আজ ১১তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ
বিষয়বস্তু
আজ ১১তম তারাবিতে সূরা হিজর এর শুরু থেকে সূরা নাহল এর শেষ পর্যন্ত পড়া হবে।
পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৪তম পারা।
“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ তুলে ধরা হলো,
বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz
১১তম তারাবীহ
সূরা হিজরের
২ নং আয়াত হতে সূরা নাহলের ১২৮ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৪তম পারা।)
সূরা হিজরের
২ নং আয়াত হতে ৯৯ মোট ৯৮ টি আয়াত
সূরা নাহলের
১ নং আয়াত হতে ১২৮ মোট ১২৮ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৯৮+১২৮ =২২৬
করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ
১৫. সূরা হিজর : (১-৯৯)
সূরা হিজর। অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৯৯ এবং রুকু
সংখ্যা ছয়। আজ পঠিত হবে পুরো সূরা-ই।
এ সূরায় ‘হিজর’ উপত্যকায় বসবাসকারী কওমে সামুদের আলোচনা থাকায় সূরার নাম হিজর। হিজর উপত্যকা মদিনা
ও শামের মধ্যখানে অবস্থিত। এ সূরার সূচনা হুরুফে মুকাত্তাআত দিয়ে এবং প্রথম আয়াতে কোরআনের
পরিচয় ও গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে। সূরাটির মাঝে ইসলামের বুনিয়াদি আকিদার দৃঢ়তা বর্ণনা
করা হয়েছে।
প্রথম রুকু, ১ থেকে ১৫ নম্বর আয়াত। সত্য অস্বীকারকারীদের হাশর কেমন হবে
সেই বর্ণনা দিয়ে সূরা শুরু হয়েছে। মক্কার কাফেররা নবীজী (সা.) এর সঙ্গে যে ধরণের
আচরণ করছে পূর্ববর্তী নবীদের সঙ্গেও ঠিক এ ধরণের আচরণই করা হয়েছে। তাই হতাশ না হয়ে
ধৈর্যের সঙ্গে দাওয়াতি কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কোরআনুল কারিম একমাত্র আসমানি গ্রন্থ, যা হেফাজতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন। তাই কোরআন চিরকাল
অবিকৃত থাকবে।
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ ﴿الحجر: ٩﴾
দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকু। ১৬ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ
তায়ালা বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এই বিশ্ব চরাচর ও তার নিজের মাঝে কত
নেয়াতমরাজি ছড়িয়ে আছে। অন্তত এর শোকরিয়া আদায় করার জন্য হলেও আল্লাহর পাঠানো সত্য
গ্রহণ করা উচিত। আমাদের আদি পিতা হজরত আদম (আ.) এর প্রসঙ্গ আলোচনা করা হয়েছে। আদম
(আ.)কে কীভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মর্যাদা কত ওপরে তুলে ধরেছেন সে কথাও বলা
হয়েছে। ইবলিস কীভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে তাও বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য, মানুষ যেন নিজের মর্যাদা বোঝে এবং আল্লাহর দিকে
ফিরে আসে।
চতুর্থ ও পঞ্চম রুকু। ৪৫ থেকে ৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ
বান্দার প্রতি ক্ষমাশীল- এ কথা বলে রুকু শুরু করা হয়েছে। পরে হজরত ইবরাহিম (আ.) এর
কাছে মেহমান বেশে দুইজন ফেরেশতা এসেছিল- সে ঘটনা বলা হয়েছে। ফেরেশতারা ইবরাহিম
নবীকে পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দেয়ার পর বলেছে, আমরা লূত (আ.) এর কওমের কাছে যাচ্ছি। তাদেরকে আজাব দিয়ে
ধ্বংস করে দিব। তারপর হজরত শোয়াইব (আ.) এর সম্প্রদায়ের ধ্বংসের ঘটনা বলে রুকু শেষ
করা হয়েছে।
ষষ্ঠ তথা শেষ রুকু। ৮০ থেকে ৯৯ নম্বর আয়াত। সামুদ
সম্প্রদায়কে ধ্বংসের ঘটনা দিয়ে রুকু শুরু হয়েছে। আমাদের নবীকে উপদেশ দেয়া হয়েছে
মক্কার কাফেরদের বিরোধীতা দেখে হতাশ হয়ো না। ‘আমৃত্যু আল্লাহর দাসত্ব করতে থাকো’-বলে সূরা শেষ করা
হয়েছে।
وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ ﴿الحجر: ٩٩﴾
১৬. সূরা আন-নাহল : (১-১২৮)
সূরা নাহল। মক্কায় অবতীর্ণ হওয়া এ সূরার আয়াত ১২৮ টি এবং
রুকু ১৬টি। পূর্ণ সূরা তেলাওয়াতের মাধ্যমেই শেষ হবে আজকের তারাবি।
নাহল বলা হয় মৌমাছিকে।
যেহেতু এই সূরায় মৌমাছির আলোচনা এসেছে, তাই এর নাম সূরা
নাহল। মৌমাছি সাধারণ মাছির মতোই।
কিন্তু আল্লাহর
হুকুমে সে বিস্ময়কর সব কর্ম সাধন করে। চাক বানানো, আপসে বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করা, দূরে বহুদূরে অবস্থিত
বৃক্ষলতা, গাছপালা, বনবনানি ও ফসলি
খেত থেকে ফোঁটা ফোঁটা করে মধু সংগ্রহসহ কত কিছু যে করে এই ছোট্ট প্রাণীটি। তার সব
কাজই বড় বিস্ময়কর। ‘চিন্তাশীলদের জন্য এতে খোরাক রয়েছে। (৬৯)।
যদি কোনো উদার
মনের মানুষ শুধু মৌমাছির জীবনচক্রের ব্যাপারে চিন্তা করে, তাহলে সে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর অসীম কুদরত ও সূক্ষ্ম হিকমতের স্বীকারোক্তি না করে পারবে না।
সূরা নাহলের অপর
নাম সূরা নি’আম। কেননা এ সূরায় অনেক বেশি পরিমাণে আল্লাহর নেয়ামতের
কথা আলোচিত হয়েছে। সূরার শুরু থেকে অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, প্রথমে কেয়ামত ও ওহির আলোচনা করা হয়েছে। মুশরিকরা তা অস্বীকার
করত। এরপর আল্লাহ তায়ালার অসংখ্যা নেয়ামতের ধারাবাহিক বর্ণনা শুরু হয়েছে।
তিনি পৃথিবীকে
বিছানা আর আসমানকে ছাদ বানিয়েছেন। মানুষকে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন, চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন। এগুলোর মাঝে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের
উপকার। তিনিই সৃষ্টি করেছেন ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর। এগুলো মানুষের
বোঝা বহনের কাজে দেয় এবং তার জন্য সৌন্দর্যের প্রতীক হয়।
বৃষ্টি তিনিই বর্ষণ করেন, তারপর সেই বৃষ্টি থেকে জইতুন, খেজুর, আঙুরসহ আরও অনেক ফলমূল ও লতাগুল্ম তিনিই সৃষ্টি করেন। রাত-দিন, চাঁদ-সূর্য সবই তাঁর সৃষ্টি। এগুলোকে তিনি সর্বদা মানুষের সেবায়
নিয়োজিত রেখেছেন। দরিয়ায় তাজা মাছের মাংস এবং অলংকার তিনিই প্রস্তুত করেন। সাগরের বুকে
জাহাজ তাঁরই হুকুমে চলমান থাকে। রক্ত ও গোবরের মাঝখান থেকে সাদা দুধ তিনিই বের করে
আনেন।
প্রথম রুকু থেকে তৃতীয় রুকু। ১ থেকে ২৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা তার বিভিন্ন
নেয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন। মানুষকে বলেছেন, আমার অনুগ্রহ তোমরা যদি গণনা কর তারপরও শেষ হবে না। তাই
আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না। তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন। তারই দাসত্ব করো।
وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ
لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿النحل: ١٨﴾
চতুর্থ ও পঞ্চম রুকু। ২৬ থেকে ৪০ নম্বর আয়াতে পূর্ববর্তী
কাফেরদের দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা হয়েছে, তাদের জন্য কঠিন আজাবের ব্যবস্থা রয়েছে। যারা আল্লাহভিরুতার
জীবনযাপন করেছে তাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে হবে। তারা সঠিক জবাব দিতে
পারবে। ওই জবাবের ভিত্তিতেই তাদেরকে সুখময় জান্নাত দান করা হবে। আর যারা
আল্লাহরভিরুতার জীবনযাপন করেনি, তাদের যতই বলা হোক না কেন তারা আল্লাহর রঙে জীবন রাঙাবে না।
তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।
ষষ্ঠ রুকু, ৪১ থেকে ৪২ নম্বর আয়াত। মোহাজিরদের মর্যাদা বলে রুকু শুরু
করা হয়েছে। আর যারা সত্য অস্বীকার করে তাদেরকে সহজ কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে ঘুমন্ত
বিবেক জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সপ্তম রুকু, ৫১ থেকে ৬০ নম্বর আয়াত। শিরক থেকে দূরে থাকার নির্দেশ ও
যৌক্তিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِالْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ ﴿النحل: ٥٨﴾ يَتَوَارَىٰ مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَىٰ هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿النحل: ٥٩﴾
অষ্টম, ৯ম, ১০ম ও ১১তম রুকু। ৬১ থেকে ৮৩ নম্বর আয়াতে আগের ধারাবাহিকতায়
শিরক এর অসারতা ও তাওহিদ তথা এক আল্লাহর ওপর ইমান আনার যৌক্তিকতা বর্ণনা করা
হয়েছে। এখানে কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে খোলা
মনে চিন্তা করলে মানুষের বিবেক নাড়া দেবেই। এরপরও যদি কেউ সত্যের প্রতি ইমান না
আনে,
তাহলে দাওয়াত পৌঁছে দেয়া ছাড়া আর কোন দায়িত্ব
নবীর ওপর নেই।
১২তম রুকু। ৮৪ থেকে ৮৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এই দুনিয়ায় ওরা ইমান না আনলেও পরকালে তাদের বাঁচার কোন
সুযোগ নেই। সে দিন তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবেই।
১৩, ১৪ ও ১৫তম রুকু। ৯০ থেকে ১২৮ নম্বর আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদিকে উদ্দেশ করে
বিশেষ বিশেষ ৬টি নসিহত করা হয়েছে। যাতে পরকালের পাকড়াও থেকে তারা বাঁচতে পারে। এ সূরায় সেই প্রসিদ্ধ আয়াতটি রয়েছে, যা সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, কোরআনে কারিমের এই আয়াতে সবকিছুর দিকনির্দেশনা রয়েছে।
আয়াতটির ব্যাপকতার কারণে ওমর ইবনে আবদুল আযীয (রহ.) এর খেলাফতের
সময়কালে প্রত্যেক খতিব জুমার খুতবায় এই আয়াত পাঠ করতেন এবং এখনো পাঠ করা হয়।
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ ﴿النحل: ٩٠﴾
আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।
فَإِذَا
قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ
الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ﴿النحل:
٩٨﴾
১৬তম তথা শেষ রুকুতে বিশ্বাসীদের জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম
(আ.) এর জীবনাদর্শ তুলে ধরা হয়েছে। ইবরাহিমী ধর্ম ও মোহাম্মাদি ধর্ম এক ও অভিন্ন।
তারপরও যারা এর মধ্যে বৈপরীত্য খোঁজে তাদের সঙ্গে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই।
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
وَجَادِلْهُم بِالَّتِي
هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ ﴿النحل: ١٢٥﴾
আপন পালনকর্তার পথের প্রতি
আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক
করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে
জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং
তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে।
আমি আবার বলছি
আজ ১১তম তারাবীহ
সূরা
হিজরের ২ নং আয়াত হতে সূরা নাহলের ১২৮ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৪তম পারা।)
সূরা
হিজরের ২ নং আয়াত হতে ৯৯ মোট ৯৮ টি আয়াত
সূরা
নাহলের ১ নং আয়াত হতে ১২৮ মোট ১২৮ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৯৮+১২৮ =২২৬




No comments:
Post a Comment