সালাতের প্রতি শৈথিল্য প্রদর্শন
১। ভূমিকা।
নামায এর আরবী শব্দ সালাত। সালাত এর অভিধানিক অর্থ দোয়া করা, ক্ষমা চাওয়া, কারো গুনগান ও পবিত্রতা বর্ণনা করা, কারো দিকে মুখ করা, অগ্রসর হওয়া এবং নিকটবর্তী হওয়া । কুরআনের পরিভাষায় নামাযের অর্থ হলো আল্লাহর দিকে মনোযোগ দেয়া তার দিকে অগ্রসর হওয়া তার কাছেই চাওয়া এবং তার নিকটবর্তী হওয়া।
শরীয়তে ইহার অর্থঃ
এক বিশেষ পদ্ধতিতে আল্লাহ পাকের গুনগান করা যাতে রুকু, সিজদা রয়েছে। রাসুল (সাঃ) মিরাজের রাত্রে উম্মতে মুহাম্মদীর উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ হয়। ঈমানের পর ইসলামের প্রধান স্তম্ভ ও শ্রেষ্ট ইবাদত হলো নামায। ঈমান আনার সাথে সাথেই প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের উপর নামায ফরজ।
২। উদ্দেশ্য।
বিনয় ও নম্রতার সাথে নামায আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা।
৩। সালাত কেন এত গুরুত্বপূর্ন।
ঈমানের পরে মুমিন নর ও নারীর উপরে সবচেয়ে বড় ফরজ ইবাদত হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময় মত আদায় করা। কুরআন ও হাদীসে এর চেয়ে বেশী গুরুত্ব আর কোন ইবাদত কে দেওয়া হয়নি। কুরআনে প্রায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ৮২ স্থানে আল্লাহ তায়ালা সালাতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সালাত ইসলামের দ্বিতীয় রোকন। সালাত ইসলামের এমন একটি ফরজ ইবাদত যার কোন বিকল্প নেই। ইসলামে সকল বিধান সহজ করে দেওয়া হয়েছে। একজন অসুস্থ মানুষ রোজা কাজা করতে পারেন এবং পরে রাখতে পারেন এক বারে অক্ষম হলে ফিদিয়া কাফফারা দিতে পারেন। কিন্তু সালাতের ক্ষেত্রে সেই বিধান নেই এই সালাত কে অন্য ভাবে সহজ করা হয়েছে। তা হলো মুমিন যে ভাবে পারে তা আদায় করবেন। পূর্ণ নিয়ম অনুসারে সম্ভব না হলে দাড়িয়ে, বসে, শুয়ে, দৌড়াতে দৌড়াতে, যানবাহনে আরোহন রত অবস্থায় পোষাক পরিধান করে না হলে উলঙ্গ হয়ে এমন কি যুদ্ধের ময়দানে পানি না পেলে তায়াম্মুম এর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে যেভাবে সম্ভব মুমিন তার প্রভূর দরবারে হাজিরা দেবেন। কোন অবস্থাতেই সময় মত হাজিরা দেওয়ার কোন বিকল্প নেই।
সালাত কে আমরা দায়িত্ব মনে করি। আসলে দায়িত্ব নয়, সুযোগ। বান্দার সাথে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মাধ্যমে নিজের আবেগ অনুভূতি তাকে জানিয়ে তার রহমত বরকত লাভে ধন্য হওয়া সালাত সকল সফলতার চাবি কাঠি। নবী (সাঃ) বলেছেন ‘‘সন্তানের বয়স ৭ বৎসর হলে সালাতের নির্দেশ দাও ১০ বৎসর হলে শাসন করো’’। কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব গ্রহণ করা হবে। সালাতের মাধ্যমে গুনাহ ঝরে যায়। সালাতের মাধ্যমে ব্যয়াম হয়, পবিত্র জীবন লাভ করা যায়। মহানবী (সাঃ) অসুস্থ অবস্থায় যখন বারবার অচেতন হয়ে যান তখনও সালাত আদায় এর গুরুত্ব প্রদান করেন সেই সালাতে শৈথিল্য প্রদর্শনের কোন সুযোগ নেই।
৪। নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার জন্য আল্লাহ বলেন-
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
‘‘তোমরা নামায সমূহের উপর (গভীর ভাবে) যত্নবান হও, (বিশেষ করে) মধ্যবর্তী নামাজ এবং তোমরা আল্লাহর জন্য বিনীত ভাবে দাড়িয়ে যাও’’।(সূরা বাকারাঃ ২৩৮)
৫। সময়ের প্রতি অবহেলা না করা প্রসংগে-
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا ﴿النساء: ١٠٣﴾
‘‘অবশ্যই নামায ঈমানদারদের ওপর সুনির্দিষ্ট সময়ের সাথেই ফরজ করা হয়েছে’’। (সুরা নিসা- ১০৩)
৬। নামাযে বিনয়ীদের পুরস্কার-
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ
নিঃসন্দেহে সে সব ঈমানদার মানুষেরা মুক্তি পেয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে একান্ত বিনয়াবত (হয়) (সুরা মুমিনুন- ১-২)
৭। নামাযে শৈথিল্য প্রদর্শন নামাজকে ভারী মনে করা।
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا
অবশ্যই মুনাফেকরা আল্লাহ তায়ালাকে ধোকা দেয়া, (মূলত এর মাধ্যমে) আল্লাহই তাদের প্রতারনায় ফেলে দিক্রেজন, এরা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন একান্ত আলস্য ভাবেই দাঁড়ায়, আর তারা কেবল লোকদের দেখায় এরা আল্লাহ তায়ালাকে কমই স্বরন করে । (সূরা নিসা ১৪২)
আল্লাহ আরো বলেনঃ ‘‘
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ -الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ-الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ
(মর্মান্তিক) দূর্ভোগ রয়েছে সে সব নামাযীর জন্য, যারা নিজেদের নামায থেকে উদাসীন থাকে যারা অপর কে নামায প্রদর্শন করে’’। (সূরা মাউন ৪-৬)
অপর আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ
يَوْمَ يُكْشَفُ عَن سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ - خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ۖ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ
(সরণ করো) যে দিন যাবতীয় রহস্য উদঘাটিত হয়ে পড়বে, তখন তাদের সেজদাবনত হওয়ার আহবান জানানো হবে এসব (হতভাগ্য) ব্যক্তি কিন্তু সেজদা করতে সক্ষম হবে না, দৃষ্টি তাদের নিম্মগামী হবে অপমান তাদের ভারাক্রান্ত করে রাখবে; দুনিয়ায় এমনি করে যখন তাদের আল্লাহর সম্মুখে সেজদা করতে ডাকা হয়েছিল তখন তারা সুস্থ ও সক্ষম ছিল।(সূরা কালাম ৪২,৪৩)
অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَمَا مَنَعَهُمْ أَن تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَىٰ وَلَا يُنفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ
তাদের এ অর্থ সম্পদ কবুল না হওয়াকে এছাড়া আর কোন কিছুই বাধা দেয়নি যে, তারা স্বয়ং আল্লাহকে ও তার রাসুলকে অমান্য করেছে, তারা নামাযের জন্য আসে ঠিকই, কিন্তু তারা থাকে একাšত অলস, আর তারা আল্লাহ তায়ালার পথে অর্থ ব্যয় করে বটে, তবে তা করে অনিক্রজ্বষ সাথে। (সুরা তাওবা-৫৪)
৮। নামাযের শৈথিল্য প্রদর্শন সম্পর্কে হাদীস।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ المَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ، فَصَلَّى، فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَرَدَّ وَقَالَ: «ارْجِعْ فَصَلِّ، فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ»، فَرَجَعَ يُصَلِّي كَمَا صَلَّى، ثُمَّ جَاءَ، فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «ارْجِعْ فَصَلِّ، فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ» ثَلاَثًا، فَقَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَهُ، فَعَلِّمْنِي، فَقَالَ: «إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَكَبِّرْ، ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ القُرْآنِ، ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْدِلَ قَائِمًا، ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا، وَافْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا»
রাসূল (সাঃ) একবার মসজিদে নববীর এক পার্শ্বে উপবিষ্ট ছিলেন, ইত্যবসরে এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় অন্তে নবীর নিকট এসে সালাম দিল। নবীজি সালামের জবাব দিয়ে বললেন তুমি ফিরে যাও এবং পুনরায় নামায আদায় কর কেননা তুমি তো (ঠিক মত) নামাজই আদায় করনি। লোকটি ফিরে গেল এবং নামায আদায় করে এসে নবীজিকে সালাম দিল। নবীজি এবারও সালামের জবাব দিয়ে বললেন তুমি ফিরে যাও আবার নামাজ আদায় কর। কেননা তুমি তো নামাযই (ঠিক মত ) আদায় করনি। লোকটি তৃতীয় বারে বা তারও পরে আরজ করল ইয়া রাসুলাহ! আপনি আমাকে নামায শিক্ষা দিন। এবার নবীজি তাকে বললেন যখন তুমি নামাজে দাড়াবে তখন উত্তম রূপে অজু করবে এবং কিবলা মুখী হয়ে দাঁড়াবে অতঃপর তাকবীর (তাকবীরে তাহরীমা) বলে কুরআন থেকে তোমার সুবিধা মত অংশ তেলওয়াত করবে। তার পর রুকু করবে এবং রুকুতে কিছু সময় স্থির থাকবে। তার পর মাথা উঠাবে এবং সোজা হয়ে দাড়াবে। এরপর সিজদা করবে এবং সিজদায় কিছু সময় স্থির থাকবে। তারপর মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এই ভাবেই তুমি তোমার স¤পূর্ন নামাজ শেষ করবে । (ইবনে মাজাহ ১১১৩ ) কিতাবু ইকামাতুস সালাহ বুখারী -৭৫৭
৯। নামাযের সময়ের শৈথিল্য প্রসংগে ।
এটা মুনাফিকের নামায যে, (কোন ব্যক্তি) বসে ( আসরের নামাজ পড়ার জন্য ) সূর্যের অপেক্ষা করতে থাকে যতক্ষন না সূর্য হলদে হয় এবং শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে আসে (অর্থাৎ প্রায় অস্তমিত হয়) তখন উঠে চারটি ঠোকর মারে যাতে সে আল্লাহকে সামান্যই সরন করে। (মুসলিম ১৪৪৬ মসজিদ ও নামাযের স্থান অধ্যায়-)
১০। নামাযের মধ্যে এদিক ওদিক তাকানো।
‘‘তোমরা নামাযের মধ্যে এদিক ওদিক তাকানো থেকে বিরত থাকবে কেননা নামাযের মধ্যে এদিক ওদিক তাকানো ধ্বংসের নামান্তর ’’। ( তিরমিযি ৫৯২ নামায অধ্যায়)
১১। নামাযের মধ্যে আকাশের দিকে তাকানো।
عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُمْ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ فِي صَلَاتِهِمْ»، فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ: «لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ»
কওমের লোকদের কি হল যে তারা নামাযের মধ্যে আসমানের দিকে তাকায়? এ ব্যাপারে তিনি আরো কঠোর ভাবে কথা বললেন এমনকি তিনি বললেন হয়ত তারা এ থেকে ফিরে থাকবে নয়ত তাদের দৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে।( আবু দাউদ ৯১৩ )
১২। যে ব্যক্তি রুকু সিজদায় পিঠ সোজা করেনা।
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُجْزِئُ صَلَاةُ الرَّجُلِ حَتَّى يُقِيمَ ظَهْرَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ»
রাসুল (সাঃ) বলেছেন ‘‘যে ব্যক্তি রুকু সিজদাতে পিঠ সোজা করেনা? তার সালাত যথেষ্ঠ নয়’’।(আবু দাউদ ৮৫৫)
১৩। নামাযের কাতার ব্যবস্থাপনার অভাব।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «[ص:146] سَوُّوا صُفُوفَكُمْ، فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلاَةِ»
তোমরা তোমাদের নামাজের সারিকে সোজা কর কেননা নামায এর সারি সোজা করা নামাজ প্রতিষ্ঠারই নামান্তর। (বুখারী ৭২৯)
১৪। জামাতের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শনের প্রতি কঠোর সর্তকাবলী।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى المُنَافِقِينَ مِنَ الفَجْرِ وَالعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا، لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ المُؤَذِّنَ، فَيُقِيمَ، ثُمَّ آمُرَ رَجُلًا يَؤُمُّ النَّاسَ، ثُمَّ آخُذَ شُعَلًا مِنْ نَارٍ، فَأُحَرِّقَ عَلَى مَنْ لاَ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ بَعْدُ»
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “মুনাফিকদের পক্ষে সবচেয়ে ভারী নামায হল এশা ও ফজরের নামায। ঐ দুই নামাযের কি মাহাত্ম আছে, তা যদি তারা জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও অবশ্যই তাতে উপস্থিত হত। আমার ইচ্ছা ছিল যে, কাউকে নামাযের ইকামত দিতে আদেশ দিই, অতঃপর একজনকে নামায পড়তেও হুকুম করি, অতঃপর এমন একদল লোক সঙ্গে করে নিই; যাদের সাথে থাকবে কাঠের বোঝা। তাদের নিয়ে এমন সম্প্রদায়ের নিকট যাই, যারা নামাযে হাজির হয় না। অতঃপর তাদেরকে ঘরে রেখেই তাদের ঘরবাড়িকে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিই।” (বুখারী ৬৫৭, মুসলিম, সহীহ ৬৫১নং)
হযরত উসামা বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “লোকেরা জামাআত ত্যাগ করা হতে অবশ্য অবশ্যই বিরত হোক, নচেৎ আমি অবশ্যই তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেব।” (ইবনে মাজাহ্, সুনান, সহিহ তারগিব ৪৩০নং)
মহানবী (সাঃ) আরো বলেনঃ কেউ মসজিদে অবস্থানরত অবস্থায় যদি কোন নামাজের আযান হয়ে যায়; অথচ সে কোন প্রয়োজন ছাড়াই মসজিদ হতে বের হয়ে গেলো এরং তার দ্বিতীয়বার মসজিদে ফিরে আসার ও ইচ্ছা নাই তাহলে সে মুনাফিক। ( ঈযব মাজাহ ৭৪১)
১৫। জামাতের ফজিলত।
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ، وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ»
যে ব্যক্তি ইশার নামায জামাতে আদায় করল সে যেন অর্ধ রাত নফল নামাজ আদায় করল। আর যে ইশা ও ফরজের নামায জামাতে আদায় করলো সে যেন পুরো রাত নফল নামাজ পড়লো। (আবু দাউদ-৫৫৫)
১৬। জামাতের গুরুত্ব।
عَنِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ، أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي رَجُلٌ ضَرِيرُ الْبَصَرِ شَاسِعُ الدَّارِ، وَلِي قَائِدٌ لَا يُلَائِمُنِي فَهَلْ لِي رُخْصَةٌ أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِي؟، قَالَ: «هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ»، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «لَا أَجِدُ لَكَ رُخْصَةً»
সাহাবী উম্মে মাকতুম সুত্রে বর্নিত । তিনি নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসূল! আমিতো অন্ধ, আমার ঘর ও দূরে অবস্থিত। আমার একজন পথ চালক আছে কিন্তু সে আমার অনুগত নয়। এমতাবস্থায় আমার জন্য ঘরে সালাত আদায়ের অনুমতি আছে কি? রাসুল(সাঃ) বললেন তুমি আযান শুনতে পাও? উম্মে মাকতুম বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন,তাহলে তোমার জন্য অনুমতির কোন সুযোগ দেখছিনা। (আবু দাউদ-৫৫২)
১৭। উপসংহার।
মহান আল্লাহ বলেন,
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ ﴿التغابن: ١٦﴾
তোমরা যথাসাধ্য (ভাবে) আল্লাহকে ভয় করো। (সুরা তাগাবুন-১৬) যে ব্যক্তি নামাযের সকল নিয়ম কানুন রক্ষা করে ভালোভাবে নামায স¤পাদন করলো সে তার জীবদ্দশায় কল্যানকর জীবন লাভ করবে এবং তার মৃতু হবে কল্যানকর অবস্থায়।
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً ۖ وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
যে কোন পুরুষ-নারী ঈমানদার অবস্থায় সৎ কাজ করে তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র ও আনন্দময় জীবন দান করবো এমন কি তাদের দেবো তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান। ( সুরা নাহল-৯৭)



No comments:
Post a Comment