আজ ১৩তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ
বিষয়বস্তু
আজ ১৩তম
তারাবিতে সূরা কাহাফের ১ম রুকুর শেষার্ধ থেকে ১২তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৭৫-১১০), সূরা মারিয়ামের ১ম রুকু থেকে ৬ষ্ঠ রুকু
(আয়াত ৯৮) পর্যন্ত ও সূরা ত্বহার ১ম রুকু থেতে ৮ম রুকু (আয়াত ১-১৩৫) পর্যন্ত পড়া হবে।
পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৬তম পারা।
“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ তুলে ধরা হলো,
বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz
১৩তম তারাবীহ
সূরা কাহাফের
৭৫ নং আয়াত হতে সূরা ত্বহার ১৩৫ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৬তম পারা।)
সূরা কাহাফের
৭৫ নং আয়াত হতে ১১০ মোট ৩৬ টি আয়াত
সূরা মারিয়ামের
১ নং আয়াত হতে ৯৮ মোট ৯৮ টি আয়াত
সূরা ত্বহার
১ নং আয়াত হতে ১৩৫ মোট ১৩৫ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৩৬+৯৮+১৩৫ =২৬৯
করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ
সূরা কাহাফ : (আয়াত
৭৫-১১০) :
সূরা মরিয়ম : (আয়াত
৯৮) :
সূরা ত্বহা : (আয়াত
১৩) :
x
১০ম রুকুতে (আয়াত ৭৫-৮২) হজরত মুসা (আ.) ও
খিজির (আ.) এর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। জ্ঞানার্জনের জন্য হজরত মুসা (আ.) খিজির
(আ.) এর সঙ্গে দীর্ঘ সফর করেছিলেন। পথে খিজির আশ্চর্যজনক কিছু ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ওই
কাহিনীতে আমাদের জন্য এ শিক্ষা রয়েছে, আমাদের সামনে নিত্য যেসব ঘটনা ঘটে চলে, সেসবের আড়ালে আশ্চর্যজনক রহস্য ও হেকমত
লুকিয়ে থাকে।
قَالَ إِن سَأَلْتُكَ عَن شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا
تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِن لَّدُنِّي عُذْرًا
মূসা বললেনঃ এরপর যদি আমি
আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে সাথে রাখবেন না। আপনি আমার পক্ষ থেকে অভিযোগ
মুক্ত হয়ে গেছেন। [ সূরা কাহাফ ১৮:৭৬ ]
১১তম রুকুতে (আয়াত ৮২-১০১) বাদশা
জুলকারনাইনের ঘটনা আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা জুলকারনাইনকে বহু ক্ষমতা
দিয়েছিলেন। তার বিজিত অঞ্চলের সীমানা ছিল অনেক বিস্তৃত। তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের
দেখা পেয়েছিলেন, যারা সর্বদা
ইয়াজুজ-মাজুজ নামক একটি বর্বর গোষ্ঠীর হামলার শিকার হতো। এই নিপীড়িত সম্প্রদায়ের
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুলকারনাইন মজবুত একটি দেয়াল নির্মাণ করে দেন, ফলে তারা নিরাপত্তা
লাভ করে। এই দেয়াল কেয়ামতের আগে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে এবং ইয়াজুজ-মাজুজ সারা
দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে।
وَأَمَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُ
جَزَاء الْحُسْنَى وَسَنَقُولُ لَهُ مِنْ أَمْرِنَا يُسْرًا
এবং যে বিশ্বাস স্থাপন করে
ও সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে কল্যাণ এবং আমার কাজে তাকে
সহজ নির্দেশ দেব। [ সূরা কাহাফ ১৮:৮৮ ]
১২তম রুকুতে (আয়াত ১০২-১১০) কাফেরদের পরিণাম, জান্নাত
জাহান্নামের বিবরণ ইত্যাদি আলোচনার পর বলা হয়েছে, ‘যে আশা রাখে, তার রবের সাক্ষাৎ লাভের, সে যেন নেক আমল করে এবং আপন প্রতিপালকের
বন্দেগীর ক্ষেত্রে যেন কাউকে শরিক না করে।’
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ
جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস। [ সূরা
কাহাফ ১৮:১০৭ ]
خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না। [ সূরা কাহাফ
১৮:১০৮ ]
قُل لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ
الْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا
বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি
সমুদ্র এনে দিলেও। [ সূরা কাহাফ ১৮:১০৯ ]
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا
إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاء رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ
عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا
বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে
শরীক না করে। [ সূরা কাহাফ ১৮:১১০ ]
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১৫) আল্লাহ তায়ালার
অস্তিত্ব, একত্ববাদ
এবং পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারপর বর্ণিত হয়েছে হজরত
জাকারিয়া (আ.) এর ঘটনা। তিনি বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর আল্লাহর কাছে সন্তান
প্রার্থনা করেন। সন্তান হওয়ার বাহ্যিক কোনো সম্ভাবনাই যখন ছিল না, এমন সময় আল্লাহ
তায়ালা তাকে ইয়াহইয়া নামের এক পুত্র সন্তান দান করেন। শিক্ষা হলো নিঃসন্তান (বন্ধা) দম্পতিদের উচিত হতাশ না হয়ে
নিভৃতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। (হযরত যাকারিয়া (আঃ) বৃদ্ধ বয়সে সন্তান লাভ
করেছিলেন।)
يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ
اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا
হে যাকারিয়া,
আমি তোমাকে এক পুত্রের
সুসংবাদ দিচ্ছি, তার
নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে এই নামে আমি কারও নাম করণ করিনি। [ সূরা মারঈয়াম
১৯:৭ ]
২য় রুকুতে (আয়াত ১৬-৪০) আল্লাহর আদেশে বাবা
ছাড়া কুমারী মরিয়মের ঘরে হজরত ঈসার (আ.) জন্মসংক্রান্ত ঘটনা উল্লেখের পর বলা হয়েছে, সন্তান নিয়ে মরিয়ম
নিজ সম্প্রদায়ের কাছে এলে ইহুদিরা সমালোচনা শুরু করে। মরিয়ম মুখে জবাব না দিয়ে
শিশু ঈসার দিকে ইশারা করা মাত্র নবজাতক বলে ওঠেন, ‘আমি আল্লাহর বান্দা’। কোলের শিশু মায়ের চারিত্রিক পবিত্রতার
ঘোষণা দেয়। আসলে আল্লাহর কুদরতের কাছে অসম্ভব বলতে কিছু নেই।
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي
نَبِيًّا
সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে
কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। [ সূরা মারঈয়াম ১৯:৩০ ]
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَأَوْصَانِي
بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا
আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে। [ সূরা মারঈয়াম ১৯:৩১ ]
وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا
এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত
ও হতভাগ্য করেননি। [ সূরা মারঈয়াম ১৯:৩২ ]
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ
حَيًّا
আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত
হব। [ সূরা মারঈয়াম ১৯:৩৩ ]
ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ
يَمْتَرُونَ
এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে। [ সূরা মারঈয়াম ১৯:৩৪ ]
৩য় রুকুতে (আয়াত ৪১-৫০) বলা হয়েছে, বাবাকে মূর্তিপূজায়
লিপ্ত দেখে সন্তান ইব্রাহিম (আ.) তাকে একত্ববাদের দাওয়াত দেন। কিন্তু বাবা কথা
শোনেনি। ঈমান রক্ষার জন্য ইব্রাহিম (আ.) দেশ-জাতি সব ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়
তার বংশেই সব নবীর আবির্ভাব ঘটে। শিক্ষা হলো পিতা ভুল পথে থাকলে সন্তান তাকে
আল্লাহর পথে ডাকবে। সূরা মারিয়ামঃ ৪১-৪৫
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ
تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنكَ شَيْئًا
যখন তিনি তার পিতাকে বললেনঃ
হে আমার পিতা, যে
শোনে না, দেখে
না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না, তার এবাদত কেন কর? [ সূরা মারঈয়াম ১৯:৪২ ]
৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৫১-৬৫) হজরত মুসা (আ.), হারুন (আ.), ইসমাইল (আ.) ও
ইদরিস (আ.) এর আলোচনা রয়েছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দা ছিলেন। কিন্তু তাদের
স্থলবর্তী হয়েছে এমন লোক, যারা নামাজ নষ্ট করেছে ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে।
أُوْلَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ
النَّبِيِّينَ مِن ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِن
ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا
تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا
এরাই তারা-নবীগণে র মধ্য থেকে যাদেরকে আল্লাহ
তা'আলা নেয়ামত দান করেছেন। এরা আদমের বংশধর এবং যাদেরকে আমি
নূহের সাথে নৌকায় আরোহন করিয়েছিলাম, তাদের বংশধর, এবং ইব্রাহীম ও ইসরাঈলের বংশধর এবং যাদেরকে
আমি পথ প্রদর্শন করেছি ও মনোনীত করেছি, তাদের বংশোদ্ভূত। তাদের কাছে যখন দয়াময় আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হত, তখন তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং ক্রন্দন করত। [ সূরা
মারঈয়াম ১৯:৫৮ ]
فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا
الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا
অতঃপর তাদের পরে এল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা
নামায নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা
প্রত্যক্ষ করবে। [ সূরা মারঈয়াম ১৯:৫৯ ]
إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ
يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا
কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সুতরাং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন
জুলুম করা হবে না। [ সূরা মারঈয়াম ১৯:৬০ ]
৫ম রুকু ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৬৬-৯৮) বলা
হয়েছে, মুশরিকরা পুনরুত্থান
ও প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করে, তাদের অবশ্যই জাহান্নামে একত্র করা হবে। মুমিনদের আল্লাহ
বিশেষ মুহব্বত দান করবেন এবং কাফেরদের পূর্ববর্তী কাফেরদের মতো ধ্বংস করবেন।
সূরা ত্বহার প্রায় পুরোটা জুড়েই রয়েছে হজরত
মুসা (আ.) ঘটনা সেই সঙ্গে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য উপদেশ।
১ম রুকু থেকে ৫ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৯-১০৪)
পর্যন্ত মুসা (আ.) এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এখানে তার জীবনের প্রায় সব ঘটনা চলে
এসেছে। ঘটনার আনুষঙ্গিক বিষয়ের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে বান্দা যেন ঘটনার শিক্ষণীয়
বিষগুলোর প্রতি মনোযোগী হয় এজন্য কোরআনে সাধারণত ঘটনার ধারাবাহিক ক্রম রক্ষা করা
হয় না।
আলোচ্য সুরায় মুসা (আ.) এর যে ঘটনাগুলো
বর্ণনা করা হয়েছে, সেগুলো হলো শিশু মুসাকে আল্লাহর আদেশে দরিয়ায়
নিক্ষেপ, শত্রুর ঘরে মায়ের কোলে লালন-পালন, নবুয়ত লাভ, আল্লাহর সঙ্গে
সরাসরি কথা, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে এবং তার ভাই হারুন
(আ.) কে ফেরাউনের কাছে যাওয়ার নির্দেশ, ফেরাউনের সঙ্গে উত্তম বাচনভঙ্গিতে কথোপকথন, মুসার বিরোধিতার জন্য ফেরাউন কর্তৃক জাদুকরদের একত্রীকরণ, মুসা (আ.) এর বিজয়, জাদুকরদের ঈমান, নবীর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলের মিশর ত্যাগ, ফেরাউনের সৈন্যসামন্ত নিয়ে ধাওয়া করা, পরিশেষে সমুদ্রে ফেরাউন বাহিনীর বিনাশ সাধন। মহাদয়ালু রবের
নেয়ামতের বিপরীতে বনি ইসরাইলের অকৃতজ্ঞতা, সামিরি কর্তৃক গো-বাছুর বানানো এবং বনি ইসরাইলের পথভ্রষ্টতা, তাওরাত নিয়ে মুসা (আ.) এর তুর পর্বত থেকে প্রত্যাবর্তন এবং
নিজের ভাইয়ের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ।
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
মূসা বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ
প্রশস্ত করে দিন। [ সূরা ত্বা-হা ২০:২৫ ]
وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। [ সূরা ত্বা-হা
২০:২৬ ]
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي
এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন। [
সূরা ত্বা-হা ২০:২৭ ]
يَفْقَهُوا قَوْلِي
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। [ সূরা
ত্বা-হা ২০:২৮ ]
৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ১০৫-১৩৫) হজত আদম (আ.)-কে
ইবলিসের সিজদা না করার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। কেয়ামতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরার পর
পরকালে আল্লাহবিমুখ বান্দাদের শাস্তির বিবরণ দেয়া হয়েছে। মাঝে মাশরেকদের কথায় কান
না দিয়ে দাওয়াতের কাজে অবিচলতার নির্দেশনার মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।
(১২৯-১৩৫)।
আমি আবার বলছি
আজ ১৩তম তারাবীহ
সূরা কাহাফের
৭৫ নং আয়াত হতে সূরা ত্বহার ১৩৫ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৬তম পারা।)
সূরা কাহাফের
৭৫ নং আয়াত হতে ১১০ মোট ৩৬ টি আয়াত
সূরা মারিয়ামের
১ নং আয়াত হতে ৯৮ মোট ৯৮ টি আয়াত
সূরা ত্বহার
১ নং আয়াত হতে ১৩৫ মোট ১৩৫ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৩৬+৯৮+১৩৫ =২৬৯



No comments:
Post a Comment