Thursday, April 15, 2021

আজ ৩য় তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু



আজ ৩য় তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 

আজ ৩য় তারাবিতে সূরা আলে ইমরানের ১০ম রুকু থেকে শেষ রুকু পর্যন্ত (আয়াত-৯২-২০০) এবং সূরা নিসার ১ম রুকু থেকে ১১তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৮৭) পড়া হবে। পারা হিসেবে পড়া হবে চতুর্থ পারার পুরোটা ও ৫ম পারার ১ম অর্ধাংশ, মোট দেড় পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

৩য় তারাবীহ

সূরা আলে ইমরানের ৯২ নং আয়াত হতে সূরা নিসার ৮৭ নং আয়াত পর‌্যন্ত।

(৪র্থ পারার পুরোটা থেকে ৫ম পারার ১ম অর্ধাংশ)

সূরা আলে ইমরানের ৯২ থেকে ২০০ মোট ১০৯ টি আয়াত

সূরা নিসার ১ থেকে ৮৭ মোট ৮৭ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ১০৯+৮৭=১৯৬

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

সূরা আলে ইমরান : (৯২-২০০) :

১০ম রুকুর (আয়াত ৯২-১০১) আলোচ্য বিষয় হলো আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার ফজিলত, বাইতুল্লাহ জিয়ারত ও হজের প্রসঙ্গ, আহলে কিতাবদের প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা ইত্যাদি। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ৯২ নং আয়াতে বলেন,

لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ ﴿آل‌عمران: ٩٢﴾

১১তম রুকুতে (আয়াত ১০২-১০৯) বলা হয়েছে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়া, আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে ধরা, হাশরের মাঠে মানুষের কী অবস্থা হবে সেসব বিবরণ ইত্যাদি।

এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ১০৩ নং আয়াতে বলেন,

وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿آل‌عمران: ١٠٣﴾

১২তম রুকুতে বলা হয়েছে মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ, পার্থিব জীবনে জুলুম করলে আখেরাতে কী শাস্তি হবে, বিপদে মুসিবতে ধৈর্যধারণ করা এসব বিষয়ে। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ১১০ নং আয়াতে বলেন,

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ ﴿آل‌عمران: ١١٠﴾

১৩তম রুকুতে (আয়াত ১২১-১৪৩) আলোকপাত করা হয়েছে যুদ্ধের সময়ের বিধানাবলি, কাফেরদের স্বেচ্ছাচারিতার পরিণাম, সম্পদশালীদের সম্পদ ব্যয় করার প্রতি উসাহ প্রদান প্রসঙ্গে।

১৪তম রুকুতে (আয়াত ১৩০-১৪৩) আলোচ্য বিষয় হলো সুদ থেকে বিরত থাকা, মন্দ কাজ করে ফেললে কী করণীয়, মানবজাতির জন্য জরুরি নির্দেশনা ইত্যাদি। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ১৩০, ১৩৪ ও ১৪২ নং আয়াতে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿آل‌عمران: ١٣٠﴾

الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿آل‌عمران: ١٣٤﴾

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ ﴿آل‌عمران: ١٤٢﴾

১৫তম থেকে ১৭তম রুকুতে (আয়াত ১৪৪-১৭১) মুসলিমদের যুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়, আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সঙ্গে কী কী অঙ্গীকার করেছেন, মতভেদ করলে কী ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ১৬৪ নং আয়াতে বলেন,

لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ ﴿آل‌عمران: ١٦٤﴾

১৮তম থেকে ২০তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১৭২-২০০) মুমিনদের ঈমানকে মজবুত করা, কুফুরিতে লিপ্ত না হওয়া, অঙ্গীকার করলে তা পুরা করা, মৃত্যুর কথা স্মরণ করা, পার্থিব জীবনের ধনসম্পদ ক্ষণস্থায়ী ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ২০০ নং আয়াতে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿آل‌عمران: ٢٠٠﴾

সূরা নিসা : (১-৮৭) :

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করা, এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস না করা, নারীদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করা, কেউ মারা গেলে তার সম্পদের বণ্টন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ১ নং আয়াতে বলেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ﴿النساء: ١﴾

২য়, ৩য় ও ৪র্থ রুকুতে (আয়াত ১১-২৫) আলোচনা করা হয়েছে মিরাস বণ্টনের বিস্তারিত বিবরণ, সীমালঙ্ঘন না করা, সব সময়ে ভালো কাজ করা, অশ্লীলতা দূরীকরণে বিয়ে ও হারাম থেকে বিরত থাকা, পরিবারে কীভাবে সাম্য রক্ষা করবে, আত্মীয়-স্বজনের হক আদায় করা প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ১৭ নং আয়াতে বলেন,

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا ﴿النساء: ١٧﴾

৫ম থেকে ৭ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ২৬-৫০) আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয় থেকে বিরত থাকা ও আদেশকৃত বিষয় সম্পাদন করা, কৃপণতা না করা বরং উদার হওয়া, নেশাদ্রব্য পান না করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ২৯ ও ৪৮ নং আয়াতে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا ﴿النساء: ٢٩﴾

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا ﴿النساء: ٤٨﴾

৮ম রুকুর (আয়াত ৫১-৫৯) আলোচ্য বিষয় হলো আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা, আল্লাহর আয়াত ও হুকুম অস্বীকার করার পরিণাম, আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস করা ইত্যাদি। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ৫৯ নং আয়াতে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا ﴿النساء: ٥٩﴾

৯ম ও ১০ম রুকুতে (আয়াত ৬০-৭৬) বলা হয়েছে মুনাফিক ও কাফেরদের ধৃষ্টতার বিভিন্ন প্রকার ও শাস্তি, রাসূল (সা.) প্রেরিত হওয়ার কারণ ও উদ্দেশ্য, নবীদের সঙ্গে অবিশ্বাসীদের বিভিন্ন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ ইত্যাদি প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ তা’আলা ৮৫ ও ৮৬ নং আয়াতে বলেন,

مَّن يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً يَكُن لَّهُ نَصِيبٌ مِّنْهَا وَمَن يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ مُّقِيتًا ﴿النساء: ٨٥﴾

وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا ﴿النساء: ٨٦﴾

 

আমি আবার বলছি

আজ ৩য় তারাবীহ

সূরা আলে ইমরানের ৯২ নং আয়াত হতে সূরা নিসার ৮৭ নং আয়াত পর‌্যন্ত।

(৪র্থ পারার পুরোটা থেকে ৫ম পারার ১ম অর্ধাংশ)

সূরা আলে ইমরানের ৯২ থেকে ২০০ মোট ১০৯ টি আয়াত

সূরা নিসার ১ থেকে ৮৭ মোট ৮৭ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ১০৯+৮৭=১৯৬

 

 

No comments:

Post a Comment