Follow Us
Friday, February 24, 2023
Monday, February 21, 2022
Monday, November 30, 2020
Tuesday, October 20, 2020
اَحْـــكَـــامُ
الـــدُّعَـــآءِ وَ الـــذِّكْـــرِ
দু‘আ ও যিকিরের বিধান
সংকলন ও গ্রন্থনায়
মোঃ উমর ফারুক
তাহকীক ও সম্পাদনায়
মাওঃ বুলবুল হুসাইন
সংকলন ও গ্রন্থনায়
:
মো. উমর ফারুক
বি. এ (অনার্স), এম. এ,
(রাঃবি)
কামিল তাফসীর, (ইঃবিঃ) দাওরায়ে হাদীস (বেফাক)
প্রকাশক :
মোছাঃ রিনা খাতুন
ই-মেইল :
omorf1833@gmail.com
সার্বিক যোগাযোগ :
মোঃ উমর ফারুক
মোবাঃ ০১৭১৭-৯৫৪৩৪৭
প্রকাশকাল : এপ্রিল, ২০১৭
কম্পিউটার কম্পোজ,
পেজ মেকআপ, তাহকীক ও সম্পাদনায় :
মো. উমর ফারুক
বি. এ (অনার্স), এম. এ,
কামিল
তাফসীর, দাওরায়ে হাদীস,
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, এম ও এফ ইসলামিক সেন্টার, গাবতলী,
বগুড়া।
মোবাঃ ০১৭১৭-৯৫৪৩৪৭
প্রচারনায় ও পরিবেশনায়
:
এম ও এফ ইসলামিক সেন্টার, গাবতলী, বগুড়া।
উৎসর্গঃ
যুগে যুগে ইসলামকে
প্রতিষ্ঠিত করার আন্দোলনে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায়।
বিনিময় : এক দামে ক্রয়ের
জন্য নির্ধারিত মূল্য ...... টাকা মাত্র।
বিঃদ্রঃ বইয়ের বিক্রিত
সমূদয় অর্থ কোরআন শিক্ষার খিদমতে ব্যয় হয়।
তথ্যসূত্র নির্দেশিকা
পুস্তিকাটি ক্ষুদ্র
হলেও কুরআন কারীম ও হাদীস শরীফ থেকে সম্ভাব্য সর্বাধিক পরিমাণে রেফারেন্স প্রদান করা
হয়েছে। কুরআন কারীমের ক্ষেত্রে (অনুবাদ মাও. মো. মহিউদ্দীন খান) প্রথমে সূরার নাম ও
পরে আয়াত নাম্বর। হাদীস গ্রন্থের ক্ষেত্রে প্রথমে হাদীসগ্রন্থের নাম ও পরে হাদীস নাম্বার
প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রকাশিত
হাদীস সংকলনগুলোতে এক সংস্থার নাম্বারের সাথে অপর সংস্থার নাম্বারের মিল নেই। এ সমস্যা
সমাধানে উক্ত বইয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘মাকতাবা শামেলা ও ডিজিটাল
বাংলা হাদীস টিম (ডিবিএইচটি)’ প্রদত্ত ক্রমিক নাম্বারকে
অনুসরণ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটেও একই নাম্বার অনুসরণ করা হয়। বড় বড় ইসলামিক স্কলারগণসহ
ও বিশ্ব বিখ্যাত বক্তা ও সর্বজন স্বীকৃত এবং
শ্রোদ্ধারপাত্র ডা. জাকির নায়েকও
এ নাম্বার দিয়েই উদ্ধৃতি পেশ করে থাকেন। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
(ই.ফা.বা), আধুনিক প্রকাশনী (আ.প্র) এবং
ইসলামিক সেন্টার (ই.সে) থেকে প্রকাশিত হাদীস গ্রন্থের নাম্বারও দেওয়া হয়েছে।
প্রারম্ভিক কথা
মহান আল্লাহর শোকরিয়া যার অসীম কৃপায় অনেক দিনের একটি সপ্ন এবার সফল হলো। তাহলো সহজ পদ্ধতিতে একটি প্রাঞ্জল ভাষায়, সহজবোধ্য, নিভর্‚ল, মানসম্পন্ন, সুসমন্বিত এবং যুগোপযোগী পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা সংবলিত সহায়ক ‘আল-কুরআন ও আল-হাদীসের ধারাবাহিক দারস’ এর বই সংকলন ও গ্রন্থনার সপ্ন। বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সংবলিত লেখা অনেক দু‘আর বই বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু সকল স্তরের পাঠকদের জন্য এমন কোন ক্ষুদ্র, অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা বর্জিত বই নেই যা পড়ে পাঠক নিজেরাই কোরআন ও হাদীসের আলোকে দু‘আ ও যিকিরের বিধান সম্পর্কে জানতে পারে। এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে দেশী-বিদেশী লেখকদের লেখা নামীদামী বই ও বিভিন্ন রেফারেন্স সংগ্রহ এবং নিজের খতিব ও বক্তার অভিজ্ঞতার সমন্বয় সাধন করে তৈরী করেছি ব্যতিক্রমধর্মী একটি “দু‘আ ও যিকিরের বিধান” বই। যা সকল স্তরের পাঠকের প্রয়োজনীয়তা মিটাবে বলে আমার বিশ্বাস।
গ্রন্থটি সংকলনে যারা
সহযোগিতা করেছেন, প্রকাশনা ও প্রচারণার
ক্ষেত্রে যারা উৎসাহ যুগিয়েছেন, বিভিন্ন লেখকের বইয়ের
সহায়তায় গ্রন্থটি সংকলনে পাথেয় হয়েছেন। তাদের সকলের প্রতি রইল আন্তরিক মোবারকবাদ, কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে উত্তম পারিতোষিক
দান করুন এবং আখিরাতে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিন।
সবশেষে অনেক সতর্কতা
অবলম্বন সত্তে¡ও বইটির যে কোন বিষয়ে
যে কোন মহলের কাছ থেকে গঠনমূলক সমালোচনা,
উপদেশ, পরামর্শ এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা মুদ্রণজনিত ভুল-ত্রুটির সমাধান পেলে কৃতজ্ঞ
থাকব। আল্লাহ্ আমাদের এ প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। -আমীন!!
- মোঃ উমর ফারুক
প্রথম অধ্যায়
আল-কুরআন ও আল-হাদীসের
আলোকে দু’আ...
ভূমিকা...
দু’আর অর্থ....
দু‘আর ফজীলত ও উপকারিতা......
দু‘আ কবুলের শর্তাবলী.....
দু’আ কবুলের অন্তরায় বা
প্রতিবন্ধকতা সমূহ
দু'আর আদব বা বৈশিষ্ট্য সমূহ......
যাদের দু’আ নিশ্চিত কবুল হয়.......
দু’আ কবুলের সময়, অবস্থা এবং বিশেষ বিশেষ স্থান
যে সব দু‘আ করা হারাম......
সব ধরণের আবেদন-নিবেদন
আল্লাহর নিকটই পেশ করতে হবে
উপসংহার............
দ্বিতীয় অধ্যায়
দৈনন্দিন কাজের গুরুত্বপুর্ণ
দু’আ
ভূমিকা.........
“আউযুবিল্লাহ্” বলার ক্ষেত্র
...
“আউযুবিল্লাহ্” বলার ফজীলত
.....
“বিস্মিল্লাহ” বলার ক্ষেত্র
......
“আলহামদুলিল্লাহ্” বলার ক্ষেত্র
....
“ইনশাআল্লাহ” বলার ক্ষেত্র
.....
“আল্লাহু আকবার” বলার ক্ষেত্র .....
“সুবহানাল্লাহ্” বলার ক্ষেত্র
....
“আসতাগফিরুল্লাহ” বলার ক্ষেত্র
....
“জাযাকাল্লাহ” বলার ক্ষেত্র
....
পায়খানায় প্রবেশের দু‘আ .....
পায়খানা হতে বের হওয়ার দু‘আ .....
ওযূ করার পূর্বের দু‘আ
.....
ওযূর পরের দু‘আ
....
আশ্চর্যজনক অবস্থায়
ও আনন্দের সময় পঠিতব্য দু‘আ ......
হাঁচিদাতা ও শ্রোতার
জন্য পঠিতব্য দু‘আ .....
সন্তানদের জন্য পরিত্রাণ
চাওয়ার দু‘আ .....
পিতা-মাতার জন্য দু‘আ....
সন্তান ও পরিবারের
জন্য দু‘আ
....
সন্তানের কল্যাণের
জন্য পিতা-মাতার দু’আ...
সুসন্তান লাভের জন্য
দু‘আ...
সন্তানকে নামাজী বানানোর
দু’আ.....
ফরয সালাতের পর যিকিরসমূহ ...
উপসংহার
.....
তৃতীয় অধ্যায়
যিকিরের গুরুত্ব ও
ফজিলত
ভূমিকাঃ
যিকির এর পরিচয়ঃ
যারা আল্লাহর যিকির
করে এবং করে না তাদের উপমা
আল্লাহর যিকিরের প্রকারভেদ
আল্লাহর যিকিরের গুরুত্ব
আল্লাহর যিকিরের ফজীলত
যিকির হতে উদাসিনতার
অপকারীতা
কতিপয় মাসনূন যিকির-আযকার
উপসংহার
ভূমিকা
আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী
হওয়া এবং তার নৈকট্য লাভ করা ব্যতীত মানুষের কোন উপায় নেই। আর দু’আ হল আল্লাহর রেজামন্দি
(সন্তুষ্টি) বা নৈকট্য লাভের বিশেষ বাহন ও মাধ্যম। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, প্রত্যাশা ও সাহায্য কামনার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর
নিকটবর্তী হয়। এর দ্বারা মানুষ তার প্রতিপালকের ইবাদত করে সন্তুষ্টি লাভ করে। একজন
মোমিনের জীবনে দু’আর গুরুত্ব ও তাৎপর্য
অপরিসীম। বান্দা ও প্রভুর মাঝে সেতুবন্ধন হল দু’আ। দু’আকে ইবাদতের মগজ বা
নির্যাস, এমনকি স্বতন্ত্র একটি ইবাদত
হিসেবেও বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
দু’আর অর্থ
দু‘আ শব্দটি আরবি। এ শব্দের
অর্থ ডাকা, চাওয়া, আহবান করা, প্রার্থনা করা,
স্মরণ
করা, বাণী, অনুনয়-বিনয় করা, প্রশংসা সহকারে ডাকা,
সাহায্য
বা আশ্রয় প্রার্থনা করা ইত্যাদি। একে ছওয়াল
বা মুনাজাতও বলা হয়ে থাকে। শরীয়তের পরিভাষায় নিজেকে অতি তুচ্ছ, হেয়,
ক্ষুদ্র
কিংবা ছোট মনে করে উপস্থাপন করে কল্যাণ ও উপকার লাভের উদ্দেশ্যে এবং ক্ষতি ও অপকার
রোধকল্পে মহান আল্লাহকে ডাকা এবং তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করাকে বলে দু’আ।
দু‘আর ফজীলত ও উপকারিতা
দু’আতে রয়েছে প্রভূত ফযীলত, মহা পুরস্কার, শুভ পরিণতি ও অনেক উপকার। নিম্নে তারই কিছু উলেখ করা হল।
(ক) দু’আ আল্লাহর ইবাদত।
(খ) দু’আতে রয়েছে দু'আকারী ব্যক্তির আবেদনের সাড়া।
আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে,
وَقَـالَ رَبُّـكُمُ
ادْعُـوْنِـيْ أَسْـتَـجِـبْ لَـكُمْ ﴿غافر / المؤمن : ٦٠﴾
“তোমাদের পালনকর্তা
বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দিব।” -সূরা মুমিনঃ ৬০
(গ) দু'আতে রয়েছে স্রষ্টার
প্রতি আনুগত্য ও হীনতা-দীনতার প্রকাশ।
(ঘ) দু'আ ইহকাল ও পরকালে দু’আকারী ব্যক্তি থেকে
অনিষ্টরোধ করে ও পাপ মোচন করে।
(ঙ) দু’আ মুমিনদের হাতিয়ারতুল্য।
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, “আমি কি তোমাদেরকে এমন
এক আমলের কথা বলব না যা তোমাদেরকে তোমাদের শক্র থেকে রক্ষা করবে এবং তোমাদেরকে পূর্ণ
মাত্রায় জীবিকা প্রদান করবে? আর তা হল, তোমরা আল্লাহ তা‘আলার নিকট রাত-দিন দু’আ করবে। কেননা, দু’আ-ই হল মুমিনের বিশেষ হাতিয়ার বা শক্তি।” (আলফিয়্যাতুল হাদীস-৮৭৮, মাআরিফুল হাদীস-৫/৭৯, মুসনাদে আবূ ইয়ালা
(চ) বিপদ-আপদ প্রতিরোধ করে।
(ছ) রহমতের দরজা উম্মুক্ত হয়।
দু‘আ কবুলের শর্তাবলী
মুমিনের প্রত্যাশা, মহান আল্লাহ যেন তার দু‘আ কবুল করেন এবং তার
মনের আশা পূরণ করেন। এ জন্য কিছু শর্ত আছে। যেমন
১. ইখলাস
সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল
আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশ ইবাদত করার নাম ইখলাস। ইবাদত এবং আমাল কবুল হওয়ার মূল শর্ত এটি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
هُـوَ الْـحَـيُّ لَا إِلٰـهَ
إِلَّا هُـوَ فَـادْعُـوْهُ مُـخْـلِـصِـيْـنَ لَـهُ الـدِّيْـنَ الْـحَـمْـدُ لِـلّٰـهِ
رَبِّ الْـعَـالَـمِـيْـنَ ﴿غافر: ٦٥﴾
“তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব, তাকে ডাক খাটি ইবাদতের মাধ্যমে।’’ -সূরা গাফির/মুমিনঃ ৬৫
২. যাবতীয় হারাম থেকে
বেচে থাকা।
কেননা, হারাম সম্পদ হচ্ছে দু‘আ কবুলের পথে অন্তরায় ও বাধা।
দু’আ কবুলের অন্তরায় বা
প্রতিবন্ধকতা সমূহ
উপরের আলোচনায় আমরা
দু’আ কবুলের শর্ত সম্পর্কে
জানতে পেরেছি, নীচে দু’আ কবুলের অন্তরায় সমূহ
সংক্ষেপে উলেখ করা হল। যথা:-
১. আল্লাহর সাথে শিরক
করা।
২. দু’আতে ইখলাস না থাকা।
৩. অবৈধ কারবার করা, ভেজাল দেয়া।
৪. সুদ খাওয়া।
৫. অন্যায়ভাবে মানুষের
সম্পদ ভক্ষণ করা।
৬. ঘুষ নেওয়া।
৭. দু’আতে সীমালঙ্ঘন করা।
৮. অবৈধ বা বিদ্য়াতী
দু’আ করা যথা:-মৃত বা
কবরস্থ ব্যক্তির অসীলা গ্রহণ করে দু’আ করা।
৯. দু’আতে দরূদ-সালাম ও সানা
পাঠ না করা।
১০. দুয়াতে তাড়াহুড়ো
করা।
বিপদ-আপদ, দু:খ-কষ্টে পতিত হয়ে আমরা যখন দু’আ করি তখন আমরা ত্বরিত
ফল আশা করি। দু’ এক বার দু’আ করার পর কবূলের নগদ
নগদ কোন লক্ষণ দেখতে না পাওয়ায় আমরা একটুতেই নিরাশ হয়ে পরি এবং এক সময় দু’আ করাই ছেড়ে দিই।
১১. সৎকাজের আদেশ ও
অসৎকাজের নিষেধ বর্জন করা।
عَـنْ حُـذَيْـفَـةَ أَنَّ
الـنَّـبِـيَّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ قَـالَ وَالَّـذِيْ نَـفْـسِـيْ
بِـيَـدِهِ لَـتَـأْمُـرُنَّ بِـالْـمَـعْـرُوْفِ وَلَـتَـنْـهَـوُنَّ عَـنِ الْـمُـنْـكَـرِ
أَوْ لَـيُـوْشِـكَـنَّ الـلّٰـهُ أَنْ يَّـبْـعَـثَ عَـلَـيْـكُمْ عَـذَابًـا
مِّـنْ عِـنْـدِهِ ثُـمَّ لَـتَـدْعُـنَّـهُ وَلَا يُـسْـتَـجَـابُ لَـكُمْ
)رَوَاهُ الـتِّـرْمِـذِيُّ(
‘যার কব্জায় আমার জান
তার শপথ! তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বারণ করবে, অন্যথায় আল্লাহ তায়ারা তার নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের
উপর শাস্তি নাযিল করবেন, তখন তোমরা তার নিকট
প্রার্থনা করবে কিন্তু তিনি তোমাদের সেই প্রার্থনা আর কবূল করবেন না।” -তিরমিযী;
মিশকাতঃ
৫১৪০
দু'আর আদব বা বৈশিষ্ট্য সমূহ
১. বিনয়-বিনম্রতা ও
একাতগ্রতার সাথে দু’আ করা।
২. সংকল্প ও আকুতির
সাথে দু’আ করা।
কোন কিছু প্রার্থনা
করতে হলে আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও দু’আ কবূলের আশা নিয়ে চাইতে হবে। সংশয়যুক্ত, দোদল্যমান ও বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে দু’আ করা অহংকারের বহি:প্রকাশ।
৩. দু’আ কবুলে প্রবল আশাবাদী
হওয়া।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
عَـنْ أَبِـيْ هُـرَيْـرَةَ
(رض) قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ
قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ إِذَا
دَعَـآ أَحَـدُكُمْ فَـلَا يَـقُـلْ اَلـلّٰـهُـمَّ اغْـفِـرْ لِـيْ إِنْ شِـئْـتَ
ارْحَـمْـنِـيْ إِنْ شِـئْـتَ ارْزُقْـنِـيْ إِنْ شِـئْـتَ وَلِـيَـعْـزِمْ
مَـسْـأَلَـتَـهُ إِنَّـهُ يَـفْـعَـلُ مَـآ يَـشَـآءُ وَلَا مَـكْـرَهَ لَـهُ
" (رَوَاهُ البُخَارِيّ)
‘তোমাদের কেউ যেন কখনো
এ ভাবে দু’আ না করে, হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে ক্ষমা কর, তোমার ইচ্ছা হলে আমার প্রতি রহমত কর। বরং দৃঢ়তা
সহকারে যেন দু’আ করে, কেননা আল্লাহ তা‘আলার উপর কারও জোড় বা প্রভাব
খাটে না।” -বুখারী;
মিশকাতঃ
২২২৩
৫. পবিত্র অবস্থায়
কেবলামুখী হয়ে হাত তোলা ও দু’আ শেষে মুখ মাছেহ করা:
হাদীসে এসেছে,
عَـنِ الـسَّـآئِـبِ بْـنِ
يَـزِيْـدَ عَـنْ أَبِـيْـهِ أَنَّ الـنَّـبِـيَّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ
كَـانَ إِذَا دَعَـا فَـرَفَـعَ يَـدَيْـهِ مَـسَـحَ وَجْـهَـهُ بِـيَـدَيْـهِ) رَوَى
الْـبَـيْـهَـقِـيُّ فِـي الـدَّعْـوَاتِ الْـكَـبِـيْـرِ)
“রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন দু’আ করতেন,
তখন তিনি
তাঁর হস্তদ্বয়কে উত্তোলন করতেন এবং শেষে হাত দু’টি দ্বারা নিজের চেহারাকে মাছেহ
করতেন।” -বায়হাকী;
মিশকাতঃ
২২২৫
রাসূলুল্লাহ ﷺ দৈনন্দিন জীবনের নির্দিষ্ট কিছু সময় ও অবস্থায় নির্দিষ্ট যে
সমস্ত দু’আ পাঠ করতেন সাধারণত
সেগুলোতে হাত তুলতেন না। যেমন খাওয়ার পুর্বে ও খাওয়ার পরের দু’আ, মসজিদে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার দু’আ, ফরজ সালাতের পর সমবেতভাবে, নিজ গৃহে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার দু’আ, টয়লেটে ঢোকা ও বের হওয়ার দু’আ, চাঁদ দেখার দু’আ, নতুন জামা পরিধানের দু’আ, আযানের দু’আ ইত্যাদি। রাসূলুল্লাহ ﷺ যে সমস্ত ক্ষেত্রে হাত তুলতেন না সেগুলোতে হাত তুলে দু’আ করা দু’আর মুস্তাহাব হিসেবে
গণ্য হবে না। এটি খেলাফে সুন্নত।
আমাদের মধ্যে একটি
বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে কেউ কেবল হাত তুলে দু’আ করলেই আমরা সেটাকে দু’আ বলে থাকি, আর মুখে মুখে দু’আ করলে সেটাকে দু’আ-মুনাজাত মনে করি
না, এটি একটি ভুল ধারণা। হাত তুলে
দু’আ করা দু’আর একটি মুস্তাহাব
আদব মাত্র। মূলতঃ আল্লাহর প্রতি ভক্তি,
আস্থা
ও আবেগ নিয়ে বান্দা যদি কোন বিষয়ে দু’আ করে সেটা শুয়ে, বসে,
দাঁড়িয়ে, হাঁটতে-চলতে যেভাবেই করুক সেটাকেই দু’আ বলা হবে এবং তিনি
দু’আর ফজীলত পুর্ণ মাত্রায়
প্রাপ্ত হবেন।
৬. দু’আর শুরু এবং শেষে আল্লাহর
প্রশংসা করা এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর উপর সালাত ও সালাম পেশ করা।
৭. চিৎকার করে দু’আ না করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَاِذَا سَـاَلَـكَ
عِـبـادِىْ عَـنِـىْ فَـاِنِّـىْ قَـرِيْـبٌ ط اُجِـيْـبُ دَعْـوَةَ الـدَّاعِ
اِذَا دَعَـانِ لا فَـلْـيَـسْـتَـجِـيْـبُـوْا لِـىْ وَلْـيُـؤْمِـنُـوْا بِـىْ
لَـعَـلَّـهُـمْ يَـرْشُـدُوْنَ ﴿البقرة: ١٨٦﴾
“আর আমার বান্দারা যখন
তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে- বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা
করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম
মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে
আসতে পারে।” -সূরা বাকারাঃ ১৮৬
৮. চিৎকার না করে আবেগ
তাড়িত আওয়াজে দু’আ করা।
৯. নেক আমল পেশ করে
দু‘আ করা।
১০. দু’আ নিজ থেকে শুরু করা।
অন্যের জন্য কিংবা
সম্মিলিত দু’আ করার সময় প্রথমে
নিজের প্রসঙ্গ দিয়ে দু’আ আরম্ভ করা দু’আর আদব। হাদীসে রয়েছে,
عَـنْ أُبَـيِّ بْـنِ
كَـعْـبٍ قَـالَ كَـانَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ
إِذَا ذَكَـرَ أَحَـدًا فَـدَعَـا لَـهُ بَـدَأَ بِـنَـفْـسِـهِ )رَوَاهُ الـتِّـرْمِـذِيُّ(
“রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কাউকে স্মরণ করতেন এবং তার জন্য দু’আ করতেন, তখন তিনি নিজের থেকে দু’আ শুরু করতেন।’’ -তিরমিযী;
মিশকাতঃ
২৫৫৮
আমরা অন্যের দ্বারা
দু’আ করে নিতেই সর্বদা
স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। মনে করে থাকি যে আমি গুনাহগার বান্দা, আমার দু’আ কি আল্লাহ তা‘আলা কবূল করবেন? আসলে আল্লাহ তা‘আলা তো গুনাহগারদের দু’আই অধিক কবূল করে থাকেন।
কেননা, গুনাহগার ব্যক্তি তার নিজের
মনের অনুশোচনা, আবেগ, অনুভূতি,
বেদনা
আর আহাজারি যেভাবে আল্লাহ তা‘আলার নিকট জানাতে পারবে, তার পক্ষ থেকে সেভাবে অন্যরা কি পারবে? কখনই না! তাই আমাদেরকে নিজের দু’আ নিজে করাই উচিত।
১১. অকল্যাণের দু’আ না করা।
অনেক সময় আমরা আবেগ, রাগ কিংবা দু:খ-কষ্টের কারণে নিজের বা অন্যের অমঙ্গলজনক
কিছু প্রার্থনা করে বসি। এটি এক সময় আমাদের নিজেদের জন্যই মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে
দাঁড়ায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَـنْ جَـابِـرِ بْـنِ
عَـبْـدِ الـلّٰـهِ قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ
وَسَـلَّـمَ لَا تَـدْعُـوْا عَـلٰـى أَنْـفُـسِـكُمْ، وَلَا تَـدْعُـوْا عَـلٰـى أَوْلَادِكُمْ،
وَلَا تَـدْعُـوْا عَـلٰـى خَـدَمِـكُمْ، وَلَا تَـدْعُـوْا عَـلَـى
أَمْـوَالِـكُمْ، لَا تُـوَافِـقُـوْا مِـنَ الـلّٰـهِ تَـبَـارَكَ وَتَـعَـالٰـى سَـاعَـةَ
نَـيْـلٍ فِـيْـهَـا عَـطَـاءٌ، فَـيَـسْـتَـجِـيْـبَ لَـكُمْ ( رَوَاهُ أَبُـوْ دَاوُدَ)
“তোমরা তোমাদের নিজেদের
বিরুদ্ধে, সন্তানদের বিরুদ্ধে, খাদেমদের বিরুদ্ধে এবং নিজেদের সম্পদের বিরুদ্ধে
দু’আ কর না। কেননা আল্লাহর
এমন এক সময় আছে যে সময় বান্দা যদি তার নিকট কিছু প্রার্থনা করে তবে তিনি তা কবুল করে
থাকেন।” -আবূ দাঊদঃ ১৫৩২; মিশকাতঃ ২২২৯
১২. মৃত্যু কামনা করা।
১৩. “আমীন” শব্দে দু’আ শেষ করা।
হাদীস শরীফে এসেছে,
عَـنْ أبِـيْ زُهَـيْـرِ
الـنُّـمَـيْـرِيْ قَـالَ خَـرَجْـنَـا مَـعَ رَسُوْلِ اللَّهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ
عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ ذَاتَ لَـيْـلَـةٍ، فَـأَتَـيْـنَـا عَـلٰـى رَجُـلٍ قَـدْ
أَلَـحَّ فِـي الْـمَـسْـأَلَـةِ، فَـوَقَـفَ الـنَّـبِـيُّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ
عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ يَـسْـتَـمِـعُ مِـنْـهُ، فَـقَـالَ الـنَّـبِـيُّ
صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ أَوْجَـبَ إِنْ خَـتَـمَ، فَـقَـالَ رَجُـلٌ
مِّنَ الْـقَـوْمِ بِـأَيِّ شَـيْـئٍ يَـخْـتِـمُ؟ قَـالَ بِـاٰمِـيْـنَ، فَـإِنَّـهُ
إِنْ خَـتَـمَ بِاَمِـيْـنَ فَـقَـدْ أَوْجَـبَ، فَـانْـصَـرَفَ الـرَّجُـلُ
الَّـذِيْ سَـأَلَ الـنَّـبِـيَّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ، فَأَتَـى
الـرَّجُـلَ، فَـقَـالَ: اِخْـتِـمْ يَـا فُـلَانُ بِـاٰمِـيْـنَ، وَأَبْـشِـرْ ( رَوَاهُ
أَبُوْ دَاوُدَ)
“আবূ যুহাইর আন-নুমাইরী
(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে বের হলাম। আমরা এমন এক ব্যক্তির নিকট পৌঁছলাম, যিনি খুব বিনয়ের সাথে আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা
করছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁড়িয়ে তার দু’আ শুনলেন এবং বললেন, যদি সে তার দু’আ সঠিক পদ্ধতিতে শেষ করে তবে
তার দু’আ কবুল ওয়াজিব হয়ে
গেছে। গোত্রের জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল;
হে আল্লাহর
রাসূল! দু’আ সমাপ্তির সঠিক পদ্ধতি
কী? তিনি বললেন: আমীন বলে দু’আ শেষ করা। কারণ, যদি আমীন বলে দু’আ শেষ করা হয়, তবে দু’আ কবুল ওয়াজিব হয়ে যায়। অতঃপর
প্রশ্নকারী ব্যক্তি দু‘আয় রত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়, যিনি তখন দু‘আর মধ্যে মশগুল ছিলেন। তখন
তিনি তাকে বলেন, তুমি আমীন শব্দের উপর
তোমার দু‘আ শেষ কর এবং সাথে
সাথে দু‘আ কবুল হওয়ার সুসংবাদ
গ্রহণ কর।” -আবূ দাঊদ; মিশকাতঃ ৮৪৬
যাদের দু’আ নিশ্চিত কবুল হয়
যদিও আল্লাহ তা‘আলা সকল বান্দার দু’আই কবূল করেন কিন্তু
তারপরও বান্দাদের মধ্যে তার পছন্দনীয় বিশেষ বিশেষ এমন কিছু বান্দা এমন আছে যাদের দু’আ কবূলের ব্যাপারে
অধিক নিশ্চয়তা রয়েছে। যেমন
(১) মুসাফিরের দু’আ।
(২) সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দু’আ।
(৩) রোজাদারের দু’আ।
(৪) ন্যায়-পরায়ণ শাসকের দু’আ।
(৫) মজলুমের দু’আ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَـنْ أَبِـيْ هُـرَيْـرَةَ
قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ:
" ثَـلَاثَـةٌ لَا تُـرَدُّ دَعْـوَتُـهُـمْ الـصَّـائِـمُ حِـيْـنَ يُـفْـطِـرُ
وَالْإِمَـامُ الْـعَـادِلُ وَدَعْـوَةُ الْـمَـظْـلُـوْمِ يَـرْفَـعُـهَـا الـلّٰـهُ
فَـوْقَ الْـغَـمَـامِ وَتُـفْـتَـحُ لَـهَـا أَبْـوَابُ الـسَّـمَـآءِ
وَيَـقُـوْلُ الـرَّبُّ: وَعِـزَّتِـيْ لَأَنْـصُـرَنَّـكِ وَلَـوْ بَـعْـدَ
حِـيْـنٍ " )رَوَاهُ الـتِّـرْمِـذِيُّ(
“তিন ব্যক্তির দু’আ ফিরিয়ে দেয়া হয় না।
(১) রোজাদারের দু’আ, যতক্ষণ না সে ইফতার করেছে, (২) ন্যায়বিচারক শাসকের দু’আ ও (৩) নির্যাতিত
ব্যক্তির দু’আ। তার দু’আকে আল্লাহ মেঘের উপর
উঠিয়ে নেন এবং উহার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং পরওয়ারদেগারে আলম বলেন, আমার ইজ্জত-সম্মানের কসম; আমি নিশ্চয় তোমার সাহায্য করব, যদিও কিছু সময় পাছে হয়।” -তিরমিযী;
ইবন মাজাহ; মিশকাতঃ ২২৪৯
(৬) হাজী সাহেবের দু’আ।
(৭) মুজাহিদের দু’আ।
(৮) অসুস্থ ব্যক্তির দু’আ।
(৯) একজনের অনুপস্থিতিতে অন্যজনের দু’আ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَـنِ ابْـنِ عَـبَّـاسٍ
رَضِـيَ الـلّٰـهُ عَـنْـهُـمَـا عَـنِ الـنَّـبِـيِّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ
وَسَـلَّـمَ قَـالَ "خَـمْـسُ دَعَـوَاتٍ يُـسْـتَـجَـابُ لَـهُـنَّ دَعْـوَةُ
الْـمَـظْـلُـوْمِ حَـتّٰـى يَـنْـتَـصِـرَ وَدَعْـوَةُ الْـحَـاجِّ حَـتّٰـى يَـصْـدُرَ
وَدَعْـوَةُ الْـمُـجَـاهِـدِ حَـتّٰـى يَـقْـعُـدَ وَدَعْـوَةُ الْـمَـرِيْـضِ حَـتّٰـى
يَـبْـرَأَ وَدَعْـوَةُ الْأَخِ لِأَخِـيْـهِ بِـظَـهْـرِ الْـغَـيْـبِ "ثُـمَّ
قَـالَ: ্রوَأَسْـرَعُ هَـذِهِ
الـدَّعْـوَاتِ إِجَـابَـةٌ دَعْـوَةُ الْأَخِ لِأَخِـيْـهِ بِـظَـهْـرِ
الْـغَـيْـبِ (رَوَاهُ الْـبَـيْـهَـقِـيُّ فِـي الـدَّعَـوَاتِ الْـكَـبِـيْـرِ
مشكوة : ٢٢٦٠)
“পাঁচ ব্যক্তির দু’আ নিশ্চিত কবুল হয়
(১) নির্যাতিত ব্যক্তির (মাজলুমের) দু’আ যতক্ষণ না সে প্রতিশোধ গ্রহণ করে (২) হজ্জ সম্পাদনকারীর
দু’আ, যতক্ষণ না সে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করে (৩) আল্লাহর
পথে যুদ্ধকারীর দু’আ, যতক্ষণ না সে শহীদ হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় (৪) অসুস্থ
ব্যক্তির দু’আ, যতক্ষণ না সে আরোগ্য লাভ করে এবং (৫) এক ভাইয়ের
জন্য তার অনুপস্থিতিতে অপর ভাইয়ের দু’আ। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্র“ত কবুল হওয়ার মত দু’আ হল, কোন ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দু’আ।” -বায়হাকী;
মিশকাতঃ
২২৬০
দু’আ কবুলের সময়, অবস্থা এবং বিশেষ বিশেষ স্থান
বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের
দু’আ আল্লাহ তা‘আলা যেমন কবূল করে
থাকেন, তেমনি বরকতময় কিছু সময় ও অবস্থা
রয়েছে যে সময়ের দু’আ অধিক কবূল উপযোগী।
যেমন
(১) সিজদা অবস্থায়।
(২) রাত্রিকালে,
বিশেষত
শেষ রাত্রিতে।
(৩) ফরয নামাজের পরে।
عَـنْ أَبِـيْ أُمَـامَـةَ،
قَـالَ قِـيْـلَ يَـا رَسُـوْلَ الـلّٰـهِ أَيُّ الـدُّعَـآءِ أَسْـمَـعُ؟ قَـالَ جَـوْفَ
الـلَّـيْـلِ الآخِـرِ، وَدُبُـرَ الـصَّـلَـوَاتِ الْـمَـكْـتُـوْبَـاتِ (رَوَاهُ
الـتِّـرْمِـذِيُّ)
“রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হল,
কোন
(সময়ের) দু’আ অধিক কবুলযোগ্য? জবাবে তিনি বললেন, রাতের শেষ প্রহরে এবং প্রত্যেক ফরজ সালাতের পরে।” -তিরমিযী;
মিশকাতঃ
৯৬৮, ১২৩১
(৪) ছালাতের মধ্যে তাশাহ্হুদের পর।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
ثُـمَّ لِـيَـتَـخَـيَّـرْ
أَحَـدُكُمْ مِـنَ الـدُّعَـآءِ أَعْـجَـبَـهُ إِلَـيْـهِ فَـيَـدْعُـوَ بِـهِ
(مُـتَّـفَـقٌ عَـلَـيْـهِ)
“তাশাহ্হুদের পর তোমরা
নিজেদের পছন্দনীয় যার যা ইচ্ছা উত্তম দু’আ বেছে নিয়ে তা পাঠ করবে।” -বুখারী;
মুসলিম; নাসাঈ;
ইবন মাজাহ; তিরমিযী;
মিশকাতঃ
৯০৯
(৫) আযান ও ইক্বামতের মাঝের দু‘আ।
(৬) যুদ্ধের মাঠে শত্র“র সাথে মোকাবেলার সময়।
عَـنْ سَـهْـلِ بْـنِ
سَـعْـدٍ قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ
ثِـنْـتَـانِ لَا تُـرَدَّانِ أَوْ قَـلَّـمَـا تُـرَدَّانِ الـدُّعَـآءُ عِـنْـدَ
الـنِّـدَآءِ وَعِـنْـدَ الْـبَـأْسِ حِـيْـنَ يُـلْـحِـمُ بَـعْـضُـهُـمْ بَـعْـضًـا
(رَوَاهُ أَبُـوْ دَاوُدَ وَالـدَّارِمِـيُّ)
“দু’সময়ের দু’আ কখন প্রত্যাখ্যাত
হয় না অথবা খুব কম প্রত্যাখ্যাত হয়। তার একটি হল আযানের সময়ের দু’আ আর অপরটি হল যুদ্ধের
সময়ের দু’আ, যখন যোদ্ধারা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে।” -আবূ দাঊদ; দারেমী; মিশকাতঃ ৬৭২
(৭) কুরআন খতমের পর। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
عَـنِ الْـعِـرْبَـاضِ بْـنِ
سَـارِيَـةَ قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ
مَـنْ صَـلّٰـى صَـلَاةَ فَـرِيْـضَـةٍ فَـلَـهُ دَعْـوَةٌ مُّـسْـتَـجَـابَـةٌ، وَمَـنْ
خَـتَـمَ الْـقُـرْاٰنَ فَـلَـهُ دَعْـوَةٌ مُّـسْـتَـجَـابَـةٌ (الـمعـجـم
الـكبـيـر لـلـطـبـرانـى : ৬৪৭)
“যে ব্যক্তি ফরয নামাজ
আদায়ান্তে দু’আ করে, তার জন্য কবুলযোগ্য একটি দু’আ রয়েছে এবং যে ব্যক্তি
কুরআন শরীফ খতমান্তে দু’আ করে,
তার জন্যও
রয়েছে কবুলযোগ্য একটি দু’আ।’’
-তাবারাণীঃ
৬৪৭
(৮) বৃষ্টি বর্ষণের সময়।
(৯) নামাজের এক্বামতের সময়।
(১০) কা’বা শরীফ দর্শনের সময়।
عَـنْ أَبِـيْ أُمَـامَـةَ،
عَـنِ الـنَّـبِـيِّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ قَـالَ: " تُـفْـتَـحُ
أَبْـوَابُ الـسَّـمَـآءِ، وَيُـسْـتَـجَـابُ الـدُّعَـآءُ فِـي أَرْبَـعَـةِ
مَـوَاطِـنَ عِـنْـدَ الْـتِـقَـآءِ الـصُّـفُـوْفِ فِـي سَـبِـيْـلِ الـلّٰـهِ،
وَعِـنْـدَ نُـزُوْلِ الْـغَـيْـثِ، وَعِـنْـدَ إِقَـامَـةِ الـصَّـلَاةِ،
وَعِـنْـدَ رُؤْيَـةِ الْـكَـعْـبَـةِ " (الـمعـجـم الـكبـيـر لـلـطـبـرانـى : ৭৭১৩)
“চারটি স্থানে আসমানের
দরজা উম্মুক্ত করা হয় এবং দু’আ কবুল করা হয়। (১) আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধে কাতারবন্দী
অবস্থায় (২) বৃষ্টি বর্ষণের সময় (৩) নামাজের একামতের সময় (৪) বায়তুল্লাহ শরীফ দর্শনের
সময়।” -তাবারাণীঃ ৭৭১৩
(১১) আরাফাতের দিনের দু’আ।
عَـنْ عَـمْـرِو بْـنِ
شُـعَـيْـبٍ عَـنْ أَبِـيْـهِ عَـنْ جَـدِّهِ أَنَّ الـنَّـبِـيَّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ
عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ قَـالَ "خَـيْـرُ الـدُّعَـآءِ دُعَـآءُ يَـوْمِ عَـرَفَـةَ
وَخَـيْـرُ مَـا قُـلْـتُ أَنَـا وَالـنَّـبِـيُّـوْنَ مِـنْ قَـبْـلِـي لَآ إِلَـهَ
إِلَّا الـلّٰـهُ وَحْـدَهُ لَا شَـرِيْـكَ لَـهُ لَـهُ الْـمُـلْـكُ وَلَـهُ الْـحَـمْـدُ
وَهُـوَ عَـلٰـى كُـلِّ شَـيْـئٍ قَـدِيْـرٌ "(رَوَاهُ الـتِّـرْمِـذِيُّ)
“সমস্ত দু’আর সর্বোত্তম দু’আ হল আরাফার দিনের
দু’আ এবং সমস্ত যিকির
যা আমি করেছি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ করেছেন, তার শ্রেষ্টটি হল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু
ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুলমুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুলি শায়ইন কদীর।” অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই,
তারই
রাজত্ব এবং তারই জন্য সমস্ত প্রশংসা,
তিনি
সর্বশক্তিমান।” -তিরমিযী;
মিশকাতঃ
২৫৯৮
(১২) জুম’আর দিনে।
রাসূলল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَـنْ أَبِـيْ هُـرَيْـرَةَ
رَضِـيَ الـلّٰـهُ عَـنْـهُ قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ
عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: " إِنَّ فِـي الْـجُـمُـعَـةِ لَـسَـاعَـةً لَا يُـوَافِـقُـهَـا
عَـبْـدٌ مُـسْـلِـمٌ يَـسْـأَلُ الـلّٰـهَ فِـيْـهَـا خَـيْـرًا إِلَّآ
أعْـطَـاهُ إِيَّـاه. وَزَادَ مُـسْـلِـمٌ ্রوَهِـيَ سَـاعَـةٌ خَـفِـيْـفَـةٌগ্ধ (مُـتَّـفَـقٌ عَـلَـيْـهِ)
“জুমু’আর দিন এমন এক মুহুর্ত
রয়েছে, যদি বান্দারা তার সুযোগ গ্রহণ
করতে পারে এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট কল্যাণকর কিছু চাইতে পারে আল্লাহ তা‘আলা তাকে তাই প্রদান
করেন। তিনি বলেন ইহা খুবই স্বল্প সময়।”
-মুসলিমঃ
২০১০
(১৩) মাতাফ (বায়তুল্লাহ্র চতুরপার্শ্বের তাওয়াফের জায়গা)।
(১৪) মুলতাযাম (হাজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মধ্যস্থল।
(১৫) হাতিমের মধ্যে (বায়তুল্লাহর উত্তরে ঘেরা অংশটুকু)।
(১৬) কাবাঘরের ভিতরে ।
(১৭) জমজম কূপের কাছে।
(১৮) মাকামে ইবরাহীমের কাছে।
(১৯) সাফা-মারওয়া পাহাড়ের উপর।
(২০) বায়তুল্লাহতে নজর পড়ার সময়।
(২১) রুকনে ইয়ামেনী ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে
(২২) মুজদালিফার ময়দানে
(২৩) মিনা প্রান্তরে ও মসজিদে খায়েফে
(২৪) মিনার কঙ্কর মারার স্থানে
(২৫) লাইলাতুল ক্বদর দু‘আ কবুলের অন্যতম সময়।
উপরোক্ত স্থানগুলো
ব্যতিত কোথাও দু’আ কবূলের স্থান হিসেবে
কোন মাজারের উল্লেখ পাওয়া যায় না। অথচ আমাদের মধ্যে অনেকেরই কোন কিছু চাওয়ার প্রয়োজন
হলেই তারা গমন করেন মাজারে। সেখানে গিয়ে তারা তাদের আবেদন-নিবেদন আল্লাহর নিকট পেশ
করেন। এটি সম্পূর্ণ খেলাফে সুন্নত। অর্থাৎ মুসলমান সুলভ আমল নয়।
যে সব দু‘আ করা হারাম
দু‘আ একটি বড় ইবাদত হলেও
কিছু কিছু লোক এমন দু‘আ করে থাকেন যা তার জন্য কল্যাণ তো আনবেই না বরং
ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। এমনকি শিরকও হয়ে যেতে পারে। যার পরিণতি চিরস্থায়ী জাহান্নাম।
নিম্মে এরূপ ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা হলো-
১। মৃত্যু কামনা করা
বা মৃত্যুর জন্য দু‘আ করা।
২। নিজে শাস্তি পাওয়ার
জন্য দু‘আ করা।
৩। অবান্তর ও অসম্ভব
জিনিসের জন্য দু‘আ করা। যা আল্লাহ্
করবেন না বলে শরীয়তে উল্লেখ রয়েছে। যেমনঃ মৃত্যুকে জীবিত করে দেয়া, কিয়ামতের তারিখ জানিয়ে দেয়া ইত্যাদি।
৪। পাপ কাজ করতে পারা
ও পাপের বিস্তার ঘটানোর জন্য দু‘আ করা।
৫। আত্মীয়তার সম্পর্ক
ছিন্ন করার জন্য দু‘আ করা।
৬। কবরবাসীর কাছে সাহায্য
চাওয়া। মূর্তি, গাছ, পাথরসহ বিভিন্ন জড় পদার্থের কাছে সাহায্য চাওয়া।
দূরে থেকে বিপদ মুহুর্তে জীবিত / মৃত পীর-আওলিয়ার কাছে সাহায্য চাওয়া। এদের কাছে মামলা-মোকদ্দমা
থেকে উদ্ধার ও রোগমুক্তির কামনা করা। এগুলো পরিষ্কার বড় শিরক। এতে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়।
আমল বরবাদ হয়ে যায়। মুসলমান থেকে বের হয়ে যায়। আর এর পরিণতি জাহান্নামের চিরস্থায়ী
আগুন।
সব ধরণের আবেদন-নিবেদন
আল্লাহর নিকটই পেশ করতে হবে
মানুষের যা কিছু প্রয়োজন-চাহিদা, আবেদন-নিবেদন, দু:খ-কষ্ট-ব্যথা-বেদনা তার সবকিছুই মৌলিকভাবে আল্লাহর নিকট পেশ
করতে হবে। দুনিয়াবী শক্তি-সামর্থ্য ও উপায়-উপকরণ যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর মর্জি না হলে চুড়ান্ত প্রাপ্তি যথাসময়ে
নসীব হয় না। তাই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ও আল্লাহর
কাছেই প্রার্থনা করা কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَـنْ أَنَـسٍ رَضِـيَ الـلّٰـهُ
عَـنْـهُ قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: ্রلِـيَـسْـأَلْ أَحَـدُكُمْ رَبَّـهُ
حَـاجَـتَـهُ كُـلَّـهَـا حَـتّٰـى يَـسْـأَلَـهُ شِـسْـعَ نَعْـلِـهِ إِذا انْـقَـطَـعَـগ্ধ )رَوَاهُ الـتِّـرْمِـذِيُّ(
“তোমাদের প্রত্যেকের
যাবতীয় হাজত তার প্রতিপালকের নিকটই প্রার্থনা করা উচিত, এমনকি তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে তাও আল্লাহর নিকটই
চাওয়া উচিত।” -তিরমিযীঃ ৩৯৬৩
উপসংহার
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে পবিত্র
কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। -আমীন!!
দৈনন্দিন কাজের গুরুত্বপুর্ণ
দু’আ
ভূমিকা
আল্লাহ তা‘আলা মুখাপেক্ষী হওয়া
এবং তার নৈকট্য লাভ করা ব্যতীত মানুষের কোন উপায় নেই। আর দু’আ হল আল্লাহর নৈকট্য
লাভের বিশেষ বাহন ও মাধ্যম। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, প্রত্যাশা ও সাহায্য কামনার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নিকটবর্তী
হয়। এর দ্বারা মানুষ তার প্রতিপালকের ইবাদত করে, সন্তুষ্টি লাভ করে। বান্দা ও প্রভুর মাঝে সেতুবন্ধন হল দু’আ। দু’আকে ইবাদতের মগজ, এমনকি ইহাকে স্বতন্ত্র্য একটি ইবাদত হিসেবেও বিবেচনা
করা হয়ে থাকে। সুতরাং “দৈনন্দিন কাজের গুরুত্বপুর্ণ
দু’আর” ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
সম্পর্কে এই আলোচনা।
১। “আউযুবিল্লাহ্” বলার ক্ষেত্র
(ক) কুরআনের আয়াত পড়ার শুরুতে “ আউযুবিল্লাহ্” পড়তে হয়। এ প্রসংগে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
فَـإِذَا قَـرَأْتَ
الْـقُـرْاٰنَ فَـاسْـتَـعِـذْ بِـالـلّٰـهِ مِـنَ الـشَّـيْـطَـانِ الـرَّجِـيْـمِ
﴿اَلنَّـحَـلُ : ٩٨﴾
“যখন কুরআন পড়বে তখন
বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।” -সূরা নাহলঃ ৯৮
(খ) সকল ভাল কাজে “আউযুবিল্লাহ্” পড়তে হয়।
(গ) ছালাতের ভিতরে ও বাইরে কুরআনের আয়াত পড়ার শুরুতে “আউযুবিল্লাহ্” পড়া যরূরী। কারণ আল্লাহ তা‘আলা কুরআন তিলাওয়াতের সময় এটা বলার জন্য আদেশ করেছেন।
আবূ সাঈদ খুদরী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন রাতে তাঁর ছালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াতেন, তখন তাকবীরে তাহরীমা দ্বারা ছালাত আরম্ভ করতেন। তিনি বলতেন,
سُـبْـحَـانَـكَ
الـلَّـهُـمَّ وَبِـحَـمْـدِكَ وَتَـبَـارَكَ اسْـمُـكَ وَتَـعَـالٰـى جَـدُّكَ وَلَآ
إِلٰـهَ غَـيْـرُكَ
‘হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসা
সহকারে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তোমার নাম মঙ্গলময়, উচ্চ তোমার মর্যাদা এবং তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই’। তারপর তিনি তিনবার
لَآ إِلٰـهَ إِلَّا
الـلّٰـهُ তিনবার الـلّٰـهُ أَكْـبَـرُ كَـبِـيْـرًا বলতেন। তারপর বলেন, أَعُـوْذُ بِـالـلّٰـهِ
الـسَّـمِـيْـعِ الْـعَـلِـيْـمِ مِـنَ الـشَّـيْـطَـانِ الـرَّجِـيْـمِ مِـنْ هَـمْـزِهِ
وَنَـفْـخِـهِ وَنَـفْـثِـهِ ‘আমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা
করছি অভিশপ্ত শয়তানের অহমিকা, তার জাদু ও তার কুমন্ত্রণা
হতে।” -আবূ দাঊদ হা/৭৭৫; তিরমিযী হা/২৪২
(ঘ) কেউ কুরআন পড়ছে এমতাবস্থায় অন্য কোন কাজ করলে বা কথা বললে, পুনারায় “আউযুবিল¬াহ” বলে কুরআন পড়া শুরু করতে হয়।
“আউযুবিল্লাহ্” বলার ফজীলত
হাদীস শরীফে এসেছে,
عَـنْ سُـلَـيْـمَـانَ بْـنِ
صُـرَدَ قَـالَ اسْـتَـبَّ رَجُـلَانِ عِـنْـدَ الـنَّـبِـيِّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ
وَسَـلَّـمَ وَنَـحْـنُ عِـنْـدَهُ جُـلُـوْسٌ وَأَحَـدُهُـمَـا يَـسُـبُّ صَـاحِـبَـهُ
مُـغْـضَـبًـا قَـدِ احْـمَـرَّ وَجْـهُـهُ فَـقَـالَ الـنَّـبِـيُّ صَـلَّـى
الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: ্রإِنِّـيْ لَأَعْـلَـمُ
كَـلِـمَـةً لَـوْ قَـالَـهَـا لَـذَهَـبَ عَـنْـهُ مَـا يَـجِـدُ أَعُـوْذُ
بِـالـلّٰـهِ مِـنَ الـشَّـيْـطَـانِ الـرَّجِـيْـمِগ্ধ (مُـتَّـفَـقٌ عَـلَـيْـهِ)
“দু’জন লোক রাসূলুল্লাহ
ﷺ -এর নিকট খুব গালাগালি করছিল।
তাদের একজনের নাক রাগে ফুলে গিয়েছিল। তখন নবী করীম ﷺ বললেন, আমি এমন একটি দু‘আ জানি যদি এ লোকটি
তা পড়ে, তবে তার রাগ দূর হয়ে যাবে।
সে যদি পড়ে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির
রজীম’ অর্থাৎ আমি বিতাড়িত শয়তান হতে
আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই, তবে তার রাগ চলে যাবে।” -বুখারী;
মুসলিম; মিশকাতঃ ২৪১৮
ক। তা’আউউজে ঈমানের উলেখ রয়েছে।
খ। আল্লাহ ভাল কাজের
তাওফিক দিবেন।
গ। “আউযুবিবিল্লাহ” পড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে শয়তানের সব ধরনের অনিষ্ট, কুমন্ত্রনা থেকে আল্লার্হ নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং তাঁর
নিকট কল্যাণ কামনা করা।
আল্লাহ শয়তানের কুমন্ত্রণা
হতে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ প্রদান করে বলেন,
وَإِمَّـا يَـنْـزَغَـنَّـكَ
مِـنَ الـشَّـيْـطَـانِ نَـزْغٌ فَـاسْـتَـعِـذْ بِـالـلّٰـهِ إِنَّـهُ سَـمِـيْـعٌ
عَـلِـيْـمٌ ﴿الأعراف : ٢٠٠﴾
وَإِمَّـا يَـنْـزَغَـنَّـكَ
مِـنَ الـشَّـيْـطَـانِ نَـزْغٌ فَـاسْـتَـعِـذْ بِـالـلّٰـهِ إِنَّـهُ هُـوَ الـسَّـمِـيْـعُ
الْـعَـلِـيْـمُ ﴿فصلت : ٣٦﴾
“আর যদি শয়তানের কোন
কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর নিকট আশ্রয়
প্রার্থনা কর’ নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।’’ -সূরা আ‘রাফঃ ২০০; সূরা ফুসসিলাতঃ ৩৬
অন্যত্র আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَقُـلْ رَّبِّ أَعُـوْذُ
بِـكَ مِـنْ هَـمَـزَاتِ الـشَّـيَـاطِـيْـنِۚ وَأَعُـوْذُ بِـكَ رَبِّ أَنْ يَّـحْـضُـرُوْنِ
﴿الـمـؤمـنـون : ٩٧-٩٨﴾
“আর হে নবী! আপনি বলুন, হে আমার পালনকর্তা! শয়তানের কুমন্ত্রণা এবং তাদের
উপস্থিতি হতে আমি আপনার নিকট আশ্রয় পার্থনা করছি।” -সূরা মুমিনুনঃ ৯৭-৯৮
হাদীস শরীফে বর্ণিত
আছে,
أَعُـوْذُ بِـالـلّٰـهِ الـسَّـمِـيْـعِ
الْـعَـلِـيْـمِ مِـنَ الـشَّـيْـطَـانِ الـرَّجِـيْـمِ مِـنْ هَـمْـزِهِ وَنَـفْـخِـهِ
وَنَـفْـثِـهِ (رواه الترمذي وأبو داود والنسائي ,مشكوة-১২১৭)
“আমি অভিশপ্ত শয়তান, তার অহমিকা, তার জাদু ও তার কুমন্ত্রণা হতে ঐ আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই যিনি
সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।’’
-তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসাঈ, মিশকাতঃ ১২১৭
আল্লাহ তা‘আলা শয়তানকে সকল নবীর
শত্রু বলেছেন ও মানুষের জন্য স্পষ্ট
শত্রু বলেছেন,
وَكَـذٰلِـكَ جَـعَـلْـنَـا
لِـكُـلِّ نَـبِـيٍّ عَـدُوًّا شَـيَـاطِـيْـنَ الْإِنْـسِ وَالْـجِـنِّ
﴿اَلْأنْـعَـامُ : ١١٢﴾
“আর এভাবে আমি সবসময়
মানুষ জাতীয় শয়তান ও জিন জাতীয় শয়তানদেরকে প্রত্যেক নবীর দুশমনে পরিণত করেছি।’’ -সূরা আন‘আমঃ ১১২
وَلَا تَـتَّـبِـعُـوْا
خُـطُـوَاتِ الـشَّـيْـطَـانِ إِنَّـهُ لَـكُمْ عَـدُوٌّ مُّـبِـيْـنٌ ﴿البقرة :
١٦٨﴾
“আর শয়তানের পদাঙ্ক
অনুসরণ করো না। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। -সূরা বাক্বারাহ ১৬৮/২০৮
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَـقَـدْ زَيَّـنَّـا
الـسَّـمَـآءَ الـدُّنْـيَـا بِـمَـصَـابِـيْـحَ وَجَـعَـلْـنَـاهَـا رُجُـوْمًـا
لِّـلـشَّـيَـاطِـيْـنِ وَأَعْـتَـدْنَـا لَـهُـمْ عَـذَابَ الـسَّـعِـيْـرِ
﴿الـمُـلـك : ٥﴾
“আমি প্রথম আকাশকে তারকা
দিয়ে সুসজ্জিত করেছি এবং অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। এসব শয়তানের জন্য আমি প্রস্তুত
করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি।”-সূরা মুলকঃ ৫
إِنَّـا زَيَّـنَّـا
الـسَّـمَـآءَ الـدُّنْـيَـا بِـزِيْـنَـةٍ الْـكَـوَاكِـبِ ۚ وَحِـفْـظًـا مِّـنْ
كُـلِّ شَـيْـطَـانٍ مَّـارِدٍ ﴿الـصـافـات : ٦-٧﴾
“নিশ্চয় আিম নিকটবর্তী
আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান
থেেেক।” -সূরা ছফ্ফাতঃ ৬-৭
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَـقَـدْ جَـعَـلْـنَـا
فِـيْ الـسَّـمَـآءِ بُـرُوْجًـا وَزَيَّـنَّـاهَـا لِـلـنَّـاظِـرِيْـنَ ۚ وَحَـفِـظْـنَـاهَـا
مِـنْ كُـلِّ شَـيْـطَـانٍ رَّجِـيْـمٍ ﴿الـحـجـر : ١٧-١٦﴾
“নিশ্চয় আমি দর্শকদের
জন্য আকাশ সুন্দর করে সাজিয়েছি এবং অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি।” -সূরা হিজরঃ ১৭
“বিস্মিল্লাহ” বলার ক্ষেত্র
بِـسْـــــــمِ الـلّٰـهِ الـرَّحْـمٰـنِ
الـرَّحِـيْـمِ- ‘পরম করুণাময় ও অসীম
দয়ালু আল্লার্হ নামে আরম্ভ করছি’।
প্রত্যেক কাজের পূর্বে
‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নাত
عَـنْ أَبِـيْ
الْـمَـلِـيْـحِ، عَـنْ رَجُـلٍ، قَـالَ كُـنْـتُ رَدِيْـفَ الـنَّـبِـيِّ
صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ، فَـعَـثَـرَتْ دَآبَّـةٌ، فَـقُـلْـتُ
تَـعِـسَ الـشَّـيْـطَـانُ، فَـقَـالَ "لَا تَـقُـلْ تَـعِـسَ الـشَّـيْـطَـانُ،
فَـإِنَّـكَ إِذَا قُـلْـتَ ذٰلِـكَ تَـعَـاظَـمَ حَـتّٰـى يَـكُـوْنَ مِـثْـلَ الْـبَـيْـتِ،
وَيَـقُـوْلُ بِـقُـوَّتِـي، وَلٰـكِنْ قُـلْ بِـسْـمِ الـلّٰـهِ، فَـإِنَّـكَ إِذَا
قُـلْـتَ ذٰلِـكَ تَـصَـاغَـرَ حَـتّٰـى يَـكُـوْنَ مِـثْـلَ الـذُّبَـابِ" (ابـو
داؤد)
“আবূল মালীহ একজন ছাহাবী
হতে বর্ণনা করেন, ছাহাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাহনের পিছনে ছিলাম। তাঁর বাহনটি হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ল।
আমি বললাম, শয়তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে অথবা
শয়তান ধ্বংস হল। নবী করীম ﷺ বললেন, শয়তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলবে না। কারণ তুমি যদি
এরূপ বল, তবে শয়তান নিজেকে বড় ভাববে, এমনকি বাড়ীর আকৃতির ন্যায় হয়ে যাবে এবং বলবে যে, আমার এ কর্মের দ্বারাই এরূপ ঘটেছে। তবে ‘বিসমিল্লাহ’ বল। কারণ এর ফলে শয়তান নিজেকে ছোট ভাববে এমনকি সে মাছির ন্যায় হয়ে যাবে।” -আবূ দাঊদ হা/৪৯৮২
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, এমনকি সে মাছির চেয়েও ছোট হয়ে যাবে।” -আহমাদ হা/২০৪৬৯-২৪৭০, ২০৫৬৮
অত্র হাদীছ দ্বারা
প্রতীয়মান হয় যে, ‘বিসমিল্লাহ’ বললে শয়তান অপমানিত হয় এবং
মাছির ন্যায় ছোট হয়ে যায়। এজন্য প্রত্যেক কাজের পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা ভাল।
عَـنْ جَـابِـرٍ، عَـنِ
الـنَّـبِـيِّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ قَـالَ ্রأَغْـلِـقْ بَـابَـكَ
وَاذْكُـرِ اسْـمَ الـلّٰـهِ، فَـإِنَّ الـشَّـيْـطَـانَ لَا يَـفْـتَـحُ بَـابًـا
مُـغْـلَـقًـا، وَأَطْـفِ مِـصْـبَـاحَـكَ وَاذْكُـرِ اسْـمَ الـلّٰـهِ، وَخَـمِّـرْ
إِنَـآئَـكَ وَلَـوْ بِـعُـوْدٍ تَـعْـرِضُـهُ عَـلَـيْـهِ وَاذْكُـرِ اسْـمَ
الـلّٰـهِ، وَأَوْكِ سِـقَـآئَـكَ وَاذْكُـرِ اسْـمَ الـلّٰـهِগ্ধ
“জাবির (রাঃ) বলেন, নবী করীম ﷺ বলেছেন, ‘বিসমিল্লাহ’ বলে তুমি তোমার দরজা বন্ধ কর।
কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। ‘বিসমিল্লাহ’ বলে বাতি নিভিয়ে দাও। একটু
কাঠখড়ি হলেও আড়াআড়িভাবে রেখে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পাত্রের মুখ ঢেকে রাখ।
‘বিসমিল্লাহ’ বলে পানির পাত্র ঢেকে রাখ।” -বুখারী হা/৩২৮০; মুসলিম হা/২০১২;
আবূ দাঊদ
হা/৩৭৩১; তিরমিযী হা/২৮৫৭
প্রতিটি সূরার শুরুতে
“বিস্মিল্লাহ” আছে শুধু মাত্র সূরা তাওবা
ছাড়া
চিঠি পত্র লেখার শুরুত
“বিস্মিল্লাহ”- এর উলেখ করা
جَـآءَ سُـهَـيْـلُ بْـنُ
عَـمْـرٍوفَـقَـالَ هَـاتِ اكْـتُـبْ بَـيْـنَـنَـا وَبَـيْـنَـكُمْ كِـتَـابًـا
فَـدَعَـا الـنَّـبِـيُّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ الـكَـاتِـبَ،
فَـقَـالَ الـنَّـبِـيُّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ ্রبِـسْـــــمِ الـلّٰـهِ الـرَّحْـمٰـنِ
الـرَّحِـيْـمِগ্ধ (بـخـاري
ومـسـلـم)
“সুহায়ল ইবন আমর এসে
বলল, আসুন আমাদের ও আপনাদের মধ্যে
একটি চুক্তিপত্র লিখি। অতঃপর নবী ﷺ একজন লেখককে ডাকলেন
এবং বললেন, লিখ
بِـسْـــــمِ الـلّٰـهِ الـرَّحْـمٰـنِ
الـرَّحِـيْـمِ
-বুখারী হা/২৭৩১;
মুসিলম
হা/৪৬০৮
عَـنِ ابْـنِ عَـبَّـاسٍ
أَنَّ الـنَّـبِـيَّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ كَـتَـبَ إِلٰـى قَـيْـصَـرَ
يَـدْعُـوْهُ إِلَـى الْإِسْـلَامِ وَبَـعَـثَ بِــكِــتَـابِـهِ إِلَـيْـهِ
دِحْـيَـةَ الْـكَـلْـبِـيَّ وَأَمَـرَهُ أَنْ يَّـدْفَـعَـهُ إِلٰـى عَـظِـيْـمِ
بُـصْـرٰى لِـيَـدْفَـعَـهُ إِلٰـى قَـيْـصَـرَ فَـإِذَا فِـيْـهِ "بِـسْـمِ الـلّٰـهِ
الـرَّحْـمٰـنِ الـرَّحِـيْـمِ مِـنْ مُـحَـمَّـدٍ عَـبْـدِ الـلّٰـهِ وَرَسُـوْلِـهِ
إِلَـى هِـرَقْـلَ عَـظِـيْـمِ الـرُّوْمِ سَـلَامٌ عَـلٰـى مَـنِ اتَّـبَـعَ الْـهُـدٰى
أَمَّـا بَـعْـدُ فَـإِنِّـي أدْعُـوْكَ بِـدَاعِـيَـةِ الْإِسْـلَامِ أَسْـلِـمْ
تَـسْـلَـمْ وَأَسْـلِـمْ يُـؤْتِـكَ الـلّٰـهُ أَجَـرَكَ مَـرَّتَـيْـنِ وَإِنْ
تَـوَلَّـيْـتَ فَـعَـلَـيْـكَ إِثْـمُ الْأَرِيْـسِـيِّـيْـنَ (مُـتَّـفَـقٌ
عَـلَـيْـهِ)
“আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস
(রাঃ) বলেন, সম্রাট হিরাক্লিয়াস আল্লার্হ
রাসূলের সেই পত্রখানি আনার নির্দেশ দিলেন,
যা নবী
করীম ﷺ দিহইয়াতুল কালবী নামক একজন
ছাহাবীর মাধ্যমে বসরার শাসক হিরাক্লিয়াস-এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তা পড়লেন, তাতে লেখা ছিল বিসমিল্লাহির রমহমানির রহীম। আল্লার্হ
বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ -এর পক্ষ হতে রোম সম্রাট
হিরাক্লিয়াসের প্রতি। শান্তি বর্ষিত হোক তার প্রতি যে হেদায়াতের অনুসরণ করে। তারপর
আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন শান্তিতে থাকবেন। আল্লাহ আপনাদের
দ্বিগুণ প্রতিদান প্রদান করবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে সকল প্রজার পাপই আপনার উপর বর্তাবে।” -বুখারী হা/৭; মুসলিম হা/৪৫৮৩
বিঃ দ্রঃ ‘বিসমিল্লাহ’ সম্পর্কিত উপরোক্ত দীর্ঘ আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল যে, শুধু লিখার সময় এবং কোন -সূরা পড়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ সম্পূর্ণ পড়তে হবে।
“বিসমিল্লাহর রহস্য
হচ্ছেঃ আল্লাহর নামের সাথে, তার সাহায্য এবং তার
নামের বরকত রয়েছে
ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত
নবী করীম ﷺ এক সূরা হতে অপর সূরার বিচ্ছিন্নতা
বুঝতে পারেন নাই।” -আবূ দাঊদ হা/৭৮৮
কোন কিছু (হালাল খাদ্য)
খাওয়া বা পান করার পূর্বে
عَـنْ عُـمَـرَ بْـنِ
أَبِـيْ سَـلَـمَـةَ، وَهُـوَ ابْـنُ أُمِّ سَـلَـمَـةَ زَوْجِ الـنَّـبِـيِّ
صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ، قَـالَ أَكَـلْـتُ يَـوْمًـا مَـعَ رَسُـوْلِ
الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ طَـعَـامًـا، فَـجَـعَـلْـتُ
اٰكُـلُ مِـنْ نَـوَاحِـي الـصَّـحْـفَـةِ، فَـقَـالَ لِـي رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى
الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: ্রكُـلْ مِـمَّـا يَـلِـيْـكَগ্ধ
“উমর ইবন আবী সালামা
(রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজন বালক হিসাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। আমার হাত খাওয়ার পাত্রের
চতুর্দিকে পৌঁছত, তখন তিনি আমাকে বললেন, হে বৎস! বিসমিল্লাহ বল, তোমার ডান হাতে খাও এবং তোমার পার্শ্ব থেকে খাও।” -বুখারী হা/৫৩৭৬; মুসলিম হা/২০২২
إِنَّ الـشَّـيْـطَـانَ
لَـيَـسْـتَـحِـلُّ الـطَّـعَـامَ الَّـذِيْ لَـمْ يُـذْكَـرِ اسْـمُ الـلّٰـهِ عَـلَـيْـগ্ধ
“হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘শয়তান সেই খাদ্যকে
নিজের জন্য হালাল করে নেয়, যে খাদ্যের উপর বিসমিল্লাহ
বলা হয় না।” -মুসলিম হা/২০১৭; আবূ দাঊদ হা/৩৭৬৬
“বিস্মিল্লাহ” বলতে ভুলে গেলে
হাদীস শরীফে এসেছে,
عَـنْ عَـآئِـشَـةَ قَـالَتْ
قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ "إِذَا
أَكَـلَ أَحَـدُكُمْ فَـنَـسِـيَ أَنْ يَّـذْكُـرَ الـلّٰـهَ عَـلٰـى طَـعَـامِـهِ
فَـلْـيَـقُـلْ بِـسْـمِ الـلّٰـهِ أوَّلَـهُ واٰخَـرَهُ " (رَوَاهُ الـتِّـرْمِـذِيُّ
وَأَبُـوْ دَاوُدَ)
“আয়েশা (রাঃ)বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি
খাদ্য খাবে সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। যদি বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়, তাহলে সে যেন বলে, বিসমিল্লা-হি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।” -আবূ দাঊদ হা/৩৭৬৭; ইবন মাজাহ হা/৩২৬৪
স্ত্রী সহবাসের (মিলন)
সময়
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস
(রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَـنِ ابْـنِ عَـبَّـاسٍ،
قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ
"لَـوْ أَنَّ أَحَـدَهُـمْ إِذَآ أَرَادَ أَنْ يَّـأْتِـيَ أَهْـلَـهُ،
قَـالَ بِـاسْـمِ الـلّٰـهِ، اَلـلّٰـهُـمَّ جَـنِّـبْـنَـا الـشَّـيْـطَـانَ، وَجَـنِّـبِ
الـشَّـيْـطَـانَ مَـا رَزَقْـتَـنَـا (مُـسْـلِـمٌ)
“যখন তোমাদের কেউ তার
স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা করে,
সে বলবে
‘আল্লার্হ নামে মিলন আরম্ভ করছি।
হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে শয়তান হতে দূরে রাখ এবং আমাদের মাঝে কোন সন্তান নির্ধারণ
করলে শয়তানকে দূরে রাখ। শয়তান কখনও তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।” -বুখারী,
মুসলিম
হা/১৪৩৪; আবূ দাঊদ হা/২১৬১; তিরমিযী হা/১০৯২; ইবন মাজাহ হা/১৯১৯
আল্লাহর নামে কোন পশু
যবেহ (কুরবানী) করার সময়
আনাস (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম ﷺ -কে দেখলাম কোন এক ঈদে ধূসর রংয়ের শিংওয়ালা দু’টি দুম্বা কুরবানী
করলেন। তিনি তাঁর পা পশুর চোয়ালের উপর রাখলেন। তিনি দুম্বা দু’টি নিজ হাতে যবেহ করলেন
এবং যবেহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহি ওয়াল্লা-হু
আকবার’ বললেন।” -বুখারী হা/৯৮৫; মুসলিম হা/১৯৬০;
ইবন মাজাহ
হা/৩১৫২
বাড়ী থেকে বের হওয়ার
সময়
হাদীস শরীফে এসেছে,
عَـنْ أَنَـسٍ قَـالَ قَـالَ
رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ "إِذَا خَـرَجَ
الـرَّجُـلُ مِـنْ مبَـيْـتِـهِ فَـقَـالَ بِـسْـمِ الـلّٰـهِ تَـوَكَّـلْـتُ عَـلَـى
الـلّٰـهِ لَا حَـوْلَ وَلَا قُـوَّةَ إِلَّا بِـالـلّٰـهِ يُـقَـالُ لَـهُ
حِـيْـنَـئِـذٍ هُـدِيْـتَ وَكُـفِـيْـتَ وَوُقِـيْـتَ فَـيَـتَـنَـحّٰـى لَـهُ الـشَّـيْـطَـانُ
وَيَـقُـوْلُ شَـيْـطَـانٌ اٰخَـرُ كَـيْـفَ لَـكَ بِـرَجُـلٍ قَـدْ هُـدِيَ وَكُـفِـيَ
وَوُقِـيَ "(رَوَاهُ أَبُوْ دَاوُدَ وَرَوٰى الـتِّـرْمِـذِيُّ ,مِشْكٰـوة : ২৪৪৩)
“আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি ঘর
হতে বের হওয়ার সময় বলে, বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু
আলাল্লাহ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ “আল্লাহর নামে বের হলাম, আল্লাহর উপর ভরসা করলাম, আমার কোন উপায় নেই, ক্ষমতা নেই আল্লাহ ব্যতীত”, তখন তাকে বলা হয় তুমি পথ পেলে, উপায় পেলে ও রক্ষা পেলে। তারপর শয়তান তার থেকে
দূর হয়ে যায়। তখন আর একজন শয়তান এ শয়তানকে বলে, তুমি লোকটিকে কেমন পেলে? তখন সে বলে,
তাকে
হিদায়াত দেয়া হয়েছে, পথ দেয়া হয়েছে ও রক্ষা
করা হয়েছে।” -আবূ দাঊদ; তিরমিযী; মিশকাত হা/২৪৪৩
মুর্দা (লাশ) কবরে
রাখার সময়
عَـنِ ابْـنِ عُـمَـرَ أَنَّ
الـنَّـبِـيَّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ كَـانَ إِذَآ أَدْخَـلَ
الْـمَـيِّـتَ الْـقَـبْـرَ قَـالَ ্রبِـسْــــمِ
الـلّٰـه وَبِـالـلّٰـهِ وَعَـلٰـى مِـلْـكَـةِ رَسُـوْلِ الـلّٰـهِগ্ধ . وَفِـي رِوَايَـةٍ
"وَعَـلٰـى سُـنَّـةِ رَسُـوْلِ الـلّٰـهِ. رَوَاهُ أَحْـمَـدُ وَالـتِّـرْمِـذِيُّ
وَابْـنُ مَـاجَـهْ وَرَوٰى أَبُـوْ دَاوُدَ
“ইবন উমর (রাঃ) হতে
বর্ণিত, যখন কোন মুর্দাকে কবরে রাখা
হত নবী করীম ﷺ বলতেন, ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহি’। আল্লাহর নামে, আল্লাহর সাহায্যে, রাসূলের দ্বীনের উপর রাখা হল।” -আহমাদ,
মিশকাত
হা/১৭০৭
কোন বাহনের উপর আরোহনের
সময়
عَـنْ عَـلِـيِّ بْـنِ
رَبِـيْـعَـةَ، قَـالَ شَـهِـدْتُ عَـلِـيًّـا أُتِـيَ بِـدَآبَّـةٍ
لِـيَـرْكَـبَـهَـا فَـلَـمَّـا وَضَـعَ رِجْـلَـهُ فِـي الـرِّكَـابِ قَـالَ
بِـسْـــــمِ الـلّٰـهِ ثَـلاَثًـا فَـلَـمَّـا اسْـتَـوٰى عَـلَـى ظَـهْـرِهَـا قَـالَ
الْـحَـمْـدُ لِـلّٰـهِ (الـتِّـرْمِـذِي : ৩৪৪৬)
“আলীহতে বর্ণিত, একদা তাঁর নিকট সওয়ার হওয়ার জন্য একটি পশু আনা
হল। তিনি যখন রেকাবে পা রাখলেন বললেন,
বিসমিল্লাহ
এবং যখন তার পিঠে সওয়ার হলেন তখন বললেন,
আলহামদুলিল্লাহ’ -আবূ দাঊদ হা/২৬০২। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তিনবার বিসমিল্লাহ বলেছেন।” -তিরমিযী হা/৩৪৪৬
মসজিদে প্রবেশের সময়
হাদীসে এসেছে,
عَـنْ أَبِـيْ حُـمَـيْـدٍ
الـسَّـاعِـدِيِّ، قَـالَ قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ
وَسَـلَّـمَ "إِذَا دَخَـلَ أَحَـدُكُمُ الْـمَـسْـجِـدَ فَـلْـيُـسَـلِّـمْ
عَـلَـى الـنَّـبِـيِّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ ثُـمَّ لْـيَـقُـلِ
الـلّٰـهُـمَّ افْـتَـحْ لِـي أَبْـوَابَ رَحْـمَـتِـكَ وَإِذَا خَـرَجَ
فَـلْـيَـقُـلِ الـلّٰـهُـمَّ إِنِّـي أَسْـأَلُـكَ مِـنْ فَـضْـلِـكَ"
“রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর মেয়ে ফাতিমা(রাঃ)বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন,
اَلـلّٰـهُـمَّ افْـتَـحْ
لِـي أَبْـوَابَ رَحْـمَـتِـكَ
‘আল্লার্হ নামে প্রবেশ
করছি। শান্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর উপর নাযিল হোক।
হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর’। আর যখন বের হতেন তখন বলতেন,
اَلـلّٰـهُـمَّ إِنِّـي
أَسْـأَلُـكَ مِـنْ فَـضْـلِـكَ
‘আল্লাহর নামে বের
হচ্ছি। শান্তি বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল ﷺ
-এর প্রতি।
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর। তোমার অনুগ্রহের দরজাসমূহ আমার জন্য খুলে দাও।” -ইবন মাজাহ হা/৭৭২
“আলহামদুলিল্লাহ্” বলার ক্ষেত্র
(ক) কোন কিছু খাওয়ার পর।
(খ) পান করার পর।
হাদীসে উলেখ রয়েছে,
عَـنْ أَنَـسِ بْـنِ
مَـالِـكٍ، أَنَّ الـنَّـبِـيَّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ قَـالَ: ্রإِنَّ الـلّٰـهَ لَـيَـرْضٰـى عَـنِ الْـعَـبْـدِ
أَنْ يَّـأْكُـلَ الْأَكْـلَـةَ، أَوْ يَـشْـرَبَ الـشَّـرْبَـةَ، فَـيَـحْـمَـدَهُ
عَـلَـيْـهَـاগ্ধ
আনাস ইবন মালিক (রাঃ)
বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘বান্দা খাদ্য খেয়ে
অথবা পানি পান করে আলহামদুলিল্লাহ বললে,
আল্লাহ
খুব খুশী হন।” -তিরমিযী হা/১৮১৬; আহমাদ হা/১১৫৬২
(গ) কাজ শেষ করার পর।
(ঘ) শুভ সংবাদ শুনার পর।
(ঙ) কেউ যদি জিজ্ঞেসা করে “কেমন আছেন বা আছো” তার উত্তরে “আলহামদুলিল্লাহ্” বলতে হয়।
(চ) হাচি আসলে “আলহামদুলিল্লাহ্” পড়তে হয়। কারণ হাচির সময় ক্ষণিকের
জন্য হার্টের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। হাচি শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবার হার্টের কার্যক্রম
শুরু হয়।
(ছ) আল্লাহর নি‘য়ামতের শুকরিয়া আদায়ের জন্য “আলহামদুলিল্লাহ্” বলতে হয়।
“ইনশাআল্লাহ” বলার ক্ষেত্র
(ক) কোন কাজ ভবিষ্যতে করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলে।
وَلَا تَـقُـوْلَـنَّ
لِـشَـيْـئٍ إِنِّـي فَـاعِـلٌ ذٰلِـكَ غَـدًا إِلَّا أَنْ يَّـشَـآءَ الـلّٰـهُ وَاذْكُـرْ
رَّبَّـكَ إِذَا نَـسِـيْـتَ وَقُـلْ عَـسٰـى أَنْ يَّـهْـدِيَـنِ رَبِّـي لِأَقْـرَبَ
مِـنْ هٰـذَا رَشَـدًا ﴿الـكـهـف : ٢٣-٢٤﴾
“(হে নবী!) কখনো কোনো কাজের ব্যাপারে এ কথ বলো না, (এ কাজটি) আমি আগামীকাল করবো।’’ হ্যা বরং (এভাবে বলো,) আল্লাহ তা‘আলা যদি চান (তাহলেই আমি আগামীকাল
এ কাজটা করতে পারবো), যদি কখনো (কোনো কিছু)
ভূলে যাও তাহলে তোমার মালিককে স্মরণ করো এবং বলো, সম্ভবত আমার মালিক এর (কাহিনীর) চাইতে নিকটতর কোনো কল্যাণ দিয়ে
আমাকে পথ দেখাবেন।’’ -সূরা কাহাফঃ২৩-২৪
(খ) ভবিষ্যতে কোনো কিছু পাওয়ার আশা করলে।
(গ) ভবিষ্যতে কাউকে কিছু দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করলে।
(ঘ) কোন দিক বা জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছা করলে।
“আল্লাহু আকবার” বলার ক্ষেত্র
(ক) কোন ভাল কথা শুনলে।
(খ) শ্রেষ্ঠ কিছু দেখলে।
(গ) আল্লাহর কোন মহত্ব ও বড়ত্ব প্রকাশ পেলে।
“সুবহানাল্লাহ্” বলার ক্ষেত্র
স্বাভাবিক কাজকর্মের
ব্যতিক্রম দেখলে, আশ্চর্য কথা শুনলে।
যেমন রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর মেরাজের ঘটনার কথা
কুরআনে রয়েছে।
سُـبْـحَـانَ الَّـذِيْ
أَسْـرٰى بِـعَـبْـدِهِ لَـيْـلًا مِّـنَ الْـمَـسْـجِـدِ الْـحَـرَامِ إِلَـى الْـمَـسْـجِـدِ
الْأَقْـصَـى الَّـذِيْ بَـارَكْـنَـا حَـوْلَـهُ لِـنُـرِيَـهُ مِـنْ اٰيَـاتِـنَـا
إِنَّـهُ هُـوَ الـسَّـمِـيْـعُ الْـبَـصِـيْـرُ ﴿الإسراء : ١﴾
“আসতাগফিরুল্লাহ” বলার ক্ষেত্র
(ক) কোন গুনাহের কথা বলে ফেললে।
(খ) কোন গুনাহের কাজ করে ফেললে।
(গ) কোন গুনাহর কাজের চিন্তা আসলে।
وَالَّـذِيْـنَ إِذَا
فَـعَـلُـوْا فَـاحِـشَـةً أَوْ ظَـلَـمُـوْا أَنْـفُـسَـهُـمْ ذَكَـرُوْا الـلّٰـهَ
فَـاسْـتَـغْـفَـرُوْا لِـذُنُـوْبِـهِـمْ وَمَـنْ يَّـغْـفِـرُ الـذُّنُـوْبَ
إِلَّا الـلّٰـهُ وَلَـمْ يُـصِـرُّوْا عَـلٰـى مَـا فَـعَـلُـوْا وَهُـمْ يَـعْـلَـمُـوْنَ
﴿آلعـمـران : ١٣٥﴾
“তারা কখনও কোন অশ্লীল
কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ
করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতমর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে
না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।”
-সূরা
আলে-ইমরানঃ ১৩৫
“জাযাকাল্লাহ” বলার ক্ষেত্র
(ক) কেউ কোন কাজ করে দিলে “জাযাকাল্লাহ্” বলতে হয়। -তিরমিযী
(খ) কেউ কোন কিছু দিলে “জাযাকাল্লাহ্” বলতে হয়।
পায়খানায় প্রবেশের
দু‘আ
আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন তখন বলতেন,
্রالـلّٰـهُـمَّ إِنِّـي
أَعُــوْذُ بِـكَ مِـنَ الْـخُـبُـثِ والْـخَـبَـآئِـثِগ্ধ (مُـتَّـفَـقٌ عَـلَـيْـهِ)
“হে আল্লাহ! আমি তোমার
নিকট অপবিত্র জিন ও অপবিত্রা জিন্নী হতে আশ্রয় চাচ্ছি।” -বুখারী, মুসলিম, মিশকাত,
হা/৩৩৭
পায়খানা হ’তে বের হওয়ার দু‘আ
আয়েশা (রাঃ)বলেন, নবী করীম ﷺ যখন পায়খানা হ’তে বের হ’তেন, তখন বলতেন غُـفْـرَانَـكَ ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর।” -তিরমিযী, ইবন মাজাহ, মিশকাতঃ ৩৫৯
ওযূ করার পূর্বের দু‘আ
সাঈদ ইবন ইয়াযীদ
(রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে না, তার ওযূ হবে না’ অর্থাৎ সে পূর্ণ নেকী পাবে
না।’’ -তিরমিযী,
ইবন মাজাহ, মিশকাত,
ওযূর পরের দু‘আ
উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি
উত্তম রূপে ওযূ করবে অথবা পূর্ণ নিয়মের সাথে ওযূ করবে, অতঃপর বলবে,
أَشْـهَـدُ أَنْ لَّا إِلٰـهَ
إِلَّا الـلّٰـهُ وَحْـدَهُ لَا شَـرِيْـكَ لَـهُ وَأَشْـهَـدُ أَنَّ مُـحَـمَّـدًا
عَـبْـدُهُ وَرَسُـوْلُـهُ
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি
যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।’ তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, যে কোন দরজা দিয়ে সে প্রবেশ করতে পারে।” -মুসলিম,
মিশকাত
হা/২৮৯
তিরমিযীতে বর্ধিত আকারে
রয়েছে,
اَلـلّٰـهُـمَّ
اجْـعَـلْـنِـي مِـنَ الـتَّـوَّابِـيْـنَ وَاجْـعَـلْـنِـي مِـنَ
الْـمُـتَـطَـهِّـرِيْـنَগ্ধ
‘হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারী
ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের অন্তভুর্ক্ত কর।” -তিরমিযী, মিশকাত হা/২৮৯
আশ্চর্যজনক অবস্থায়
ও আনন্দের সময় পঠিতব্য দু‘আ
‘সুবহা-নাল্লাহ’ (বুখারী,
ফৎহুল
বারী, ১/২১০)। ‘আল্লাহু আকবার’
(বুখারী, ফাৎহুল বারী, ৮/৪৪১)। ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বলবে, لَا اِلٰـهَ اَلَّا الـلّٰـهُ
(বুখারী, ফৎহুল বারী, ৬/১৮১)।
হাঁচিদাতা ও শ্রোতার
জন্য পঠিতব্য দু‘আ
হাঁচি দাতা বলবে,اَلْـحَـمْـدُ لِـلّٰـهِ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’। যিনি শুনবেন তিনি
বলবেন, يَـرْحَـمُـكَ
الـلّٰـهِ ‘আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন’। অতঃপর হাঁচি দাতা ব্যক্তি
পুনরায় বলবে, يَـهْـدِيْـكُمُ الـلّٰـهِ وَيُـصْلِـحْ بَـالَـكُمْ ‘আল্লাহ তোমাদের হেদায়াত
দান করুন এবং তোমাদেরকে সংশোধন করুন।’
-বুখারী, মিশকাত হা/৪৭৩৩; তিরমিযী
সন্তানদের জন্য পরিত্রাণ
চাওয়ার দু‘আ
ইবন আব্বাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ হাসান-হুসাইনের জন্য নিম্নোক্তভাবে পরিত্রাণ চাইতেন,
اَعُـوْذُ بِـكَـلِـمَـاتِ
الـلّٰـهِ الـتَّـامَّـةِ مِـنْ كُـلِّ شَـيْـطَـانٍ وَّ هَـآمَّـةٍ وَّمِـنْ كُـلِّ
عَـيْـنٍ لَّآمَّـةٍ-
‘প্রত্যেক শয়তান হ’তে আল্লাহর পূর্ণ কালেমা
দ্বারা তোমাদের দু’জনের জন্য পরিত্রাণ
চাচ্ছি। আর পরিত্রাণ চাচ্ছি প্রত্যেক বিষাক্ত কীট হ’তে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চক্ষু
হ’তে।’ -বুখারী হা/৩৩৭১; মিশকাত, হা/১৫৩৫
পিতা-মাতার জন্য দু‘আ
পিতা-মাতার জন্য জীবিত
ও মৃত সর্ববস্থায় সন্তান নিম্মোক্ত দু‘আ / আয়াত পাঠ করবে।
رَّبِّ ارْحَـمْـهُـمَـا
كَـمَـا رَبَّـيَـانِـي صَـغِـيْـرًا ﴿الإسـراء : ٢٤﴾
‘হে আমাদের পালনকর্তা!
তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে
লালন-পালন করেছেন’ -সূরা বনী ইসরাঈলঃ ২৪
নূহ (আঃ) স্বীয় পিতামাতা
ও মুমিনদের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন এভাবে-
رَّبِّ اغْـفِـرْ لِـي
وَلِـوَالِـدَيَّ وَلِـمَـنْ دَخَـلَ بَـيْـتِـيَ مُـؤْمِـنًـا
وَّلِـلْـمُـؤْمِـنِـيْـنَ وَالْـمُـؤْمِـنَـاتِ وَلَا تَـزِدِ
الـظَّـالِـمِـيْـنَ إِلَّا تَـبَـارًا ﴿نـوح : ٢٨﴾
‘হে আমাদের পালনকর্তা!
আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে তাদেরকে এবং
মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন।’ -সূরা নূহঃ ২৮
সন্তান ও পরিবারের
জন্য দু‘আ
ইব্রাহীম (আঃ) স্বীয় সন্তান
ও পরিবারের জন্য নিম্নোক্তভাবে দু‘আ করেন,
رَبَّـنَـا
لِـيُـقِـيْـمُـوْا الـصَّـلَاةَ فَـاجْـعَـلْ أَفْـئِـدَةً مِّـنَ الـنَّـاسِ
تَـهْـوِيْ إِلَـيْـهِـمْ وَارْزُقْـهُـمْ مِّـنَ الـثَّـمَـرَاتِ لَـعَـلَّـهُـمْ
يَـشْـكُـرُوْنَ ﴿ابـراهــيـم : ٣٧﴾
‘হে আমাদের প্রতিপালক!
তারা যেন ছালাত ক্বায়েম করে। মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে দাও এবং তাদেরকে
ফল-ফলাদি দ্বারা রুযী দান কর। সম্ভবতঃ তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।’ -সূরা ইবরাহীমঃ ৩৭
সন্তানের কল্যাণের
জন্য পিতা-মাতার দু’আ
মুমিনগণ তাদের নিজেদের
জন্য এবং স্বীয় পরিবারবর্গের কল্যাণ কামনায় বলেন,
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ
أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ
إِمَامًا ﴿الفرقان : ٧٤﴾
‘আমাদের পালনকর্তা!
আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান
করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাক্বীদের জন্য আদর্শ স্বরূপ করুন।’ -সূরা ফুরক্বানঃ ৭৪
সুসন্তান লাভের জন্য
দু‘আ
পটভূমি: যাকারিয়া (আঃ)
নিঃসন্তান থাকায় বৃদ্ধ বয়সে তাঁর পরবর্তী উত্তরাধিকারের ব্যাপারে শংকিত হয়ে এই দু‘আ করেছিলেন,
رَبِّ لَا تَـذَرْنِـي
فَـرْدًا وَّأَنْـتَ خَـيْـرُ الْـوَارِثِـيْـنَ ﴿الأنْـبِـيَـآء: ٨٩﴾
‘হে আমার পালনকর্তা!
আমাকে একা (নিঃসন্তান) রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস শ্রেষ্ট মালিকানার অধিকারী)।’ -সূরা আম্বিয়াঃ ৮৯
رَبِّ هَـبْ لِـي مِـنَ
الـصَّـالِـحِـيْـنَ ﴿الصافات : ١٠٠﴾
‘হে আমার প্রতিপালক!
তুমি আমাকে নেক্কার সন্তান দান কর।’
-সূরা
ছফফাতঃ ১০০
সন্তানকে নামাজী বানানোর
দু’আ
পটভ‚মি: ইবরাহীম (আঃ) নিম্মোক্ত
আয়াত পড়ে সন্তানের জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করেছিলেন,
رَبِّ اجْـعَـلْـنِـيْ
مُـقِـيْـمَ الـصَّـلَاةِ وَمِـنْ ذُرِّيَّـتِـيْ رَبَّـنَـا وَتَـقَـبَّـلْ
دُعَـآءِ ﴿ابـراهــيـم: ٤٠﴾
‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং কবুল করুন আমাদের দু’আ।’ -সূরা ইবরাহীমঃ ৪০
اَلْاَذْكَـارُ بَـعْـدَ
الصَّـلَاةِ الْـمَـكْـتُـوْبَـةِ
ফরয সালাতের পর যিকিরসমূহ
اَلــلّٰــهُ اَكْــبَــرْ
(১ বার) আল্লাহ্ মহান।
أَسْـتَـغْـفِـرُالـلّٰـهَ
(৩ বার) আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা
চাচ্ছি। মুসলিম-ই.ফা.বা-১২১০, ই.সে-১২২২
الـلّٰـهُـمَّ اَنْـتَ
الـسَّـلَامُ وَمِـنْـكَ الـسَّـلَامُ تَـبَـارَكْـتَ يَـا ذَا الْـجـلَالِ
وَالْاِكْـرَام
(১ বার) হে আল্লাহ তুমি শান্তিময় আর তোমার নিকট হতেই শান্তির
আগমন। তুমি কল্যানময় হে মহা মর্যাদাবান। মুসলিম-ই.ফা.বা-১২১০, ই.সে-১২২২
لَآ اِلٰـهَ اِلَّا الـلّٰـهُ
وَحْـدَهُ لَا شَـرِيْـكَ لَـهُ لَـهُ الْـمُـلْـكُ وَلَـهُ الْـحَـمْـدُ وَهُـوَ عَـلٰـى
كُـلِّ شَـيْـئٍ قَـدِيْـرٌ الـلّٰـهُـمَّ لَا مَـانِـعَ لِـمَـا اَعْـطَـيْـتَ
وَلَا مُـعْـطِـىَ لِـمَـا مَـنَـعْـتَ وَلَا يَـنْـفَـعُ ذَا الْـجَـدِّ مِـنْـكَ
الْـجَـدُّ
(১ বার) আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ্ বা উপাস্য নেই। তিনি
এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা
ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান কর তা বন্ধ করার
কেউ নেই আর তুমি যা বন্ধ রাখ তা দানকারী কেউ নেই। কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সম্মান কাজে
আসবে না, তোমার নিকটেই প্রকৃত সম্মান।
বুখারি-তা.পা-১৪৭৭, ২৪০৮, ৫৯৭০,
৬৩৩০, ৬৪৭৩,
৬৬১৫, ৭২৯২;
মুসলিম-ই.ফা.বা-১২১৪, ই.সে-১২২৬
لَآ اِلٰـهَ اِلَّا الـلّٰـهُ
وَحْـدَهُ لَا شَـرِيْـكَ لَـهُ لَـهُ الْـمُـلْـكُ وَلَـهُ الْـحَـمْـدُ وَهُـوَ عَـلٰـى
كُـلِّ شَـيْـئٍ قَـدِيْـرٌ لَا حَـوْلَ وَلَا قُـوَّةَ اِلَّا بِـالـلّٰـهِ لَآ اِلٰـهَ
اِلَّا الـلّٰـهُ وَلَا نَـعْـبُـدُ اِلَّآ اِيَّـاهُ لَـهُ الـنِّـعْـمَـةُ
وَلَـهُ الْـفَـضْـلُ وَلَـهُ الـثَّـنَـآءُ الْـحَـسَـنُ لَآ اِلٰـهَ اِلَّا الـلّٰـهُ
مُـخْـلِـصِـيْـنَ لَـهُ الـدِّيْـنُ وَلَـوْ كَـرِهَ الْـكَـافِـرُوْنَ
(১ বার) আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ্ বা উপাস্য নেই। তিনি
এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা
ও রাজত্ব আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য ব্যতীত স্বীয়
অবস্থা থেকে পরিবর্তনের ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার মা‘বূদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, তাঁর পক্ষ থেকে যাবতীয় নি‘য়ামত ও অনুগ্রহ তাই
তাঁর জন্যই সকল উত্তম প্রশংসা। আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্রিকার মা‘বূদ নেই, তাঁর দ্বীন আমরা একনিষ্ঠভাবে মান্য করি যদিও কাফেরগণ
তা অপছন্দ করে। মুসলিমঃ ই.ফা ১২১৯,
ই.সে
১২৩
الـلّٰـهُـمَّ اَعِـنِّـىْ
عَـلٰـى ذِكْـرِكَ وَشُـكْـرِكَ وَحُـسْـنِ عِـبَـادَتِـكَ
(৩ বার) হে আল্লাহ! তোমার যিকির, তোমার শুকরীয়া এবং তোমার ইবদত বন্দেগী সুন্দর ও
সঠিকভাবে আদায় করতে আমাকে তুমি তাওফীক দান কর। নাসাঈঃ ১৩০৩; আবূ দাঊদঃ ১৫২২
الـلّٰـهُـمَّ اِنِّـىْ
اَعُـوْذُ بِـكَ مِـنَ الْـجُـبْـنِ وَاَعُـوْذُ بِـكَ مِـنَ الْـبُـخْـلِ
وَاَعُـوْذُ بِـكَ مِـنْ اَرْذَلِ الْـعُـمُـرِ وَاَعُـوذُ بِـكَ مِـنْ
فِـتْـنَـةِ الـدُّنْـيَـا وَعَـذَابِ الْـقَـبْـرِ
(১ বার) হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুশষতা হতে
আর আশ্রয় প্রার্থনা করছি বার্ধক্যের চরম দুঃখ কষ্ট হতে আরো প্রার্থনা করছি দুনিয়ার
ফিৎণা-ফাসাদ এবং কবরের আযাব হতে। বুখারীঃ তা. পা ২৮২২, আ. প্র. ৫৯২৮, ই. ফা ৫৮২১
الـلّٰـهُـمَّ اِنِّـىْ
اَعُـوْذُ بِـكَ مِـنَ الْـكُـفْـرِ وَالْـفَـقْـرِ وَعَـذَابِ الْـقَـبْـرِ
(১ বার) হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাচ্ছি কুফর হতে, অপ্রতুলতা এবং কবরের আযাব হতে। নাসাঈঃ ১৩৪৭
رَبِّ قِـنِـىْ عَـذَابَـكَ
يَـوْمَ تَـبْـعَـثُ اَوْ تَـجْـمَـعُ عِـبَـادَكَ
(১ বার) হে রব! আমাকে তোমার সে দিনের আযাব থেকে বাচাও, যে দিন তুমি তোমার বান্দাদের উত্থিত করবে কিংবা
একত্রিত করবে। ই.ফা.বা-১৫১২, ই.সে.-১৫২১
لَا اِلٰـهَ اِلَّا الـلّٰـهُ
وَحْـدَهُ لَا شَـرِيْـكَ لَـهُ لَـهُ الْـمُـلْـكُ وَلَـهُ الْـحَـمْـدُ بِـيَـدِهِ
الْـخَـيْـرُ يُـحْـيِـىْ وَيُـمِـيْـتُ وَهُـوَ عَـلٰـى كُـلِّ شَـيْـئٍ قَـدِيْـرٌ
(১০ বার ফজর ও মাগরিবের পর) আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্যিকার ইলাহ্
বা উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব, তাঁর হাতেই যাবতীয় কল্যাণ, তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আহমদঃ ১৭৯৯০
الـلّٰـهُـمَّ اِنِّـيْ
اَسـاَلُـكَ عِـلْـمًـا نَـافِـعًـا، وَرِزْقًـا طَـيِّـبًـا، وَعَـمَـلًا
مُـتَـقَـبَّـلًا
(১ বার ফজরের পর) হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক ও কবূল হওয়ার যোগ্য কর্মতৎপরতা প্রার্থনা
করি। ইবন মাজাহঃ ৯২৫; আমহমদঃ ২৫৯৮২, ২৬০৬২,
২৬১৬০, ২৬১৯১
আয়াতুল
কুরসী
বিস্মিল্লাহির রহমানির
রহীম সূরা বাকারার
২৫৫ নম্বর আয়াত
الـلّٰـهُ لَآ اِلٰـهَ اِلَّا
هُـوَ ج اَلْـحَـىُّ الْـقَـيُّـوْمُ ۚ لَا تَـأْخُـذُهُ سِـنَـةٌ وَّلَا نَـوْمٌ ۚ
لَّـهُ مَـا فِـىْ الـسَّـمَـاوَاتِ وَمَـا فِـىْ الْاَرْضِ ۗ مَـنْ ذَا الَّـذِىْ
يَـشْـفَـعُ عِـنْـدَهُ اِلَّا بِـاِذْنِـهِ ۚ يَـعْـلَـمُ مَـا بَـيْـنَ
اَيْـدِيْـهِـمْ وَمَـا خَـلْـفَـهُـمْ ۖ وَلَا يُـحِـيْـطُـوْنَ بِـشَـيْئٍ مِّـنْ
عِـلْـمِـهِ اِلَّا بِـمَـا شَـآءَ ۚ وَسِـعَ كُـرْسِـيُّـهُ الـسَّـمَـاوَاتِ وَالْاَرْضَ
ۖ وَلَا يَـئُـوْدُهُ حِـفْـظُـهُـمَا ۚ وَهُـوَ الْـعَـلِـيُّ الْـعَـظِـيْـمُ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন
উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে
না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তার। কে আছ এমন,
যে সুপারিশ
করবে তার কাছে তার অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তার জ্ঞানসীমা
থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তার সিংহাসন সমস্ত আসমান ও জমিনকে
পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তার পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং
সর্বাপেক্ষা মহান।
সূরা নাস
মক্কায় অবতীর্ণ
বিস্মিল্লাহির রহমানির
রহীম আয়াত-৬
রুকু-১
قُـلْ اَعُـوْذُ بِـرَبِّ
الـنَّـاسِ (١) مَـلِـكِ الـنَّـاسِ (٢) اِلٰـهِ الـنَّـاسِ (٣) مِـنْ شَـرِّ الْـوَسْـوَاسِ
الْـخَـنَّـاسِ (٤) الَّـذِىْ يُـوَسْـوِسُ فِـىْ صُـدُوْرِ الـنَّـاسِ(٥) مِـنَ
الْجِـنَّـةِ وَالـنَّـاسِ (٦)
১. বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার। ২. মানুষের
অধিপতির, ৩. মানুষের মা‘বুদের। ৪. তার অনিষ্ট
থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন
করে, ৫. যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের
অন্তরে, ৬. জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা
মানুষের মধ্য থেকে।
সূরা ফালাক
মক্কায় অবতীর্ণ
বিস্মিল্লাহির রহমানির
রহীম আয়াত-৫
রুকু-১
قُـلْ اَعُـوْذُ بِـرَبِّ
الْـفَـلَـقِ (١) مِـنْ شَـرِّ مَـا خَـلَـقَ (٢) وَمِـنْ شَـرِّ غَـاسِـقٍ اِذَا
وَقَـبَ (٣) وَمِـنْ شَـرِّ الـنَّـفَّـاثَـاتِ فِـىْ الْـعُـقَـدِ (٤) وَمِـنْ
شَـرِّ حَـاسِـدٍ اِذَا حَـسَـدَ (٥)
১. বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, ২. তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, ৩. অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, ৪. গ্রন্থিতে ফুৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট
থেকে এবং ৫. হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
سُــبْــحَــانَ الــلّٰــهِ-সুবহানাল্লাহ্ (৩৩ বার), اَلْــحَــمْــدُ
لِــلّٰــهِ-আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার) ও اَلــلّٰــهُ اَكْــبَــرْ-আল্লাহু আকবার
(৩৩ বার) এবং ১০০ পূরা করতে নিম্মের দু’আটি পাঠ করুন। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু,
ওয়ালাহুল
হামদু, ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।”
সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার
বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দু‘আ
اَلـلّٰـهُـمَّ اَنْـتَ
رَبِّـيْ لَآ اِلٰـهَ اِلَّآ اَنْـتَ خَـلَـقْـتَـنِـيْ وَاَنَـا عَـبْـدُكَ وَاَنَـا
عَـلٰـى عَـهْـدِكَ وَوَعْـدِكَ مَـا اسْـتَـطَـعْـتُ اَعُـوْذُ بِـكَ مِـنْ شَـرِّ
مَـا صَـنَـعَـتُ اَبُـوْءُ لَـكَ بِـنِـعْـمَـتِـكَ عَـلَـيَّ وَاَبُـوْءُ
بِـذَنْـبِـيْ فَـاغْـفِـرْ لِـيْ فَـاِنَّـهُ لَا يَـغْـفِـرُ الـذُّنُـوْبَ
اِلَّآ اَنْـتَ
হে আল্লাহ! তুমি আমার
প্রতিপালক কোন ইলাহ নেই তুমি ছাড়া তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তো তোমারই বান্দা আমি
যথাসম্ভব তোমার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ও ওয়াদার উপর আছি। আমি তোমারই পানাহ চাই আমার কৃতকর্মের
অনিষ্ঠ থেকে। আমার প্রতি তোমার নেয়ামত আমি স্বীকার করছি আমি আমার সব অপরাধও স্বীকার
যিকিরের পরিচয় গুরুত্ব
ও ফজিলত
ভূমিকাঃ
যিকির এমন একটি বিষয়
যা একজন মানুষকে খাঁটি মানুষ বানাতে পারে। তাকে
পাপমুক্ত, ধৈর্যশীল, দুশ্চিন্তাহীন, প্রশান্তচিত্তের অধিকারী এবং জান্নাতের উপযুক্ত বানাতে পারে।
কারণ যে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে পারবে, সে সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করবে (৫৭ঃ ৪, ৫৮ঃ ৭)। তখন তাঁর দ্বারা পাপ করা সম্ভব হবে না।
আর পাপমুক্ত ব্যক্তির স্থান তো জান্নাত। আর দুনিয়াতেও সে পাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য
ও সাফল্য। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَاذْكُـرُوْا الـلّٰـهَ كَـثِـيْـرًا
لَّـعَـلَّـكُمْ تُـفْـلِـحُـوْنَ ﴿الـجـمـعـة: ١٠﴾
‘তোমরা অধিক পরিমানে
আল্লাহর যিকির কর তাহলে সাফল্যকাম হতে পারবে। সুরা জুমু‘আঃ ১০
উল্লেখ্য সেই যিকর
হতে হবে মনের ভিতর থেকে। শুধু মুখের বুলি হলে হবে না। মুখে যদি যিকির করে আর কাজ করে
আল্লাহর স্মরণের পরিপন্থী তবে তার নাম যিকির হবে না। তাই আগে আমরা যিকির এর পরিচয় জেনে
নিই।
যিকির এর পরিচয়ঃ
যিকির ذكـر অর্থ স্মরণ করা, মনে করা,
দোয়া
করা, আল্লাহকে ডাকা ইত্যাদি। সাধারণভাবে
মহান আল্লাহ তায়ালার সম্মান, ইজ্জত, মর্যাদা,
প্রশংসা, মহত্ব,
শ্রেষ্ঠত্ব, একত্ব ইত্যাদি অর্থ প্রকাশক বাক্য বারংবার উচ্চারণ
করাকে যিকির বলা হয়। অবশ্য পবিত্র কুরআন ও হাদীসে সলাত আদায়, কুরআন তেলাওয়াত, দ্বীনের আলোচনা,
নসীহত
ইত্যাদিকেও যিকির বলা হয়েছে । অর্থাৎ আল্লাহর স্মরণে তাঁর বিধান মতো যাই করা হয় তাই যিকির ।
يَـا أَيُّـهَـا
الَّـذِيْـنَ اٰمَـنُـوْا اذْكُـرُوْا الـلّٰـهَ ذِكْـرًا كَـثِـيْـرًا وَّسَـبِّـحُـوْهُ
بُـكْـرَةً وَّأَصِـيْـلًا ﴿الأحــزاب: ٤٢﴾
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা
বেশি পরিমানে আল্লাহর যিকির কর এবং সকাল-সন্ধায় তার পবিত্রতা বর্ণনা কর।’ -সুরা আহযাবঃ ৪১-৪২
اُتْـلُ مَـا أُوْحِـيَ
إِلَـيْـكَ مِـنَ الْـكِـتَـابِ وَأَقِـمِ الـصَّـلَاةَ إِنَّ الـصَّـلَاةَ
تَـنْـهٰـى عَـنِ الْـفَـحْـشَـآءِ وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ
يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ ﴿العنكبوت: ٤٥﴾
আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট
কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত
রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।’ -সূরা আনকাবুতঃ ৪৫
فَـاذْكُــرُوْنِـيْ
أَذْكُـرْكُمْ وَاشْــكُـرُوْا لِـيْ وَلَا تَـكْـفُــرُوْنِ ﴿البقرة: ١٥٢﴾
‘তোমরা আমাকে স্মরণ
কর, তাহলে আমিও তোমাদেরকে স্মরণ
করব।’ -সুরা বাকারাঃ ১৫২
(খ) উপদেশ
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا
لِلنَّاسِ فِي هَٰذَا الْقُرْآنِ مِن كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿الزمر:
٢٧﴾
‘আমি এ কোরআনে মানুষের
জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি,
যাতে
তারা উপদেশ গ্রহন করে।’
-সুরা
যুমারঃ ২৭
لَقَدْ أَنزَلْنَا
إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿الأنبياء: ١٠﴾
‘আমি তোমাদের প্রতি
একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছি এতে তোমাদের জন্যে
উপদেশ রয়েছে। তোমরা কি বোঝ না? -সুরা আম্বীয়াঃ ১০
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ
لِّلْعَالَمِينَ ﴿التكوير: ٢٧﴾
‘এটা তো কেবল বিশ্ববাসীদের
জন্যে উপদেশ।’ -সূরা তাকবীরঃ ২৭
যারা আল্লাহর যিকির
করে এবং করে না তাদের উপমা
عَـنْ أَبِـيْ مُوسَى
قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: ্রمَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لَا
يَذْكُرُ مَثَلُ الْحَيّ وَالْمَيِّتগ্ধ (مُـتَّـفَـقٌ عَـلَـيْـهِ)
‘আবু মুছা (রা) হতে
বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘যারা আল¬ার যিকির করে এবং যারা
করেনা তাদের উদাহরণ হলো মৃত ও জীবিত এর মতো।’ -বোখারীঃ ৬৪০৭
আল্লাহর যিকিরের প্রকারভেদ
আল্লাহর যিকির দুই
প্রকারের (১) আমলী (তথা কর্মের) যিকির ও (২) মৌখিক যিকির।
(১) আমলী তথা কর্মের যিকির
নামাজ, রোজা,
হজ্জ, যাকাত থেকে আরম্ভ করে সকল প্রকার ইবাদত-বন্দেগীই
আল্লাহর যিকির। অনুরূপ ভাবে দ্বীনি আলোচনা,
কোরআন
তিলাওয়াত ইত্যাদিও আল্লাহর যিকির হিসেবে গণ্য।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ
لِذِكْرِي ﴿طه: ١٤﴾
‘আর তোমরা আমার স্মরণের
জন্যই নামাজ আদায় কর।’
-সুরা
ত্ব-হাঃ ১৪ কোরআনকে আল্লাহর যিকির বলা হয়েছে
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا
الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ ﴿الحجر: ٩﴾
‘আমি ¯¦য়ং এ যিকির (উপদেশ গ্রন্থ) অবতরণ করেছি এবং আমি
নিজেই এর সংরক্ষক।’ -সূরা হিজরঃ ৯
জুমআর খুতবা তথা দ্বীনি
আলোচনাকে আল্লাহর যিকির বলা হয়েছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ
آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ
اللَّهِ ﴿الجمعة: ٩﴾
‘তোমাদেরকে যখন জুমআর
দিন নামাজের জন্য ডাকা হবে তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের দিকে দ্রত ধাবিত হও।’ -সুরা জুমু‘আঃ ৯
(২) মৌখিক যিকির
মৌখিক যিকির হল আল্লাহর
প্রশংসা ও মর্যাদা প্রকাশক শব্দ মুখে মুখে কিংবা অন্তরে অন্তরে জপ করা। যেমন হাদীস
শরীফে রয়েছে,
أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ شَرَائِعَ الْإِسْلَامِ قَدْ كَثُرَتْ عَلَيَّ فَأَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ أَتَشَبَّثُ بِهِ قَالَ: " لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا بِذكر اللَّهِ)
জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস
করল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! শরীয়তের বিধিবিধান আমার নিকট অধিক বলে মনে হয়। আপনি আমাকে সংক্ষেপে
কিছু শিক্ষা দিন যা আমি সহজেই পালন করতে পারি (এবং মুক্তি পেতে পারি)। তিনি বললেন:
তুমি সর্বদা তোমার জিহবাকে আল্লাহ তায়ালার যিকিরে সিক্ত রাখবে।’ -ইবনে মাজাহঃ ৩৭৯৩; তিরমিজিঃ ৩৩৭৫; মিশকাতঃ ২২৭৯
আল্লাহর যিকিরের গুরুত্ব
আল্লাহর যিকির আল্লাহর
বান্দাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি আমল। বলা যায় যিকির হল আল্লাহর নেক বান্দাদের কলবের
খোরাক। এটি বান্দা ও রবের মাঝে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। যাবতীয় সৎকর্মের প্রাণ হচ্ছে
আল্লাহর যিকির । তাই আল্লাহ তার বান্দাদেরকে অধিক পরিমানে যিকির করতে বলেছেন।
আল্লাহর যিকিরের ফজীলত
আল্লাহর যিকিরে অফুরন্ত
সওয়াব, মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। নিম্মে সেসব ফজিলতের কয়েকটি দিক নিয়ে
আলোচনা করা হল:
(ক) আরশের নিচে আশ্রয়
ِلاَّ ظِلُّهُ (واحدة منهن)
رَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ (مُـتَّـفَـقٌ عَـلَـيْـهِ)
সাত শ্রেণী মানুষকে
আল্লাহ তায়ালা সেদিন তার আরশের ছায়ায় আশ্রয় দান করবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতিত কোন ছায়া থাকবে না। (তম্মদ্ধে
এক শ্রেণী হল) সে লোকেরা যার নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে অতঃপর চোখে অশ্র“ ঝড়ায়। -বুখারীঃ ৬৬০, ১৪২৩,
৬৮০৬; মিশকাতঃ ৭০১
(খ) এক হজ্জ ও এক ওমরার সওয়াব
َامَّةٍ تَامَّةٍ رَوَاهُ
الـتِّـرْمِـذِيُّ
‘যে ব্যক্তি ফযরের নামাজ
জামাআতের সাথে আদায় করার পর সূর্য উদয় পর্যন্ত বসে যিকির-আযকার করে, অতঃপর দুই রাকাত (দ্বুহার) নামাজ পরে তার জন্য
একটি হজ্জ ও একটি উমরার সওয়াব রয়েছে।’
-তিরমিযি-৫৮৬; মিশকাতঃ ৯৭১
(গ) অন্তরে প্রশান্তি নাযিল হয়
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
الَّذِينَ آمَنُوا
وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
﴿الرعد: ٢٨﴾
‘যারা বিশ্বাস স্থাপন
করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে, জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ -সুরা রা’দঃ ২৮
হাদীসে এসেছে,
عَـنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ
وَأَبِـيْ سَعِيدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَـنْهُمَا قَـالَا: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ
صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: ্রلَا يَقْعُدُ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا حَفَّتْهُمُ
الْمَلَائِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ
وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فَيْمَنْ عِنْدَهُগ্ধ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
কোন সম্প্রদায় যখন
কোন স্থানে বসে আল্লাহর যিকির করে,
রহমতের
ফেরেশ্তাগণ তাদেরকে বেষ্টন করে রাখেন। আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং তাদের
প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়। আর আল্লাহ তায়ালা তার নিকটজনদের মাঝে তাদের কথা আলোচনা
করেন।’ -মুসলিমঃ ২৭০০, তিরমিযিঃ ৩৭০৫,
মিশকাতঃ
২২৬১
(ঘ) অন্তরের মরিচা দূর হয়
عَـنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ
عُمَرَ عَـنِ الـنَّـبِـيِّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ أَنَّهُ كَـانَ
يَقُولُ: ্রلِكُلِّ [ص:৭০৬] شَيْءٍ صِقَـالَةٌ
وَصِقَـالَةُ الْقُلُوبِ ذِكْرُ اللَّهِ وَمَا مِنْ شَيْءٍ أَنْجَى مِنْ عَذَابِ
اللَّهِ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِগ্ধ قَالُوا: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَـالَ: ্রوَلَا أَنْ يَضْرِبَ
بِسَيْفِهِ حَتَّى يَنْقَطِعَগ্ধ . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي الدَّعَوَاتِ الْكَبِيرِ
‘প্রতিটি জিনিস পরিষ্কার
করার একটা উপাদান রয়েছে, আর অন্তর পরিষ্কার
করার উপাদান হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার যিকির। আল্লাহর যিকির ব্যতীত অন্য কোন জিনিষ কার্যকর
ভাবে আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি দেয় না। সাহাবাগণ আরয করলেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও
নয়? তিনি বললেন: (না) যদিও তরবারীর
আঘাতে (তার গর্দান) কেটে পরে যায়।’
-বায়হাকী
দাওয়াতুল কবীরঃ ১৯; মিশকাতঃ ২২৮৬
(ঙ) শয়তানী ও নেফাকী দূর হয়
عَـنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ
قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: ্রمَنْ أَكْثَرَ ذِكْرَ اللَّهِ فَقَدْ بَرِئَ
مِنَ النِّفَاقِগ্ধ(طبرانى-৯৭৪ معجم الاوسط-৬৯৩১ بيهقى- ৫৭১)
‘যে ব্যক্তি অধিক পরিমানে
আল্লাহ তায়ালার যিকির করে, সে নিফাকী থেকে দূরে
থাকে।’ -তিবরানীঃ ৯৭৪; মোজামুল আওসাতঃ ৬৯৩১;
বাইহাকীঃ
৫৭১
(ছ) আল্লাহ স্বয়ং যিকিরকারীর যিকির করেন
عَـنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ،
قَـالَ: قَـالَ رَسُولُ اللهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: يَقُولُ
اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: ্রأَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي
بِي، وَأَنَا مَعَهُ حِينَ يَذْكُرُنِي، إِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ، ذَكَرْتُهُ
فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ، ذَكَرْتُهُ فِي مَلَإٍ هُمْ خَيْرٌ
مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ مِنِّي شِبْرًا، تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا،
وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا، تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي
يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً،(بخارى-৭৪০৫-مسلم-২৬৭৫)
‘আল্লাহ তায়ালা বলেন-”আমার বান্দা আমার ব্যাপারে যেরূপ ধারণা পোষণ করে, আমি তার নিকট তেমনি। যখন সে আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সাথেই থাকি। যদি সে আমাকে মনে মনে
স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ
করি। যদি সে আমাকে কোন জামায়াতে স্মরণ করে,
আমিও
তাকে তার চেয়ে উত্তম জামায়াতে (ফেরেশতাদের মাঝে) স্মরণ করি। সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর
হয় আমি তার দিকে এক গজ অগ্রসর হই। আর যদি সে আমার দিকে এক গজ অগ্রসর হয় আমি তার দিকে
হেটে আসি,আর সে আমার দিকে হেটে আসে আমি
তার দিকে দৌড়ে আসি।’ -বোখারীঃ ৭৪০৫; মুসলিমঃ ২৬৭৫
(জ) যিকিরকারীদের কে
আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন
عَـنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ،
قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ [ص:৮৭]: " إِنَّ لِلَّهِ مَلاَئِكَةً يَطُوفُونَ فِي
الطُّرُقِ يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ، فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ
اللَّهَ تَنَادَوْا: هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ " قَـالَ: ্রفَيَحُفُّونَهُمْ
بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَاগ্ধ قَـالَ - فَيَسْأَلُهُمُ
اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ مِنْ أَيْنَ جِئْتُمْ فَيَقُولُونَ
جِئْنَا مِنْ عِنْدِ عِبَادٍ لَكَ فِي الأَرْضِ يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ
وَيُهَلِّلُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيَسْأَلُونَكَ. قَـالَ وَمَاذَا
يَسْأَلُونِي قَالُوا يَسْأَلُونَكَ جَنَّتَكَ . قَـالَ وَهَلْ رَأَوْا جَنَّتِي
قَالُوا لاَ أَىْ رَبِّ . قَـالَ فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْا جَنَّتِي قَالُوا
وَيَسْتَجِيرُونَكَ . قَـالَ وَمِمَّ يَسْتَجِيرُونَنِي قَالُوا مِنْ نَارِكَ
يَا رَبِّ. قَـالَ وَهَلْ رَأَوْا نَارِي قَالُوا لاَ . قَـالَ فَكَيْفَ لَوْ
رَأَوْا نَارِي قَالُوا وَيَسْتَغْفِرُونَكَ - قَـالَ - فَيَقُولُ قَدْ غَفَرْتُ
لَهُمْ فَأَعْطَيْتُهُمْ مَا سَأَلُوا وَأَجَرْتُهُمْ مِمَّا اسْتَجَارُوا -
قَـالَ - فَيَقُولُونَ رَبِّ فِيهِمْ فُلاَنٌ عَبْدٌ خَطَّاءٌ إِنَّمَا مَرَّ
فَجَلَسَ مَعَهُمْ قَـالَ فَيَقُولُ وَلَهُ غَفَرْتُ هُمُ الْقَوْمُ لاَ يَشْقَى
بِهِمْ جَلِيسُهُمْ-(بخارى-৬৪০৮ -مسلم-৭০১৫)
‘আল্লাহর তায়ালার ভ্রমনরত
এমন কিছু ফেরেশ্তা আছেন, যারা যিকিরের মজলিস
সন্ধান করে বেড়ান। যখনই তারা এমন একটি মজলিসের সন্ধান পান, যেখানে আল্লাহর যিকির-আযকার করা হচ্ছে, তাদের নিজেদের ডানা দ্বারা পরস্পর বেষ্টন করে নেন, এমনকি তাদের ও দুনিয়ার আসমানের মধ্যবর্তী স্থান
পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে জ্ঞাত থাকা সত্তে¡ও ফেরেশ্তাদেরকে জিজ্ঞাসা
করেন, তোমরা কোথায় থেকে আগমন করলে? তারা জবাব দেন আমরা
যমিনের তোমার কতিপয় বান্দার নিকট থেকে আসলাম,
যারা
তোমার তাসবীহ (পবিত্রতা), তাহমীদ (প্রশংসাা), তাহলীল (একত্ববাদ), তাকবীর (বড়ত্ব) ঘোষণা করছে এবং তোমার নিকট প্রার্থনা
করছে। আল্লাহ বলবেন: তারা আমার নিকট কী প্রার্থনা করছে? তারা বলেন: তারা তোমার নিকট তোমার জান্নাত প্রার্থনা
করছে। আল্লাহ বলেন, তারা আমার জান্নাত
দেখেছে? তারা বলেন: না তারা জান্নাত
দেখে নাই! তিনি বলবেন, যদি তারা আমার জান্নাত
দেখত, তাহলে কিরূপ হয়ত? ফেরেশ্তাগণ বললেন, তারা আরো বেশী বেশী করে তোমার নিকট জান্নাত কামনা
করত। আল্লাহ তায়ালা বলবেন, তারা আমার নিকট কী
থেকে আশ্রয় কামনা করছে? তারা বলবেন, হে প্রভূ! তারা তোমার নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয়
কামনা করছে। আল্লাহ বলবেন, তারা আমার জাহান্নাম
দেখেছে? ফেরেশ্তাগণ বলবেন, না তারা জাহান্নাম দেখে নাই! আল্লাহ বলবেন, যদি তারা জাহান্নাম দেখত, তাহলে কী অবস্থা হত?। তারা বলবেন,
তারা
তোমার নিকট আরো বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করত । আল্লাহ বলবেন: আমি তাদেরকে ক্ষমা করে
দিলাম আর তারা যা প্রার্থনা করছে তাদেরকে তা দিয়ে দিলাম এবং যা থেকে আশ্রয় কামনা করছে
তা থেকে তাদেরকে মুক্তি দিয়ে দিলাম। ফেরেশ্তাগণ বলবেন, হে প্রভু! তাদের মধ্যে অমুক এক বান্দা আছে যে বড়ই
নাফরমান, সে ঐ স্থান অতিক্রম কালে তাদের
সাথে সেখানে বসে পড়েছে। আল্লাহ বলবেন,
আমি তাকেও
ক্ষমা করে দিলাম, কেননা, তারা এমন এক মজলিস যাদের কোন সদস্য ব্যর্থ (বঞ্চিত)
হয় না।’ -বুখারীঃ ৬৪০৮; মুসলিমঃ ৭০১৫;
মিশকাতঃ
২২৬৭
যিকির হতে উদাসিনতার
অপকারীতা
(১) ক্ষতি ও অনুশুচনার কারণ
আল্লাহ বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ
آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ
وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿المنافقون: ٩﴾
‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের
ধন-সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততী তোমাদেরকে যেন আল্লাহর যিকির থেকে গাফিল না করে।
যারা এরূপ গাফলতে নিমগ্ন হবে তারা হল ক্ষতিগ্রস্ত।’ -সুরা মুনাফিকুনঃ ৯
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ
نَسُوا اللَّهَ فَأَنسَاهُمْ أَنفُسَهُمْ أُولَٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ﴿الحشر: ١٩﴾
‘তোমরা তাদের মত হইও
না যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, ফলে আল্লাহ তায়ালাও
তাদেরকে আত্মভোলা করে দিয়েছেন, তারাই অবাধ্য।’ -সুরা হাশরঃ ১৯
‘আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের
জন্যে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন অতঃপর সে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে
সে কি তার সমান ,যে তাদের পালনকর্তার
স§রনের ব্যাপারে কঠোর
? তারাই প্রকাশ্যে ক্ষতির মাঝে
রয়েছে।’ -সুরা যুমারঃ ২২
عَـنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ، قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ
صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: ্রمَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا
لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ، وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى الـنَّـبِـيِّ إِلَّا
كَـانَ تِرَةً عَلَيْهِمْ يَوْمَ
الْقِيَامَةِগ্ধ(ترمزى-৩৭০৮-مسند احمد-৭০৯৩-شرح السنة -১২৫৫)
কোন সম্প্রদায়ের লোকেরা
একটা বৈঠকে বসল অথচ সে বৈঠকে সে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করল না এবং তাদের নবীর উপর দরূদ
পাঠ করল না তাহলে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিয়ামতের দিন ক্ষতির সম্মুখিন হবে।’ -তিরমিযিঃ ৩৩৮০; মুসনাদে আহমদঃ ৭০৯৩;
শরহে
সুন্নাহঃ ১২৫৫
কতিপয় মাসনূন যিকির-আযকার
(১) لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
এর যিকির
عَـنْ جَابِرٍ قَـالَ:
قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: " أَفْضَلُ
الذِّكْرِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ
". رَوَاهُ الـتِّـرْمِـذِيُّ وَابْن مَاجَه
সর্বোত্তম যিকির হচ্ছে
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর যিকির করা । -ইবনে মাজাহঃ ৩৮০০; তিরমিজিঃ ৩৩৮৩; মিশকাতঃ ২৩০৬
عَـنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ
قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ: ্রمَنْ كَـانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا
اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَগ্ধ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
‘যে ব্যক্তির শেষ কথা
হয় “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ -আবু দাউদঃ ৩১১৬; মিশকাত ১৬২১
(২) سُبْحَانَ اللَّهِ এর যিকির
عَـنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ،
قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ:
" مَنْ قَـالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ
خَطَايَاهُ وَإِنْ كَـانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ "(مُـتَّـفَـقٌ عَـلَـيْـهِ)
‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০
বার سُبْحَانَ
اللهِ وَبِحَمْدِهِ পড়ে তার সমস— গুণাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, যদিও তার গুণাহ সমুদ্রের
ফেনার চেয়ে বেশী হয়।’
-বোখারীঃ
৬৪০৫; মুসলিমঃ ২৬৯১; মিশকাতঃ ২২৯৬
(৩) بِاللَّهِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ এর যিকির
عَـنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ،
أَنَّ الـنَّـبِـيَّ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ قَـالَ: " أَلَا
أَدُلُّكَ عَلَى بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ؟ " قُلْتُ: بَلَى. قَـالَ:
" لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ "
‘মুয়াজ ইবনে জাবাল
(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)
বলেছেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি বাক্য
শিক্ষা দিব না? যা জান্নাতের ভান্ডার।
আমি বললাম, হ্যাঁ! তিনি বললেন, “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। -মুসনাদে আহমদঃ ২২১১৫; তিরমিযিঃ ৩৫৮১
(৪) سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيم
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ এর যিকির
عَـنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ
قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ:
" كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ
حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ: سُبْحَانَهُ الله وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَهُ الله الْعَظِيم
"(مُـتَّـفَـقٌ عَـلَـيْـهِ)
‘দুটি কলেমা এমন রয়েছে
যা জিহবায় উচ্চারণে খুবই হালকা, মীজানের পাল্লায় খুবই ভারী এবং আল্লাহ তায়ালার
নিকট পছন্দনীয়। কলেমা দুটি হল সুবহানাল্লাহী ওয়াবি হামদিহী সুবহানাল্লাহীল আজীম।’ -বোখারীঃ ৬৪০৬, ৬৬৮২, ৭৫৬৩; মুসলিমঃ ২৬৯৪; মিশকাতঃ ২২৯৮
(৫) وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ
أَكْبَرُ سُبْحَانَ اللَّهِ এই চার কলেমার যিকির
عَـنْ سَمُرَةَ بْنِ
جُنْدُبٍ قَـالَ: قَـالَ رَسُـوْلُ الـلّٰـهِ صَـلَّـى الـلّٰـهُ عَـلَـيْـهِ وَسَـلَّـمَ:
" أَفْضَلُ الْكَلَامِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا
إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ " وَفِي رِوَايَةٍ: " أَحَبُّ
الْكَلَامِ إِلَى اللَّهِ أَرْبَعٌ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا
إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ
". رَوَاهُ مُسلم
উত্তম বাক্য হল চারটি
সুবহানাল্লাহী ওয়ালহামদুলিল্লাহী ওয়ালা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। -মুসলিমঃ
২১৩৭; মিশকাতঃ ২২৯৪
আল্লাহ ও ইল্লাল্লাহ
এর যিকির
প্রতিটি কিতাবে খুব
সহজেই এই যিকিরের বাক্যগুলো পাওয়া যায়। কিন্তু হাদীসের বিশাল ভান্ডারের মধ্যে সন্ধান
করে কোথাও শুধু মাত্র اللَّهُ কিংবা إِلاَّ اللَّهُ বাক্যের যিকিরের কথা
পাওয়া যায় না। এছাড়া দু’আ গঞ্জল আরশ, দু’আ আহাদ নামা, দরূদে লাকী,
দুরূদে
হাজারী, দরূদে তাজ, দরূদে তুনাজ্জিনা, দরূদে নারিয়া ইত্যাদি নানান ধরণের যিকির ও দু’আ বিভিন্ন গ্রন্থে
পাওয়া যায় এবং মানুষ বেশ আগ্রহ করেই এগুলোকে নিয়মিত অযিফা আকারে আমল করে থাকে। এগুলোও
হাদীসের কোন কিতাবে পাওয়া যায় না। এসব মনগড়া যিকির পরিহার করে মাসনূন যিকির-আযকার করা
অধিকতর নিরাপদ।
শেষ কথা
আল্লাহ বলেন,
رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ
تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ
الزَّكَاةِ ۙ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ *
لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ
يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴿النور: ٣٧- ٣٨ ﴾
‘এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর
স্মরণ থেকে, সালাত কায়েম করা থেকে এবং যাকাত
প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। যাতে আল্লাহ
তাদের উৎকৃষ্টতর কাজের প্রতিদান দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও অধিক দেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা
অপরিমিত রুজী দান করেন।’
-সুরা
নূরঃ ৩৭,৩৮

