সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার কর্তব্য
ভূমিকা
শিশুই হল, দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুদের বাল্য কালের শিক্ষা-দীক্ষা যদি ভালো হয়, তবে তাদের আগামী দিন ও ভবিষ্যৎ ভালো হবে। তাতে দেশ, জাতি ও সমাজ তাদের দ্বারা হবে লাভবান ও উপকৃত। এ জন্য শিশুদের শিক্ষা, তা‘লীম, তরবিয়ত ও তদের চরিত্রবান করে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দেয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উপর আল্লাহর অফুরন্ত নিআমতরাজির মধ্যে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য একটি নিআমত হল আমাদের সন্তানেরা। নিঃসন্তান দম্পতি কিংবা সন্তানহারা মাকে জিজ্ঞেস করুন, বুঝতে পারবেন, সন্তান কত বড় নিআমত!
পারিবারিক জীবনে সন্তানের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনÑ
وَ اللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا وَّ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَزْوَاجِكُمْ بَنِیْنَ وَ حَفَدَةً وَّ رَزَقَكُمْ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ اَفَبِالْبَاطِلِ یُؤْمِنُوْنَ وَ بِنِعْمَتِ اللهِ هُمْ یَكْفُرُوْنَ.
আল্লাহ তোমাদেরই মধ্য হতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের স্ত্রীদের থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর ভালো-ভালো জিনিসের থেকে রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন। তবুও কি তারা ভিত্তিহীন জিনিসের প্রতি ঈমান রাখবে আর আল্লাহর নিআমতসমূহের অকৃতজ্ঞতা করবে? (সূরা নাহল (১৬) : ৭২)
আল্লাহ যাকে দান করেন সে-ই কেবল অধিকারী হতে পারে এ নিআমতের। ইরশাদ হয়েছেÑ
لِلهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ، یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ، یَهَبُ لِمَنْ یَّشَآءُ اِنَاثًا وَّ یَهَبُ لِمَنْ یَّشَآءُ الذُّكُوْرَ. اَوْ یُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَّ اِنَاثًا، وَ یَجْعَلُ مَنْ یَّشَآءُ عَقِیْمًا، اِنَّهٗ عَلِیْمٌ قَدِیْرٌ.
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। যাকে চান কন্যা দেন এবং যাকে চান পুত্র দেন। অথবা দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। Ñসূরা শুরা (৪২) : ৪৯-৫০
সন্তান লাভের জন্য স্বামী-স্ত্রীর প্রার্থনা
পিতা-মাতার দুআ আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। হাদীস শরীফের ইরশাদÑ
ثلاثُ دعواتٍ مستجاباتٌ لا شكّ فيهن: دعوة الوالد، ودعوة المسافر، ودعوة المظلوم.
তিন ব্যক্তির দুআ কবুল হয় এতে কোনো সন্দেহ নেই। পিতা(-মাতা)র দুআ, মুসাফিরের দুআ ও মজলুমের দুআ। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৩৬; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯০৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১০১৯৬
এজন্য নবীগণ তাদের সন্তানদের জন্য দুআ করতেন। কুরআন মাজীদে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের একাধিক দুআর বিবরণ এসেছে। যেমনÑ
وَ اِذْ قَالَ اِبْرٰهِیْمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا الْبَلَدَ اٰمِنًا وَّ اجْنُبْنِیْ وَ بَنِیَّ اَنْ نَّعْبُدَ الْاَصْنَامَ.
এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম (আল্লাহ তাআলার কাছে দু‘আ করেছিল আর তাতে) বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! এ নগরকে শান্তিপূর্ণ বানিয়ে দিন এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন। Ñসূরা ইবরাহীম (১৪) : ৩৫
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আরো দুআ করেনÑ
رَبِّ اجْعَلْنِیْ مُقِیْمَ الصَّلٰوةِ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِیْ، رَبَّنَا وَ تَقَبَّلْ دُعَآءِ.
হে আমার প্রতিপালক! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার আওলাদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার প্রতিপালক! এবং আমার দু‘আ কবুল করে নিন। Ñসূরা ইবরাহীম (১৪) : ৪০
মারইয়াম রা. ভূমিষ্ঠ হলে তার ও তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার মা দুআ করেছিলেনÑ
فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ ... وَ اِنِّیْ سَمَّیْتُهَا مَرْیَمَ، وَ اِنِّیْۤ اُعِیْذُهَا بِكَ وَ ذُرِّیَّتَهَا مِنَ الشَّیْطٰنِ الرَّجِیْمِ.
অতঃপর যখন তার কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করল তখন সে বলল,... আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম এবং তাকে ও তার বংশধরগণকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে হেফাজতের জন্য তোমার আশ্রয়ে অর্পণ করলাম। Ñসূরা আলে ইমরান (৩) : ৩৬
সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে দুআ করবে সন্তানের জন্মের আগ থেকেই, সন্তান কামনার সময় থেকেই। ইয়াহইয়া আ. এর জন্মের পূর্বে হযরত যাকারিয়া আ. তাঁর জন্য দুআ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা ফরমানÑ
هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِیَّا رَبَّهٗ، قَالَ رَبِّ هَبْ لِیْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّیَّةً طَیِّبَةً، اِنَّكَ سَمِیْعُ الدُّعَآءِ.
এ সময় যাকারিয়া স্বীয় প্রতিপালকের কাছে দু‘আ করল। বলতে লাগল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার নিকট হতে পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি দুআ শ্রবণকারী। Ñসূরা আলে ইমরান (৩) : ৩৮
তিনি আরো দুআ করেনÑ হে প্রভু! আপনি আমাকে একটি সন্তান দান করুন। এবং (বলেনÑ)
وَ اجْعَلْهُ رَبِّ رَضِیًّا.
হে রব! তাকে এমন বানান, যে (আপনার) সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হবে। Ñসূরা মারইয়াম (১৯) : ৬
হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর ভূমিষ্ঠের পূর্বে হযরত ইবরাহীম (আঃ) দুআ করেছিলেনÑ
رَبِّ هَبْ لِیْ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ.
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এমন পুত্র দান কর, যে হবে সৎলোকদের একজন। Ñসূরা আসসাফ্ফাত (৩৭) : ১০০
হযরত মারইয়াম রা.-এর জন্মের পূর্বে তার মা দুআ করেছিলেনÑ
رَبِّ اِنِّیْ نَذَرْتُ لَكَ مَا فِیْ بَطْنِیْ مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّیْ، اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ.
হে আমার প্রতিপালক! আমার গর্ভে যে শিশু আছে, তাকে সকল কাজ থেকে মুক্ত রেখে তোমার জন্য উৎসর্গ করলাম। সুতরাং তুমি আমার পক্ষ হতে তা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি (সকল কিছু) শোন ও (সকল বিষয়ে) জান। Ñসূরা আলে ইমরান (৩) : ৩৫
সন্তানের জন্য নেক দুআ করা নেককার মুমিনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা তাঁর খাছ বান্দাদের একটি গুণ বর্ণনা করেছেন যে, তারা বলেÑআলাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ﴿الفرقان: ٧٤﴾
“এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন। যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ নেতা বানিয়ে দিন।’’ -সূরা ফুরকান ঃ ৭৪
সুতরাং সন্তানের জন্য বেশি বেশি নেক দুআ করতে থাকা। কেননা তিনিই উত্তম সাহায্যকারী। আল্লাহর কাছে চাইতে থাকলে আল্লাহ অবশ্যই কবুল করবেন।
সন্তান ও সম্পদ পরীক্ষা স্বরূপ গুরুত্বপূর্ণ আমানত
এ প্রসঙ্গে আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللَّهُ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ ﴿التغابن: ١٥﴾
“তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষাস্বরূপ। আর আলাহ্র কাছে রয়েছে মহা পুরস্কার।’’ -সূরা তাগাবুন ঃ ১৫
আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ۗ ذَٰلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الْمَآبِ
মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়। সূরা ইমরান ঃ ১৪
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِن تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿التغابن: ١٤﴾
হে মুমিনগণ, তোমাদের কোন কোন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাক। যদি মার্জনা কর, উপেক্ষা কর, এবং ক্ষমা কর, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।” সূরা তাগাবুন ঃ ১৪
وَمَا أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُم بِالَّتِي تُقَرِّبُكُمْ عِندَنَا زُلْفَىٰ إِلَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ لَهُمْ جَزَاءُ الضِّعْفِ بِمَا عَمِلُوا وَهُمْ فِي الْغُرُفَاتِ آمِنُونَ ﴿سبإ: ٣٧﴾
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনÑ
أَلاَ كُلّكُمْ رَاعٍ وَكُلّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيّتِهِ،
শুনে রাখো, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৭১৩৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৯২৮
আরেক হাদীসের ঘোষণাÑ
ما مِن عبد اسْتَرْعاه اللهُ رعيّةً، فلم يَحُطْها بنصيحة، إلا لم يجدْ رائحة الجنة.
আল্লাহ তাআলা যদি বান্দাকে কারো দায়িত্বশীল বানান আর সে নিজ অধীনস্তদের কল্যাণের ব্যাপারে যতœশীল না হয়, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৭১৫০
মোটকথা, সন্তান-সন্ততি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত এবং পিতা-মাতার নিকট আমানত। তাদের ঈমান-আকীদা, বোধ-বিশ্বাস, চিন্তা-চেতনা, আমল-আখলাক, জীবন যাপন প্রভৃতির ব্যাপারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া মাতা-পিতার কর্তব্য।
সৎ ও ধার্মিক সন্তান দুনিয়া ও আখিরাতের পরম সাফল্য
আদর্শবান সন্তান দুনিয়াতে যেমন সুখ ও শান্তির কারণ, তেমনি মৃত্যুর পরে ধন, বাহুবল ও প্রভাব প্রতিপত্তি যখন কোন কাজে লাগবে না তখন সৎ সন্তানই পরকালীন কল্যাণে আসবে। সুতরাং সন্তানকে সৎ ও ধার্মিকরূপে গড়ে তুলতে পারা একদিকে নিজের উপর অর্পিত ফরয দায়িত্ব পালন, অপরদিকে তা দুনিয়া ও আখেরাতের পরম সাফল্য। রাসূলুলাহ্ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أوعلم ينْتَفع بِهِ أوولد صَالح يَدْعُو لَهُ (رَوَاهُ مُسلم)
“মানুষ যখন মারা যায় তখন তিনটি আমল ছাড়া (যা ইন্তেকালের পরেও পেতে থাকে) আর সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তিনটি আমল হলো, ১. সদকায়ে জারিয়া অর্থাৎ এমন সদকা যার কল্যাণকারীতা চলতে থাকে, ২. এমন ইলম যার দ্বারা জাতি উপকৃত হয়, ৩. এমন নেক (সৎ) সন্তান যারা তার মৃত্যুর পার তার জন্য দু‘আ করে।’’ -মুসলিম; মিশকাত ঃ ২০৩
রাসূলুলাহ্ ﷺ আরো বলেছেন,
إِنَّ الرَّجُلَ لَتُرْفَعُ دَرَجَتُهُ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ أَنَّى هَذَا فَيُقَالُ بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ
“জান্নাতে কোনো কোনো ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। তখন সে বলবে : কিভাবে আমার মর্যাদা বৃদ্ধি পেল? তখন তাকে বলা হবে, তোমার জন্য তোমার সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার ফলে।”
সন্তান ও সম্পদ ইবাদতের অন্তরায়
এ প্রসঙ্গে আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿المنافقون: ٩﴾
“হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আলাহ্র স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।” -সূরা মুনাফিক্বুন ঃ ৯
সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব কর্তব্যের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
পৃথিবীর জীবনে মানুষের প্রিয়তম বস্তু ও হৃদয়ের অন্যতম আনন্দ হলো সন্তান-সন্ততি। শুধু তাই নয় আখেরাতের জীবনেরও সাথী ও আনন্দ। কুরআন কারীমে একাধিক স্থানে ঘোষণা করা হয়েছে যে, জান্নাতে মুমিনগণ তাদের সন্তানদের সাহচার্য উপভোগ করবেন। একস্থানে আল্লাহ বলেন:
وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُمْ مِنْ عَمَلِهِمْ مِنْ شَيْءٍ
“এবং যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি যারা ঈমানের বিষয়ে তাদের অনুগামি হয়েছে, তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল কিছু মাত্র হ্রাস করব না।”
সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার কর্তব্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ের উপর জানা বা জ্ঞান থাকার সাথে পিতা-মাতা ও সন্তান উভয়ের কল্যাণ জড়িত। শুধু তাই নয়, একটি সমাজের উন্নতি ও জাতির ভবিষ্যৎ শিশুদের শিক্ষা ও লালন- পালনের উপর নির্ভর করে। আজকের শিশুরাই হলো জাতির কর্ণধার ও আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এ কারণেই ইসলাম ও মনীষীগণ বিশেষ করে সমস্ত মনীষীদের সরদার রাসূলুলাহ্ ﷺ শিশুদের শিক্ষা-দীক্ষা ও সঠিকভাবে লালন-পালন করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
আমরা কুরআনুল কারীমে দেখতে পাই যে, আলাহ্ তা‘আলা শিক্ষণীয় ও উপদেশমূলক অনেক ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যাতে সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। অথচ বর্তমান বিশ্বের অসংখ্য শিশু মৌলিক অধিকারসহ বিভিন্ন প্রকার অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অত্যাচার-নির্যাতন ও অমানুষিক শিশু শ্রমের কারণে সম্ভাব্য কুঁড়ি অকালেই ঝরে যাচ্ছে। এ অধিকার বঞ্চিত মানুষ অন্যায়-অত্যাচার, মাদকাসক্তি ও সন্ত্রাসের মত জঘন্যতম কাজে জড়িয়ে সমাজে সমস্যা সৃষ্টি করছে।
নবজাতক শিশু ফলবান বৃক্ষের সাথে তুল্য। একটি চারাকে উত্তমরূপে পরিচর্চা করলে যেমন মজবুত কান্ড ও পত্র পল¬বে সুশোভিত পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত হয়ে কাংক্সিক্ষতরূপে ফলদান করতে সক্ষম হয়। তেমনি উত্তমরূপে পরিচর্যা করলে প্রতিটি শিশু সুস্থ্য সবল এবং সুঠাম দেহের অধিকারী, পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। যাদের দ্বারা আমরা আগামী দিনে সোনালী ভবিষ্যৎ গড়তে পারি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাতৃগর্ভ থেকে শিশু অধিকার নিশ্চিত করা।
মানব সভ্যতায় পিতা-মাতা ও সন্তানের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়, তাছাড়া পারস্পরিক গ্রহণযোগ্যতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যধিক। তাই শৈশব থেকে সন্তানকে প্রাপ্য অধিকার প্রদান ও উত্তম আচার-আচারণের দ্বারা আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কেননা মানব সন্তানের শৈশব হলো কাঁদা মাটির ন্যায়, শৈশবে তাকে যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে গড়ে তোলা যায়। স্থায়ীত্ব ও প্রভাব বিস্তারের দিক থেকেও শৈশবকালীন শিক্ষা মানব জীবনে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে। শৈশবকালীন শিক্ষা সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে,
الْعِلْمُ فِي الصِّغَرِ كَالنَّقْشِ عَلَى الْحَجَر
“শৈশবে বিদ্যার্জন (স্থায়ীত্বের দিক থেকে) পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্যের ন্যায়।”-বাইহাকী ঃ ৬৪০
ইসলাম যে শুধু শিশুর জন্ম মূহুর্ত থেকেই তার অধিকারের কথা ঘোষণা করেছে তা নয়, বরং তার জন্মের পূর্ব থেকেই তার অধিকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিতে শৈশব হচ্ছে সৌন্দর্য, আনন্দ, সৌভাগ্য ও ভালোবাসার পরিপূর্ণ এক চমৎকার জগত। সন্তানকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যের উপকরণ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا﴿الكهف: ٤٦﴾
“ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমুহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম।’’ -সূরা কাহাফ ঃ ৪৬
সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য
সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই পিতা-মাতার প্রতি তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের কতক হক কার্যকর হতে করে। হাদীসে এসেছে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ , أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , قَالَ: " مِنْ حَقِّ الْوَلَدِ عَلَى الْوَالِدِ ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ: أَنْ يُحْسِنَ اسْمَهُ إِذَا وُلِدَ، وَيُعَلِّمَهُ الْكِتَابَ إِذَا عَقَلَ، وَيُزَوِّجَهُ إِذَا أَدْرَكَ
পিতা-মাতার কর্তব্য হল, সন্তানকে আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসাবে গড়ে তোলা এবং শয়তানের সবধরনের গোলামি থেকে দূরে রাখা। শয়তান চায়, প্রত্যেকটা মানবশিশুকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করতে। জান্নাত থেকে বিতাড়িত হওয়ার সময়ই তার অঙ্গিকার ছিল আদমসন্তানকে বিপথগামী করা। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বলেছিলেনÑ
وَ شَارِكْهُمْ فِی الْاَمْوَالِ وَ الْاَوْلَادِ وَعِدْهُمْ، وَ مَا یَعِدُهُمُ الشَّیْطٰنُ اِلَّا غُرُوْرًا.
যাও তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হয়ে যাও এবং তাদেরকে যত পার প্রতি শ্রæতি দাও। বস্তুত শয়তান তাদেরকে যে প্রতি শ্রæতি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। Ñসূরা ইসরা (১৭) : ৬৪
জন্মের পূর্বে সন্তানের অধিকার
সন্তানকে একজন দ্বীনদার, আদর্শ মা উপহার দেওয়া।
মায়ের জন্য একজন সৎ ও চরিত্রবান বাবা, আর বাবা হলে একজন নেক্কার মা নির্বাচন করা। উভয়ের পারস্পরিক সৌহার্দ-সম্প্রীতির মিলবিন্যাসে থাকবে ধর্মীয় আচার-ব্যবহারের পূর্ণ প্রয়োগ। স্বামী হিসেবে স্ত্রীর অধিকার এবং স্ত্রী হিসবে স্বামীর অধিকারগুলো গুরুত্বের সাথে আদায় করা একান্ত কর্তব্য। এর মধ্যদিয়ে মহান আল্লাহ দয়া-অনুকম্পায় সন্তান দান করলে, যথাযথ মর্যাদায় বরণ করে তার জন্য নির্ণয় করতে হবে ভবিষ্যৎ পন্থা।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَات الدّين تربت يداك "
جاء رجل إلى عمر بن الخطاب يشكو إليه عقوق ابنه، فأحضر عمر الولد وعنفه على عقوقه لأبيه وأنبه على تمرده عليه ونسيانه لحقوقه فقال الولد: يا أمير المؤمنين أليس للولد حقوق على ابيه؟ قال: بلى، قال: فما هي يا امير المؤمنين؟ قال عمر: ان ينتقي امه، ويحسن اسمه.. ويعلمه الكتاب - القرآن -، قال الولد: يا امير المؤمنين، ان ابي لم يفعل شيئا من ذلك، اما امي فانها زنجية كانت لمجوسي، وقد سماني: جُعَلا (خنفساء) ولم يعلمني من الكتاب حرفا واحدا..! فالتفت عمر الى الاب وقال له: جئت اليَّ تشكو عقوق ابنك وقد عققته قبل ان يعقك، واسأت اليه قبل ان يسيء اليك..؟! قم عني
হযরত উমর ফারুক (রাদি.) এর কাছে একটি ছেলেকে সঙ্গে করে উপস্থিত হয়ে বলল: এ আমার ছেলে, কিন্তু আমার সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ।’ তখন হযরত উমর (রাদি.) ছেলেটিকে বললেন : তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা গুনাহের কাজ তা কি জান না? সন্তানের উপর পিতা-মাতার যে অনেক হক রয়েছে তা তুমি কিভাবে অস্বীকার করতে পার?’
ছেলেটি বলল হে আমীরুল মু’মিনীন! পিতামাতার উপরও কি সন্তানের কোন হক আছে? হযরত ওমর (রাদি.) বললেন; নিশ্চয়ই।’ ছেলেটি বলল: আল্লাহর শপথ, আমার এ পিতা আমার এ হকগুলোর একটিও আদায় করেননি। তখন হযরত ওমর (রদি.) সেই লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন: তুমি বলছ, তোমার ছেলে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আসলে তো তোমার থেকে সে সম্পর্ক ছিন্ন করার আগে তুমিই তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছ। (তার হক নষ্ট করেছ), ওঠো এখান থেকে চলে যাও।’
বৈধভাবে জন্মগ্রহণ করার অধিকার
জুন্মগত বৈধতা ইসলামের পরিবার গঠনের ভিত্তি এবং শিশুর ন্যায্য অধিকার। এ ক্ষেত্রে অবৈধ যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা অবৈধ যৌনমিলনের ফলে মাবনদেহে নানারকম রোগ-ব্যধির সৃষ্টি হয়। উপরন্তু এতে অবৈধ সন্তান জন্মের আশংকা থাকে। রাসূলুলাহ্ ﷺ বলেন, “যে পিতার শয্যায় (বা সংসারে) সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, শিশু সেই শয্যারই।” সহীহ বুখারী, পৃ ঃ ৭৮৭
নব জাতকের পিতাকে সুসংবাদ দেয়া বা অভিবাদন জানানো
এ প্রসঙ্গে আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَىٰ لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا ﴿مريم: ٧﴾
“হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহ্হিয়া। ইতিপূর্বে এ নামে আমি কারও নামকরণ করিনি।’’ -সূরা মারইয়াম ঃ ৭-
নবজাতকের কানে আযান (তাওহীদ ও রিসালাতের বাণি) দেয়া
আবূ রাফে বলেন,
عَن أبي رافعٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أذَّنَ فِي أُذُنِ الحسنِ ابنِ عليٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلَاةِ. (رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ)
“ফাতেমা হাসান ইবন আলীকে প্রসব করার পর আমি রাসূলুলাহ্ ﷺ-কে দেখেছি তার কানে সালাতের আযানের ন্যায় আযান দিলেন।” -তিরমিযী ঃ ১৫১৪; আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৪১৫৭
সন্তানের আক্বীক্বা করা
সন্তান জন্মের পর শুকরিয়া হিসেবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশুর রক্ত প্রবাহিত করাকে বলা হয় আক্বিক্বা। আক্বিক্বা করা রাসূলুল্লাহর (সা:) গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। এর গোস্ত নিজেরাও যেমন খেতে পারবে, তেমনি সৌজন্যমূলক পাড়া-প্রতিবেশিকেও দিতে পারবে। কাঁচা গোস্তও দিতে পারবে আবার রান্না করেও তাদেরকে খাওয়াতে পারে।
عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ (رَأْسُهُ) وَيُسَمَّى-(ابو داؤد-২৮৪০)
অর্থ: প্রতিটি শিশু আক্বিক্বার সাথে আবদ্ধ থাকে, যা শিশু জন্মের সপ্তম দিনে জবেহ করা হবে এবং ঐ দিনে তার মাথা মুন্ডিয়ে দেয়া হবে এবং তার নাম রাখা হবে। (আবু দাউদ-২৮৪০)
বর্তমান সময়ে এ্ই আমলটির ব্যাপারেও মুসলিম সমাজে খুবই শিথিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
(ক) আক্বিক্বা জন্মের সপ্তম দিনে করা সুন্নত
জন্মের সপ্তম দিনে আক্বিক্বা করা সুন্নত। সপ্তম দিনে না পারলে চৌদ্দতম দিনে কিংবা একুশতম দিনে দেয়া যাবে বলে একটি দুর্বল হাদীসে বর্ণিত আছে। এ সময়ের পরে আক্বিক্বা দেয়ার আর প্রয়োজনীয়তা নেই।
্রأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِتَسْمِيَةِ المَوْلُودِ يَوْمَ سَابِعِهِ وَوَضْعِ الأَذَى عَنْهُ وَالعَقّ-(ترمذى-২৮৩২‘ اسناده حسن)
অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা:) জন্মের সপ্তম দিনে শিশুর নাম রাখতে, মাথা মুন্ডন করতে এবং আকীকা করতে আদেশ করেছেন। (তিরমিযি-২৮৩২, সনদ হাসান)
ذَالِكَ يَوْمَ السَّابِعِ فَاِنْ لَمْ يَكُنْ فَفِىْ اَرْبَعَةِ عَشَرَةَ فَاِنْ لَمْ يَكُنْ فَفِىْ اِحْدَى و عِشْرِيْنَ-(بيهقى)
অর্থ: আক্বীক্বা করতে হবে সপ্তম দিনে, যদি তা না করা যায় তাহলে চৌদ্দতম দিনে, যদি তাও না পারা যায় তাহলে একুশ তম দিনে। (দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, বায়হাকী)
(খ) ছেলে সন্তানের জন্য দুটি ও মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল
عَنْ أُمِّ كُرْزٍ الْكَعْبِيَّةِ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ-(ابو داؤد-২৮৩৬)
অর্থ: উম্মু কুরয (রা:) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছি, ছেলের পক্ষ হতে সমপর্যায়ের দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ হতে একটি ছাগল আক্বিক্বা দিতে হবে। (সেগুলো ছাগল হোক বা ছাগী হোক তাকে কোন দোষ নেই)। (আবু দাউদ-২৮৩৬)
(গ) প্রয়োজনে ছেলেদের পক্ষ হতেও একটি পশু আক্বিক্বা দেয়া যাবে
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْحَسَنِ بِشَاةٍ-(ترمذى-১৬০২)
অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা:) হাসানের পক্ষ হতে একটি ছাগল দ্বারা আক্বিক্বা করলেন। (তিরমিযি-১৬০২, মিশকাত-৪১৫৪, সনদ সহীহ)
সুন্দর নাম পাবার অধিকার
নাম একটি জাতির স্বকীয়তা ও পরিচয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক। একটি সুন্দর বা উত্তম নাম পাওয়া প্রতিটি সন্তানের অধিকার হিসেবে শরী’য়ত স্বীকৃতি দেয়। রাসূলুলাহ্ ﷺ বলেন,
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمن وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَلْيُحْسِنِ اسْمَهُ (رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ)
“কারো সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে তার কর্তব্য হলো সে যেন তার জন্য একটি উত্তম ও সুন্দর নাম রাখে। জ্ঞান বুদ্ধি হলে তাকে উত্তম আদব শিক্ষা দেয়। যখন সে বয়:প্রাপ্ত হবে তখন তার বিবাহ দিবে। কেননা যদি সে বয়:প্রাপ্ত হয় আর পিতা যদি বিবাহ না দেয় তখন সন্তান কোন গুনাহের কাজ করলে সে গুনাহ তার পিতার হবে।’’ -বাইহাকী; মিশকাত ঃ ৩১৩৮
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ، وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُم-(ابو داؤد-৪৯৪৮)
সর্বোত্তম নাম হল আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন:
إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللهِ عَبْدُ اللهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ-(مسلم-২১৩২)
অর্থ: আল্লাহ তায়ালার নিকট তোমাদের সর্বোত্তম নাম হল আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। (মুসলিম-২১৩২)
পক্ষান্তরে মন্দ নাম হলো
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْنَى الْأَسْمَاءِ عِنْدَ الله رجل تسمى ملك الأملاك
আদাবুল মুফরাদ ঃ ৮১৭
(ক) নাম রাখার সময়
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، ্রأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِتَسْمِيَةِ المَوْلُودِ يَوْمَ سَابِعِهِ وَوَضْعِ الأَذَى عَنْهُ وَالعَقّ-(ترمذى-২৮৩২‘ اسناده حسن)
অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা:) জন্মের সপ্তম দিনে শিশুর নাম রাখতে, মাথা মুন্ডন করতে এবং আকীকা করতে আদেশ করেছেন। (তিরমিযি-২৮৩২, সনদ হাসান)
এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম হাজলিটের (ডরষষরধস ঐধলষরঃঃ) সাবলীল বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, অ সধহব ভধংঃ ধহপযড়ৎবফ রহ ঃযব ফববঢ় ধনুংং ড়ভ ঃরসব রং ষরশব ধ ংঃধৎ ঃরিহশষরহম রহ ঃযব ভরৎসধসবহঃ পড়ষফ, ফরংঃধহঃ, ংরষবহঃ, নঁঃ বঃবৎহধষ ধহফ ংঁনষরসব.” ডরষষরধহ ঐধলষরঃঃ.
নাম কালের অতল তলে আবদ্ধ নোঙর, যেন দূর নীলিমায় মিটিমিটি তারকা, শান্ত, সুদূর সমাহিত, কিন্তু শাশ্বত সুউন্নত।
সাদকাহ করা
সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক সপ্তম দিবসে চুল কাটা এবং চুল পরিমাণ রৌপ্য সদকাহ করা সুন্নাত। সাইয়িদুনা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: عَقَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الحَسَنِ بِشَاةٍ، وَقَالَ: يَا فَاطِمَةُ، احْلِقِي رَأْسَهُ، وَتَصَدَّقِي بِزِنَةِ شَعْرِهِ فِضَّةً، قَالَ: فَوَزَنَتْهُ فَكَانَ وَزْنُهُ دِرْهَمًا أَوْ بَعْضَ دِرْهَمٍ.
“রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ থেকে ১টি বকরী আকীকা দিয়েছেন এবং বলেছেন, হে ফাতেমা ! তার মাথা মু-ন কর এবং চুল পরিমাণ রৌপ্য সদকাহ কর।” [সুনান আত-তিরমিযী, হদিস নং-১৫১৯] তিরমিযী ঃ ১৫১৯
সন্তানকে তাহনীক করানো
সামান্য খেজুর চিবিয়ে নব জাতকের মুখে খানিকটা ঘষে দেয়াকে তাহনীক বলে। আবূ মূসা বলেন,
عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: وُلِدَ لِي غُلاَمٌ، فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ্রفَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيمَ، فَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ، وَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ، وَدَفَعَهُ إِلَيَّগ্ধ، وَكَانَ أَكْبَرَ وَلَدِ أَبِي مُوسَى (بخاري)
“আমার একটি সন্তান জন্ম নিল। তাকে নিয়ে আমি রাসূলুলাহ্ ﷺ-এর কাছে গেলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইব্রাহীম। তারপর খেজুর দিয়ে তাকে তাহনীক করেন। তিনি তার জন্য বরকতের দু’আ করেন এবং আমার কাছে তাকে ফিরিয়ে দেন। এটি ছিল আবূ মূসার বড় সন্তানের ঘটনা।’’ -বুখারী ঃ ৫৪৬৭, ৬১৯৮
সন্তান বেঁচে থাকার অধিকার
এ প্রসঙ্গে আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ۚ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا ﴿الإسراء: ٣١﴾
“দারিদ্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমি জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ।’’ -সূরা বনী ইসরাঈল ঃ ৩১
وَكَذَٰلِكَ زَيَّنَ لِكَثِيرٍ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ قَتْلَ أَوْلَادِهِمْ شُرَكَاؤُهُمْ لِيُرْدُوهُمْ وَلِيَلْبِسُوا عَلَيْهِمْ دِينَهُمْ ۖ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا فَعَلُوهُ ۖ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ
এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।" সূরা আনআম ঃ ১৩৭
قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ قَتَلُوا أَوْلَادَهُمْ سَفَهًا بِغَيْرِ عِلْمٍ وَحَرَّمُوا مَا رَزَقَهُمُ اللَّهُ افْتِرَاءً عَلَى اللَّهِ ۚ قَدْ ضَلُّوا وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ
নশ্চিয় তারা ক্ষতগ্রিস্ত হয়ছে,ে যারা নজি সন্তানদরেকে নর্বিুদ্ধতিাবশতঃ কােন প্রমাণ ছাড়াই হত্যা করছেে এবং আল্লাহ তাদরেকে যসেব দয়িছেলিনে, সগেুলােকে আল্লাহর প্রতি ভ্রান্ত ধারণা পােষণ করে হারাম করে নয়িছে।ে নশ্চিতিই তারা পথভ্রষ্ট হয়ছেে এবং সুপথগামী হয়ন।ি সূরা আনআম ঃ ১৪০
عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ، يَقُولُ: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِي مَجْلِسٍ: ্রتُبَايِعُونِي عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلاَ تَسْرِقُوا، وَلاَ تَزْنُوا، وَلاَ تَقْتُلُوا أَوْلاَدَكُمْ،
বুখারী ঃ ৭২১৩
১৫। বিপদে পড়লে রক্ষা করা
হযরত নূহ আ. প্রায় এক হাজার বছর পর্যন্ত তাঁর কওমকে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। আস্তে-জোরে, প্রকাশ্যে-গোপনে, জনতায়-নির্জনতায়- বিভিন্নভাবে তাদের বুঝিয়েছেন। তবু অল্পসংখ্যক ছাড়া কেউ ঈমান আনেনি। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের উপর কঠিন শাস্তি নেমে আসে- মহাপ্লাবন। আল্লাহর হুকুমে ঈমানদার সঙ্গীদের নিয়ে তিনি নৌকায় আরোহণ করলেন। (তরজমা) ‘সে নৌকা পর্বত-প্রমাণ তরঙ্গরাশির মধ্যে তাদের নিয়ে বয়ে চলছিল। নূহ তার ছেলেকে, যে সকলের চেয়ে পৃথক ছিল, বলল,
وَقَالَ ارْكَبُوا فِيهَا بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ (৪১) وَهِيَ تَجْرِي بِهِمْ فِي مَوْجٍ كَالْجِبَالِ وَنَادَى نُوحٌ ابْنَهُ وَكَانَ فِي مَعْزِلٍ يَا بُنَيَّ ارْكَبْ مَعَنَا وَلَا تَكُنْ مَعَ الْكَافِرِينَ (৪২) قَالَ سَآوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ
বাছা! তুমি আমাদের সঙ্গে আরোহণ কর এবং কাফেরদের সঙ্গে থেক না। সে বলল, আমি এখনই এমন এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। নূহ বলল, আজ আল্লাহর হুকুম থেকে কাউকে রক্ষা করার কেউ নেই, কেবল সেই ছাড়া যার প্রতি আল্লাহ দয়া করেন। অতঃপর ঢেউ তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিল এবং সেও নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’ -সূরা হুদ (১১) : ৪১-৪২
وَنَادَى نُوحٌ رَبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنْتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ (৪৫) قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنِّي أَعِظُكَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ (৪৬)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) ‘নূহ তার প্রতিপালককে ডাক দিয়ে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র তো আমার পরিবারেরই একজন! এবং নিশ্চয় তোমার ওয়াদা সত্য এবং তুমি সকল বিচারকের শ্রেষ্ঠ বিচারক। আল্লাহ বললেন, হে নূহ! তুমি নিশ্চিত জেনে রেখ, সে তোমার পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত নয়। সে তো অপবিত্র কর্মে কলুষিত। সুতরাং তুমি আমার কাছে এমন জিনিস চেয়ো না যে সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’ -সূরা হুদ (১১) : ৪৫-৪৬
খাতনা করানো
প্রত্যেক মুসলিমের জন্য খতনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। খতনা না করলে পাক-পবিত্রতা যথাযথ ভাবে আদায় হয় না। খতনার কোন নির্ধারিত বয়স নেই। হযরত ইবরাহীম আশি বছর বয়সে খতনা করেছিলেন। খতনা করা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে রয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ تَقْلِيمُ الأَظَافِرِ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَنَتْفُ الإِبْطِ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَالاِخْتِتَانُ-(موطا امام مالك-১৬৭৬)
অর্থঃ হযরত আবু হুরাইরাহ (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: পাঁচটি বিষয় হল ফিতরাতের (স্বভাবগত প্রকৃতির) অন্তর্ভুক্ত। (১) নখ কাটা (২) গোঁফ খাটো করা (দাড়ি লম্বা করা) (৩) বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা (৪) গুপ্তস্থানের লোম কাটা (৫) খতনা করা। (মুআত্তা মালিক-১৬৭৬)
সুস্থ্যতার অধিকার
প্রত্যেকটি মানব শিশুরই সুস্থ্য শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণ করার মানবিক অধিকার রয়েছে। একথা খুবই স্বাভাবিক যে, একজন পুষ্টিহীন মা কখনই সুস্থ্য শিশুর গর্বিত মা হতে পারে না। এ জন্যে মায়ের পুষ্টির ব্যাপারে অধিরিক্ত যতœ নেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া গর্ভস্থিত ভ্র“ণের ঠিকমত গঠন ও বৃদ্ধির জন্য মাকে সুষম ও বাড়তি খাবার দিতে হবে। এ বাড়তি খাবার মায়ের স্বাভাবিক খাদ্য হতে ২০০ থেকে ৩০০ ক্যালোরী বেশী যোগাবার উপযোগী হবে।
মাতৃদুগ্ধ পান করার অধিকার
আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ ۖ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ ۚ ﴿البقرة: ٢٣٣﴾
“আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ন দু'বছর দুধ খাওয়াবে, যদি দুধ খাওয়াবার পূর্ণ মেয়াদ সমাপ্ত করতে চায়।’’ -সূরা বাক্বারা ঃ ২৩৩
حَقُّ الْوَلَدِ عَلَى وَالِدِهِ أَنْ يُحْسِنَ اسْمَهُ وَيُحْسِنَ مِنْ مَرْضَعِهِ، وَيُحْسِنَ أَدَبَهُ-(بيهقى-৮৩০০)
অর্থ: পিতার প্রতি সন্তানের অধিকার হল, তিনি তার সুন্দর একটা নাম রাখবেন, যথাযথ ভাবে দুগ্ধ পান করানোর ব্যাবস্থা করবেন এবং উত্তম আদাব-কায়দা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিবেন। (বাইহাকী-৮৩০০)
وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا ۖ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا ۖ وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا ۚ حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থে; বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম। সূরা আহকাফ ঃ ১৫
মাতৃদুগ্ধ শিশুর প্রথম আদর্শ খাবার
“মায়ের দুধের বিকল্প নেই”-এ কথাটি সর্বজনবিদিত। চিকিৎসা বিজ্ঞান বহু গবেষণার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, শিশুর জন্য মায়ের দুধই সর্বোত্তম ও নিরাপদ খাবার। মায়ের দুধে রয়েছে এমন সব উপাদান যা সব ধরনের সংক্রামণ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি ছাড়াও মায়ের দুধ শিশুর সুস্থ্য মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। পাঁচ মাস বয়স পুরো হওয়া পর্যন্ত শিশুর জন্য যা প্রয়োজন তার সবই মায়ের দুধে আছে। শিশু খুব তাড়াতাড়ি ও সহজেই বুকের দুধ হজম করতে পারে। -ইসলাম ও মায়ের দুধ, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, প্রজন্ম, ১৫ শ বর্ষ, ৩য় সংখ্যা, ডিসেম্বর-১৯৯৫, পৃ ঃ ৭
্রإِنَّ الْمُسْلِمَةَ إِذَا حَمَلَتْ كَانَ لَهَا أَجْرُ الْقَائِمِ الصَّائِمِ الْمُحْرِمِ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى إِذَا وَضَعَتْ فَإِنَّ لَهَا بِأَوَّلِ رَضْعَةٍ تُرْضِعُهُ أَجْرَ حَيَاةِ نَسَمَةٍগ্ধ
স¡তন্ত্র শয্যায় নিদ্রা যাবার অধিকার
রাসূলুলাহ ﷺ বলেন,
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ سِنِين وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِগ্ধ (رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ)
“সাত বছর বয়সে শিশুকে সালাত পড়ার নির্দেশ দাও, দশ বছর হয়ে গেলে সালাত না পড়লে তাদেরকে শাস্তি দাও এবং তাদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা কর।’’ -আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৫৭২
সন্তানের সাথে প্রতারনা না করা
শিশুর মানসিক বিকাশে ইসলাম শিশুর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। শিশুর সামনে ঝগড়া-বিবাদ করতে নিষেধ করেছে। তাদের সঙ্গে মিথ্যা বলতে এবং প্রতারণা করতে বারণ করেছে।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ أَنَّهُ قَالَ دَعَتْنِي أُمِّي يَوْمًا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ فِي بَيْتِنَا فَقَالَتْ هَا تَعَالَ أُعْطِيكَ . فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَمَا أَرَدْتِ أَنْ تُعْطِيهِ " . قَالَتْ أُعْطِيهِ تَمْرًا . فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا إِنَّكِ لَوْ لَمْ تُعْطِيهِ شَيْئًا كُتِبَتْ عَلَيْكِ كِذْبَةٌ " .
আবদুল্লাহ ইবন আমরি (র) থেেক র্বণতি । তিিন বলনেঃ একদা আমার মা আমাকে ডাকনে, যখন রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদরে ঘরে অবস্থান করছলিনে । আমার মা আমাকে বলনেঃ তুমি এখানে এসো, আমি তােমাকে দবে । তখন রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে জজ্ঞিাসা করনেঃ তুমি তাকে কি দেিত চাচ্ছ ? তখন তিিন বলনেঃ আমি তাকে খজেুর দবে । একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা) বলনেঃ তুমি যদি তাকে কছিু না দতি,ে তবে তোমার জন্য একটা গুনাহ লখো হতো । (আবু দাউদ ঃ ৪৯৯১)
লোকমানের উপদেশ (মুসলিম পরিবার দ্র)
হযরত লুকমান হাকীম-এর নাম কে না জান!ে তনিি ছলিনে কুশ্রী, নাক চপেটা, ঠঁেট মোটা, হাবাশীদরে চযে়ওে কালো। ছলিনে কাঠমস্ত্রিি এবং এক ব্যক্তরি গোলাম। Ñতাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৭০৫-৭০৬
তনিি ছলিনে নকেকার বান্দা, আল্লাহর ওলী। তাঁর হকেমতর্পূণ কথাগুলো আল্লাহর খুব পছন্দ। তনিি নজি সন্তানকে উদ্দশ্যে করে কছিু উপদশে দযি়ছেলিনে। আল্লাহ তাআলার নকিট তা এত পছন্দ হয় য,ে তনিি কুরআনে কারীমে তা উল্লখে করে তার বাণীকে চরি অমর করছেনে। যুগে যুগে যা সন্তানরে প্রতি পতিা-মাতার উত্তম উপদশেরে উত্তম নমুনা হয়ে থাকব।ে উপদশেগুলো হচ্ছে :
১. প্রথম উপদশে
সন্তানকে তাওহীদ ও একত্ববাদরে শক্ষিা দওেয়া।
وَ اِذْ قَالَ لُقْمٰنُ لِابْنِهٖ وَ هُوَ یَعِظُهٗ : یٰبُنَیَّ لَا تُشْرِكْ بِاللّٰهِ، اِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِیْمٌ.
এবং (সইে সময়ক)ে স্মরণ কর, যখন লুকমান তার পুত্রকে উপদশেচ্ছলে বলছেলি, হে বাছা! আল্লাহর সাথে শরিক করো না। নশ্চিয়ই শরিক চরম জুলুম। Ñসূরা লুকমান (৩১) : ১৩
২. দ্বতিীয় উপদশে
ইয়াকীন ও বশ্বিাসরে উপদশে। বান্দা যখোনইে থাকে আল্লাহ তাআলা তাকে দখেনে, তার সর্ম্পকে সবকছিু জাননেÑ সন্তানরে হৃদয়ে এই বশ্বিাস বদ্ধমূল করে দওেয়া।
یٰبُنَیَّ اِنَّهَاۤ اِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِیْ صَخْرَةٍ اَوْ فِی السَّمٰوٰتِ اَوْ فِی الْاَرْضِ یَاْتِ بِهَا اللّٰهُ، اِنَّ اللّٰهَ لَطِیْفٌ خَبِیْرٌ.
হে বাছা! কোনো কছিু যদি সরষিার দানা বরাবরও হয় এবং তা থাকে কোনও পাথররে ভতের কংিবা আকাশমণ্ডলীতে বা ভূমতি,ে তবুও আল্লাহ (কযি়ামতরে দনি) তা উপস্থতি করবনে। নশ্চিয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মর্দশী, সবকছিুর খবর রাখনে। Ñসূরা লুকমান (৩১) : ১৬
৩. তৃতীয় উপদশে
আল্লাহর আনুগত্যরে উপদশে। নজিে আল্লাহর ফরমাবরদারি করা ও নাফরমানি থকেে বঁেচে থাকা এবং অন্যকওে সে পথে আনার প্রচষ্টো করা। এ পথে কষ্ট ও বপিদ-আপদরে সম্মুখীন হলে সবর করা।
یٰبُنَیَّ اَقِمِ الصَّلٰوةَ
বাছা! নামায কায়মে কর, মানুষকে সৎকাজরে আদশে কর, মন্দ কাজে বাধা দাও এবং তোমার যে কষ্ট দখো দযে়, তাতে সবর কর। নশ্চিয়ই এটা অত্যন্ত হম্মিতরে কাজ। Ñসূরা লুকমান (৩১) ১৭
৪. চর্তুথ উপদশে
وَ اْمُرْ بِالْمَعْرُوْفِ وَ انْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ
৪. পঞ্চম উপদশে
وَ اصْبِرْ عَلٰی مَاۤ اَصَابَكَ، اِنَّ ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ.
৬। ষষ্ঠ উপদশে
আত্মশুদ্ধ,ি বশিষেকরে অহংকার থকেে কলবকে পরষ্কিার রাখা
وَ لَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ
এবং মানুষরে সামনে (অহংকার)ে নজি গাল ফুলওি না এবং ভূমতিে র্দপভরে চলো না। নশ্চিয়ই আল্লাহ কোনো র্দপতি অহংকারীকে পছন্দ করনে না। Ñসূরা লুকমান (৩১) : ১৮
৭। সপ্তম উপদশে
আত্মশুদ্ধ,ি বশিষেকরে অহংকার থকেে কলবকে পরষ্কিার রাখা
وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا، اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍ.
৮. অষ্টম উপদশে
সন্তানকে উত্তম আখলাকে দক্ষিীত করা।
وَ اقْصِدْ فِیْ مَشْیِكَ
নজি পদচারণায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং নজি কণ্ঠস্বর সংযত রাখ। নশ্চিয়ই র্সবাপক্ষো নকিৃষ্ট স্বর গাধাদরেই স্বর। Ñসূরা লুকমান (৩১) : ১৯
৮. নবম উপদশে
সন্তানকে উত্তম আখলাকে দক্ষিীত করা।
وَ اغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ، اِنَّ اَنْكَرَ الْاَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِیْرِ.
নজি পদচারণায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং নজি কণ্ঠস্বর সংযত রাখ। নশ্চিয়ই র্সবাপক্ষো নকিৃষ্ট স্বর গাধাদরেই স্বর। Ñসূরা লুকমান (৩১) : ১৯
লুকমান হামীক তাঁর সন্তানকে যসেব উপদশে দযি়ছেনে এর শব্দে শব্দে নহিতি রয়ছেে গভীর র্মম।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর উপদশে
খ. রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পবত্রি সীরাতে রয়ছেে আর্দশ শশিু গঠনরে উত্তম নর্দিশেনা। নবীজী শশিু ইবনে আব্বাসকে নসীহত করছেলিনে।
একদনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইবনে আব্বাস রা.-কে ডকেে সওয়ারীতে নজিরে পছিনে বসালনে। এরপর তার পঠিে হাত রাখলনে এবং বললনেÑ
يا غلامُ! ألا أعلمك كلماتٍ ينفعُك الله بهن!
প্রযি় বৎস! আমি কি তোমাকে এমন কছিু কথা শখিযি়ে দবি, যগেুলো দ্বারা আল্লাহ তোমাকে উপকৃত করবনে?
এরপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শশিু ইবনে আব্বাসকে কছিু গুরত্বর্পূণ নসীহত পশে করছেনে। ইবনে আব্বাস রা. বড় হওয়ার পর সগেুলো অন্যদরে নকিট র্বণনা করছেনে।
১. আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করা।
احفظ الله يحفظْك، احفظ الله تجده أمامك.
তুমি আল্লাহকে হফোযত করো, আল্লাহ তোমাকে হফোযত করবনে। তুমি আল্লাহকে হফোযত করো, আল্লাহকে তোমার সম্মুখে পাব।ে Ñজামে তরিমযিী, হাদীস ২৫১৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৬৬৯
র্অথাৎ তুমি আল্লাহ তাআলার আদশে-নষিধে মনেে চলো, তাঁর সন্তুষ্টি হাছলিে সচষ্টে হও, বপিদ-আপদে তনিি তোমার পাশে থাকবনে, তোমাকে সাহায্য করবনে।
২. আল্লাহ তাআলার পরচিয় ও মহব্বত লাভ করা।
تعرّف إليه في الرّخاء يعرِفْك في الشدة.
সুখরে সময় আল্লাহকে চনে, (তাঁর কথা স্মরণে রাখো) দুঃখরে সময় তনিি তোমাকে চনিবনে। Ñমুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৮০৩; আলআহাদীসুল মুখতারা ১০/২৪
র্অথাৎ সুখ ও আনন্দরে সয়ম আল্লাহ তাআলার ইবাদত-উপাসনা করে তাঁর মহব্বত ও পরচিয় র্অজন করো, দুঃখ ও মসবিতরে সময় তনিি তোমাকে সাহায্য করবনে।
৩. আল্লাহর কাছে চাওয়া এবং একমাত্র তাঁর উপর ভরসা করা।
إذا سألتَ فاسأل الله، وإذا استعنتَ فاستعِن بالله.
যখন চাইবে আল্লাহর কাছে চাইব।ে আর যখন সাহায্য চাইবে আল্লাহর কাছইে সাহায্য চাইব।ে Ñজামে তরিমযিী, হাদীস ২৫১৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৬৬৯
র্অথাৎ কম-বশে,ি ছোট-বড় যত কছিু তোমার প্রয়োজন হয়, সকল ক্ষত্রেে আল্লাহ তাআলার শরণাপন্ন হব।ে তাঁর কাছইে চাইব।ে
৪. আল্লাহ ছাড়া কারো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা নইে।
واعلم أن الأمة لو اجْتَمَعَت على أن يَنْفَعُوْك بشيء لم ينفعوك إلا بشيء قد كَتَبَه الله لك، ولو اجتمعوا على أن يَضُرّوك بشيء لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك
জনেে রখেো, জগতরে সকল মানুষ মলিে যদি তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবে ততটুক্ইু পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লখিে রখেছেনে। পৃথবিীর সবাই একত্র হয়ে যদি তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায় তবে এর চযে়ে বশেি পারবে না, যা আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লখিে রখেছেনে। Ñপ্রাগুক্ত
৫. তাকদীর ও আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা।
رُفعت الأقلام وجَفّت الصحُف.
(তাকদীর লখোর) কলম উঠযি়ে নওেয়া হয়ছেে এবং সহীফা শুকযি়ে গছে।ে (এতে আর রদবদল হবে না।) Ñপ্রাগুক্ত
র্অথাৎ তোমার জীবনে ভালো ও মন্দ, আনন্দ ও বদেনার যত অবস্থা আসবে সব লখো হয়ে গছেে এবং সে লখো চূড়ান্ত করে ফলো হয়ছে।ে এতে আর কোনো পরর্বিতন হবে না। সুতরাং সুখ ও দুঃখ সব হালতইে তুমি আল্লাহর ফায়সালার উপর রাজি থাকো।
واعلم أن ما أَصابك لم يكُنْ ليُخْطِئَك، وأن ما أخْطأَك لم يكن ليُصِيْبَك.
স্বারণ রখেো, তোমার কাছে (ভালো বা মন্দ) যা এসছেে তা তোমার থকেে দূর হওয়ার ছলি না এবং যা তোমার থকেে ছুটে গছেে তা তোমার নকিট আসার ছলি না। Ñমুসনাদে আব্দ ইবনে হুমায়দ, হাদীস ৬৩৬; আলআদাব, বায়হাকী, হাদীস ৭৫৮
৬. দুনযি়া পরীক্ষার জায়গা। বভিন্নি সময় বান্দা বভিন্নি অবস্থার সম্মুখীন হয়। তখন সবর করা।
واعلم أن في الصبر على ما تكره خيرا كثيرا، وأن النصر مع الصبر، وأن الفرَج مع الكرب، وأن مع العسر يسرا.
জনেে রখেো, অপ্রীতকির অবস্থায় ধর্যৈধারণে প্রভূত কল্যাণ নহিতি আছ।ে নশ্চিয় সবর করলে সাহায্য আস,ে কষ্টরে পর আরাম আসে এবং সংকটরে পর প্রশস্ততা আস।ে Ñমুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৮০৩; আলআহাদীসুল মুখতারা ১০/২৪
লক্ষ করুন, এককেটা নসীহত কত মূল্যবান! একটি শশিুর হৃদয়ে যদি এ উপদশেমালা গঁেথে যায় জীবনরে সফলতার জন্য আর কী চাই! প্রতটিি নসীহতই আলোকর্বতকিা। এভাবইে পৃথবিীর শ্রষ্ঠে শক্ষিক শশিু ইবনে আব্বাসরে ঈমানী মানস গঠন করছেনে।
ইবরাহীম ও ইয়াবুব আ: ্র উপদেশ
وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (১৩২) أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (১৩৩)
ইবরাহীম তার সন্তানদরেকে একথারই অসযি়ত করল এবং ইয়াকুবও (তার সন্তানদরেক)ে য,ে হে আমার পুত্রগণ! আল্লাহ তোমাদরে জন্য এ দ্বীন মনোনীত করছেনে। সুতরাং তোমাদরে মৃত্যু যনে এ অবস্থায় আসে য,ে তোমরা মুসলমি। তোমরা কি সসেময় উপস্থতি ছলিে যখন ইয়াকুবরে মৃত্যুক্ষণ এসে গযি়ছেলি। যখন সে তার পুত্রদরেকে বলছেলি, আমার পর তোমরা কার ইবাদত করব?ে তারা সকলে বলছেলি, আমরা সইে এক আল্লাহরই ইবাদত করব, যনিি আপনার মাবুদ এবং আপনার বাপ-দাদা ইবরাহীম, ইসমাইল ও ইসহাকরেও মাবুদ। আমরা সকলে কবেল তাঁরই অনুগত।’ -সূরা বাকারা (২) : ১৩১-১৩৩
প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করা ()
তাদেরকে এমনভাবে লালন-পালন করে সক্ষম করে গড়ে তোলা, তারা যেন উপার্জন করার মত যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ لِي مِنْ أَجْرٍ فِي بَنِي أَبِي سَلَمَةَ أَنْ أُنْفِقَ عَلَيْهِمْ [ص:৬৭]، وَلَسْتُ بِتَارِكَتِهِمْ هَكَذَا وَهَكَذَا، إِنَّمَا هُمْ بَنِيَّ؟ قَالَ: ্রنَعَمْ، لَكِ أَجْرُ مَا أَنْفَقْتِ عَلَيْهِمْগ্ধ
উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম আবূ সালামার সন্তানদের জন্য আমি যদি খরচ করি এতে কি আমার জন্য প্রতিদান রয়েছে? নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ যতদিন তুমি খরচ করবে ততদিন তোমার জন্য প্রতিদান থাকবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং-৫৩৬৯।]
তাওহীদ ও ইমান শিক্ষা দেয়া ()
সাহাবায়ে কেরাম বুদ্ধির উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গেই শিশুকে তাওহীদ শেখাতেন। ঈমানের শিক্ষাকে তাঁরা এলেম ও আমলের শিক্ষার ওপর অগ্রাধিকার দিতেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,
্রكُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ وَنَحْنُ فِتْيَانٌ حَزَاوِرَةٌ ، فَتَعَلَّمْنَا الإِيمَانَ قَبْلَ أَنْ نَتَعَلَّمَ الْقُرْآنَ ، ثُمَّ تَعَلَّمْنَا الْقُرْآنَ , فَازْدَدْنَا بِهِ إِيمَانًاগ্ধ
‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে থাকতাম। তখন আমরা টগবগে যুবা ছিলাম। সে সময় আমরা ঈমান শিখি আমাদের কুরআন শেখার আগে। এরপর আমরা কুরআন শিখি। এতে করে আমাদের ঈমান বেড়ে যায় বহুগুণে।’ (সহীহ ইবন মাজা : ৬১।)
সালাফে সালেহীন তথা মহান পূর্বসূরীগণ তাঁদের সন্তানদেরকে ছোট বেলায় দ্বীনের মৌলিক অনেক বিষয় শিখিয় দিতেন। তাঁদের একটা নীতি ছিলÑ
كانوا يستحبون أن يُلَقِّنُوْا الصبي يُعْرِبُ أولَ ما يتكلم يقول : لا إله إلا الله سبع مرات، ويكون ذلك أول شيء يتكلم به.
সাহাবী ও তাবেয়ীগণ শিশু স্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলতে সক্ষম হলে তার কানের নিকট সাতবার لا إله إلا الله পড়তেন। ফলে শিশু সর্বপ্রথম যা উচ্চারণ করত তা হল لا إله إلا الله । Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, বর্ণনা ৩৫১৯; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৭৯৬৭
اذا افصح اولادكم فعلموهم لا اله الا الله
আহমদ বিন হাম্বল রহ. আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
্রإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ نُوحًا صلى الله عليه وسلم لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ لِابْنِهِ : إِنِّي قَاصٌّ عَلَيْكَ الْوَصِيَّةَ ، آمُرُكَ بِاثْنَتَيْنِ ، وَأَنْهَاكَ عَنِ اثْنَتَيْنِ : آمُرُكَ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، فَإِنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَالأَرَضِينَ السَّبْعَ ، لَوْ وُضِعْنَ فِي كِفَّةٍ وَوُضِعَتْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فِي كِفَّةٍ لَرَجَحَتْ بِهِنَّ ، وَلَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَالأَرَضِينَ السَّبْعَ كُنَّ حَلْقَةً مُبْهَمَةً لَقَصَمَتْهُنَّ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُগ্ধ.
‘নূহ আলাইহিস সালামের যখন মৃত্যু উপস্থিত হলো, তিনি তখন তার পুত্রের উদ্দেশে বললেন, ‘আমি তোমাকে সংক্ষেপে অসিয়ত করছি। তোমাকে দুটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি এবং দুটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর। কেননা সাত আকাশ আর সাত যমীনকে যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কে রাখা হয় আরেক পাল্লায় তবে সাত আসমান ও যমীনের চেয়ে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-র পাল্লাই ভারী হবে। যদি সাত আসমান আর সাত যমীন কোনো হেঁয়ালীপূর্ণ বৃত্ত ধারণ করে তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তা ভেদ করে চলে যাবে।
[আল-আদাবুল মুফরাদ : ৫৪৮; মুসনাদ আহমদ : ৬৫৮৩।]
মোটকথা, প্রিয় সন্তান যেন মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য শিশুকাল থেকেই মেহনত করতে হবে। তাকে আল্লাহর গুণাবলির কথা, তাঁর একত্ববাদের কথা, নবীগণের ঘটনাবলি, সাহাবায়ে কেরাম ও অন্যান্য নেককার বান্দাদের কর্ম ও বাণি শোনাতে হবে।
সালাত শিক্ষা দেয়া
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَىٰ ﴿طه: ١٣٢﴾
সূরা তহা ঃ ১৩২
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ سِنِين وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِগ্ধ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও। তাদের বয়স ১০ বছর হওয়ার পর (প্রয়োজনে) নামাজের জন্য প্রহার করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)
عَنِ الْقَاسِمِ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللهِ: " حَافِظُوا عَلَى أَبْنَائِكُمْ فِي الصَّلَاةِ، ثُمَّ تَعَوَّدُوا الْخَيْرَ؛ فَإِنَّمَا الْخَيْرُ بِالْعَادَةِ "
‘তোমরা সন্তানদের নামাজের প্রতি যতœবান হও এবং তাদের ভালো কাজে অভ্যস্ত করো। কেননা কল্যাণ লাভ অভ্যাসের ব্যাপার।’ বাইহাকী ঃ ৫০৯৪
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا أَمْسَى فَقَالَ : " أَصَلَّى الْغُلاَمُ " . قَالُوا : نَعَمْ
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আমার খালা মায়মুনার কাছে রাতে অবস্থান করছিলাম। সন্ধ্যার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এসে জিজ্ঞেস করলেন, এই শিশু কি নামাজ পড়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৩৫৬)
সন্তানকে নামাজে অভ্যস্ত করার পুরস্কার
যারা সন্তানকে নামাজের নির্দেশ দেবে এবং তাদের নামাজে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইসমাইল (আ.)-এর প্রশংসা করে বলেছেন,
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا
‘সে তার পরিবারকে নামাজ ও জাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল আল্লাহর সন্তোষভাজন বান্দা।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৫৫)
কোরান শিক্ষা দেয়া
كَانَ الضَّحَّاكُ بْنُ قَيْسٍ يَقُولُ: " يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلِّمُوا أَوْلَادَكُمْ وَأَهَالِيكُمُ الْقُرْآنَ، فَإِنَّهُ مَنْ كُتِبَ لَهُ مِنْ مُسْلِمٍ يُدْخِلُهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَاكْتَنَفَاهُ فَقَالَا لَهُ: وَارْتَقِ فِي دَرَجِ الْجَنَّةِ، حَتَّى يَنْزِلَا بِهِ حَيْثُ انْتَهَى عِلْمُهُ مِنَ الْقُرْآنِ "
মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাঃ ৩০০৫৯
রাসূলুল্লাহ(সাঃ)বলনে,
্রأَدِّبُوا أَوْلاَدَكُمْ عَلَى خِصَالٍ ثَلاَثٍ : عَلَى حُبِّ نَبِيِّكُمْ ، وَحُبِّ أَهْلِ بَيْتِهِ ، وَعَلَى قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ ، فَإِنَّ حَمَلَةَ الْقُرْآنِ فِي ظِلِّ اللهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ مَعَ أَنْبِيَائِهِ وَأَصْفِيَائِهِগ্ধ.
“তোমরা তোমাদরে সন্তানদরেকে তনিটি বষিয়ে শক্ষিা দাও। (ক) তোমাদরে নবীর প্রতি ভালোবাসা (খ) তাঁর পবত্রি আহলে বাইতরে প্রতি ভালোবাসা এবং (গ) কুরআন তলিাওয়াত। কুরআনরে ধারকরা নবী-রাসুল ও আল্লাহর প্রয়ি বান্দাদরে সাথে আল্লাহর ‘আরশরে ছায়াতলে থাকব,ে যখন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না।”[৮]
সন্তানের বন্ধু নির্বাচন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۚ أَتُرِيدُونَ أَن تَجْعَلُوا لِلَّهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا مُّبِينًا [٤:١٤٤]
হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে? সূরা নিসাঃ ১৪৪
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ [٥:٥١]
হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। সূরা মায়েদা ঃ ৫১
৫০১৯ -[১৭] (حَسَنٌ غَرِيبٌ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রالْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلْগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي ্রشُعَبِ الْإِيمَانِগ্ধ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. وَقَالَ النَّوَوِيُّ: إِسْنَادُهُ صَحِيحٌ
রাসূলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা)-কে বলেন,
يَا عَائِشَةُ ارْفُقِي فَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَرَادَ بِأَهْلِ بَيْتٍ خَيْرًا دَلَّهُمْ عَلَى بَابِ الرِّفْقِ
“হে আয়েশা, তুমি বিনম্র ও বন্ধুভাবাপন্ন (শরহফ, ভৎরবহফষু, পড়ঁৎঃবড়ঁং, হরপব) হও। কারণ আল্লাহ যদি কোনো পরিবারের কল্যাণ চান তাহলে তাদেরকে বিনম্রতা ও বন্ধুভাবাপন্নতা দান করেন।”
আদর-সোহাগ, ¯্রহে-ভালবাসা ও মায়া-মমতা প্রদর্শন করা
একবার রাসূলুলাহ (সা:) হাসান বিন আলী (নাতি) কে চুমু দিলেন। আকরা বিন হাবেস (রা:) তা দেখে বললেন: আমার দশটি সন্তান আছে কিন্তু আমি কখনও তাদের কাউকে চুমু দেইনি। রাসূলুলাহ (সা:) বললেন:
مَنْ لَا يَرْحَمْ لَا يُرْحَمْ-(مسلم-৪২৮২‘ باب رحمته صلى الله عليه و سلم)
অর্থ: যে ব্যক্তি দয়া প্রদর্শন করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না। (মুসলিম-হা: নং-৪২৮২, বাবু রহমতুহু সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম)
আর একবার কতিপয় আরব বেদুঈন রাসূলুলাহ (সা:) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আপনারা কি আপনাদের ছোট্ট শিশুদের চুমু দেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারা বলল, আলাহর শপথ! আমরা কিন্তু চুমু দেই না। রাসূলুলাহ (সা:) বললেন:
وَأَمْلِكُ إِنْ كَانَ اللَّهُ نَزَعَ مِنْكُمْ الرَّحْمَةَ-(مسلم-৪২৮১‘ باب رحمته صلى الله عليه و سلم)
অর্থ: আলাহ যদি তোমাদের অন্তর থেকে রহমত ও অনুগ্রহ তুলে নেন, তাহলে আমি কি এর মালিক বা জিম্মাদার হতে পারি? (মুসলিম-হা: নং-৪২৮১, বাবু রহমতুহু সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম, রিয়াদুস সালেহীন-হা:- ২২৪)
عن البراء بن عازب أنه قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم والحسن بن علي على عاتقه وهو يقول: “اللهم إني أحبه فأحبه” وفي رواية أخرى عن أبي هريرة: “اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ وَأَحْبِبْ مَنْ يُحِبُّهُ” ( سنن ابن ماجه ১/ ৫১)
হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা) বলেন,
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَرْحَمَ بِالْعِيَالِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“সন্তানসন্ততি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি স্নেহ, দয়া ও মমতা করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে বেশি কাউকে আমি দেখিনি।”
ধর্মীয় অনুশাসন শিক্ষা দেয়া
চারিত্রিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব প্রসঙ্গে নবী করিম(সাঃ)বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا نَحَلَ وَالِدٌ وَلَدًا مِنْ نَحْلٍ أَفْضَلَ مِنْ أَدَبٍ حَسَنٍ.
“উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষাদানের চেয়ে বড় দান কোনো পিতা তার সন্তানের জন্য করতে পারে নি।”
তিরমিযী
্রلأن يؤدب الرجل ولده خير له من أن يتصدق بصاعগ্ধ .
“সন্তানকে একটা উত্তম শষ্টিাচারতিা শক্ষিা দওেয়া আল্লাহর পথে এক সা‘ পরমিাণ বস্তু সদকা করার চয়েওে উত্তম।”[১৫]
সন্তানকে ধমক না দেয়া
আনাস ইবনু মালিক (রা) বলেন,
وَاللَّهِ لَقَدْ خَدَمْتُهُ تِسْعَ سِنِينَ مَا عَلِمْتُهُ قَالَ لِشَيْءٍ صَنَعْتُهُ لِمَ فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا أَوْ لِشَيْءٍ تَرَكْتُهُ هَلاَّ فَعَلْتَ كَذَا وَكَذَا
“আল্লাহর শপথ, আমি নয়টি বছর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমত করেছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি কোনো দিক দেখিনি যে, আমি কোনো কাজ করে ফেললে তিনি আমাকে জবাবদিহী করে বলেছেন, কেন অমুক অমুক কাজ করলে? অথবা আমি তাঁর নির্দেশিত কোনো কাজ না করলে তিনি আমাকে জবাবদিহী করে বলেছেন, কেন অমুক অমুক কাজ করলে না?”
ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার অধিকার
আলাহ্ তা‘আলা এ প্রসঙ্গে বলেন,
وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا ﴿النساء: ٩﴾
“তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল,অক্ষম, সন্তান-সন্ততি ছেড়ে যায়। তবে মৃত্যুর সময় সন্তানদের জন্যে তারাও আশঙ্কা উদ্বিগ্ন করবে। সুতরাং তারা যেন আলাহ্কে ভয় করে এবং সঙ্গত কথা বলে।” -সূরা নিসা ঃ ৯
রাসূলুলাহ্ ﷺ বলেছেন,
إِنَّكَ إِنْ تَذَرْ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
“নিজের সন্তানকে অন্যের দায়-দাক্ষ্যিণের উপর ফেলে যাবার চেয়ে অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া উত্তম।” -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ৩০৭১
পরিণত বয়সে পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত সন্তানের খাদ্য, বস্ত্র, ব্যাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক চাহিদাসমূহের ব্যয়ভার বহণ করা পিতার উপর একটি পবিত্র দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন:
وَأَنْفِقْ عَلَى عِيَالِكَ مِنْ طَوْلِكَ وَلَا تَرْفَعْ عَنْهُمْ عَصَاكَ أَدَبًا وَأَخِفْهُمْ فِي اللَّهِ-(مسند احمد-২১০৬০‘ عن معاذ بن جبل)
হযরত মু’আজ ইবনে জাবাল হতে বর্ণিত, রাসূল (সা:) বলেছেন: নিজের পরিবার-পরিজনের পিছনে সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে আর তাদেরকে শিষ্টাচার ও আদব শিক্ষা দেয়ার লাঠিটা উঠিয়ে রাখবে না এবং তাদেরকে আলাহর ভয়ও দেখাবে। (মুসনাদে আহমদ-২১০৬০, মুআজ বিন জাবাল হতে)
دِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ فِي رَقَبَةٍ وَدِينَارٌ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلَى مِسْكِينٍ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا الَّذِي أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ–(مسلم-২৩৫৮‘ كتاب الزكاة)
অর্থঃ এক দিনার তুমি ব্যয় করলে আলাহর রাস্তায়, এক দিনার খরচ করলে দাস মুক্তিতে, এক দিনার সদকা করলে মিসকিনদের পিছনে এবং এক দিনার ব্যয় করলে তোমাদের পরিবার-পরিজনের পিছনে। প্রতিদানের দিক থেকে বড় হল সেটা যা তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের পিছনে খরচ করলে। (মুসলিম-২৩৫৮, যাকাত অধ্যায়)
মতামত প্রদানের অধিকার
শিশুর মতামত একেবারে নিম্নমানের সাধাসিধে বা মূল সমস্যা থেকে বহু দূরেই হোক না কেন, বিভিন্ন সমস্যার সময় তাদের মতামত গ্রহণ করা। তার মতামতকে তুচ্ছ জ্ঞান করা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা উচিত নয়, বরং তাতে কোন ভুল ভ্রান্তি থাকলে তা দেখিয়ে দেয়া ও সঠিক সমস্যা তার সামনে প্রকাশ করা। পিতা-মাতার এভাবে শিশুকে মতামত প্রদানের সুযোগদান শিশুকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং তাকে যথাযথ দিক-নির্দেশনা দানে সহয়তা করে।-
বৈধ আয় থেকে প্রতিপালিত হবার অধিকার
নিজে যেমন হালাল উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা ওয়াজিব, তেমনি সন্তান প্রতিপালন বৈধ উপার্জন থেকে খরচ করা কর্তব্য। তাই অবৈধ আয় যথা ঘুষ, চুরি, সুদ, প্রতারণা, অসৎকর্ম, নেশা, জুয়া ইত্যাদি উপায়ে অর্থ উপার্জন করে সন্তান প্রতিপালনের বিধান ইসলামে নেই। এ ধরনের অপকর্মের জন্যে সন্তানের কোন দায়িত্ব নেই। আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا ﴿البقرة: ٢٣٣﴾
“আর সন্তানের অধিকারী অর্থাৎ জনকের কর্তব্য হলো যথারীতি তাদের (মাতাগণের) খোর-পোষের দায়িত্ব প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আদায় করা। কাউকে তার সাধ্যাতীত কার্যভারের সম্মুখীন করা হয় না।’’ -সূরা বাক্বারা ঃ ২৩৩
পিতা-মাতা, শিক্ষকসহ সকলেই সন্তান প্রতিপালনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা, এ দায়িত্বের ব্যাপারে আলাহ্ তা‘আলার নিকট জবাবদিহি করতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: ্রأَلا كلُّكُمْ راعٍ وكلُّكُمْ مسؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
“তোমরা প্রত্যেকেই (রাখালের মত) দেখাশুনাকারী, আর এ দেখাশুনার ব্যাপারে প্রত্যেকেই জবাবদিহি করতে হবে।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ৩৬৮৫
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَحَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রخَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى وأبدأ بِمن تعولগ্ধ . رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
১৯৩০ -[২] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: ্রإِذا أَنْفَقَ الْمُسْلِمُ نَفَقَةً عَلَى أَهْلِهِ وَهُوَ يَحْتَسِبُهَا كَانَت لَهُ صَدَقَةগ্ধ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রدِينَار أنفقته فِي سَبِيل الله ودينار أنفقته فِي رَقَبَةٍ وَدِينَارٌ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلَى مِسْكِينٍ وَدِينَارٌ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا الَّذِي أنفقته على أهلكগ্ধ . رَوَاهُ مُسلم
শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে উঠার অধিকার
হাদীস শরীফে এসেছে, আবূ রাফের মুনিব আবূ সালমান হতে বর্ণিত, রাসূলুলাহ্ ﷺ-এরশাদ করেন, পিতা-মাতার উপর সন্তানের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি সন্তানের নিকটও পিতা-মাতার প্রাপ্য অধিকার রয়েছে। পিতা-মাতা হতে সন্তানের অধিকার হলো লিখতে শিক্ষা দেবে, সাঁতার শিক্ষা দেবে এবং তীরন্দাজী শিক্ষা দেবে। তাদের এমন কিছু শিক্ষা দেবে না, যা সন্তানকে ন্যায়িনিষ্ঠা করে না।’’-ইসলামী ঐতিহ্য পরিবার পরিকল্পনা, পৃ ঃ ৫৪; শিশু পরিচর্চা, পৃ ঃ ৫৬)
সন্তানদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশ ও শক্তি অর্জনের জন্য তাদের শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা করাতে ইসলামে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত তীর নিক্ষেপ, ঘোড়ার পিঠে আরোহণ, সাঁতার ইত্যাদি খেলাধুলা বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণ। আয়েশা (রা) বলেন, হাবশীগণ লাঠি-বল্লম ইত্যাদি নিয়ে খেলা করছিল। উমার (রা) তাদেরকে আপত্তি করলে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, উমার, তুমি ওদের খেলতে দাও। এরপর তিনি ক্রীড়ারতদেরকে বলেন:
اِلْعَبُوْا (خُذُوا) يا بني أرفدة لَتَعْلَمُ يَهُودُ أَنَّ فِي دِينِنَا فُسْحَةً إِنِّي أُرْسِلْتُ بِحَنِيفِيَّةٍ سَمْحَةٍ
হে হাবশীগণ, তোমরা খেল, যেন ইহূদী নাসারারা জানতে পারে যে, আমাদের দ্বীনের মধ্যে প্রশস্ততা আছে। আমি প্রশস্ত দ্বীনে হানীফ সহ প্রেরিত হয়েছি।”
অন্য হাদীসে সাহাবী উকবা ইবনু আমির বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
وَارْمُوا وَارْكَبُوا وَأَنْ تَرْمُوا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ تَرْكَبُوا
“তোমরা নিক্ষেপ কর এবং আরোহণ কর। আরোহন করার চেয়ে নিক্ষেপ করা আমার নিকট বেশি প্রিয়।”
সন্তানকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা
সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে অন্যতম বিষয় হলো, তাদেরকে “শক্তিশালী” রূপে গড়তে হবে। ঈমানের শক্তি, মনের শক্তি, দেহের শক্তি সকল দিক থেকেই তারা শক্তিশালী হয়ে গড়ে উঠবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ
“শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর ও প্রিয়তর।”
আদব আখলাক শিক্ষা দেয়া
শিশুকে মূলতঃ ভালো-মন্দ উভয় চরিত্রের মিশ্রণে সৃষ্টি করা হয়েছে। তার পিতা-মাতাই তাকে ভালো-মন্দের যে কোনোটির দিকে ধাবিত করেন। আবূ হুরায়রা হতে বর্ণিত, রাসূলুলাহ্ ﷺ বলেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ كَانَ يحدث قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلَّا يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ ثُمَّ يَقُول أَبُو هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ (فطْرَة الله الَّتِي فطر النَّاس عَلَيْهَا) الْآيَةগ্ধ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
“প্রতিটি নবজাত শিশু ফিতরাত তথা ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করে। তারপর তার পিতা-মাতাই তাকে ইয়াহুদী বানায়, খ্রিস্টান বানায় অথবা অগ্নিপূজক বানায়। যেমন চতুষ্পদ জন্তু সে একটি জন্তু জন্ম দেয়, কিন্তু তার মধ্যে কোনটিকেই তুমি কান কাটা দেখতে পাবে না।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ৯০
৪১৫৯ -[১] (مُتَّفق عَلَيْهِ)
عَن عمر بن أبي سَلمَة قَالَ: كُنْتُ غُلَامًا فِي حِجْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ يَدِي تَطِيشُ فِي الصفحة. فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ্রسم الله وكل يَمِينك وكل مِمَّا يليكগ্ধ
অতএব হে অভিভাবক বা শিক্ষক ! রাসূলুলাহ্ ﷺ-এর বাণী আপনাদের জন্য সুখবর ! কারণ, তিনি বলেছেন,
فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِي اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
“তোমার দ্বারা যদি একজন মানুষকেও হিদায়াত দেয়া হয়, তা তোমার জন্য আরবের সবচেয়ে মূল্যবান উট লাল উট হতেও উত্তম।” -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ৬০৮৯
্রأَكْرِمُوا أَوْلَادَكُمْ وَأَحْسِنُوا أَدَبَهُمْগ্ধ
“তোমরা তোমাদরে সন্তানদরে ভালোবাসা দাও এবং তাদরেকে র্সবোত্তম শষ্টিাচারতিা ও নতৈকিতা শক্ষিা দাও।”
সুনাগরিক করে গড়ে তোলা
সূরা হামীম আস সিজদাহ ঃ ২৯
্রلَا يَسْتَرْعِي اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَبْدًا رَعِيَّةً، قَلَّتْ أَوْ كَثُرَتْ، إِلَّا سَأَلَهُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، أَقَامَ فِيهِمْ أَمْرَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَمْ أَضَاعَهُ؟ حَتَّى يَسْأَلَهُ [ص:২৬১] عَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ خَاصَّةًগ্ধ
কন্যা জন্ম গ্রহণে নাখোশ হওয়ার নিন্দা
অনেকে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তারা বেজায় নাখোশ হন। কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তাতে রুষ্ট হওয়া মূলত জাহেলী চরিত্রের প্রকাশ। যার সমালোচনা করে আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِالْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ يَتَوَارَىٰ مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ ۚ أَيُمْسِكُهُ عَلَىٰ هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ ۗ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ﴿النحل: ٥٨-٥٩﴾
“আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তনের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তার চেহারা (মুখ) কালো হয়ে যায়। আর সে অসহ্য মনকষ্টে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে (আত্মগোপন) থাকে। সে চিন্তা করে, অপমান সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, না তাকে মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখ, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’’ -সূরা নাহল ঃ ৫৮-৫৯
এ ব্যাপারে রাসূলুলাহ্ ﷺ বলেছেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ كَانَتْ لَهُ أُنْثَى فَلَمْ يَئِدْهَا وَلَمْ يُهِنْهَا وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا - يَعْنِي الذُّكُورَ - أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَগ্ধ (رَوَاهُ أَبُو دَاوُد)
“যার কন্যা সন্তান হয়েছে, অথচ তাকে সে জীবন্ত কবর দেয় নি, তাকে লাঞ্ছিত করে নি কিংবা তার তুলনায় পুত্র সন্তানকে বেশী স্নেহ করে নি, আলাহ্ তা‘আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’’ -আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৪৯৭৯
রাসূলুলাহ্ ﷺ আরো বলেন,
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَا وَهُوَ هَكَذَاগ্ধ وضمَّ أصابعَه (رَوَاهُ مُسلم)
“যে ব্যক্তি সাবালক হওয়া পর্যন্ত দু’টি কন্যার ভার বহন করবে, ক্বিয়ামতের দিন আমি আর সে আবির্ভূত হব। একথা বলে তিনি তার হাতের দু’ আঙ্গুল একসঙ্গে করে দেখান।’’ -মুসলিম; মিশকাত ঃ ৪৯৫০
আবূ সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত, রাসূলুলাহ্ ﷺ বলেন,
্রلَا يَكُونُ لِأَحَدٍ ثَلَاثُ بَنَاتٍ، أَوْ ثَلَاثُ أَخَوَاتٍ، أَوْ ابْنَتَانِ، أَوْ أُخْتَانِ، فَيَتَّقِي اللهَ فِيهِنَّ وَيُحْسِنُ إِلَيْهِنَّ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَগ্ধ
“কারও যদি তিনটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে অথবা দু’টি মেয়ে বা বোন থাকে আর সে তাদের ব্যাপারে আলাহকে ভয় করে এবং তাদের সঙ্গে সদাচরণ করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’ -বুখারী; আদাবুল মুফরাদ; মুসনাদে আহমদ; মিশকাত ঃ ৪৯৭৫
্রفَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِيগ্ধ
বুখারী
ইসলাম অনুমোদন করে না এমন কাজ থেকে বিরত রাখা ()
ছেলে-মেয়ে সমব্যবহারের অধিকার
রাসূলুল−াহ্ ﷺ এ ব্যাপারে বলেছেন,
্রاتَّقُوا اللهَ، وَاعْدِلُوا فِي أَوْلَادِكُمْগ্ধ (رَوَاهُ مُسلم)
“তোমরা আলাহ্ তা‘আলাকে ভয় কর এবং সন্তানদের ব্যাপারে ইনসাফ কায়েম কর।’’ -মুসলিম; মিশকাত ঃ ৩০১৯
হাদীসে বর্ণিত নিম্মোক্ত ঘটনা দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلًا كَانَ جَالِسًا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَ بُنَيٌّ لَهُ، " فَأَخَذَهُ فَقَبَّلَهُ وَأَجْلَسَهُ فِي حَجْرِهِ، ثُمَّ جَاءَتْ بُنَيَّةٌ لَهُ، فَأَخَذَهَا وَأَجْلَسَهَا إِلَى جَنْبِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَمَا عَدَلَتْ بَيْنَهُمَا " (البيهقي)
“আনাস ইবন মালেক বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুলাহ্ ﷺ-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। তার শিশু পুত্র তার নিকট এল। উক্ত সাহাবী তাকে চুম্বুন করলেন এবং কোলে বসালেন। একটু পরে তার কন্যা এলো। তাকে তিনি তার সামনে বসালেন। তখন রাসূলুলাহ্ ﷺ সাহাবীকে বলেলেন তোমার কি উচিত ছিল না দুজনের প্রতি সমআচরণ করা।’’ -বাইহাকী ঃ ৮৩২৭-
৩৫। বিবাহ দেয়া
৩১৩৮ -[১৩] (لم تتمّ دراسته)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمن وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَلْيُحْسِنِ اسْمَهُ وَأَدَبَهُ فَإِذَا بَلَغَ فَلْيُزَوِّجْهُ فَإِنْ بَلَغَ وَلَمْ يُزَوِّجْهُ فَأَصَابَ إِثْمًا فَإِنَّمَا إثمه على أَبِيهগ্ধ
৩৬। পাপকাজ, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অপসংস্কৃতি থেকে বিরত রাখা ()
তোমরা নজিদেরেকে এবং তোমাদরে পরবিারর্বগকে রক্ষা কর সইে আগুন থকে,ে যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। -সূরা তাহরীম (৬৬) : ৬
একনজরে সন্তানদের লালন-পালন করার পদ্ধতি
তাই নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের ব্যাপারে আমাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা অতীব প্রয়োজন।
১। প্রথমে বাচ্চাদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তথা তাওহীদ শিক্ষা দেওয়া।
২। সর্বদা সন্তানের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে আন্তরিক হওয়া।
৩। সন্তানদের জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে উদ্ধুদ্ধ করা এবং জাহান্নামের ব্যাপারে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে হবে।
৪। সর্বদা বাচ্চাদের এ শিক্ষা দিতে হবে যে, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার নিকট দো‘আ করতে হবে এবং একমাত্র তাঁরই নিকট সাহায্য চাইতে হবে।
সন্তানদের সালাত শিক্ষা দেওয়া
১। অল্প বয়সেই ছেলে মেয়েদেরকে সালাত শিক্ষা দেওয়া
২। সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দান করা।
৩। সন্তানদের জুমু‘আ ও মসজিদে গিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায় করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা।
হারাম কাজ থেকে নিবৃত্ত রাখা
১। সন্তানদের সর্বদা কুফুরী কালাম, গালি দেওয়া, অভিশাপ দেওয়া এবং আজে-বাজে কথা বলা থেকে উপযুক্ত উপদেশের মাধ্যমে নিবৃত্ত রাখতে হবে।
২। সন্তানদের সর্ব প্রকার জুয়া খেলা থেকে নিবৃত্ত রাখতে হবে।
৩। সন্তানদের আজেবাজে পত্রিকা পড়া থেকে নিবৃত্ত রাখতে হবে।
অশ্লীল ছবি, ডিটেকটিভ ও যৌন গল্প পড়া থেকে নিবৃত্ত রাখতে হবে এবং ঐ জাতীয় সিনেমা, টেলিভিশন, ভিডিও দেখা থেকেও নিষেধ করতে হবে।
৪। সন্তানকে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধ করতে হবে।
৫। সন্তানদের সর্বদা কথায় ও কাজে সত্যবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
৬। সন্তানদের কোনো হারাম মাল, যেমন- ঘুষ, সুদ, চুরি-ডাকাতি, ধোঁকার পয়সায় আহার করালে এবং লালন পালন করলে সেসব সন্তানরা অসুখী, অবাধ্য ও নানা ধরনের পাপে লিপ্ত হবে।
৭। সন্তানদের উপর ধ্বংসের বা গযবের দো‘আ করা উচিৎ নয়।
৮। আল্লাহর সাথে শির্ক করা থেকে সাবধান করতে হবে।
কাপড় দ্বারা শরীর আবৃত করা ও পর্দা করা
১। বাল্য অবস্থা থেকেই মেয়েদের শরীর আবৃত করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে, যাতে বড় হওয়ার সাথে সাথে সে এর ওপর আরো মজবুত হয়ে চলতে পারে
২। সন্তানদের এ উপদেশ দিতে হবে যে, পুরুষরা পুরুষদের পোষাক ও মহিলারা মহিলাদের পোষাক পরিধান করবে, যাতে তাদের প্রত্যেককে আলাদা করে পার্থক্য করা যায় এবং চেনা যায়।
চারিত্রিক গুণাবলী ও আদব কায়দা
১। বাচ্চাদের এমন অভ্যাসে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা কোনো কিছু গ্রহণ করার সময়, প্রদান করার সময়, পান করার সময়, লেখার সময় ও মেহমানদারী করার সময় ডান হাত ব্যবহার করে।
তাদেরকে এই শিক্ষাও দিতে হবে যে প্রতিটি কাজের পূর্বে যেন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে এবং শেষে যেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ।
২। তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকায় অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।
৩। তাদেরকে গোপনে উপদেশ দান করতে হবে। যদি কোনো ভুল ত্রুটি করেও থাকে, তথাপি প্রকাশ্যভাবে অপমান করা ঠিক হবে না।
৪। যখন আযান হয়, তখন তাদের নীরব থাকার, আযানের জবাব দিওয়ার এবং আযান শেষে দোয়া করার কথা বলা উচিৎ।
৫। যদি সম্ভব হয়, তবে প্রতিটি সন্তানকে আলাদা বিছানার ব্যবস্থা করতে হবে
৬। তাদের এমন অভ্যাস গড়তে হবে যাতে রাস্তা ঘাটে কোনো আবর্জনা না ফেলে।
৭। খারাপ বন্ধুদের সাথে উঠাবসার ব্যাপারে সর্বদা সাবধান করতে হবে।
৮। সন্তানদের বাড়িতে, রাস্তায় এবং শ্রেণিকক্ষে ‘আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ’ বলে সালাম দেওয়ার অভ্যাস করাতে হবে।
৯। প্রতিবেশীর সাথে সদ্ভাব রাখার ব্যাপারে উপদেশ দিতে হবে এবং তাদের কষ্ট দেওয়া থেকেও তাদেরকে বিরত রাখতে হবে।
১০। বাচ্চাদের এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা মেহমানদের সম্মান করে এবং উত্তমভাবে তাদের মেহমানদারী করে।
জিহাদ ও বীরত্ব
১। মাঝে মাঝে পরিবারের লোকেরা ও ছাত্ররা একত্রে কোনো বৈঠকে বসবে।
২। সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে বীর মনোভাবাপন্ন হিসেবে।
তারা সৎকাজের আদেশ ও অন্যায় কাজের নিষেধ করবে। আর আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাবে না।
৩। তাদের মধ্যে এমন চেতনা জাগ্রত করতে হবে, যাতে তারা অন্যায়কারী ও যালেমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে।
৪। তাদের উত্তম ইসলামি চরিত্র গঠন মূলক বই পুস্তক কিনে দিতে হবে।
উপসংহার
পিতা-মাতার কাছে সন্তান পৃথিবীর মধ্যে সর্বোত্তম সম্পদ। এ সম্পদ আলাহ্র পক্ষ হতে মহৎ আমানত। সন্তানের হক বা অধিকার আদায় করে আলাহ্র আমানত রক্ষা করা পিতা-মাতার উপর ফরয বা একান্ত কর্তব্য। সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ, জাতি ও ধর্মের কল্যাণে জন সম্পদ তৈরী করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে পার্থিব জগতে কল্যাণ ও পরকালীণ জীবনে মুক্তি অর্জন করার তাওফিক আলাহ্ আমাদের সকল পিতা-মাতাদেরকে দান করুন।’’ -আমিন!!
(১)


No comments:
Post a Comment