Wednesday, April 21, 2021

আজ ৯ম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 


আজ ৯ম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 

আজ ৯ম তারাবিতে সূরা হুদ ১ম রুকু থেকে ১০ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-১২৩) পুরোটা এবং সূরা ইউসুফের ১ম রুকু থেকে ৭ম রুকু (আয়াত ১-৫২) পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১২তম পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

৯ম তারাবীহ

সূরা হুদের ৬ নং আয়াত হতে সূরা সূরা ই্উসুফের ৫২ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১২তম পারা।)

সূরা হুদের ৬ নং আয়াত হতে ১২৩ মোট ১১৮ টি আয়াত

সূরা ইউসুফের ১ নং আয়াত হতে ৫২ মোট ৫২ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ১১৮+৫২ =১৭০

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

 

সূরা হুদ : (আয়াত ১-১২৩):

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৮) কোরআনের অলৌকিক মহিমার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। শব্দ, অর্থ, মর্ম সবদিক দিয়েই পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রব সত্যতার বর্ণনায় কোনো কিছুই অযৌক্তিক এবং বিরুদ্ধ নয়। এর অনুপম ভাষা এবং বর্ণনাধারা, অলৌকিক সাবলীলতা এবং প্রাঞ্জলতায় কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই।
কোরআনের প্রতিটি তত্ত্ব এবং তথ্য অকাট্য, এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

 

রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ ﴿هود: ٦﴾

আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই,তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে

 

২য় রুকুতে (আয়াত ৯-২৪) যারা বলে কোরআন মানব রচিত, তাদের কোরআনের অনুরূপ কিছু বানিয়ে দেখানোর চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কখনোই কাফেররা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারেনি এবং কেয়ামত পর্যন্ত পারবেও না। পার্থিব জীবনের মোহে লিপ্ত ব্যক্তির উদাহরণ দেয়া হয়েছে অন্ধ ও বধিরের সঙ্গে, আর ঈমানদারদের উপমা দেয়া হয়েছে চক্ষুষ্মান ও শ্রবণসম্পন্ন ব্যক্তির সঙ্গে।

 

৩য় রুকুতে (আয়াত ২৫-৩৫) হজরত নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব, মুসা এবং হারুন (আ.) এর কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর অহির সত্য এবং কোরআনের মুজেজা হওয়ার বর্ণনা দেয়ার উদ্দেশ্যে এই ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

 

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩৬-৪৯) হজরত নুহ (আ.) এর ঘটনা বর্ণনার পর বলা হয়েছে, এসব ঘটনা অদৃশ্যের সংবাদের অন্তর্ভু৩, যা আল্লাহ অহির মাধ্যমে জানাচ্ছেন। ইতঃপূর্বে এসব কেউ জানতো না। নবীও না, তার জাতিও না।

ঈমান না থাকলে আত্মীয়তার সম্পর্ক কাউকে রক্ষা করতে পারে না

وَنَادَىٰ نُوحٌ رَّبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ [١١:]﴿هود: ٤٥

আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললেন-হে পরওয়ারদেগার,আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত;আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী

قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ ۖ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ ۖ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۖ إِنِّي أَعِظُكَ أَن تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ ﴿هود: ٤٦﴾

আল্লাহ বলেন,হে নূহ! নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়নিশ্চই সে দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না,যার খবর আপনি জানেন নাআমি আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি যে,আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না

 

 

৫ম রুকু ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৫০-৬৮) আদ ও সামুদ জাতির ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। হজরত হুদ ও সালেহ (আ.) এর বিভিন্ন কথাও বর্ণিত হয়েছে।

 

৭ম রুকু ও ৮ম রুকুতে (আয়াত ৬৯-৯৫) হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত লুত (আ.) ও হজরত শুয়াইব (আ.) এর বিভিন্ন ঘটনা বলা হয়েছে। তাদের সম্প্রদায়ের অবাধ্যাচার ও সপথের দিকে তাদের আহ্বান ইত্যাদি বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

 

৯ম রুকু ও ১০ রুকুতে (আয়াত ৯৬-১২৩) হজরত মুসা (আ.) এর ঘটনা প্রসঙ্গে গুনাহ ও নাফরমানির ব্যাপারে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড় দেন তবে ছেড়ে দেন না। এসব নবীগণের ঘটনাসমূহে চিন্তাশীল মানুষের জন্য রয়েছে অসংখ্য উপদেশ, আর রয়েছে রাসূল (সা.) এবং মুখলিস ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য সান্তনা ও দৃঢ়তার সবক। তাই ঘটনাগুলোর বর্ণনা প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) ও তাঁর উম্মতকে অটল ও দৃঢ় থাকার নির্দেশ প্রাদান করা হয়েছে। অতঃপর পবিত্র কোরআনে এসব নবীগণের ঘটনা বর্ণনার কী উদ্দেশ্য এ প্রসঙ্গেটির উল্লেখ করে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

 

ভাল কাজ মানুষের মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়

সালাত মধ্যবর্তী গুনাহ মুছে দেয়

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ ﴿هود: ١١٤﴾

আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে,এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়,যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক

 

সূরা ইউসুফ : (আয়াত ১-১১১):

১ম রুকু থেকে ৭ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৫২) পড়া হবে। ইউসুফ (আ.) এর ঘটনার যে অংশটুকু আজ পড়া হবে তার সারসংক্ষেপ হলো-

হজরত ইয়াকুব (আ.) এর বারো জন সন্তান ছিল। এদের মধ্যে হজরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অস্বাভাবিক সৌন্দর্যের অধিকারী, বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও দৈহিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আচার-ব্যবহারেও তিনি ছিলেন অনন্য। তাই বাবা ইয়াকুব (আ.) তাকে বিশেষ ভালোবাসার নজরে দেখতেন। মহব্বতের আরেকটি কারণ ছিল, ইউসুফ (আ.) শৈশবে একটি স্বপ্ন দেখেন, যা ছিল তার নবী হওয়ার পূর্বাভাষ। ইউসুফ (আ.) ও তার ভাই বিনয়ামিন ছিলেন সবার ছোট, আর তাদের মায়েরও ইন্তেকাল হয়েছিলো। এসব কারণে বাবা ইয়াকুব (আ.) এর বিশেষ মহব্বত ভাইয়েরা সহ্য করতে পারেনি। 

সর্বোত্তম কাহিনী সূরা ইউসুফ

نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَٰذَا الْقُرْآنَ وَإِن كُنتَ مِن قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ ﴿يوسف: ٣﴾

আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছি, যেমতে আমি এ কোরআন তোমার নিকট অবতীর্ণ করেছিতুমি এর আগে অবশ্যই এ ব্যাপারে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত ছিলে

 

 

বিনোদনের কথা বলে একদিন তারা ইউসুফ (আ.) কে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং একটি কূপে তাকে ফেলে দেয়। সেই পথ দিয়ে একটি কাফেলা যাচ্ছিল, পানির প্রয়োজনে তারা কূপের সামনে যায়, বালতি নিচে ফেলার পর বালতি ওঠানো মাত্রই ফুটফুটে সুন্দর ইউসুফ (আ.)-কে দেখতে পায়। তারা মিশরে গিয়ে ইউসুফ (আ.)-কে বিক্রি  করে দেয়। মিশরের আজিজ তাকে কিনে নিজের ঘরে নিয়ে যান।

 

ইউসুফ (আ.) যৌবনে পদার্পণ করেন। একসময় মিশরের বাদশার স্ত্রী তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। সে ইউসুফ (আ.)-কে খারাপ কাজের প্রতি আহ্বান করে, ইউসুফ (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজপরিবারের বদনাম থেকে বাঁচার জন্য ইউসুফ (আ.)- কে জেলে নিক্ষেপ করা হয়। জেলের কুঠুরিতেও তাওহিদের দাওয়াত চলতে থাকে, অনেকেই তার হাতে মুসলমান হন।

 

কালীন বাদশা একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফ (আ.) সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা বলে দেন। ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি বাদশাহর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। বাদশা হজরত ইউসুফ (আ.)-কে সে মিসরের অর্থ বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দেন এবং তাকে নিজের উজির ও মন্ত্রী বানিয়ে নেন।

 

আয়াতসমূহের শিক্ষা

ক। কুকর্মের প্রস্তাব দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং এর থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। (সূরা ইউসুফঃ ২৩-২৯)

 

وَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ ﴿يوسف: ٢٣﴾

আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল,ঐ মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং দরজাসমূহ বন্ধ করে দিলসে মহিলা বললঃ শুন! তোমাকে বলছি,এদিকে আস,সে বললঃ আল্লাহ রক্ষা করুন; তোমার স্বামী আমার মালিকতিনি আমাকে সযত্নে থাকতে দিয়েছেননিশ্চয় সীমা লংঘনকারীগণ সফল হয় না

 

খ। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা যাবে না। (সূরা ইউসুফঃ ৩৩-৩৫)

গ। বিপদে, অসহায় অবস্থায় পূর্ণ ধৈর‌যধারণ করতে হবে। যেমন ইয়াকুব (আঃ) ইউসুফ (আঃ) এর ব্যাপারে করেছিলেন। (সূরা ইউসুফঃ ১৮)

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ৯ম তারাবীহ

সূরা হুদের ৬ নং আয়াত হতে সূরা সূরা ই্উসুফের ৫২ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১২তম পারা।)

সূরা হুদের ৬ নং আয়াত হতে ১২৩ মোট ১১৮ টি আয়াত

সূরা ইউসুফের ১ নং আয়াত হতে ৫২ মোট ৫২ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ১১৮+৫২ =১৭০

 

No comments:

Post a Comment