ভূমিকাঃ
কুরআন ও হাদীসে নিজে ভাল কাজ করার
পাশাপাশি সমাজ থেকে অন্যায়-অনাচার দূরীভূত করে সামাজে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করা মুমিনের
অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা যে দুইটি মৌলিক উপাদানের কারণে
মুসলিম উম্মাহকে শ্রেষ্ঠ ও কল্যাণকামী জাতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, তার মধ্যে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ
অন্যতম।
ঈমানের পরিচয় ও অন্যায়-অনাচার প্রতিরোধে
এর গুরুত্ব
ঈমান “ঈমান শব্দের অর্থ হলো বিশ্বাস করা। পরিভাষায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর মহান রবের
থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা মনে প্রাণে গ্রহণ ও বিশ্বাস করাকে ঈমান বলে।
মানব জীবনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় ও নিয়ামত হলো ঈমান। যুগে যুগে নবী-রাসুলগণ মানবজাতিকে ঈমানের দিকে দা’ওয়াত দিয়েছেন। জাগতিক জীবনের প্রকৃত শান্তি,
বিশুদ্ধ জীবনযাত্রা, সামগ্রিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তি ইত্যাদি সবকিছুর সফলতা
প্রকৃত অর্থে ঈমানের বিশুদ্ধতার উপরই নির্ভরশীল।
ঈমান হলো সকল প্রকার অপরাধ প্রতিরোধক।
অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে ঈমানের ভূমিকা অপরিসীম। যার হৃদয় মনে ঈমান সক্রিয় ও জাগরুক
থাকে, সে কখনোই কুরআন-সুন্নাহর বিধি-বিধান লংঘন করে অপরাধে
লিপ্ত হতে পারে না। তবে ঈমান যেমন মানুষকে আল্লাহ ও রাসূলের অনুগত বানায়, তেমনি কুফর বানায় শয়তানের অনুসারী। যারা নিজেদেরকে শয়তানের
অনুসারীতে পরিণত করবে তারাই শয়তানের প্ররোচনায় সকল প্রকারের পাপকর্ম ও অপরাধে লিপ্ত
হতে বাধ্য হবে। আল্লাহ ঈমানদারদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ
الشَّيْطَانِ وَمَن يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ
وَالْمُنكَرِ ﴿النور: ٢١﴾
‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলো না। কেননা যে শয়তানের পদাঙ্ক
অনুসরণের নীতি গ্রহণ করবে, শয়তান তাকে অশ্লীলতা ও অপরাধমূলক
কর্মেরই আদেশ করবে।’ (সূরা নূরঃ ২১)
কেবলমাত্র ঈমানই পারে মানুষকে খারাপ
পরিণতি থেকে রক্ষা করতে। এ জন্যই শিশু-সন্তান যখন প্রথম কথা বলতে শুরু করে, তখন ঈমানের প্রশিক্ষণ হিসেবে পিতা-মাতার উচিৎ,
সন্তানের মুখ দ্বারা
সর্বপ্রথম আল্লাহর নাম উচ্চারণ করানো। এ প্রসঙ্গে হাদীসে বলা হয়েছে,
“তোমরা তোমাদের সন্তানদের প্রথম কথা শুরু করবে এই বলে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।
سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ
الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ: ্রإِيمَانٌ
بِاللَّهِ وَرَسُولِهِগ্ধ
একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস
করা হয়েছিল কোন কাজটি সবচেয়ে উত্তম? জবাবে তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করা।
(মুসনাদে আহমদঃ ৭৫৯০)
উক্ত হাদীসে ঈমানকে শ্রেষ্ঠ কর্মরূপে
চিহ্নিত করার মূলে ছিল, তার সর্বোত্তম কল্যাণের ধারক হওয়া
এবং যাবতীয় অন্যায় অকল্যাণ প্রতিরোধের ক্ষমতা অর্জন করা।
এছাড়াও সন্তানদেরকে আল্লাহর সৃষ্টি
জগতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে যুক্তির মাধ্যমে আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্বের প্রতি বিশ্বাস
স্থাপন তথা ঈমান আনয়নের আহবান জানাতে হবে। এ বিষয়ে লুকমান হাকীমের উপদেশগুলো প্রণিধানযোগ্য।
যা প্রতিটি মানবসন্তানের ঈমানকে সুদৃঢ়, কর্মকে পরিশুদ্ধ, চরিত্রকে সংশোধন ও সামাজিক শিষ্টাচারকে সুন্দরভাবে গড়ে
তুলতে সাহায্য করবে। আল-কুরআনে উক্ত উপদেশাবলি চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
এভাবে অভিভাবকগণ পর্যায়ক্রমে সন্তানদের
সামনে ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো যেমন আল্লাহ,
তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ,
তাঁর রাসূলগণ এবং আখিরাতের
প্রতিটি পর্যায় যেমন কবর, হাশর,
জান্নাত, জাহান্নাম এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দের পরিচয় অত্যন্ত সুন্দর
ও যৌক্তিকভাবে তুলে ধরে সেগুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন।
ফলে সন্তানের ঈমান হবে সুদৃঢ়। আর ঈমান দৃঢ় ও শিরকমুক্ত হলে নৈতিক গুণাবলি অর্জন তার
জন্য অত্যন্ত সহজ হবে।
মহান আল্লাহ তাআলা মুসলমি জাতিকে
সারা বিশ্বের মানব জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন । এজন্য যে মুসলমান বিশ্ববাসীর
কল্যান সাধন করবে । সৎকাজের আদেশ
ও মন্দ কাজের বাধা প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কল্যান রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালার
বাণীঃ
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ
بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ -
তোমরাই শ্রষ্ঠে উম্মত, মানব জাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে তোমরা সৎকাজরে নির্দেশ দান করবে,
অসৎ কাজের নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে । (সূরা
আলে ইমরান ৩ঃ ১১০)
মুলত অন্যায়-অনাচার রোধে মহান আল্লাহর
নির্দেশিত পথে আহবান করাই সকল নবী ও রাসূলের মূল দায়িত্ব ছিল। আর এই দায়িত্বই সর্বশেষ
উম্মাৎ, উম্মাতে মুহাম্মাদীর অন্যতম বৈশিষ্ট। আল্লাহ বলেনঃ
০৪. এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদেরকে ভাল কাজের
আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে । আদম (আ) থেকে শুরু করে সর্বশেষ ও র্সবশ্রষ্ঠে
রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) র্পযন্ত লক্ষাধিক নবী ও রাসূল (আঃ) এ কাজ করছেনে । রাসূল (সঃ)
সুর্দীঘ ২৩ বছর যাবত কঠোর পরশ্রিমরে মাধ্যমে একটি পথভ্রষ্ট জাত¬িকে তদানীন্তন বশ্বিরে সবচয়েে উন্নত জাততিে পরনিত করনে
। তারপর আর কোন নবী পৃথবিীতে আসবে না । এ অবস্থায় কারা এ দায়ত্বি পালন করবনে সে প্রসংগে
মহান আল্লাহ বলনেঃ
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ
وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ -
আর তোমাদরে ম¬ধ্য এমন একটি দল থাকবে যারা সৎকাজরে নর্দিশে দবিে এবং অসৎকাজরে নষিধে করব,ে তারাই সফলকাম। (সূরা আলে ইমরান
৩ঃ ১০৪)
অন্যায় অনাচারে নিষেধ মুমিন নারী-পুরুষের
অন্যতম গুণ ও বৈশিষ্ট্য
মুমিনদের মৌলিক গুণাবলি উল্লেখ করতে
গিয়ে কোরআনে বলা হয়েছে,
التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ
الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنكَرِ
وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿التوبة: ١١٢﴾
তারা হচ্ছে আল্লাহর দিকে বারবার প্রত্যাগমনকারী
(তাওবাকারী) ,তার ইবাদতকারী, তার প্রশংসাবাণী উচ্চারণকারী, তার জন্য জমিনে বিচরণকারী (দুনিয়ার সাথে সম্পর্কচ্ছেদকারী), তার সামনে রুকু ও সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের বাধা
দানকারী এবং আল্লাহর সীমারেখা সংরক্ষণকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে। (সুরা
তাওবা ৯, আয়াত: ১১২)
মুমিন নারীরা এখানে মুমিন পুরুষদের
মতো, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালনে তাদেরও অংশ ও ভূমিকা রয়েছে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ
بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ﴿التوبة: ٧١﴾
‘মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, তারা সবাই পরস্পরের বন্ধু ও সহযোগী।
তারা ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা তাওবা ৯,
আয়াত : ৭১)
আল্লাহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে তাদের
দায়িত্ব শিক্ষা দিয়ে বলেনঃ
الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ
وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ
عَاقِبَةُ الأُمُورِ ﴿الحج: ٤١﴾
“তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ্য দান করলে তারা নামায কায়েম
করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহ্র এখতিয়ারভুক্ত।” (সূরা হজ্ব-৪১)
০৫. ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা
করলে দেখা যায়, অন্যায়-অনাচার ও অনৈতিক কাজে বাধা
দেওয়া শুধু একজন দায়িত্বশীল ও জনপ্রতিনিধিরই দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকেরই কর্তব্য। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا:
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: ্রأَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ،
فَالإِمَامُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ
رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ، وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ
عَلَى أَهْلِ بَيْتِ زَوْجِهَا، وَوَلَدِهِ وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُمْ، وَعَبْدُ
الرَّجُلِ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ، أَلاَ فَكُلُّكُمْ
رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِগ্ধ)بخارى-৬৬৫৩-مسلم-৪৫৭৩)
রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, “সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই
দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। রাষ্ট্রের আমির জনসাধারণের তত্ত¡াবধায়ক এবং সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ
তার পরিবার পরিজনের তত্ত¡াবধায়ক, সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে এবং একজন স্ত্রী তার স্বামীর
গৃহ ও তার সন্তানদের তত্ত¡াবধায়িকা সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত
হবে। চাকর তার মনিবের সম্পদের তত্ত¡াবধায়ক তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে
জিজ্ঞাসা করা হবে। সাবধান! এইভাবে তোমাদের প্রত্যেকেই তত্ত¡াবধায়ক এবং প্রত্যেকেই তত্ত¡াবধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” (বুখারী-ই.ফা;৬৬৫৩,
মুসলিম-ই.ফা;৪৫৭৩)
সামাজিক অন্যায় ও অনাচারের স্বরূপ
সামাজিক অনাচার বা সমস্যা সমাজের
মারাত্মক ব্যাধিস্বরূপ। সুদ, ঘুষ,
ব্যভিচার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, মাদকাসক্তি,
প্রতারণা, হত্যা-গুম প্রভৃতি সমাজে নানা সমস্যার জন্ম দেয়। এগুলো
সমাজ বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শান্তি-শৃঙ্খলা, সংহতি ও নিরাপত্তা নষ্ট করে। মূলত যেসব কর্মকান্ড ইসলামি
শরিয়তে নিষিদ্ধ এবং মানুষের চোখে ও সামাজিক দৃষ্টিতে মারাত্মক অন্যায় সেগুলোই সামাজিক
অনাচার বা সমস্যা।
সামাজিক অনাচার ও সমস্যার সমাধানে
ইসলাম সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। যেমন সামাজিক অনাচারের অন্যতম জুয়াকে ইসলামে
ঘৃণ্য কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মিথ্যাচারকে মুনাফিকের লক্ষণ বলা হয়েছে। প্রতারণাকারীকে জাহান্নামি বলা হয়েছে। ঘুষ দাতা ও গ্রহীতার ওপর আল্লাহ ও রাসুলের (সা.)
অভিশাপ রয়েছে। ধূমপানকে ইসলাম হারাম করেছে। মাদকাসক্তিকে ইসলামে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা
হয়েছে। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে সৎসঙ্গ গ্রহণের তাগিদ করা হয়েছে ইসলামে। চুরি করলে হাত
কেটে ফেলার শাস্তি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ছিনতাই,
রাহাজানি, মানুষকে ঠকানো এ ধরনের যাবতীয় অনাচারকে ইসলামে নিষিদ্ধ
ও হারাম করা হয়েছে। নরহত্যাকে ইসলামে মহাপাপ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
ইসলাম অন্যায় ও অনাচারমূলক কাজ থেকে
শুধু নিষিদ্ধই করেনি, কিভাবে পাপমুক্ত জীবন গড়তে হবে এর
সুস্পষ্ট নীতিমালাও বর্ণনা করেছে। সামাজিক অন্যায় ও অসততার বীজগুলো যেন অঙ্গুরেই বিনাশ
হয়ে যায় সে ব্যবস্থাপত্র ইসলামে দিয়েছে। নিছক বর্ণনা ও ব্যাখ্যা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ
নয় ইসলামের নীতিমালা, প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এর উদাহরণও ইসলাম
স্থাপন করেছে। ইসলামি সমাজব্যবস্থায় অন্যায়-অনাচার মূলোৎপাটনের যাবতীয় নির্দেশনা রয়েছে। সমস্যাসঙ্কুল সমাজের
স্থিতিশীলতা ও গতিময়তা ফিরিয়ে আনার জন্য ইসলামের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি অনুশাসনই
পারে সমাজকে কাক্ষিত মানে উন্নতি করতে এবং মানুষের বসবাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে।
অন্যায় অনাচার রোধে ঈমানের মূল ভূমিকা
০৬. সম্মানিত উপস্থিতি! অন্যায় অনাচার, জুলুম অত্যাচার ও গর্হিত কর্ম দেখলে প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির
উপর সামষ্টিকভাবে দায়িত্ব হয়ে যাবে সাধ্যমত ও সুযোগমত তার প্রতিবাদ বা প্রতিকার করা।
আর একাজই হবে তাওহীদবাদী ঈমানদার ব্যক্তির ঈমানের মূল ভূমিকা।
০৭. যেমন রাসূল (সাঃ) বলেনঃ
عَن أبي سعيدٍ الخدريِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ
فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ
أَضْعَفُ الإِيمَانِ-(مسلم-৮৩)
“তোমাদের কেউ যখন কোন মন্দ কাজ হতে দেখে তখন সে যেন তা (শক্তি থাকলে) হাত দ্বারা
প্রতিরোধ করে, যদি হাত দ্বারা প্রতিরোধ করার শক্তি
না থাকে তবে যেন কথা দ্বারা প্রতিবাদ করে,
যদি তারও সামর্থ্য না
থাকে তাহলে সে যেন অন্তর দ্বারা সেটাকে ঘৃণা করে। আর এটা হচ্ছে ঈমানের সর্বনিম্ম স্তর।” (মুসলিম-৮৩ ই.ফা.বা)
উল্লেখ্য যে, ‘অন্তরে ঘৃণা করা’কে ঈমানের দুর্বলতম আলামত বলা হয়েছে।
আসলে অন্তরে ঘৃণা করা দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদের মূল মর্মার্থ শুধু ঘৃণার মধ্যে সীমাবদ্ধ
নয়। বরং নিরবে নিরবে অন্যায়-অপরাধ বন্ধে কাজ করে যাওয়া। নিরবে কাজ করে যাওয়ার প্রচেষ্টায়
যেন অন্যায় অপরাধ বন্ধ হয়।
শুধু তাই নয়, কোনো মুমিন মুসলমানের সামনে কোনো অন্যায়-অপরাধ ঘটে গেলে
যদি সে ঘটনা দেখে কারো মনে হাসির উদ্রেক হয়,
সেটিও অন্যায়কে সমর্থন
করার অর্থে পরিগণিত হবে। তাই অন্যায়ের সঙ্গে কোনোভাবেই আপোষ করা যাবে না।
প্রতিরোধকারীর জন্য ফজিলত বা পুরস্কার
০৮. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, সমাজকে অন্যায়-অনাচার,
অশ্লীল-অপকর্ম ঘুষ-দূর্নীতি
ও সার্বিক অপরাধ থেকে মুক্ত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা অবশ্যই ঈমানের দাবী, এই প্রচেষ্টা সফল হোক বা না হোক আমাদের মাধ্যমে একটি প্রতিকার
বা প্রতিরোধ করাই বড় ইবাদত যেমন আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ
صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ-
যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন আজ্ঞাবহ, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার? (সূরা হামীম সাজদা ৪১ঃ ৩৩)
আল্লাহ তা’আলা আরোও বলেনঃ
مَّنْ يَّشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً يَكُن لَّهُ نَصِيبٌ
مِّنْهَا وَمَن يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا وَكَانَ
اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُّقِيْتًا .
যে লোক সৎকাজের জন্য কোন সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক সুপারিশ করবে মন্দ
কাজের জন্যে সে তার বোঝারও একটি অংশ পাবে। বস্তুতঃ আলাহ্ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল। (সূরা
নিসা ৪ঃ ৮৫)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
كلُّ كَلاَمِ ابْنِ آدمَ عَلَيْهِ لَا لَه إِلاَّ مَنْ
كَانَ أَمْرٌ بِمَعْرُوْفٍ أَوْ نَهْىٌ عَنْ مُنْكَرٍ أَوْ ذِكْرُ اللهِ تَعَالى
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং আল্লাহর যিকির ব্যতীত আদম সন্তানের
প্রতিটি কথাই ক্ষতিকর । (তিরমিযীঃ ২৪১২)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেনঃ
وَأَمْرٌ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ، وَنَهْيٌ عَنِ الْمُنْكَرِ
صَدَقَةٌ-(مسلم-৮৩)
“ভাল কাজের নির্দেশ করা সাদকা বলে গন্য,
এবং মন্দ বা খারাপ থেকে
নিষেধ/প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করা সাদকা বলে গন্য”
(সহীহ মুসলিম-ই.ফা. ১৫৪১, ই,সে. ১৫৪৮)
আমলকারীর সমান সওয়াব অর্জিত হয়
০৯. আমরা যারা প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, প্রতিকার বা মানুষকে সৎপথে আহবান করতে মুখ খুলতে চাইনা তাদের অবশ্যই ভেবে দেখা
দরকার যে, প্রতিদিন অগনিতবার আমরা সুযোগ পাই কিছু ভাল কাজ করার
বা বলার। আর প্রতিরোধ বা বলার মাধ্যমে কারো উপকার হবে কিনা অথবা শুনবে কিনা তা কোন
বিষয়ই নয়। বরং সৎ নিয়তে
উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য মহান আল্লাহর নিকট অগনিত পুরস্কার লাভ হবে। সাথে সাথে সমাজ
বা ব্যক্তির জীবন থেকে দূর হবে অন্যায়- অনাচার। এর মাধ্যমে তারাও পার্থিব জীবনে উপকৃত
হবে। আর এমনটি হলে আমরা ২য় পর্যায়ের পুরস্কারটিও পাব। রাসূলুলাহ্ (সাঃ) বলেছেন,
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ
اَللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ, فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ
(رواه مسلم- ১৮৯৩ ,مشكوة-১/৪৫-২০৯)
“যে ব্যক্তি কাউকে সৎকর্মের দিকে রাস্তা দেখায়, তার সওয়াব সৎকর্ম সম্পাদনকারীর অনুরূপ।’’ -মুসলিম, মিশকাত, খ.১, পৃ. ৪৫, হাঃ নং-২০৯
১০. মাহনবী (সাঃ) আরো বলেনঃ
فَوَاللَّهِ لَأَنْ يُهْدَى بِكَ رَجُلٌ وَاحِدٌ خَيْرٌ
لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ (بخارى-২৭৩৭-ابو داؤد-৩৬৬১)
“আল্লাহর কসম! যদি তোমার আহŸানের কারণে একজন লোকও হেদায়াত প্রাপ্ত
হয় তাহলে সেটা তোমার জন্য একদল লাল উট অপেক্ষাও উত্তম বিবেচিত হবে।” (বুখারী-২৭৩৭ ই.ফা.বা)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: ্রمَنْ
دَعَا إِلَى هُدًى، كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ
ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا، وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ، كَانَ عَلَيْهِ مِنَ
الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًاগ্ধ (رَوَاهُ مُسلم-৬৫৬০)
১১. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যদি কোন ব্যক্তি কোন ভাল পথে আহবান করে তবে যত মানুষ তার অনুসরণ করবে তাদের সকলের
পুরস্কারের সমপরিমাণ পুরস্কার সেই ব্যক্তি লাভ করবে,
তবে এতে অনুসরণ কারীদের
পুরস্কারে কোন ঘাটতি হবেনা। আর যদি কোন ব্যক্তি বিভ্রান্তির দিকে আহবান করে তবে যত
মানুষ তার অনুসরন করবে তাদের সকলের পাপের সমপরিমান পাপ সেই ব্যক্তি লাভ করবে, তবে এতে অনুসরণকারীদের পাপের কোন ঘাটতি হবে না।” (মুসলিম- ই.ফা. ৬৫৬০,
ই. সে. ৬৬১৪)
দায়িত্বে অবহেলাকারীদের প্রতি নিন্দা
যারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের প্রতিবিধানে এগিয়ে আসে না, তাদের নিন্দাবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى
لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (৭৮) كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ
مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ (৭৯)
‘বনি ইসরাঈল জাতির মধ্য থেকে যারা কুফরির পথ অবলম্বন করেছে তাদের ওপর দাউদ এবং
মরিয়ম পুত্র ঈসার (আঃ) মুখ দিয়ে অভিসম্পাত করা হয়েছে। কারণ তারা বিদ্রোহী হয়ে গিয়েছিল
এবং বাড়াবাড়ি করতে শুরু করেছিল। তারা পরস্পরকে খারাপ কাজ করা থেকে বিরত রাখা পরিহার
করেছিল, তাদের গৃহীত সেই কর্মপদ্ধতি বড়ই জঘন্য ছিল।’ (সুরা মায়েদা,
আয়াত: ৭৮-৭৯)
একজন মুসলমানের পরিচয় শুধু এমনটি
হতে পারে না যে, সে শুধু নিজেরই কল্যাণ কামনায় ব্যস্ত
থাকবে। ভালো কাজ করবে ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
وَالْعَصْرِ (১) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (২) إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا
بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ (৩)
‘সময়ের কসম! মানুষ আসলেই বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ছাড়া যারা ইমান আনে
ও সৎকাজ করে এবং একজন অন্যজনকে হক থাকার
ও সবর করার উপদেশ দেয়।’ (সুরা আসর, আয়াত: ১-৩)
অন্যায় অনাচার প্রতিরোধ না করার শাস্তি
১২. সম্মানিত উপস্থিতি! ন্যায়ের আদেশ, অন্যায়ের নিষেধ বা প্রতিরোধ করলে পুরস্কার যেমন অফুরন্ত, আর তা পালনে অবহেলার শাস্তিও ভয়াবহ। কুরআন হাদীস থেকে জানা
যায় এ ধরনের ইবাদতে অবহেলা করলে চার প্রকারের শাস্তি অবধারিত (১) দুনিয়াবি গযব (২)
পারস্পারিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতি নষ্ট (৩) দোয়া কবুল না হওয়া এবং (৪) পাপ না করেও শুধুমাত্র
নিরব থাকা বা আপত্তি না করার কারণে পাপের ভাগী হওয়া।
عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي، هُمْ
أَعَزُّ مِنْهُمْ وَأَمْنَعُ، لَا يُغَيِّرُونَ، إِلَّا عَمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍগ্ধ (ابْن مَاجَه-৪০০৯)
১৩. রাসূল (সাঃ) বলেছেন- কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে
পাপাচার হতে থাকে এবং তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতা থাকা সত্বেও তাদের বাধা দেয়
না, তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর ব্যাপক ভাবে শাস্তি পাঠান।
(ইবনে মাজাহ-৪০০৯)
্রإِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْمُنْكَرَ لَا يُغَيِّرُونَهُ،
أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِগ্ধ(ابو داؤد-৪৩৩৮-ابْن
مَاجَه-৪০০৫)
রাসূল (সাঃ) বলেনঃ “যখন মানুষেরা অন্যায় দেখেও তার পরিবর্তন বা সংশোধন করবেনা তখন যে কোন মূহুর্তে
আল্লাহর শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে” (আবু দাউদ-৪৩৩৮; ইবনু মাজাহ্ - ৪০০৫)
১৪. কোন ফরিয়াদ বা আর্তনাদ কবূল হবে নাঃ
রাসূল (সা:) বলেছেন:
عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ اليَمَانِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রوَالَّذِي
نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ المُنْكَرِ أَوْ
لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُونَهُ
فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْগ্ধ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ
-ترمذى-২১৬৯-احمد-২৩৩০১-بيهقى-৭১৫২)
“যার কব্জায় আমার জান তার শপথ! তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অন্যায় কাজে মানুষকে বাধা দিবে, অন্যথায় আল্লাহ তায়ালা তার নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের উপর
শাস্তি অবতীর্ণ করবেন, তখন তোমরা তার নিকট প্রার্থনা করবে
কিন্তু তিনি তোমাদের সেই প্রার্থনা আর কবুল করবেন না।”
(তিরমিযি-২১৬৯, আহমদ-২৩৩০১,বায়হাকী-৭১৫২)
সৎ লোকেরাও এর পরিণাম থেকে রেহাই পাবে না
এ প্রসঙ্গে আলাহ তা‘আলা বলেন,
وَاتَّقُواْ فِتْنَةً لاَّ تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ
مِنكُمْ خَآصَّةً وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿الأنفال: ٢٥﴾
“আর তোমরা এমন ফাসাদ থেকে বেঁচে থাক যা বিশেষত: শুধু তাদের উপর পতিত হবে না যারা
তোমাদের মধ্যে জালিম (বরং সৎ লোকগণও তা ভোগ করে থাকে) এবং জেনে রেখ যে,
আলাহ্র আযাব অত্যন্ত কঠোর।’’ -সূরা আনফালঃ ২৫
হুজুর ﷺ বলেন,
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَوْحَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلى جبريلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ:
أَنِ اقْلِبْ مَدِينَةَ كَذَا وَكَذَا بِأَهْلِهَا قَالَ: يارب إِنَّ فِيهِمْ عَبْدَكَ
فُلَانًا لَمْ يَعْصِكَ طَرْفَةَ عَيْنٍ ". قَالَ: " فَقَالَ: اقْلِبْهَا
عَلَيْهِ وَعَلَيْهِمْ فَإِنَّ وَجهه لم يتمعر فِي سَاعَة قطّ " (بيهقى ,مشكوة-৩/১১৭-৫১৫২)
“আলাহ্ তা‘আলা একদিন জিবরাইল -এর নিকট ওহী পাঠালেন,
তুমি অমুক অমুক শহর
তার অধিবাসীদের সহ উল্টে দাও। জিবরাইল নিবেদন করলেন,
হে প্রভু! তাদের মধ্যে
তো আপনার এমন এক বান্দা রয়েছে, যে চোখের পলক পরিমাণও আপনার অবাধ্য
হয়নি! হুজুর ﷺ বলেন, আলাহ তা‘আলা বললেন: তাকে সহ উল্টে দাও। কেননা,
(শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ
দেখে) তার চেহারা মুহুর্তের জন্যও কখনই পেরেশান এবং পরিবর্তিত হয় নি।’’ - বায়হাকী; মিশকাত, খ.৩, পৃ.১১৭, হাঃ নং-৫১৫২
চমৎকার একটি উদাহরণ
রাসূল (সঃ) আরও বলেছেনঃ
مَثَلُ القَائِمِ في حُدُودِ اللهِ وَالوَاقعِ فِيهَا ،
كَمَثَلِ قَومٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ فَصَارَ بَعْضُهُمْ أعْلاها وَبَعْضُهُمْ
أَسْفَلَهَا ، وَكَانَ الَّذِينَ في أَسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوا مِنَ المَاءِ مَرُّوا
عَلَى مَنْ فَوْقهُمْ ، فَقَالُوا : لَوْ أنَّا خَرَقْنَا في نَصِيبِنَا خَرْقاً وَلَمْ
نُؤذِ مَنْ فَوقَنَا ، فَإِنْ تَرَكُوهُمْ وَمَا أرَادُوا هَلَكُوا جَميعاً ، وَإنْ
أخَذُوا عَلَى أيدِيهِمْ نَجَوا وَنَجَوْا جَميعاً
আল্লাহর নির্ধারিত সীমায় অবস্থানকারী
এবং সীমা লংঘনকারীর উপমা হলো সেই সম্প্রদায়ের মতো,
যারা একটি দ্বিতল জাহাজে
লটারির মাধ্যমে কিছু লোক উপর তলায় এবং কিছু লোক নিচের তলায় স্থান নিল । নিচের তলায়
অবস্থানকারীগকে পানির জন্যে উপরের তলায় যেতে হয় । (এতে তারা বিরক্ত বোধ করে।) তাই নিচের
তলার লোকেরা বলল, আমরা যদি আমাদের ভাগে (নিচের তলায়
একটু) ছিদ্র করে দিই, তাহলে তো (সহজেই পানি পেয়ে যাব) আর
উপরের তলার লোকদের কষ্টও দেব না । তখন যদি উপরের তলার লোকেরা (বাধা না দিয়ে) এদেরকে
সেই (ছিদ্র করার) কাজ করতে দেয়, তাহলে সকলেই পানিতে ডুবে ধ্বংস হবে
। আর উপর তলার লোকেরা যদি তাদের হাত ধরে বাধা দেয়,
তবে তারা নিজেরাও বেঁচে
যাবে এবং বাকি সকলকেও বেঁচে যাবে । (বুখারী তাওহীদ পাবলিকেশন্স হা.নং ৪/১৯২)
১৫. সরকার, প্রশাসক বা নেতৃবৃন্দের অন্যায়ের ক্ষেত্রে করনীয়ঃ
রাসূল (সাঃ) বলেছেন -
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রسَتَكُونُ
أُمَرَاءُ فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ، فَمَنْ عَرَفَ بَرِئَ، وَمَنْ أَنْكَرَ سَلِمَ،
وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَগ্ধ قَالُوا: أَفَلَا نُقَاتِلُهُمْ؟
قَالَ: ্রلَا، مَا صَلَّوْاগ্ধ رَوَاهُ مُسلم
“অচিরেই তোমাদের উপর অনেক শাসক প্রশাসক আসবে যারা ন্যায় ও অন্যায় উভয় প্রকারের
কাজ করবে। যে ব্যাক্তি তাদের অন্যায়কে অপছন্দ করবে সে অন্যায়ের অপরাধ থেকে মুক্ত হবে।
আর যে ব্যক্তি আপত্তি, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করবে সে (আল্লাহর অসন্তষ্টি থেকে) নিরাপত্তা পাবে।
কিন্তু যে এ সকল অন্যায় কাজ মেনে নেবে (সে বাঁচতে পারবেনা) সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবনা
? তিনি বললেন,
না, যতক্ষন তারা সালাত আদায় করবে” (মুসলিম- ই.ফা. ৪৬৪৭,
ই.সে. ৪৬৪৯)
১৬. অন্য হাদীসে রাসূল (সাঃ) বলেনঃ
عَن الْعرس بن عَمِيرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রإِذَا
عُمِلَتِ الْخَطِيئَةُ فِي الْأَرْضِ مَنْ شَهِدَهَا فَكَرِهَهَا كَانَ كَمَنْ غَابَ
عَنْهَا وَمَنْ غَابَ عَنْهَا فَرَضِيَهَا كَانَ كَمَنْ شَهِدَهَاগ্ধ [حكم الألباني] : حسن - (ابو داؤد-৪৩৪৫)
“যখন কোন স্থানে গুণাহের কাজ করা হয় তখন যে সব লোক সেখানে উপস্থিত থাকে এবং সেই
গুণাহের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে, তবে আল্লাহ তায়ালার নিকট তারা অনুপস্থিত
লোকদের ন্যায় (অর্থাৎ এই গুণাহে
তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই) আর যে ব্যক্তি এই গুণাহের স্থানে উপস্থিত নয়, কিন্তু সেই গুণাহের প্রতি সন্তুষ্ট, সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে যারা সেখানে উপস্থিত ছিল।” (আবু দাউদ-৪৩৪৫,
কিতাবুল মালাহিম)
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রلَايَحْقِرَنَّ
أَحَدُكُمْ نَفْسَهُগ্ধ
، قَالُوا:
يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَحْقِرُ أَحَدُنَا نَفْسَهُ؟ قَالَ: " يَرَى أَمْرًا
لِلَّهِ عَلَيْهِ فِيهِ مَقَالٌ، ثُمَّ لَا يَقُولُ فِيهِ، فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ
وَجَلَّ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَقُولَ فِي كَذَا وَكَذَا؟ فَيَقُولُ:
خَشْيَةُ النَّاسِ، فَيَقُولُ: فَإِيَّايَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخْشَى"(ابن ماجة-৪০০৮-مسند احمد-১১২৫৫-১১৪৪০-১১৮৬৮-ابي داؤد الطيالسى-২৩২০)قال البوصيري في "الزوائد": إسناده صحيح.
১৭. রাসূল (সাঃ) বলেছেন- “তোমাদের কেউ যেন নিজেকে অপমানিত না করে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লার রাসূল (সাঃ)! আমাদের কেউ কীভাবে নিজেকে অপমানিত
করতে পারে? তিন বললেনঃ “তোমাদের কেউ কোথাও আল্লাহর জন্য কথা
বলার প্রয়োজন বা সুযোগ থাকা সত্তে¡ও যদি কথা না বলে তবে তার এই নীরব
থাকাকে হালকা ভাবে দেখা হবেনা। কারন, আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি এ বিষয়ে কেন কথা বলনি?
তখন সে বলবে, হে আল্লাহ, আমি মানুষকে ভয় পেয়েছিলাম। তখন তিনি
বলবেন, আমার অধিকারই তো বেশী ছিল যে, তুমি আমাকেই বেশী ভয় করবে”। (ইবনে মাজাহ-৪০০৮, আহমদ-১১২৫৫,১১৪৪০,১১৮৬৮, আবু দাউদ তায়ালুসী-২৩২০)
অন্যায়-অনাচার প্রতিরোধের পদ্ধতি
প্রতিকারে বিনয় ও ন¤্রতা
১৮. সম্মানিত হাজেরীন ! আদেশ, নিষেধ ও অন্যায়-অনাচারের প্রতিকার ও প্রতিরোধে বিনয় ও ন¤্রতা অন্যতম শর্ত। আমরা অনেক ক্ষেত্রে আপত্তি বা প্রতিকারের
নামে মুরব্বীয়ানা প্রকাশ করতে চাই এবং অন্যায়কারীকে রূঢ় ভাষায় আদেশ বা নিষেধ করি। ফলে
তার মধ্যে মানসিক প্রতিরোধ তৈরী হয় ও আমাদের কথা গ্রহন করে না। তখন আবার তাকে আমরাই
ইসলামের শত্রæ বানিয়ে ফেলি। আমাদের স্মরণ রাখা দরকার যে,
যদি আমাদের আচরণে বা
কথায় কেউ দ্বীনের প্রতি রূষ্ট হয় তাহলে তার পাপ আমাদের উপরও বর্তাবে।
১৯. কোরআন ও হাদীসে আদেশ, নিষেধ, প্রতিকার ও প্রতিরোধের ভাষা শিক্ষা
দেওয়া হয়েছে, আর তা হলো সবর, বিনয়-ন¤্র ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে। যেমন
মহান আল্লাহ বলেনঃ
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ
صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ [٤١:٣٣] وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ
وَلَا السَّيِّئَةُ ۚ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ
عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ - وَمَا يُلَقَّاهَا إِلاَّ الَّذِينَ صَبَرُوا
وَمَا يُلَقَّاهَا إِلاَّ ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ ﴿فصلت: ٣٣- ٣٥﴾
“তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার ?
যে আল্লাহ্র দিকে দাওয়াত
দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন আজ্ঞাবহ। ভাল ও মন্দ সমান
নয়। (কারো) জওয়াবে যা উৎকৃষ্ট তাই
বলুন। তখন দেখবেন আপনার সাথে যে ব্যক্তির শত্রæতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ
বন্ধু। এ চরিত্র তারাই লাভ করে, যারা সবর করে এবং এ চরিত্রের অধিকারী
তারাই হয়, যারা অত্যন্ত ভাগ্যবান।”
(সূরা হা মীম সাজদাহ্-৩৩-৩৫)
২০. কোন পদ্ধততিে ভাল কাজরে উপদশে দতিে হবে সে সর্ম্পকে আল্লাহ তাআলা বলনেঃ
اُدْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ
الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ
بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ ﴿النحل: ١٢٥﴾
“আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহŸান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ
শুনিয়ে উত্তমরুপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দযুক্ত পন্থায়। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই
ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত রয়েছেন,
যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত
হয়ে পড়েছে। আর তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে।”
(সূরা নাহল-১২৫)
এখানে আল্লাহর পথে মানুষকে আহবান
করার জন্য তনিটি পদ্ধতরি কথা উল্লখে করা হয়ছেে ।
যথাঃ হকিমত, সৎউপদশে এবং সদ্ভা¬বে বর্তিক করা ।
এ প্রসঙ্গে একটি বিখ্যাত ঘটনা হলো, এক ব্যক্তি খলিফা মামুনের মজলিসে প্রবেশ করে খুবই কঠোর
ভাষায় তাকে আদেশ-নিষেধ করতে লাগল এবং তাকে বলল,
হে জালেম, হে পাপাচারী ইত্যাদি। মামুন ছিলেন বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান
এবং ধৈর্যশীল, তিনি অপরাপর রাজা-বাদশাহদের মতো তাকে
শাস্তি দিতে অগ্রসর হননি; বরং তাকে বললেন, একটু ন¤্র ও কোমলস্বরে কথা বলো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা তোমার চেয়েও উত্তম ব্যক্তিকে
আমার চেয়েও খারাপ ও পাপাচারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে ন¤্রতা ও কোমলতার নসিহত করেছিলেন। আল্লাহ তা’য়ালা মুসা ও হারুনকে (আঃ) পাঠিয়েছিলেন,
তারা নিশ্চয়ই তোমার
থেকে উত্তম; তাদের ফেরাউনের কাছে পাঠিয়েছিলেন, সে নিশ্চয়ই আমার থেকেও খারাপ ও নিকৃষ্ট ছিল; অতঃপর আল্লাহ তা’য়ালা তাদের উভয়কে বলেছিলেন,
اذْهَبَا إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَىٰ ﴿৪৩﴾ فَقُولَا
لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ ﴿طه: ٤৪-৪৩﴾
‘যাও তোমরা দু’জন ফেরাউনের কাছে, সে বিদ্রোহী হয়ে গেছে। তার সঙ্গে কোমলভাবে কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে।’ (সুরা তাহা, আয়াত: ৪৩-৪৪ ঘটনাসূত্র: এহইয়াউ উলুমিদ্দীন:
ইমাম গাজ্জালি)
সৎকাজরে আদশে নজি পরবিার থকেে শুরু করতে হব।ে
এ প্রসংগে আল্লাহ তাআলা বলনেঃ
¬
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ
آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا -
হে মুমনিগন তোমরা নজি দগিকে এবং তোমার
পরবিার-পরজিনকে রক্ষা কর অগ্নি থকেে । (সূরা তাহরীম ৬৬ঃ ৬)
যে ব্যক্তি সৎ কাজরে আদশে ও মন্দ কাজরে নষিধে করব,ে তনিি নজিওে সৎর্কমশীল
হবনেঃ
এ সর্ম্পকে আল্লাহ তায়ালা বলনেঃ
أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ
وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ-
¬তোমরা মানুষদরে সৎর্কমরে নর্দিশে দাও কন্তিু নজিরো নজিদেরে কথা ভুলে যাও, অথচ তোমরা কতিাব অধ্যায়ন কর, তোমরা কি বোঝনা? । (সূরা বাকারা ২ঃ ৪৪)
মহান আল্লাহ আরও বলেনঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا
تَفْعَلُونَ . كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ
হে মু’মিনগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল যা নিজেরা করো না?
আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত
অপছন্দনীয় কাজ যে, তোমরা এমন কথা বলো যা করো না ৷ (সূরাহ
সাফ ৬১ঃ ২-৩)
সচ্চরিত্র গঠনে ইসলামের মৌলিক ভিত্তি
ঈমানের প্রভাব
একথা ধ্রব সত্যযে, একমাএ ঈমানের চেহতনাই মানুষকে যাবতীয় অপরাধ থেকে বিরত রাখতে
পারে, দুনিয়ার অন্য কোন শক্তি মানুষকে অপরাধ থেকে বিরত রাকতে
পরেনা। যতই কড়া আইন প্রণয়ন করা হোকনা কেন,যতই কঠোর শাস্তির বিধান তৈরী করা
হোক না কেন , যতই কঠোর শাসন ব্যবস্থা চালু করা
হোক না কেন ,
তা মানুষকে পুরো ভাবে
কখনোই অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাকতে পারবেনা।
অপরাধ কারীরা আইনের চক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে পর্দার
অন্তরালে গিয়ে অন্যায় করবে, যেখানে শাসনের চোখ দেখেনা।
কিন্তু আলাহর আযাবের ভয় যার ভিতর থাকবে অর্থাৎ ঈমানী চেতনা যার ভিতর তাজা থাকবে, সে লোক চক্ষুর আড়ালে গিয়েও,গোপনে গিয়েও কোন অন্যায় করতে পারবেনা।
কারণ সে গোপন আবস্থানে গিয়েও তার এই বিশ্বাস থাকবে যে,
দুনিয়ার কোন চক্ষু আমাকে
না দেখলেও আলাহর থেকে লুকাতে পারছি না , তাই গোপন আবস্থানে গিয়েও পর্দার আড়ালে গিয়েও সে অন্যায়
করতে পারেনা । এভাবে ঈমান ও ঈমানী চেতনা একমাএ পুরোপুরি ভাবে সমাজের মানুষকে অন্যায়
থেকে বিরত রাখতে পারে।
তাই দেখা গেছে যখন সত্যিকার ভাবে
মানুষের ভিতরে ঈমানী চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
অর্থাৎ, রাসূল (সাঃ) এর জামানায়,
সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)
এব জামানায় , তখস মানুষের মাঝে এই সমস্ত
অন্যায় অপরাধ ছিল না মানুুষ তখন শান্তি নিরাপওায় বসবাস করত। একজন নারী ইয়েমেন
থেকে সূদুর শাম (সিরিয়া) পর্যন্ত একাকি চলে যেতেন। সে তার জান-মাল ইজ্জত আব্র“র ব্যাপারে কোন রকম আশংকা বোধ করত না । সম্পূর্ন নিরাপওার সাথে একলা একলাই সে এই সুদীর্ঘ
পথ সফর করে পাড়ি দিয়ে যে, ঈমানের বদৌলতে তখন সমাজে এরকম শান্তি নিরাপওা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
পক্ষান্তরে মানুষ যখন শান্তি -নিরাপওা
প্রতিষ্ঠার এই ব্যবস্থাকে ছেড়ে দিয়ে শান্তি নিরাপওায় জন্য এবং দূনীতি ও অন্যায় অপরাধকে
দুর করার জন্য নানান রকম আইন প্রণয়ন শুরু করেছে,
আসল ব্যবস্থা ছেড়ে দিয়ে
যখন নকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তখনই তারা শান্তি - নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত
করতে ব্যর্থ হয়েছে। সমগ্র পৃথিবীর অন্যায় অপরাধকে দমন করায় জন্য ইন্টারপোল গঠন করা
হয়েছে। আন্তজাতিক অপরাধ দমন সংস্থা হিসেবেই এই
ইন্টারপোল গঠন করা হয়েছে, কিন্তু এটা গঠন করার পর আন্তর্জাতিক
অপরাধ কমেনি বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে ।
আমরা দেখি আমাদের সমাজে একটা অন্যায়
অপরাধ ঘটলে সেটাকে দূর করার জন্য একটা তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে । সেই তদন্ত কমিটির মধ্যে
আবার অপরাধ ঢুকছে। সেটাকে তদন্ত করার জন্য আবার আরেকটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে ।
এভাবে কমিটির পর কমিটি গঠন করা হচ্ছে ,আইনের পর আইন প্রনয়ন করা হচ্ছে, কিন্ত অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। মানুষের শান্তি নিরাপত্তা
দিনদিন হ্রাসই পাচ্ছে, মানুষের শান্তি নিরাপত্তা বিঘিœত হয়ে চলছে কারণ অপরাধ দূর করার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হচ্ছে সেটা সঠিক ব্যবস্থা নয়। আবার অনেক ক্ষেএে যারা ব্যবস্থাপনায় রয়েছে তাদের
সৎ ইচ্ছার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উর্দুতে একটা প্রবাদ বাক্য আছে
--------------
অর্থাৎ যতই চিকিৎসা করছি ততই রোগ বেড়ে যাচ্ছে , কারণ চিকিৎসা হচ্ছে রং।
ভুল চিকিৎসার কারণে
রোগ বেড়ে যাচ্ছে । সত্যিকার ভাবে জীবনে সকল ক্ষেত্রে শান্তি নিরাপওা প্রতিষ্ঠিত করতে
হলে আমল ব্যবস্থায় চলে আসতে হবে। অর্থ্যাৎ ,ঈমানী ব্যবস্থায় চলে আসতে হবে।
যখন মানুষের মধ্যে ঈমানী চেতনা সৃষ্ঠি
হবে , তখন মানুষ জেনা করতে পারবেনা । যখন মানুয়ের মাজে ঈমানী চেতনা জাগ্রত থাকবে তখন মানুষ চুরি ,
ছিনতাই, খুন খারাবী করতে পারবেনা,
যখন মানুষের মধ্যে ঈমান
থাকবে,তখন মানুষ অন্যের জান - মাল ইজ্জত আব্র নিয়ে ছিনিমিনি
খেলতে পারবেনা , এভাবেই অন্যেয় অপরাধ দুর হবে,এভাবেই নিরাপওা প্রতিষ্ঠিত হবে,এভাবেই মানুষের মধ্যে শান্তি স্বস্থি
ফিরে আসবে এবং সচ্চরিএবান মানুষ তৈরী হবে।
২১. উপসংহার/পরিশেষঃ
অন্যায়কারীর নিকট গিয়ে তাকে ভাল কাজের
আদেশ দেওয়া অবশ্যই ইবাদত। অন্যায়কারীর অনুপস্থিতিতে তার অন্যায় বা পাপের কথা অন্যের
কাছে বলা গীবত ও কঠিন হারাম। অন্যায়কারীকে আদেশ করুন,
নিষেধ বা দাওয়াত করুন।
সম্ভব না হলে তার অন্যায়কে ঘৃনা করুন ও তার হিদায়েতের জন্য দুআ করুন। অন্যায়কে অন্যায়
বলুন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলুন/সোচ্চার হউন। মহান আল্লাহ সকলকে অন্যায় অনাচার থেকে
বিরত রাখুন এবং তা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ ঈমানের ভূমিকা পালনে তাওফকি দান করুন। আমিন!!
মো. উমর ফারুক
বি. এ (অনার্স), এম. এ (রাঃবিঃ),
কামিল তাফসীর (ইঃবি), দাওরায়ে হাদীস (বেফাক)


No comments:
Post a Comment