আজ ১৪তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ
বিষয়বস্তু
আজ ১৪তম
তারাবিতে সূরা আম্বিয়ার প্রথম রুকু থেকে সপ্তম রুকু (আয়াত ১-১১২) পর্যন্ত এবং সূরা
হজের প্রথম থেকে দশম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৭৮) পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৭তম
পারা।
“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ তুলে ধরা হলো,
বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz
১৪তম তারাবীহ
সূরা আম্বিয়ার
১ নং আয়াত হতে সূরা হজ্বের ৭৮ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৭তম পারা।)
সূরা আম্বিয়ার
১ নং আয়াত হতে ১১২ মোট ১১২ টি আয়াত
সূরা হজ্বের
১ নং আয়াত হতে ৭৮ মোট ৭৮ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ১১২+৭৮ =১৯০
করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ
সূরা আম্বিয়া : (আয়াত ১-১২২) :
সূরা হজ : (আয়াত
১-৬৮) :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا
وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
x
এ সূরায় ১৮ জন নবী ও রাসূলের আলোচনা স্থান পেয়েছে। তাই সূরার নামকরণ করা হয়েছে
‘সূরাতুল
আম্বিয়া’ অর্থাৎ নবীদের সূরা।
প্রথম রুকুতে (আয়াত ১-১০) বলা হয়েছে দুনিয়ার জীবনের জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই
পৃথিবী একদিন ধ্বংস হবে। অচিরেই কেয়ামত কায়েম হবে এবং হিসাব-নিকাশ করা হবে। তবে এই
ভয়ঙ্কর দিনের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই খুব গাফেল ও অসতর্ক।
اقْتَرَبَ
لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ مَّعْرِضُونَ
মানুষের হিসাব-কিতাবের সময় নিকটবর্তী;
অথচ তারা বেখবর হয়ে মুখ
ফিরিয়ে নিচ্ছে। [ সূরা আম্বিয়া ২১:১ ]
দ্বিতীয় রুকুতে (আয়াত ১১-২৯) আলোচনা করা হয়েছে আল্লাহ হুকুম না মানার কারণে
পূর্ববর্তী জাতি ও সম্প্রদায়ের ওপর কী আজাব নেমে এসেছিল। এ ধরনের শাস্তি থেকে
বাঁচার একমাত্র উপায় আল্লাহ হুকুম মানা। তারপর বলা হয়েছে আল্লাহর একত্ববাদ
সম্পর্কে। বিশ্বের এই উন্মুক্ত পাঠশালায় রাব্বুল আলামিনের একত্ববাদের বহু দলিল
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এই বিশ্বচরাচরে জমিন, আসমান, চন্দ্র-সূর্য এবং রাত-দিনসহ যা কিছু আছে, সেগুলোকে আল্লাহ
তায়ালা অনর্থক-বেহুদা সৃষ্টি করেননি, বরং এসবের পেছনে এক বিশেষ হেকমত ও উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা
হলো বান্দা যেন এগুলো নিয়ে চিন্তাফিকির করে এবং শিক্ষা লাভ করে।
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ ﴿الأنبياء: ١٦﴾
আকাশ পৃথিবী এতদুভয়ের
মধ্যে যা আছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
لَوْ أَرَدْنَا أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنَاهُ مِن لَّدُنَّا إِن كُنَّا فَاعِلِينَ ﴿الأنبياء: ١٧﴾
আমি যদি ক্রীড়া উপকরণ সৃষ্টি করতে চাইতাম, তবে আমি আমার কাছে যা আছে তা দ্বারাই তা করতাম, যদি
আমাকে করতে হত।
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ ﴿الأنبياء: ١٨﴾
বরং আমি
সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, অতঃপর সত্য মিথ্যার মস্তক
চুর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, অতঃপর মিথ্যা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা যা বলছ, তার জন্যে তোমাদের দুর্ভোগ।
لَوْ
كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ
الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ
যদি নভোমণ্ডল ও ভুমণ্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য
থাকত, তবে উভয়ের
ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র। [
সূরা আম্বিয়া ২১:২২ ]
তৃতীয় রুকুতে (আয়াত ৩০-৪১) মুশরিকদের ভ্রান্ত মতবাদ খণ্ডনের পর সৃষ্টিকর্তার
অস্তিত্বের বিভিন্ন প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। আসমান ও জমিন উভয়টি মিলিত ছিল, আল্লাহ এ দু’টিকে পৃথক করেছেন। প্রত্যেক
জীবজন্তুকে তিনি পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। জমিনের ওপর তিনি পাহাড় পর্বত স্থাপন
করেছেন, যেন জমিন
স্থির থাকে। জমিনে সহজে চলাচলের রাস্তা বানিয়েছেন। আসমানকে তিনি নিরাপদ ছাদস্বরূপ
বানিয়েছেন। রাত-দিন, চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। এগুলো ক্রমাগত একটির পর আরেকটি আসে-যায়; কিন্তু শৃঙ্খলায়
কোনো ব্যতিক্রম হয় না।
أَوَلَمْ
يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا
فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল,
অতঃপর আমি উভয়কে খুলে
দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস
স্থাপন করবে না? [ সূরা
আম্বিয়া ২১:৩০ ]
চতুর্থ রুকুতে (আয়াত ৪২-৫০) বলা হয়েছে সব ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর, পৃথিবীর দেবদেবীর
কোনো ক্ষমতা নেই। পূর্ববর্তী জাতিদের আয়ুষ্কাল অনেক দীর্ঘ ছিল। তাদের যেমন জীবনের
হিসেব হবে তেমনি পরবর্তীদেরও জীবনের হিসেব নেয়া হবে।
কিয়ামতে আল্লাহ ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করবেন।
وَنَضَعُ
الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ۖ
وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ۗ
وَكَفَىٰ بِنَا حَاسِبِينَ﴿الأنبياء: ٤٧﴾
আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত
করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট।
পঞ্চম থেকে সপ্তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৫১-১১২) পর্যন্ত ১৮ জন নবী (আ.) এর
জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তারা হলেন, ১. হজরত মুসা (আ.); ২. হারুন (আ.); ৩. ইব্রাহিম (আ.); ৪. লুত (আ.); ৫. ইসহাক (আ.); ৬. ইয়াকুব (আ.); ৭. নুহ (আ.); ৮. দাউদ (আ.); ৯. সুলায়মান (আ.); ১০. আইয়ুব (আ.); ১১. ইসমাইল (আ.); ১২. ইদ্রিস (আ.); ১৩. জুল-কিফল (আ.); ১৪. ইউনুস (আ.); ১৫. জাকারিয়া (আ.); ১৬. ইয়াহইয়া (আ.); ১৭. ঈসা (আ.) এবং ১৮. হজরত মুহাম্মাদ (সা.)।
l¡p§m (p¡x) ¢Rme ¢hnÄh¡p£l SeÉ lqja ül¦f x
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
[٢١:١٠٧]﴿الأنبياء:
١٠٧﴾
আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।
قُلْ إِنَّمَا يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ
إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ [٢١:١٠٨]﴿الأنبياء: ١٠٨﴾
বলুনঃ আমাকে তো এ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য। সুতরাংতোমরা কি আজ্ঞাবহ হবে?
এই সূরায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর মাধ্যমে মানুষের ওপর হজ ফরজ হওয়ার বিধান ঘোষিত
হয়েছে, তাই এই
সূরাকে ‘সূরা হজ’ নামকরণ করা হয়েছে।
প্রথম রুকুতে (আয়াত ১-১০) কেয়ামতের ভয়াবহ অবস্থার বিবরণ দেয়া হয়েছে। তারপর
একজন মানুষ পৃথিবীতে আগমনের জন্য গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে ও পরে যে ধাপগুলো
অতিক্রম করে সেসবের বৈজ্ঞানিক বিবরণ দেয়া হয়েছে। এর দ্বারা বোঝানো হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা
মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করতে অবশ্যই সক্ষম।
¢Lu¡jal
iu¡hq cªnÉl hZÑe¡ x
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ ۚ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ
[٢٢:١]﴿الحج: ١﴾
হে লোক সকল! তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। নিশ্চয় কেয়ামতের প্রকম্পন একটি ভয়ংকর ব্যাপার।
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا
أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَىٰ
وَمَا هُم بِسُكَارَىٰ وَلَٰكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ [٢٢:٢]﴿الحج: ٢﴾
যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুধের শিশুকে বিস্মৃত হবে এবং প্রত্যেক
গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ
তারা মাতাল নয় বস্তুতঃ আল্লাহর আযাব সুকঠিন।
মানব সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখা
يَا
أَيُّهَا النَّاسُ إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم
مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍ
مُّخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي
الْأَرْحَامِ مَا نَشَاء إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ
لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّى وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ
الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِن بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا وَتَرَى الْأَرْضَ
هَامِدَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاء اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ
مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ
হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও,
তবে (ভেবে দেখ-) আমি
তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে,
এরপর জমাট রক্ত থেকে,
এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও
অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি
এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই,
এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু
অবস্থায় বের করি; তারপর
যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং
তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌছানো হয়,
যাতে সে জানার পর জ্ঞাত
বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত দেখতে পাও,
অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি
বর্ষণ করি, তখন
তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। [ সূরা
হজ ২২:৫ ]
দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকুতে (আয়াত ১১-২৫) বলা হয়েছে কিছু লোক দ্বিধাদ্বন্দ্বের, পার্থিব উপকার পেলে
কিছু ইবাদত-বন্দেগি করে, দ্বীনের পথে কোনো পরীক্ষা বা বিপদাপদের সম্মুখীন হলে ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে
নেয়। এভাবে ধর্মের বিবেচনায় মানুষ বহু দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
وَمِنَ
النَّاسِ مَن يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ
بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا
وَالْآخِرَةَ ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর
এবাদত করে। যদি সে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়, তবে এবাদতের উপর কায়েম থাকে এবং যদি কোন
পরীক্ষায় পড়ে, তবে
পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি [
সূরা হজ ২২:১১ ]
চতুর্থ ও পঞ্চম রুকুতে (আয়াত ২৬-৩৮) আল্লাহর হুকুমে ইব্রাহিম (আ.) এর
বায়তুল্লাহ নির্মাণ এবং হজের ঘোষণা প্রসঙ্গে আলোচনা শেষে মুমিন বান্দার চারটি আলামত
বর্ণিত হয়েছে ১. সর্বদা অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখে; ২. বিপদে ধৈর্যধারণ করে; ৩. নামাজের প্রতি যত্নশীল থাকে এবং ৪. নেক
কাজে অর্থ দান করে। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কোরবানির আদেশ দিয়ে বলা
হয়েছে। বলা হয়েছে, কোরবানির
পশুর রক্ত, মাংস
আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং আল্লাহর কাছে মূল্যবান হলো বান্দার তাকওয়া।
وَأَذِّن
فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِن
كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ
এবং মানুষের মধ্যে হজ্বের জন্যে ঘোষণা প্রচার কর। তারা
তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে
দূর-দূরান্ত থেকে। [ সূরা হজ ২২:২৭ ]
মুমিন বান্দার চারটি আলামত
الَّذِينَ
إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَالصَّابِرِينَ عَلَى مَا أَصَابَهُمْ
وَالْمُقِيمِي الصَّلَاةِ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে ভীত হয় এবং যারা
তাদের বিপদাপদে ধৈর্য্যধারণ করে এবং যারা নামায কায়েম করে ও আমি যা দিয়েছি,
তা থেকে ব্যয় করে। [ সূরা
হজ ২২:৩৫ ]
ষষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৩৯-৪৮) যুদ্ধের জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। সত্য রক্ষায়
প্রয়োজনে ঘরবাড়িও ছাড়তে প্রস্তুত থাকতে হবে। যুদ্ধের যৌক্তিকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, যদি আল্লাহ যুদ্ধ
অনুমোদন না করতেন, তাহলে
শত্রুরা সীমা ছাড়িয়ে যেত, মাথায় চড়ে বসত এবং মুমিনদের বিনাশে মেতে উঠত। ফলস্বরূপ ইবাদতখানা বিরান হয়ে
পড়ত। কিন্তু যখন শত্রুরা ইটের পরিবর্তে পাটকেল খাওয়ার ভয়ে থাকবে, তখন তারা হামলা
করার আগে শত চিন্তা করবে যে, কী করা যায়।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কোরবানির আদেশ
لَن
يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى
مِنكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ
وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ
এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না,
কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে
তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন,
যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব
ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি
তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। [ সূরা হজ
২২:৩৭ ]
Q¡l¢V
L¡Sl Bcn x
الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا
الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ [٢٢:٤١]﴿الحج: ٤١﴾
তারা এমন লোক যাদেরকে আমি
পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থবান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভূক্ত।
সপ্তম রুকুতে (আয়াত ৪৯-৫৭) বলা হয়েছে শয়তানের কাজ হলো সত্যের মধ্যে সংশয়
সৃষ্টির পাঁয়তারা করা, পক্ষান্তরে আল্লাহ তায়ালার নিয়ম হলো শয়তানের সৃষ্ট সংশয় দূর করে দেয়া।
অষ্টম রুকুতে (আয়াত ৫৮-৬৪) বলা হয়েছে যারা আল্লাহর জন্য সংগ্রামে লিপ্ত হয়
তাদের জীবন ও জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাদের উত্তম রিজিক দান
করেন। তারপর আল্লাহ সৃষ্টির কুদরত সম্পর্কে বলা হয়েছে। রাত-দিনের পালাবদল, আসমান থেকে
বৃষ্টিবর্ষণ, গাছের সবুজ
পাতা সব আল্লাহর হুকুমে হয়।
নবম ও দশম রুকুতে (আয়াত ৬৫-৭৮) আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও কুদরতের প্রমাণ বর্ণনা
করা হয়েছে। কাফেরদের মিথ্যা উপাস্যদের অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে। তারপর মুসলমানদের
আল্লাহর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া, নামাজ কায়েম করা ও জাকাত প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ
সম্পাদন কর, যাতে
তোমরা সফলকাম হতে পার। [ সূরা হজ ২২:৭৭ ]
আমি আবার বলছি
আজ ১৪তম তারাবীহ
সূরা আম্বিয়ার
১ নং আয়াত হতে সূরা হজ্বের ৭৮ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৭তম পারা।)
সূরা আম্বিয়ার
১ নং আয়াত হতে ১১২ মোট ১১২ টি আয়াত
সূরা হজ্বের
১ নং আয়াত হতে ৭৮ মোট ৭৮ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ১১২+৭৮ =১৯০



No comments:
Post a Comment