আজ ২৪তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু
আজ ২৪তম তারাবিতে সূরা জারিয়াতের ২য় ও ৩য় রুকু (আয়াত ৩১-৬০),
সূরা তুরের ১ম ও ২য় রুকু (আয়াত
১-৪৯), সূরা নাজমের ১ম
থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৬২) পর্যন্ত, সূরা কামারের ১ম থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৫৫)
পর্যন্ত, সূরা
আর-রহমানের ১ম থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৭৮) পর্যন্ত, সূরা ওয়াকেয়ার ১ম থেকে (আয়াত ১-৯৬) ৩য় রুকু
পর্যন্ত এবং সূরা হাদিদের ১ম থেকে (আয়াত ১-২৯) ৪র্থ রুকু পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে
আজ পড়া হবে ২৭তম পারা।
“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ তুলে ধরা হলো,
বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz
২৪তম তারাবীহ
সূরা জারিয়াতের
৩১ নং আয়াত হতে সূরা হাদীদের ২৯ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৭তম পারা।)
সূরা জারিয়াতের
১ নং আয়াত হতে ৬০ মোট ৩০ টি আয়াত
সূরা তুরের
১ নং আয়াত হতে ৪৯ মোট ৪৯ টি আয়াত
সূরা নাজমের
১ নং আয়াত হতে ৬২ মোট ৬২ টি আয়াত
সূরা কামারের
১ নং আয়াত হতে ৫৫ মোট ৫৫ টি আয়াত
সূরা রহমানের
১ নং আয়াত হতে ৭৮ মোট ৭৮ টি আয়াত
সূরা ওয়াকেয়ার
১ নং আয়াত হতে ৯৬ মোট ৯৬ টি আয়াত
সূরা হাদীদের
১ নং আয়াত হতে ২৯ মোট ২৯ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৩০+৪৯+৬২+৫৫+৭৮+৯৬+২৯ =৩৯৯
করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ
সূরা জারিয়াত (আয়াত
৩১-৬০):
২য় রুকুতে (আয়াত ৩১-৪৬) ফেরাউন সম্প্রদায়, আদ ও সামুদ জাতি
এবং হজরত নুহ ও লুত (আ.) এর সম্প্রদায়ের কী পরিণতি হয়েছিল তা তুলে ধরা হয়েছে।
৩য় রুকুতে (আয়াত ৪৭-৬০) আসমান-জমিন সৃষ্টির
প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। তারপর জিন ও মানবজাতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যক্ত
করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার জন্য। প্রত্যেকের
রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার ওপর। তবে যারা কুফর ও শিরকে লিপ্ত হবে, অচিরেই তাদের ওপর
অবধারিত আজাব নেমে আসবে।
জিন ও মানবজাতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا
لِيَعْبُدُونِ
আমার এবাদত করার জন্যই আমি
মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:৫৬ ]
সূরা তুর (আয়াত
১-৪৯):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-২৮) জাহান্নামের ভয়াবহতা
এবং জান্নাতে মুত্তাকিদের পুরস্কার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ
ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُم
مِّنْ عَمَلِهِم مِّن شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ
যারা ঈমানদার এবং যাদের
সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং
তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃত কর্মের জন্য
দায়ী। [ সূরা তুর ৫২:২১ ]
২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ২৯-৪৯) রাসূল (সা.) এর
দাওয়াতের বিপরীতে মুশরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের এসব
আচরণে দমে না গিয়ে রাসূলকে (সা.) দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ
وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ
بِأَعْيُنِنَا وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ حِينَ تَقُومُ
আপনি আপনার পালনকর্তার
নির্দেশের অপেক্ষায় সবর করুন। আপনি আমার দৃষ্টির সামনে আছেন এবং আপনি আপনার
পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ঘোষণা করুন যখন আপনি গাত্রোত্থান করেন। [ সূরা তুর
৫২:৪৮ ]
সূরা নাজম (আয়াত
১-৬২):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-২৫) রাসূল (সা.) এর
সত্যবাদিতা এবং মেরাজের বিবরণ রয়েছে। তারপর যারা মূর্তিপূজা করে, ফেরেশতাদের আল্লাহর
কন্যা সাব্যস্ত করে তাদের নিন্দা করা হয়েছে।
وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى﴿﴾
إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى
এবং প্রবৃত্তির
তাড়নায় কথা বলেন না। [ সূরা নাজম ৫৩:৩ ] কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়। [ সূরা নাজম ৫৩:৪ ]
ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى (6) وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى (7) ثُمَّ
دَنَا فَتَدَلَّى (8) فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى (9) فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ
مَا أَوْحَى (10) مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى (11) أَفَتُمَارُونَهُ عَلَى مَا
يَرَى (12) وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى (13) عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى
(14) عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى (15)
সহজাত শক্তিসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল। উর্ধ্ব দিগন্তে, অতঃপর
নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল। তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ
তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন।
রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে। তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে
দেখেছে? নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে, যার কাছে অবস্থিত বসবাসের
জান্নাত। [ সূরা
নাজম ৫৩:৬-১৫ ]
২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ২৬-৬২) কেয়ামত সম্পর্কে
আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে সব কিছুর চূড়ান্ত ফায়সালা হবে। তারপর বলা হয়েছে
ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকেই নিজ কৃতকর্মের জিম্মাদার। কারো গুনাহের বোঝা অপরের কাঁধে
চাপানো হবে না। সবশেষে আল্লাহর তায়ালার কুদরত সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ
وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ هُوَ
أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي
بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى
যারা বড় বড় গোনাহ ও
অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা
সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন
মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো
না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী। [ সূরা নাজম ৫৩:৩২ ]
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى
কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না। [ সূরা নাজম
৫৩:৩৮ ]
وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى
এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে, [ সূরা নাজম ৫৩:৩৯ ]
সূরা কামার (আয়াত
১-৫৫):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-২২) বলা হয়েছে কেয়ামত অতি
সন্নিকটে। তারপর রাসূল (সা.) এর বিশেষ মুজেজা অর্থাৎ হাতের ইশারায় চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার বর্ণনা দেয়া
হয়েছে।
اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانشَقَّ الْقَمَرُ
কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:১ ]
وَإِن يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُّسْتَمِرٌّ
তারা যদি কোন নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে
নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাগত জাদু। [ সূরা ক্বামার ৫৪:২ ]
وَكَذَّبُوا وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءهُمْ وَكُلُّ أَمْرٍ مُّسْتَقِرٌّ
তারা মিথ্যারোপ করছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশী
র অনুসরণ করছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরীকৃত হয়। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৩ ]
২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ২৩-৫৫) আল্লাহর আজাবে
ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন জাতির আলোচনার পর বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে ‘বল, কেমন ছিল আমার সাজা-শাস্তি!’ এ প্রশ্ন করার
পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘উপদেশ গ্রহণ করার জন্য আমি কোরআন শরিফ সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং আছে কি কোনো
উপদেশগ্রহীতা?’ মুত্তাকিদের
উত্তম পরিণতি, আল্লাহর
সন্তুষ্টি প্রাপ্তি এবং সম্মানজনক আবাসস্থল লাভের সুসংবাদ শোনানো হয়েছে।
উপদেশ গ্রহণ করার জন্য কোরআনকে সহজ করা হয়েছে (একই
আয়াত এই সূরায় ৪বার এসেছে)
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ
فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
আমি কোরআনকে সহজ করে
দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন
চিন্তাশীল আছে কি? [ সূরা
ক্বামার ৫৪:১৭ ]
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ
খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নির্ঝরিণীতে। [
সূরা ক্বামার ৫৪:৫৪ ]
فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍ
যোগ্য আসনে, সর্বাধিপতি সম্রাটের সান্নিধ্যে। [ সূরা ক্বামার ৫৪:৫৫ ]
সূরা আর-রহমান
(আয়াত ১-৭৮):
সূরা আর-রাহমানে ৩টি রুকু ও ৭৮টি আয়াত রয়েছে।
পুরো সূরায় দুনিয়া-আখিরাতের বিভিন্ন নেয়ামতের বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচয়ে বড় নেয়ামত
হলো পবিত্র কোরআন। জাগতিক কোনো নেয়ামতের সঙ্গে এর তুলনা হতে পারে না।
দুনিয়া-আখেরাতের নেয়ামতরাজির বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা মোট ৩১ বার প্রশ্ন
করেছেন, ‘অতএব তোমরা
তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামত আস্বীকার করবে?’ আরো বলা হয়েছে তোমার প্রতিপালকের নাম খুবই বরকতময়, তিনি মহান এবং
মহিমাময়। আহলে ইলম এবং জ্ঞানীজনরা বলেন, এখানে ‘নাম’ দ্বারা সূরার সূচনায় উল্লেখিত ‘রহমান’ নামটিই উদ্দেশ্য।
الرَّحْمَنُ (1) عَلَّمَ الْقُرْآنَ (2) خَلَقَ الْإِنْسَانَ (3) عَلَّمَهُ
الْبَيَانَ (4) الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ (5)
আল্লাহ দয়াময় তিনি মানুষ
সৃষ্টি করে কুরআন শিখিয়েছেন, কথা বলার ভাষা শিখিয়েছেন, হিসাব গনণার জন্য চন্দ্র সূর্য দিয়েছেন। [
সূরা আর-রহমান ৫৫:১-৫ ]
দুনিয়া-আখেরাতের নেয়ামতরাজির বর্ণনা প্রসঙ্গে
আল্লাহ তায়ালা মোট ৩১ বার প্রশ্ন করেছেন,
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
‘অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামত
আস্বীকার করবে?’
مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ (19) بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَا
يَبْغِيَانِ (20) فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ (21) يَخْرُجُ
مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ (22) فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا
تُكَذِّبَانِ (23) وَلَهُ الْجَوَارِ الْمُنْشَآتُ فِي الْبَحْرِ كَالْأَعْلَامِ
(24)
আল্লাহ তা’আলা দুই সমুদ্রকে পাশাপাশি প্রবাহিত
করেছেন, উভয়ের মাঝখানে
রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করে না। উভয় সমুদ্রে উৎপন্ন হয় মতি ও প্রবাল। সমুদ্রে
বিচরনশীল পর্বতসম জাহাজ গুলো আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে।[সূরা রাহমান.১৯-২৪]
পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে
শুধু আল্লাহর শান অবশিষ্ট থাকবে।
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ (26) وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ
وَالْإِكْرَامِ
ভূপৃষ্টের সবকিছুই ধ্বংসশীল। [ সূরা
আর-রহমান ৫৫:২৬ ] একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।
[ সূরা আর-রহমান ৫৫:২৭ ]
মানুষ ও জীন জাতি যদি আসমান
ও জমিনের সীমানা অতিক্রম করতে চায় তবে তারা তা পারবে না।
يَا مَعْشَرَ
الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ
হে জিন ও মানবকূল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না। [
সূরা আর-রহমান ৫৫:৩৩ ]
সূরা ওয়াকেয়া (আয়াত
১-৯৬):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-৩৮) কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার
সময়ের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। জান্নাতের বিভিন্ন নেয়ামত
সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।
২য় রুকুতে (আয়াত ৩৯-৭৪) আল্লাহর অস্তিত্ব, একত্ববাদ এবং পূর্ণ
কুদরত ও ক্ষমতার প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশের বিবরণ
দেয়া হয়েছে। তারপর পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্যের বিবরণ রয়েছে।
৩য় রুকুতে (আয়াত ৭৫-৯৬) বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত
জান্নাতি, সাধারণ
জান্নাতি এবং কাফের কেয়ামতের দিনের এই তিন শ্রেণির মানুষের অবস্থা সম্পর্কে
আলোকপাত করা হয়েছে।
কেয়ামতের দিন মানুষকে তিন দলে ভাগ করা হবেঃ
(ক) ডান দিকের একদল - যারা অতি ভাগ্যবান।
(খ) বাম দিকের এক দল - যারা হতভাগ্য।
(গ) অগ্রবর্তী এক দল - যারা আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত।[সূরা ওয়াকেয়া
(আয়াত ৭৫-৯৬)]
জান্নাতীদের বর্ণ্না এসেছে এইভাবেঃ স্বর্ণখচিত
সিংহাসনে হেলান দিয়ে পরস্পর মুখমুখি হয়ে বসবে। তাদের কাছে ঘোরাফিরা করবে চির কিশোররা
পানপাত্র ও খাটি সুরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে, যা পান করলে তাদের মাথা ধরবেনা, বিকার গ্রস্থও হবে না। আর তাদের পছন্দমত ফলমূল নিয়ে এবং রুচিসম্মত পাখির গোস্ত
নিয়ে। তথায় থাকবে আনত নয়না হুরগণ, আবরণে রক্ষিত মোতির
মতো। তারা সেখানে কোন অবান্তর ও খারাপ কথা শুনবেনা। শুধু শুনবে সালাম আর সালাম।ওরা
থাকবে কাটাবিহীন কুল বৃক্ষে এবং কাদি কাদি কলায়, দীর্ঘ ছায়ায় প্রবাহিত পানিতে, প্রচুর ফলমুলে যা শেষ
হবার নয়। তারা চিরকুমারী, কামিনী ও সমবয়স্কা।[সূরা ওয়াকেয়া-১৫-৩৭)
أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ (64) لَوْ نَشَاءُ
لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ (65)
তোমরা যে বীজ বপন করো সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ
কি?
তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্ন করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি। [
সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬: ৬৩-৬৫
]
لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا
الْمُطَهَّرُونَ
যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে
না। [ সূরা ওয়াক্বিয়া ৫৬:৭৯ ]
সূরা হাদিদ (আয়াত
১-২৯):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) বলা হয়েছে মহাবিশ্বে
যা কিছু আছে সব কিছু আল্লাহর। তিনি সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক। সৃষ্টির সবকিছুই তার
প্রশংসা করে।
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنفِقُوا فِي سَبِيلِ
اللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنكُم مَّنْ
أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ
الَّذِينَ أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى
وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদেরকে আল্লাহর পথে
ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন
আল্লাহই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে
ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে, সে
সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যদা বড় তাদের অপেক্ষা, যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে
আল্লাহ উভয়কে কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর,
আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক
জ্ঞাত। [ সূরা হাদীদ ৫৭:১০ ]
২য় রুকুতে (আয়াত ১১-১৯) হাশরের মাঠে
মুনাফিকদের কী করুণ পরিণতি হবে সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
৩য় ও ৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২০-২৯) আল্লাহ তায়ালা
মানুষের সামনে দুনিয়ার হকিকত তুলে ধরেছেন, যেন মানুষ দুনিয়ার বাহ্যিক মোহ ও সৌন্দর্য দেখে ধোঁকায় না পড়ে। তারপর যারা
আল্লাহকে ভয় করে এবং রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে তাদের জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান এবং
পথচলার নুর ও আলোর সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে।
سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا
كَعَرْضِ السَّمَاء وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ
وَرُسُلِهِ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ
الْعَظِيمِ
তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার
ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর
মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি
বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী। [
সূরা হাদীদ ৫৭:২১ ]
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ
إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ
يَسِيرٌ
পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন
বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে
লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। [ সূরা হাদীদ ৫৭:২২ ]
চলবে..........
আমি আবার বলছি
আজ ২৪তম তারাবীহ
সূরা জারিয়াতের
৩১ নং আয়াত হতে সূরা হাদীদের ২৯ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৭তম পারা।)
সূরা জারিয়াতের
১ নং আয়াত হতে ৬০ মোট ৩০ টি আয়াত
সূরা তুরের
১ নং আয়াত হতে ৪৯ মোট ৪৯ টি আয়াত
সূরা নাজমের
১ নং আয়াত হতে ৬২ মোট ৬২ টি আয়াত
সূরা কামারের
১ নং আয়াত হতে ৫৫ মোট ৫৫ টি আয়াত
সূরা রহমানের
১ নং আয়াত হতে ৭৮ মোট ৭৮ টি আয়াত
সূরা ওয়াকেয়ার
১ নং আয়াত হতে ৯৬ মোট ৯৬ টি আয়াত
সূরা হাদীদের
১ নং আয়াত হতে ২৯ মোট ২৯ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৩০+৪৯+৬২+৫৫+৭৮+৯৬+২৯ =৩৯৯




No comments:
Post a Comment