Tuesday, September 8, 2020

সালাত আদায়ের ধারাবাহিক সংক্ষিপ্ত বিবরণ


 সালাত আদায়ের ধারাবাহিক বিস্তারিত বিবরণ




(কোন মাজহাব বা দলকে সাব্যস্ত করা আমার উদ্যেশ্য নয়। বরং এগুলোও যে আমল বা সুন্নাত যা কোরান ও হাদীসে আছে সেটাই শুধু তুলে ধরলাম দলীলসহ)



اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ, وَالصَّلَوْةُ وَالسَّلَامُ عَلَيْ رَسُوْلِهِ الْكَرِيْمِ وَعَلَيْ اَلِهِ وَاَصْحَابِهِ اَجْمَعِيْنَ- امَّا بعد-
আজ ইংরেজী ...........মাসের .............তারিখ এবং আরবী..........মাসের .........জুমু‘আ। আজ আমরা ..............সম্পর্কে আলোচনা করব ইন্শাআল­াহ্। 

ভূমিকা
রাসূলুল­াহ্ ﷺ বলেন, صلوا كما رأيتموني اصلي ‘তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় কর যেভাবে আমাকে তোমরা সালাত আদায় করতে দেখেছ।’’ -বুখারী,আহমদ। সুতরাং আমাদের জানতে হবে, রাসূলুল­াহ্ ﷺ কিভাবে সালাত আদায় করতেন? অর্থাৎ তিনি সালাতের শুরু তাকবীর তাহরীমা থেকে সালাতের শেষ সালাম পর্যন্ত সালাতের কোন কাজটি কিভাবে আদায় করতেন।
দাড়ানো- 
পাক-পবিত্র অবস্থায় ক্বিবলামুখী হয়ে দাঁড়াবে। দু’ পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বেবলামুখী রাখবে। উভয় পায়ের মাঝখানে শরীরের গঠন অনুযায়ী ফাঁক রাখবে। যারা অধিক মোটা স্বাস্থ্যের অধিকারী, তারা যথাসম্ভব পা চেপে রেখে দাড়াবে। হাত দু’টো স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দিবে। সামনে কিংবা পিছনে বেঁধে রাখবে না। আল­াহ তা‘আলা বলেন,
فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ﴿البقرة: ١٤٤﴾
“মসজিদে হারামের দিকে মুখ ফেরাও। অতঃপর তোমরা যেখানেই থাকনা কেন, তার দিকেই মুখ করে সালাত পড়তে থাকবে।’’ -সূরা বাকারা ঃ ১৪৪
 আবূ উবায়দা  থেকে বর্ণিত, আবদুল­াহ্  এক ব্যক্তিকে দু’পা একত্রে মিলিয়ে দাঁড়িয়ে সালাত পড়তে দেখে তিনি বলেন,
خَاَلَف السنةَ ولَو رَاوَحَ بينهما كان افضلُ
“সে সুন্নাতের বিপরীত করেছে। সে যদি তার এক পা অপর পা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতো তাহলে তা উত্তম হতো।’’ -নাসাঈ হা ঃ নং- ৮৯৩-৯৪

তাকবীরে তাহরীমা বলা - 
অত:পর যে ওয়াক্তের সালাত পড়বে সে ওয়াক্তের নিয়ত করবে। মনের ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ই হচ্ছে নিয়্যত। মুখে বলা সুন্নাহ সম্মত নয়।
انما الاعمال بالنيات وانما لأمرء ما نوي...................الخ (البخاري-১)
এরপর তাকবীরে তাহরীমা আর্থাৎ আল­াহু আকবার (আল­াহ সব চেয়ে বড়) বলে কান পর্যন্ত হাত উঠাবে। আল­াহ তা‘আলা বলেন,
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ ﴿المدثر: ٣﴾ 
“তোমার প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।” -সূরা মুদ্দাসসির ঃ ৩
রাসূলুল­াহ্ ﷺ বলেন,“ 
্রإِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَكَبِّرْ، (نسائ)
“সালাতের জন্য যখন দাড়াবে তখন তাকবীর বলবে।” -নাসাঈ ঃ ৮৮৪

আবদুল জাব্বার ইবন ওয়ায়েল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, 
يَرْفَعُ إِبْهَامَيْهِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْه (ابو داؤد)
“রাসূলুল­াহ্ ﷺ (তাকবীর বলার সময়) তাঁর উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের নিæ ভাগ পর্যন্ত উঠাতেন।’’ -আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৮০২
নাসাঈর বর্ণনায় রয়েছে,(উপরোক্ত রাবী থেকে) 
عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ، ্রرَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى تَكَادَ إِبْهَامَاهُ تُحَاذِي شَحْمَةَ أُذُنَيْهِগ্ধ (نسائ)
“তিনি নবী ﷺ-কে দেখেছেন যে, তিনি সালাত শুরু করার প্রাক্কালে তাঁর দু’ হাত উপরে উঠাতেন, এমনকি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলদ্বয় তাঁর দু’ কানের লতি বরাবর থাকতো।’’ - নাসাঈ ঃ ৮৮২

হাত বাঁধা 
হাত বাঁধার নিয়ম হল বাম হাতের তালুু নাভীর উপর রেখে ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রাখবে এবং ডান হাতের কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরে নাভীর নিচে বাঁধবে। 
 ওয়াইল ইবন হুজর  বলেন,
رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ قَائِمًا فِي الصَّلاَةِ قَبَضَ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ
“আমি রাসূলুল­াহ্ ﷺ-কে দেখেছি যে, তিনি যখন সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন, তখন তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর আঁকড়ে ধরেছেন।’’ -নাসাঈ ঃ ৮৮৮
আল­াহর বাণী,
وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ﴿البقرة: ٢٣٨﴾
“আল­াহর সামনে বিনীত ভাবে দাঁড়াও।’’ -সূরা বাকারা ঃ ২৩৮ 
ইমাম ইসহাক ইবন রাহুয়াহ রাহ. (২৩৮ হি.) বলেছেন, 
تحت السرة أقوى في الحديث تحت السرة أقوى في الحديث وأقرب إلى التواضع
‘নাভীর নিচে হাত বাঁধা রেওয়ায়েতের বিচারে অধিক শক্তিশালী এবং ভক্তি ও বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী।’

তাবেয়ী আবু মিজলায লাহিক ইবন হুমাইদ রাহ. (মৃত্যু : ১০০ হি.-এর পর) সালাতে কোথায় হাত বাঁধবে- এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘ডান হাতের পাতা বাম হাতের পাতার পিঠের উপর নাভীর নিচে রাখবে।’ -মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবা, হাদীস ঃ ৩৯৬৩

১। ওয়াইল ইবন হুজর রা. থেকে বর্ণিত, ‘আমি নবী সা. -কে দেখেছি, তিনি সালাতে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভীর নীচে রেখেছেন।’
সনদসহ রেওয়ায়েতের আরবী পাঠ এই- 
حدثنا وكيع، عن موسى بن عمير، عن علقمة بن وائل بن حجر، عن أبيه قال : رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة.
-মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবা, হাদীস ঃ ৩৯৫১
২। আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সুন্নাহ হচ্ছে সালাতে হাতের পাতা হাতের পাতার উপর নাভীর নিচে রাখা। মুসনাদে আহমদ, হাদীস ঃ ৮৭৫; সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস ঃ ৭৫৬; মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবা, হাদীস ঃ ৩৯৬৬’
সনদসহ রেওয়ায়েতের পূর্ণ আরবী পাঠ এই-
حدثنا محمد بن محبوب، حدثنا حفص بن غياث، عن عبد الرحمن بن إسحاق، عن زياد بن زيد، عن أبي جحيفة أن عليا رضي الله عنه قال : السنة وضع الكف على الكف في الصلاة تحت السرة.
 قال المزي في تحفة الأشراف ، هذا الحديث في رواية ابي سعيد بن الأعرابي، وابن داسة وغير واحد عن أبي داود، ولم يذكره أبو القاسم. 
৩। আবূ হুরায়রা  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ‘সালাতে হাতের পাতাসমূহ দ্বারা হাতের পাতাসমূহ নাভীর নীতে ধরা হবে। ’
সনদসহ রেওয়ায়েতের আরবী পাঠ এই-
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الواحد بن زياد، عن عبد الرحمن بن إسحاق الكوفي، عن سيار أبي الحكم، عن أبي وائل قال : قال أبو هريرة رضي الله عنه : أخذ الأكف على الأكف في الصلاة تحت السرة. 
-সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস ঃ ৭৫৮, তাহকীক ঃ শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামাহ; তুহফাতুল আশরাফ, হাদীস ঃ ১৩৪৯৪
এই দুই রেওয়ায়েতের সনদে আবদুর রহমান ইবন ইসহাক নামক একজন রাবী আছেন। ইমাম তিরমিযী রাহ. তার সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসকে হাসান বলেছেন। দেখুন ঃ জামে তিরমিযী, হাদীস ঃ ৩৪৬২; আরো দেখুন ঃ হাদীস ঃ ২৫২৭

৪। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, 
ثلاث من أخلاق النبوة : تعجيل الأفظار، وتأخير السحور، ووضع اليد اليمنى على اليسرى في الصلاة تحت السرة.
‘তিনটি  বিষয় (নবী সা.-এর) নবী-স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত: ইফতারে বিলম্ব না করা, সাহরী শেষ সময়ে খাওয়া এবং সালাতে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভীর নিচে রাখা।’-আলমুহাল­া ৩/৩০; আলজাওহারুন নাকী ২/৩১ 
সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় চোখের দৃষ্টি সিজদার স্থানে থাকবে
 আনাস  থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন,
يا انس اجعل بصرك حيث تسجد (بيهقي)
“হে আনাস ! (সালাতে) তোমার দৃষ্টিকে সেখানেই নিবদ্ধ রাখবে যেখানে তুমি সিজদা দেবে।’’ -বায়হাকী 
সানা পাঠ। অত:পর সানা পড়বে,
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ افْتَتَحَ الصَّلَاةَ قَالَ: ্রسُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَগ্ধ (رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد)
“হে আল­াহ! তুমি পবিত্র, তুমি প্রশংসনীয়, তোমার নাম বুযুর্গীপূর্ণ। তোমর গৌরবই সর্বোচ্চ এবং তুমি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই।’’ - তিরমিজী; আবূ দাঊদ; মিশকাত ঃ ৮১৫
বিঃদ্রঃ হাদীসে অন্যান্য সানা রয়েছে সেগুলো মাঝে মাঝে পড়া উচিৎ।

তাআউউয্ (আউযু....) পাঠ করা
اعوذ بالله من الشيطان الرجيم
“আমি বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট হতে আল­াহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।” 
আল­াহর বাণী,
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ﴿النحل: ٩٨﴾ 
“তোমরা যখনই কুরআন পাঠ করতে শুরু করবে তখনই “বিতাড়িত শয়তান” হতে আল­াহর কাছে আশ্রয় চেয়ে নেবে।’’ -সূরা নহল ঃ ৯৮

তাসমিয়াহ্ (বিসমিল¬াহ্....) পাঠ করা
بسم الله الرحمن الرحيم
“আমি পরম করুণাময় ও কৃপানিধান আল­াহ্র নামে আরম্ভ করছি।” 
 ইবন আব্বাস  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كان النبي (ص) يفتتح صلوتَه ببسم الله الرحمن الرحيم
“নবী ﷺ তাঁর সালাত (ক্বিরাআত) ‘বিসমিল¬াহির রাহমানির রাহীম’ পাঠের মাধ্যমে শুরু করতেন।” -তিরমিযী ঃ ২৩৩

সূরা ফাতেহা পাঠ 
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রلَا صَلَاةَ لمن لم يقْرَأ بِفَاتِحَة الْكتابগ্ধ (مُتَّفق عَلَيْهِ ,مشكوة : ৮২২)
“উবাদা ইবন সামিত  থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল­াহ্ ﷺ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করবে না তাঁর সালাত হবে না।” -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত ঃ ৮২২ 
 আবূ সাঈদ  থেকে বর্ণিত,‘ রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
لا صلوة لمن لم يقرأ في كل ركعة (الحمد لله) وسورة في فريضة او غيرها
‘যে ব্যক্তি ফরয ও অন্য সব সালাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য কোন সূরা পড়েনি তার সালাত হয়নি।’’ -ইবন মাজাহ ঃ ৮৩৯, আবূ দাঊদ ঃ ৮১২
অতঃপর সূরায়ে ফাতেহা শেষ করে আমীন বলবে। আবূ হুরাইরা  থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
         اذا قال احدكم اَمِيْنَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه
‘(সালাতে) তোমাদের কেউ ‘আ-মীন’ বললে আসমানের ফেরেশতারাও ‘আ-মীন’ বলে থাকেন। দু’জনের একজনের ‘আ-মীন’ অন্য জনের আ-মীনের সাথে মিলিত হলে (অর্থাৎ একই সময় উচ্চারিত হলে) যে ‘আ-মীন’ বলবে তার পূর্ববর্তী সব (ছগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’’ -বুখারী হা ঃ নং ৭৩৭, মুসলিম হা ঃ নং-৮১৩; মিশকাত ঃ ৮২৫

তারপর আবার বিসমিল¬াহ পড়ে অন্য কোন সূরা পড়বে।
আল­াহর বাণী
فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ﴿المزمل: ٢٠﴾
“কুরআন থেকে যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ ততটুকু পাঠ কর। আর সালাত কায়েম কর।’’ -সূরা মুয্যাম্মিল ঃ ২০
আল­াহর বাণী,
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿الأعراف: ٢٠٤﴾
‘আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।’’ -সূরা আরাফ ঃ ২০৪

রুকু
তারপর আবার “আল­াহু আকবার” বলে রুকুতে যাবে।
আল­াহর বাণী,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ ﴿الحج: ٧٧﴾
“হে ঈমানদার লোকোরা ! তোমরা রুকু কর এবং সিজদা কর। আর তোমাদের প্রভুর ইবাদত কর।’’ -সূরা হজ্জ ঃ ৭৭
 আবদুল­াহ ইবন মাসউদ  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ، وَقِيَامٍ وَقُعُودٍ، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ. 
“রাসূলুল­াহ ﷺ (সালাতে) প্রত্যেক বার উঠা, নিচু হওয়া, দাঁড়ানো ও বসার সময় তাকবীর “আল­াহু আকবার” বলতেন। আবূ বকর এবং উমর  ও এরূপ আমল করতেন।’’ -তিরমিযী ঃ ২৫৩
আয়েশা  থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: ্রكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَكَعَ لَمْ يَشْخَصْ رَأْسَهُ، وَلَمْ يُصَوِّبْهُ، وَلَكِنْ بَيْنَ ذَلِكَগ্ধ
“রাসূলুল­াহ্ ﷺ যখন রুকু করতেন, তখন তাঁর মাথা উঁচুও করতেন না, নিচুও করতেন না, বরং সোজা রাখতেন।’’ -ইবন মাজাহ ঃ ৮৬৯, নাসাঈ ঃ ১০৪০

রুকুতে তিন, পাঁচ বা সাতবার নিম্মোক্ত তাসবীহ পড়বে। 
سبحان ربي العظيم
“আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।’’ -ইবন মাজাহ ঃ ৮৮৮, নাসাঈ ঃ ১০৪৭
রুকু অবস্থায় উভয় হাতের আঙ্গুল দ্বারা দু’ হাঁটু ভালভাবে ধরে রাখবে এবং আঙ্গুলগুলো খোলা রাখবে। হাতের বাজু এবং কনুই শরীরের সাথে মিলোবে না। পায়ের টাখনুদ্বয়ও পৃথক রাখবে। 
আয়েশা  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন,
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ্রيَرْكَعُ، فَيَضَعُ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، وَيُجَافِي بِعَضُدَيْهِগ্ধ
“রাসূলুল­াহ ﷺ রুকু করার সময় তাঁর দু’ হাত তাঁর দু’ হাঁটুর উপর রাখতেন এবং তাঁর বাহুদ্বয় তাঁর বগল থেকে পৃথক রাখতেন।’’ -ইবন মাজাহ ঃ ৮৭৪

রুকু থেকে দাঁড়ানো। 
এভাবে রুকু শেষ করে নিম্মোক্ত বাক্য বলে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। 
سمع الله لمن حمده
“প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল­াহ শুনতে পান।’’ -নাসাঈ ঃ ১০৬০
এরপর বলবে 
        ربنا لك الحمد حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه 
“হে আল­াহ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা। তোমার প্রশংসার মাঝে রয়েছে প্রচুর বরকত।’’ -বুখারী ঃ ৭৫৫, নাসাঈ ঃ ১০৬৩

সিজদা করা । 
অত:পর ‘আল­াহু আকবার’ বলে সিজদায় যাবে। সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে মাটিতে দু’ হাঁটু রাখবে তারপর দু’ হাতের পাতা মাটিতে রেখে হাতদ্বয়ের মাঝখানে মাথা রেখে নাক ও কপাল উভয়ই মাটিতে ভালভাবে লাগিয়ে রাখবে। 
ওয়াইল ইবন হুজর -এর বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেছেন,
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَجَدَ وَضَعَ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ وَإِذَا نَهَضَ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدارمي
“আমি রাসূলুল­াহ ﷺ-কে দেখেছি তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন মাটিতে হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখতেন এবং তিনি যখন (সিজদা থেকে) উঠতেন তখন হাঁটু তোলার আগে তাঁর দু’ হাত উঠাতেন।’’ -নাসাঈ ঃ ১০৯০, তিরমিযী ঃ ২৫৩, ইবন মাজাহ ঃ ৮৮২

সিজদায় অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো রাখার ধরণ। 
সিজদার মধ্যে হাতের আঙ্গুল কান বরাবর বাখবে আর পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বিবলার দিকে খাড়া করে দু’পা মিলিয়ে রাখবে। পেট রান থেকে এবং হাতের বাজু শরীরের পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখবে। মাটিতে হাত বিছিয়ে দিবে না। 
 আবূ হুমাইদ আসসাইদী  থেকে বর্ণিত, 
عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا سَجَدَ أَمْكَنَ أَنْفَهُ وَجَبْهَتَهُ مِنَ الأَرْضِ، وَنَحَّى يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ.
‘নবী ﷺ যখন সিজদা করতেন তখন নিজের নাক ও কপাল যমীনের সাথে লাগিয়ে রাখতেন, উভয় হাত পাঁজর থেকে পৃথক রাখতেন এবং হাতের তালু কাঁধ বরাবর রাখতেন।’’ -তিরমিযী ঃ ২৭০
 আনাস ইবন মালেক (রা ঃ) থেকে বর্ণিত, 
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রاعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الْكَلْبِগ্ধ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
“নবী ﷺ বলেছেন: তোমরা সিজদার মধ্যে অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ভারসাম্য বজায় রাখ ( সঠিকভাবে সিজদা কর) তোমাদের কেউ যেন নিজের বাহুদ্বয় কুকুরের মত বিছিয়ে না দেয়।’’ -বুখারী ঃ ৭৭৬, মুসলিম ঃ ৯৯৪; মিশকাত ঃ ৮৮৮

সিজদার তাসবীহ। 
সিজদায় তিন,পাঁচ বা সাতবার নিæোক্ত তাসবীহ পড়বে ঃ
سبحان ربي الاعلي
“আমি আমার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভুর পবিত্রতা প্রকাশ করছি।’’ -ইবন মাজাহ ঃ ৮৮৮, নাসাঈ ঃ ১০৪৭
 আবূ মাসউদ আনছারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
لا تجزئ صلوةُ لا يقيم الرجلُ فيها صُلبُه في الركوع والسجود
“যে ব্যক্তি রুকূ ও সিজদায় পিঠ স্থিরভাবে সোজা করে না তার সালাত শুদ্ধ হয় না।’’-তিরমিজী ঃ ২৫০; নাসাঈ ঃ ১০২৮

দু’ সিজদার মাঝে বসা। 
এভাবে এক সিজদা করার পর ‘আল­াহু আকবার’ বলে উঠে খুব ভালভাবে বসবে।
নবী ﷺ-এর স্ত্রী মায়মূনা  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,“
واذا قعد اطمأنَّ علي فخذه اليسري
“তিনি যখন (সিজদা থেকে উঠে) বসতেন, বাম উরুর উপর শান্তভাবে বসতেন।’’ -মুসলিম ঃ ১০০০, নাসাঈ ঃ ১১৪৮
দু’ সিজদার মাঝখানে বসে নিæোক্ত তাসবীহ পড়বে ঃ
اللهم اغفرلي وارحمني واهدني وعافني وارزقني
“হে আল­াহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমার উপর রহম কর, আমাকে পথ দেখাও, আমাকে স্বচ্ছলতা দান কর এবং আমাকে রিযিক দাও।’’ -আবূ দাঊদ, তিরমিজী, ইবন মাজাহ
তারপর আবার ‘আল­াহু আকবার’ বলে দ্বিতীয় সিজদা করবে এবং কমপক্ষে তিনবার সিজদার তাসবীহ পড়বে।

দ্বিতীয় রাক‘আত পড়ার পদ্ধতি 
এভাবে সিজদা শেষ করে ‘আল­াহু আকবার’ বলে দাঁড়িযে যাবে। দাঁড়ানোর সময় হাত দ্বারা মাটিতে ভর করবে না। তারপর বিসমিল¬াহ সহকারে সূরায়ে ফাতেহা পড়ে অন্য সূরা মিলাবে। তারপর প্রথম রাকাতের ন্যায় রুকু সিজদা করে দ্বিতীয় রাকাত পূরা করবে।

দ্বিতীয় রাকআতে বসা ও তাসবীহ পাঠ 
দ্বিতীয় রাক‘আত শেষ করে বাম পায়ের পাতা বিছিয়ে তার উপর বসবে এবং ডান পা খাড়া রেখে আঙ্গুলের মাথাগুলো ক্বিবলার দিকে রাখবে। এভাবে বসে আঙ্গুলগুলো মিলিতাবস্থায় দু’ হাতের পাতা উরুদেশের উপরে রাখবে। তারপর খুব মনোযাগের সাথে আত্তাহিয়্যাতু পড়বে,
্রالتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُগ্ধ
“যাবতীয় সম্মান, ইবাদত ও প্রশংসা একমাত্র আল­াহ তা’আলার জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল­াহর দয়া ও অনুগ্রহ বর্ষিত হোক। আমাদের উপর আল­াহর দয়া ও অনুগ্রহ বর্ষিত হোক এবং আল­াহর নেক্কার বান্দাগণের উপরও। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল­াহ ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ ﷺ আল­াহর বান্দা ও রাসূল।’’ -বুখারী ঃ ৭৮৫, মুসলিম ঃ ৭৯২

আবদুল­াহ ইবন উমর  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, 
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَعَدَ فِي التَّشَهُّدِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى وَعَقَدَ ثَلَاثًا وَخمسين وَأَشَارَ بالسبابة
“রাসূলুল­াহ ﷺ সালাতের মধ্যে ‘তাশাহহুদ’ পড়তে যখন বসতেন তখন তাঁর বাম হাত বাম হাঁটুর উপর এবং তাঁর ডান হাত ডান হাঁটুর উপর রাখতেন। তার (হাতের তালু ও আঙ্গুল সমূহ গুটিয়ে আরবী) তিপ্পান্ন সংখ্যার মত করে শাহাদত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।’’ -মুসলিম ঃ ১১৯৮; মিশকাত ঃ ৯০৬




তিন বা চার রাক‘আত বিশিষ্টি সালাতের অতিরিক্ত আমল
তিন বা চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতে, দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠকে শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে দরুদ শরীফ এবং দোআয়ে মাছুরা ব্যতীত তৃতীয় রাকআতের জন্য ‘আল­াহু আকবার’ বলে দাঁড়িয়ে যাবে এবং পূর্ব বর্ণিত নিয়মানুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত পূরা করবে। 
افعل ذالك في صلاتك كلها- (بخاري-৭৪৮, ترمذي-২৮৫)
তবে নফল, সুন্নাত বা ওয়াজিব নাাময হলে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহার সঙ্গে অন্য সূরা মিলাবে, কিন্তু ফরজ সালাত হলে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআতে সূরা মিলাবে না। এভাবে চতুর্থ রাকত শেষ করে পুনরায় বসবে এবং আবার আত্তাহিয়্যাতু পড়ে দরুদ শরীফ পড়বে।
্রقُولُوا اللَّهُمَّ صل عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حُمَيْدٌ مجيد اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّك حميد مجيدগ্ধ 
“তোমরা বল, হে আল­াহ! মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর বংশধরগণের উপর শান্তি বর্ষিত করুণ, যেরূপ ইব্রাহীম  ও তাঁর বংশধরগণের উপর বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল­াহ! মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর বংশধরগণের উপর বরকত দান করুণ, যেরূপ ইব্রাহীম  ও তাঁর বংশধরগণের প্রতি দান করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।’’ -মুসলিম ঃ ৮০৩, নাসাঈ ঃ ১২৯০

তারপর কুরআন ও হাসীসে উলে¬খিত দু‘আ পড়বে। নিæোক্ত দু‘আও পড়া যায় ঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُورُ الرَّحِيمُ "
“হে আল­াহ! আমি আমার নফসের উপর অনেক জুলুম করেছি: তুমি ছাড়া পাপ মার্জনাকারী কেউ নেই। অতএব, হে আল­াহ ! অনুগ্রহপূর্বক আমার পাপ ক্ষমা কর এবং আামার উপর দয়া কর। নিশ্চয় তুমি দয়াময় ও পাপ ক্ষমাকাারী।’’ -বুখারী ঃ ৭৮৭
শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদের পর দরুদ পড়া সুন্নাত এবং দোআয়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।

সালাম ফেরানো ।
তারপর         
السلام عليكم ورحمة الله
“তোমাদের উপর আল­াহর শান্তি বর্ষিত হোক” বলে প্রথমে ডান দিকে অতঃপর বাম দিকে সালাম ফিরাবে। সা’দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস  থেকে বর্ণিত:
ان رسولَ الله كان يسلم عن يمينه وعن يساره-
“রাসূলুল­াহ ﷺ সালাত শেষ করার জন্য তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরাতেন।’’ -নাসাঈ ঃ ১৩১৭

সালাম ফিরানোর সময় একাকী সালাত আদায়কারী মনে মনে ফেরেশতাদেরকে সালাম করার নিয়ত করবে এবং কাধের উপর দৃষ্টি রাখবে। 

আলী  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘ রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন, 
مفتاح الصلوة الطهورتحريمها التكبير وتحليلها التسليم-
‘পবিত্রতা সালাতের চাবি,’ তাকবীর তাহরীমা’ সালাতের বাইরে সব  বিষয়কে হারামকারী, আর সালাতের বাইরের  বিষয়কে হালালকারী হল ‘সালাম’।” -আবূ দাঊদ ঃ ৬১৮

অতঃপর রাসূলুল­াহ্ ﷺ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন দু‘আ একাকী পড়বে যেমনটি রাসূলুল­াহ্ ﷺ, সাহাবা  ও তাবেঈগণ করেছেন।

ফযল ইবন আব্বাস  বলেন, রাসূলুল­াহ ﷺ বলেছেন,
عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রالصَّلَاةُ مَثْنَى مثنى تشهد فِي كل رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشُّعٌ وَتَضَرُّعٌ وَتَمَسْكُنٌ ثُمَّ تُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُول ك تَرْفَعُهُمَا إِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلًا بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَاগ্ধ . وَفِي رِوَايَةٍ: ্রفَهُوَ خداجগ্ধ(رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ ,مشكوة : ৮০৫) 
“(নফল) সালাত দু’ দু’ রাকা’ত এবং প্রত্যেক দু’ রাকাতেই তাশাহুদ এবং ভয়, বিনয় ও দীনতার ভাব থাকা উচিত। অতঃপর তুমি তোমার দু’ হাত উঠাবে।’’ (বর্ণনাকারী) ফযল বলেন, (অর্থাৎ) তুমি তোমার দু’ হাত তোমার প্রভুর নিকট (দু’আর জন্য) উঠাবে হাতের বুকের দিককে তোমার চেহারার দিকে করবে এবং বলবে, হে প্রভু! হে প্রভু! (অর্থাৎ বার বার আহবান করবে) আর যে এরূপ করবে না তার সালাত এরূপ এরূপ। অপর বর্ণনায় আছে তার সালাত অসম্পূর্ণ।’’ -তিরমিযী; মিশকাত ঃ ৮০৫

পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর তাসবীহ। 
প্রত্যেক সালাতান্তে অঙ্গুলীতে গণনা করে এ তাসবীহ সমূহ পাঠ করবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَحَمَدَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَكَبَّرَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ فَتِلْكَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ (رَوَاهُ مُسلم)

১। ৩৩ বার সুবহানাল¬াহ্।
২। ৩৩ বার আলহামদুলিল­াহ। 
৩। ৩৩ বার আল­াহু আকবার।
অতঃপর বলবে
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
এভাবে মোট ১০০ পূরণ করলে তার জীবনের সকল (ছগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। যদিও তা সাগরের ফেনারাশী পরিমাণ হয়।’’ -মুসলিম; মিশকাত ঃ ৯৬৭
উপসংহার 

লেখাটি ডাউনলোড করে সংগ্রহে রাখতে
এখানে ক্লিক করুন




আরবী খুতবা



الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ، وَنَسْتَعِينُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا، وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، أَمَّا بَعْدُ / فَيَا اَيُّهَا الُمُسْتَمِعُوْنَ الْكِرَامُ ! نُقَدِّمُ اِلَيْكُمْ بِمَوْضُوْعٍ "بيان كيفية الصلوة مفصلا"

قَالَ اللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى فِيْ سُوْرَةِ البقرة بهذا الشان " فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ"

وَقَالَ اللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى فِيْ سُوْرَةِ الأعراف "وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ"

وَقَالَ اللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى فِيْ سُوْرَةِ الحج "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ"

اَيُّهَا الْاِخْوَةُ فىالْاِسْلَا م! نَذْكُرُ لَكُمُ الْاَحَادِيْثَ النَّبَوِيَّةَ بِهَذَا الْمَوْضُوْعِ كَمَا بَيَّنَ الْاِمَامُ النسائ فِيْ كِتَابِهِ "عن ابي عبيدة (رض) قال قال رسول الله (ص) خَاَلَف السنةَ ولَو رَاوَحَ بينهما كان افضلُ"

وبَيَّنَ الامام ابو داؤد فِيْ كِتَابِهِ "عن عبد الجبار بن وائل عن ابيه (رض) قال رأيت رسول الله (ص) يرفع ابهاميه في الصلوة الي شحمة اذنيه"

وبَيَّنَ الْاِمَامُ الْبُخَارِيُّ وَالْمُسْلِمُ فِيْ كِتَابِهِمَا عن ابي هريرة (رض) قال قال رسول الله (ص) اذا قال احدكم اَمِيْنَ وقالت الملائكة في السماء اَمِيْنَ فوافقت احدهما الاخري غفر له ما تقدم من ذمبه"

وبَيَّنَ الامام الترمذي فِيْ كِتَابِهِ عن وائل بن حجر (رض) قال رأيت رسول الله (ص) اذا سجد يضع ركبتيه قبل يديه واذا نهض رفع يديه قبل ركبتيه"

وبَيَّنَ الامام المسلم فِيْ كِتَابِهِ عن ابن عمر (رض) قال ان رسول الله كان اذا قعد في التشهد وضع يده اليسري علي ركبته اليسري ووضع يده اليمني علي ركبته اليمني وعقد ثلاثةً وخمسين واشار بالسبابة"

وبَيَّنَ الامام ابو داؤد فِيْ كِتَابِهِ عن علي (رض) قال قال رسول الله (ص) مفتاح الصلوة الطهورتحريمها التكبير وتحليلها التسليم"

اَللّهُمَّ وَفِّقْنَا لِاَدَاءِ الْاَعْمَاْلِ الَّتِيْ بَيَّنَّا آنِفًا فِي اللُّغَةِ الْقَوْمِيَّةِ وَاَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ- وأَسْأَلُ اللَّهَ رَبَّنَا أَنْ يَجْعَلَنَا مِمَّنْ يُطِيعُهُ وَيُطِيعُ رَسُولَهُ وَيَتَّبِعُ رِضْوَانَهُ وَيَجْتَنِبُ سَخَطَهُ، فَإِنَّمَا نَحْنُ بِهِ وَلَهُ-اَمِيْنَ 

اَقُوْلُ قَوْلِيْ هَذَاْ وَاسْتَغْفِرُ اللهَ لِيْ وَلَكُمْ وَلِكَافَّةِ الْمُسْلِمِيْنَ مِنْ كُلِّ الذُّنُوْبِ وَالْخَطِيْئَاتِ يَا رَبَّ الْعَالَمِيْنَ! فَاسْتَغْفِرُوْهُ وَتُوْبُوْا اِلَيْهِ - اِنَّهُ هُوَ التَّوَابُ الرَّحِيْمُগ্ধ

No comments:

Post a Comment