Wednesday, April 28, 2021

আজ ১৬তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 


আজ ১৬তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

আজ ১৬তম তারাবিতে সূরা ফুরকানের ৩য় রুকু থেকে ৬ষ্ঠ রুকু (আয়াত ২১-৭৭) পর্যন্ত, সূরা শুআরার ১ম রুকু থেকে ১১তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-২২৭) এবং সূরা নামলের ১ম ও ৫ম রুকু (আয়াত ১-৫৯) পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৯তম পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

১৬তম তারাবীহ

সূরা ফুরকানের ২১ নং আয়াত হতে সূরা ফুরকানের ৭৭ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৯তম পারা।)

সূরা ফুরকানের ২১ নং আয়াত হতে ৭৭ মোট ৫৭ টি আয়াত

সূরা শুআরার ১ নং আয়াত হতে ২২৭ মোট ২২৭ টি আয়াত

সূরা নামলের ১ নং আয়াত হতে ৫৯ মোট ৫৯ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৫৭+২২৭+৫৯ =৩৪৩

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

সূরা ফোরকান : (আয়াত ২১-৭৭) :
সূরা শুআরা : (আয়াত ১-২২৭) :
সূরা নামল : (আয়াত ১-৫৯) :
তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়। [ সূরা নামল ২৭:৫৫ ]

x

৩য় রুকুতে (আয়াত ২১-৩৪) সত্য অস্বীকারকারীরা অহংকারের বশবর্তী হয়ে যেভাবে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলকে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ করে, তা একদিন বাস্তবায়িত হবেই। তখন তাদের আজাব থেকে কে বাঁচাবে?

কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কিয়াতের দিন আল্লাহর কাছে নালিশ করবেন।

وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا

রাসূল বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা! আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে প্রলাপ সাব্যস্ত করেছে। [ সূরা ফুরকান ২৫:৩০ ]

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩৪-৪৪) বিভিন্ন নবীর নাম নিয়ে তাদের দাওয়াতি কৌশল উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজ প্রবৃত্তি (মন) কে উপাস্যরূপে গ্রহণ করা যাবে না

أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا

আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তারা প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? [ সূরা ফুরকান ২৫:৪৩ ]

৫ম এবং ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত, ৪৫ থেকে ৭৭ নম্বর আয়াত। এ দুই রুকুতে প্রথমে নবীজি (সা.)-কে, পরে তাঁর সব উম্মতকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন নসিহত করা হয়েছে।

মোমিন বান্দাদের কিছু গুনাবলি বর্ণনা করা হয়েছে

وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا

রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সঙ্গে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম। [ সূরা ফুরকান ২৫:৬৩ ]

وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا

এবং যারা রাত্রি যাপন করে পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে ও দন্ডায়মান হয়ে; [ সূরা ফুরকান ২৫:৬৪ ]

وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا

এবং যারা বলে, হে আমার পালনকর্তা!আমাদের কাছথেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ; [ সূরা ফুরকান ২৫:৬৫ ]

وَالَّذِينَ إِذَا أَنفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا

এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী। [ সূরা ফুরকান ২৫:৬৭ ]

পরিবারের জন্য দোয়া করতে হবে

وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা!আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর। [ সূরা ফুরকান ২৫:৭৪ ]

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৯) অবিশ্বাসীদের প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে।

২য় রুকু থেকে ৪র্থ রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১০-৬৮) কোরআন না মানার পেছনে কাফেরদের প্রশ্নের যুক্তিপূর্ণ জবাব দিয়েই পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ টানা হয়েছে। প্রথমেই হজরত মুসা (আ.) এর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন আল্লাহপাক।

অত্যাচারের ভয়ে হেদায়াতের পথ পরিত্যাগ করা যাবে নাযেমন পরিত্যাগ করেননি ফিরাউনের যাদুকররা ঈমান আনার পর

قَالُوا لَا ضَيْرَ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ

তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব। [ সূরা শুয়ারা ২৬:৫০ ]

إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَايَانَا أَن كُنَّا أَوَّلَ الْمُؤْمِنِينَ

আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী। [ সূরা শুয়ারা ২৬:৫১ ]

 

৫ম রুকু থেকে ১০ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৬৯-১৯১) ক্রমান্বয়ে অন্য নবীদের জীবন থেকে তাদের দাওয়াতি মিশনের কার্যক্রম কী ছিল তা বলা হয়েছে বিস্তারিতভাবে। উদ্দেশ্য একটাই। যুগে যুগে কাফেরদের আচরণ-বৈশিষ্ট্য এক ও অভিন্ন ছিল।

কাউকে ওজনে/প্রাপ্যে কম দেয়া যাবে না

أَوْفُوا الْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُخْسِرِينَ

মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। [ সূরা শুয়ারা ২৬:১৮১ ]

وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ

সোজা দাঁড়ি-পাল্ লায় ওজন কর। [ সূরা শুয়ারা ২৬:১৮২ ]

وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ

মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না। [ সূরা শুয়ারা ২৬:১৮৩ ]

 

১১তম রুকুতে (আয়াত ১৯২-২২৭) ১ম রুকুর দিকে ইঙ্গিত করে আলোচনা করা হয়েছে। কাফেররা কোরআন সম্পর্কে সন্দেহ-অবিশ্বাস করছে। আসলে এটা কাফের সম্প্রদায়ের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতপক্ষে এ কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল করা হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই নবী হে! তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করে যাও। মানুষকে সতর্ক করতে থাক। বিশ্বাসীদের জন্য উত্তম প্রতিদান রয়েছ এভাবেই সূরা শেষ করা হয়েছে।

নিকটাত্মীয়দেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে

وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ

আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন। [ সূরা শুয়ারা ২৬:২১৪ ]

মোমিনদের প্রতি সদয় হতে হবে

وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ

এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন। [ সূরা শুয়ারা ২৬:২১৫ ]

 

সাত রুকু বিশিষ্ট সূরা নামলের আয়াত সংখ্যা ৯৩। এটি নাজিল হয়েছে মক্কায়। আজ পঠিত হবে ৫ম রুকুর ১ম আয়াত পর্যন্ত।

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১৪) আগের সূরার মতো এ সূরাও শুরু করা হয়েছে অবিশ্বাসীদের আলোচনা দিয়ে। যারা আল্লাহ এবং তার কিতাবের ওপর বিশ্বাস রাখে না তাদের জন্য কত কঠিন আজাব রয়েছে তা বলেই মুসা এবং তার শত্রু ফেরাউনের আলোচনা করা হয়েছে।

২য় রুকু এবং ৩য় রুকুতে (আয়াত ১৫-৪৪) হজরত দাউদ, সোলায়মান (আ.) এবং রানি বিলকিসের ঘটনা বলা হয়েছে। কীভাবে একটি সাম্রাজ্যকে দাওয়াতের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে তা বোঝানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে/লিখতে/বলতে হবে

إِنَّهُ مِن سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

সেই পত্র সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং তা এইঃ সসীম দাতা, পরম দয়ালু, আল্লাহর নামে শুরু; [ সূরা নামল ২৭:৩০ ]

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৪৫-৫৮) হজরত সালেহ এবং কওমে লুতের আলোচনা করা হয়েছে। এ দুই সম্প্রদায় কত বড় নাফরমান ছিল তা বলাই মূল উদ্দেশ্য। পঞ্চম রুকুর প্রথম আয়াত। ৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে আবার নিজেই তার জবাব দিয়েছেন। এভাবেই আলোচনা সামনে এগিয়ে নেয়া হয়েছে।

 

সমকামিতা মহা পাপ। (এই পাপের জন্য লুত (আঃ) এর জাতির উপর আল্লাহ ভয়ংকর

وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ

স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! [ সূরা নামল ২৭:৫৪ ]

أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاء بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ


فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِّن قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ

উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়। [ সূরা নামল ২৭:৫৬ ]

فَأَنجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَاهَا مِنَ الْغَابِرِينَ

অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম। [ সূরা নামল ২৭:৫৭ ]

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا فَسَاء مَطَرُ الْمُنذَرِينَ

আর তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম মুষলধারে বৃষ্টি। সেই সতর্ককৃতদের উপর কতই না মারাত্নক ছিল সে বৃষ্টি। [ সূরা নামল ২৭:৫৮ ]

 

 

চলবে..........

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ১৬তম তারাবীহ

সূরা ফুরকানের ২১ নং আয়াত হতে সূরা ফুরকানের ৭৭ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৯তম পারা।)

সূরা ফুরকানের ২১ নং আয়াত হতে ৭৭ মোট ৫৭ টি আয়াত

সূরা শুআরার ১ নং আয়াত হতে ২২৭ মোট ২২৭ টি আয়াত

সূরা নামলের ১ নং আয়াত হতে ৫৯ মোট ৫৯ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৫৭+২২৭+৫৯ =৩৪৩

 

No comments:

Post a Comment