Wednesday, September 2, 2020

আন্তর্জাতিক হিজাব সংহতি দিবস<> ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক-পরিচ্ছদ।


আন্তর্জাতিক হিজাব সংহতি দিবস।

ক। ইসলামের দৃষ্টিতে পোশাক-পরিচ্ছদ।

ভূমিকা

মানুষ ও পশুর মধ্যে যতগুলো পার্থক্য রয়েছে তম্মধ্যে উলে­খযোগ্য একটি পার্থক্য হল পোশাক। পশুরা পোশাক পরে না, কিন্তু মানুষ পোশাক পরে। যার মাধ্যমে তারা তাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে, সাজসজ্জা করে এবং শীত-গ্রীষ্ম থেকে আত্মরক্ষা করে। 
পোশাকের উপকারীতা 
প্রথম উপকার 
পোশাকের প্রথম উপকারীতা হল লজ্জাস্থান আবৃত করা, কারণ লজ্জা হল মানুষের ভূষণ। মহানবী ﷺ লজ্জাশীলতাকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলে অবিহিত করেছেন। তাই তো জান্নাতে আদম ও হাওয়া -এর শরীর থেকে যখন জান্নাতী পোশাক খুলে পরে যাচ্ছিল তখন তারা লজ্জায় গাছের পাতা দ্বারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে আবৃত করার চেষ্টা করছিলেন। আল­াহ তা‘আলা বলেছেন,
فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى ﴿طه: ١٢١﴾
‘‘অত:পর তারা উভয়েই জান্নাতের নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ-পত্র দ্বারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে আবৃত করতে শুরু করল।’’ -সূরা ত্ব-হা ঃ ১২১
দ্বিতীয় উপকার 
শালীনতার সীমারেখার মধ্যে অঙ্গ সজ্জা করা। নির্লজ্জতাই সকল পাপের মূল।
তৃতীয় উপকার 
শীত, গ্রীস্ম হতে আতœরক্ষা করা। 
আল-কুরআনে উলে­খ রয়েছে,
وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُم بَأْسَكُمْ ﴿النحل: ٨١﴾
“তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরী করে দিয়েছেন, যা তোমাদেরকে গ্রী®ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে।’’ -সূরা নাহাল ঃ ৮১
পোশাক-পরিচ্ছদের উপর পাঁচটি বিধান/স্তর 
পোশাক-পরিচ্ছদের উপর ইসলামের যে নির্দেশনা, তাকে আমরা মোটামুটিভাবে পাঁচ স্তরে বিভক্ত করতে পারি। (১) ফরয, (২) মুস্তাহাব, (৩) জায়েয, (৪) হারাম ও (৫) মাকরূহ। নিæে সেসব স্তরসমূহের উপর বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করা হলঃ
১। ফরয পোশাক 
সতর আবৃত করা যায় এ পরিমাণ পোশাক পরিধান করা নারী, পুরুষ সকলের জন্য ফরয তথা অবশ্য পালনীয়, এতে বিন্দুমাত্র কম করার অধিকার কারও নেই। তবে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সতরের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। 
(ক) মহিলাদের সতর 
হাদীস শরীফে বলা হয়েছে,
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهَا ثِيَاب رقاق فَأَعْرض عَنهُ وَقَالَ: ্রيَا أَسْمَاءُ إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَنْ يَصْلُحَ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَاগ্ধ . وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَّيْهِ. (رَوَاهُ أَبُو دَاوُد)
আসমা বিনতে আবূ বকর  রাসূলুল­াহ ﷺ এর দরবারে প্রবেশ করলেন, আর তার পরনে ছিল আঁটসাঁট পোশাক। নবীজি ﷺ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: হে আসমা! নারীরা যখন ঋতুবতী হয় তখন তাদের এমন অঙ্গ ব্যতিত অন্য কোন অঙ্গ দেখা (পরপুরুষের জন্য) বৈধ নয় একথা বলে তিনি তাঁর মুখমন্ডল ও হাতের তালুদ্বয়ের দিকে ঈশারা করলেন।’’ -আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৪৩৭২
(খ) পুরুষের সতর 
পুরুষদের জন্য শুধুমাত্র তাদের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশই সতরের অন্তর্ভুক্ত। একদা আলী  কে সম্বোধন করে নবী করীম ﷺ বলেন,
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: ্রيَا عَلِيُّ لَا تُبْرِزْ فَخِذَكَ وَلَا تَنْظُرْ إِلَى فَخِذِ حَيٍّ وَلَا مَيِّتٍগ্ধ (رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه)
“হে আলী! তোমার রান প্রকাশ কর না। আর তুমি কোন জীবিত বা মৃতের রানের প্রতি দৃষ্টিপাত কর না।’’ -আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৩১১৩
২। মুস্তাহাব পোশাক - নামাজে রুচিসম্মত পোশাক পরিধান করা- আল­াহ তা‘আলা বলেছেন,
يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ ﴿الأعراف: ٣١﴾
“হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও।’’ -সূরা আ’রাফ ঃ ৩১ 
ঈদ, জুমু‘আ বা কোন প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাতের দিন অপেক্ষাকৃত উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। 
রাসূলুল­াহ ﷺ নিজেও ঐসব দিনগুলোতে উত্তম পোশাক পরতেন। হাদীসে রয়েছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: ্রكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ يَوْمَ الْعِيدِ بُرْدَةً حَمْرَاءَগ্ধ (المعجم الاوسط للطبرانى)
“রাসূলুল­াহ ﷺ ঈদের দিনে লাল ডোরা কাটা চাদর পড়তেন।’’ -তাবারাণী ঃ ৭৬০৯
(গ) সাদা কাপড় পরিধান করা
عَن سَمُرَة أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রالْبَسُوا الثِّيَابَ الْبِيضَ فَإِنَّهَا أَطْهَرُ وَأَطْيَبُ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَه) 
“তোমরা সাদা পোশাক পরিধান কর, কেননা ইহাই তোমাদের জন্য উত্তম পোশাক। আর তোমাদের মৃতদেরকেও সাদা কাপড়ে কাফনও পড়াও।’’ -আহমদ; তিরমিযী; নাসাঈ; ইবন মাজাহ; মিশকাত ঃ ৪৩৩৭
(ঘ) অনাড়ম্বর পোশাক পরিধান করা
রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ دَعَاهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُلَلِ الإِيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا. (ترمذى)
“যে ব্যক্তি ভাল পোশাক পরার সামর্থ্য থাকা সত্তে¡ও আল­াহর উদ্দেশ্যে বিনয় ও নম্রতার দরুন তা পরিহার করে, আল­াহ পাক কিয়ামতের দিন তাকে সমগ্র সৃষ্টি লোকের সামনে ডেকে ঈমানের দৃষ্টিতে যে কোন মূল্যবান পোশাক পরার অনুমতি দেবেন।’’ -তিরমিযী ঃ ২৪৮১
৩। হারাম পোশাক 
(ক) পুরুষের জন্য রেশমের কাপড় পরিধান করা
হাদীসে উলে­খ রয়েছে,
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ্রلَا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَلَا الدِّيبَاجَ وَلَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَهِيَ لَكُمْ فِي الْآخِرَةِগ্ধ (مُتَّفق عَلَيْهِ)
“হুযায়ফা  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল­াহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, তোমরা (পুরুষরা) মোটা কিংবা মিহি রেশমী বস্ত্র পরিধান কর না। এবং সোনা ও রূপার পেয়ালায় পান কর না। আর উহার পাত্রে খেয়ো না। কেনন, এগুলো হল তাদের (কাফেরদের) জন্য দুনিয়াতে আর তোমাদের (মুমিনদের) জন্য এগুলো হল আখিরাতে।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ৪২৭২
(খ) পুরুষের টাখনুর নিচ পর্যন্ত পোশাক পরিধান করা
টাখনুর নীচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করাকে ইসলামে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সে পোশাক লুঙ্গি হউক চাই প্যান্ট হউক কিংবা অতিরিক্ত লম্বা জুব্বাই হউক এবং অহংকারসহ পরিধান করা হউক আর অহংকার ছাড়াই পরিধান করা হউক সবই হারাম। রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ্রإِزْرَةُ الْمُؤْمِنِ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ لَا جُنَاحَ عَلَيْهِ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَيْنِ مَا أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي النَّارِগ্ধ قَالَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ্রوَلَا يَنْظُرُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًاগ্ধ )رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه(
“মুমিন ব্যক্তির লুঙ্গি তার দু’ জঙ্ঘার মধ্যাংশ পর্যন্ত (প্রলম্বিত হতে পারে), তবে জঙ্ঘা থেকে গোছা পর্যন্ত (প্রলম্বিত হওয়ায়) কোন দোষ নেই। কিন্তু গোছার নিম্মাংশে পৌঁছলে তা জাহান্নামে যাবে। এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন। যে ব্যক্তি অহংকারবশে তার লুঙ্গি (গোছার নিচে) ঝুলিয়ে পরে আল­াহ্ তার দিকে তাকাবেন না।’’ -আবূ দাঊদ; ইবন মাজাহ; মিশকাত ঃ ৪৩৩১
(৩) অহংকার ও বাহাদুরী প্রকাশক পোশাক 
অন্যকে তুচ্ছ বিবেচনা করা এবং তাদের উপর নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করার জন্য যে পোশাক পরিধান করা হয় তা হারাম। রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍٍ منَ الدُّنْيَا أَلْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِগ্ধ )رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه)
“যে ব্যক্তি সুখ্যাতি প্রদর্শনের জন্য পোশাক পরিধান করবে, আল­াহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে অপমানের পোশাক পরিধান করাবেন।’’-আহমদ; আবূ দাঊদ; ইবন মাজাহ; মিশকাত ঃ ৪৩৪৬
(গ) মহিলা ও পুরুষ উভয়ের জন্য পাতলা বা আটসাঁট কাপড় পরা
 যে ধরণের পাতলা কাপড় পরিধান করলে চামড়ার সাদা, লাল কিংবা কাল রং বাহির থেকে দৃশ্যমান হয় এমন পাতলা কাপড় পরিধান করা পুরুষ মহিলা সকলের জন্যই নাজায়েয। তদ্র“প এ ধরণের আটসাঁট কাপড় ব্যবহার করাও মাকরূহ, যা পরলে গুপ্তাঙ্গ দেখা যায় না বটে, তবে শরীরের বাহির থেকে শরীরের গঠন, আকার-আকৃতি ইত্যাদি স্পষ্ট ফুটে উঠে। হাদীসে রয়েছে, 
قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا: قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ رؤوسهم كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَتُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا " )رَوَاهُ مُسلم)
‘‘দু’ শ্রেণীর জাহান্নামী এমন রয়েছে যাদেরকে আমি এখনও পৃথিবীতে দেখছি না। একশ্রেণী হল ঐ স¤প্রদায় যাদের হাতে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকে যা দ্বারা তারা মানুষকে প্রহার করে (অত্যাচার করে)। এবং অপরজন হল এমন নারী স¤প্রদায় যারা পোশাক পরিহিতা অথচ উলুঙ্গ (অর্থাৎ তারা এমন পোশাক পরিধান করে যা উলঙ্গ থাকারই নামান্তর)। এরা নিজেরাও পরপুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, পরপুরুষদেরকেও নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করবে। তাদের মাথা হবে পোষ না মানা উষ্ট্রের উঁচু চুঁটের (শিরের) ন্যায়। এসব মহিলারা জান্নাতে যাবে তো দূরের কথা, জান্নাতের সুঘ্রানও পাবে না।’’ -মুসলিম; মিশকাত ঃ ৩৫২৪
ঘ। সাদৃশ্য পোশাক 
যে এলাকায় যে ডিজাইনের পোশাক নারীদের পোশাক হিসেবে প্রচলিত সে সব পোশাক পুরুষের জন্য নাজায়েয।
রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন, 
্রلَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِالرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ، وَلَا مَنْ تَشَبَّهَ بِالنِّسَاءِ مِنَ الرِّجَالِগ্ধ (مسند احمد) 
‘‘যে সব মেয়েলোক পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং যে সব পুরুষ মেয়েদের বেশ ধারণ করে তারা কেউ আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’’ -মুসনাদে আহমদ ঃ ৬৮৭৫
৪। মাকরূহ পোশাক 
নিজ মর্যাদার চেয়ে নিম্মামানের পোশাক পরা
আল­াহ তা‘আলা যাকে যে ধরণের সামর্থ্য দিয়েছেন তার শরীরে সেই মানেরই পোশাক দেখতে আল­াহ তা‘আলা পছন্দ করেন। নিজ মর্যাদার চেয়ে নিæ মানের পোশাক পরিধান করা এক প্রকারের অকৃতজ্ঞাই বটে। হাদীসে রয়েছে,
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ يُرَى أَثَرَ نِعْمَتِهِ على عَبدهগ্ধ )رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ) 
“আল­াহ তা‘আলা বান্দার মাঝে তাঁর প্রদত্ত নি‘য়ামতের আলামত দেখতে পছন্দ করেন।’’ -তিরমিযী; মিশকাত ঃ ৪৩৫০
অপরিচ্ছন্ন ও রুচীহীন পোশাক পরিধান করা
হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَائِرًا فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا قد تفرق شعرُه فَقَالَ: ্রمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ رَأْسَهُ؟গ্ধ وَرَأى رجلا عَلَيْهِ ثيابٌ وسِخةٌ فَقَالَ: ্রمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يَغْسِلُ بِهِ ثَوْبَهُ؟গ্ধ )رَوَاهُ أَحْمد وَالنَّسَائِيّ)‏ ‏
“জাবির () হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল­াহ ﷺ আমাদের নিকট আসলেন। তিনি এক ব্যক্তিকে এলোমেলো চুলে দেখলেন অতঃপর বললেন: সে কি এমন কিছুই (চিরুনী) পায়নি যা দ্বারা তার মাথাটাকে পরিপাটি করে নেয়! তিনি আর এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার পরনে ছিল ময়লাযুক্ত পোশাক। তিনি বললেন: সে কি এমন কিছুই (সাবান) পায়নি যা দ্বারা তার কাপড়টি পরিস্কার করে নেয়।’’ -আহমদ; নাসাঈ; মিশকাত ঃ ৪৩৫১ 
৫। জায়েয পোশাক
(ক) সতরসমূহ আবৃত থাকা। 
(খ) পোশাক আঁটসাঁট ও পাতলা না হওয়া।
(গ) পোশাকে অহংকার, গর্ব বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য না থাকা।
(ঘ) অপব্যয় বা অপচয় না হওয়া। 
(ঙ) মহিলাদের জন্য পুরুষের এবং পুরুষের জন্য মহিলাদের পোশাক না পরা।
(চ) পোশাক-আশাকে কোন বিজাতির অনুকরণ না হওয়া। 
(ছ) পোশাকটির ব্যাপারে এবং পোশাকের রংগে শরীয়তে কোন সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকা।
উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে তৈরী ও ডিজাইনকৃত আমাদের দেশে প্রচলিত শার্ট, ফুলপ্যান্ট, পায়জামা, পাঞ্জাবী, লুঙ্গি, ফতুয়া, জুব্বা, চাদর, কোর্ট, সাফারী, শিরওয়ানী, আচকান, গেঞ্জী, নেংটা, সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার ইত্যাদি পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করা নি:সন্দেহে জায়েয।’’ -আপনাদের প্রশ্নের জওয়াব-৩য় খন্ড-প্রশ্ন নং-১৭৯৫

সুন্নতী পোশাকের স্বরূপ
রাসূলুল­াহ ﷺ বলেন, “মুমিনের জামা হবে তার পায়ের নলাদ্বয়ের মধ্যখান পর্যন্ত। অবশ্য পায়ের নলা থেকে টাখনুর মধ্যে যে কোন স্থানে থাকলেও তা নিন্দনীয় হবে না। 
عَن ابنِ عمَرِ قَالَ: مَرَرْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي إِزَارِي اسْتِرْخَاءٌ فَقَالَ: ্রيَا عَبْدَ اللَّهِ ارْفَعْ إِزَارَكَগ্ধ فَرَفَعْتُهُ ثُمَّ قَالَ: ্রزِدْগ্ধ فَزِدْتُ فَمَا زِلْتُ أَتَحَرَّاهَا بَعْدُ فَقَالَ: بَعْضُ الْقَوْمِ: إِلَى أَيْنَ؟ قَالَ: ্রإِلَى أَنْصَافِ السَّاقَيْنِগ্ধ )رَوَاهُ مُسلم ,مشكوة- ৪৩৬৮)
“আব্দুল­াহ্ ইবন উমর  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল­াহ ﷺ-এর সম্মুখ দিছে যাচ্ছিলাম। সে সময় আমার ইযার (লুঙ্গী) ঝুলান ছিল। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আব্দুল­াহ্! তোমার ইযার উঠিয়ে নাও। তখনি আমি উহা উঠিয়ে নেই। অতঃপর বললেন, আরো উঠাও। সুতরাং আমি আরো উঠালাম। এরপর হতে আমি সর্বদা উহা উপরে বাঁধতে তৎপর থাকতাম। কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করল, কতটুকু উপরে উঠাতে হবে। তিনি বলেন, দুই পায়ের অর্ধ নলা পর্যন্ত।” -মুসলিম; মিশকাত ঃ ৪৩৬৮
টুপি 
এ প্রসংগে রাসূলুল­াহ ﷺ -এর আমল নিম্মরূপ ঃ
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ الله صَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم يَلْبَسُ قَلَنْسُوَةً بَيْضَاءَ -(كنز العمال- ৩৮ / ২২৮)
রাসূলুল­াহ ﷺ কোন কোন সময় সাদা টুপি পরিধান করতেন।’’ -কানযুল উম্মাল ঃ ২২৮
পাগড়ী 
এ প্রসংগে রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ عُبَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রعَلَيْكُمْ بالعمائم فَإِنَّهَا سيماء الْمَلَائِكَة وأخوها خلف ظهوركمগ্ধ (رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ ,مشكوة : ৪৩৭১)
“তোমাদের জন্য পাগড়ী পরিধান করা আবশ্যক, কেননা ইহা ফেরেশতাগণের নিদর্শন। আর উহার প্রান্ত ভাগকে তোমাদের পিঠের পিছনে (ঝুলিয়ে) রাখবে।’’ -বায়হাক্বী; মিশকাত ঃ ৪৩৭১
পায়জামা পরিধানকারীদের জন্য দু‘আ 
রাসূলুল­াহ ﷺ এর পায়জামা পরিধানের ব্যাপারে যদিও উপযুক্ত প্রমাণ নেই, তবে তিনি পায়জামা পছন্দ করতেন এমনকি তিনি একবার পায়জামা ক্রয়ও করেছিলেন। পায়জামা পরিধান কারীর জন্য দু‘আ করেছেন। যে সব মহিলা পায়জামা পরিধান করে আল­াহ্ তাদের প্রতি রহমত করুণ। 
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : كُنْتُ قَاعِدًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْبَقِيعِ فِي يَوْمٍ دَجِنٍ مَطِرٍ ، فَمَرَّتِ امْرَأَةٌ عَلَى حِمَارٍ مَعَهَا مَكَارٍ ، فَهَوَتْ يَدُ الْحِمَارِ فِي وَهْدَةٍ مِنَ الأَرْضِ ، فَسَقَطَتِ الْمَرْأَةُ ، فَأَعْرَضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْهَا بِوَجْهِهِ ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّهَا مُتَسَرْوِلَةٌ ، فَقَالَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُتَسَرْوِلاتِ مِنْ أُمَّتِي ثَلاثًا ، يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّخِذُوا السَّرَاوِيلاتِ فَإِنَّهَا مِنْ أَسْتَرِ ثِيَابِكُمْ ، وَحَصِّنُوا بِهَا نِسَاءَكُمْ إِذَا خَرَجْنَ (بيهقي-১/৩০৫)
“নবীজি ﷺ দু‘আ করেছেন, হে আল­াহ! আমার উম্মতের পায়জামা পরিধানকারীনী মহিলাদের ক্ষমা করুণ। একথা তিনি তিনবার বলেন। হে লোকেরা! তোমরা পায়জামা তৈরী করে নাও। কেননা, এটা লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য অধিকতর উপযোগী পোশাক। যখন তোমাদের মহিলারা বাহিরে যাবে তখন তাদের দৃঢ়ভাবে পায়জামা পরতে বলবে।” -বায়হাকী ১/৩০৫
উপসংহার 

No comments:

Post a Comment