Saturday, September 26, 2020

জান্নাতের আলোচনা


জান্নাত

জান্নাত 

جنة এটি একটি আরবি এক বচন, বহুবচনে جنات, শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ হল "বাগান" বা "উদ্যান"। আরবীতে বাগানকে روضة (রওদ্বাতুন) এবং حديقة (হাদীকাতুন) ও বলা হয়। কিন্তু جنات (জান্নাত) শব্দটি আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীনের নিজস্ব একটি পরিভাষা। প্রচলিত বাংলা ভাষায় একে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেহেশত বলা হয়ে থাকে।


পারিভাষিক অর্থে জান্নাত বলতে এমন স্থানকে বোঝায়, যা আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন তাঁর অনুগত বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। যা দিগন্ত বিস্তৃত নানা রকম ফুলে ফুলে সুশোভিত সুরম্য অট্টালিকা সম্বলিত মনোমুগ্ধকর বাগান; যার পাশ দিয়ে প্রবাহমান বিভিন্ন ধরনের নদী-নালা ও ঝর্ণাধারা। যেখানে চির বসন্ত বিরাজমান। পার্থিব জীবনে যে সকল মুসলিম আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলবে এবং পরকালীন হিসাবে যার পাপের চেয়ে পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে তাদের জন্য আল্লাহ যে সকল স্বর্গ প্রস্তুত রেখেছেন।

জান্নাতের ব্যাপক পরিচিতি সম্পর্কে সংক্ষেপে এক বর্ণনায় মহান আল্লাহ বলেন:

﴿فَلَا تَعۡلَمُ نَفۡس ۞ مَّآ أُخۡفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعۡيُنٖ جَزَآءَۢ بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٧﴾ [السجدة: ١٧]

‘কেকউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কি কি নয়নাভিরাম বিনিময় লুকায়িত আছে।’’ (সূরা সাজদাহ ঃ ১৭)


আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,

أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ، وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، فَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ

“আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন নেয়ামত তৈরি করে রেখেছি, যা কোনো চক্ষু দেখে নি, কোনো কান শোনে নি এবং এমনকি কোনো মানুষ তা কল্পনাও করতে পারে না। এরপর তিনি বলেন, যদি তোমরা চাও, তাহলে নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়ো। যার অর্থ হলো: “কেউ জানে না, তার জন্য কি কি নয়নাভিরাম বিনিময় লুকায়িত আছে।” (বুখারী, ৩২৪৪; মুসলিম, ২৮২৪)


২। কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের নামসমূহ

১। জান্নাতুল ফিরদাউস- জান্নাতের সর্বোচ্চ বাগান। (সূরা আল-কাহফঃ ১০৭; সূরা আল-মু'মিনূনঃ ১১)

২। জান্নাতু দারুস সালাম- শান্তির নীড়। (সূরা ইউনুস ঃ ২৫; সূরা আল আনআম ঃ১২৭)

৩। জান্নাতুল মাওয়া- বসবাসের জান্নাত। (সূরা আন-নাজম ঃ ১৫)

৪। জান্নাতুদ দারুল খুলদ- চিরস্থায়ী বাগান। (সূরা আল-ফুরকান ১৫)

৫। জান্নাতুল আদন- অনন্ত সুখের বাগান। (সূরা আত-তাওবাহ্ ঃ ৭২; সূরা আর-রাদ ঃ ২৩)

৬। জান্নাতুল আখিরাহ / দারুল কারার।- আখেরাতের আলয়। (সূরা আল-আনকাবূত ঃ ৬৪

৭। জান্নাতুন নাঈম- নেয়ামত পূর্ণ কানন/বাগান। (সূরা আল-মায়িদাহ ঃ ৬৫; সূরা ইউনুস ঃ ৯; সূরা হজ্জ ঃ ৫৬)

৮। জান্নাতু দারুল মাকাম- বাড়ি। (সূরা ফাতির ঃ ৩৫)


৩। জান্নাতের দরজাসমূহ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ جَنَّٰتُ عَدۡنٖ يَدۡخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنۡ ءَابَآئِهِمۡ وَأَزۡوَٰجِهِمۡ وَذُرِّيَّٰتِهِمۡۖ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ يَدۡخُلُونَ عَلَيۡهِم مِّن كُلِّ بَابٖ ٢٣ سَلَٰمٌ عَلَيۡكُم بِمَا صَبَرۡتُمۡۚ فَنِعۡمَ عُقۡبَى ٱلدَّارِ ٢٤ ﴾ [الرعد: ٢٣، ٢٤]

“স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও। আর ফেরেশ্তাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে এবং বলবে, তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি; আর আখেরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম।”(সূরা আর-রাদ: ২৩-২৪)


আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:

هَذَا ذِكْرٌ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَآبٍ (৪৯) جَنَّاتِ عَدْنٍ مُفَتَّحَةً لَهُمُ الْأَبْوَابُ (৫০)

“এ এক স্মরণ। মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে উত্তম আবাস চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ তাদের জন্য উন্মুক্ত।”(সূরা সদ । ৪৯-৫০)


কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন সূত্রানুসারে জানা যায়, জান্নাতে প্রবেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাজের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন আটটি দরজা রয়েছে।

 

সহীহ বুখারীর সাওম অধ্যায়ে চারটি স্বতন্ত্র দরজার বর্ণণা দেওয়া হয়েছে।এই দরজাগুলো যথাক্রমে,

১. বাব আস-সালাহ (সালাতের দরজা)

যারা আন্তরিক একনিষ্ঠতার সাথে নিয়মিত সালাত আদায় করবে, তাদের সম্মানে জান্নাতের এই দরজার নাম রাখা হয়েছে।

 

২. বাব আল-জিহাদ (জিহাদের দরজা)

যারা একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহর পথে তার জীবন ও সম্পদ দিয়ে চেষ্টা ও সংগ্রাম করবে তার সম্মানে জান্নাতের এই দরজার নামকরণ হয়েছে।


৩. বাব আর-রাইয়ান (সাওমের দরজা)

একনিষ্ঠতার সাথে সাওম পালনকারীর জন্য জান্নাতের এই দরজার নামকরণ হয়েছে।

 

৪. বাব আস-সদাকা (দানের দরজা)

মানুষের প্রয়োজনে যারা তাদের অর্থসম্পদ দিয়ে মানুষকে সাহায্য করেছে, তাদের সম্মানে এই দরজার নামকরণ হয়েছে।


এছাড়া বিভিন্ন সূত্র থেকে আরো যে দরজাসূহের নাম পাওয়া যায় তা হলো,


৫. বাব আল-ঈমান (ঈমানের দরজা)

যারা বিনাহিসেবে জান্নাতে স্থান পাবে, তাদের সম্মানে এই দরজার নামকরণ হয়েছে।

 

৬. বাব আল-কাযিমিন আল-গায়িজ ওয়াল আফিনা আনিন্নাস (রাগকে দমনকারী ও লোকের ভুলকে ক্ষমাকারী ব্যক্তিদের দরজা)

যারা লোকাদের ভুলকে ক্ষমা করে এবং নিজের রাগকে দমন করে, এই দরজার নামকরণ তাদের সম্মানে।  

 

৭. বাব আর-রাযিয়িন (সন্তুষ্টদের দরজা)

যারা আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট এবং আল্লাহও যাদের উপর সন্তুষ্ট, তাদের সম্মানে এ দরজার নামকরণ হয়েছে।


৮. বাব আত-তওবা (ক্ষমা প্রার্থনার দরজা)

নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, তাদের সম্মানার্থে জান্নাতের এই দরজার নামকরণ করা হয়েছে।

৪। জান্নাতের স্তরসমূহ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمَن يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَٰئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَىٰ ﴿طه: ٧٥﴾

“আর যারা তাঁর (আল্লাহর) কাছে আসবে সৎকর্ম করে, তাদের জন্যই থাকবে উচ্চতম মর্যাদা।” [সূরা ত্বা-হা ঃ ৭৫]


জান্নাতে শত স্তর আছে আর প্রত্যেক স্তরের মাঝে এত দূরত্ব আছে যতটা দূরত্ব আছে আকাশ ও যমিনের মাঝে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন,

عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ فِي الْجَنَّةِ مِائَةُ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلاَهَا دَرَجَةً وَمِنْهَا تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ الأَرْبَعَةُ وَمِنْ فَوْقِهَا يَكُونُ الْعَرْشُ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ ‏"‏‏.‏

‘জান্নাতে শত স্তর আছে। প্রত্যেক স্তরের মাঝে দূরত্ব হল আকাশ ও যমীনের দূরত্বের সমান। আর ফেরদাউস তার মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে আছে। আর সেখান থেকেই জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহমান। এর উপরে রয়েছে আরশ। তোমরা আল্লাহর নিকট জান্নাতের জন্য দু'আ করলে জান্নাতুল ফেরদাউসের জন্য দু'আ করবে'। (তিরমিজী ঃ ২৫৩১)


৫। জান্নাতীদের মর্যাদাভেদে জান্নাতের প্রকারভেদ

পবিত্র কালামে জান্নাতীদেরকে দু’ভাগ করা হয়েছে। যথা:


(এক) ডান দিকের লোক।

আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,

فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ ﴿الواقعة: ٨﴾

‘‘অতঃপর ডান দিকের লোক। ডান দিকের লোকের (সৌভাগ্যের কথা) কি বলা যায়?’’ (সূরা ওয়াকি‘আহ্ ঃ ৮)


(দুই) অগ্রবর্তী লোক।

আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,

وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ ۞ أُولَٰئِكَ الْمُقَرَّبُونَ ﴿الواقعة: ١١ـ ١٠﴾

‘‘আর অগ্রবর্তী লোকেরা তো (সকল ব্যাপারে) অগ্রবর্তীই। তারাই তো সান্নিধ্যশালী লোক।’’ (সূরা ওয়াকি‘আহ্ ঃ ১০-১১)


রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

إِنَّ أَهْلَ الجَنَّةِ يَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الغُرَفِ مِنْ فَوْقِهِمْ، كَمَا يَتَرَاءَوْنَ الكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الغَابِرَ فِي الأُفُقِ، مِنَ المَشْرِقِ أَوِ المَغْرِبِ، لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمْগ্ধ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تِلْكَ مَنَازِلُ الأَنْبِيَاءِ لاَ يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ، قَالَ:بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، رِجَالٌ آمَنُوا بِاللَّهِ وَصَدَّقُوا المُرْسَلِينَ

‘‘জান্নাতীরা তাদের উপরতলার লোকদেরকে এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন করে তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে উজ্জ্বল তারকাগুলো দেখতে পাও। তাদের পরস্পর মর্যাদা পার্থক্যের কারণে এরূপ হবে।’’ সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: ‘‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! ঐ স্তরগুলো কি নবীদের যা অন্য কেউ লাভ করতে পারবে না? তিনি বললেন: ‘‘কেন পারবে না! সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং নবীদেরকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারা ঐ স্তরে যেতে সক্ষম হবে।’’ (বুখারীঃ ৩২৫৬; মুসলিমঃ ২৮৩১)


অত্র হাদীস থেকে স্পষ্ট জানা যায় যে, জান্নাতীদের আমলের তারতম্যের কারণে সেখানে তাদের মর্যাদাও বিভিন্ন রকম হবে। অনেক হাদীসে জান্নাতীদের নেয়ামতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে নিম্নমানের এক জান্নাতীকে অমুক অমুক বস্তু দেয়া হবে। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে জান্নাতীদেরকে আল্লাহ তাদের আমল ও মর্যাদা অনুযায়ী বিভিন্ন মানের জান্নাত দেবেন।


৬। জান্নাতের বর্ণনা

১। জান্নাতের প্রশস্ততা

জান্নাতের প্রশস্ততা সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ

“তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে ও সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি হচ্ছে আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে। ” (সূরা আল ইমরান ঃ ১৩৩)


জান্নাত দেখার পরই সঠিকভাবে বোঝা যাবে যে জান্নাত কত বিশাল এবং তার নেয়ামত কত অসংখ্য। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا ﴿الانسان: ٢٠﴾

“তুমি যখন দেখবে তখন দেখতে পাবে ভোগ বিলাসের নানান সামগ্রী আর এক বিশাল রাজ্য।” (সূরাহ আদ্-দাহরঃ ২০)


জান্নাতে একটি বৃক্ষের ছায়া এত লম্বা হবে যে কোন অশ্বারোহী ঐ ছায়ায় শত বছর পর্যন্ত চলতে পারবে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ سَنَةٍ، وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ ‏{‏وَظِلٍّ مَمْدُودٍ‏}‏‏"‏وَلَقَابُ قَوْسِ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبُগ্ধ.

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। আর তোমরা ইচ্ছা করলে তিলাওয়াত করতে পার ‘এবং দীর্ঘ ছায়া"। আর জান্নাতে তোমাদের কারও একটি ধনুকের পরিমাণ জায়গাও ঐ জায়গা অপেক্ষা উত্তম যেখানে সূর্য উদিত হয় আর সূর্য অস্তমিত হয় (অর্থাৎ পৃথিবীর চেয়ে)"। (সহীহ বুখারী ঃ ৩২৫২, ৩২৫৩)


সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারীকে এ দুনিয়ার চেয়ে দশগুণ বড় জান্নাত দান করা হবে। 

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنِّي لأَعْرِفُ آخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنَ النَّارِ رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنْهَا زَحْفًا فَيُقَالُ لَهُ انْطَلِقْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ - قَالَ - فَيَذْهَبُ فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ فَيَجِدُ النَّاسَ قَدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ فَيُقَالُ لَهُ أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيهِ فَيَقُولُ نَعَمْ ‏.‏ فَيُقَالُ لَهُ تَمَنَّ ‏.‏ فَيَتَمَنَّى فَيُقَالُ لَهُ لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَعَشَرَةُ أَضْعَافِ الدُّنْيَا - قَالَ - فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ ‏"‏ قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ‏.‏

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন', জাহান্নামে থেকে সবশেষে বের হয়ে আসা ব্যক্তিকে আমি চিনি। সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে। তাকে বলা হবে, "যাও জান্নাতে প্রবেশ কর"। নবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "সে গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে দেখবে, লোকেরা স্ব স্ব স্থান অধিকার করে আছে। অতঃপর তাকে বলা হবে, "আচ্ছা সে যুগের (জাহান্নামের শাস্তি) কথা তোমার স্মরণ আছে কি?" সে বলবে, "হ্যাঁ, মনে আছে"। তাকে বলা হবে, "তুমি কি পরিমাণ জায়গা চাও তা ইচ্ছা কর"। সে ইচ্ছা করবে। তখন তাকে বলা হবে, "তুমি যে পরিমাণ ইচ্ছা করেছো তা এবং দুনিয়ার দশগুণ জায়গা তোমাকে দেয়া হল"। একথা শুনে সে বলবে, "আপনি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন? অথচ আপনি হলেন সর্ব শক্তিমান"। বর্ণনাকারী ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, "এ সময় আমি (রাঃ)-কে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়েছে'। (সহীহ মুসলিম ঃ ১৮৬)


২। জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ

জান্নাতের অট্টালিকাসমূহ সোনা-রূপার ইট দিয়ে নির্মিত হবে। সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 

قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِمَّ خُلِقَ الْخَلْقُ قَالَ ‏"‏ مِنَ الْمَاءِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا الْجَنَّةُ مَا بِنَاؤُهَا قَالَ ‏"‏ لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ وَمِلاَطُهَا الْمِسْكُ الأَذْفَرُ وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ وَتُرْبَتُهَا الزَّعْفَرَانُ مَنْ يَدْخُلْهَا يَنْعَمْ وَلاَ يَبْأَسْ وَيُخَلَّدْ وَلاَ يَمُوتْ لاَ تَبْلَى ثِيَابُهُمْ وَلاَ يَفْنَى شَبَابُهُمْ ‏"‏

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "আমি জিজ্ঞেস করলাম, "ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! সৃষ্টিকে কী দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে?" রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন, "পানি দিয়ে"। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "জান্নাত কী দিয়ে নির্মিত?" তিনি বললেন, "একটি ইট রৌপ্যের এবং আরেকটি ইট স্বর্ণের। তার গাঁথুনি হল সুগন্ধিযুক্ত মেশক আম্বর। তার কংকর মোতি ও ইয়াকুতের। তার মাটি জাফরানের। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে জীবন উপভোগ করবে, তার কোন কষ্ট হবে না। চিরকাল জীবিত থাকবে, মৃত্যু হবে না। জান্নাতীদের কাপড় কখনো পুরানো হবে না। আর তাদের যৌবন কখনো বিনষ্ট হবে না"। (তিরমিজী ঃ ২৫২৬)


৩। জান্নাতের তাঁবুসমূহ

জান্নাতীদের প্রত্যেকের অট্টালিকায় তাঁবু থাকবে যেখানে হুরেরা অবস্থান করবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ ﴿الرحمن: ٧٢﴾

“তাঁবুতে সুরক্ষিত থাকবে সুলোচনা সুন্দরীরা।” (সূরা আর-রাহমান ঃ ৭২)


৪। জান্নাতের বৃক্ষসমূহ

জান্নাতের বৃক্ষসমূহ কাঁটা বিহীন হবে ও তাদের ছায়া অনেক লম্বা হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ (২৭) فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ (২৮) وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ (২৯) وَظِلٍّ مَمْدُودٍ (৩০) وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ (৩১) وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ (৩২)

“আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল! তারা থাকবে কাঁটা বিহীন বরই গাছগুলোর মাঝে। কলা গাছের মাঝে যাতে আছে থরে থরে সাজানো কলা, বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছায়া, অবিরাম প্রবাহমান পানির ধারে, আর পর্যাপ্ত ফলমূল পরিবেষ্টিত হয়ে। (সূরাহ আল-ওয়াক্বি'আহ ঃ ২৭-৩২)


৫। জান্নাতের বৃক্ষসমূহ সর্বদা শস্য-শ্যামল থাকবে। 

আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

مُدْهَامَّتَانِ ﴿الرحمن: ٦٤﴾

“ঘন সবুজ এ বাগান দু'টি।” (সূরা আর রাহমান ঃ ৬৪)


৬। জান্নাতের ফলসমূহ

ফলগুলো যদিও পৃথিবীর মতো মনে হবে কিন্তু স্বাদ ও গন্ধে সম্পূর্ণ উন্নত ও ভিন্ন ধরনের হবে। প্রতিবার খাওয়ার সময়ই তার স্বাদ গন্ধ বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ ﴿الرحمن: ٦٨﴾

“তাতে আছে ফলমূল, আর খেজুর আর ডালিম।” (সূরা আর-রহমান ঃ ৬৮)


৭। জান্নাতের প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দমত সর্ব প্রকার ফলমূল মজুদ থাকবে। 

আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ (৪১) وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ (৪২) كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ (৪৩) إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (৪৪)

“মুত্তাকীরা থাকবে ছায়া আর ঝর্ণাধারার মাঝে, আর তাদের জন্য থাকবে ফলমূল-যেটি তাদের মন চাইবে। (তাদেরকে বলা হবে) তোমরা তৃপ্তির সাথে খাও আর পান কর, তোমরা যে কাজ করেছিলে তার পুরস্কারস্বরূপ। সৎকর্মশীলদের আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।” (সূরা আল-মুরসালাত ঃ ৪১-৪৪)

৮। জান্নাতের ফল সর্বদা জান্নাতীদের নাগালের মধ্যে থাকবে। 

আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا ﴿الانسان: ١٤﴾

“জান্নাতের বৃক্ষরাজির ছায়া তাদের উপর থাকবে, আর ফলের গুচ্ছ একেবারে তাদের নাগালের মধ্যে রাখা হবে।” (সূরা আদ-দাহর ঃ ১৪)


৯। জান্নাতের নদী ও ঝর্ণাসমূহ

জান্নাতে মোট চার ধরনের নদী প্রবাহিত হবে।

(১) পানি (২) দুগ্ধ (৩) মধু (৪) শরাব। তন্মধ্যে পানি, তার ঝর্ণাসমূহ হচ্ছে, ‘কাফুর’ নামক ঝর্ণা। এর পানি সুঘ্রাণ এবং সুশীতল। সালসাবিল ঝর্ণা। এর পানি ফুটন্ত চা ও কপির ন্যায় সুগন্ধি ও উত্তপ্ত থাকবে। তাছনীম নাম ঝর্ণা। এর পানি থাকবে নাতিশীতোষ্ণ। জান্নাতের নদীসমূহের পানির রং ও স্বাদ সর্বদা একই রকমের থাকবে। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِنْ لَبَنٍ لَمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِنْ عَسَلٍ مُصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ ﴿محمد: ١٥﴾

“মুত্তাক্বীদেরকে যে জান্নাতের ও'য়াদা দেয়া হয়েছে তার উপমা হলঃ তাতে আছে নির্মল পানির ঝর্ণা, আর আছে দুধের নদী যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নদী আর পরিশোধিত মধুর নদী। (সূরা মুহাম্মদ ঃ ১৫)


হাকীম বিন মোয়াবিয়া তার পিতা থেকে তিনি নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,

"‏ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَحْرَ الْمَاءِ وَبَحْرَ الْعَسَلِ وَبَحْرَ اللَّبَنِ وَبَحْرَ الْخَمْرِ ثُمَّ تُشَقَّقُ الأَنْهَارُ بَعْدُ ‏"‏ 

“জান্নাতে পানির সাগর, মধুর সাগর, দুধের সাগর ও শরাবের সাগর রয়েছে। এগুলো থেকে পরে আরো নহরের শাখা-প্রশাখা বের হবে।” (তিরমিজী ঃ ২৫৭১)


কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,

وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَا (১৫) قَوَارِيرَ مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا (১৬) وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلًا (১৭) عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا (১৮)

“তাদের সামনে ঘুরে ঘুরে রুপার পাত্র পরিবেশন করা হবে আর সাদা পাথরের পানপাত্র। (১৫) সেই সাদা পাথরও হবে রুপার তৈরি। তারা এগুলোকে যথাযথ পরিমাণে ভর্তি করবে। (১৬) তাদেরকে পান করানোর জন্য এমন পাত্র পরিবেশন করা হবে যাতে আদার মিশ্রণ থাকবে। (১৭) সেখানে আছে একটা ঝর্ণা, যার নাম সালসাবীল।” (সূরা আদ্-দাহ্র ঃ ১৫-১৮)


আল্লাহ্ তা’আলা আরও বলেন,

“সেখানে থাকবে প্রবাহমান ঝর্ণা।” (সূরাহ আল-গাশিয়াহ ঃ ১২)


আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,

“নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে, বাগান আর ঝর্ণার মাঝে।’ (সূরা আদ্-দুখান ঃ ৫১-৫২)


১০। কাওসার নদী

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী (সাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, 

"‏ بَيْنَمَا أَنَا أَسِيرُ فِي الْجَنَّةِ إِذَا أَنَا بِنَهَرٍ حَافَتَاهُ قِبَابُ الدُّرِّ الْمُجَوَّفِ قُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَذَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ رَبُّكَ‏.‏ فَإِذَا طِينُهُ ـ أَوْ طِيبُهُ ـ مِسْكٌ أَذْفَرُ ‏"‏‏.‏ شَكَّ هُدْبَةُ‏.‏

"আমি জান্নাতে ভ্রমণ করছিলাম, এমন সময় এক নহরের কাছে এলে দেখি যে তার দু'ধারে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ রয়েছে। আমি বললাম, "হে জিব্রীল! এটা কী?" তিনি বললেন, "এটা ঐ কাউসার যা আপনার প্রতিপালক আপনাকে দান করেছেন"। তার ঘ্রাণে অথবা মাটিতে ছিল উত্তম মানের মিশ্ক এর সুগন্ধি"। (সহীহ বুখারী ঃ ৬৫৮১)


১১। জান্নাতীদেরকে আল্লাহ পবিত্রা স্ত্রী ও হুরদের সাথে বিয়ে দেবেন

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

مُتَّكِئِينَ عَلَىٰ سُرُرٍ مَّصْفُوفَةٍ وَزَوَّجْنَاهُم بِحُورٍ عِينٍ ﴿الطور: ٢٠﴾

‘তারা সামনা-সামনিভাবে সাজানো সারি সারি আসনের উপর ঠেস দিয়ে বসে থাকবে এবং আমি তাদের সাথে সুনয়না হুরদের বিবাহ দেবো।’ (সূরা তুর ঃ ২০)

حور বহুবচনের শব্দ। একবচনে حوراء অর্থ অত্যন্ত সুশ্রী, অনিন্দ্য সুন্দর। عين শব্দটিও বহুবচন। একবচনে عيناء অর্থ ভাসা ভাসা ডাগর চক্ষুওয়ালা নারী। যাদেরকে বাংলা সাহিত্যের ভাষায় হরিণ নয়না বলা হয়।


আনাস ইবন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন

্রوَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا، وَلَمَلَأَتْهُ رِيحًا، وَلَنَصِيفُهَا عَلَى رَأْسِهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَاগ্ধ

‘জান্নাতীগণের স্ত্রীদের মধ্যে থেকে কোনো একজন স্ত্রী যদি পৃথিবীর দিকে উঁকি মেরো দেখতো তবে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সবকিছু আলোকিত হয়ে যেতো এবং গোটা পৃথিবী সুগন্ধে ভরে যেতো। তার মাথার উড়নাটিও পৃথিবী এবং পৃথিবীর সমস্ত বস্তুর চেয়ে দামী।’ (বুখারী ঃ ২৭৯৬)


১২। হুরদের প্রাণ মাতানো সংগীত

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, জান্নাতের মধ্যে হুরদের একটি সমষ্টি থাকবে, যারা এমন মধুর সুরে গান গাবে, আল্লাহর কোন সৃষ্টি এত সুন্দর কণ্ঠের গান আর কোনো দিন শোনে নি। তারা এ বলে গাইবে:

‘আমরা চিরস্থায়ী, কোন দিন খতম হবো না,

আমরা চিরসুখী, কোনদিন দুঃখী হবো না।

আমরা চিরসন্তুষ্ট, কোন দিন অসন্তুষ্ট হবো না,

সুসংবাদ, আমরা যাদের জন্য এবং যারা আমাদের জন্য। (তিরমিযী ঃ ২৫৬৪) 


৭। জান্নাতীদের গুণাবলী

১। জান্নাতীরা ষাট হাত লম্বা হবে

আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 

كُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ بَعْدَهُ حَتَّى الآنَ ‏"‏ ‏.

“জান্নাতে প্রবেশকারী প্রত্যেক ব্যক্তি আদম (আঃ)-এর ন্যায় ষাট হাত লম্বা হবে। (প্রথমে মানুষ ষাট হাত ছিল) পরবর্তীতে তারা খাট হতে লাগল, শেষে বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।” (সহীহ মুসলিম ঃ ২৮৪১)


২। জান্নাতীদের চেহারা ও বয়স

মোয়াজ বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, 

"‏ يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلاَثِينَ أَوْ ثَلاَثٍ وَثَلاَثِينَ سَنَةً ‏"‏

“জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের চেহারায় কোন দাড়ি-গোঁফ থাকবে না। চক্ষুদ্বয় লাজুক হবে। বয়স হবে ত্রিশ থেকে তেত্রিশ এর মাঝামাঝি।” (তিরমিজী ঃ ২৫৪৫)


৩। জান্নাতীদের খাবার হজম প্রক্রিয়া

জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 

"‏ إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَأْكُلُونَ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ وَلاَ يَتْفُلُونَ وَلاَ يَبُولُونَ وَلاَ يَتَغَوَّطُونَ وَلاَ يَمْتَخِطُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا فَمَا بَالُ الطَّعَامِ قَالَ ‏"‏ جُشَاءٌ وَرَشْحٌ كَرَشْحِ الْمِسْكِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّحْمِيدَ كَمَا يُلْهَمُونَ النَّفَسَ ‏"‏ ‏.‏

“জান্নাতীরা পানাহার করবে কিন্তু থুথু ফেলবে না এবং পায়খানা-প্রস্রাবও করবে না। নাকে পানি আসবেনা। সাহাবাগণ আরয করলেন, “তাহলে তাদের খাবার কোথায় যাবে?” তিনি উত্তরে বললেন, “ঢেকুর ও ঘামের মাধ্যমে তা হজম হবে। জান্নাতীরা এমনভাবে আল্লাহ্র প্রশংসা ও তাসবীহ্ পাঠ করবে যেমন তারা শ্বাস গ্রহণ করে।” (সহীহ মুসলিম ঃ ২৮৩৫)


৪। জান্নাতীদের সৌন্দর্য ও সম্প্রীতি

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ القَمَرِ لَيْلَةَ البَدْرِ، وَالَّذِينَ عَلَى إِثْرِهِمْ كَأَشَدِّ كَوْكَبٍ إِضَاءَةً، قُلُوبُهُمْ عَلَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ، لاَ اخْتِلاَفَ بَيْنَهُمْ وَلاَ تَبَاغُضَ

‘‘যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো সুন্দর ও উজ্জল হবে। তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তাদের চেহারা হবে আকাশের সর্বাধিক আলোকউজ্জল তারকার মতো জ্যোর্তিময়। আর সকলের অন্তকরণ একটি অন্তকরণ সাদৃশ হবে। তাদের মধ্যে পারস্পারিক মতভেদ বা বৈপরিত্য থাকবে না। (বুখারী, ৩২৪৬; মুসলিম, ২৮৩৪)


৮। জান্নাতীদের জন্য আল্লাহর নি'য়ামাত

জান্নাতীদের খাবার ও পানীয়

১। জান্নাতীদের প্রথম খাবার ও পানীয়

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর গোলাম সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট দাঁড়িয়ে ছিলাম। ইতোমধ্যে ইহুদীদের পাদ্রীদের মধ্য থেকে একজন পাদ্রী আসল এবং জিজ্ঞেস করল, "যে দিন আকাশ ও যমিন প্রথম পরিবর্তন করা হবে তখন মানুষ কোথায় থাকবে?" রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন, "পুলসেরাতের নিকটবর্তী এক অন্ধকার স্থানে"। অতঃপর ইহুদী আলেম জিজ্ঞেস করল, "সর্ব প্রথম কে পুলসিরাত পার হবে?" তিনি বললেন, "গরীব মুহাজিরগণ (মক্কা থেকে মদীনার হিযরতকারী)"। ঐ ইহুদী পাদ্রী আবার জিজ্ঞেস করল, "জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর সর্ব প্রথম তাদেরকে কী খাবার পরিবেশন করা হবে?" রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, "মাছের কলিজা"। ইহুদী জিজ্ঞেস করল, "এর পর কী পরিবেশন করা হবে?" রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, "এরপর জান্নাতীদের জন্য জান্নাতে পালিত গরুর গোশত পরিবেশন করা হবে"। এরপর ইহুদী জিজ্ঞেস করল, "খাওয়ার পর পানীয় কী কী পরিবেশন করা হবে?" রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, "সালসাবীল নামক ঝর্ণার পানি"। ইহুদী পাদ্রী বলল, "তুমি সত্য বলেছ..."। (সহীহ মুসলিম ঃ ৩১৫) 


২। সকাল সন্ধ্যায় জান্নাতীদের খাবার পরিবেশন করা হবে

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, “এবং সকাল সন্ধ্যায় তাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা থাকবে।” (সূরা মারইয়াম ঃ ৬২)

৩। জান্নাতের শরাব পান করার পর কোন প্রকার মাতলামি ভাব দেখা দিবে না। (সূরাহ আস্-সা-ফ্ফাত ঃ ৪১-৪৭)

৪। জান্নাতীদেরকে এমন শরাব পান করানো হবে যার মধ্যে আদার স্বাদ থাকবে। (সূরাহ আদ্-দাহ্র ঃ ১৫-১৮)

৫। জান্নাতীদের পানের জন্য সুস্বাদু পানি, সুমিষ্ট দুধ, সুস্বাদু শরাব, পরিষ্কার স্বচ্ছ মধুর নদীও জান্নাতে বিদ্যমান থাকবে। (সূরাহ মুহাম্মদ ঃ ১৫)

৬। জান্নাতীদের মেহমানদারীর জন্য অন্যান্য ফল ব্যতীত খেজুর, আঙ্গুর, আনার, বরই, আনজীর ইত্যাদি ফলও থাকবে। (সূরাহ আর-রহমানঃ ৬৮; সূরাহ আল-ওয়াক্বি'আহ ঃ ২৭-৩২)

৭। জান্নাতীদের সেবায় 'শারাবান ত্বাহুরা' (পবিত্র পরিচ্ছন্ন পানীয়) পেশ করা হবে। (সূরা আদ্-দাহ্র ঃ ২১)

৮। উটের গর্দানের মত পাখির গোশত জান্নাতীদের পরিবেশন করা হবে। (তিরমিজী ঃ ২৫৪২)

৯। জান্নাতীদেরকে অসংখ্য ও অগণিত নিয়ামত দেয়া হবে। আল্লাহ এক সাথে অনেক নিয়ামতের উল্লেখ করেছেন নিম্নোক্ত আয়াতে:

وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا (১২) مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا (১৩) وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا (১৪) وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرَا (১৫) قَوَارِيرَ مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا (১৬) وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلًا (১৭) عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا (১৮) وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَنْثُورًا (১৯) وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا (২০) عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا (২১) إِنَّ هَذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاءً وَكَانَ سَعْيُكُمْ مَشْكُورًا (২২)

“এবং তাদের সবর ও ধৈর্যের বিনিময়ে তাদেরকে দেবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক-আশাক। তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রোদের তাপ ও শীতের ঠান্ডা অনুভব করবে না। আর গাছের ছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং ফলসমূহ তাদের আয়ত্বে রাখা হবে। তাদেরকে খাদ্য ও পানীয় পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফুটিকের মতো পানপাত্রে। পরিবেশনকারীরা তা পরিমাণ করে পূর্ণ করবে। তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে, ‘যানজাবীল’ মিশ্রিত পানপাত্র। এটা জান্নাতে অবস্থিত ‘সালসাবীল’ নামক একটি ঝর্ণা। আর তাদের কাছে আনাগোনা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মণি-মুক্তা। আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নিয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। তাদের পোশাক হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদেরকে পরিধান করানো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকন এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়। এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের আমল ও কাজ স্বীকৃতি লাভ করেছে।” (সূরা আদ-দাহর ঃ ১২-২২)


১০। জান্নাতীগণ সর্বাধিক বড় নিয়ামত আল্লাহর দর্শন লাভ করবে

আল্লাহ তা’আলা বলেন

وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ ۞ إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ﴿القيامة: ٢٣ ــ٢٢﴾

“সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের রবের প্রতি তাকিয়ে থাকবে।” (সূরা কিয়ামাহ: ২২-২৩)

وَاللَّهِ مَا أَعْطَاهُمْ شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَيْهِ.

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে, “আল্লাহর কসম, জান্নাতীদের জন্য আল্লাহর দর্শন ব্যতিরেকে অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় আর কিছু হবে না।” (মুসলিম ঃ ১৮১; তিরমিযী ঃ ২৫৫২)

৯। জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত ব্যক্তি

(ক) আশারা মুবাশ্শারা

‏রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দশজনকে দুনিয়াতেই তাদের জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন। তাদেরকে আশারা মুবাশ্শারা বলা হয়। 

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ وَالزُّبَيْرُ فِي الْجَنَّةِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ وَسَعْدٌ فِي الْجَنَّةِ وَسَعِيدٌ فِي الْجَنَّةِ وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فِي الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏

আবদুর রহমান বিন আওফ রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আবু বকর জান্নাতী, ওমর জান্নাতী, ওসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তালহা জান্নাতী, যুবাইর জান্নাতী, আবদুর রহমান আওফ জান্নাতী, সা'দ বিন আবূ ওক্কাস জান্নাতী, সাঈদ বিন যুবাইর জান্নাতী, আবু ওবাইদা ইবনুল জার রাহ জান্নাতী"। (তিরমিজী ঃ ৩৭৪৭)


১০। কোন আমলে কোন জান্নাত পাওয়া যাবে

(১) জান্নাতুল ফিরদাউস, কারা পাবে?

৮টি জান্নাতের এক নাম্বার জান্নাত হল-জান্নাতুল ফিরদাউস, আমারা সবাই ১নাম্বার জন্নাত জান্নাতুল ফিরদাউস চাই। ১নাম্বার জান্নাত যদি পেতে চাই, তাহলে কাজ ও করতে হবে ১নাম্বার, ১নাম্বার জান্নাত আল্লাহ পাক কোন বান্দাকে দিবেন, কোন আমল করলে এ ব্যাপারে সুরা কাহাফ, ১০৭ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন, ‘জান্নাতুল ফিরদাউস তাকে দেওয়া হবে, যে বান্দা ঈমান আনবে, আর আমলে সলেহ করবে, নেক আমলল গুলো করবে, আমি আল্লাহ তাকে ১নাম্বার জান্নাত জান্নাতুল ফিরদাঊস দিয়ে দেব।


(২) জান্নাতুল নাঈম, কারা পাবে?

আল্লাহ তা’আলা সুন্দর করে সুরা অয়াকিয়া ৮, ৯, ১০, ১১, ১২,নাম্বার আয়াতে বলেন, জান্নাতুল নাঈম তারাই পাবে যারা দুনিয়ার বুকে ডানপন্থির পরিচয় দিয়েছে,ডানপন্থি যারা,অগ্রবর্তীগন যারা,ডান দল যারা করেছে, ডানপন্থির পথে যারা চলেছে, এই সমস্ত বান্দার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জান্নাতুল নাঈমের দরজা খুলে রেখেছেন।


(৩) দারুস সালাম, কার জন্য?

সুরা আন'আম এর ১২৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যারা এই দুনিয়ার জিন্দেগীতে হাজারো পথ তার সামনে খুলে রাখার পর ও যে বান্দা সিরাতুল মুস্তাকীন কে ধরেছে,সিরাতুল মুস্তাকিন এর পথে যে বান্দা অটল থেকেছে, আমি আল্লাহ তার জন্য দারুস সালাম নামক জান্নাত খুলে দেব।


(৪) জান্নাতুল খুলদ, কার জন্য?

সুরা ফুরকান, ১৫ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘সেই বান্দার জন্য আমি জান্নাতুল খুলদ বরাদ্দ রেখেছি, যে বান্দা দুনিয়ার জিন্দেগীতে আমি আল্লাহ আমাকে সবথেকে বেশি ভয় করেছে, যারা নাকি মুত্তাকি।


(৫) জান্নাতুল আলিয়া,কারা পাবে?

সুরা গাসিয়ার ভিতরে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলছেন, ‘যে বান্দা দুনিয়ার জিন্দেগীতে ভাল কাজ করবে আমি আল্লাহ তার জন্য জান্নাতুল আলিয়া রেখে দিয়েছি।


(৬) জান্নাতুল আদ্ন, কারা পাবে?

সুরা সফ, আয়াত নাম্বার ১২ তে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহ পথে জিহাদ করতে পারো, জিহাদে তোমরা যদি বিজয়ী হও, অথবা পরাজিত হয়ে যাও আমি তোমাদেরকে এমন একটা জান্নাত দেব, যেই জান্নাতের নাম হবে জান্নাতুল আদন, আর সেই জান্নাতের তলদেশ দিয়ে নদীর ঝর্ণা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রবাহিত করবেন।


(৭) জান্নাতুল মাওয়া, কার জন্য?

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, যার দিলের ভিতরে আল্লাহ ভয় থেকে যাবে, আর প্রবিত্তির অনুসরন থেকে যে বান্দা নিজেকে পরহেজ রাখবে, যে বান্দা নাফসের দাসত্ব না করে, আল্লাহর দাসত্বে নিজেকে যে নিয়জিত করে, সেই বান্দার জন্য মহান রাব্বুল আলামিন জান্নাতুল মাওয়া বরাদ্দ রেখেছেন।


(৮) দারুল কারার, কারা পাবে? 

যারা মুমিন, যারা আমলে সলেহ করবে, তাদের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দারুল কারার রেখেছেন।


১১। উপসংহার

জান্নাত সর্বাধিক মূল্যবান জিনিস। তাই তা সংগ্রহের আপ্রাণ ও জোরদার চেষ্টা চালানো উচিত। তাকওয়া মূলত: জান্নাত লাভের উপায় এবং তা অর্জনের জন্য বাস্তব চেষ্টা ও পরিশ্রমের বাস্তব প্রশিক্ষণ।


No comments:

Post a Comment