Thursday, April 15, 2021

আজ ২য় তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু


 

আজ ২য় তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 

আজ ২য় তারাবিতে সূরা বাকারার ২৫ তম রুকুর শেষাংশ থেকে সূরা বাকারার শেষ রুকু পর্যন্ত (আয়াত ২০৪-২৮৬) এবং সূরা আলে ইমরানের ১ম রুকু থেকে ৯তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৯১) পড়া হবে। পারা হিসেবে পড়া হবে ২য় পারার ২য় অর্ধেক ও ৩য় পারার পুরো অংশ, মোট দেড় পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

২য় তারাবীহ

সূরা বাকারার ২০৪ নং আয়াত হতে সূরা বাকারার ২২৮৬ নং আয়াত পর‌্যন্ত।

(২য় পারার ২য় অর্ধেক থেকে ৩য় পারার পুরো অংশ)

সূরা বাকারার ২০৪ থেকে ২৮৬ মোট ৮৩টি আয়াত

সূরা আলে ইমরানের ১ থেকে ৯১ মোট ৯১টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৮৩+৯১=১৭৪

 

 

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

সূরা বাকারা (আয়াত ২০৪-২৮৬) :

সূরা বাকারার ২৫তম রুকুর শেষাংশে (আয়াত ২০৪-২১০) মুমিন, মুনাফিক ও কাফেরদের বিভিন্নরকম বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ ادْخُلُواْ فِي السِّلْمِ كَآفَّةً وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

২৬ তম রুকুতে (আয়াত ২১১-২১৬) মুমিনদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বনি ইসরাইলদের কথা উল্লেখ করে উম্মতে মুহাম্মদিকে সতর্ক করা হয়েছে। সত্য অস্বীকার করা, দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়া, আল্লাহর দ্বীনের সংগ্রামে ধৈর্যহারা হওয়ার মতো বিষয় থেকে বিরত থাকার প্রসঙ্গে আলোচনা এসেছে এ রুকুতে। ২১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴿البقرة: ٢١٥﴾

পবিত্র মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহের বিধান, মদ-জুয়ার অপকারিতা, এতিমদের ভালো ব্যবস্থা করা এবং মুশরিক নারীদের বিয়ে না করা ইত্যাদি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে ২৭ তম রুকুতে (আয়াত ২১৭-২২১)।

তারপর ২৮তম রুকু থেকে ৩১তম রুকু জুড়ে (আয়াত ২২২-২৪০) নারীদের ঋতুস্রাব, তালাক, ইদ্দত ও দেনমোহরের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ﴿البقرة: ٢٣٨﴾

৩২ ও ৩৩ তম রুকুতে (আয়াত ২৪৩-২৫৩) হজরত মুসা (আ.) এর পর বনি ইসরাইলরা পরবর্তী নবীদের সঙ্গে যুদ্ধ ও সংগ্রামের ব্যাপারে কেমন বিরূপ আচরণ করেছিল তা আলোচিত হয়েছে। ৩৪ ও ৩৫তম রুকু (আয়াত ২৫৪-২৬০) আল্লাহর মহত্বের বর্ণনা সম্বলিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের সঙ্গে কী বিতর্ক করেছিলেন এবং পাখি কীভাবে জীবন্ত হয়ে উড়ে আসে এমন দুটো ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ৩৬ থেকে ৩৯তম রুকু (আয়াত ২৬১-২৮৩) অর্থনৈতিক বিধান সম্পর্কে। আল্লাহর জন্য ব্যয়ের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা, ব্যয় না করার পরিণাম, উশরের বিধান, দানের উপযুক্ত করা এসব বিধান আলোচনা করার পাশাপাশি সুদের ভয়াবহতা, সুদ হারাম হওয়ার ঘোষণা এবং সুদ ছেড়ে দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে ঋণের বিধান। ঋণ যেন লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে হয়, এসব নির্দেশনা সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে। ৪০তম তথা সূরা বাকারার শেষ রুকু (আয়াত ২৮৪-২৮৬) ঈমানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বান্দার জন্য আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানি উল্লেখ করা হয়েছে শেষের দুই আয়াতে।

সূরা আলে ইমরান (আয়াত ১-৯১) :

পবিত্র কোরআনের ৩য় সূরা হলো আলে ইমরনা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ২০০ আর রুকু সংখ্যা ২০। আজ তারাবিতে পঠিত হবে ৯ম রুকু পর্যন্ত।

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৯) ভূমিকাস্বরূপ পবিত্র কোরানের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। এ কোরআন যে পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যায়নকারী এবং এটিই সত্য ও মিথ্যার মাঝে প্রকৃত পার্থক্যকারী, সে কথা বলা হয়েছে। এর আয়াতগুলোর ওপর বিশ্বাসীরা আমল করে এবং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করে। আর বক্র মনের মানুষ এতে জটিলতা খোঁজে।

২য় রুকুতে (১০-১৯) সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহ আজাবের কথা বলা হয়েছে। পার্থিব জীবনের অসারতা ও মোহগ্রস্ততার হেতু কী এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে ১৪ নম্বর আয়াতে। পরবর্তী অংশে ঈমান ও দাওয়াতের বিষয়ে সংক্ষেপ, তবে মৌলিক আলোচনা করা হয়েছে।

৩য় রুকু (আয়াত ২১-৩০) আহলে কিতাব অর্থা ইহুদি ও খ্রিস্টানের মধ্যে যারা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেনি, সত্য লুকিয়ে রেখেছিল, তাদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ক্ষমতা ও সম্মানের মালিক আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা এসব দান করেন, আবার যার থেকে ইচ্ছা এসব ছিনিয়ে নেন।
৪র্থ রুকু থেকে ষষ্ঠ রুকুর (আয়াত ৩০-৬২) শেষ পর্যন্ত ইমরানের স্ত্রী, মরিয়ম (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর ঘটনা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আর ৭ম ও ৯ম রুকুর (আয়াত ৬২-৯১) আলোচ্য বিষয় হলো আহলে কিতাবদের সঙ্গে মুসলমানদের আচরণ ও দাওয়াতের পন্থা, তাদের ব্যাপারে ইসলাম ও মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি।

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ২য় তারাবীহ

সূরা বাকারার ২০৪ নং আয়াত হতে সূরা বাকারার ২২৮৬ নং আয়াত পর‌্যন্ত।

(২য় পারার ২য় অর্ধেক থেকে ৩য় পারার পুরো অংশ)

সূরা বাকারার ২০৪ থেকে ২৮৬ মোট ৮৩টি আয়াত

সূরা আলে ইমরানের ১ থেকে ৯১ মোট ৯১টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৮৩+৯১=১৭৪

 

No comments:

Post a Comment