আজ ১৫তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ
বিষয়বস্তু
আজ ১৫তম
তারাবিতে সূরা মুমিনুনের ১ম রুকু থেকে ৬ষ্ঠ রুকু (আয়াত ১-১১৮) পর্যন্ত, সূরা নুরের ১ম রুকু থেকে ৯ম রুকু পর্যন্ত
(আয়াত ১-৬৪) এবং সূরা ফুরকানের ১ম ও ২য় রুকু (আয়াত ১-২০) পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে।
পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৮তম পারা।
“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ তুলে ধরা হলো,
বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz
১৫তম তারাবীহ
সূরা মোমিনুনের
১ নং আয়াত হতে সূরা ফুরকানের ২০ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৮তম পারা।)
সূরা মোমিনুনের
১ নং আয়াত হতে ১১৮ মোট ১১৮ টি আয়াত
সূরা নূরের
১ নং আয়াত হতে ৬৪ মোট ৬৪ টি আয়াত
সূরা ফুরকানের
১ নং আয়াত হতে ২০ মোট ২০ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ১১৮+৬৪+২০ =২০২
করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ
সূরা মুমিনুন : (আয়াত ১-১১৮) :
সূরা নুর : (আয়াত
১-৬৪) :
সূরা ফুরকান :
(আয়াত ১-৭৭) :
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১১) মুমিনের কিছু গুণের কথা বলা হয়েছে। যা অর্জনের মাধ্যমে
ব্যক্তি জান্নাতুল ফেরদাউসের অধিকারী হতে পারে। গুণগুলো হলো ১. রিয়া ও কপটতামুক্ত
খাঁটি ঈমান। ২. নামাজের মধ্যে খুশু তথা আল্লাহর সামনে ভয় ও বিনয়ের সঙ্গে দাঁড়ানো।
৩. অনর্থক কথাবার্তা, কাজকর্ম ও জিনা ব্যভিচার এবং অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকা। ৪. জাকাত প্রদান, আমানত রক্ষা করা
এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা ৫. নিয়মিত নামাজ আদায় এবং নামাজের সময়, আদব ও রুকনগুলোর
প্রতি যত্নবান থাকা। তারপর (আয়াত ১২-২২) মানুষ ও সাত আসমান-জমিনের সৃষ্টি, বৃষ্টিবর্ষণ এবং এর
মাধ্যমে বিভিন্ন ফল-ফসলের উৎপাদন, চতুষ্পদ
প্রাণী ও এদের মাঝে দুধ, গোশত, পশম, বহনক্ষমতা, ধৈর্যশীলতা প্রভৃতি
উপকারিতার সৃষ্টি প্রসঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কুদরতের প্রমাণ পেশ করা
হয়েছে।
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (1) الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ (2) وَالَّذِينَ هُمْ
عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ (3) وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ (4) وَالَّذِينَ
هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (5) إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ
فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (6) فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ
الْعَادُونَ (7) وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ (8) وَالَّذِينَ
هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ (9) أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ (10) الَّذِينَ
يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
২য় রুকু থেকে ৫ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ২৩-৯২) কয়েকজন নবীর ঘটনা ও শিক্ষা
সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তারা হলেন হজরত নুহ (আ.), হজরত হুদ (আ.), হজরত সালেহ (আ.), হজরত মুসা (আ.), হজরত হারুন (আ.) এবং হজরত ঈসা (আ.) প্রমুখ
নবীরা। তাদের সবার একই দাওয়াত, একই কার্যক্রম এবং একই উদ্দেশ্য ছিল। তারপর বলা আল্লাহর
একত্ববাদ সাব্যস্ত করে এবং শিরকের খণ্ডনের পর বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন যারা সৌভাগ্যবান তাদের আমলের
পাল্লা ভারী হবে আর দুর্ভাগাদের আমলের পাল্লা হবে হালকা; ওই দিন কোনো সম্পর্ক ও অজুহাত কাজে আসবে না।
وَلَقَدْ
أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا
لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ
আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। সে
বলেছিলঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মাবুদ
নেই। তোমরা কি ভয় কর না। [ সূরা মু’মিনুন ২৩:২৩ ] (সমস্ত নবী ও রাসূলদের একই দাওয়াত ছিল)
সিংগায় ফুৎকার দিলে যা হবে
فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلَا أَنسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا
يَتَسَاءَلُونَ [٢٣:١٠١]
অতঃপর যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে,সেদিন তাদের পারস্পরিক আত্নীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং একে অপরকে
জিজ্ঞাসাবাদ করবে না।
فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ [٢٣:١٠٢]
যাদের পাল্লা ভারী হবে,তারাই হবে সফলকাম,
وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فِي
جَهَنَّمَ خَالِدُونَ [٢٣:١٠٣]
এবং
যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে,তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে।
وَإِنَّ
هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ
আপনাদের এই উম্মত সব তো একই ধর্মের অনুসারী এবং আমি আপনাদের
পালনকর্তা; অতএব
আমাকে ভয় করুন। [ সূরা মু’মিনুন
২৩:৫২ ]
৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৯৩-১১৮) আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে সব মানুষকে
এই শিক্ষা দিয়েছেন, তোমরা এই
প্রার্থনা করো, হে আমার রব!
আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনিই শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহকারী।
وَقُل
رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
বলূনঃ হে আমার পালনকর্তা, ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে
আপনি শ্রেষ্ট রহমকারী। [ সূরা মু’মিনুন ২৩:১১৮ ]
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) জিনা ব্যাভিচারের শাস্তি সম্পর্কে মৌলিক বিধান বর্ণনা
করা হয়েছে।
الزَّانِيَةُ
وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ وَلَا
تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ
بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ
الْمُؤْمِنِينَ
ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ;
তাদের প্রত্যেককে একশ'
করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর
বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়,
যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও
পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ
করে। [ সূরা নুর ২৪:২ ]
২য় রুকুতে (আয়াত ১১-২০) অপবাদ রটনা করা, সাক্ষ্যদান, মিথ্যা বলা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
وَالَّذِينَ
يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاء
فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا
وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে
চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও
তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না'ফারমান। [ সূরা নুর ২৪:৪ ]
অশ্লিলতার প্রসার কামনা না করা
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا
لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ
وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ [٢٤:١٩]
যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক,
তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।
৩য় রুকুতে (আয়াত ২১-২৬) বলা হয়েছে মুমিনরা যেন শয়তানের অনুসরণ না করে। আরো বলা
হয়েছে যে পুরুষ যৌবনের হেফাজত করবে সে অনুরূপ নারী পাবে। আর যে যৌবনের হেফাজত করবে
না সে অনুরূপ নারীই পাবে।
يَا
أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَن يَتَّبِعْ
خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَوْلَا
فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَا مِنكُم مِّنْ أَحَدٍ أَبَدًا
وَلَكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَن يَشَاء وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে
কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। যদি
আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনও পবিত্র হতে পারতে
না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন,
জানেন। [ সূরা নুর ২৪:২১ ]
৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২৭-৩৪) নজরের হেফাজত, পর্দা, অতিশয় বৃদ্ধা নারীর পর্দা, ঘরে প্রবেশের অনুমতি, বিবাহযোগ্য নর-নারী এবং বিধবা বিবাহের
নির্দেশ, দাস-দাসীদের
ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা, বৈঠক থেকে ওঠা ইত্যাদি প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে।
cª¢ÖV pwka l¡M¡ J p¢aaÄ lr¡l ¢ecÑn
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
[٢٤:٣٠]
মুমিনদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের
যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে
তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয়
তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ
فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ
جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ
زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ
بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ
إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ
أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ
مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ
النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ
بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ
الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٢٤:٣١]
ঈমানদার নারীদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান,তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না
বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা,
শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর
পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র,ভগ্নিপুত্র,স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী,যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক,যারা
নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ,তাদের ব্যতীত কারো আছে
তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে,তারা যেন তাদের গোপন
সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ,তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا
بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا
ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
হে মুমিনগণ, তোমরা
নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং
গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম,
যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। [
সূরা নুর ২৪:২৭ ]
৫ম রুকু থেকে ৯ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৩৫-৬৪) নবীজীবনের একটি মর্মান্তিক ও
দুঃখজনক ঘটনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর স্ত্রী হজরত আয়েশা
(রা.)-কে একটি কুচক্রী মহল মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা দশটি আয়াত নাজিল
করে তাদের সে অপবাদ মিথ্যায় পরিণত করেন এবং আম্মাজান আয়েশা (রা.) এর চারিত্রিক
পবিত্রতার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহই হলেন আসমানগুলো ও জমিনের নুর। তিনি
যাকে খুশি তাকে তার নুরের পথ দেখান। যারা সে নুরের ছোয়া পায় তারা দিন-রাত আল্লাহর
তাসবিতে মশগুল থাকে; দুনিয়ার কোনো ব্যস্ততা তাদের আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল রাখতে পারে না। আর যারা
খোদার নুর থেকে বঞ্চিত তারা ভ্রষ্টতার অন্ধকারে নিমজ্জিত, তারা সবসময় মরীচিকার পেছনে ছুটছে। স্রষ্টার
প্রতি একত্ববাদের যে প্রমাণাদি সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান সে প্রসঙ্গে বিবরণ দেওয়ার পর
বলা হয়েছে, মুমিন
সর্বাবস্থায় আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। আর মুনাফিকরা
সবসময় সুযোগের সন্ধানে থাকে।
وَعَدَ
اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم
فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ
لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ
خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَن كَفَرَ
بَعْدَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম
করে, আল্লাহ
তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি
শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের
ধর্মকে, যা তিনি তাদের
জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান
করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ
হবে, তারাই অবাধ্য।
[ সূরা নুর ২৪:৫৫
১ম রুকুতে (আয়াত ১-৯) পবিত্র কোরআন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোরআনের
ব্যাপারে মুশরিক জাতি নানা রকমের আপত্তিকর প্রশ্ন তুলত। সে সবের জবাব দেয়া হয়েছে।
২য় রুকুতে (আয়াত ১০-২০) রাসূল (সা.) সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এক শ্রেণির
লোক জিদ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে রাসূল (সা.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত। তাদের ধারণা
ছিল, কোনো
মানুষের পক্ষে রাসূল বা নবী হওয়া সম্ভব নয়। নবী-রাসূল তো হবেন ফেরেশতাদের মধ্য
থেকে কেউ। আর যদি মেনেও নেয়া হয়, কোনো মানুষ নবী বা রাসূল হতে পারে, তাহলে তিনি তো হবেন পার্থিব বিচারে
অবস্থাশালী এবং নেতৃস্থানীয়! কোনো অসহায় এতিম কখনো নবী হতে পারে না। এ রুকুতে
তাদের সেসব অসার ও অবান্তর ধ্যান-ধারণার মজবুত ও সুদৃঢ় জবাব প্রদান করা হয়েছে।
وَقَالُوا
مَالِ هَذَا الرَّسُولِ يَأْكُلُ الطَّعَامَ وَيَمْشِي فِي الْأَسْوَاقِ لَوْلَا أُنزِلَ
إِلَيْهِ مَلَكٌ فَيَكُونَ مَعَهُ نَذِيرًا
তারা বলে, এ কেমন রসূল যে, খাদ্য আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা
করে? তাঁর কাছে কেন
কোন ফেরেশতা নাযিল করা হল না যে, তাঁর সাথে সতর্ককারী হয়ে থাকত?
[ সূরা ফুরকান ২৫:৭ ]
وَما
أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ
الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ
فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا
আপনার পূর্বে যত রসূল প্রেরণ করেছি,
তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত
এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি।
দেখি, তোমরা সবর কর
কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন। [ সূরা ফুরকান ২৫:২০
চলবে..........
আমি আবার বলছি
আজ ১৫তম তারাবীহ
সূরা মোমিনুনের
১ নং আয়াত হতে সূরা ফুরকানের ২০ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৮তম পারা।)
সূরা মোমিনুনের
১ নং আয়াত হতে ১১৮ মোট ১১৮ টি আয়াত
সূরা নূরের
১ নং আয়াত হতে ৬৪ মোট ৬৪ টি আয়াত
সূরা ফুরকানের
১ নং আয়াত হতে ২০ মোট ২০ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ১১৮+৬৪+২০ =২০২



No comments:
Post a Comment