আজ ৭ম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ
বিষয়বস্তু
আজ ৭ম তারাবিতে
সূরা আনফালের ৫ম রুকু থেকে ১০ম রুকু (আয়াত ৪১-৭৫) পর্যন্ত এবং সুরা তাওবার ১ম রুকু
থেকে ১২তম রুকু (আয়াত ১-৯৩) পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১০ম পারা।
“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ তুলে ধরা হলো,
বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz
৭ম তারাবীহ
সূরা আনফালের
৪১ নং আয়াত হতে সূরা সূরা তাওবার ৯৩ নং আয়াত পর্যন্ত।
(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে
১০ম পারা।)
সূরা আনফালের
৪১ নং আয়াত হতে ৭৫ মোট ৩৫ টি আয়াত
সূরা তাওবার
১ নং আয়াত হতে ৯৩ মোট ৯৩ টি আয়াত
সর্বমোট
পঠিতব্য আয়াত ৩৫+৯৩=১২৮
করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ
সুরা আনফাল : (৪১-৭৫):
৫ম রুকু থেকে ১০ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৪১-৭৫) যুদ্ধলব্ধ গনিমতের সম্পদ বণ্টনের
নীতি প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। তারপর বদরযুদ্ধের ঘটনা ও শিক্ষা সম্পর্কে আলোকপাত করা
হয়েছে। বদর যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ঐতিহাসিক এ যুদ্ধে শয়তানের
ভূমিকা এবং কাফেরদের ফেরেশতা কর্তৃক প্রহার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। যুদ্ধের জন্য
আত্মিক বল ও রুহানি শক্তি অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার সাহায্য লাভের
জন্য যুদ্ধের ময়দানে অটল অবস্থান, বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য, মতানৈক্য ও অহংকার
পরিহার করা, ধৈর্য ধারণ
করা, জাতীয় জীবনে
উত্থান-পতনের মূলনীতি, বদরযুদ্ধের বন্দি সমস্যা ও সমাধান, আনসার, মুজাহির এবং মুজাহিদদের পুরস্কার ও মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ে
আলোচনা করা হয়েছে।
hy‡× weR‡qi Hkx wb‡`©kbv
يَا أَيُّهَا
الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ
فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا
لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿الأنفال:
٤٥﴾
হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কোন
বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে
অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে পার।
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿الأنفال: ٤٦﴾
আর আল্লাহ তা’আলার
নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া
তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা
কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
وَأَعِدُّواْ لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ
وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدْوَّ اللّهِ وَعَدُوَّكُمْ
وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لاَ تَعْلَمُونَهُمُ اللّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا
تُنفِقُواْ مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لاَ
تُظْلَمُونَ
আর প্রস্তুত কর তাদের সঙ্গেযুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি
সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের ওপর
এবং তোমাদের শত্রুদের ওপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের ওপর ও যাদেরকে তোমরা জান
না; আল্লাহ
তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে,
তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে
পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না। [ সূরা আনফাল ৮:৬০ ]
فَإِن يَكُن مِّنكُم مِّائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِن يَكُن مِّنكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿الأنفال: ٦٦﴾
এখন বোঝা হালকা করে
দিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর এবং তিনি জেনে নিয়েছেন যে, তোমাদের
মধ্য দূর্বলতা রয়েছে। কাজেই
তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ়চিত্ত একশ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর উপর। আর যদি
তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দু’হাজারের
উপর আর আল্লাহ রয়েছেন দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে।
সুরা তাওবা : (আয়াত ১-৯৩):
সূরা তাওবা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর রুকু সংখ্যা ১৬ ও আয়াত সংখ্যা ১২৯। আজ
পড়া হবে ৯৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত।
সূরা তাওবার প্রথম শব্দ বারাআত, যার অর্থ মুক্ত ও নিঃসম্পর্ক হওয়া। নবম হিজরিতে রাসূলুল্লাহ
(সা.) রোমানদের শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। ইতিহাসে যা গাজওয়ায়ে তাবুক
নামে পরিচিত। সূরা তওবায় মৌলিকভাবে দুটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে ১. মুশরিক ও আহলে
কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বর্ণনা এবং ২. গাজওয়ায়ে তাবুকের প্রেক্ষাপটে মুনাফিকদের
আসল পরিচয় প্রকাশ।
১ম রুকুতে (আয়াত ১-৬) জমিনে বিচরণ করা, হজের সময়ে আল্লাহর কৃত ঘোষণা, মুশরিকরা যদি মুসলমানদের কাছে আশ্রয় নেয়
তাহলে কী করবে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
২য় রুকুতে (আয়াত ৭-১৬) ইহুদি ও মুশরিকদের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। তারা
চুক্তি ভঙ্গ করে ও বিশ্বাসঘাতকতা করে। এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
فَإِن
تَابُواْ وَأَقَامُواْ الصَّلاَةَ وَآتَوُاْ الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي
الدِّينِ وَنُفَصِّلُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামাজ কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে,
তবে তারা তোমাদের দ্বীনী
ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি। [ সূরা
তাওবা ৯:১১ ]
৩য় রুকুতে (আয়াত ১৭-২৪) মুশরিকদের অপরাধ স্বীকার করা, আল্লাহর জন্য হিজরত করা, হাজিদের জন্য পানি সরবরাহ করা ইত্যাদি বিষয়ে
আলোকপাত করা হয়েছে।
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ ﴿التوبة: ١٨﴾
নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর
মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে
নামায ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।
৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২৫-২৯) হুনাইনের যুদ্ধ ও মুসলিমদের আত্মবিশ্বাস রাখা
প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
৫ম রুকুতে (আয়াত ৩০-৩৭) বলা হয়েছে উযায়েরকে (আ.) ইহুদিরা আল্লাহর পুত্র মনে
করত। মারয়াম (আ.) ও ঈসা (আ.) সম্পর্কেও এ রুকুতে আলোচনা করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে
যে, যারা সম্পদ
জমা করবে তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
de
pÇfc f¤”£i¨a Ll¡l ¢dLÚL¡l
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿التوبة: ٣٤﴾ يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ
هَٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ ﴿التوبة: ٣٥﴾
আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। [ সূরা তাওবা ৯:৩৪
] সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার। [ সূরা তাওবা
৯:৩৫ ]
৬ষ্ঠ ও ৭ম রুকুতে (আয়াত ৩৮-৫৯) তাবুক যুদ্ধ সম্পর্কে আলোকপাত
করা হয়েছে। ইতিহাসে যা গাজওয়ায়ে তাবুক নামে প্রসিদ্ধ। গাজওয়ায়ে তাবুক ছিলো ঈমানের
কঠিন এক পরীক্ষা। একদিকে তীব্র গরম, অপরদিকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য। মুনাফিকদের দুর্বলতা ও গোপন দোষগুলো তাবুক যুদ্ধে
উন্মোচিত হয়ে পড়ে।
৮ম রুকু থেকে ১০ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৬০-৮০) তাবুকের যুদ্ধে মুনাফিকদের যেসব
দোষ প্রকাশ পেয়েছিল মিথ্যা অজুহাত পেশ করা, হিলা-বাহনা পেশ করা, হাস্যকর আপত্তির কথা বলে নিজেদের জন্য যুদ্ধে
অংশগ্রহণ না করার বাহানা, মুসলমানদের মাঝে অনিষ্ট ছড়ানো, মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করা ও বিপদে
আনন্দ প্রকাশ করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ
عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ
قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴿التوبة: ٦٠﴾
যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ
প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ
يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاَةَ
وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَـئِكَ
سَيَرْحَمُهُمُ اللّهُ إِنَّ اللّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয়
এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই
ওপর আল্লাহ তা'আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। [ সূরা তাওবা ৯:৭১ ]
وَعَدَ اللّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي
مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ
عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে কানন-কুঞ্জে র, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সে গুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব
কানন-কুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুতঃ এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হল
আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হল মহান কৃতকার্যতা। [ সূরা তাওবা ৯:৭২ ]
১১ ও ১২তম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ৮১-৯৩) বলা হয়েছে কাফেরদের সঙ্গে মোনাফেকদের
সাদৃশ্যের কথা, কওমে নুহ, আদ,
সামুদ, কওমে ইব্রাহিম, আসহাবে মাদয়ান ও কওমে লুতের কথা বলা। তাদের
অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণাম হয়েছিল। এ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।




No comments:
Post a Comment