা ৫৭৮৪] ( আ.প্র.৫৩৫৯, ই.ফা.৫২৫৫)
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: [ص:৮৫১] ্রثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌগ্ধ . قَالَ أَبُو ذَرٍّ: خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: ্রالْمُسْبِلُ وَالْمَنَّانٌ وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحلف الْكَاذِبগ্ধ . رَوَاهُ مُسلم
আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ জন্য কথা বলবেন না । তাদের প্রতি তাকালেন না, তাদের পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি ।রাবী বলেন, তিনি এ আয়াতটি তিনবার পাঠ করলেন । আবু যার (রাঃ) আরয করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! এরা কারা ? তিনি বললেনঃ এরা হচ্ছে- ১. যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে ঝূলিয়ে কাপড় পরে, ২. সে ব্যক্তি দান করে খোটা দেয় এবং ৩. যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে । ( ই.ফা. ১৯৫ , ই.সে. ২০১ )
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فِي النَّارِগ্ধ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ ইযারের বা পরিধেয় বস্ত্রের যে অংশ পায়ের গোড়ালির নীচে থাকবে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে।” [ বুখারীঃ তা.পা ৫৭৮৭] ( আ.প্র.৫৩৬২, ই.ফা.৫২৫৮)

১১।    উপরোক্ত হাদীসগুলোর আলোকে সকল ইসলামী ফকীহগণের মতে অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়া হারাম এবং অহংকার ব্যতীত ঝুলিয়ে দেয়া অপছন্দনীয়।

হাফপ্যান্ট পড়া।
১২।    সেনাবহিনীতে সাধারণত পিটি এবং গেমস পিরিয়ডে হাফপ্যান্ট পড়ার নিয়ম চালু আছে। সেনা সদস্য হাফপ্যান্ট পড়া অবস্থায় সতর ঢেকে রাখবেন কি না সেটাই এখানে আলোচ্য বিষয়। সতর ঢেকে রাখার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হাদিসগুলো নিম্মরূপ:
عَنْ جَرْهَدٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রأَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْفَخِذَ عَوْرَةٌগ্ধ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
ইবন আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: উরুও সতরের অন্তর্ভূক্ত।’ (তিরমিযী ঃ ২৭৯৬)
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: ্রيَا عَلِيُّ لَا تُبْرِزْ فَخِذَكَ وَلَا تَنْظُرْ إِلَى فَخِذِ حَيٍّ وَلَا مَيِّتٍগ্ধ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
আলী (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ নবী (সা) বলেছেনঃ তুমি তোমার নিজের রান খুলবে না এবং জীবিত বা মৃত ব্যক্তির রানের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না ।’ (আবূ দাঊদ ঃ ৩১৪০)
مابين السرة والركبة عورة.
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত আবৃতব্য গুপ্তাঙ্গ।’ (নাসবুর রায়াহ-১/২৯৬-২৯৭)

১৩।    হাঁটু ঢেকে রাখার বিষয়ে ইমামগণের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। হানাফী উলামাগণের মতে হাঁটু সতরের অন্তর্ভূক্ত। কাজেই তা ঢেকে রাখা আবশ্যক। অন্য তিন ইমামের নিকট হাঁটু সতরের সীমার বাহিরে। তাই হাঁটু খোলা রাখার অবকাশ আছে।

দাড়ি রাখা।
১৪     ইসলামী শরীয়তে দাড়ি রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) দাড়ি রেখেছেন এবং তার সাহাবীদের মধ্যে দাড়ি মন্ডনকারী কোন সাহাবী ছিলেন বলে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। দাড়ি পুরুষের বিশেষ সৌন্দর্য ও পৌরুষ প্রকাশক। নবী (সাঃ) নিজে দাড়ি রেখেছেন এবং উম্মতকে দাড়ি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দাড়ি রাখার বিষয়ে কুরআনুল কারীমে কিছু উল্লেখ নেই; তবে দাড়ি বিষয়ে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। নিচে কয়েকটি হাদীস প্রদত্ত হলো:
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ، وَالسِّوَاكُ، وَاسْتِنْشَاقُ الْمَاءِ، وَقَصُّ الْأَظْفَارِ، وَغَسْلُ الْبَرَاجِمِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَانْتِقَاصُ الْمَاءِ " قَالَ زَكَرِيَّا: قَالَ مُصْعَبٌ: وَنَسِيتُ الْعَاشِرَةَ إِلَّا أَنْ تَكُونَ الْمَضْمَضَةَ زَادَ قُتَيْبَةُ، قَالَ وَكِيعٌ: " انْتِقَاصُ الْمَاءِ: يَعْنِي الِاسْتِنْجَاءَ "
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, দশটি কাজ ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত- গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেয়া, নখ কাটা, নাক কানের ছিদ্র এবং আঙ্গুলের গিরাসমুহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাড়ির নিচের পশম কাটা এবং পানি দ্বারা ইসতিনজা করা । হাদীসের রাবী মুসআব বলেন, দশম কাজটির কথা আমি ভুলে গিয়েছি । সম্ভবত সেটি হবে কুলি করা । এ হাদীসের বর্ণনায় কুতায়বা আরো একটি বাক্য বাড়ান যে, ওয়াকী বলেন, বলেন, [انْتِقَاصُ الْمَاءِ] অর্থ ইসতিনজা করা । (মুসলিম; ই.ফা. ৪৯৫ , ই.সে. ৫১১ )
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " خَالِفُوا المُشْرِكِينَ: وَفِّرُوا اللِّحَى، وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ " وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ: ্রإِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ عَلَى لِحْيَتِهِ، فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُগ্ধ
ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করবেঃ দাঁড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনু উমর (রাঃ) যখন হাজ্জ বা উমরা করতেন, তখন তিনি তাঁর দাঁড়ি মুট করে ধরতেন এবং মুটের বাইরে যতটুকু অতিরিক্ত থাকত, কেটে ফেলতেন। (বুখারীঃ তা.পা ৫৮৯২, ৫৮৯৩, মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৯, আহমাদ ৪৬৫৪) ( আ.প্র. ৫৪৬৪, ই.ফা. ৫৩৬০)

১৫।    হাদীসের আলোকে দাড়ি বিষয়ে ইমামগণের নিম্মবর্ণিত মত পাওয়া যায় (কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা; ড. খন্ডকার আব্দুল্লাহ্ জাহাঙ্গীর রহঃ, পৃ. ৩৪০-৩৪৪)। যথাঃ

            ক।     হানাফী। দাড়ি রাখা ওয়াজিব; তবে একমুষ্টির অতিরিক্ত কর্তন করা যাবে।
            খ।     শাফেয়ী ও হাম্বলী। দাড়ি রাখতে হবে এবং কাটা যাবে না। হাম্বলী মাযহাবের অপর একটি মতে একমুষ্টির অতিরিক্ত কর্তন করা যাবে।
            গ।     মালেকী। দাড়ি মুন্ডন করা, কাটা ও পোড়ানো মাকরূহ, তবে দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু কাটা ভালো।

পুরুষ ও নারীর জন্য পর্দার বিধান।
১৬।    পর্দা ফারসী শব্দ, এর আরবী প্রতিশব্দ হিজাব যার অর্থ আড়াল বা আবরণ। পবিত্র কুরআনে পর্দা বিষয়ে সর্বপ্রথম পুরুষগণকে এবং পরবর্তী আয়াতে মহিলাগণকে আদেশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিচের আয়াতগুলো উল্লেখযোগ্য:
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ ﴿النور: ٣٠﴾
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।’ (সূরা নূর ঃ ৩০
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ ﴿النور: ٣١﴾
ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে। (সূরা নূর ঃ ৩১)
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا ﴿الأحزاب: ٥٩﴾
হে নবী! আপনি আপনার পতœীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।'’ (সূরা আহযাব ঃ ৫৯)
وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿النور: ٦٠﴾
বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য𠦣২৪৭৪;্রকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা নূরা ঃ ৬০)

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক।
১৭।    ধর্মীয় এবং সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবাহ বহির্ভূত নারী পুরুষের সম্পর্ক অত্যন্ত গর্হিত এবং অনিষ্ট একটি বিষয়, ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ন হারাম। পবিত্র কুরআনুল কারীম ও হাদীসে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এই বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের নিম্মবর্ণিত উদ্ধৃতি উল্লেখযোগ্য; আল্লাহ্ তাআলা বলেন,
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ﴿الإسراء: ٣٢﴾
আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (সূরা বানী ইসরাঈল ঃ ৩২)
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (৫)/ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (৬) فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ
এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।  তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে।’ (সূরা মুমিনূন ঃ ৫-৭)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِذَا زَنَى الْعَبْدُ خَرَجَ مِنْهُ الْإِيمَانُ فَكَانَ فَوْقَ رَأْسِهِ كَالظُّلَّةِ فَإِذا خرج من ذَلِك الْعَمَل عَاد إِلَيْهِ الايمانগ্ধ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
আবূ হুরায়রা (রা.)  সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: কোন বান্দা যখন যিনা করে তখন তার ভিতর থেকে ঈমান বের হয়ে যায় এবং যেন ছায়ার মত তার মাথার উপর অবস্থান করে। এই দুষ্কর্ম থেকে যখন সেই ব্যক্তি সরে আসে  তখন পুনর্বার ঈমান তার কাছে ফিরে আসে। (তিরমিযী ঃ ২৬২৫)
্রإِنَّ اللهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا، أَدْرَكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ، فَزِنَا الْعَيْنَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ النُّطْقُ، وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي، وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ أَوْ يُكَذِّبُهُগ্ধ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বনী আদমের জন্য যিনার একটা অংশ নির্ধারিত রেখছেন। সে তাতে অবশ্যই জড়িত হবে। চোখের যিনা হলো তাকানো, জিহবার যিনা হলো কথা বলা, কুপ্রবৃত্তি কামনা ও খায়েশ সৃষ্টি করে এবং যৌনাঙ্গ তা সত্য মিথ্যা প্রমাণ করে। [মুসলিম ৪৬/৫, হাঃ ২৬৫৭, আহমাদ ৮২২২] (আ.প্র ৫৮০১, ই.ফা. ৫৬৯৬)

মাদকাসক্তি।
১৮।    মাদকাক্তি একজন মানুষকে জ্ঞানবান মানুষ হতে জ্ঞানহীন মানুষে রূপান্তরিত করে। বিষয়টি বর্তমান সময়ে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে ব্যাপ্তি লাভ করেছে। এ বিষয়ে আল্লাহ্ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿المائدة: ٩٠﴾
হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। (সূরা মায়েদা ঃ ৯০)
্রكُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
‘‘নেশা সৃষ্টিকারী সকল বস্তুই মদ এবং সকল মদই হারাম’’। [মুসলিম ঃ ২০০৩]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রلَعَنَ اللَّهُ الْخَمْرَ وَشَارِبَهَا وَسَاقَيَهَا وَبَائِعَهَا وَمُبْتَاعَهَا وَعَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِগ্ধ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ আল্লাহ্র লানত শরাবের উপর, তা পানকারীর উপর, যে পান করায় তার উপর, যে বিক্রি করে তার উপর, যে তা খরিদ করে তার উপর, যে তা নিংড়ায় এবং যার নির্দেশে নিংড়ায় তার উপর, আর যে ব্যক্তি তা বহন করে এবং যার জন্য বহন করে, সকলের উপর।’ (আবূ দাঊদ ঃ ৩৬৭৪)
অবৈধ লেনদেন।
১৯।    অবৈধ লেনদেন, ভেজাল, জালিয়াতি ও সকল সামাজিক দুর্নীতির বিষয়ে কুরআন ও হাদীসে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। মহান আল্লাহ্ তাআলা বলেন,
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿البقرة: ١٨٨﴾
তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আতœসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।’ (সূরা বাকারা ঃ ১৮৮)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا [٤:٢٩]
হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।’ (সূরা নিসা ঃ ২৯)
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نبَتَ منَ السُّحْتِ وكلُّ لحمٍ نبَتَ منَ السُّحْتِ كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দেহের গোশত/গোশত হারাম উপার্জনে গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। হারাম ধন-সম্পদে গঠিত ও লালিত পালিত দেহের জন্য জাহান্নামই উপযোগী। (আহমাদ, দারিমী, বায়হাক্বী- শুআবুল ঈমান) মিশকাত ঃ ২৭৭২)

প্রভিডেন্ট ফান্ড।
২০।    সেনাসদস্যদের বেতনের নির্দিষ্ট একটি অংশ সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখার নিয়ম আছে। বছর শেষে উক্ত জমাকৃত অর্থের উপর একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট দফতর কর্তৃক প্রদত্ত হিসাব বিবরণীতে সুদ হিসেবেই উল্লে করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পত্রের (প্রতরক্ষা মন্ত্রণালয় পত্র নং-১ ফরম-২/২০১০/ডি-১/৮১৮ তাং-১১ মে ২০১০) মাধ্যমে সেনাসদস্যদের জন্য প্রভিডেন্ড ফান্ডের সুদকে লভ্যাংশ হিসেবে উল্লেখ করে হিসাব বিবরণী প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যদি সুদকে লভ্যাংশে ঘোষণা করার প্রক্রিয়াটি ইসলামী শরীয়া মোতাবেক করে থাকে তাহলে প্রভিডেন্ড ফান্ডের উক্ত লভ্যাংশ হালাল হওয়ার বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকবে না। পবিত্র কুরআন মাজীদ অনুযায়ী সুদ হারাম হওয়ার বিষয়ে নি¤œাক্ত আয়াতদ্বয় উল্লেখযোগ্যঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿آل‌عمران: ١٣٠﴾
হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো।’ (সূরা আল ইমরান ঃ ১৩০)
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ﴿البقرة: ٢٧٥﴾
যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লাহ তাআলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন।’ (সূরা বাকারা ঃ ২৭৫)

২১।    উপমহাদেশের আলিমগণ বাধ্যতামূলক জমাকৃত অর্থের বিপরীতে প্রদেয় অর্থ গ্রহণ করা জায়েয এবং সরকারী নির্দিষ্ট হারের অতিরিক্ত জমাকৃত অর্থের বিপরীতে প্রদেয় অর্থ গ্রহণ করা নাজায়েয মর্মে মতামত দিয়েছেন। (ফাতাওয়া শামী-৭/৩৯৮-৪০১, ফাতাওয়া উসমানী-৩/৩০৮; আহসানুল ফাতাওয়া-৪/২৬০)

২২।    ডিপিএস, বন্ড, ইনসুরেন্স ও জীবনবীমা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সুদ প্রদান করা হলে কুরআনের আলোকে তা হালাল বলে গণ্য করার অবকাশ নেই।

বৈদেশিক মিশন হতে আয়কৃত টাকা
২৩।    বৈদেশিক মিশন হতে আয়কৃত টাকা একজন সেনা সদস্যের জন্য হালাল ও বৈধ। এটা তার দেশে প্রাপ্ত নিয়মিত বেতন-ভাতার মত। বৈদেশিক মিশনে সেনাবাহিনীর নীতিমালার আলোকে সেনা সদস্যগণ মিশন এলাকায় অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের কারণে এটাকা আয় করেন। এই টাকা গ্রহণ ও ভোগ করার ব্যাপারে ইসলামী শরীয়ার আলোকে কোন বাধা নেই।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২৪।    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা বা এর ধরণ ও প্রকৃতির উপর পবিত্র কুরআনে কোন স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তবে ইসলামে ঈদের দিন, বিয়ের অনুষ্ঠানে নিষ্পাপ সংগীত, ছোটদের নৃত্য, ক্রীড়া-কৌতুক ও শারীরিক কসরত প্রদর্শনের দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন:
ক।     মসজিদে নববীতে হাবশীদের খেলা ও শারীরিক কসরত প্রদর্শন।
খ।     হিজরতের সময় মদীনাবাসীর সংগীত طلع البدر পরিবেশন।
গ।     ঈদের দিনে নবী গৃহে শিশুদের সংগীত পরিবেশন।
ঘ।     রাসূল (সাঃ) ও আয়িশা (রাঃ) এর রাতে দৌড় প্রতিযোগিতা।

২৫।    সুস্থধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে সমাজ সুসংগঠিত এবং পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়। তবে পবিত্র কুরআনের নি¤œবর্ণিত আয়াতদ্বয়ের আলোকে অশ্লীলতা পরিতাজ্য: আল্লাহ্ তাআলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿النور: ١٩﴾
যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।’ (সূরা নূর ঃ ১৯)
لَّا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا ﴿النساء: ١٤٨﴾
আল্লাহ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।’ (সূরা নিসা ঃ ১৪৮)


নামাযের জামাত এবং সরকারী কাজের ভারসাম্য।
২৬।    নামায ইসলামী শরীয়তের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সর্বাবস্থায় একজন মুসলিমকে যথাসময়ে নামায আদায় করতে হবে। জামাতের সাথে নামায আদায়ের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কুরআন মাজীদের নিম্মবর্ণিত আয়াতসমূহ উল্লেখযোগ্যঃ
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا ﴿النساء: ١٠٣﴾
যথারীতি সালাত আদায় করবে, নিশ্চয় সালাত মুসলমানদের উপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদায় করা ফরজ করা হয়েছে।” -সূরা নিসা ঃ ১০৩
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ ﴿البقرة: ٤٣﴾
তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত আদায় কর এবং রুকুকারীদের সাথে একত্রিত হয়ে রুকু কর (জামাতের সাথে সালাত আদায় কর)।’’ -সূরা বাকারা ঃ ৪৩

২৭।    যুদ্ধের মাঠেও সৈন্যদলকে দুইভাগে ভাগ করে জামাতের সাথে সালাত আদায়ের বিষয়ে কুরআন মাজীদে নির্দেশনা আছে। (সূরা নিসা ঃ ১২০)

২৮।    একজন সেনাসদস্য তার দৈনন্দিন কাজের ভিতরে থেকেও যথাযথভাবে নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করতে পারেন। একজন সেনাসদস্যকে যেমন নামাযসহ ধর্মীয় অনুশাসন পালন করতে হবে, তেমনিভাবে সেনা আইন ও নীতিমালার আলোকে সরকারী কাজও সঠিকভাবে সম্পাদন করতে হবে। তাই নামায ও সরকারী কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে নি¤œর বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা প্রয়োজনঃ
ক।     একাধিক জামাতের ব্যবস্থা রাখা।
খ।     সেনা সদস্যদের নামাযের সময়, শান্তি ও যুদ্ধকালীন নামায, কসর নামায, দুই নামায একত্রে আদায়, উযু-গোসল, তায়াম্মুম, জুতা ও মোজার উপর মাসেহ, অতিগুরুত্বপূর্ণ পোষ্টে ডিউটিরতদের নামাযের হুকুম, কাযা নামায ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক শিক্ষা প্রদান করা।
গ।     সরকারী কাজের রুটিন ও কর্মসূচী তৈরীর সময় নামাযের সময়ের প্রতি খেয়াল রাখা।

ধর্মীয় অনুশাসন এবং সেনা শৃংখলার আলোকে একজন আদর্শবান সৈনিকের সেনাজীবন পরিচালনার উপায়।
২৯।    সেনাজীবনের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সাথে ইসলাম ধর্মীয় আচার আচরণ সাংঘর্ষিক ও বিরোধপূর্ণ নয়, বরং উভয়ের মাঝে সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য বিদ্যমান রয়েছে। একজন সেনা সদস্য তার সেনা জীবনে যাবতীয় কার্যক্রম ও দায়িত্বসমূহ পালন করেও ধর্মীয় বিধি-বিধান ও আচার-আচরণ সঠিকভাবে পালন করতে পারেন। সেনা জীবনের সাথে একজন ধার্মিক মুসলিমের জীবন খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ। একজন ধার্মিক ব্যক্তি যেমন ভালো সৈনিক হতে পারেন তেমনিভাবে একজন ভালো সেনা সদস্যও ভালো ধার্মিক হতে পারেন। আর এজন্য নিচের বিষয়গুলো প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম:
ক।     ধর্মের সঠিক জ্ঞান।
খ।     ধর্মীয় বিধি-বিধান এবং সেনা আইন ও নীতির প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ।
গ।     ধর্মীয় আচার-আচরণের সঠিক অনুশীলন।
ঘ।     নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ও সেনা শৃংখলা মেনে চলা।
ঙ।     ধর্মীয় আচার-আচরণ ও সেনা আইনের আলোকে আদেশ ও নেতৃত্বের ভারভাম্য।

ধর্মীয় অনুশাসন এবং সেনা শৃংখলার আলোকে একজন আদর্শবান সৈনিকের সেনাজীবন পরিচালনার উপায়।
৩০।    ইসলাম মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মানব জাতির জন্য সহজ, সাবলীল ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন বিধান। ইসলামে ইমান গ্রহনে যেমন জোর জবরদস্তি নেই, তেমনিভাবে ইসলামের অনুশাসন পালনের ক্ষেত্রেও কোন জবরদস্তি ও সংকীর্নতা নেই মানুষের সাধ্যতীত কোন বিধি বিধান তার উপর চাপানো হয়নি। মহান আল্লাহ্ তাআলা এ প্রসঙ্গে বলেন,
يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ ﴿البقرة: ١٨٥﴾
আল­াহ তোমাদের জন্যে তার বিধানকে সহজ করতে চান। কঠিন করা তার উদ্দেশ্য নহে।’’ -সূরা বাকারা ঃ ১৮৫।

সুপারিশ
৩১।    আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পথ সীমিত। মানুষ তথা সেনাসদস্যগণ অনুরূপভাবে ধর্মীয় জ্ঞান অনুসন্ধান করে থাকেন। সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পথ সীমিত হলে স্বার্থান্বেষী মহল সেনাসদস্যদের মাঝে ধর্মের অপব্যাখ্যা প্রদান করতঃ বিপদগামী করার প্রয়াস নিবে। এমতাবস্থায়, সকল স্তরের সেনাসদস্যদের সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হলো।

৩২।    ধর্মপরায়ণ সেনাসদস্যগণের জন্য ধর্মীয় নির্দেশনা এবং অনুশাসন মোতাবেক পোশাক পরিচ্ছদ এবং ব্যক্তিগত দাড়ি রাখা, পর্দার বিধান ইত্যাদি পালনের জন্য যথোপযুক্ত পরিবেশ ও নির্দেশনা প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হলো।

৩৩। দৈনন্দিন জীবনের অবশ্য পালনীয় পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় বিবেচনায় নিয়ে সেনাসদস্যদের জন্য দৈনন্দিন কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হলো।

৩৪। সকল সেনাসদস্যগণই সুদ গ্রহণের বিষয়ে দ্বিধান্বিত। ক্ষেত্রবিশেষে অনেক সেনাসদস্য বাধ্যহয়ে কুরআন মাজীদে স্পষ্ট ঘোষিত সুদের মত একটি হারাম বিষয়ে জড়িত হয়ে পড়ছেন। সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট বাংকের মাধ্যমে সেনাসদস্যগণকে সুদমুক্ত অর্থনৈতিক জীবন ব্যবস্থা প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হলো।

উপসংহার
৩৫।    একজন আদর্শ সৈনিকের পক্ষে একজন ধর্মপরায়ণ সৈনিক হওয়া সহজতর; অনুরূপভাবে একজন ধর্মপরায়ণ সৈনিকও  একজন আদর্শ সৈনিক।