Monday, November 30, 2020

ইসলামের আলোকে বিয়ে/বিবাহ


ভুমিকা

ভিন্ন পরিবেশে লালিত-পালিত একজন নারী ও একজন পুরুষ ইসলাম প্রদত্ত বিশেষ কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয় তাকে বলে বিবাহ বন্ধন। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তারা পরস্পরের সাথে পরস্পর স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে সম্পৃক্ত হয়। এই প্রক্রিয়াটা আল্লাহর একটি অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ-{سورة الروم-২১}

   আর তাঁর নিদর্শনাবলীর একটি হল, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া বানিয়ে দিয়েছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও করুণার সঞ্চার করে দিয়েছেন। (সুরা রুম, আয়াত-২১)

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاء-{النساء-}

    হে মানব সকল! তোমরা তোমাদের সেই প্রভূকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র আত্মা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া পয়দা করেছেন। অতঃপর উভয়ের সমন্বয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন অসংখ্য নারী ও পরুষ। (সুরা নিছা, আয়াত-১)

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاء بَشَراً فَجَعَلَهُ نَسَباً وَصِهْراً وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيراً-{سورة الفرقان-৫৪}

তিনিই আল্লাহ যিনি পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের মধ্যে বংশীয় ও বৈবাহিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে দিয়েছেন। (সুরা ফুরকান, আয়াত-৫৪)          

 

বিবাহ করা নবীগণের (আ:) সুন্নত

বিবাহ সকল নবীর সুন্নত। হযরত আদম (আঃ) থেকে নিয়ে যতো নবী-রাসূল এসেছেন সবাই বিবাহ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন,

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً ﴿الرعد: ٣٨﴾

আপনার পূর্বে আমি তো অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম। (সূরা ১৩ রাদ ৩৮ আয়াতাংশ) আর নবী ও রাসূলগণ যা করেন তা মানুষের জন্যে সর্বোত্তম অনুসরণীয় কাজ।

রাসূল (সা:) বলেছেন:

أَرْبَعٌ مِنْ سُنَنِ الْمُرْسَلِينَ الْحَيَاءُ وَالتَّعَطُّرُ وَالسِّوَاكُ وَالنِّكَاحُ‏-(ترمذى-১১০১ طبراني في "الكبير" (৪৮০৫) ، والبيهقي في "شعب الإيمان" (৭৭১৯)

   চারটি জিনিস হল নবীদের সুন্নত; লজ্জাশীলতা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মেসওয়াক করা এবং বিবাহ করা। (তিরমিযি, হা: নং-১১০১)

রাসূল (সা:)  আরো বলেন,

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي، فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي، وَتَزَوَّجُوا، فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَمَ، وَمَنْ كَانَ ذَا طَوْلٍ فَلْيَنْكِحْ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَعَلَيْهِ بِالصِّيَامِ، فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ

বিবাহ করা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত মুতাবিক কাজ করলো না সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিবাহ কর, কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করবো। (হাসান, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৮৪৬)

 

বিয়ে কত টা গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি সবার জন্য তা হাদিস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়। আল্লাহ এর ইবাদত বেশি বেশি করতে বিয়ে না করতে চাওয়াকেও আল্লাহ এর রাসূল স্পষ্ট ভাবে নিষেধ করেছেন। সেখানে পার্থিব কোন অনিচ্ছার কারনে বিয়ে না করার কোন মানেই নেই। এ সম্পর্কে হাদিসে আছে- সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন,

عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: رَدَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ التَّبَتُّلَ وَلَوْ أَذِنَ لَهُ لاَخْتَصَيْنَا.

উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ)-এর বিয়ে না করার (চিরকুমারের) প্রস্তাবকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলে আমরাও নিজেদেরকে চিরবন্ধা করে নিতাম। (সহী,তিরমিজি, হাদিস নং ১০৮৩)

 

অপর এক হাদিসে এসেছে,

أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: جَاءَ ثَلاَثَةُ رَهْطٍ إِلَى بُيُوتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَسْأَلُونَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا أُخْبِرُوا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوهَا، فَقَالُوا: وَأَيْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ، قَالَ أَحَدُهُمْ: أَمَّا أَنَا فَإِنِّي أُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا، وَقَالَ آخَرُ: أَنَا أَصُومُ الدَّهْرَ وَلاَ أُفْطِرُ، وَقَالَ آخَرُ: أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلاَ أَتَزَوَّجُ أَبَدًا، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِمْ، فَقَالَ: ্রأَنْتُمُ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا، أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهُ، لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُ، وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي

আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, তিন জন সাহাবির একটি দল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর স্ত্রীদের বাড়িতে আসল। যখন তাঁদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হলো, তখন তারা ইবাদাতের পরিমাণ কম মনে করল এবং বলল, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে আমাদের তুলনা হতে পারে না। কারণ, তাঁর আগের ও পরের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। এমন সময় তাদের মধ্য হতে একজন বলল, আমি সারা জীবন রাতভর সলাত আদায় করতে থাকব। অপর একজন বলল, আমি সবসময় সওম পালন করব এবং কক্ষনো বাদ দিব না। অপরজন বলল, আমি নারী সংসর্গ ত্যাগ করব, কখনও বিয়ে করব না। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট এলেন এবং বললেন- তোমরা কি ঐ সব লোক যারা এমন এমন কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহ্কে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি অনুগত; অথচ আমি সওম পালন করি, আবার তা থেকে বিরতও থাকি। সলাত আদায় করি এবং নিদ্রা যাই ও মেয়েদেরকে বিয়েও করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০৬৩)

 

এসব হাদীস দ্বারা বুঝা যায় রাসূলের সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নিলে সে রাসূলের উম্মত ই না আল্লাহর রাসূল এরুপ হুশিয়ারি করেছেন। আর গুনাহ এ লিপ্ত হওয়ার আশংকা থাকলে বিয়ে শুধু সুন্নত না! ফরজ হয়ে যায়।

 

বিবাহের প্রয়োজনীয়তা

(ক)     যৌবন ও চক্ষু হেফাযতের মাধ্যম      

রাসূল (সা:) বলেছেন:

مَنِ اسْتَطَاعَ منكم الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ، فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ‏-(بخارى-১৯৩৯)

     হে যুবক সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ রাখে, সে যেন অবশ্যই বিবাহ করে। কেননা বিবাহ কার্যকর ভাবে চক্ষু অবদমিত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাযত করে। আর যে বিবাহের সামর্থ রাখে না সে যেন রোজা পালন করে, কেননা এই রোজা তার যৌন চাহিদাকে দমন করে। (বুখারী-১৯৩৯)

 

(খ)     ঈমানের অর্ধেকের পরিপূর্ণতা অর্জিত হয়           

   হাদীসে রয়েছে:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ فَقَدْ كَمُلَ نِصْفُ الدِّينِ، فَلْيَتَّقِ اللهَ فِي النِّصْفِ الْبَاقِي " بيهقى৫১০০-)

     কোন বান্দা যখন বিবাহ করে, সে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করে। দ্বীনের অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে। (বায়হাকী-৫১০০)

(গ)     আল্লাহর সাহায্য অবধারিত হয়

আল্লাহ বলেন:

إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿النور: ٣٢﴾

চরিত্র রক্ষার জন্য যারা বিয়ে করবে তারা যদি অভাবী হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। (সুরা নুর : ৩২)       

   রাসূল (সা:) বলেছেন:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: عَوْنُهُ الْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالنَّاكِحُ الَّذِي يُرِيدُ الْعَفَافَ، وَالْمُكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الْأَدَاءَ " [حكم الألباني] حسن-( ترمذى১৬৫৫- -نسائي৩২১৮-)

তিন শ্রেণীর লোককে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালা নিজের উপর আবশ্যক করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী (মুজাহিদ), মনিবের সাথে নিজের মুক্তির জন্য চুক্তিবদ্ধ কৃতদাস যে চুক্তিবদ্ধ অর্থ পরিশোধ করতে আগ্রহী এবং নিজের যৌবন হেফাজতের জন্য বিবাহিত পুরুষ। ( তিরমিযি)

বিয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক নর-নারীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ  ﴿النساء: ٢٥﴾

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ২৫নং আয়াতে এরশাদ করেন

তোমরা তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে কর; যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান কর; যেন তারা বিয়ের দূর্গে সুরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে এবং অবাধে যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত না হয়ে পড়ে। (সূরা নিসারঃ ২৫)

 

 আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহপাক বিয়ে করার প্রতি উসাহ প্রদান এবং বিয়ে না করে অবাধ যৌনসম্পর্ক স্থাপন করার প্রতি নিরুসাহিত করেছেন।

 

বিবাহের উপকারীতা

শুনতে অদ্ভুত শোনালেও সত্যি যে বিয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। নারী-পুরুষ উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য বিয়ে করা কল্যাণকর। সুখী দাম্পত্য জীবন বিষন্নতা, উদ্বিগ্নতা, বিরক্তি কমিয়ে দেয়। আসুন জেনে নেয়া যাক বিয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো।

 

১. আয়ু বাড়েঃ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিতরা তুলনামূলক ভাবে বেশি দিন বেঁচে থাকে। বিবাহিতদের বেশিদিন বেঁচে থাকার পেছনে সঠিক কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় নি। তবে ধারণা করা হয়েছে যে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকার কারণে বেশি দিন শরীর সুস্থ থাকে ফলে আয়ু বৃদ্ধি পায়।

 

২. শরীর সুস্থ্ থাকেঃ বিবাহিতদের সর্দি, কাশি, ফ্লু, মাইগ্রেন ইত্যাদি অসুখ কম হয়। শুধু তাই নয়; বিবাহিতদের শরীরে ক্যান্সার, হার্টের অসুখ এবং হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। গবেষকরা ১৭টি দেশের বিবাহিতদের স্বাস্থ্য অবস্থা, চিকিসা নেওয়ার ধরণ ও সুস্থ হওয়ার সময়কালের উপর গবেষণা চালিয়ে এই ফল পেয়েছেন। বিবাহিতদের সুস্থতার একটি কারণ হতে পারে তাঁরা একে অপরকে খারাপ অভ্যাস যেমন ধূমপান, মদ্যপান ত্যাগ করতে সাহায্য করে এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

 

৩. মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকেঃ বিবাহিতদের মানসিক অসুস্থতা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ১৯৯১ সালের আমেরিকার একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে অবিবাহিত বা বিচ্ছেদ হয়েছে এমন মানুষদের চাইতে যারা সুখী দম্পতি তাদের বিষন্নতা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যা কম দেখা দেয়। বিবাহিত দম্পতিরা বিভিন্ন বিপদে আপদে আলাপ আলোচনা করে সমাধান করে এবং একাকীত্বে ভোগে না। তাই তাদের মানসিক স্বাস্থ্য অবিবাহিতদের তুলনায় ভালো থাকে।

 

৪. হার্ট ভালো থাকেঃ ফিনল্যান্ডের তুরকো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের গবেষকদের হৃদরোগ বিষয়ক ম্যাগাজিন 'ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি' প্রকাশ করেছে যে অবিবাহিতদের চেয়ে বিবাহিত ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। এমনকি বিবাহিতদের হার্ট অ্যাটাক হলেও তা অবিবাহিতদের তুলনায় দ্রুত ভালো হয়ে যায়।

 

৫. অসুস্থতা দ্রুত ভালো হয়ে যায়ঃ গবেষণায় দেখা গেছে যে বিবাহিতরা অসুস্থ হলে বা বড় কোনো অপারেশন হলে অবিবাহিতদের তুলনায় দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। এর পেছনে কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়েছে যে বিবাহিত দম্পতিরা একে অপরের অসুস্থতায় সেবা-যত্ন করে এবং সুবিধা অসুবিধার দিকে খেয়াল রাখে। তাই বিবাহিতরা যে কোনো অসুস্থতায় অন্যদের তুলনায় দ্রুত সুস্থ হয়।

No comments:

Post a Comment