Saturday, April 24, 2021

আজ ১২তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 


আজ ১২তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

আজ ১২তম তারাবিতে সূরা বনি ইসরাইলের ১ম রুকু থেকে ১২তম রুকু (আয়াত ১-১১১) পর্যন্ত এবং সূরা কাহাফের ১ম রুকু থেকে ১০ম রুকু (আয়াত ১-৭৪) পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৫তম পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

১২তম তারাবীহ

সূরা বনি ইসরাঈলের ১ নং আয়াত হতে সূরা কাহাফের ৭৪ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৫তম পারা।)

সূরা বনি ইসরাঈলের ১ নং আয়াত হতে ১১১ মোট ১১১ টি আয়াত

সূরা কাহাফের ১ নং আয়াত হতে ৭৪ মোট ৭৪ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ১১১+৭৪ =১৮৫

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

সূরা বনি ইসরাইল (আয়াত ১-১১১) :

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) রাসূল (সা.) এর ইসরা অর্থা রাত্রে ভ্রমণের বৃত্তান্ত আলোচিত হয়েছে। হজরত মুহাম্মাদকে (সা.) রাতের বেলা মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায়, অতঃপর সেখান থেকে ঊর্ধ্বাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আরো বলা হয়েছে যারা নেক আমল ও ভালো কাজ করবে তারা তার সুফল পাবে আর যারা অসপথে চলবে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ

পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল। [ সূরা বনী-ইসরাঈল ১৭:১ ]

২য় রুকুতে (আয়াত ১১-২২) পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্যের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে মানুষ বড়ই তাড়াহুড়াপ্রবণ। তাকদিরে যা আছে তাই হবে এবং যেমন কর্ম তেমনই ফল হবে। এ কথা বলার পর সামাজিক জীবনের প্রায় ১৩টি ইসলামি শিষ্টাচারের বর্ণনা দেয়া হয়েছ। প্রকৃত অর্থে আখলাক ও শিষ্টাচারের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি বা একটি সমাজ সম্মান-মর্যাদার উপযুক্ত হয়।

إِنَّ هَـذَا الْقُرْآنَ يِهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا

এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সকর্ম পরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে। [ সূরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৯ ]

اقْرَأْ كَتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا

পাঠ কর তুমি তোমার কিতাব। আজ তোমার হিসাব গ্রহণের জন্যে তুমিই যথেষ্ট। [ সূরা বনী-ইসরাঈল ১৭:১৪ ]

৩য় রুকুতে (আয়াত ২৩-৩০) বেশ গুরুত্বের সঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে যে, আল্লাহর হক আদায় করা ও বান্দার হক আদায় করা। কোনো হক যেন আমার থেকে ছুটে না যায়। বিশেষত, মা-বাবার সামনে উফশব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ﴿الإسراء: ٢٣﴾

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩১-৪০) বলা হয়েছে তোমাদের সন্তানদের অভাব ও দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা কর না। তাদের রিজিক আমিই প্রদান করি। তারপর বলা হয়েছে এতিমদের সম্পদের প্রতি যত্নবান হওয়া। জমিনে অহংকারের সঙ্গে বিচরণ না করা। বরং বিনম্র হয়ে চলাফেরা করা।

وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً

আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। [ সূরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৩২ ]

৫ম থেকে ১২তম রুকু পর্যন্ত (৪১-১১১) মুশরিকদের বিভিন্ন মন্দ বিশ্বাসের উল্লেখের পর পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্য, সত্যতা, অলৌকিকত্ব, কোরআন অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হওয়ার হিকমত, আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে বিশেষ সম্মান দান, মানুষকে রুহ, আত্মা ও জীবনের নেয়ামত প্রদান, রাসূলকে (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজের হুকুম এবং মুসা (আ.) ও ফেরআউনের কাহিনী প্রসঙ্গে আলোচনা রয়েছে। আরো বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ সব ধরনের শরিক এবং সন্তান-সন্ততি থেকে একেবারে পবিত্র, আর তিনি আসমাউল হুসনা অর্থা সুন্দরতম নামসমূহের অধিকারী, পবিত্র নামগুলো সব তারই জন্য।

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلاً

নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। [ সূরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৭০ ]

أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا ﴿الإسراء: ٧٨﴾

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاء وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَلاَ يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إَلاَّ خَسَارًا

আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়। [ সূরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৮২ ]

 

সূরা কাহাফ (আয়াত ১-৭৪) :

আরবি শব্দ কাহাফ। এর অর্থ গুহা। এ সূরায় যেহেতু গুহাবাসীদের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তাই সূরার নাম কাহাফ। সূরায় মৌলিকভাবে ৩টি কাহিনী এবং ৩টি উপমা রয়েছে।

১ম থেকে ৪র্থ রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৩১) ১ম কাহিনীটি বর্ণনা করা হয়েছে। এটি আসহাবে কাহাফ সম্পর্কিত। হজরত ঈসা (আ.) এর যুগের কয়েকজন ঈমানদার যুবককে মূর্তি পূজায় বাধ্য করা হচ্ছিল। কিন্তু তারা ঈমান রক্ষার জন্য বেরিয়ে পড়েন। একটি পাহাড়ের গুহায় তারা আশ্রয় নেন। গুহায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ৩০৯ বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। ঘুম ভাঙার পর তাদের একজন খাদ্য সংগ্রহের জন্য শহরে এলে লোকজন তাকে চিনে ফেলে। তিন শতাব্দীর ব্যবধানে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিল। শিরকপন্থিদের কর্তৃত্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল। এক আল্লাহে বিশ্বাসীরা তখন ক্ষমতায়। ঈমানের জন্য এই নওজোয়ানরা দেশ ও জাতির কাছে সাহসী বীর খেতাব পায়।

نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُم بِالْحَقِّ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى

আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। [ সূরা কাহাফ ১৮:১৩ ]

وَلَا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَلِكَ غَدًا

আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব। [ সূরা কাহাফ ১৮:২৩ ]

إِلَّا أَن يَشَاء اللَّهُ وَاذْكُر رَّبَّكَ إِذَا نَسِيتَ وَقُلْ عَسَى أَن يَهْدِيَنِ رَبِّي لِأَقْرَبَ مِنْ هَذَا رَشَدًا

আল্লাহ ইচ্ছা করলে' বলা ব্যতিরেকে। যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন এবং বলুনঃ আশা করি আমার পালনকর্তা আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথ নির্দেশ করবেন। [ সূরা কাহাফ ১৮:২৪ ]

৫ম রুকুতে (৩২-৪৪) গল্পের আকারে একটি উপমা উল্লেখ করা হয়েছে। এক ব্যক্তি ছিল অঢেল সম্পদের মালিক। সম্পদের প্রাচুর্য দেখে সে আখেরাতের ব্যাপারে গাফেল হয়ে যায়। কেয়ামত অস্বীকার করে বসে। তার এক বন্ধু ছিল ঈমানদার, সে তাকে অনেক বোঝায়। কিন্তু সে সদুপদেশ শোনেনি। এক সময় তার ধনসম্পদ ও জনবল সব বিনাশ হয়ে যায়। তখন আফসোস করতে করতেই তার জীবন শেষ হয়। মূলত আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের পরিণাম কখনই সুখকর হতে পারে না।

৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৪৫-৪৯) ২য় উপমাটি বর্ণনা করা হয়েছে। ৭ম রুকুতে ৩য় উপমাটি বর্ণনা করা হয়েছে।

وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاء أَنزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاء فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَأَصْبَحَ هَشِيمًا تَذْرُوهُ الرِّيَاحُ وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُّقْتَدِرًا

তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান। [ সূরা কাহাফ ১৮:৪৫ ]

الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا

ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ত তি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম। [ সূরা কাহাফ ১৮:৪৬ ]

 

৯ম থেকে ১০ম রুকু (আয়াত ৬০-৭৪) পর্যন্ত হজরত মুসা (আ.) ও খিজির (আঃ)-এর কাহিনীর প্রথমাংশ বর্ণিত হয়েছে। আগামীকাল ঘটনার মূল অংশ সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে ইনশাল্লাহ!

 

 

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ১১তম তারাবীহ

সূরা হিজরের ২ নং আয়াত হতে সূরা নাহলের ১২৮ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৪তম পারা।)

সূরা হিজরের ২ নং আয়াত হতে ৯৯ মোট ৯৮ টি আয়াত

সূরা নাহলের ১ নং আয়াত হতে ১২৮ মোট ১২৮ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ৯৮+১২৮ =২২৬

 

No comments:

Post a Comment