Showing posts with label প্রশ্নোত্তর. Show all posts
Showing posts with label প্রশ্নোত্তর. Show all posts

Thursday, April 29, 2021

ইতিকাফের কী সওয়াব?


 

প্রশ্ন

ইতিকাফের কী সওয়াব?

 

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

আলহামদুলিল্লাহ।

এক:

ইতিকাফ একটি শরয়ি আমল। এটি আল্লাহ্‌র নৈকট্য হাছিল করা যায় এমন নেক আমল। আরও জানতে দেখুন: 48999 নং প্রশ্নোত্তর।

এটা যখন সাব্যস্ত হল, জেনে রাখুন আল্লাহ্‌র নৈকট্যশীল নফল আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিসগুলোর সাধারণ হুকুমের অধীনে সকল ইবাদত অর্ন্তভুক্ত হয়; যার মধ্যে ইতিকাফও রয়েছে।

এ ধরণের হাদিসের মধ্যে রয়েছে: হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ্‌ তাআলার বাণী আমি আমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য হাছিল করে। আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে উপর্যুপরি আমার নৈকট্য হাছিল করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি তাকে ভালবাসি। যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন আমি তার কর্ণ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমি তার চক্ষু হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যে পা দিয়ে সে চলাফেরা করে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করে আমি তাকে তা প্রদান করি। সে যদি আমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, আমি তাকে আশ্রয় দেই।[সহিহ বুখারী (৬৫০২)]

দুই:

ইতিকাফের ফযিলত সম্পর্কেও কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে; কিন্তু সে হাদিসগুলো দুর্বল কিংবা বানোয়াট:

আবু দাউদ বলেন: আমি আহমাদকে (অর্থাৎ আহমাদ বিন হাম্বলকে) বললাম: আপনি কি ইতিকাফের ফযিলত বিষয়ে কিছু জানেন? তিনি বললেন: না; দুর্বল কিছু ব্যতীত।[সমাপ্ত][মাসায়েলু আবি দাউদ, পৃষ্ঠা-৯৬]

এ ধরণের হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিকাফকারীর ব্যাপারে বলেছেন: ইতিকাফকারী গুনাহকে প্রতিরোধ করেন। ইতিকাফকারীকে সকল নেক আমলকারীর ন্যায় নেকী দেয়া হবে।”[শাইখ আলবানি যয়িফু ইবনে মাজাহগ্রন্থে হাদিসটিকে যয়িফ (দুর্বল) বলেছেন]

২। তাবারানী, হাকিম ও বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন ইতিকাফ করে আল্লাহ্‌ তার মাঝে ও জাহান্নামের আগুনের মাঝে তিনটি পরিখার দূরত্ব সৃষ্টি করে দেন; যা পূর্ব-পশ্চিমের চেয়েও বেশি দূরত্ব।[বাইহাকী হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন]

৩। দাইলামি আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় ইতিকাফ করবে তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”[আলবানি যায়িফুল জামেগ্রন্থে (৫৪৪২) হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন]

৪। ইমাম বাইহাকী হাসান বিন আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি রমযান মাসে দশদিন ইতিকাফ করবে এর সওয়াব দুইটি হজ্জ ও দুইটি উমরার সমান।”[শাইখ আলবানি আল-সিলসিলাতুয্‌ যায়িফাগ্রন্থে (৫১৮) হাদিসটি সংকলন করে বলেছেন: মাওযু (বানোয়াট)]

 

الاعتكاف مشروع ، وهو قربة إلى الله جل وعلا . راجع السؤال رقم (48999) .

 

فإذا ثبت هذا ، فقد جاءت أحاديث كثيرة ترغب في التقرب إلى الله تعالى بنوافل العبادات ، وهذه الأحاديث بعمومها تشمل كل عبادة ومنها الاعتكاف .

 

فمن هذه الأحاديث : قول الله سبحانه وتعالى في الحديث القدسي : ( وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ ، وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ ، وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ ، وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا ، وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا ، وَإِنْ سَأَلَنِي لأُعْطِيَنَّهُ ، وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِي لأُعِيذَنَّهُ ) . رواه البخاري (6502) .

 

ثانيا :

 

وردت أحاديث في فضل الاعتكاف وبيان ثوابه إلا أنها كلها ضعيفة أو موضوعة .

 

قال أبو داود : قلت لأحمد (يعني الإمام أحمد بن حنبل) : تعرف في فضل الاعتكاف شيئا ؟ قال : لا ، إلا شيئا ضعيفا اهـ . مسائل أبي داود (ص96) .

 

ومن هذه الأحاديث :

 

1- روى ابن ماجه (1781) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْمُعْتَكِفِ : ( هُوَ يَعْكِفُ الذُّنُوبَ ، وَيُجْرَى لَهُ مِنْ الْحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْحَسَنَاتِ كُلِّهَا ) . ضعفه الألباني في ضعيف ابن ماجه .

 

( يَعْكِفُ الذُّنُوب ) أي : يَمْنَع الذُّنُوب. قاله السندي .

 

2- روى الطبراني والحاكم والبيهقي وضعفه عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ( من اعتكف يوما ابتغاء وجه الله جعل الله بينه وبين النار ثلاث خنادق أبعد مما بين الخافقين ) . ضعفه الألباني في السلسلة الضعيفة (5345). والخافقان المشرق والمغرب .

 

3- روى الديلمي عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال : ( من اعتكف إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه ) ضعفه الألباني في ضعيف الجامع (5442) .

 

4- روى البيهقي وضعفه عن الحسين بن علي رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ( من اعتكف عشرا في رمضان كان كحجتين وعمرتين ) . ذكره الألباني في "السلسلة الضعيفة" ". (518) وقال : موضوع .

 

Sunday, March 14, 2021

সাহু সিজদাহ দিতে ভুলে গেলে যদি তৎক্ষণাৎ মনে না আসে ২-৩ দিন পর মনে হয় তবে কি করণীয়?


 আসসালামু আলাইকুম

সাহু সিজদাহ দিতে ভুলে গেলে যদি তৎক্ষণাৎ মনে না আসে ২-৩ দিন পর মনে হয় তবে কি করণীয়?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 

بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নামাযের ভিতর ভুলে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে কিংবা কোনো ফরয বা ওয়াজিব বিলম্বিত হলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়। 

হাদীস শরীফে এসেছে   

حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك بن أنس، عن ابن شهاب، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبد الله بن بحينة رضي الله عنه، أنه قال: صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين من بعض الصلوات، ثم قام فلم يجلس، فقام الناس معه، فلما قضى صلاته ونظرنا تسليمه كبر قبل التسليم، فسجد سجدتين وهو جالس، ثم سلم.

আবদুল্লাহ ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নামায আমাদের দুই রাকাত পড়ান। তারপর না বসে দাঁড়িয়ে যান। মুকতাদীরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। যখন তিনি নামায পূর্ণ করলেন এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম তখন সালাম ফিরানোর আগে তাকবীর দিলেন এবং বসা অবস্থায় দুটি সেজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৪

আরো দ্রষ্টব্য : সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৭০

২. 

حدثنا أبو الوليد، حدثنا شعبة، عن الحكم، عن إبراهيم، عن علقمة، عن عبد الله رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الظهر خمساً، فقيل له: أزيد في الصلاة؟ فقال: وما ذاك؟ قال: صليت خمساً، فسجد سجدتين بعد ما سلم.

আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর পাঁচ রাকাত পড়েন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, নামায কি বাড়ানো হয়েছে? তিনি বললেন, কী হয়েছে? প্রশ্নকারী বলল, আপনি পাঁচ রাকাত পড়েছেন। অতপর তিনি সালাম ফিরানোর পর দুটি সেজদা করেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৬

৩. 

حدثنا حفص بن عمر، حدثنا يزيد بن إبراهيم، عن محمد، عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: صلى النبي صلى الله عليه وسلم إحدى صلاتي العشي ـ قال محمد: وأكثر ظني العصر ـ ركعتين، ثم سلم، ثم قام إلى خشبة في مقدم المسجد، فوضع يده عليها، وفيهم أبو بكر وعمر رضي الله عنهما، فهابا أن يكلماه، وخرج سرعان الناس فقالوا: أقصرت الصلاة؟ ورجل يدعوه النبي صلى الله عليه وسلم ذا اليدين، فقال: أنسيتَ أم قصرت؟ فقال: لم أنس ولم تقصر. قال: بلى قد نسيتَ. فصلى ركعتين، ثم سلم، ثم كبر فسجد مثل سجوده أو أطول، ثم رفع رأسه فكبر، ثم وضع رأسه فكبر، فسجد مثل سجوده أو أطول، ثم رفع رأسه وكبر.

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিকালের দুই নামাযের এক নামায (বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন বলেন, আমার প্রবল ধারণা আসরের নামায) দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেন। তারপর মসজিদের সম্মুখে একটি কাষ্ঠ খণ্ডের কাছে গিয়ে এর উপর হাত রাখেন। মুসল্লীদের মধ্যে আবু বকর ও উমর রা.-ও ছিলেন। কিন্তু তারা তাঁর সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলেন। আর ত্বরাকারীরা বেরিয়ে বলতে লাগল, নামায কি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে? এক ব্যক্তি যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল ইয়াদাইন বলে ডাকতেন, জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি ভুলে গেছেন না নামায কমিয়ে দেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, আমি ভুলিনি আবার নামায কমিয়ে দেওয়াও হয়নি! লোকটি বলল, আপনি অবশ্যই ভুলে গেছেন। অতপর তিনি দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরালেন। তারপর তাকবীর দিয়ে অনুরূপ বা তার চেয়ে দীর্ঘ সেজদা করলেন। তারপর মাথা তুলে তাকবীর দিলেন। তারপর মাথা নিচু করে তাকবীর দিলেন। তারপর অনুরূপ বা তার চেয়ে দীর্ঘ সেজদা করলেন। তারপর মাথা তুলে তাকবীর দিলেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৯

۔

★★শরীয়তের বিধান হলো  সেজদায়ে সাহু ভুলে আদায় না করলে নামাজের পরই আদায় করবে।

নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে উক্ত নামাজ দোহরিয়ে (পুনরায়) পড়তে হয় না এমন একটি কওল রয়েছে। 


তবে রাজেহ তথা প্রাধান্য পাওয়া বক্তব্য হল, দোহরিয়ে (পুনরায় উক্ত নামাজ)  পড়তে হবে। সময় থাকুক বা না থাকুক। 

সতর্কতা এর মাঝেই।

(নাজমুল ফাতওয়া ২/২৮৯)


ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছে   

وقد علمت ايضا ترجيح القول بالوجوب فيكون المرجح وجوب الإعادة فى الوقت وبعده (رد المحتار-3/532

নামাজের ওয়াক্ত থাকুক বা না থাকুক,প্রাধান্য পাওয়া বক্তব্য হলো ওয়াক্তের মধ্যে হোক,বা অন্য যেকোনো সময়ে হোক,উক্ত নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।  

,

★★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরত " সাহু সিজদাহ দিতে ভুলে গেলে যদি তৎক্ষণাৎ মনে না আসে ২-৩ দিন পর মনে হয় তবে করণীয়" হলোঃ

সতর্কতামূলক উক্ত নামাজ আবার আদায় করে নিতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

Thursday, December 24, 2020

বিয়ে-বিচ্ছেদের পর শরিয়তে সন্তান প্রতিপালনের অধিকার কার?

 

প্রশ্ন: কিছু দিন আগে আমার এক বোনকে তার স্বামী তালাক দেয়। বিয়ে-বিচ্ছেদের পর নিয়ম অনুযায়ী আমার বোন তার পূর্ণ ইদ্দত পালন করে। অন্যদিকে তার জন্য বিয়ের নতুন সম্বন্ধ আসতে শুরু করে। কিন্তু আগের স্বামীর ঘরে তার পনেরো মাস বয়সের একটি মেয়ে রয়েছে।

মেয়েটি এখন আমার বোনের কাছে তাদের বাড়িতেই আছে। বোনের আগের স্বামীর পরিবার বলছে, মেয়ের মায়ের যদি অন্য কোথাও বিয়ে হয়, তাহলে আমার বোনের বা আমাদের বাড়ির কেউ বাচ্চা লালন-পালনের অধিকার ধরে রাখতে পারবে না।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী তারাই (বাবার পরিবার) মেয়ে প্রতিপালনের অধিকার রাখে।

এখন আমার জিজ্ঞাসা হলো, শরিয়তের দৃষ্টিতে বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি অধিকার কার? মায়ের নাকি বাবার? আর মায়ের কোথাও বিয়ে হলে বাচ্চা প্রতিপালনের অধিকার হারিয়ে ফেলে? তাছাড়া মায়ের পর বাচ্চা প্রতিপালনে বেশি যোগ্য কে? এক্ষেত্রে নিয়ম-কানুনগুলো বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

উত্তর: মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গেলে মায়ের শিশু-সন্তান প্রতিপালনের অধিকার রাখে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। তবে এই সন্তানের মাহরাম নয় এমন কারো সঙ্গে মায়ের বিয়ে হলে, সন্তান লালন-পালনের অধিকার আর মায়ের থাকবে না। মায়ের পর নানী ও তার অবর্তমানে দাদী পর্যায়ক্রমে এ অধিকার লাভ করবেন।

عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ امْرَأَةً قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ ابْنِي هَذَا كَانَ بَطْنِي لَهُ وِعَاءً، وَثَدْيِي لَهُ سِقَاءً، وَحِجْرِي لَهُ حِوَاءً، وَإِنَّ أَبَاهُ طَلَّقَنِي، وَأَرَادَ أَنْ يَنْتَزِعَهُ مِنِّي، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْتِ أَحَقُّ بِهِ مَا لَمْ تَنْكِحِي»

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক নারী নবী (সা.)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার এই ছেলেকে আমি গর্ভে ধারণ করেছি, তাকে স্তন্যদান করেছি, এখনো আমার কোল-ই তার আশ্রয়; অথচ তার বাবা আমাকে তালাক দিয়েছে। আর এখন চাইছে, তাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে! তখন রাসুল (সা.) তাকে বললেন, যতদিন তুমি বিয়ে না করো ততদিন তুমিই তার বেশি হকদার। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২২৭০; নাসবুর রায়াহ: ৩/২৬৫)

আবদুর রহমান ইবনে আবিজ জিনাদের বর্ণনায় এসেছে, আবু বকর সিদ্দিক (রা.) উমর (রা.)-এর সন্তান আছেম ইবনে উমরের লালন-পালনের ব্যাপারে উমর (রা.)-এর বিপক্ষে ও আছেমের নানীর পক্ষে এই মর্মে রায় দেন যে, ‘আছেম বালেগ হওয়া পর্যন্ত সে তার কাছেই থাকবে। ’ সে সময় উম্মে আছেম জীবিত ছিলেন। অন্যত্র তার বিয়ে হয়েছে। (সুনানে কুবরা, বাইহাকি: ৮/৫)

এখন আপনার বোনের যদি কোথাও বিয়ে হয় (এমন পুরুষের সঙ্গে যে শিশুটির মাহরাম নয়), তাহলে তিনি আর শিশুটির লালন-পালনের অধিকার রাখেন না। এক্ষেত্রে শিশুটির লালন-পালনের জন্য শরিয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত অন্যান্য নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।  

সূত্র: বাদায়েউস সানায়ে: ৩/৪৫৬; আল-বাহরুর রায়েক: ৪/১৬৭; আদ্দুররুল মুখতার: ৩/৫৬৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ২/৭২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৫/২৭৩; মুখতারাতুন নাওয়াযিল: ২/১৮৮)

Thursday, December 3, 2020

মুনাজাতের শেষে কালেমা তাইয়্যেবা পড়া কি আবশ্যক?





প্রশ্নঃ

কালিমার পাঠের মাধ্যমে দোআ-মোনাজাত শেষ করাকে জরুরি মনে করা।

বা, মুনাজাতের শেষে কালেমা তাইয়্যেবা পড়া কি আবশ্যক?

বা, মুনাজাতের শেষে কালেমা তাইয়্যেবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ দ্বারা মুনাজাত শেষ করায় ইসলামের বিধান কী? এ সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্যই বা কী?

উত্তরঃ

نحمده ونصلى على رسوله الكريم وعلى اله واصحابه اجمعين

উপমহাদেশের অধিকাংশ দোয়া-মুনাজাতে কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ দ্বারা মুনাজাত শেষ করা হয়। রাহে বেলায়াত গ্রন্থ এসেছে,কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ দ্বারা মুনাজাত শেষ করায় হাদিস কিংবা সাহাবাদের শিক্ষা বা কর্মের মধ্যে পাওয়া যায়নি। কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ মুসলমানদের ঈমানের ভিত্তি। আল্লাহর জিকির-আজকারের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির। মুনাজাত শেষ করতে কিংবা অন্য কোনো সময় এ কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পাঠ করা অবৈধ নয়। তবে এটাকে সুন্নাত মনে করে কিংবা রীতি হিসেবে স্থায়ী করে নেয়া সুন্নাত পরিপন্থী। সুন্নাতের পরিপন্থী কোনো কিছুকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ উচিত নয়।

নিয়মিত কোনো কাজে কোনো বিষয়ের ব্যবহার সুন্নাত পরিত্যাগ বা সুন্নাতের অবহেলা করার মতো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। তাই যে জিকির যেখানে যেভাবে করার জন্য হাদিসে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেভাবে তা আদায় করাই উত্তম এবং অধিক সাওয়াবের কাজ। সাহাবায়ে কেরাম আজীবন অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে দোয়া মুনাজাত করেছেন। তারা নিয়মিত তো দূরের কথা কখনো কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ দ্বারা মুনাজাত শেষ করেছেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সুন্নাতের বাইরে কোনো রীতি বা কাজে সাহাবায়ে কেরামসহ কোনো বুজুর্গানে দ্বীনের আগ্রহ ছিল না। তাঁদের একমাত্র আদর্শ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যেহেতু হাদিসে কিংবা সাহাবাদের জীবনে কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এর ব্যবহার ছিল না তাই কালেমাকে রীতি হিসেবে নিয়ে মুনাজাত শেষ করায় বিশেষ ফজিলত আছে মনে করাও ঠিক নয়।

দুআর একটি আদব হলআল্লাহর হামদ-ছানা (প্রশংসা) ও দরূদ শরীফ দ্বারা দুআ শুরু করা এবং শেষ করা। তাছাড়া হাদীস থেকে এ-ও বুঝা যায় যে,দুআ সমাপ্ত হবে ‘আমীন’-এর মাধ্যমে ।

أَبُو مُصَبِّحٍ الْمَقْرَائِيُّ، قَالَ: كُنَّا نَجْلِسُ إِلَى أَبِي زُهَيْرٍ النُّمَيْرِيِّ، وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ، فَيَتَحَدَّثُ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ، فَإِذَا دَعَا الرَّجُلُ مِنَّا بِدُعَاءٍ قَالَ: اخْتِمْهُ بِآمِينَ، فَإِنَّ آمِينَ مِثْلُ الطَّابَعِ عَلَى الصَّحِيفَةِ، قَالَ أَبُو زُهَيْرٍ: أُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ؟ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ قَدْ أَلَحَّ فِي الْمَسْأَلَةِ، فَوَقَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَسْتَمِعُ مِنْهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوْجَبَ إِنْ خَتَمَ»، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: بِأَيِّ شَيْءٍ يَخْتِمُ؟ قَالَ: «بِآمِينَ، فَإِنَّهُ إِنْ خَتَمَ بِآمِينَ فَقَدْ أَوْجَبَ»، فَانْصَرَفَ الرَّجُلُ الَّذِي سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَى الرَّجُلَ، فَقَالَ: اخْتِمْ يَا فُلَانُ بِآمِينَ، وَأَبْشِرْ، وَهَذَا لَفْظٌ مَحْمُودٌ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «الْمَقْرَاءُ قَبِيلٌ مِنْ حِمْيَرَ»

আবু মুসাব্বিহ আল মাকরাঈ (র) বলেন, আমরা হযরত আবু যোহাইর আন নুমাইরী (রা)-র খিদমতে বসতাম এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) এর একজন প্রিয় সাহাবী ছিলেন। তিনি উত্তম হাদিস সমূহ বর্ণনা করতেন। অতঃপর আমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি যখন কোনরূপ দোয়া করত তখন তিনি বলতেন, তোমরা আমীন শব্দের উপর দোয়া শেষ করবে। কেননা আমীন শব্দটি ঐশী গ্রন্থের মোহর বা সিলস্বরূপ। এ প্রসঙ্গে আমি তোমাদের কাছে একটি ঘটনা বর্ণনা করতে চাই।

এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে বাইরে গমন করি। এসময় আমরা এমন এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হই, যিনি অনেক অনুনয়-বিনয় সহকারে দোয়া করেন। নবী করীম (সা) তার কথা শ্রবণের জন্য সেখানে দণ্ডায়মান হন। তখন নবী করীম (সা) বলেন, যদি সে শেষ করে তবে তার দোয়া কবুল হবে। এ সময় সমবেত লোকদের মধ্য হতে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: সে কোন জিনিসের উপর দোয়া শেষ করবে? তিনি বলেন তিনি বলেন, যদি সে আমীনের উপর দোয়া শেষ করে। কেননা যদি সে আমীনের উপর তার দোয়া সমাপ্ত করে তবে তবে তার দোয়া কবুল হবে। অতঃপর প্রশ্নকারী ব্যক্তি দোয়ায় রত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়, যিনি তখন দোয়ার মধ্যে মশগুল ছিলেন। তখন তিনি তাকে বলেন, তুমি আমীন শব্দের উপর তোমার দোয়া শেষ কর এবং সাথে সাথে দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ কর।

AbuMisbah al-Muqra'i said: We used to sit in the company of AbuZuhayr an-Numayri. He was a companion of the Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam), and he used to narrate good traditions. Once a man from among us made a supplication. He said: End it with the utterance of Amin, for Amin is like a seal on the book.

AbuZuhayr said: I shall tell you about that. We went out with the Messenger of Allah (sallallahu 'alaihi wa sallam) one night and came upon a man who made supplication with persistence. The Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam) waited to hear him. The Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam) said: He will have done something which guarantees (Paradise for him) if he puts a seal to it. One of the people asked: What should he use as a seal? He replied: Amin, for if he ends it with Amin, he will do something which guarantees (Paradise for him).

 

Then the man who questioned the Prophet (sallallahu 'alaihi wa sallam) came to the man who was supplicating, and said to him: So-and-so, end it with Amin and receive the good news. These are the words of Mahmud.

কিন্তু অনেক মানুষকে দেখা যায়তারা দুআ শেষ করেন কালিমার মাধ্যমে। এভাবে বলে থাকেন-

হে আল্লাহ! মৃত্যুর সময় যবানে জারি করে দিও- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ  অথবা বলেন,

اجعل آخر كلامنا عند الموت "لا إله إلا الله، محمد رسول الله".

অর্থাৎ কালিমার মাধ্যমে তারা দুআ শেষ করেন। এটি দুআর আদব নয়বরং এর কারণে দুআ সমাপ্ত করার মাসনূন আমল ছুটে যায়।

হাঁ, দুআর মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থনা যেহে আল্লাহ আমার শেষ কথা হোক তোমার কালিমা। হাদীস শরীফে এসেছে-

مَنْ كَانَ آخِر كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ.

যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সে জান্নাতে যাবে। -সুনানে আবূ দাউদহাদীস ৩১১৬

কিন্তু কালিমার মাধ্যমে দুআ শেষ করা একটি রসম মাত্র।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়া-মুনাজাত, জিকির-আজকারসহ যাবতীয় আমল সুন্নাত অনুযায়ী করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

صلى الله على النبى الكريم وعلى اله واصحابه اجمعين

Saturday, September 26, 2020

উলামাদের নামের আগে “হযরত” লেখা প্রসঙ্গে


হযরত” লেখা প্রসঙ্গে 
উলামাদের নামের আগে “হযরত” লেখা প্রসঙ্গে

উলামাদের নামের আগে “হযরত” লেখা প্রসঙ্গে


আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মদ ( সা:)  এর নামের পূর্বে হযরত লিখা হয়।

প্রশ্ন :  আমাদের চারপাশে আলেমদের নামের পূর্বে মুফতি, মাওলানা ব্যবহার করে। কিন্তু হযরত কথাটা কতটুকু জ্ঞান অর্জন করলে বা কি ধরনের ডিগ্রী অর্জন করলে এই হযরত কথাটা লিখা বা ব্যবহার করা যায়, যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন খুবই উপকৃত হইতাম।


এই হযরত কথাটা তাদের নামের পূর্বে ব্যবহার করাটা কতটা গ্রহণযোগ্য।


উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

نحمده ونصلى على رسوله الكريم وعلى اله واصحابه اجمعين

আপনি আমাকে বলুনতো “মাননীয়” “সম্মানিত” “মহামান্য” জনাব, ইত্যাদি বিশেষণ কি ধরণের ডিগ্রি অর্জন করলে একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়?


প্রসিদ্ধ উর্দু অভিধান “ফিরুজুল লুগাত” এ “হযরত” শব্দের অর্থ করা হয়েছে উক্ত শব্দগুলো দিয়ে। সেখানে আরেকটি বিষয়ও লেখা হয়েছে, সেটি হল এটি সম্মানসূচক একটি শব্দ। {ফিরুজুল লুগাত-৩০৪}


এ উপমহাদেশে সম্মান বুঝাতে হযরত শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি কোন ব্যক্তি বিশেষ বা কোন ডিগ্রির সাথে খাস কোন শব্দ নয়। তাই যেকোন সম্মানিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই তা ব্যবহার করা যাবে। এতে কোন সমস্যা নেই।


রাসূলে কারীম সাঃ ও যেহেতু আল্লাহ তাআলার পর সর্বোচ্চ সম্মানিত ব্যক্তিত্ব তাই তাঁর ক্ষেত্রেও “হযরত” শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নবীজী সাঃ এর ক্ষেত্রে এ শব্দ ব্যবহারের অর্থ এই নয় যে, এটি আর কারো জন্য ব্যবহার করা যাবে না। কারণ, এ শব্দটি রাসূল সাঃ এর সাথে খাস কোন শব্দ নয়। যদি খাস শব্দ হতো তাহলে তা অন্য কারো জন্য তা ব্যবহার করা জায়েজ হতো না। যেমন খাতামুল মুরসালীন, খাতামুন্নবী, রাসূলে আরাবী, সাইয়্যিদুল কাউনাইন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইত্যাদি শব্দ রাসূল সাঃ এর সাথে খাস শব্দ। এসব অন্য কারো জন্য ব্যবহার করা জায়েজ হবে না।


যেকোন সম্মানিত ব্যক্তির বেলায়ই “হযরত” শব্দ ব্যবহার করা যাবে। এর জন্য কোন বাধ্যবাধকতা নেই।


আলেমদের নামের আগে লোকেরা এ শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। এটি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ। আর আলেম উলামাগণ সম্মানযোগ্য ব্যক্তিত্ব। ইলম -আমলী ও বয়সের দিক থেকে বড়দের সম্মান করার শিক্ষা রাসূল সাঃ দিয়েছেন। সেটি শব্দের সাথে ব্যবহারের মাধ্যমেও হতে হবে। আর আমাদের দেশের প্রচলন অনুযায়ী যেহেতু এ শব্দ দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তাই এটি আলেমদের ক্ষেত্রে ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই।

عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ  اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ، وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ وَالْجَافِي عَنْهُ، وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ»

হযরত আবূ মুসা আশআরী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, “বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কুরআনের ব্যাপারে খেয়ানতকারী নয়, এবং তা পরিত্যাগকারী নয় এমন কুরআনের ধারক বাহক [হাফেজ, কারী, আলেম, মুফাসসির, মুফতী প্রমূখ] দের সম্মান করা, এবং ন্যায়পরায়ন বাদশার সম্মান করা আল্লাহ তাআলাকে সম্মান করারই নামান্তর। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৮৪৩, আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং-৩৫৭, মুসনাদুল হারেস, হাদীস নং-৭৩৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩০৭০, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৭৩৬, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৩১৬, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-২৪৩৩, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২১৯২২}

صلى الله على النبى الكريم وعلى اله واصحابه اجمعين

والله اعلم بالصواب

Tuesday, September 1, 2020

সুদি ব্যাংকে ডিপিএস খোলা


জিজ্ঞাসা–
:
 আমি অগ্রনী ব্যাংকে ১০ বছর মেয়াদী একটা ডিপিএস খুলেছি, এখন মনে প্রশ্ন জেগেছে কাজটা ঠিক করলাম কিনা? এই ডিপিএসটা কি আমি চালিয়ে নিবো নাকি বাদ দিবো। আমি খুবই উপকৃত হতাম প্রশ্ন টা উত্তর পেলে।
জবাব: প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, ঈমানের পূর্ণতার জন্য অপরিহার্য শর্ত হল, সুদ ও যাবতীয় হারাম পন্থা পরিহার করে বৈধ উপায় গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। (সূরা আলি ইমরান ১৩০)
হাদিসে এসেছে-
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه، وقال : هم سواء.
আল্লাহর রসূল রাসূল ﷺ সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার উপর সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ করেছেন, আর বলেছেন, ওরা সকলেই সমান। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯)
অতএব আপনার উচিত, সুদী ব্যংকে কাজ করার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করা এবং যত দ্রুত সম্ভব এথেকে বের হয়ে এসে হালাল উপায় খুঁজে বের করা। এভাবে যদি তাওবা করেন তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ মাফ করবেন। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَمَن جَاءهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىَ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই জাহান্নামে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। (সূরা বাকারা ২৭৫)