Saturday, May 8, 2021

আজ ২৬তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 


আজ ২৬তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

আজ ২৬তম তারাবিতে সূরা মুলক, সূরা কলাম, সূরা হাক্কাহ, সূরা মাআরিজ, সূরা নুহ, সূরা জিন, সূরা মুযযাম্মিল, সূরা মুদ্দাসসির, সূরা কেয়ামাহ, সূরা দাহর এবং সূরা মুরসালাত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৯তম পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

২৬তম তারাবীহ

সূরা মুলক হতে সূরা মুরসালাত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৯তম পারা।)

 

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

 

সূরা মুলক : (আয়াত ৩০, রুকু ২)

এ সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অসীম ক্ষমতা, কুদরত, একত্ববাদ, রাজত্ব ও মালিকানার বিবরণ রয়েছে। আল্লাহর অস্তিত্বের বহু প্রমাণ প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। কেয়ামত, জাহান্নাম এবং জাহান্নামের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। 

الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَّا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِن تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِن فُطُورٍ﴿﴾ ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِأً وَهُوَ حَسِيرٌ

তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? [ সূরা মুলক ৬৭:৩ ] অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ-তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। [ সূরা মুলক ৬৭:৪ ]


إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ

নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। [ সূরা মুলক ৬৭:১২ ]

সূরা কলম : (আয়াত ৫২, রুকু ২)

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর অনুপম গুণাবলি, উত্তম চরিত্র-মাধুর্য ও মান-মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর প্রতি দুশমনদের চারিত্রিক নীচতা, জঘন্যতা ও চিন্তার স্থূলতার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এ সূরায় একটি বাগানের মালিক এবং মালের হক আদায় না করায়, গরিব-দুঃখীকে তাদের প্রাপ্য না দেয়ায় বাগানের মালিকদের নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এরপর আখেরাতে কাফেরদের মন্দ পরিণতি এবং মুত্তাকিদের উত্তম পরিণাম সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। মুশরিকদের দেয়া কষ্টে রাসূল (সা.)-কে সবরের উপদেশ দেয়া হয়েছে।

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ

আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। [ সূরা কালাম ৬৮:৪ ]

إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ

মোত্তাকীদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে নেয়ামতের জান্নাত। [ সূরা কালাম ৬৮:৩৪ ]

সূরা আল-হাক্কাহ : (আয়াত ৫২, রুকু ২)

কেয়ামতের ভয়াবহতা এবং আদ, সামুদ ও লুত জাতির পরিণতির বিবরণ দেয়া হয়েছে এ সূরায়। এরপর কেয়ামতপূর্ব বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে নেককারদের ডান হাতে আমলনামা এবং হতভাগা বদকারদের বাম হাতে আমলনামা প্রদান করা হবে। তারপর জাহান্নামে কাফেরদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে রাসূল (সা.) এর নবুয়তের সত্যতা প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ (13) وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً (14) فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ (15) وَانْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ (16) وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ (17) يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ

যখন শিংগায় ফুকার দেয়া হবে, একটি মাত্র ফুকার; এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে, সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে। এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে ধারন করবে। সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।  [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:১৩-১৮ ]

خُذُوهُ فَغُلُّوهُ (30) ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ (31) ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ (32) إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ (33) وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ (34) فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هَاهُنَا حَمِيمٌ (35) وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ (36) لَا يَأْكُلُهُ إِلَّا الْخَاطِئُونَ (37)

ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ ধর ওকে গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও, অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে। অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে। নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাসী ছিল না।এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উসাহিত করত না। অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সূহৃদ নাই। এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত-নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত। গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না।  [ সূরা হাক্বকাহ ৬৯:৩০-৩৭ ]

সূরা মাআরিজ : (আয়াত ৪৪, রুকু ২)

কেয়ামতের আলোচনা দিয়ে সূরাটি শুরু হয়েছে। এতে মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতির বিবরণ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম এ বক্তব্যের মাধ্যমে সূরাটি শেষ হয়েছে।

يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاءُ كَالْمُهْلِ (8) وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ (9) وَلَا يَسْأَلُ حَمِيمٌ حَمِيمًا (10) يُبَصَّرُونَهُمْ يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِي مِنْ عَذَابِ يَوْمِئِذٍ بِبَنِيهِ (11) وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ (12) وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُؤْوِيهِ (13) وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ يُنْجِيهِ (14) كَلَّا إِنَّهَا لَظَى (15) نَزَّاعَةً لِلشَّوَى (16)

সেদিন আকাশ হবে গলিত তামার মত। এবং পর্বতসমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মত, বন্ধু বন্ধুর খবর নিবে না। যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান-সন্ততিকে, তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে, তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত, এবং পৃথিবীর সবকিছুকে; অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে। কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে দিবে।  [ সূরা মায়ারিজ ৭০:৮-১৬ ]

 

সূরা নুহ : (আয়াত ২৮, রুকু ২)

হজরত নুহ (আ.) এর দীর্ঘকাল মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা এবং এর বিপরীতে সম্প্রদায়ের আচরণ প্রসঙ্গে এ সূরায় আলোকপাত করা হয়েছে। হজরত নুহ (আ.) এর জবানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ফজিলত ও ফায়দা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন, বৃষ্টি দেবেন, সহায়-সম্পত্তি ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, বাগবাগিচা এবং নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দেবেন। আরো বলা হয়েছে কাফেরদের ধ্বংস এবং মুমিনদের জন্য মাগফিরাতের সুসংবাদ।

أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا﴿﴾ وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا

তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। [ সূরা নূহ ৭১:১৫ ] এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে। [ সূরা নূহ ৭১:১৬ ]

 

সূরা জিন : (আয়াত ২৮, রুকু ২)

পবিত্র কোরআনের অমীয় বাণী শুনে মুগ্ধ হয়েছিল এমন একদল জিনের আলোচনা করা হয়েছে সূরায়, যারা কোরআনের সত্যতা স্বীকার করে ধন্য হয়েছিল। এ দলটি শুধু নিজেরাই ঈমান গ্রহণ করেনি, বরং ফিরে গিয়ে নিজ সম্প্রদায়কেও ঈমানের দাওয়াত দেয়। জিনদের আলোচনা প্রসঙ্গে এ সূরায় নাবীয়ে আরাবি (সা.) এর দাওয়াত প্রসঙ্গেও আলোকপাত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়ে নিজ সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেন, আমি তো শুধু আল্লাহকে ডাকি, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করি না; উপকার-ক্ষতি কোনো কিছুই আমার হাতে নেই। আমার কাজ তো হলো আল্লাহর পয়গামকে তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া আর আল্লাহ জানেন, আমি তাঁর পয়গামকে তাঁর বান্দাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। গায়েবের বিষয়ে কেবল আল্লাহই জানেন মর্মে আলোচনার মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا

বলুনঃ আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি; [ সূরা জ্বীন ৭২:১ ]

عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا

তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। পরন্ত তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না। [ সূরা জ্বীন ৭২:২৬ ]

সূরা মুজ্জাম্মিল : (আয়াত ২০, রুকু ২)

রাসূল (সা.) এর জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর পার্থিব সবকিছু ত্যাগ করে আল্লাহর দিকে ছুটে চলা, ইবাদত-বন্দেগি, রাতের তাহাজ্জুদ ও রোনাজারি, কোরআনের তেলাওয়াত, দ্বীনের জন্য মুজাহাদা ও আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম ইত্যাদি প্রসঙ্গে। রাসূল (সা.)-কে মুশরিকদের কষ্টে সবর করার হুকুম দেয়া হয়েছে। ফেরাউন ও তার বাহিনীর পরিণতি শুনিয়ে নবীবিরোধীদের সতর্ক করা হয়েছে। সূরার শেষে মুসলিমদের প্রতি আল্লাহর সহজীকরণ এবং কাজ লাঘবের বর্ণনা রয়েছে।

إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِن ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِّنَ الَّذِينَ مَعَكَ وَاللَّهُ يُقَدِّرُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ عَلِمَ أَن لَّن تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَؤُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ اللَّهِ وَآخَرُونَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَاقْرَؤُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি এবাদতের জন্যে দন্ডায়মান হন রাত্রির প্রায় দু'তৃতীয়াং শ, অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দন্ডায়মান হয়। আল্লাহ দিবা ও রাত্রি পরিমাপ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর পূর্ণ হিসাব রাখতে পার না। অতএব তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমা পরায়ন হয়েছেন। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে-বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জেহাদে লিপ্ত হবে। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। তোমরা নিজেদের জন্যে যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:২০ ]

সূরা মুদ্দাসসির : (আয়াত ৫৬, রুকু ২)

আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আহ্বানের বার্তা দিয়ে এ সূরা শুরু করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর দাওয়াতের পথে যারা বাধা দিত, তাদের পরিণাম সম্পর্কেও বলা হয়েছে। কেয়ামতের দিন জান্নাতি এবং জাহান্নামিদের অবস্থা কী হবে, সে সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।

فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ (40) عَنِ الْمُجْرِمِينَ (41) مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ (42) قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ (43) وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ (44) وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ (45) وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ (46) حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ (47)

তারা জান্নাতে পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অপরাধীদের সম্পর্কে বলা হবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে? তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না, আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম। আমাদের নিকট মৃত্যুর আগমন পর্যন্ত।  [ সূরা মুদ্দাসসির ৭৪:৪০-৪৭ ]

সূরা কেয়ামা : (আয়াত ৪০, রুকু ২)

এ সূরার মূল আলোচ্য বিষয় পুনরুত্থান এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবন। এতে কেয়ামতের ভয়াবহতা, কঠিনতা এবং শাস্তির বিবরণ দেয়া হয়েছে এবং মৃত্যুর সময় মানুষের যে অবস্থা হবে, তার একটি চিত্র আঁকা হয়েছে। মানুষকে আল্লাহ অবশ্যই পুনরুত্থিত করবেন এ বিশ্বাস অন্তরে জগ্রত রাখতে হবে।

أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدًى (36) أَلَمْ يَكُ نُطْفَةً مِنْ مَنِيٍّ يُمْنَى (37) ثُمَّ كَانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوَّى (38) فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى (39) أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى (40)

মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে? সে কি স্খলিত বীর্য ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিন্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী। তবুও কি সেই আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম নন?  [ সূরা কিয়ামাত ৭৫:৩৬-৪০ ]

সূরা দাহর : (আয়াত ৩১, রুকু ২)

এ সূরায় জান্নাতের বিভিন্ন নেয়ামত এবং জাহান্নামের শাস্তির বিবরণ রয়েছে। মানুষের প্রতি আল্লাহ তায়ালার বিভিন্ন নেয়ামতের আলোচনার পর বলা হয়েছে, কিছু মানুষ কৃতজ্ঞ আর কিছু অকৃতজ্ঞ। প্রত্যেকেই নিজ কর্মফল লাভ করবে। শেষে সবর এবং আল্লাহর গুণকীর্তনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا (8) إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا (9) إِنَّا نَخَافُ مِنْ رَبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًا قَمْطَرِيرًا (10) فَوَقَاهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَّاهُمْ نَضْرَةً وَسُرُورًا (11) وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا (12)

তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে। তারা বলেঃ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না। আমরা আমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে এক ভীতিপ্রদ ভয়ংকর দিনের ভয় রাখি। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন সজীবতা ও আনন্দ। এবং তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক। [ সূরা দাহর ৭৬:৮-১২ ]

সূরা মুরসালাত : (আয়াত ৫০, রুকু ২)

কেয়ামতের সময় পৃথিবীর যে ভয়াবহ অবস্থা হবে, সে বিবরণ রয়েছে এই সূরায়। বারবার বলা হয়েছে, যারা কেয়ামত ও পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। মুত্তাকি এবং অপরাধীদের শেষ পরিণামের বিবরণ দিয়ে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ (34) هَذَا يَوْمُ لَا يَنْطِقُونَ (35) وَلَا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُونَ (36)

সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। এটা এমন দিন, যেদিন কেউ কথা বলবে না।এবং কাউকে তওবা করার অনুমতি দেয়া হবে না। [ সুরা মুরসালাত ৭৭:৩৪-৩৬]

চলবে..........

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ২৬তম তারাবীহ

সূরা মুলক হতে সূরা মুরসালাত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৯তম পারা।)

 

No comments:

Post a Comment