Friday, April 16, 2021

আজ ৪র্থ তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 


আজ ৪র্থ তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 

আজ ৪র্থ তারাবিতে সূরা নিসার ১২তম রুকুর শুরু থেকে শেষ রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৮৮-১৭৬) এবং সূরা মায়েদার ১ম রুকু থেকে ১১তম রুকুর মাঝামাঝি পর্যন্ত (আয়াত ১-৮২) তেলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে পড়া হবে ৫ম পারার ২য় অর্ধেক থেকে ৬ষ্ঠ পারার পুরো অংশ। মোট দেড় পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

৪র্থ তারাবীহ

সূরা নিসার ৮৮ নং আয়াত হতে সূরা মায়েদার ৮২ নং আয়াত পর‌্যন্ত।

(৫ম পারার ২য় অর্ধেক থেকে ৬ষ্ঠ পারার পুরো অংশ। মোট দেড় পারা)

সূরা নিসার ৮৮ নং আয়াত হতে ১৭৬ মোট ৮৯ টি আয়াত

সূরা মায়েদার ১ থেকে ৮২ মোট ৮২ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৮৯+৮২=১৭১

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ


 
সূরা নিসা : (৮৮-১৭৬) :

১২তম রুকুতে (আয়াত ৮৮-৯১) আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলছেন মুনাফিকদের ব্যাপারে কোনো দ্বিধা নয়, পরিপূর্ণ ঈমান আনলে তারা মুমিনদের দয়া ও সাহায্য পাবে, নয়তো তাদের সঙ্গে মুমিনদের কোনো সম্পর্ক নেই।

১৩তম রুকুর (আয়াত ৯২-৯৬) আলোচ্য বিষয় হলো যদি কোনো মুমিন অন্য মুমিনকে ভুলে হত্যা করে তাহলে কী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যুদ্ধের ময়দানে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শত্রুমিত্র পার্থক্য করা জানতে হবে, আর যারা সক্ষম হওয়া সত্তেও যুদ্ধে অংশ না নিয়ে ঘরে বসে থাকে, তারা কখনও মর্যাদাবান মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا

যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। [ সূরা নিসা ৪:৯৩ ]

১৪তম রুকুতে (আয়াত ৯৭-১০০) বলা হয়েছে, নির্যাতনে অসহ্য হয়ে কেউ যেন নিজেই নিজেকে হত্যা না করে বসে। বরং সে যেন অন্য কোথাও হিজরত করে।

وَفَـضَّـلَ الـلّٰـهُ الْـمُـجَـاهِـدِيْـنَ عَـلٰـى الْـقَـاعِـدِيْـنَ اَجْـرًا عَـظِـيْـمًـا (٩٥) دَرَجَـاتٍ مِّـنْـهُ وَمَـغْـفِـرَةً وَّرَحْـمَـةً وَّكَـانَ الـلّٰـهُ غَـفُـوْرًا رَحِـيْـمًـا ﴿النساء: ٩٦-٩٥

আর আল্লাহর নিকট মুজাহিদ তথা যোদ্ধাদের কল্যাণকর কাজের ফল বসে থাকা লোকদের চেয়ে অনেক বেশী। তাঁদের জন্য রয়েছে বড় সম্মান/মর্যাদা, ক্ষমা ও অনুগ্রহ; আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও মহা অনুগ্রহকারী।(সূরা নিসা ৯৫-৯৬)

১৫তম রুকুতে (আয়াত ১০১-১০৪) ভয়কালীন নামাজ ও যুদ্ধকালীন নামাজ পড়ার বিধান এবং নিয়ম বলে দেয়া হয়েছে।

فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلاَةَ فَاذْكُرُواْ اللّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ إِنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا

অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। [ সূরা নিসা ৪:১০৩ ]

১৬-১৮তম রুকুতে (আয়াত ১০৫-১২৫) মুমিনদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নসিহত করা হয়েছে।

وَاسْتَغْفِرِ اللّهِ إِنَّ اللّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا

এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সূরা নিসা ৪:১০৬ ]

১৯তম রুকুতে (আয়াত ১২৭-১৩২) নারীদের ব্যাপারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক বিধান দেওয়া হয়েছে।

২০ ও ২১তম রুকুতে (আয়াত ১৩৫-১৫২) মুমিনদের সত্যের ওপর অটল থাকতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আর মুনাফিকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا

নিঃসন্দেহে মুনাফেকরা রয়েছে দোযখের সর্বনিম্ন স্তরে। আর তোমরা তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী কখনও পাবে না। [ সূরা নিসা ৪:১৪৫ ]

২২-২৪ রুকুতে (আয়াত ১৫৩-১৭৬) কাফেরদের প্রশ্নের জবাবে মুসা (আ.) ও অন্য নবীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সব নবীও সত্যের বাণী প্রচার করতে গিয়ে আরো কঠিন ও জটিল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এসব সমস্যা মোকাবিলার জন্য হেকমতের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

সূরা মায়েদা : (১-৮২) :

সূরা মায়েদা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ১২০ এবং রুকু মোট ১৬টি। আজ পঠিত হবে ১১তম রুকু পর্যন্ত।

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৫) ইহরাম অবস্থায় শিকার করা নিষিদ্ধ এবং কোন প্রাণী খাওয়া হারাম ও কোন প্রাণী খাওয়া হালাল এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

২য় রুকুতে (আয়াত ৬-১১) ওজুর বিধান এবং মুমিনদের আল্লাহর অনুগত ও কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاء أَحَدٌ مَّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لاَمَسْتُمُ النِّسَاء فَلَمْ تَجِدُواْ مَاء فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُواْ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ مَا يُرِيدُ اللّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَـكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায় খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থা, স্বীয় মুখ-মন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর। [ সূরা মায়েদা ৫:৬ ]

৩য় রুকুতে (আয়াত ১২-১৯) বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসী, ইহুদি-খ্রিস্টানদের দল-উপদলের বিভিন্ন আকিদার অসাড়তা সংক্ষিপ্ত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে।

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২০-২৬) ইহুদিদের হঠকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। তারা মুসা (আ.) এর সঙ্গে কত নিচু আচরণ করেছে, তা এ রুকুতে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

৫ম রুকুতে (আয়াত ২৭-৩৪) হজরত আদম (আ.) এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের ঘটনা বলা হয়েছে। কীভাবে এক ভাই অন্যায়ভাবে আরেক ভাইকে হত্যা করে জাহান্নামি হয়ে গেছে।

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِن أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ

আপনি তাদেরকে আদমের দুই পুত্রের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা ভয়েই কিছু উসর্গ নিবেদন করেছিল, তখন তাদের একজনের উসর্গ গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনের গৃহীত হয়নি। সে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। সে বললঃ আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন। [ সূরা মায়েদা ৫:২৭ ]

৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৩৫-৪৩) মুমিনদের আল্লাহভীরু হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চোরদের হাত কাটার বিধান এবং মুনাফিকদের ব্যাপারে মনঃক্ষুণ্ণ না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُواْ أَيْدِيَهُمَا جَزَاء بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়। [ সূরা মায়েদা ৫:৩৮ ]

৭ম রুকুতে (আয়াত ৪৪-৫০) ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিধান ছিল আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। আর কোরআন হলো ওই দুই কিতাবের সত্যায়নকারী। তাই তাওরাত ও ইঞ্জিলের মতো এ সময়ও আল্লাহর কিতাব কোরআন অনুযায়ী পরস্পরের মাঝে ফয়সালা করতে হবে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, বরং প্রত্যেকে ভালো কাজ করতে থাকুক। কে সত্যবাদী, সে ফয়সালা করবেন আল্লাহ তায়ালা।

৮ম রুকুতে (আয়াত ৫১-৫৬) ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ

হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না।

৯ম রুকুতে (আয়াত ৫৭-৬৬) আহলে কিতাব ও মুনাফিকদের নানা আচরণ এবং চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

১০ম রুকুতে (আয়াত ৬৭-৭৭) আহলে কিতাবদের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে হজরত ঈসা (আ.) এর অনুসারীরা যে ধরনের ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে থাকে তার অসাড়তা তুলে ধরা হয়েছে।

يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللّهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ

হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌঁছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। [ সূরা মায়েদা ৫:৬৭ ]

১১তম রুকুতে (আয়াত ৭৮-৮২) খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা হজরত ঈসা ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী, তাদের নিন্দা করা হয়েছে। এসব অসাড় ধ্যান-ধারণা পরিত্যাগ করা এবং এক আল্লাহর পরিপূর্ণ বিশ্বাস অর্জন করা।

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ৪র্থ তারাবীহ

সূরা নিসার ৮৮ নং আয়াত হতে সূরা মায়েদার ৮২ নং আয়াত পর‌্যন্ত।

(৫ম পারার ২য় অর্ধেক থেকে ৬ষ্ঠ পারার পুরো অংশ। মোট দেড় পারা)

সূরা নিসার ৮৮ নং আয়াত হতে ১৭৬ মোট ৮৯ টি আয়াত

সূরা মায়েদার ১ থেকে ৮২ মোট ৮২ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৮৯+৮২=১৭১

 

No comments:

Post a Comment