আজ ২৩তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ
বিষয়বস্তু
আজ ২৩তম তারাবিতে সূরা আহকাফের ১ম রুকু থেকে ৪র্থ রুকু (১-৩৫) পর্যন্ত,
সূরা মুহাম্মাদের ১ম রুকু থেকে
৪র্থ রুকু (আয়াত ১-৩৮) পর্যন্ত, সূরা ফাতহের ১ম রুকু থেকে ৪র্থ রুকু (আয়াত ১-২৯) পর্যন্ত,
সূরা হুজুরাতের ১ম রুকু ও ২য়
রুকু (আয়াত ১-১৮) পর্যন্ত, সূরা
কাফ এর ১ম রুকু থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৪৫) পর্যন্ত এবং সূরা জারিয়াতের ১ম রুকু ও ২য়
রুকু (আয়াত ১-৩০) পঠিত হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৬তম পারা।
“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ তুলে ধরা হলো,
বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz
২৩তম তারাবীহ
সূরা আহকাফের
১ নং আয়াত হতে সূরা জারিয়াতের ৩০ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৬তম পারা।)
সূরা আহকাফের
১ নং আয়াত হতে ৩৫ মোট ৩৫ টি আয়াত
সূরা মুহাম্মাদের
১ নং আয়াত হতে ৩৮ মোট ৩৮ টি আয়াত
সূরা ফাতহের
১ নং আয়াত হতে ২৯ মোট ২৯ টি আয়াত
সূরা হুজুরাতের
১ নং আয়াত হতে ১৮ মোট ১৮ টি আয়াত
সূরা কাফ
১ নং আয়াত হতে ৪৫ মোট ৪৫ টি আয়াত
সূরা
জারিয়াতের ১ নং আয়াত হতে ৩০ মোট ৩০ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৩৫+৩৮+২৯+১৮+৪৫+৩০=১৯৪
করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ
সূরা আহকাফ : (আয়াত
১-৩৫) :
১ম ও ২য় রুকুতে (আয়াত ১-২০) আল কোরআনের
মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। আগের কয়েকটি সূরার মতো এ সূরায়ও অবিশ্বাসীদের যুক্তি
দিয়ে বোঝানো হয়েছে, আল্লাহই
প্রকৃত ইলাহ ও রব। তারই ইবাদত করতে হবে। নয়তো পরকালের আদালতে কঠিনভাবে পাকড়াও হতে
হবে।
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকা যাবে না।
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ
مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَومِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَن دُعَائِهِمْ
غَافِلُونَ
যে ব্যক্তি আল্লাহর
পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না,
তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর
কে? তারা তো তাদের
পুজা সম্পর্কেও বেখবর। [ সূরা আহক্বাফ ৪৬:৫ ]
সত্যকে যারা অস্বীকার করে।
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ
قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلْحَقِّ لَمَّا جَاءهُمْ هَذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ
যখন তাদেরকে আমার সুস্পষ্ট
আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনানো হয়, তখন সত্য আগমন করার পর কাফেররা বলে,
এ তো প্রকাশ্য জাদু। [ সূরা
আহক্বাফ ৪৬:৭ ]
পার্থিব জিবনের ভোগ বিলাস আসল নয়।
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا
لَوْ كَانَ خَيْرًا مَّا سَبَقُونَا إِلَيْهِ وَإِذْ لَمْ يَهْتَدُوا بِهِ
فَسَيَقُولُونَ هَذَا إِفْكٌ قَدِيمٌ
আর কাফেররা মুমিনদের বলতে
লাগল যে, যদি
এ দ্বীন ভাল হত তবে এরা আমাদেরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারত না। তারা যখন এর
মাধ্যমে সুপথ পায়নি, তখন
শীঘ্রই বলবে, এ
তো এক পুরাতন মিথ্যা। [ সূরা আহক্বাফ ৪৬:১১ ]
ইসলামের উপর শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে।
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ
اسْتَقَامُوا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
নিশ্চয় যারা বলে,
আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ
অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের
কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না। [ সূরা আহক্বাফ ৪৬:১৩ ]
মা-বাবার সাথে সদাচারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ
إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ
ثَلَاثُونَ شَهْرًا
আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার
সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং
কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ
মাস। [ সূরা আহক্বাফ ৪৬:১৫ ]
৩য় ও ৪র্থ রুকু (আয়াত ২১-৩৫) আল্লাহর প্রতি
ঈমান না আনার কারণে পূর্ববর্তী উম্মতের পরিণত কী, তা বলা হয়েছে। সত্য অস্বীকারকারীদের
মোকাবিলায় ধৈর্যের উপদেশ দিয়ে সূরা শেষ করা হয়েছে।
রাসূল (সাঃ)-কে কাফেরদের নির্যাতনের মুখে সবর
করার জন্য বলা হয়েছে।
فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُوْلُوا الْعَزْمِ مِنَ
الرُّسُلِ وَلَا تَسْتَعْجِل لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ
لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِّن نَّهَارٍ بَلَاغٌ فَهَلْ يُهْلَكُ إِلَّا
الْقَوْمُ الْفَاسِقُونَ
অতএব,
আপনি সবর করুন,
যেমন উচ্চ সাহসী পয়গম্বরগণ
সবর করেছেন এবং ওদের বিষয়ে তড়িঘড়ি করবেন না। ওদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হত,
তা যেদিন তারা প্রত্যক্ষ
করবে, সেদিন তাদের
মনে হবে যেন তারা দিনের এক মুহুর্তের বেশী পৃথিবীতে অবস্থান করেনি। এটা সুস্পষ্ট
অবগতি। এখন তারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, যারা পাপাচারী সম্প্রদায়। [ সূরা আহক্বাফ
৪৬:৩৫ ]
সূরা মুহাম্মাদ :
(আয়াত ১-৩৮) :
১ম থেকে ৪র্থ রুকু (আয়াত ১-৩৮) বলা হয়েছে
সত্য অস্বীকারকারীদের মোকাবিলার নির্দেশ সম্পর্কে। এমনকি তাদের কোথায় আঘাত করে
কাবু করতে হবে, তা-ও বলে
দেয়া হয়েছে। যারা আল্লাহর নির্দেশ মানবে এবং ঈমানের জিন্দেগি যাপন করবে, তাদের জন্য
জান্নাতের সুখময় জীবন অপেক্ষা করছে। সূরার শেষের দিকে মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক
করে দিয়ে মোমিনদের উদ্দেশে নসিহতের মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়েছে।
যুদ্ধ নয় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই মুমিনদের
যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
فَإِذا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ
حَتَّى إِذَا أَثْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ
وَإِمَّا فِدَاء حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاء
اللَّهُ لَانتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لِّيَبْلُوَ بَعْضَكُم بِبَعْضٍ وَالَّذِينَ
قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ
অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের
সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন
তাদের গর্দার মার, অবশেষে
যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের
প্রতি অনুগ্রহ কর, না
হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না
শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে
প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান।
যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ
কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না। [ সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৪ ]
জান্নাতের নাজ-নিয়ামতের ও জাহান্নামের দুঃখ-কষ্ট
ও শাস্তির বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ
فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاء غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِن لَّبَنٍ لَّمْ
يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ
وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ
وَمَغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاء
حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءهُمْ
পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের
ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার
অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়,
পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু
শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের
পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং
যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন
বিচ্ছিন্ন করে দেবে? [ সূরা
মুহাম্মাদ ৪৭:১৫ ]
সূরা ফাতহ : (আয়াত
১-২৯) :
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) রাসূল (সা.) এর
মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। পরে মোমিনদের প্রশংসা ও তাদের প্রতিদান সম্পর্কে বলা
হয়েছে।
২য় রুকুতে (আয়াত ১১-১৭) মুনাফিকদের ব্যাপারে
সতর্ক-সজাগ করে দেয়া হয়েছে এ রুকুতে।
৩য় রুকুতে (আয়াত ১৮-২৬) আল্লাহ মোমিনদের বিজয়
ও ধনসম্পদ দেয়ার ওয়াদা করেছেন।
হুদায়বিয়ার সন্ধি ,বাইয়াত, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ
يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ
السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا
আল্লাহ মুমিনদের প্রতি
সন্তুষ্ট হলেন, যখন
তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল।
অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার
দিলেন। [ সূরা ফাতাহ ৪৮:১৮ ]
৪র্থ রুকুতে দেখানো স্বপ্ন আল্লাহ যে সত্য
করেছেন, সে ঘোষণা
দেয়া হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, মোমিনরা কাফেরদের ব্যাপারে কঠোর এবং নিজেদের ব্যাপারে কোমল।
এভাবে সূরার ইতি টানা হয়েছে।
মহা বিজয়ের দেখানো স্বপ্ন আল্লাহ সত্য করেছেন।
لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا
بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِن شَاء اللَّهُ آمِنِينَ
مُحَلِّقِينَ رُؤُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ فَعَلِمَ مَا لَمْ
تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِن دُونِ ذَلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا
আল্লাহ তাঁর রসূলকে সত্য
স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে
নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না।
অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন
বিজয়। [ সূরা ফাতাহ ৪৮:২৭ ]
রাসূল সাঃ কে প্রেরণের উদ্দেশ্য
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ
لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا
তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ
প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত
করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট। [ সূরা ফাতাহ ৪৮:২৮ ]
মোমিনরা কাফেরদের ব্যাপারে কঠোর এবং নিজেদের
ব্যাপারে কোমল।
مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاء عَلَى
الْكُفَّارِ رُحَمَاء بَيْنَهُمْ
মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ
কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। [
সূরা ফাতাহ ৪৮:২৯ ]
সূরা হুজুরাত :
(আয়াত ১-১৮) :
১ম ও ২য় রুকুতে (আয়াত ১-১৮) মোমিনদের জন্য
উপদেশ ও সামাজিক আদব এর কথা বলে দেয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) এর সঙ্গে আদব বজায় রাখার
নির্দেশ এবং ধরন দেয়া হয়েছে। মোমিনরা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে ভদ্রতাসূচিত আচরণ কী হবে, তা বলে দেয়া হয়েছে।
কীভাবে কথা বলতে হবে তার শিষ্টাচারের শিক্ষা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا
أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ
كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَن تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
মুমিনগণ! তোমরা নবীর
কন্ঠস্বরের উপর তোমাদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ
উঁচুস্বরে কথা বল, তাঁর
সাথে সেরূপ উঁচুস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিস্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা
টেরও পাবে না। [ সূরা হুজুরাত ৪৯:২ ]
শোনা কথায় কান না দেয়া এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আদেশ দেয়া হয়েছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءكُمْ
فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا
عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ
মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী
ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে,
যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন
সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত
না হও। [ সূরা হুজুরাত ৪৯:৬ ]
মুসলমানগণ পরস্পর ভাই ভাই।
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ
أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে
ভয় করবে-যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও। [ সূরা হুজুরাত ৪৯:১০ ]
মোমিনবান্দাদের কিছু মন্দ বিষয়
সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَومٌ مِّن قَوْمٍ
عَسَى أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَلَا نِسَاء مِّن نِّسَاء عَسَى أَن
يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ
بِئْسَ الاِسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُوْلَئِكَ
هُمُ الظَّالِمُونَ
মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না
করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে।
তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ
বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে
তারাই যালেম। [ সূরা হুজুরাত ৪৯:১১ ]
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيراً مِّنَ
الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب
بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا
فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ
মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয়
সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা
মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা
কবুলকারী, পরম দয়ালু। [ সূরা হুজুরাত ৪৯:১২ ]
শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো “তাকওয়া”।
إِنَّ
أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই
সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ,
সবকিছুর খবর রাখেন। [ সূরা
হুজুরাত ৪৯:১৩ ]
প্রকৃত মোমিনের বৈশিষ্ঠ্য কী তা বলা হয়েছে।
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا
بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ
وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
তারাই মুমিন,
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের
প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা
জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ। [ সূরা হুজুরাত ৪৯:১৫ ]
সূরা কাফ : (আয়াত
১-৪৫) :
১ম থেকে শেষ রুকুতে (আয়াত ১-৪৫) কোরআনের
মর্যাদা উল্লেখ করে সূরা শুরু করা হয়েছে। তার পর যারা এ কোরআন অস্বীকার করে তাদের
প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। পূর্বে যারা অস্বীকার করেছিল, সংক্ষেপে তাদের কথাও বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, মৃত্যু অবধারিত। আর মৃত্যুর পর একসময় পুনরুত্থান হতে হবে। সেদিন কাফেরদের চোখ
বিস্ফারিত হবে। জাহান্নামের উদর পূর্ণ হবে পাপীদের দিয়ে। আর জান্নাতে থাকবে
বিশ্বাসী বান্দারা। সর্বশেষ বলা হয়েছে, ‘হে নবী! সত্য অস্বীকারকারীদের জোর করে বিশ্বাস করানো তোমার দায়িত্ব নয়। তুমি
শুধু কোরআনের বাণীর সাহায্যে তাদের উপদেশ দাও।
أَفَلَمْ يَنظُرُوا إِلَى السَّمَاء فَوْقَهُمْ كَيْفَ
بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِن فُرُوجٍ
তারা কি তাদের উপরস্থিত আকাশের পানে
দৃষ্টিপাত করে না আমি কিভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? তাতে কোন ছিদ্রও নেই। [ সূরা ক্বাফ ৫০:৬ ]
وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ
وَأَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ
আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালার ভার স্থাপন করেছি এবং তাতে সর্বপ্রকার
নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উদগত করেছি। [ সূরা ক্বাফ ৫০:৭ ]
تَبْصِرَةً وَذِكْرَى لِكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ
এটা জ্ঞান আহরণ ও স্মরণ করার মত ব্যাপার
প্রত্যেক অনুরাগী বান্দার জন্যে। [ সূরা ক্বাফ ৫০:৮ ]
পূর্বে যারা অস্বীকার করেছিল, সংক্ষেপে তাদের কথাও বলা হয়েছে।
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَأَصْحَابُ الرَّسِّ وَثَمُودُ
ـ - وَعَادٌ وَفِرْعَوْنُ وَإِخْوَانُ لُوطٍ ـ وَأَصْحَابُ الْأَيْكَةِ وَقَوْمُ
تُبَّعٍ كُلٌّ كَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ وَعِيدِ ـ مَا
يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
তাদের পূর্বে মিথ্যাবাদী বলেছে নূহের
সম্প্রদায়, কুপবাসীরা এবং সামুদ সম্প্রদায়। [ সূরা
ক্বাফ ৫০:১২ ] আদ, ফেরাউন, ও লূতের সম্প্রদায়, [ সূরা ক্বাফ ৫০:১৩ ] বনবাসীরা এবং তোব্বা সম্প্রদায়। প্রত্যেকেই রসূলগণকে মিথ্যা বলেছে, অতঃপর আমার শাস্তির যোগ্য হয়েছে। [ সূরা ক্বাফ ৫০:১৪ ] সে যে কথাই উচ্চারণ করে,
তাই গ্রহণ করার জন্যে তার
কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। [ সূরা ক্বাফ ৫০:১৮ ]
জাহান্নামের উদর পূর্ণ হবে পাপীদের দিয়ে।
يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلَأْتِ
وَتَقُولُ هَلْ مِن مَّزِيدٍ
যেদিন আমি জাহান্নামকে
জিজ্ঞাসা করব; তুমি
কি পূর্ণ হয়ে গেছ? সে
বলবেঃ আরও আছে কি? [ সূরা
ক্বাফ ৫০:৩০ ]
সর্বশেষ বলা হয়েছে।
نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ وَمَا أَنتَ
عَلَيْهِم بِجَبَّارٍ فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَن يَخَافُ وَعِيدِ
তারা যা বলে,
তা আমি সম্যক অবগত আছি।
আপনি তাদের উপর জোরজবরকারী নন। অতএব, যে আমার শাস্তিকে ভয় করে,
তাকে কোরআনের মাধ্যমে উপদেশ
দান করুন। [ সূরা ক্বাফ ৫০:৪৫ ]
সূরা জারিয়াত :
(আয়াত ১-৩০) :
১ম রুকুতে (আয়াত ১-২৩) মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের
যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। আর তখন বিশ্বাসীদের অবস্থান হবে জান্নাতে।
ধনীর সম্পদে গরীবের অধিকার রয়েছে।
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّائِلِ
وَالْمَحْرُومِ
এবং তাদের ধন-সম্পদে
প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক ছিল। [ সূরা যারিয়া’ত ৫১:১৯ ]
২য় রুকুর প্রথমার্ধে (আয়াত ২৪-৩০) ইব্রাহিম
(আ.) ও তার কাছে আসা ফেরেশতাদ্বয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রথম
অংশ আজ,
আর আগামীকাল শেষ অংশ পঠিত হবে।
চলবে..........
আমি আবার বলছি
আজ ২৩তম তারাবীহ
সূরা
আহকাফের ১ নং আয়াত হতে সূরা জারিয়াতের ৩০ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৬তম পারা।)
সূরা
আহকাফের ১ নং আয়াত হতে ৩৫ মোট ৩৫ টি আয়াত
সূরা
মুহাম্মাদের ১ নং আয়াত হতে ৩৮ মোট ৩৮ টি আয়াত
সূরা
ফাতহের ১ নং আয়াত হতে ২৯ মোট ২৯ টি আয়াত
সূরা
হুজুরাতের ১ নং আয়াত হতে ১৮ মোট ১৮ টি আয়াত
সূরা কাফ
১ নং আয়াত হতে ৪৫ মোট ৪৫ টি আয়াত
সূরা
জারিয়াতের ১ নং আয়াত হতে ৩০ মোট ৩০ টি আয়াত
সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৩৫+৩৮+২৯+১৮+৪৫+৩০=১৯৪



No comments:
Post a Comment