Thursday, September 24, 2020

ইসলামের শাস্তি আইনে মাদকতা, অনৈতিক বা অসামাজিক কার্যকলাপ এবং সমকামিতা

ইসলামের শাস্তি আইনে মাদকতা, অনৈতিক বা অসামাজিক কার্যকলাপ এবং সমকামিতা

ইসলামের শাস্তি আইনে মাদকতা, অনৈতিক বা অসামাজিক কার্যকলাপ এবং সমকামিতা

১। ভূমকিাঃ

এই পৃথিবীতে মহান আল্লাহ অগণিত নেয়ামত সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে বেশীরভাগ মানুষের জন্য হালাল করেছেন, কিছু সংখক হারাম করেছেন। কারণ মানুষের জন্য কোনটা উপকারী আর কোনটা ক্ষতিকর, রব হিসাবে তিনিই তা ভাল জানেন। তিনি বলেনঃ

وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

এমন হতে পারে যে,তোমরা কোন কিছু অপছন্দ কর অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর,আবার এমনও হতে পারে যে,তোমরা কোন কিছু পছন্দ কর,অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর । প্রকৃত ব্যাপার আল্লাহ জানেন, তোমরা জাননা । (সূরা আল-বাকারাহ-২ ঃ ২১৬) 


মহান আল্লাহ মানুষের জন্য যেসব খাদ্য ও পানীয় হারাম করেছেন,তার মধ্যে অন্যতম হল মাদকদ্রব্য।


 মাদকদ্রব্য ঃ 

যা মানুষের মধ্যে নেশার সৃষ্টি করে তাই মাদক। এসম্পর্কে মহানবী (সঃ) বলেন,

كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَا اَسْكَرَ كَثِيْرُهُ فَقَلِيْلُهُ حَرَامٌ

প্রত্যেক বস্তু যা নেশার সৃষ্টি করে তা হারাম, যার বেশী পরিমান নেশার সৃষ্টি করে তা কম সেবন করাও হারাম। (ইব্নে মাজাহ-৩৩৯২)

জাহেলিয়াতের যুগে আরবরা ব্যাপক হারে মাদকদ্রব্য সেবন করত। ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় মুসলিমরাও মাদকদ্রব্য সেবন করত। কারণ তখনো তা হারাম হয়নি। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে মদ হারাম করা হয়। প্রথমে মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমানো হয়। এরপর এর ব্যবহার সীমিত করা হয়। সব শেষে চূড়ান্তভাবে মাদক হারাম করা হয়।

 

৩।      মাদক দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ কমানো    

প্রাথমিক পর্যায় মাদকদ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ কমানোর লক্ষ্যে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন,

"يسئلونك عن الخمر والميسر- قل فيهما اثم كبيروَّمنافع للنّاس واثمهما اكبر من نَّفعهما"   

(হে রাসূল!) মাদকদ্রব্য ও জুয়া সম্পর্কে মানুষ আপনার কাছে জানতে চায়,আপনি বলুন-এ দুটোর মধ্যে গুরুতর পাপ বা ক্ষতি রয়েছে এবং মানুষের জন্যে কিছু উপকারও আছে। তবে এর ক্ষতি উপকার অপেক্ষা গুরুতর (সূরা-আল-বাকারাহ-২১৯) । এই আয়াত নাযিলের পর মাদকের ক্ষতির বিষয়টি জানতে পেরে সচেতন মানুষেরা এর থেকে বিরত থাকতে শুরু করে। মদের প্রতি আস্তে আস্তে মানুষের আকর্ষণ কমে যায়।

 

৪।     মদের ব্যবহার সীমিত করা  

দ্বিতীয় পর্যায় মদ্যপান সীমিত করার লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়ে বলেন,

يايها الّذين امنوا لاتقربواالصّلوة وانتم سكرا حتّى تعلموا ما تقولون----

হে ঈমানদারগণ!তোমরা মদ পান করে মাতাল অবস্থায় সালাতের নিকটে যেওনা, যতক্ষন তোমরা যা বল তা বুঝতে না পার (সূরা-আন-নিসা-৪৩)। এই নির্দেশের ফলে মদ পানের সুযোগ কমে যায়। যোহর থেকে এশা পর্যন্ত একের পর এক সালাত থাকায় মদপান করার কোন সুযোগ পেত না। এভাবে মদের ব্যবহার সীমিত হয়ে যায়।


২। চূড়ান্তভাবে মদ হারামের ঘোষণাঃ  

 শেষ পর্যায় চূড়ান্তভাবে মদ হারামের ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ বলেন 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ


হে মুমিনগণ, মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকালাপ । এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে। শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বিরত রাখতে ৷ তাহলে তোমরা কি এসব থেকে বিরত থাকবে না ?  (সূরা- আল- মায়িদাহ-৫ ঃ ৯০,৯১)

৩। ইসলামের আলোকে মাদকের কুফল

عَنْ اَبِى الدَّرْدَاءِ (رض) قَالَ اَوْصَانِىْ خَلِيْلِىْ (ص) لاَتَشْرَبِ الْخَمْرَ فَاِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرِّ 

‘হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, মদ পান করনা, কারণ তা সকল পাপের চাবিকাঠি । (ইবনে মাজাহ-৩৩৭১)

মদপানকারীর ঈমান থাকে নাঃ    

 কিছু কিছু পাপ কাজ আছে যার দ্বারা মানুষের ঈমান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো মদ পান করা। এ ব্যাপারে হাদীছে বর্ণিত আছে,

"قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (ص) لَايَشْرَبُ الْخَمْرَ شُارِبُهَا حِيْنَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنْ 

‘রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, মদখোর যখন মদ পান করে, তখন তারও ঈমান থাকে না। (বুখারী-ইঃ ফাঃ-৫১৭৮ নাসাঈ-৫৬৬২)


৪। মদখোরের সালাত কবুল হয় নাঃ

মদপানকারীর সালাত ও তওবা কবুল হয় না। এ সম্পর্কে হাদীছে বর্ণিত আছে, নবী করীম (সঃ) বলেন,

مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ لَمْ يُقْبَلِ اللهُ لَهُ صَلاَةُ اَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا فَاِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ فَاِنَّ عَادَ لَمْ يُقْبَلِ اللهُ لَهُ صَلاَةَ اَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا

‘যে ব্যক্তি মদ পান করবে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত আল্লাহ তার সালাত কবুল করবেন না। অতঃপর যদি সে তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। পুনঃরায় যদি সে মদ পান করে তবে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত আল্লাহ তার সালাত কবুল করবেন না। (তিরমিযী-১৮১১ মুসলিম-৫০৫৭) 


৫। মাদকদ্রব্যের উপর দশ প্রকার অভিশাপ ঃ

মাদকদ্রব্য ব্যক্তির জন্য যেমন অভিশাপ, তেমনি তা মানব সমাজের জন্যও বিরাট অভিশাপ। বিশেষ করে যুব সমাজের জন্য। এই মাদকের ছোবলে কত মা-বাবার সন্তান হয়েছে বিপদ্গামী, শামিল হয়েছে অপরাধ জগতে, ভেঙ্গে গেছে বাবা-মায়ের সুখের স্বপ্ন, ধ্বংস হয়েছে অনেক পরিবার। তাইতো মহানবী (সঃ) বলেছেন ঃ

ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لُعِنَتِ الْخَمْرُ عَلَى عَشَرَةِ أَوْجُهٍ بِعَيْنِهَا وَعَاصِرِهَا وَمُعْتَصِرِهَا وَبَائِعِهَا وَمُبْتَاعِهَا وَحَامِلِهَا وَالْمَحْمُولَةِ إِلَيْهِ وَآكِلِ ثَمَنِهَا وَشَارِبِهَا وَسَاقِيهَا ‏"‏

৬। মদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আল্লাহর লানত

ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, মদ্যপানের উপর দশভাবে লা’নত (অভিসম্পাত) করা হয়েছে। স্বয়ং মাদক, উৎপাদক, যে তা উৎপাদন করায়, তার বিক্রেতা, তার ক্রেতা, তার বহনকারী, তা যা জন্য বহন করা হয়, এর মূল্য ভোগকারী, তা পানকারী ও তা পরিবেশনকারী (এদের সকলেই অভিশপ্ত)।’ (আবু দাউদ ঃ ৩৬৭৪; ইবনে মাজাহ ঃ ৩৩৮০)

 

উল্যেখিত হাদীছ পর্যালোচনা করলে ইসলামের দৃষ্টিতে মাদকের ভয়াবহতা কতখানি তা সহজেই বুঝা যায়। 

মদখোর জান্নাতে যাবে না ঃ   মদখোর ইহকালে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ, তেমনি পরকালেও ক্ষতিগ্রস্থ। হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ‘মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না  । (ইব্‌নে মাজাহ-৩৩৭৬) 


৭। মাদক মানুষের বিবেক-বুদ্ধি নষ্ট করে দেয় ঃ   

 মাদক সেবনের ফলে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি হ্রাস পায়। যার ফলে একজন মাদকসেবী  তার নিজের ভালমন্দ নিজে বুঝে না। মাদক যে তার জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে এই বিবেক টুকুও থাকেনা। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে ঃ

عَنِ ابْنِ، عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، عَلَى مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ أَمَّا بَعْدُ أَيُّهَا النَّاسُ فَإِنَّهُ نَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ وَهْىَ مِنْ خَمْسَةٍ مِنَ الْعِنَبِ وَالتَّمْرِ وَالْعَسَلِ وَالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالْخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ

হযরত ওমর (রাঃ) একদিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন, মদ হারাম হওয়ার বিধান নাযিল হয়েছে, আর তা পাঁচটি জিনিস থেকে হয়। সেগুলো হল,  আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব। যা মানুষের বিবেক- বুদ্ধি নষ্ট করে দেয়। (বুখারী-৫১৭২ মুসলিম-৫০৫১ তিরমিযী-১৮১২)

 ততকালে আরব এলাকায় উল্যেখিত পাঁচ প্রকার বস্তু দ্বারা মদ তৈরী হত। বর্তমানে হিরোইন, ফেনসিডিল, কোকেন, আফিং, ইয়াবা, গাজা, ভাং ইত্যাদি মাদক হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

‘উবাদাহ ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (ﷺ) বলেন,

্রليستحلنّ طائفة من أمتي الخمر، باسم يسمّونها إياهগ্ধ 

“আমার উম্মতের মধ্যে একটি গোষ্ঠী এমন হবে, যারা মদকে ভিন্ন নামে নামকরণ করে সেটাকে হালাল মনে করবে”। [আহমদ, হাদিস:২২৭০৯]


৮। মাদক একটি ব্যাধি ঃ   

মাদক একটি রোগ, তা আরো অনেক রোগের সৃষ্টি করে। কেহ কেহ  ঔষধ হিসাবে মাদকের ব্যবহারের পক্ষে মত দেন। তবে হাদীছের ভাষ্য নিম্নরূপ ঃ

 قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (ص) اِنَّهُ لَيْسَ بِدَوَاءٍ وَلَكِنَّهُ دَاءٌ

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন,  মাদক রোগের প্রতিষেধক নয় বরং উহা নিজেই একটি রোগ । (মুসলিম-৪৯৮৫)


মাদকের ব্যাপকতা কিয়ামতের আলামত ঃ 

মদ পানের প্রচলন কিয়ামতের আলামত সমূহের  মধ্যে  অন্যতম একটি আলামত। মহানবী (সঃ) বলেন  ঃ কিয়ামতের লক্ষণ সমূহের কতক হলঃ অজ্ঞতা প্রকাশ পাবে, ধর্মীয় বিদ্যা হ্রাস পাবে, ব্যভিচার প্রকাশ্য হতে থাকবে, মদ পানের ছড়াছড়ি চলবে, পূরুষের সংখ্যা কমে যাবে, নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। শেষ পর্যন্ত অবস্থা এমন দাঁড়াবে যে, পঞ্চাশ জন নারীর জন্য তাদের পরিচালক হবে একজন পূরুষ । (বুখারী, ইঃ ফাঃ -৫১৭৭)

 

৯। মদখোরের শাস্তি ঃ  

জিরো টলারেন্স

ব্যক্তি,পরিবার ও সমাজে মাদকতার ক্ষতিকর প্রভাব ঃ

ধূমপান ও মাদকতার ক্ষতিকর প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সর্বত্র । ব্যক্তি জীবনে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়া, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। পারিবারিক জীবনে অশান্তি, পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক হীনতা, স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজন অপূরণ রেখে মাদকের পিছনে অর্থ ব্যয় করা, মাদকের অর্থের জন্য পরিবারের সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়া। এভাবে একটি লোকের জন্য গোটা পরিবারটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সমাজ জীবনে এর ক্ষতি আরো মারাত্মক। মাদক সেবীরা ব্যভিচার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ ইত্যাদি অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পরে। স্তুরাং ধূমপান ও মাদকতা মানব সমাজের জন্য বিরাট অভিশাপ।


১০। অনৈকতিক/অসামাজিক কার্যকলাপ

বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক শারিরীক সম্পর্ক ¯’াপন এবং অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া নৈতিক, ধর্মীয় এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গর্হিত একটি অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হীন চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।


বিবাহ বহির্ভুত যৌন সম্পর্ককে যেনা-ব্যাভিচার বলা হয়। ইসলামে এই যেনা-ব্যাভিচারের বিন্দু মাত্র অনুমোদন নেই। ইসলাম শুধু এই অশ্লীলতাকে নিষেধ করনি, বরং অশ্লীলতার প্রতি উদ্বুদ্ধকারী প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল প্রকার কাজ এবং অশ−¬ীলতার পথ উম্মুক্ত করতে পারে এমন সকল প্রকার কর্মকান্ডকে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ করেছে। অর্থাৎ অশ্লীলতার ফাঁদে পড়ার আগেই পবিত্র কুরআন সতর্ক করেছে। আল­াহ্ তা‘আলা বলেন,

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ﴿الإسراء: ٣٢﴾

‘‘আর তোমরা ব্যাভচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’’ -সূরা ইসরা ঃ ৩২


আল­াহ্ তা‘আলা আরো বলেন,

وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ﴿الأنعام: ١٥١﴾

‘‘প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল কাজের নিকটেও যেয়ো না।’’। -সূরা আন‘আম ঃ ১৫১

আল­াহ্ তা‘আলা আরো বলেন,

قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ﴿الأعراف: ٣٣﴾

‘‘আপনি বলে দিন! আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ্, অন্যায়-অত্যাচার।’’ -সূরা ‘আরাফ ঃ ৩৩


১১। হাদীস শরীফে সু¯পষ্ট উলে­খ করা হয়েছে যে, কোনো সমাজে অশ¬−ীলতার প্রসার ঘটলে সে সমাজে আল­াহ্ তা‘আলার শাস্তি হিসেবে নতুন নতুন মারাতœক রোগব্যধির প্রসার ঘটে। যেমনঃ- এইডস একটি মহামারী রোগ।

আবদুল−াহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল−াহ্ (সাঃ) বলেন,

لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ ، حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا ، إِلاَّ فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ ، وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلاَفِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا.

“যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ−ীলতার আত্মপ্রকাশ ঘটবে, তখন তাদের মাঝে পে−গ (মহামারী) এবং ক্লেশ (দুর্ভিক্ষসহ) এমন সব রোগ-ব্যাধির ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়বে যা তাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে দেখা যায় নি।’’ -ইবন মাজাহ ঃ ৪০১৯; তাবরানী ঃ ৪৬৭১


১২। অশ−¬¬ীলতার পরিনতি সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿النور: ١٩﴾

‘‘যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল­াহ্ জানেন, তোমরা জান না।’’ -সূরা নূর ঃ ১৯


মহান আল্লাহ্ তা‘আলা এর শাস্তির ব্যাপারে বলেন ঃ

الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿النور: ٢﴾

“ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ করে বেত্রাঘাত কর। আল­াহ্র বিধান কার্যকর করণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল­াহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মু’মিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।”-সূরা নূর ঃ ২ 


সমকামীতা

সমকামীতা বলতে আমরা সকলেই বুঝি একই সেক্স বা লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন আকর্ষন বোধ করা।

 

সমকামিতা একটি যৌন প্রবৃত্তি, যার দ্বারা সমলিঙ্গের দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রেম কিংবা যৌন আচরণ বোঝায়।

সহজ ভাষায় কোন ছেলের প্রতি ছেলের আকর্ষন অথবা কোন মেয়ের প্রতি মেয়ের আকর্ষনকে সমকামীতা বলে।

সমকামিতার ইংরেজী প্রতি শব্দ হোমোসেক্সুয়ালিটি, যা ১৮৬৯সালে প্রথম ব্যবহার করেন Karl Maria Cutberry তার লেখা ছোট একটি আইনি পুস্তিকায়। Homosexual শব্দটি গ্রীক হোমো এবং ল্যাটিন সেক্সাস শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।

সমকামীদের কয়েকভাগে ভাগে বিভক্ত করা যায়।
১। Gay বা পুরুষ সমকামী
২। Lesbian বা নারী সমকামী
৩। Shemale বা হিজড়া
৪। Bisexual বা দ্বৈত যৌন জীবন


১৪। বিভিন্ন ধর্ম সমকামীতার ব্যাপারে কি বলেছে তা একটু আলোচনা করি। তিনটি ধর্মে সমকামীতার ব্যাপারে আলোচনা আছে এবং ওই তিনটি ধর্মে সমকামীতা পাপ ।

ধর্ম তিনটি হলো খ্রিষ্টান,ইহুদী,মুসলমান।

বাকী যত ধর্ম আছে সেখানে সমকামীতার ব্যাপারে নিষিদ্ধ,বা প্রসিদ্ধতার ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়নি।

অর্থাৎ এটাকে পাপ বা পূণ্য কিছুই বলা হয় নি।


কোরআানের প্রায় চৌদ্দ জায়গায় সমকামীতার কথা উল্লেখ 


মানুষ অতি সম্মানী প্রাণী। সকল সৃষ্টি জগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তাদের রয়েছে সুশৃঙ্খল ও পরিপাটি জীবনব্যবস্থা। কুকুর, বিড়াল এবং অন্যান্য প্রাণীর মতো লাগামহীনভাবে যৌন চাহিদা নিবারণ সভ্য জীব নামে খ্যাত মানুষের জন্য নয়। এটি একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।


মানুষ থেকে শুরু করে প্রাণীরাও যৌন চাহিদার খাতিরে বিপরীত লিঙ্গের দ্বারস্থ হয়। পূরণ করে নিজেদের যৌন কামনা। কিন্তু মানুষতো দূরের কথা কুকুর বিড়াল পর্যন্ত সমলিঙ্গের সাথে যৌন কর্মে অনীহা প্রকাশ করে। কেননা সমকামিতা মানবসমাজ ও চতুষ্পদ জন্তুর নিকট একটা ঘৃণিত কাজ। এর ক্ষতি ও অপকার সর্বজন স্বীকৃত। পবিত্র কোরআন ও হাদীসে সমকামিতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, 

"وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنتُمْ تُبْصِرُونَ ()أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ ﴿النمل: ٥٥-۵۴﴾

১৫। স্মরণ কর লুতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষের উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়। 

فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ - فَأَنجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَاهَا مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿النمل: ٥٧﴾

উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাক পবিত্র সাজতে চায়। অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম। ( ৫৪-৫৭)


১৬। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে 

أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ- وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ ﴿الشعراء: ١٦٦﴾

সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর? এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্য সঙ্গিনী হিসেবে যাদের সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। (শুআরা ২৬.১৬৫-১৬৬)


এমনিভাবে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, 

وخرج الامام ابو داود عن ابن عباس (رض ) قال قال رسول الله (صلعم) من وجدتموه يعمل عمل قوم لوط فاقتلوا الفاعل والمفعول به“(رواه أبو داود، 

১৭। ইবনে আব্বাস রা.থেকে রাসুল সা. বলেছেন, তোমরা যদি কাউকে পাও যে লুতের সম্প্রদায় যা করতো তা করছে, তবে হত্যা করো যে করছে তাঁকে আর যাকে করা হচ্ছে তাকেও। (আবু দাউদ ৩৮.৪৪৪৭)


وخرج الامام الترمذي عن جابر (رض ) قال قال رسول الله (صلعم) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي عَمَلُ قَوْمِ لُوطٍ ‏"

হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, আমি আমার কওমের জন্য সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা আশঙ্কা করি সেটা হল লুতের কওম যা করত সেটা যদি কেউ করে (তিরমিজি, ১৪৫৭) 


১৮। সমকামীদের শাস্তি : 

বাংলাদেশের আইনে সমকামীতার শাস্তি ::

বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশেই সমকামিতাকে বৈধ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যে কোন ধরনের যৌন-সহবাস, তা স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হোক, শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সমকামীতার ব্যাপারে বাংলাদেশের আইন কি বলে। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কোনো পুরুষ, নারী বা জন্তুর সাথে প্রকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সহবাস করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং তদুপরি অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবেন।


হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, অবিবাহিত কাউকে যদি সমকামিতায় পাওয়া যায় তাহলে তাঁকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। (আবু দাউদ, ৩৮.৪৪৪৮ ) যে কাউকে লুতের কওমের মতো করতে দেখলে যে দিচ্ছে আর যে পাচ্ছে দুজনকেই হত্যা কর।(তিরমিজি ১.১৫২) হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, অভিশপ্ত সে যে কিনা কোন পশুর সাথে সেক্স করে, আর অভিশপ্ত সে যে কিনা সেটা করে যা লুতের সম্প্রদায় করত। (আহমাদ:১৮৭৮) হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আলী (রা.) তাঁর সময়ে ২ জন সমকামীকে পুড়িয়ে দেন। আর আবু বকর (রা.) তাদের উপর দেয়াল ধ্বসিয়ে দেন। (মিশকাত শরীফ)


قال رسول الله (صلعم) لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ ، حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا ، إِلاَّ فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ ، وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلاَفِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا.

৫। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ‘প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল কাজের নিকটেও যেয়ো না।’ (সূরা আন‘আম ঃ ১৫১)


রাসূলুল−াহ্ (সাঃ) বলেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ−ীলতার আত্মপ্রকাশ ঘটবে, তখন তাদের মাঝে পে−গ (মহামারী) এবং ক্লেশ (দুর্ভিক্ষসহ) এমন সব রোগ-ব্যাধির ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়বে যা তাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে দেখা যায় নি।’ (ইবন মাজাহ ঃ ৪০১৯)


)প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, নতুন নতুন রোগ, প্লেগ, এইডস, এডিস মশার ডেঙ্গু, চিকন গুনিয়া, নিপা ভাইরাস.................)


১৮। উপসংহারঃ

যেহেতু মাদক সেবন বা মাদক ব্যবসা,  অনৈতিক বা অসামাজিক কার্যকলাপ এবং সমকামিতা একটি দুরারোগ্য সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হ”েছ সেহেতু সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সেনাবাহিনী প্রধানের ¯েøাগান ঝধু হড় ঃড় উওঊ এর মূলমন্ত্রে প্রত্যেক সেনানিবাসে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালানা করার মধ্য দিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা আমাদের একান্ত কর্তব্য।



No comments:

Post a Comment