Friday, May 7, 2021

 


আজ ২৫তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

আজ ২৫তম তারাবিতে সূরা মুজাদালার ১ম রুকু থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-২২) পর্যন্ত, সূরা হাশরের ১ম রুকু থেকে (আয়াত ১-২৪) ৩য় রুকু পর্যন্ত, সূরা মুমতাহিনার ১ম রুকু ও ২য় রুকু (আয়াত ১-১৩), সূরা সাফফের ১ম ও ২য় রুকু (আয়াত ১-১৪), সূরা জুমার ১ম ও ২য় রুকু (আয়াত ১-১১), সূরা মুনাফিকুনের ১ম রুকু ও ২য় রুকু (আয়াত ১-১১), সূরা তাগাবুনের ১ম ও ২য় রুকু (আয়াত ১-১৮), সূরা তালাকের ১ম ও ২য় রুকু (আয়াত ১-১২) এবং সূরা তাহরিমের ১ম ও ২য় রুকু (আয়াত ১-১২) পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৮তম পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

২৫তম তারাবীহ

সূরা মুজাদালার ১ নং আয়াত হতে সূরা তাহরীমের ১২ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৮তম পারা।)

সূরা মুজাদালার ১ নং আয়াত হতে ২২ মোট ২২ টি আয়াত

সূরা হাশরের ১ নং আয়াত হতে ২৪ মোট ২৪ টি আয়াত

সূরা মুমতাহিনার ১ নং আয়াত হতে ১৩ মোট ১৩ টি আয়াত

সূরা সাফফের ১ নং আয়াত হতে ১৪ মোট ১৪ টি আয়াত

সূরা জুমার ১ নং আয়াত হতে ১১ মোট ১১ টি আয়াত

সূরা মুনাফিকুনের ১ নং আয়াত হতে ১১ মোট ১১ টি আয়াত

সূরা তাগাবুনের ১ নং আয়াত হতে ১৮ মোট ১৮ টি আয়াত

সূরা তালাকের ১ নং আয়াত হতে ১২ মোট ১২ টি আয়াত

সূরা তাহরীমের ১ নং আয়াত হতে ১১ মোট ১২ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ২২+২৪+১৩+১৪+১১+১১+১৮+১২+১২=১৩৭

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

 

সূরা মুজাদালাহ : (আয়াত ১-২২):

১ম রুকু থেকে ৩য় রুকুতে (আয়াত ১-২২) যুদ্ধের বিধি-বিধান ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তারপর মুনাফিকদের আচরণের সমালোচনা করা হয়েছে এবং মুমিনদের জন্য মজলিসের আদব বর্ণনা করা হয়েছে।

الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنكُم مِّن نِّسَائِهِم مَّا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنكَرًا مِّنَ الْقَوْلِ وَزُورًا وَإِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ

তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল। [ সূরা মুজাদালাহ ৫৮:২ ]

وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِن نِّسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِّن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, অতঃপর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা এই একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর। [ সূরা মুজাদালাহ ৫৮:৩ ]

فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِن قَبْلِ أَن يَتَمَاسَّا فَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ذَلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ

যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব। [ সূরা মুজাদালাহ ৫৮:৪ ]

 

সূরা হাশর : (আয়াত ১-২৪):

১ম রুকু থেকে ৩য় রুকুতে (আয়াত ১-২৪) সত্য অস্বীকারকারীদের পরিণতি দুনিয়া ও আখেরাতে কত কঠিন, তা বলা হয়েছে। তারপর মুমিনদের উদ্দেশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেয়া হয়েছে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা'আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। [ সূরা হাশর ৫৯:১৮ ]

لَوْ أَنزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ

যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা'আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। [ সূরা হাশর ৫৯:২১ ]

সূরা মুমতাহিনা : (আয়াত ১-১৩):

১ম ও ২য় রুকুতে (আয়াত ১-১৩) আল্লাহ এবং মুমিনদের শত্রুকে যেন কোনো মুমিন বন্ধু মনে করে না বসে, তা কঠোরভাবে বলেছেন। পূর্ববর্তী নবীদের আলোচনার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

لَن تَنفَعَكُمْ أَرْحَامُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَفْصِلُ بَيْنَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ

তোমাদের স্বজন-পরিজন ও সন্তান-সন্ত তি কিয়ামতের দিন কোন উপকারে আসবে না। তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। [ সূরা মুমতাহিনা ৬০:৩ ]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ قَدْ يَئِسُوا مِنَ الْآخِرَةِ كَمَا يَئِسَ الْكُفَّارُ مِنْ أَصْحَابِ الْقُبُورِ

মুমিনগণ, আল্লাহ যে জাতির প্রতি রুষ্ট, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা পরকাল সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছে যেমন কবরস্থ কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে। [ সূরা মুমতাহিনা ৬০:১৩ ]

সূরা সাফ : (আয়াত ১-১৪):

১ম রুকু ও ২য় রুকুতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সুসংবাদের কথা আলোচিত হয়েছে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ (2) كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ (3) إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ (4)

মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? [ সূরা সফ ৬১:২ ] তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক। [ সূরা সফ ৬১:৩ ] আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর। [ সূরা সফ ৬১:৪ ]

 

يُرِيدُونَ لِيُطْفِؤُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

তারা মুখের ফুঁকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। [ সূরা সফ ৬১:৮ ]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ (10) تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (11)

মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে? [ সূরা সফ ৬১:১০ ] তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ। [ সূরা সফ ৬১:১১ ]

সূরা জুমা : (আয়াত ১-১১):

১ম রুকু ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ১-১১ ) রাসূল (সা.) এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। তাওরাতে রাসূল (সা.) এর বিষয়ে আলোচনা এসেছে, তা সত্তেও কাফেররা রাসূল (সা.)-কে মেনে নেয়নি। তাদের এই অস্বীকৃতির নিন্দা করা হয়েছে।

قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে। [ সূরা জুমা ৬২:৮ ]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। [ সূরা জুমা ৬২:৯ ]

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। [ সূরা জুমা ৬২:১০ ]

সূরা মুনাফিকুন : (আয়াত ১-১১):

১ম ও ২য় রুকুতে (আয়াত ১-১১) মুনাফেকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের কথা যাচাই-বাছাই না করে গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের আচরণ ও প্রকৃতি সম্পর্কেও বলা হয়েছে। শেষ আয়াতে মুমিনদের জন্য সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করা হয়েছে।


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ

মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ত তি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। [ সূরা মুনাফিক্বুন ৬৩:৯ ]

وَأَنفِقُوا مِن مَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ الصَّالِحِينَ

আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। [ সূরা মুনাফিক্বুন ৬৩:১০ ]

وَلَن يُؤَخِّرَ اللَّهُ نَفْسًا إِذَا جَاء أَجَلُهَا وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন। [ সূরা মুনাফিক্বুন ৬৩:১১ ]

সূরা তাগাবুন : (আয়াত ১-১৮):

৫টি রুকুতে (আয়াত ১-১৮) মৌলিকভাবে বলা হয়েছে মহান আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্যের প্রসঙ্গে। যারা সত্য অস্বীকার করে, তাদের ভ্রান্ত ধারণার অপনোদন করা হয়েছে। শেষ রুকুতে মুমিনদের জন্য হেদায়েতি নসিহত পেশ করা হয়েছে।

مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসে না এবং যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তার অন্তরকে সপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। [ সূরা তাগাবুন ৬৪:১১ ]

وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলুল্লাহর আনুগত্য কর। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমার রসূলের দায়িত্ব কেবল খোলাখুলি পৌছে দেয়া। [ সূরা তাগাবুন ৬৪:১২ ]

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنفِقُوا خَيْرًا لِّأَنفُسِكُمْ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শুন, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর। এটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। যারা মনের কার্পন্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। [ সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬ ]

 

সূরা তালাক : (আয়াত ১-১২):

১ম ও ২য় রুকুতে (আয়াত ১-১২০) তালাকের বিধান বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। শেষ রুকুতে আল্লাহর বিধান অস্বীকারকারীদের পরিণতি কী, তা বলা হয়েছে। পূর্ববর্তীদের জীবনের ঘটনাবলিতে পরবর্তীদের জন্য রয়েছে অনেক শিক্ষার উপাদান। সেসব থেকে শিক্ষা পার্থিব জীবন পরিচালনা করা।

সূরা তাহরিম : (আয়াত ১-১২):

১ম ও ২য় রুকুতে (আয়াত ১-১২) রাসূল (সা.) এর পারিবারিক একটি ঘটনা কেন্দ্র করে নাজিল হয়েছে। এখানে ওই ঘটনার আলোচনা এসেছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির সুন্দর সমাধান পেশ করা হয়েছে। শেষ রুকুতে তওবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে মানুষকে। রাসূল (সা.)-কে বলা হয়েছে মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য। সত্য ও বিশ্বাসীদের জন্য পূর্ববর্তীদের ইতিহাস শক্তি যোগায়। তাই তাদের কথাও আলোচনা করা হয়েছে।


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজ নকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা'আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে। [ সূরা তাহরীম ৬৬:৬ ]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান। [ সূরা তাহরীম ৬৬:৮ ]

 

 

চলবে..........

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ২৫তম তারাবীহ

সূরা মুজাদালার ১ নং আয়াত হতে সূরা তাহরীমের ১২ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৮তম পারা।)

সূরা মুজাদালার ১ নং আয়াত হতে ২২ মোট ২২ টি আয়াত

সূরা হাশরের ১ নং আয়াত হতে ২৪ মোট ২৪ টি আয়াত

সূরা মুমতাহিনার ১ নং আয়াত হতে ১৩ মোট ১৩ টি আয়াত

সূরা সাফফের ১ নং আয়াত হতে ১৪ মোট ১৪ টি আয়াত

সূরা জুমার ১ নং আয়াত হতে ১১ মোট ১১ টি আয়াত

সূরা মুনাফিকুনের ১ নং আয়াত হতে ১১ মোট ১১ টি আয়াত

সূরা তাগাবুনের ১ নং আয়াত হতে ১৮ মোট ১৮ টি আয়াত

সূরা তালাকের ১ নং আয়াত হতে ১২ মোট ১২ টি আয়াত

সূরা তাহরীমের ১ নং আয়াত হতে ১১ মোট ১২ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ২২+২৪+১৩+১৪+১১+১১+১৮+১২+১২=১৩৭

 

No comments:

Post a Comment