Monday, May 3, 2021

আজ ২১তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু



আজ ২১তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

আজ ২১তম তারাবিতে সূরা জুমারের ৪র্থ থেকে ৮ম রুকু (৩২-৭৫) পর্যন্ত, সূরা মুমিনের ১ম থেকে ৯ম রুকু (আয়াত ১-৮৫) পর্যন্ত এবং সূরা হামীম সেজদার ১ম থেকে (আয়াত ১-৪৬) ৬ষ্ঠ রুকু পর্যন্ত পঠিত হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৪তম পারা। 

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

২১তম তারাবীহ

সূরা ঝুমারের ৩২ নং আয়াত হতে সূরা হা-মীম সেজদার ৪৬ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৪তম পারা।)

সূরা ঝুমারের ৩২ নং আয়াত হতে ৭৫ মোট ৪৩ টি আয়াত

সূরা মুমিনের ১ নং আয়াত হতে ৮৫ মোট ৮৫ টি আয়াত

সূরা হা-মীম সেজদার ১ নং আয়াত হতে ৪৬ মোট ৪৬ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৪৩+৮৫+৪৬=১৭৪

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

 

সূরা জুমার : (আয়াত ৩২-৭৫) :

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩২-৪১) বলা হয়েছে মুত্তাকি ও মুশরিকদের কর্মফল কেমন হবে এ সম্পর্কে। যারা আল্লাহকে মেনে চলবে তাদের জন্য শান্তি ও পুরস্কার। আর যারা আল্লাহকে অস্বীকার করবে তাদের জন্য অশান্তি ও শাস্তি।

قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ

বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে। [ সূরা যুমার ৩৯:৩৮ ]

৫ম রুকুতে (আয়াত ৪২-৫২) বলা হয়েছে যারা জুলুম করে তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। যাবতীয় শক্তির মালিক একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। আরো বলা হয়েছে, আল্লাহ যার জন্য চান রিজিক বাড়িয়ে দেন। আর যার জন্য চান তার রিজিক কমিয়ে দেন।

فَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنَاهُ نِعْمَةً مِّنَّا قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ بَلْ هِيَ فِتْنَةٌ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকতে শুরু করে, এরপর আমি যখন তাকে আমার পক্ষ থেকে নেয়ামত দান করি, তখন সে বলে, এটা তো আমি পূর্বের জানা মতেই প্রাপ্ত হয়েছি। অথচ এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না। [ সূরা যুমার ৩৯:৪৯ ]

 

৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৫৩-৬৩) বলা হয়েছে আল্লাহ প্রত্যেক কওমকে সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য পয়গম্বর প্রেরণ করেছেন। তাদেরকে মেনে চলা বুদ্ধিমানের পরিচয়। অন্যথায় অনেক ভয়াবহ পরিণতি হবে।

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [ সূরা যুমার ৩৯:৫৩ ]

কিয়ামত / মৃত্যু আসার আগেই আল্লাহর ইবদত করতে হবে।

وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ

তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমূখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আযাব আসার পূর্বে। এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না; [ সূরা যুমার ৩৯:৫৪ ]

وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ العَذَابُ بَغْتَةً وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ

তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ উত্তম বিষয়ের অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অতর্কিতে ও অজ্ঞাতসারে আযাব আসার পূর্বে, [ সূরা যুমার ৩৯:৫৫ ]

৭ম রুকুতে (আয়াত ৬৪-৭০) বলা হয়েছে কেয়ামত অবশ্যই হবে। সেদিন আসমান জমিন সব আল্লাহর হাতের মুঠোয় থাকবে। প্রত্যেককে সেদিন যার যার আমলের বিনিময় প্রদান করা হবে।

بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُن مِّنْ الشَّاكِرِينَ

বরং আল্লাহরই এবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত থাকুন। [ সূরা যুমার ৩৯:৬৬ ]

৮ম রুকুতে (আয়াত ৭১-৭৫) বলা হয়েছে কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দল বেঁধে হাকিয়ে নেয়া হবে। আর জান্নাতীদেরকেও দলে দলে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে। আর বলা হবে এসব তোমাদের পর্থিব জীবনের প্রাপ্তি। যা আগে বিশ্বাস কর নাই, এখন তা বাস্তবে দেখো।

জান্নাতবাসী ও জাহান্নামীদের অভ্যর্থনার ধরন ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয়েছে।

وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاؤُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَاء يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ

কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌছাবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বর আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করত এবং সতর্ক করত এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে? তারা বলবে, হ্যাঁ, কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবায়িত হয়েছে। [ সূরা যুমার ৩৯:৭১ ]

قِيلَ ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ

বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। কত নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাসস্থল। [ সূরা যুমার ৩৯:৭২ ]

وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاؤُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ

যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উম্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। [ সূরা যুমার ৩৯:৭৩ ]

وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاء فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। মেহনতকারীদের পুরস্কার কতই চমকার। [ সূরা যুমার ৩৯:৭৪ ]

 

সূরা মুমিন : (আয়াত ১-৮৫) :

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৯) বলা হয়েছে হজরত নুহ (আ.)-এর কওমের ব্যাপারে বলা হয়েছে। যারা তার দাওয়াত কবুল করেনি আল্লাহ তাদেরকে প্লাবনে ডুবিয়ে মেরেছেন।


مَا يُجَادِلُ فِي آيَاتِ اللَّهِ إِلَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَا يَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِي الْبِلَادِ


কাফেররাই কেবল আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে। [ সূরা মুমিন ৪০:৪ ]

 

الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ

যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। [ সূরা মুমিন ৪০:৭ ]

২য় রুকুতে (আয়াত ১০-২০) বলা হয়েছে যারা কুফুরি করবে আল্লাহ তাদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। কেয়ামতের ময়দানে সবার আসল অবস্থা প্রকাশিত হয়ে পড়বে।

৩য় ও ৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২১-৩৭) ফেরআউন ও হামানের প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যারা জেনে-বুঝে সত্যকে অস্বীকার করে তাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন।

৫ম রুকুতে (আয়াত ৩৮-৫০) বলা হয়েছে পার্থিব জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহ মানুষকে স্থায়ী জগতের প্রতি আহ্বান করেন। আর শয়তান মানুষকে ক্ষণস্থায়ী জগতের ধোঁকায় ফেলে রাখে। অনর্থক বিতর্ক করা উচিত নয়।

৬ষ্ঠ থেকে ৮ম রুকু (আয়াত ৫১-৭৮) পর্যন্ত দুনিয়ার অসারতা ও আখেরাতের অবিনশ্বতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।


فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ

অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন। [ সূরা মুমিন ৪০:৫৫ ]


قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَمَّا جَاءنِيَ الْبَيِّنَاتُ مِن رَّبِّي وَأُمِرْتُ أَنْ أُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ

বলুন, যখন আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে গেছে, তখন আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যার পূজা কর, তার এবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আমাকে আদেশ করা হয়েছে বিশ্ব পালনকর্তার অনুগত থাকতে। [ সূরা মুমিন ৪০:৬৬ ]

৯ম রুকুতে (আয়াত ৭৯-৮৫) বলা হয়েছে মুমিনরা যেন পৃথিবীতে ভ্রমণ করে আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে। আল্লাহ তার সৃষ্টি জগতের মধ্যে অনেক বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছেন।

 

সূরা হামীম সেজদা : (আয়াত ১-৪৬) :

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৮) বলা হয়েছে রাসুল (সা.) একজন মানুষ। তিনি ফেরেশতা নন কিংবা অন্য কিছু নন। তবে পার্থক্য হচ্ছে তার ওপর অহি অবতীর্ণ করা হয়।

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَاسْتَقِيمُوا إِلَيْهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ وَوَيْلٌ لِّلْمُشْرِكِينَ

বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ, আমার প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ, অতএব তাঁর দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ, [ সূরা হা-মীম ৪১:৬ ]

 

২য় রুকুতে (আয়াত ৯-১৮) আসমান ও জমিনের সৃষ্টি কুশলতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। আদ ও সামুদ সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আমরা যেন সতর্ক হই, আল্লার নাফরমান না হই।


৩য় ও ৪র্থ রুকুতে (আয়াত ১৯-৩২) জাহান্নামীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মানুষ যা কিছু করে সব কিছু আল্লাহ জানেন এবং হাশরের মাঠে সব কর্মের প্রমাণ উপস্থিত করা হবে।

কোরান শ্রবনে বাধা প্রদান

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ

আর কাফেররা বলে, তোমরা এ কোরআন শ্রবণ করো না এবং এর আবৃত্তিতে হঞ্জগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও। [ সূরা হা-মীম ৪১:২৬ ]

 

وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا رَبَّنَا أَرِنَا الَّذَيْنِ أَضَلَّانَا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ نَجْعَلْهُمَا تَحْتَ أَقْدَامِنَا لِيَكُونَا مِنَ الْأَسْفَلِينَ

কাফেররা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! যেসব জিন ও মানুষ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে দেখিয়ে দাও, আমরা তাদেরকে পদদলিত করব, যাতে তারা যথেষ্ট অপমানিত হয়। [ সূরা হা-মীম ৪১:২৯ ]

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ

নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। [ সূরা হা-মীম ৪১:৩০ ]

نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ

ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে তোমরা দাবী কর। [ সূরা হা-মীম ৪১:৩১ ]

نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ

এটা ক্ষমাশীল করুনাময়ের পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন। [ সূরা হা-মীম ৪১:৩২ ]

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, কর্ম করে এবং বলে, আমি একজন আজ্ঞাবহ, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার? [ সূরা হা-মীম ৪১:৩৩ ]

 

৫ম ও ৬ষ্ঠ রুকুর প্রথমার্ধে (আয়াত ৩৩-৪৬) মুমিনের গুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নিজেও ভালো কাজ করা ও অন্যকেও ভালো কাজের দিকে আহ্বান করা। আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অবলোকন করা ও আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস দৃঢ় করা। শেষ দিকে হজরত মুসা (আ.) সম্পর্কে বলা হয়েছে। যে ভালো করবে সে তার সুফল পাবে। আর যে মন্দ কাজে অভ্যস্ত হবে সে তার কুফল ভোগ করবে।

وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَّقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاء وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُوْلَئِكَ يُنَادَوْنَ مِن مَّكَانٍ بَعِيدٍ

আমি যদি একে অনারব ভাষায় কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায় বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, কিতাব অনারব ভাষায় আর রসূল আরবী ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়। [ সূরা হা-মীম ৪১:৪৪ ]

 

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاء فَعَلَيْهَا وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ

যে সকর্ম করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই করে, আর যে অসকর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না। [ সূরা হা-মীম ৪১:৪৬ ]

 

চলবে..........

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ২১তম তারাবীহ

সূরা ঝুমারের ৩২ নং আয়াত হতে সূরা হা-মীম সেজদার ৪৬ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৪তম পারা।)

সূরা ঝুমারের ৩২ নং আয়াত হতে ৭৫ মোট ৪৩ টি আয়াত

সূরা মুমিনের ১ নং আয়াত হতে ৮৫ মোট ৮৫ টি আয়াত

সূরা হা-মীম সেজদার ১ নং আয়াত হতে ৪৬ মোট ৪৬ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৪৩+৮৫+৪৬=১৭৪

 

No comments:

Post a Comment