Sunday, September 13, 2020

ইবাদত বলতে কি বুঝায়? ইবাদাতের শ্রেণীবিভাগ

ইবাদত বলতে কি বুঝায়? ইবাদাতের শ্রেণীবিভাগ
ইবাদত বলতে কি বুঝায়? ইবাদাতের শ্রেণীবিভাগ
ইবাদত

‘ইবাদাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো:- চূড়ান্ত বিনয়, আনুগত্য ও বশ্যতা। শারী‘আতের পরিভাষায়:- প্রকাশ্য কিংবা গোপনীয় যতসব কথা ও কাজ আল্লাহ ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন, সে সবের একটি সামষ্টিক নাম হলো ‘ইবাদাত।

উদাহরণ ও ব্যাখ্যা 
তাই যতসব কথা-বার্তা ও কাজ-কর্মকে আল্লাহ পছন্দ করেন, যেমন:- সালাত (নামায) ক্বায়িম করা, সিয়াম (রোযা) পালন করা, ক্বোরবানী, নয্র-মানত প্রদান করা, সাদাক্বাহ, যাকাত প্রদান করা, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা (দু‘আ) করা, আল্লাহ্কে ডাকা, আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশা পোষণ করা, আল্লাহর উপর ভরসা করা, আল্লাহর তাছবীহ্ (মহিমা), তাহ্মীদ (প্রশংসা), তাকবীর (মহত্ব), তাহ্লীল (আল্লাহর একত্ব) বর্ণনা করা, ক্বোরআনে কারীম তিলাওয়াত করা, ক্বোরআন ও ছুন্নাহ্তে বর্ণিত ও নির্দেশিত দু‘আ ও যিকর-আযকার করা, রাছূলের (সাঃ) প্রতি সালাত ও ছালাম পাঠ করা ইত্যাদি, এ সব প্রতিটি কাজ হলো একেকটি ‘ইবাদাত। রাছূলের (সাঃ) অনুসৃত ও প্রদর্শিত পন্থানুযায়ী একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের উদ্দেশ্যে, তাঁরই (আল্লাহর) সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে, তাঁর (আল্লাহর) প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ ভয় ও সর্বোচ্চ ভালোবাসা নিয়ে, তাঁর প্রতি পূর্ণ বশ্যতা ও আনুগত্য প্রদর্শন পূর্বক তাঁর (আল্লাহর) মহত্বের সম্মুখে অবনত মস্তকে চূড়ান্ত বিনয়ের সাথে ছাওয়াবের (আল্লাহরনিকট উত্তম প্রতিদান লাভের) আগ্রহ ও সুদৃঢ় আশা নিয়ে উপরোক্ত যে কোন কর্ম সম্পাদন করাকে আল্লাহর‘ইবাদাত বলা হয়।

মানুষ এবং আল্লাহ তায়ালার মধ্যে মূল সংযোগকারী হল ইবাদাত। ইবাদাতকারী প্রত্যেক ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার প্রিয়। ইবাদাতহীন ব্যক্তি শয়তানের বন্ধু। ইবাদাতকারী আল্লাহ তায়ালার অনুগত। ইবাদাতহীন শয়তানের তাবেদার। ইবাদাতকারী আল্লাহর আহলের জন্য উপকারী। ইবাদতহীন আল্লাহর আহলের দুশমন। তবে ইবাদাতকারী হতে হবে কোরআন ও হাদিসের পাবন্দী। তিনি নিজের মর্জি মাফিক কোনো কাজ করবেন না। প্রত্যেকটি কাজ করার আগে চিন্তা করবেন, এই কাজে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর সন্তুুষ্টি আছে কি না? রাসূল (সা.) এই কাজ কতটুকু, কখন, কিভাবে করেছেন? তিনি জেনে নিবেন কোনো কাজের গুরুত্ব কতটুকু। পরিশুদ্ধ অল্প আমলই একজন ইবাদাতকারীর নাজাতের জন্য যথেষ্ট। বিশ্বনবী (সাঃ) বলেন, 
أَخْلِصْ دِينَكَ يَكْفِكَ الْعَمَلُ الْقَلِيلُ
‘তোমার ঈমানকে খাঁটি কর; অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।’ (মুসতাদরেকে হাকেম ঃ ৭৮৪৪)

রোগী যখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। ডাক্তার যেভাবে তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন, সে ঠিক সেভাবেই ঔষধ সেবন করে। পথ্য মেনে চলে। এর সামান্যও কম-বেশী করে না। তাছাড়া ভুল হলে আপনজনেরা তাকে জিজ্ঞাসা করে সুধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী ঔষধ সেবন না করলে তার রোগ ভালো হবেনা বলে তাকে বুঝানো হয়। ঘরের সকলে তার দিকে দৃষ্টি রাখে। কিন্তু আমার মাওলা আমাকে যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন, আমি কি তার নিয়ম মেনে চলি? তাঁর বিধান আমি কখনো ছেড়ে দেই, কখনো মানতে গিয়ে নিজের মর্জি মাফিক কমিয়ে দেই, কখনো অতিভক্তি দেখাতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করি। আল্লাহ তায়ালার কোনো নির্দেশ ছেড়ে দেওয়া যেমন অন্যায়, তেমনি নিজের মর্জি মাফিক কম করা বা বাড়াবাড়ি করাও অন্যায়।

একজন মানুষ দুনিয়াতে চলতে গেলে, অনেক কিছুরই প্রয়োজন হয়, তবে সব জিনিস বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়। কোনটি অপরিহার্য, কোনটি সাধারণভাবে প্রয়োজন, কোনটি আরাম আয়েস বা সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য। এই বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি একজন খেটে খাওয়া গরীব মানুষের জীবনের দিকে তাকালে। সে যখন বাজারে যায় তখন সে প্রথমে চাউল, আটা কিনে এতে আবার বাজারের সবচেয়ে দামীটা বেছে নেয় না। মোটামুটি তার সাধ্য অনুযায়ী তা বেছে নেয়। তারপর তরকারী, মাছ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করে। এখানে তার বিরুদ্ধে কেউ আপত্তি করে না। তার বদনাম করে না। তার খুঁত তালাশ করে না। কিন্তু আজকাল ইবাদাতের ক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ উল্টো কাজটাই করা হয়। আজকাল আমরা দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে তার শাখা প্রশাখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। একজন মানুষ নামাজ আদায় করে না, তাকে নিয়ে কোনো চিন্তা ফিকির নেই। বরং যে মসজিদে গেল তার খুঁত ধরায় লেগে যাই। তার ভুল সংশোধনের জন্য তার বন্ধু হতে পারি না। এর মূল কারণ আমরা ইবাদাতের শ্রেণী বিভাগ জানি না। এই কারণে কোনো ইবাদতের গুরুত্ব কতটুকু তা অনুধাবন করতে পারি না। গুরুত্ব অনুযায়ী ইবাদতের শ্রেণী বিন্যাসের ক্ষেত্রে এদেশের প্রথিতযশা আলেমে দ্বীন ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহঃ) রাহে বেলায়েতে খুব সুন্দরভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সকল ইবাদাতকে আট শ্রেণীতে ভাগ করেছেন :

১। ঈমান : 
ঈমান আরবি শব্দ। এর অর্থ বিশ্বাস। মৌখিক স্বীকৃতি, অন্তরের বিশ্বাস এবং তদনুযায়ী কাজের নামই হচ্ছে ঈমান। মনে প্রানে মহান আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি দেয়া। ইবাদতের মাধ্যমে একমাত্র তাঁর আনুগত্য করা এবং শির্ক ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্কে ছিন্ন করা।

ঈমান হল সকল বিষয়ের মূল। ঈমানবিহীন কোনো ইবাদত আমল গ্রহণযাগ্য নয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেন, 
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ্রوَالَّذِيْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِه لَا يَسْمَعُ بِيْ أَحَدٌ مِنْ هذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِيْ أُرْسِلْتُ بِه اِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِগ্ধ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! এ উম্মাতের যে কোন ব্যক্তিই হোক চাই সে ইয়াহুদী হোক বা খ্রীষ্টান, আমার রিসলাত ও নাবূওয়াত মেনে না নিবে ও আমার প্রেরিত শারী‘আতের উপর ঈমান না এনেই মৃত্যুবরণ করবে, সে নিশ্চয়ই জাহান্নামী। (মুসলিম ঃ ১৫৩; আহমাদ ঃ ৮৬০৯; মিশকাত ঃ ১০)

আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
قُلْ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
“(হে নবী!) আপনি বলে দিন, হে মানবমন্ডলী! আমি আকাশ-জমিনের রাজত্বের মালিক আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের সবার নিকট প্রেরিত রাসূল। (সূরা আরাফঃ ১৫৮)

ঈমানের ব্যাখ্যাঃ
সৃষ্টির সেরা মানবজাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথম শর্ত হল ঈমান গ্রহন করা। যে কেউ মুসলিম হতে হলে তাকে অবশ্যই ঈমান আনতে হবে, 

আর নতুন মুসলিম কে কলেমা শাহাদাতের মৌখিক স্বীকৃতি দিয়ে, ইসলামে প্রবেশ করতে হয়। ঈমান এনে ইসলামে প্রবেশ করা মাত্রই ইসলামের যাবতীয় হুকুম আহকাম পালন করা তার জন্য ফরজ হয়ে যায়। ঈমান এনে ইসলামে প্রবেশ করতে হয়, আর ইসলামের হুকুম তামিল করে ঈমানের পূর্ণতা প্রদান করতে হয়। 

ঈমানের উপর নির্ভর করেই সকল মানুষের কর্ম-কান্ড পরিচালত হচ্ছে । ঈমানের কারনেই  আদম সন্তানের কেই মুমিন, কেউ কাফির, কেই মুশরিক, ইহুদি আবার কেউ বা খৃষ্টান। বিশ্বাস যত দৃঢ় হবে আমল ও তত দৃঢ় হবে। এখানে দুটি বিষয়ের আলোকপাত করা হল। একটি হল বিশ্বাস অপরটি হল আমল। যতক্ষন বিশ্বাস স্থাপন হয়নি ততোক্ষন আমলও শুরু হয়নি। যেমন ধরুন কাউকে মোবাইলে কল করে বলা হল, আপনার অফিসে/কারখানায় আগুন লেগেছে। লোকটি যদি সংবাদটি বিশ্বাস করে তবে সে নিশ্চয়ই আগুন নিভাবার জন্য যা যা করা দরকার সবই করবে। আর যদি সংবাদটি বিশ্বাস না করে, তবে সে নিশ্চয়ই কোন কর্ম তৎপড়তা চালাবে না। কিন্তু সে যদি মোবাইলে কল না পেয়ে সরাসরি টিভিতে লাইভ দেখতে পায় যে, তার অফিসে/কারখানায় আগুন লেগেছে। তখন কিন্তু আর বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথা আসে না। কাজেই বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথা আসে অদৃশ্যের সংবাদের জন্য। কাজেই সচক্ষে প্রত্যক্ষ করার পর ঈমান আনার বা ন আনার প্রশ্ন আসে না। যা নিজ চোখে দেখলাম তাকে অস্বীকার কি আছে। দেখা বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপনের নাম ঈমান নয়। মুমিনকে তো এজন্য মুমিন বলা হয় যে, সে অদৃশ্যের বিষয় শুধু কুরআন হাদিসের সংবাদের ভিত্তিতে মেনে নিবে ও বিশ্বাস করবে। এই জন্যই  আল্লাহ্ তা’আলা কোরআনের সুরা বাকারার শুরুতে বলেন, 
ٱلَّذِينَ يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡغَيۡبِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقۡنَـٰهُمۡ يُنفِقُونَ (٣) وَٱلَّذِينَ يُؤۡمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبۡلِكَ وَبِٱلۡأَخِرَةِ هُمۡ يُوقِنُونَ (٤)
যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, নামায কায়েম করে এবং যে রিযিক আমি তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে খরচ করে। আর যে কিতাব তোমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন) এবং তোমার আগে যেসব কিতাব নাযিল করা হয়েছিল সে সবগুলোর ওপর ঈমান আনে আর আখেরাতের ওপর একীন রাখে। (সুরা বাকারা ঃ ৩-৫)।

তাহলে বুঝতে পারলাম অদৃশ্যের সংবাদের প্রতি বিশ্বাসই হল ঈমান। পৃথিবীতে চলমান ও দৃশ্যমান কোন কিছুর উপর বিশ্বাস ঈমান নয়। অতীতের যে ঘটনাবলী ঘটেছে (কুরআন হাদিসে উল্লেখিত) আর ভবিষ্যতে ঘটনাবলী পরকালে ঘটবে, সেই সব অদৃশ্যের সংবাদের প্রতি বিশ্বাসই হল ঈমান।

ঈমান আনার পরই কিন্তু ইসলামে প্রবেশ, যার অর্থ দাড়ায় ইসলাম ও ঈমানে পার্থক্য আছে। যদি ইসলাম ও ঈমানকে একই স্থানে একত্রে উল্লেখ করা হয়। তাহলে ইসলাম দ্বারা উদ্দেশ্য হবে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দ্বারা সম্পাদিত বাহ্যিক আমল। যেমন জিবরাঈল (আঃ) ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) উত্তরে বলেন,
يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم ্রالْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًاগ্ধ
সালাত, সাওম, হজ্জ্ব, জাকাত ইত্যাদি। (মুসলিম ঃ ১; মিশকাত ঃ ২)

অপর পক্ষে, তখন ঈমানের অর্থ হবে, অন্তর দ্বারা সম্পাদন যোগ্য ও বিশ্বাসগত আমল। আর এই বিশ্বাসগত আমল কি? সে বিষয়ে জিবরাঈল (আঃ) জিজ্ঞাসা করলে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) উত্তরে বলেন,
أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، قَالَ ্রالْإِيمَانِ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
আল্লাহ তা’আলা, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং বিশ্বাস স্থাপন করা তাকদীরের ভাল মন্দের প্রতি।’ (মুসলিম ঃ ১; মিশকাত ঃ ২) 

২। হালাল রিজিক : 
একজন মুমিন বান্দাহকে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে, ইবাদতের ক্ষেত্রে যেমন কিছু বিধি-বিধান এবং নিয়ম মেনে চলতে হয়, কিছু বিশ্বাস তাকে স্থাপন করতে হয়, কিছু ইবাদত তাকে করে যেতে হয়, ঠিক এমনিভাবে তার জীবন চলার যত উপকরণ সেগুলোর ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বিধি-বিধানের মধ্যে তাকে চলতে হয়। এর ভেতরে তার খাবার-দাবার, তার থাকা, পোশাক-পরিচ্ছদ এ জাতীয় যা কিছু আছে, যাকে এককথায় আমরা রিজিক বলি- সবই অন্তর্ভুক্ত। রিজিক শব্দটা অনেক ব্যাপক। অনেকে রিজিক বলতে শুধু খাবার বোঝে। রিজিক শুধু খাবার না। এই যা কিছু বললাম, সব কিছু এর ভেতরে আছে। যত রকমের ব্যবহার, যত রকমের উপভোগ, জীবন চলার জন্য মানুষের যা কিছু প্রয়োজন সবই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। এ জন্য রিজিকের সাথে হালাল এবং হারামের কথা বলা হয়।

ঈমানের পর সর্বপ্রথম দায়িত্ব হালাল জীবিকা অর্জন করা। অবৈধ উপার্জন দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারীর কোনো ইবাদত আল্লাহ তায়ালার নিকট কবুল হবে না। হাদীস শরীফে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ}[المؤمنون: ৫১]
আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, হে লোক সকল আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন। আল্লাহ তায়ালা রাসূলগণকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, মুমিনগণকেও একই নির্দেশ দিয়েছেন। অতপর তিনি বলেন, হে রাসূলগণ তোমরা পবিত্র বস্তু সমূহ থেকে আহার গ্রহণ কর এবং সৎ কাজ কর। তোমরা যা কর অবশ্যই আমি সে ব্যাপারে অবগত। (মুসলিম ঃ ১০১৫; মিশকাত ঃ ২৭৬০)

লক্ষ্যণীয় যে, রাসূলদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন ‘পূতপবিত্র খান’ এবং এটা আগে বলেছেন। পরে বলেছেন, ‘নেক আমল করুন।’

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, ‘আমরা উপার্জিত অর্থ ভোগ করার পর অতিরিক্ত অর্থ জমা করি ও বিলাসবহুল কাজে ব্যবহার করি, অথচ আমার ঘরের পাশের লোক অভুক্ত। আর বছর পূর্ণ হওয়ার আগে জাকাত না দেওয়ার জন্য জমানো টাকা ও স্বর্ণালংকারগুলো আমার স্ত্রীর সঙ্গে মালিকানা বদল করে নিই। সেদিন এলাকার ছেলেরা মিলে চাঁদা তুলে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চায়। তাদের আমি সাহায্য করিনি। কিন্তু যখন এলাকার অন্য কিছু ছেলে মিলাদের আয়োজন করল, তখন সওয়াব ও বিরিয়ানির আশায় চাঁদা দিলাম।’ অর্থাৎ উপার্জিত অর্থ সৎপন্থায় উপার্জন করার পরও সুষম বণ্টনের অভাবে হালাল হলো না। পবিত্র কোরআন এ সম্পর্কে ঘোষণা দিচ্ছে, 
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴿الذاريات: ١٩﴾
সেইসব মুসল্লি যারা তাদের মালের মধ্যে (অন্যের) অধিকার অনুভব করে’।

কোরআনের আলোকে বিবেক এখনো মুসল্লি হতে পারেনি, কারণ সে তার সম্পদে অন্যের হকে বিশ্বাসী নয়। আর রাসুল (সাঃ)-এর হাদিস অনুসারে 
্রلَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالَّذِي يَشْبَعُ وَجَارُهُ جَائِع إِلَى جنبهগ্ধ
‘যে তার প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে আহার করে, সে রাসুল (সা.)-এর উম্মত নয়।’ (বাইহাকী; মিশকাত ঃ ৪৯৯১) 

হালাল উপার্জনের আরেকটি অর্থই হলো সুষ্ঠুভাবে বণ্টন। হালাল উপার্জন ছাড়া কখনো সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই তো সুরা বাকারায় আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, 
وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ ﴿البقرة: ٢١٩﴾
‘তারা আপনার কাছে জিজ্ঞেস করবে, আমরা আল্লাহর রাস্তায় কি পরিমাণ ব্যয় করব, আপনি বলে দিন যা উদ্বৃত্ত’ (অর্থাৎ নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে।) [সূরা বাকারাঃ  ২১৯)

আর আল্লাহর রাস্তা তো ওটিই, যেখানে মানবতার কল্যাণ সাধিত হয়, যেখানে এতিম, মিসকিন, গরিব ও দুঃখীদের তাদের হক দেওয়া হয়। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ কোরআনে সুরা মাউন নাজিল করেছেন, যেখানে আল্লাহ এতিম, মিসকিন ও গরিবের হক আদায় করতে ব্যর্থ মুসল্লিকে ওয়াইল নামের দোজখে নিক্ষেপ করার কথা বলছেন।
فَذَلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ (২) وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ
তাছাড়া কিয়ামতের দিন একজন বান্দাকে যে পাঁচটি প্রশ্ন করা হবে সেখানেও বলা হয়েছে,
وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَا أَنْفَقَهُ
‘তার সম্পদ সম্পর্কে কোথা থেকে সে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে।’ (তিরমিযী ঃ ২৪১৭; মিশকাত ঃ ৫১৯৭)

হালাল খাবার মানুষের শরীর ও মন সুস্থ রাখে। হালাল খেলে শরীরে অসুখ-বিসুখ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। হালাল খাদ্য খেলে অন্তরে প্রশান্তি আসে। ইবাদত করার জন্য মনের মধ্যে প্রফুল্লতা আসে। হালাল বস্তু খেয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে, আল্লাহ খুশি হয়ে রিজিক বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন 
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ ﴿البقرة: ١٧٢﴾
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিযিক দিয়েছি তা থেকে আহার গ্রহণ কর এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর। (সূরা বাকারা ঃ ১৭২)
ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟ "
অতঃপর রাসুল (সা.) এমন এক ব্যক্তির উল্লেখ করেন, যে ব্যক্তি সফরের কারণে এলোমেলো কেশে আলুথালু বেশে আকাশ পানে দুই হাত তুলে ইয়া রব ইয়া রব বলে আকুতি জানায়। অথচ তার খাদ্য হারাম, পোষাক হারাম, উপার্জন হারাম। এমতাবস্থায় তার ফরিয়াদ কি করে কবুল হতে পারে। (মুসলিম ঃ ১০১৫; মিশকাত ঃ ২৭৬০)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ حَاجًّا بِنَفَقَةٍ طَيِّبَةٍ، وَوَضَعَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ، فَنَادَى: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، نَادَاهُ مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، زَادُكَ حَلَالٌ، وَرَاحِلَتُكَ حَلَالٌ، وَحَجُّكُ مَبْرُورٌ غَيْرُ مَأْزُورٍ، وَإِذَا خَرَجَ بِالنَّفَقَةِ الْخَبِيثَةِ، فَوَضَعَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ، فَنَادَى: لَبَّيْكَ، نَادَاهُ مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ: لَا لَبَّيْكَ وَلَا سَعْدَيْكَ، زَادُكَ حَرَامٌ وَنَفَقَتُكَ حَرَامٌ، وَحَجُّكَ غَيْرُ مَبْرُورٍগ্ধ 
‘কোন হাজী সাহেব যখন হজ্জ করার উদ্দেশ্যে পবিত্র পাথেয় নিয়ে ঘর থেকে বের হয় এবং সওয়ারীর পাদানীতে পা রেখে “লাব্বাইক আল¬াহুম্মা লাব্বাইক” বলে, তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী (ফিরিশতা) ঘোষণা করেন: তোমার এই উপস্থিতি মুবারক হোক! তোমার পাথেয় হালাল, তোমার বাহনও হালাল, তোমার হজ্জ হবে পূণ্যময়, যাতে পাপের সংমিশ্রণ নেই। আর সে যখন অপবিত্র পাথেয় নিয়ে ঘর থেকে বের হয় এবং সওয়ারীর পাদানীতে পা রেখে “লাব্বাইক” বলে, তখন আকাশ থেকে এক ঘোষণাকারী তাকে ডাক দিয়ে বলে: তোমার এই উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। তোমার পাথেয় হারাম, তোমার খরচাদিও হারাম, তোমার হজ্জ হচ্ছে পাপ মিশ্রিত, পূণ্যময় হজ্জ নয়। (মু’জামুল আওসাত ঃ ৫২২৮)

আমরা খাবার খাওয়ার সময় হালাল খোঁজ করি- শূকর না গরু, তা যাচাই করি। শূকর হলে খাই না, গরু হলে, মুরগি হলে খাই। কিন্তু এ গরু আর মুরগি কিভাবে অর্জিত হয়েছে- বৈধ পন্থায় না অবৈধ পন্থায়, ওই পর্যন্ত আমরা হালাল-হারাম খোঁজ করতে যাই না। হালাল-হারামের শেষ স্তরটা দেখি। মুরগি কিনতে পারছি, এটা ঠিক আছে। মুরগিটা জবাই ঠিকমতো হয়েছে কি না, এটাও কেউ কেউ খোঁজ করি, কিন্তু মুরগি যে পয়সা দিয়ে কিনল সে পয়সাটা হালাল, না হারাম ওটা আমরা দেখি না। বস্তুত হালাল এবং হারাম একেবারে উৎস থেকে শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে চলে।

আমাদের দেশে একটি কথা প্রচলন আছে যে, ভোগ বাড়ছে! এর দ্বারা মনে হয় যেন ভোগ বাড়লেই উন্নতি হয়ে যায়। যেন মানুষ দুনিয়াতে শুধু ভোগের জন্য এসেছে। খাও দাও আর বংশ বিস্তার কর। আসলে কী তাই؟ একাজ তো পশুর/ জন্তু-জানোয়ারের কাজ। ভোগ বাড়লে মানুষের উন্নতি হয়ে যায় কিভাবে? হয়তো ভোগ বাড়ছে বলে বোঝাতে চাচ্ছেন যে, মানুষ বেশি কামাচ্ছে, আয় বেশি হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভোগটা বৈধ হচ্ছে কি না? খুব বেশি যারা ভোগ করছেন, তারা ক’জন শুদ্ধভাবে কামাই করে ভোগ করতে পারছেন? ক’জন অবৈধভাবে কামাই করে ভোগ করছেন? এ বিষয়গুলো ফরক করার দরকার আছে। একজন মুসলিমের জন্য, একজন মুমিনের জন্য, একজন মানুষের জন্য এ জিনিসগুলো প্রার্থক্য করার দরকার আছে।

ইসলামে কামাই করে খেতে মানুষকে বারবার উৎসাহিত করা হয়েছে। 
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْكَسْبِ أَطْيَبُ؟ قَالَ: ্রعَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ গ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ
সাহাবায়ে কেরামের জিজ্ঞাসায় এসেছে, কোন খাবারটা ভালো, কোন কামাইটা ভালো। রাসূলে কারিম (সাঃ) বলেছেন, ‘নিজের উপার্জিত আয় ‘আতয়াব’, মানে অতি উত্তম, বেশি ভালো। (মিশকাত ঃ ২৭৮৩) 

অর্থাৎ ইসলাম মানুষকে অলস বসে থাকার, অন্যের ধন-সম্পদে নজর দেয়ার, বেকার-ভাতা গ্রহণ অথবা ভিক্ষাবৃতি করার জন্য বসে থাকার এবং দান-সদকা নির্ভর থাকার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেনি। এর বিপরীতটার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। মানুষ কামাই করবে, খরচ করবে। এটার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। শুধু উদ্বুদ্ধই করেনি, বাস্তবে তা দেখিয়ে দিয়েছে।

হালাল বস্তু উপার্জন করা বা খোঁজ করা মুসলমানদের জন্য একান্ত অপরিহার্য। ইহা একটি সর্বোত্তম ইবাদত। খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে ইবাদত কবুল হওয়ার বিষয়ে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যেমনটি নামাজ আদায়ের পূর্বে জায়গা, শরীর ও গায়ের পোশাক-পরিচ্ছেদ পাক-পবিত্র করে নিতে হয়। তা না হলে নামাজ সহিহ-শুদ্ধ হয় না। ঠিক একইভাবে হালাল খাদ্য গ্রহণ না করলে ইবাদত কবুল হয় না।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রطَلَبُ كَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِগ্ধ . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شعب الْإِيمَان
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘অন্যান্য ফরজের মতো হালাল রুজি তালাশ করাও একটি ফরজ।’ (সুনানে কুবরা লিল-বাইহাকী ঃ ১১৬৯৫; বাইহাকী ৮৩৬৭; মিশকাত ঃ ২৭৮১)
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আরো
্রطَلَبُ الْحَلَالِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍগ্ধ 
হালাল রুযী উপার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ওয়াজিব। (মু’জামুল আওসাত ঃ ৮৬১০)

অর্থাৎ এর উপর নির্ভর করে অন্যান্য ইবাদত কবুল হওয়া না হওয়া। হাদীস শরীফে এসেছে,
قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রيَا سَعْدُ أَطِبْ مَطْعَمَكَ تَكُنْ مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ 
একদিন সায়াদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল আমার জন্য দোয়া করুন যেন আমি আল্লাহর নিকট যে দোয়া করি এই দোয়া যেন আল্লাহ কবুল করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তখন বলেন তুমি হালাল খাদ্য খাও তাতে তোমার সকল দোয়া কবুল হবে।’ (মু’জামুল আওসাত ঃ ৬৪৯৫) 
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রلَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نبَتَ منَ السُّحْتِ وكلُّ لحمٍ نبَتَ منَ السُّحْتِ كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالدَّارِمِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘যে গোশত হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত দেহের জন্যে জাহান্নামের আগুনই উত্তম।” (মিশকাত ঃ ২৭৭২)
“مَنْ أَكَلَ لُقْمَةً مِنْ حَرَامٍ لَمْ يُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيلَةً، وَلَمْ يُسْتَجَبْ لَهُ دَعْوَةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا، وَكُلُّ لَحْمٍ يُنْبِتُهُ الْحَرَامُ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ، وَإِنَّ اللُّقْمَةَ الْوَاحِدَةَ مِنَ الْحَرَامِ لَتُنْبِتُ اللَّحْمَ“. (مسند الديلمي، ৫৯১/৩)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: ্রيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، لاَ يُبَالِي المَرْءُ مَا أَخَذَ مِنْهُ، أَمِنَ الحَلاَلِ أَمْ مِنَ الحَرَامِগ্ধ
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘মানবজাতির কাছে এমন এক জামানা আসবে, যখন মানুষ রুজি-রোজগারের ব্যাপারে হালাল-হারামের কোনো বিচার বিবেচনা করবে না।’ বোখারি ঃ ২০৫৯; মিশকাত ঃ ২৭৬১)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ্রلَا  يَكْسِبُ عَبْدٌ مَالَ حَرَامٍ فَيَتَصَدَّقُ مِنْهُ فَيُقْبَلُ مِنْهُ وَلَا يُنْفِقُ مِنْهُ فَيُبَارَكُ لَهُ فِيْهِ وَلَا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلَّا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ. إِنَّ اللَّهَ لَا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّئِ وَلَكِنْ يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ إِنَّ الْخَبِيثَ لَا يَمْحُو الْخَبِيثَগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ 
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘হারাম পথে উপার্জন করে বান্দা যদি তা দান করে তবে আল্লাহ সে দান কবুল করেন না। প্রয়োজন পূরণের জন্যে সে সম্পদ ব্যয় করলে তাতেও কোনো বরকত হয় না। সে ব্যক্তি যদি সেই সম্পদ রেখে মারা যায়, তাহলে তা তার জাহান্নামে যাবার পাথেয় হবে। আল্লাহ অন্যায় দিয়ে অন্যায়কে মিটান না। বরং তিনি নেক কাজ দিয়ে অন্যায়কে মিটিয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই মন্দ দিয়ে মন্দকে দূর করা যায় না।’ (আহমদ ঃ ৩৬৭২; বাইহাকী ঃ ৫১৩৬; মিশকাত ঃ ২৭৭১)


রাসূল (সা.) অন্যত্র বলেন 

জীবিকা উপার্জন হালাল পন্থায় হচ্ছে না হারাম পন্থায় হচ্ছে তার প্রতি যার সতর্ক দৃষ্টি নাই। আল্লাহ তায়ালা তাকে কোন পথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন তার দিকেও ভ্রুক্ষেপ করবেন না। 

ইমাম গাজ্জালী (রাহ.) কিমিয়ায়ে সায়াদাত কিতাবে উল্লেখ করেন, ইবাদতের ১০টি অংশ রয়েছে এর মধ্যে ৯টি অংশই হালাল রিযিক তালাশ করা। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে ব্যক্তি হারাম থেকে বেঁচে থাকে আল্লাহ তার হিসাব নিতে লজ্জাবোধ করেন।

এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীসের বর্ণনা,
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ لأَبِي بَكْرٍ غُلاَمٌ يُخْرِجُ لَهُ الْخَرَاجَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأْكُلُ مِنْ خَرَاجِهِ، فَجَاءَ يَوْمًا بِشَىْءٍ فَأَكَلَ مِنْهُ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ الْغُلاَمُ تَدْرِي مَا هَذَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَمَا هُوَ قَالَ كُنْتُ تَكَهَّنْتُ لإِنْسَانٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَمَا أُحْسِنُ الْكِهَانَةَ، إِلاَّ أَنِّي خَدَعْتُهُ، فَلَقِيَنِي فَأَعْطَانِي بِذَلِكَ، فَهَذَا الَّذِي أَكَلْتَ مِنْهُ‏.‏ فَأَدْخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ فَقَاءَ كُلَّ شَىْءٍ فِي بَطْنِهِ‏.
আয়েশা  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর -এর একজন ক্রীতদাস ছিল। সে প্রত্যহ তার উপর নির্ধারিত কর আদায় করত। আর আাবূ বকর  আর দেওয়া কর থেকে আহার করতেন। একদিন সে কিছু খাবার জিনিস এনে দিল। তা থেকে তিন আহার করলেন। তারপর গোলাম বলল, আপনি জানেন কি উহা কিভাবে উপার্জন করা হয়েছে যা আপনি খেয়েছেন? তিনি বললেন, বলত ইহা কি? গোলাম উত্তারে বলল, আমি জাহিলী যুগে এক ব্যক্তির ভবিষ্যৎ গণনা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ভবিষ্যৎ গণনা করা আমার উত্তমরূপে জানা ছিল না। তথাপি প্রতারণামূলকভাবে ইহা করেছিলাম। (কিন্তু ভাগ্যচক্রে আমার গণনা সঠিক হল।) আমার সাথে তার সাক্ষাৎ হলে গণনার বিনিময়ে এ দ্রব্যাদি সে আমাকে হাদীয়া দিল যা থেকে আপনি আহার করলেন। আবূ বকর  ইহা শুনামাত্র মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে দিলেন এবং পাকস্থলীর মধ্যে যা কিছু ছিল সবই বের করে দিলেন। (বুখারীঃ আ.প্র. ৩৫৫৬; ই.ফা. ৩৫৬১)

৩। বান্দার হক সম্পর্কিত হারাম : 
কর্মের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ফরজ কর্ম। ফরজ দুই প্রকার 
(ক) করণীয় ফরজ 
() বর্জনীয় ফরজ বা হারাম। 
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হারাম হল অন্যের হক বা অন্যের ক্ষতি সম্পর্কিত হারাম। ভাল কাজ ও তাওবা দ্বারা গুনাহ মাফ হয়ে যায় কিন্তু মানুষের হক্ব মাফ হয় না। মানুষের হক নষ্ট করে থাকলে কেবল যার হক নষ্ট করা হয়েছে তার কাছ থেকে মাফ নিলেই আল্লাহ তায়ালা মাফ করবেন। অন্যের সম্পদ দখল করা, আত্মসাৎ করা, প্রতারণা করা, কাউকে ধোকা দেওয়া, অন্যের সম্মান নষ্ট করা, গীবত বা অপবাদ দেওয়া, পিতা-মাতার অধিকার হরন ইত্যাদি। রাসুল (সা.) বলেন, 
্রبِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ، كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ، دَمُهُ، وَمَالُهُ، وَعِرْضُهُগ্ধ
একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে তার মুসলিম ভাইকে হেয় মনে করে। এক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম।’ (মুসলিম ঃ ৩২; মিশকাত ঃ ৪৯৫৯)


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلِمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ مِنْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلِمَتِهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِগ্ধ (رَوَاهُ البُخَارِيّ)
“রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তির উপর তার অপর ভাইয়ের যদি কোন দাবি থাকে, তা যদি তার মান-ইজ্জতের উপর অথবা অন্য কিছুর উপর জুলুম সম্পর্কিত হয়, তবে সে যেন আজই দীনার, দিরহামের মালিক (কপর্দকহীন-নিঃস্ব) হওয়ার পূর্বেই তার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করে নেয়। অন্যথায় কিয়ামতের দিন তার জুলুমের সমপরিমাণ নেকী তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়া হবে। যদি তার কোন নেকী না থাকে, তবে তার প্রতিপক্ষের গুনাহ থেকে জুলুমের সমপরিমাণ গুনাহ তার হিসেবের অন্তর্ভূক্ত করে দেয়া হবে।’’ -বুখারী; মিশকাত ঃ ৫১২৬

আর যদি তিনি মারা গিয়ে থাকেন তাহলে তার জন্য আল­াহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে। রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ من كَفَّارَةِ الْغِيبَةِ أَنْ تَسْتَغْفِرَ لِمَنِ اغْتَبْتَهُ، تَقُولُ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَلَهُ " رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِيগ্ধ الدَّعَوَاتِ الْكَبِير ,مشكوة : ৪৮৭৭)
‘‘গীবতের কাফ্ফারা হল, তুমি যার গীবত করেছ তার জন্য এভাবে আল­াহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে: হে আল­াহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও এবং তাকেও মাফ করে দাও।’’ -বায়হাকী; মিশকাত ঃ ৪৮৭৭

৪। আল্লাহ তায়ালার অন্যান্য আদেশ নিষেধ বিষয়ক হারাম : 
আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরীক করা। শিরক সকল ভালো কাজকে নষ্ট করে দেয়। শিরককারীকে আল্লাহ তায়ালা মাফ করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 
وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আর তোমার কাছে এবং তোমার পূর্বে যারা ছিল তাদের কাছে এই প্রত্যাদেশ এসেছে যে, যদি তুমি শরীক কর তাহলে অবশ্যই তোমার আমল বরবাদ হয়ে যাবে এবং নিশ্চয়ই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা জুমার ঃ ৬৫)

আল্লাহ তায়ালা আরোও বলেন, 
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, এছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সাথে শরীক করে, সে চরমভাবে গোমরাহীতে পতিত হল। (সূরা নিসা ঃ ১১৬)

এছাড়াও রয়েছে, মদ খাওয়া, সুদ খাওয়া, যিনা করা, ইত্যাদি

৫। সকল ফরজ ইবাদাত :
আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর আরো যে কাজগুলো ফরজ করেছেন যেমন নামাজ, রোজা, হজ্জ. যাকাত ইত্যাদি করা। কিন্তু আফসোস দেখা যায় একজন মানুষ নামাজে যতো পাবন্দি, হারাম থেকে বাঁচার জন্য তার কোনো পেরেশানী দেখা যায় না। নামাজ আদায় করছে, রোজা রাখছে, হজ্জ করছে আবার অন্যের হক নষ্ট করছে, হারাম উপার্জন করছে।

৬। মাকরূহে তাহরীমি ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ : 
ফরজ কাজগুলো করার পর আমাদের উচিত মাকরূহে তাহরীমি বর্জন করা ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ সম্পর্কিত কাজগুলো করা।

সুন্নতে মুয়াক্কাদাহঃ
যে কাজ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অথবা তাঁর সাহাবাগণ সবসময়ে করেছেন, বিনা ওযরে (কারণে) কোন সময় ছাড়েন নাই তাকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলে। যেমনঃ আযান, ইকামত, খাতনা, নিকাহ(বিবাহ) ইত্যাদি।  সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ না করলে গোনাহ হয়।

মাকরূহের সংজ্ঞা ও হুকুমঃ
মাকরূহ শব্দের অর্থ অপছন্দনীয়। যে সকল কাজ শরী'আতে অপছন্দনীয় বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে সেগুলোকে মাকরূহ বলে।
মাকরূহের প্রকারভেদঃ
মাকরূহ দু'প্রকারঃ  মাকরূহে তাহরীমী ও  মাকরূহ তানযীহী।
মাকরূহে তাহরীমীঃ- ইহা ওয়াজিবের বিপরীত। মাকরূহ তাহরীমী অস্বীকার করলে কাফির হবে না; তবে ফাসিক হবে। কোন ব্যক্তি যদি বিনা ওযরে মাকরূহ তাহরীমী কাজ করে তাহলে সে ফাসিক বলে গণ্য হবে এবং আখিরাতেও আযাবের উপযুক্ত হবে।

মাকরূহ তানযীহীঃ- ইহা হচ্ছে ঐ সকল কাজ যা না করলে সওয়াব আছে কিন্তু করলে গোনাহ নেই। ফিকাহর কিতাবে যদি শুধুমাত্র মাকরূহ শব্দ থাকে, তাহলে তাঁর অর্থ হচ্ছে মাকরূহ তাহরীমী। মাকরূহ তানযীহী হলে সেখানে উল্লেখ থাকে।

৭। সৃষ্টির কল্যাণ : 
নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নফল ইবাদতের চেয়ে সৃষ্টির কল্যাণ করা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রাণীর উপকার করা, বিপদে সাহায্য করা, কারো সাহায্য করার উদ্দেশ্যে সামান্য পথচলা, অন্যের উপকার করতে না পারলেও তার ক্ষতি করা থেকে নিজেকে হিফাজত করা। রাসুল (সা.) বলেন, 
্রالْخَلْقُ عِيَالُ اللَّهِ فَأَحَبُّ الْخَلْقِ إِلَى اللَّهِ مَنْ أَحْسَنَ إِلَى عِيَالِهِগ্ধ
সব সৃষ্টিই আল্লাহর পরিবার। তাদের মধ্যে সেই বেশী প্রিয় যে তাঁর পরিবারের জন্য বেশী উপকারী।’ (আহমদ; মিশকাত ঃ ৪৯৯৮)

৮। অন্যান্য সুন্নত ও নফল : 
ব্যক্তিগত সুন্নাত নফল কর্ম। যে কাজগুলো রাসূল (সাঃ) করেছেন, করতে উৎসাহ দিয়েছেন কিন্তু না করলে কোনো আপত্তি করেননি সেই কাজগুলো এই পর্যায়ের। যে কাজগুলো রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) সর্বদা করেছেন বা বেশীরভাগ সময় করেছেন কিন্তু না করলে আপত্তি করেননি আবার যে কাজ মাঝে মাঝে করেছেন কিন্তু কেউ না করলে আপত্তি করেননি তার চেয়ে পূর্বের কাজটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ। 

বাস্তবাতাঃ
আজকের দিনে মুসলিমগণ এই অষ্টম প্রকার নিয়ে বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাদ দিয়ে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই অষ্টম প্রকার নিয়ে দলাদলি, হাঙ্গামা, ভেদাভেদ সৃষ্টি করছি। এই অষ্টম প্রকার হয়ে গেছে তাকওয়া আর বুজুর্গীর মানদন্ড। নফল ইবাদাত ফরজের ঘাটতি পূরণ করে কিন্তু নফল ফরজের সমকক্ষ হতে পারে না। মুসলিম বিশ্বে ফরজ নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই, আদায়গত পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন মতামত আছে। এই শাখা প্রশাখাগুলোই যেন দ্বীনের মূল বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। আমরাও যার যার অবস্থান থেকে এই আগুনে ঘি ঢালছি।

যবনিকাঃ
আসুন সবাই ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে আল্লাহর দ্বীনকে আকড়ে ধরি। অন্যের ভুলগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী বন্ধু হিসেবে সংশোধন করার চেষ্টা করি। সত্যিকার অর্থেই নিজেকে আল্লাহ তায়ালার ইবাদাতকারী বান্দা হিসেবে গঠন করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন!

No comments:

Post a Comment