Friday, September 11, 2020

ইসলামের আলোকে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতাদর্শ ও আমাদের শিক্ষণীয়

মজিব বর্ষঃ
ইসলামের আলোকে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতাদর্শ ও আমাদের শিক্ষণীয়
ইসলামের আলোকে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতাদর্শ ও আমাদের শিক্ষণীয়



১। ভূমিকা।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীনতার মহান সুপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শতাব্দীর এক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব । স্কুল জীবন থেকে তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলীর বিকাশ ঘটে। বাঙালী জাতির অধিকার আদায়ে জেল, জুলুম, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, শাসক গোষ্ঠীর অত্যাচারে তিনি ছিলেন ইস্পাত কঠিন। বঙ্গবন্ধুর মতাদর্শ ও রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে আমরা তাঁর বহু গুণাবলীর সমাবেশ দেখতে পাই, যেমন- আর্তমানবতার সেবা, ইসলামী মূল্যবােধ, দেশপ্রেম, মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা, সহযোদ্ধাদের প্রতি সহমর্মিতা, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মানবতাবােধ, অসাধারণ বাকশৈলীতা, দেশ পুনর্গঠনে দৃঢ়তা, ন্যায়ের প্রতি অবিচলতা, সর্বোপরি বলিষ্ঠ ও যোগ্য নেতৃত্বসহ আরো অনেক অনুকরণীয় গুণাবলী । মহান আল্লাহ তায়ালা তার মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য দান করে তাকে নেতত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসিন দান করেছিলেন। তিনি কেবলমাত্র বাঙালীজাতির নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই বিশ্বের মনিবতাকামী একজন বিশিষ্ট নেতা। তার নেতৃত্বের গুণাবল আজও সমুজ্জ্বল হয়ে আছে যা বিশ্ব মানবতাকে এখনও আলোড়িত করে। একবিংশ শতাব্দীর এই সন্ধিক্ষণে পত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত অঙ্গনে ও নৈতিক জীবনে তাঁর বহুবিধ গুণাবলীর অনুসরণ করা আজ সময়ের দাবী। সেবা, দেশপ্রেম, সহযোদ্ধাদের প্রতি সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা, নৈতিক মূল্যবােধ ও আনুগত্য সৈনিক জীবনের একান্ত অনুসঙ্গ, যার প্রতিটির প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

২। উদ্দেশ্য। 
পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্যে প্রভাবিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতাদর্শের বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের প্রাত্যহিক জীবনে এগুলাের অনুশীলন ও প্রয়ােগের প্রয়ােজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা।

৩৷ আর্তমানবতার সেবা। 
বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে ভালবাসতেন বলে তাদের বিপদ আপদে সব সময় নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। বিভাগ পূর্ব বাংলায় ৫০ এর মন্বন্তরের সময় তিনি দলীয় কর্মীদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্ভিক্ষ প্রতিরােধ কমিটিতে যােগদান করেন। দেশ বিভাগের আগে ১৯৪৫ সালে কলকাতায় ব্যাপক রক্তক্ষয়ী হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে রক্ষার কাজে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। ১৯৭০ সালে ঘূর্ণিঝড় গোর্কির আঘাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ১১ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটলে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে দূর্গত এলাকায় চলে যান এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। (বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়- আলম তালুকদার, পৃষ্ঠা নং-২০ ও ৩৫)। মহান আল্লাহ সূরা দাহর এর ৮ নং আয়াতে আর্তমানবতার সেবা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন,
وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا ﴿الانسان: ٨﴾
‘তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্তে¡ও মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে। জামে আত-তিরমিযি ৩য় খন্ড ১৮৭২ হাদিসে বলা হয়েছে,
مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَ لاَ يَرْحَمُهُ اللَّهُ
‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন না।

৪। দানশীলতা। 
বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন হৃদয়বান ব্যক্তি। গরীব-দুঃখী মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখলে তাঁর হৃদয় কেঁদে উঠতো। তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়তেন কিভাবে তাদের দুঃখ কষ্ট লাঘব করা যায়। অন্যের কষ্ট লাঘব করার মধ্যেই তিনি আনন্দ পেতেন। এ ব্যাপারে একটি উল্লেখযােগ্য ঘটনা হলো- যখন স্কুল ছুটির সময় হত, তার দাদী আম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতো। খোকা আসবে বলে দূর থেকে রাস্তার উপর নজর রাখতেন। একদিন তিনি দেখেন তার খােকা গায়ে চাদর জড়িয়ে হেঁটে আসছে। তাঁর গায়ে পাজামা পাঞ্জাবী নেই। এ অবস্থা দেখে তার দাদী তাঁকে প্রশ্ন করলেন, তোমার পরনে পাজামা পাঞ্জাবী নেই কেন? উত্তরে তিনি জানান যে, এক গরীব ছেলেকে শত ছিন্ন কাপড়ে দেখে সব দিয়ে এসেছেন (ইতিহাসের মহানায়ক-বাহালুল মজনু চুন্নু- পৃষ্ঠা-১০)। 

আমরা বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ বিশ্লেষণ করলে আরো অনেক দানশীলতার উদাহরণ দেখতে পাই। যেমন- ১৯৫৪ এর পরে মুজিব যখন উপমহাদেশের সর্বত্র পরিচিত ব্যক্তিত্ব, সে সময়ে একবার বাড়িতে এলে স্থানীয় গরিব মানুষেরা তাঁর সাথে দেখা বরতে আসেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে পয়সা কড়ি নেই, এদিকে দেশেও আকাল। বঙ্গবন্ধু সাহায্য প্রার্থীদের বললেন ‘আমার ধানের গোলা একটা রেখে বাকি বারটা কেটে নিয়ে যাও' (বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়- আলম তালুকদার পৃষ্ঠা-৬২)। 

বঙ্গবন্ধু যে একজন দানশীল ব্যক্তি ছিলেন এইরকম আরো অনেক ঘটনা থেকে তা বোঝা যায়। দানশীলতা মুমিনদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাদের এই গুণের প্রশংসা করে মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারার ২৬২ নং আয়াতে বলেন,

الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿البقرة: ٢٦٢﴾
‘যারা আল্লাহর রাস্তায় তাদের সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর তারা যা ব্যয় করেছে, তার পেছনে খোঁটা দেয়না এবং কোন কষ্ট দেয়না, তাদের জন্য তাদের রবের নিকট তাদের প্রতিদান রয়েছে। এবং তাদের কোন ভয় নেই, আর তারা চিন্তিত হবেনা' । 

মহান আল্লাহ তায়ালা নিজে কুরআন মাজিদের সূরা আর রহমানের ৬০ নং আয়াতে ঘােষণা করেন,

هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ ﴿الرحمن: ٦٠﴾
‘সৎ কাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতিত কি হতে পারে?' 

বঙ্গবন্ধুর এই উত্তম দানগুলোকে আল্লাহ তায়ালা যেন সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করে। তার ও তাঁর পরিবারকে ইহলােক ও পরলোকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন। আমিন।

স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশে মুসলিম ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাসহ ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। মদ, জুয়া, ঘোড়দৌড়সহ সকল প্রকার ধর্মীয় অনুশাসন বিরােধী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপোযোগী করার জন্য মাদ্রাসা বাের্ডকে পুনর্গঠন করেন। (বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং-৪০)। 
এ প্রসংগে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘােষণা
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ ﴿آل‌عمران: ١١٠﴾
‘তোমরাই হলে উত্তম জাতি, তোমাদেরকে মানবতার কল্যানের নিমিত্তেই পৃথিবীতে পাঠানাে হয়েছে, (সুতরাং) তোমরা মানুষকে। সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা রাখবে। (সুরা আল ইমরান-১১০) 

বঙ্গবন্ধুর আর একটি উল্লেখযােগ্য পদক্ষেপ ছিল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করা যাতে বাংলাদেশে বসবাসরত সকল ধর্মের লােক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন।

৬। দেশপ্রেম। 
দেশের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অবিচল ভালবাসা। এই দেশপ্রেম ও ভালবাসার প্রমাণ তিনি আমৃত্যু দিয়ে গেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে যে ২১ দফা ঘােষণা করা হয়, তার প্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের ২৫ আগস্ট পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু বলেন- “স্যার আপনি দেখবেন ওরা পূর্ব বাংলা নামের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে, আপনারা এটাকে বাংলা নামে ডাকবেন । বাংলা শব্দটার একটি নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে এর একটা ঐতিহ্য'। (বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনী।(www.bsl.org.bd) 
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকদের ক্রমাগত শোষণ, নিপীড়ন, জুলুম, অত্যাচার বৃদ্ধি পেলে এর প্রতিবাদ করায় তাকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন, “আমি খালি একটা কথা বলেছিলাম তোমরা যদি আমাকে মেরে ফেলে দাও আমার আপত্তি নাই, মৃত্যুর পরে আমার লাশটা আমার বাঙালীকে ফিরিয়ে দিও' (১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর প্রদত্ত ভাষণ)।

কারাবরণ, নির্যাতন এমনকি হত্যার হুমকিতেও বাংলার গণমানুষের দাবীদাওয়ার প্রতি কোন আপােষ রক্ষায় তিনি রাজি হননি। স্বাধীনতার পর দেশে যখন কৃত্রিম খাদ্যসংকট, চোরাকারবারী, মজুতদারীর কারণে জনমানুষের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠে তখন বঙ্গবন্ধু এই সব দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রথম ক্যাডেট ব্যাচের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু বলেন, 'এবার আমি প্রতিজ্ঞা করছি যদি ২৫ বছর এই পাকিস্তানী জালেমদের বিরুদ্ধে জিন্নাহ থেকে আরম্ভ করে গােলাম মোহম্মদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী, আইয়ুব খান, এহিয়া খানের বিরুদ্ধে বুকের পাটা টান করে সংগ্রাম করে থাকতে পারি, আর আমার ত্রিশ লক্ষ লােকের জীবন দিয়ে অর্জন করতে পারি, তাহলে পিরবো না? নিশ্চয়ই ইনশাআল্লাহ পারবো, এই বাংলার মাটি থেকে /দুর্নীতিবাজ, এই ঘুষখোর, এই মুনাফাখোরীদের নির্মূল করতে হবে। আমিও প্রতিজ্ঞা নিয়েছি, তোমরাও প্রতিজ্ঞা নাও বাংলার জনগন প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করুক।' এটি দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা ও প্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা আনফালের ৩৯ নং আয়াতে বলেন,
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿الأنفال: ٣٩﴾
‘আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায় এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।' 

মহানবী (সাঃ) স্বদেশ ভূমিকে যার পর নাই ভালবাসতেন। জামে আত-তিরমিযি। (৬ষ্ঠ খন্ড) শরীফের ৩৮৬১ হাদিসে হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুল (সাঃ) বলেছেন, (হিযরতের প্রাক্কালে)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَكَّةَ: مَا أَطْيَبَكِ مِنْ بَلَدٍ، وَأَحَبَّكِ إِلَيَّ، وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمِي أَخْرَجُونِي مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكِ.
‘হে মক্কা, তুমি আমার কাছে কতই না পবিত্র শহর এবং তুমি আমার কাছে কতইনা পবিত্র । যদি না আমার জাতি তোমার কাছ থেকে আমাকে বের করে দিত, তাহলে আমি অন্য কোথাও বসবাস করতাম না।

৭। মাতৃভাষার প্রতি ভালবাসা।
 প্রতিটি মানুষ যেমন তার যাকে ভালবাসে, তেমনি ভালবালে তার মাতৃভাষাকে। মায়ের মুখের ভাষা যেন তার প্রকৃত পরিচয় বহন করে। বাঙ্গালী জাতিসত্তার পরিচয় ফুটে উঠেছিল মাতৃভাষা বাংলার মাধ্যমে। আর পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রথম আঘাত আসে এই বাংলা ভাষার উপর। বঙ্গবন্ধুর মাতৃভাষার প্রতি ছিল অগাধ ভালবাসা আর মমত্ববোধ। তাইতো জিন্নাহর ঘোষণা ও সহমত পোষণকারী খাজা নাজিমুদ্দিনের অভিলাষ অনুযায়ী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রতিবাদে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি ২১শে ফেব্রæয়ারিকে ভাষা দিবস হিসেবে পালন করার জন্য রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে আহবান জানান। ১৪ ফেব্রæয়ারি বঙ্গবন্ধু এ দাবীতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন । টানা ১৪ দিন অনশন অব্যাহত রাখেন। বঙ্গবন্ধু যাতে করে জেলখানাতে আন্দোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখতে না পারেন সেই জন্য তাকে ঢাকা থেকে ফরিদপুর কারাগারে সরিয়ে নেয়া হয় (বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং-২৫)।

বাংলা ভাষার প্রতি বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম ভালাবাসা থাকার কারণে তিনি বারবার কারাবরণ করেন এবং স্বৈরাচারী পাক শাসনের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। মাতৃভাষার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালাবাসার প্রকাশ ঘটে ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলা ভাষায় প্রদত্ত ভাষণের মাধ্যমে। এটি মাতৃভাষার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালাবাসার কারনেই সম্ভব হয়েছিল । (বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং-৪১)।

মহানবী (সাঃ) আরবী ভাষাকে ৩টি কারনে ভালবাসতেন 
(১) তিনি নিজেই আরবী ভাষাভাষী 
(২) আল কুরআন আরবী ভাষায় অবতীর্ণ এবং 
(৩) জান্নাতীদের ভাষা আরবী।
 প্রতিটি রাষ্ট্রের মানুষের নিজ নিজ মাতৃভাষায় কথা বলা তার জম্মগত অধিকার। মানুষের মধ্যে ভাষার বৈচিত্র্য স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই পছন্দ করেন। এ ব্যাপারে তিনি ঘােষণা দিয়েছেন,

وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّلْعَالِمِينَ ﴿الروم: ٢٢﴾
‘তার আরো এক নিদর্শন হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তােমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য । নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। (সূরা রুম-২২)।

৮। অসাধারণ বাকশৈলীতা।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন অসাধারণ মানের বাকশৈলীতার অধিকারী। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ বক্তা। তাঁর কথা মন্ত্রমুগ্ধের মত মানুষকে আকর্ষণ করেছিল। তিনি এতো সুন্দর করে কথা বলতেন যে মানুষ অল্পতেই তাঁর কথায় মুগ্ধ হয়ে যেত। তাঁর প্রতিটি বক্তব্য যেন বাঙ্গালীর হৃদয়ে স্পন্দন সৃষ্টি করত। রক্তে ঝড় উঠত সংগ্রামের । তাঁর প্রমাণস্বরূপ ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর ঘােষণা- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' -সকলের শরীরে কাঁটা জাগিয়ে তোলার মতো একটি ঘােষণা। আত্মসম্মান ও জাতিসত্ত¡াবোধের সৃষ্টি করতে এমন ঘোষণার কোন বিকল্প হয়না। ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে (www.wikipedia.corn) । মূলত তাঁর এই ভাষণের মধ্যেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার বীজ। তাঁর এই বক্তব্যের মদ্ধ দিয়ে মুক্তি পাগল বাঙ্গালী জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে । মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যথাযথ বক্তব্য প্রদান করার নির্দেশ দিতে গিয়ে সূরা আল আহ্যাবের ৭০ ও ৭১ নং আয়াতে বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (৭০) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ﴿الأحزاب: ৭১-٧٠﴾
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যের ব্যাপারে যথাযথ বক্তব্য প্রদান কর। তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কর্মের পরিশুদ্ধি দান করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। তাছাড়া মানুষ যেহেতু সত্য ও উৎকৃষ্ট কথায় বেশী আকৃষ্ট হয়, সেহেতু আল্লাহ রাববুল আলামিন সর্বোকৃষ্ট বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ দিয়ে সূরা বাকারার ৮৩ । নং আয়াতে বলেন,
وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا ﴿البقرة: ٨٣﴾ 
‘তোমরা মানুষের সাথে উৎকৃষ্ট কথা বল।' তিনি বক্তৃতা ও কথার মাধ্যমে জনগণকে নিবিড়ভাবে আকৃষ্ট করতে পারতেন এবং তাদের মধ্যে জাগরনের সৃষ্টি করতে পারতেন।

৯। দেশ পুনর্গঠনে দৃঢ়তা। 
মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে দেশ পুনর্গঠনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি তাঁর নিজস্ব মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই বাংলাদেশকে গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, বন্ধ কলকারখানা চালু, নতুন শিল্প-কারখানা চালু ও স্থাপনসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে তিনি একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে উন্নততর করার প্রয়াস চালান (বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং-৪০) । 

তিনি জানতেন সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতি সম্ভব। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা রা'দের ১১ নং আয়াতে বলেন,

إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ ﴿الرعد: ١١﴾ 
আল্লাহ কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে।'

১০। ন্যায়ের প্রতি অবিচলতা।
শত অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতনের মাঝেও বঙ্গবন্ধু তার আদর্শের বিরুদ্ধে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। দেশের মানুষের দুরাবস্থা ও সামাজিক বৈষম্য সম্পর্কে শেখ মুজিব বালক বয়স থেকেই সচেতন ছিলেন এবং তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে তা প্রকাশও পেয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানী শাসক শ্রেণির বৈষম্য-নীতি, শোষণ ও অগণতান্ত্রিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সর্বদা সোচ্চার। কিশাের বয়স থেকেই তার এই আপোষহীনতার চরিত্র ফুটে ওঠে। আল্লাহ তায়ালা ঘােষণা দিয়েছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿الأنفال: ٤٥﴾ 
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কোন। বাহিনীর সাথে মুখোমুখি হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে লাভে কৃতকার্য হতে পার।' (সূরা আনফাল-৪৫)।

এই প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্মরণযােগ্য। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তােল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।' (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, পৃষ্ঠা নং-১৫২)।

১১। যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। 
বঙ্গবন্ধু মানেই হল বলিষ্ঠ ও যােগ্য নেতৃত্ব। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব না থাকলে বাংলার স্বাধীনতা মুখ থুবড়ে পড়ত। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর একজন আদর্শ উম্মত হিসেবে তিনি সামনে থেকে বাঙ্গালী জাতিকে সবসময় নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ের দিকে ধাবিত করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে িিতন এই দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হচ্ছে । মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী পাঠ করলে। আমরা জানতে পারি যে, তিনিও অন্ধকারাচ্ছন্ন জাতিকে তাঁর সুদৃঢ় নেতৃত্বের বলয়ে এনে ইতিহাসের স্বর্ণ যুগের সূচনা করেছিলেন এবং দান করেছিলেন এক সুসভ্য, সমুন্নত কল্যাণকর সমাজ। পবিত্র কুরআনুল হাকীমে বলা হয়েছে-
ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّن بَعْدِ الْغَمِّ أَمَنَةً نُّعَاسًا يَغْشَىٰ طَائِفَةً مِّنكُمْ ﴿آل‌عمران: ١٥٤﴾ 
‘অতঃপর তোমাদের উপর শোকের পর শান্তি অবতীর্ণ করা, যা ছিল তন্দার মতো।' (আয়াত - আলে ইমরান-১৫৪)।

বঙ্গবন্ধু ছাত্রাবস্থায় যখন গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুলে পড়াশুনা করতেন তখন বিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক স্কুল পরিদর্শনে এলে তিনি স্কুল ছাত্রাবাসের ছাদ সংস্কারের দাবী তোলেন এবং এই দাবীর মুখে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তাৎনিক ১২০০ (বারশত) টাকা মঞ্জুর করেন। (বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং-২১)।

ঢকিা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের দাবি দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট শুরু করলে বঙ্গবন্ধু তাদের প্রতি সমর্থন জানান। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হন। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন করতে পেরেছিলেন যে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের যে আন্দোলন বঙ্গবন্ধ করেছিলেন তা ছিল সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত । এই কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ বিলম্বে হলেও ২০১০ সালে সম্মানের সাথে তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়ে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় (বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়, পৃষ্ঠা নং২৪)।
এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ৬ দফা ও ১১ দফার দাবীতে আন্দোলন পরিচালিত হয়। দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছানোর যে স্বপ্ন তিনি লালন করেছিলেন আজ তা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। এ কথা সর্বজন বিদিত যে, নেতৃত্বই একটি জাতির মূল চালিকা শক্তি। মুসলিম বিশ্বের অবিসাংবাদিত নেতা প্রিয় রাসুল (সাঃ) মদীনায় আগমনের পর তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন। তাঁরই বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মদীনা একটি বৃহৎ কল্যাণকর রাষ্ট্রে পিরণত হয়। মহানবীর যোগ্য উম্মত বঙ্গবন্ধুও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বাঙালী জাতির বৃহত্তর কল্যাণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন।

১২। অনাড়ম্বর জীবণ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন নিরলস সাধনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সত্তে¡ও কখনোই অহংকারী ও উদ্ধত ছিলেন না। বিলাসিতা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে তিনি ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে কখনো প্রশ্রয় দেননি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যের মতোই তিনি আড়ম্বরহীন জীবন যাপন করেছেন। এ প্রসংগে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মিশকাত ৪৪১ নং হাদিসে ইরশাদ করেছেন; 

্রمَنْ أَحَبَّ دُنْيَاهُ أَضَرَّ بِآخِرَتِهِ وَمَنْ أَحَبَّ آخِرَتَهُ أَضَرَّ بِدُنْيَاهُ فَآثِرُوا مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَىগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي ্রشعب الْإِيمَانগ্ধ 
‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে মহব্বত করল সে তার আখিরাতকে ক্ষতিগ্রস্থ করল। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে মহব্বত করল সে তার দুনিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করল, সুতরাং তোমরা অস্থায়ী বস্তুর উপর চিরস্থায়ী বস্তুকে প্রাধান্য দেবে।' (দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, ইসলামী ফাউন্ডেশন-পৃষ্ঠা৭৩৭)।

১৩। সামরিক শক্তি বৃদ্ধি। 
সামরিক বাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলা শুরু হয়। সশস্ত্র বাহিনীকে উন্নততর করার জন্য আধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন। তিনি সামরিক বাহিনীর উন্নততর প্রশিক্ষণের জন্য কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কর্মসূচী মহান আল্লাহরই নির্দেশনা। মহান প্রভূ সূরা আনফালের ৬০ নং আয়াতে বলেন,
وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ﴿الأنفال: ٦٠﴾ 
‘আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যা কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্য থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শত্রæদের উপর এবং তোমাদের শত্রæদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপরও যাদেরকে তোমরা জাননা, আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তােমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবেনা।

১৪। সারাংশ।
আমাদের এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে আল্লাহ্ তাআলা এ অবিসংবাদিত নেতার মধ্যে এমন সব অনন্য গুণাবলীর সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন যার মাধ্যমে তিনি বাঙ্গালী তথা বিশ্বের মুক্তি পাগল মানুষের মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন। কিউবার বিপ্লবী নেতা প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো তাঁর প্রসংগে বলেছিলেন, 'আমি হিমালয় দেখিনি, তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি।' (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার রাজনৈতিক জীবন দর্শন - লেখক-বিজয়, ১৪ আগস্ট ২০১৫- ইন্টারনেট ব্লগ সাইট)।

বিশেষতণ শৈশব কাল থেকে শাহাদাতের পূর্ব পর্যন্ত সারাটা জীবনকাল তিনি অকৃত্রিম ভালবাসা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও স্বদেশের জন্য যে অসাধারণ অবদান রেখেছেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আমাদের অবশ্য কর্তব্য। কেননা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে কৃতজ্ঞতা আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে,

لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ ﴿ابراهيم: ٧﴾ 
'যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর তবে আমি তোমাদের জন্য তা আরো বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অস্বীকার করো তবে জেনে রাখো নিশ্চয় আমার অযাব খুবই কঠোর (সূরা ইব্রাহিম, আয়তি নং-৭)।

এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁর আত্মার টান আমানতদারীতা, কথা ও কাজের মিল, ধর্মীয় অনুরাগ, সর্বোপরি প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর যে অসামান্য অবদান বাঙ্গালী জাতি তা চিরদিন স্বরণ রাখবে। অনুরূপ, সেনা সদস্যরাও তার আকর্যণীয়, বলিষ্ঠ, মানবিক ও ন্যায়-নিষ্ঠার অতুলনীয় গুণ-বৈশিষ্ট্য থেকে অনুপ্রাণিত হবেন এবং দেশ রক্ষার প্রতিটি কাজে তাঁর জীবনের শিক্ষাগুলাে বাস্তবায়িত করবেন- এটাই আমাদের সবার কাম্য। যদি আমরা তা করতে পারি তবে সেনাবাহিনী আরো উন্নত, সমৃদ্ধ ও কল্যাণের পথে এগুবে এবং বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে।

গ্রন্থপঞ্জি (BIBLIOGRAPHY)

১। তালুকদার, আলম। (২০০৯)। বঙ্গবন্ধুর অজানা অধ্যায়। ঢাকা: জনতা প্রকাশ 
২। চুন্নু, বাহালুল মজনুন। (২০১১)। ইতিহাসের মহানায়ক। ঢাকা: ইমন প্রকাশনী 
৩। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিত। (২০০০)। দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম ঢাকা: প্রকাশনা বিভাগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন 
৪। তিরমিযী (রহ), আবু ঈসা। (১৯৯৭)। জামে-আত-তিরমিযী ৩য় খন্ড। ঢাকা: পরিচালক, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার
৫। তিরমিযী (রহ), আবু ঈসা। (১৯৯৮)। জামে-আত-তিরমিযী ৬ষ্ঠ খন্ড। ঢাকা; পরিচালক, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার। 
৬। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ। (২০১১)। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৭। শাফী (রঃ), হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ। পবিত্র কুরআনুল করীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তফসীর)। মদীনা মোনাওয়ারা: খাদেমুল-হারামাইন বাদশা ফাহাদ কোরআন মুদ্রণ প্রকল্প 
৮। www.bsl.org.bd
১০। বিজয়। (১৪ আগস্ট ২০১৫)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার রাজনৈতিক জীবন দর্শন। ইন্টারনেট ব্লগ সাইট

বিশেষ দ্রষ্টব্য
(বিষয়োক্ত পাঠ পরিকল্পনাটি স্কান/ফটোকপি হতে হতে এমন অবস্থা যে তা আর দেখা/ধরা/পড়া যাচ্ছিল না, তাই খুব কষ্টে আবারো টাইপ করলাম। কারো যদি ওয়ার্ড ফাইলটি লাগে তাহলে যোগাযোগ করতে পারেনঃ 
মোবাইল নংঃ ০১৭১৭-৯৫৪৩৪৭
ই-মেইলঃ omorf1833@gmail.com
ফেসবুকঃ facebook.com/mof.faruk.9
 FDF FILE DOWNLOADED করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করুন

No comments:

Post a Comment