আজ ৫ম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ
বিষয়বস্তু
আজ ৫ম তারাবিতে
সূরা মায়েদার ১১তম রুকুর শেষাংশ থেকে সূরা মায়েদার শেষ রুকু (আয়াত ৮৩-১২০) এবং সূরা
আনআমের পুরো অংশ এবং সূরা আরাফের ২য় রুকু (আয়াত ১-১১) পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে
পড়া হবে ৭ম পারা থেকে শুরু করে ৮ম পারার প্রথম অর্ধেক পর্যন্ত। মোট দেড় পারা।
“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ তুলে ধরা হলো,
বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz
৫ম তারাবীহ
সূরা মায়েদার
৮৩ নং আয়াত হতে সূরা আনআমের পুরো অংশ এবং সূরা আরাফের ১১ নং আয়াত পর্যন্ত।
(৫ম পারার
৭ম পারা থেকে ৮ম পারার প্রথম অর্ধেক। মোট দেড় পারা)
সূরা মায়েদার
৮৩ নং আয়াত হতে ১২০ মোট ৩৮ টি আয়াত
সূরা আনআমের
১ নং আয়াত হতে ১৬৫ মোট ১৬৫ টি আয়াত
সূরা আরাফ
১ থেকে ১১ মোট ১১ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৩৮+১৬৫+১১=২১৪
করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ
সূরা মায়েদা : (৮৩-১২০) :
১২তম রুকুতে (আয়াত ৮৭-৯৩) কসম ভঙ্গ করার কাফফারা, মদ-জুয়া, মূর্তি ও
ভাগ্যনির্ণায়ক তীর নিক্ষেপ হারাম ইত্যাদি প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِنَّمَا الْخَمْرُ
وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ
فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মুমিনগণ! এই যে মদ,
জুয়া,
প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক
শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা
কল্যাণপ্রাপ্ত হও। [ সূরা মায়েদা ৫:৯০ ]
১৩তম রুকুতে (আয়াত ৯৪-১০০) ইহরাম অবস্থায় শিকার নিষেধ করা
হয়েছে। কেউ যদি ইহরাম অবস্থায় শিকার করে ফেলে, তবে তার কাফফারা কী হবে, তা-ও বলা হয়েছে এ রুকুতে।
১৪তম রুকুতে (আয়াত ১০১-১০৬) অহেতুক প্রশ্ন করা থেকে বিরত
থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অহেতুক প্রশ্ন তোমাদের জন্য অকল্যাণ ডেকে আনে। তাই এ থেকে
বিরত থাক। আরো বলা হয়েছে, কারো মৃত্যুর সময় অসিয়ত করা জরুরি। আর অসিয়তের সময় যেন দু’জন সাক্ষী রাখা হয়। সাক্ষীদের
থেকে যদি মিথ্যার আশঙ্কা থাকে অথবা অন্য কেউ যদি দাবি করে আমাকে ভিন্নরকম অসিয়ত
করা হয়েছে এমন নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কসমের মাধ্যমে সমাধান করতে বলা হয়েছে।
১৫ ও ১৬তম (আয়াত ১০৯-১২০) রুকুতে কেয়ামতের দিন হজরত ঈসা
(আ.) এবং তার মা হজরত মরিয়ম (আ.) এর সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কী কথা বলবেন, খ্রিস্টানদের
সম্পর্কে কী জিজ্ঞেস করবেন তা আলোচিত হয়েছে।
সূরা আনআম : (১-১৬৫) :
এ সূরা অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায়। এর আয়াত সংখ্যা ১৬৫ আর রুকু
২০টি আজকের তারাবিতে সম্পূর্র্ণ সূরাই পঠিত হবে।
১ম রুকু থেকে ৪র্থ রুকুতে (আয়াত ১-৪১) কাফেরদের বিভিন্ন
প্রশ্নের জবাব, তাদের হঠকারী
আচরণের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, তোমরা একটু চোখ মেলে দেখ ও ভাব। তোমরা যা বলছ
ও করছ তা কতটুকু সঠিক?
قُلْ سِيرُواْ فِي الأَرْضِ ثُمَّ انظُرُواْ كَيْفَ كَانَ
عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
বলে দিনঃ তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর,
অতপর দেখ,
মিথ্যারোপ কারীদের পরিণাম
কি হয়েছে? [ সূরা
আনআম ৬:১১ ]
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلاَّ لَعِبٌ وَلَهْوٌ
وَلَلدَّارُ الآخِرَةُ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ
পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই
নয়। পরকালের আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি বুঝ না?
[ সূরা আনআম ৬:৩২ ]
৫ম রুকু থেকে ১০ম রুকু (আয়াত ৪২-৯০) পর্যন্ত আল্লাহর
অস্তিত্বে বিশ্বাস ও ঈমানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এখানেও
কাফেরদের মনে জাগা ও মুখে তোলা অনেক প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে পার্থিব
জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও আখেরাতের বিশালতা উল্লেখ করে মুমিন সম্প্রদায়কে নসিহত করা
হয়েছে। ইব্রাহিম (আ.) এর উদাহরণ দেয়া হয়েছে। কীভাবে তিনি ঈমানের নির্দেশ পেলেন, তা বলা হয়েছে
বিস্তারিতভাবে।
وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلاَّ مُبَشِّرِينَ
وَمُنذِرِينَ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ
يَحْزَنُونَ
আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি না,
কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি
প্রদর্শকরূপে অতঃপর যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়,
তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং
তারা দুঃখিত হবে না। [ সূরা আনআম ৬:৪৮ ]
১১তম রুকুতে (আয়াত ৯১-৯৪) আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাজিলের
প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা আলোচনা করা হয়েছে।
১২তম রুকুতে (আয়াত ৯৫-১১০) আল্লাহ তায়ালা নিজেই নিজের পরিচয়
দিয়েছেন। তিনি কীভাবে বিশ্বরাজ্য পরিচালনা করছেন, এর কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে তার প্রতি ঈমান আনার
উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপরও যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে না, তাদের শাস্তি কী
হবে, তা-ই বলা
হয়েছে।
اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ لا إِلَـهَ إِلاَّ
هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ
আপনি পথ অনুসরণ করুন,
যার আদেশ পালনকর্তার পক্ষ
থেকে আসে। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুশরিকদের তরফ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। [
সূরা আনআম ৬:১০৬ ]
وَلاَ تَسُبُّواْ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللّهِ
فَيَسُبُّواْ اللّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ
عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِم مَّرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ
يَعْمَلُونَ
তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না,
যাদের তারা আরাধনা করে
আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে। এমনিভাবে
আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত করে দিয়েছি। অতঃপর
স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে বলে দেবেন
যা কিছু তারা করত। [ সূরা আনআম ৬:১০৮ ]
১৪ ও ১৫তম রুকুতে (আয়াত ১১১-১২৯) বলা হয়েছে, চোখের সামনে এতসব
নিদর্শন দেখেও অনেকেই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে না। তারা উল্টো হঠকারী আচরণ করবে।
পরকালে এদের জীবন কত কষ্ট ও যন্ত্রণাদায়ক হবে, তা-ও বলা হয়েছে।
১৬ ও ১৭তম রুকুতে মানুষের উদ্দেশ্যে উপদেশ প্রদান করা হয়েছে, যেন মানুষ আল্লাহ, কিতাব, নবী ও আখেরাতের
প্রতি ঈমান আনতে পারে।
১৮ ও ১৯তম রুকুতে (আয়াত ১৩০-১৫৪) উম্মতে মোহাম্মদির জন্য
আল্লাহ তায়ালা কী খাদ্য হারাম করেছেন আর ইহুদিদের জন্য কী হারাম করেছিলেন, তার একটা তুলনামূলক
পর্যালোচনা করা হয়েছে। এরপর আল্লাহ তায়ালা ইহুদি ধর্মের সঠিক রূপ বলে দিয়েছেন। ওই
ধর্মে আসলেই কী কী নিষিদ্ধ ছিল, তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।
২০তম রুকুতে (আয়াত ১৫৫-১৬৫) বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী কিতাব যা হারাম করেছে, কোরআনও তাই হারাম
করেছে। তাই কোরআনের দাওয়াত মেনে নেয়ার জন্য আর কোনো অজুহাত দেখানো যাবে না।
قُلْ تَعَالَوْاْ أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ
أَلاَّ تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلاَ تَقْتُلُواْ
أَوْلاَدَكُم مِّنْ إمْلاَقٍ نَّحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلاَ تَقْرَبُواْ
الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلاَ تَقْتُلُواْ النَّفْسَ
الَّتِي حَرَّمَ اللّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ
تَعْقِلُونَ
আপনি বলুন, এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই,
যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক
তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না,
পিতা-মাতার সাথে সদয়
ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রে?র কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই,
নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না,
প্রকাশ্য হোক কিংবা
অপ্রকাশ্য, যাকে
হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ
দিয়েছেন, যেন
তোমরা বুঝ। [ সূরা আনআম ৬:১৫১ ]
مَن جَاء بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَن جَاء
بِالسَّيِّئَةِ فَلاَ يُجْزَى إِلاَّ مِثْلَهَا وَهُمْ لاَ يُظْلَمُونَ
যে একটি সৎকর্ম করবে,
সে তার দশগুণ পাবে এবং যে,
একটি মন্দ কাজ করবে,
সে তার সমান শাস্তিই পাবে।
বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। [ সূরা আনআম ৬:১৬০ ]
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ
وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আপনি বলুন, আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন
বিশ্ব-প্রতি পালক আল্লাহরই জন্যে। [ সূরা আনআম ৬:১৬২ ]
সূরা আরাফ : (১-১১) :
সূরা আরাফ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ২০৬ এবং রুকু
২৪টি। আজ পঠিত হবে ১ম রুকুর পুরোটা এবং ২য় রুকুর প্রথম আয়াত।
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে
আলোকপাত করা হয়েছে।
كِتَابٌ أُنزِلَ إِلَيْكَ فَلاَ يَكُن فِي
صَدْرِكَ حَرَجٌ مِّنْهُ لِتُنذِرَ بِهِ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ
এটি একটি গ্রন্থ,
যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ
হয়েছে, যাতে করে আপনি
এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌঁছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ
সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ। [ সূরা আরাফ ৭:২ ]
২য় রুকুতে (আয়াত ১১) মানবজাতি সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে
আলোচনা করা হয়েছে।
আমি আবার
বলছি
আজ ৫ম তারাবীহ
সূরা মায়েদার
৮৩ নং আয়াত হতে সূরা আনআমের পুরো অংশ এবং সূরা আরাফের ১১ নং আয়াত পর্যন্ত।
(৫ম
পারার ৭ম পারা থেকে ৮ম পারার প্রথম অর্ধেক। মোট দেড় পারা)
সূরা মায়েদার
৮৩ নং আয়াত হতে ১২০ মোট ৩৮ টি আয়াত
সূরা আনআমের
১ নং আয়াত হতে ১৬৫ মোট ১৬৫ টি আয়াত
সূরা আরাফ
১ থেকে ১১ মোট ১১ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৩৮+১৬৫+১১=২১৪




No comments:
Post a Comment