Tuesday, May 4, 2021

আজ ২২তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু



আজ ২২তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

আজ ২২তম তারাবিতে সূরা হামিম সাজদার ৬ষ্ঠ রুকু (৪৭-৫৪) পর্যন্ত, সূরা শুরার ১ম রুকু থেকে ৫ম রুকু (আয়াত ১-৫৩) পর্যন্ত, সূরা জুখরুফের ১ম রুকু থেকে ৭ম রুকু (আয়াত ১-৮৯) পর্যন্ত, সূরা দুখানের ১ম রুকু থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৫৯) পর্যন্ত এবং সূরা জাসিয়ার ১ম রুকু থেকে (আয়াত ১-৩৭) ৪র্থ রুকু পর্যন্ত পঠিত হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৫তম পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

২২তম তারাবীহ

সূরা হা-মীম সেজদার ৪৭ নং আয়াত হতে সূরা জাসিয়ার ৩৭ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৫তম পারা।)

সূরা হা-মীম সেজদার ৪৭ নং আয়াত হতে ৫৪ মোট ৮ টি আয়াত

সূরা শুরার ১ নং আয়াত হতে ৫৩ মোট ৫৩ টি আয়াত

সূরা ঝুখরুফের ১ নং আয়াত হতে ৮৯ মোট ৮৯ টি আয়াত

সূরা দুখান ১ নং আয়াত হতে ৫৯ মোট ৫৯ টি আয়াত

সূরা জাসিয়ার ১ নং আয়াত হতে ৩৭ মোট ৩৭ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৮+৫৩+৮৯+৫৯+৩৭=২৭৬

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

 

সূরা হামিম সাজদা : (আয়াত ৪৭-৫৪) :

৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৪৭-৫৪) কেয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তারপর মানুষের সুখের ও দুঃখের সময় কী অবস্থা হয় সে বিবরণ দেয়া হয়েছে। দুঃখের সময় মানুষ আল্লাহমুখী হয়, দোয়া কান্নাকাটি করে। আর সুখের সময় আল্লহকে ভুলে যায়।

وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الْإِنسَانِ أَعْرَضَ وَنَأى بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُو دُعَاء عَرِيضٍ

আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে। [ সূরা হা-মীম ৪১:৫১ ]

সূরা শুরা : (আয়াত ১-৫৩) :

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৯) আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা.)-কে সম্বোধন করে এরশাদ করছেন, ‘তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে আল্লাহ তায়ালা ওহি প্রেরণ করেন, যিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।সুতরাং ওহির উপত্তিস্থল একটাই, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার কাছে এক আল্লাহই ওহি পাঠিয়েছেন। তারপর আল্লাহ তায়ালার কুদরতের কথা বর্ণনা করার পর পুণরায় অহির আলোচনা করা হয়েছে।

وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِّتُنذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنذِرَ يَوْمَ الْجَمْعِ لَا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ

এমনি ভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে। [ সূরা শূরা ৪২:৭ ]

২য় রুকুতে (আয়াত ১০-১৯) বলা হয়েছে আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ। তিনি মানুষকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। মানুষের বংশবৃদ্ধিও তার কুদরতে হয়। আল্লাহ মানুষের জীবন যাপনের জন্য যে সংবিধান দিয়েছেন তা আকড়ে ধরা।

فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন। [ সূরা শূরা ৪২:১১ ]

সকল নবী ও রাসূলকে ইকামতের দীন বা দীন প্রতিষ্ঠার আদেশ দেয়া হয়েছে

شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاء وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ

তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মূশরেকদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আমন্ত্রণ জানান, তা তাদের কাছে দুঃসাধ্য বলে মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে পথ প্রদর্শন করেন। [ সূরা শূরা ৪২:১৩ ]

৩য় রুকুতে (আয়াত ২০-২৯) বলা হয়েছে যারা আখেরাতের ফল চায় আল্লাহ তাদের জন্য আখেরাত বরাদ্দ করেন। আর যারা দুনিয়ার ফল চায় আল্লাহ তাকে তাই দেন। আখেরাতে তার কিছু থাকে না। 

مَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ

যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না। [ সূরা শূরা ৪২:২০ ]

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩০-৪৩) বলা হয়েছে মানুষের দুনিয়াতে যে অবস্থা আসে তা তার কর্মের ফল। যে ভালো কাজ করে আল্লাহ তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন করেন। আর যে মন্দ কাজ করে তার ভাগ্য অপ্রসন্ন হয়। 

وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ

তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন। [ সূরা শূরা ৪২:৩০ ]

وَجَزَاء سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ

আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই। [ সূরা শূরা ৪২:৪০ ]

৫ম রুকুকে (আয়াত ৪৪-৫৩) বলা হয়েছে কন্যা বা পুত্র সন্তান দেয়া অথবা সন্তান একেবারেই না দেয়া সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এখতিয়ারাধীন। মানুষের এতে কোনো হাত নেই। আল্লাহ যা দেন তাই মেনে নেয়া মুমিনের কর্তব্য।

لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاء يَهَبُ لِمَنْ يَشَاء إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاء الذُّكُورَ

নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তা'আলারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তা ন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। [ সূরা শূরা ৪২:৪৯ ]

أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَن يَشَاء عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ

অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। [ সূরা শূরা ৪২:৫০ ]

 

সূরা জুখরুখ : (আয়াত ১-৮৯) :

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১৫) বলা হয়েছে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য হেদায়েত ও রহমতস্বরূপ এ কোরআন নাজিল করেছেন। মানুষের জন্য আল্লাহ নেয়ামত স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। 

২য় রুকুতে (আয়াত ১৬-২৫) আদর্শ-বিমুখ জাতির পরিণতির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর কিছু নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। তারপর জাহেলি যুগের কিছু ঘৃণ্য প্রথার সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন কন্যাসন্তান হলে পিতার মুখ কালো হয়ে যাওয়া ও জ্যান্ত পুঁতে ফেলা ইত্যাদি।

وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمَنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ

তারা রহমান আল্লাহর জন্যে যে, কন্যা-সন্তা ন বর্ণনা করে, যখন তাদের কাউকে তার সংবাদ দেয়া হয়, তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং ভীষণ মনস্তাপ ভোগ করে। [ সূরা যূখরুফ ৪৩:১৭ ]

৩য় রুকুতে (আয়াত ২৬-৩৫) আল্লাহর একত্ববাদের কথা বলা হয়েছে। সবাই যদি আল্লাহকে মেনে নিতো তাহলে তিনি সবাইকে প্রভুত সম্পদে ভরে দিতেন। পৃথিবীর যাবতীয় ধনসম্পদ থেকে আল্লাহর করুণা অতি উত্তম।

أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَةَ رَبِّكَ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُم مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُم بَعْضًا سُخْرِيًّا وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ

তারা কি আপনার পালনকর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহণ করে। তারা যা সঞ্চয় করে, আপনার পালনকর্তার রহমত তদপেক্ষা উত্তম। [ সূরা যূখরুফ ৪৩:৩২ ]

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩৬-৪৫) বলা হয়েছে আখেরাতে যার আমল কম হবে এবং বিনিময়ে শাস্তির ফায়সালা হবে তখন আফসোস করে কোনো লাভ হবে না। যা করার দুনিয়াতে থেকেই করতে হবে।

৫ম রুকুতে (আয়াত ৪৬-৫৬) ফেরআউনের কাছে হজরত মুসা (আ.) এর প্রেরণের প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। ফেরআউনের হঠকারিতা ও দাম্ভিকতা কোনো কাজে আসেনি। বরং আল্লাহর হুকুম মেনে যে চলবে তার জন্য রয়েছে অফুরন্ত খুশির সংবাদ।

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا إِلَى فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَقَالَ إِنِّي رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ

আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর সে বলেছিল, আমি বিশ্ব পালনকর্তার রসূল। [ সূরা যূখরুফ ৪৩:৪৬ ]

فَلَمَّا جَاءهُم بِآيَاتِنَا إِذَا هُم مِّنْهَا يَضْحَكُونَ

অতঃপর সে যখন তাদের কাছে আমার নিদর্শনাবলী উপস্থাপন করল, তখন তারা হাস্যবিদ্রুপ করতে লাগল। [ সূরা যূখরুফ ৪৩:৪৭ ]

 

৬ষ্ঠ রুকু ও ৭ম রুকুতে (আয়াত ৫৭-৮৯) বলা হয়েছে ইসলাম নারীকে তার আসল মর্যাদায় উন্নীত করে। যারা আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলবে তারা পরকালে জান্নাতে বসবাস করবে। তারপর আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা.)-কে নির্দেশ প্রদান করে বলছেন আপনি জাহেলদের এড়িয়ে চলুন এবং বলুন সালাম, অচিরেই তারা নিজেদের পরিণতি জানতে পারবে।

وَقِيلِهِ يَارَبِّ إِنَّ هَؤُلَاء قَوْمٌ لَّا يُؤْمِنُونَ

রসূলের এই উক্তির কসম, হে আমার পালনকর্তা, এ সম্প্রদায় তো বিশ্বাস স্থাপন করে না। [ সূরা যূখরুফ ৪৩:৮৮ ]

فَاصْفَحْ عَنْهُمْ وَقُلْ سَلَامٌ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ

অতএব, আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন এবং বলুন, `সালাম'। তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। [ সূরা যূখরুফ ৪৩:৮৯ ]

 

সূরা দুখান : (আয়াত ১-৫৯) :

মক্কার মুশরিকরা দুর্ভিক্ষের দিনে যে ধোঁয়াচ্ছন্ন অবস্থা দেখতে পেয়েছিল তার বিবরণ রয়েছে এই সূরায়। তাই একে সূরা দুখান বলা হয়।

 

১ম রুকুতে (আয়াত ১-২৯) বলা হয়েছে আল্লাহ যেদিন অপরাধীদেরকে পাকড়াও করবেন সেদিন খুব ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। তবে আল্লাহ তাদেরকে অবকাশ দেন। সময় থাকতেই সুযোগ কাজে লাগানো উচি 


إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ

আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। [ সূরা দুখান ৪৪:৩ ]

فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ

এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। [ সূরা দুখান ৪৪:৪ ]

أَمْرًا مِّنْ عِندِنَا إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ

আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। [ সূরা দুখান ৪৪:৫ ]

 

২য় রুকুতে (আয়াত ৩০-৪২) আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলকে যে ফেরআউনের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন সে প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে।

وَلَقَدْ نَجَّيْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنَ الْعَذَابِ الْمُهِينِ

আমি বনী-ইসরাঈলকে অপমানজনক শাস্তি থেকে উদ্ধার করছি। [ সূরা দুখান ৪৪:৩০ ]

مِن فِرْعَوْنَ إِنَّهُ كَانَ عَالِيًا مِّنَ الْمُسْرِفِينَ

ফেরাউন সে ছিল সীমালংঘনকারীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। [ সূরা দুখান ৪৪:৩১ ]

 

৩য় রুকুকে (আয়াত ৪৩-৫৯) কাফেরদের জন্য প্রস্তুতকৃত ভয়াবহ শাস্তি এবং মুমিনদের জন্য সুসজ্জিত নেয়ামতগুলোর বর্ণনা দিয়ে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে। 

إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامٍ أَمِينٍ

নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে- [ সূরা দুখান ৪৪:৫১ ]

فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ

উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে। [ সূরা দুখান ৪৪:৫২ ]

 

সূরা জাসিয়া : (আয়াত ১-৩৭) :

জাসিয়া শব্দের অর্থ হাঁটু গেড়ে বসা। কেয়ামতের দিন মানুষ ভীতির কারণে আল্লাহর দরবারে হাঁটু গেড়ে বসে পড়বে। এই ভয়ানক অবস্থার বর্ণনা সূরায় থাকায় এটিকে সূরা জাসিয়া বলা হয়।

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১১) সৃষ্টিজগতের সেইসব নিদর্শনের আলোচনা রয়েছে, যার প্রতিটি আল্লাহর বড়ত্ব, মহিমা, কুদরত ও একত্ববাদের জীবন্ত প্রমাণ। তারপর আসমানি বার্তা শুনে যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের পরিণতির বিবরণ দেয়া হয়েছে।

إِنَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِّلْمُؤْمِنِينَ

নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে মুমিনদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [ সূরা যাসিয়া ৪৫:৩ ]

২য় রুকু ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ১২-২৬) বনি ইসরাইলকে দেয়া আল্লাহর নেয়ামতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তবে নেয়ামতের কদর না করায় তারা শাস্তির যোগ্য হয়েছিল। সব যুগের কাফেরদের একই অবস্থা হবে।

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاء فَعَلَيْهَا ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ

যে সকাজ করছে, সে নিজের কল্যাণার্থেই তা করছে, আর যে অসকাজ করছে, তা তার উপরই বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। [ সূরা যাসিয়া ৪৫:১৫ ]

وَلَقَدْ آتَيْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ

আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুওয়ত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে পরিচ্ছন্ন রিযিক দিয়েছিলাম এবং বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। [ সূরা যাসিয়া ৪৫:১৬ ]

وَآتَيْنَاهُم بَيِّنَاتٍ مِّنَ الْأَمْرِ فَمَا اخْتَلَفُوا إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمْ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ إِنَّ رَبَّكَ يَقْضِي بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ

আরও দিয়েছিলাম তাদেরকে ধর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। অতঃপর তারা জ্ঞান লাভ করার পর শুধু পারস্পরিক জেদের বশবর্তী হয়ে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, আপনার পালনকর্তা কেয়ামতের দিন তার ফয়সালা করে দেবেন। [ সূরা যাসিয়া ৪৫:১৭ ]

 

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২৭-৩৭) কেয়ামত ও হাশরের মাঠের বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে।

 

চলবে..........

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ২২তম তারাবীহ

সূরা হা-মীম সেজদার ৪৭ নং আয়াত হতে সূরা জাসিয়ার ৩৭ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৫তম পারা।)

সূরা হা-মীম সেজদার ৪৭ নং আয়াত হতে ৫৪ মোট ৮ টি আয়াত

সূরা শুরার ১ নং আয়াত হতে ৫৩ মোট ৫৩ টি আয়াত

সূরা ঝুখরুফের ১ নং আয়াত হতে ৮৯ মোট ৮৯ টি আয়াত

সূরা দুখান ১ নং আয়াত হতে ৫৯ মোট ৫৯ টি আয়াত

সূরা জাসিয়ার ১ নং আয়াত হতে ৩৭ মোট ৩৭ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৮+৫৩+৮৯+৫৯+৩৭=২৭৬

 



No comments:

Post a Comment