Monday, April 5, 2021

সিয়ামের (রোজার) গুরুত্ব ও ফজিলত (১ম পর্ব)

اَلْـحَـمْـدُ لِـلّٰـهِ رَبِّ الْـعَـالَـمِـيْـنَ - وَالْـعَـاقِـبَـةُ لِـلْـمُـتَّـقِـيْـنَ وَالـصَّـلَاةُ وَالـسَّـلَامُ عَـلٰـي رَسُـوْلِـهِ الْـكَـرِيْـمِ - وَعَـلٰـي اٰلِـهِ وَاَصْـحَـابِـهِ اَجـْـمَـعِـيْـنَ

اَمَّـا بَـعْـدُ - فَـيَـا اَيُّـهَـا الْـمُـسْـلِـمُـوْنَ الْـكِـرَامُ ! اِنْـشَـاءَ الـلّٰـه - اَلْـيَـوْمَ اِنِّـيْ اُرِيْـدُ اَنْ اَخْـطُـبَ اَمَـامَـكُمْ حَـوْلَ مَــادَّةِ  اهمية الصيام وفضائله

১। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্য। আর আল্লাহ্ভীরুদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম। দরুদ ও সালাম প্রিয় নবী (সাঃ) ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সমস্ত সাহাবায়ে কিরামের প্রতি। 

অতঃপর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন! হে উপস্থিত সম্মানিত মুসল্লিগণ! আল্লাহ্ চান তো আজ আমি আপনাদের সামনে “সিয়ামের গুরুত্ব ও ফজিলত (১ম পর্ব)” সম্পর্কে খুৎবা (বক্তৃতা) প্রদান করবো।


ايها الناس! ان هذا الشهرَ قد فرض الله علي المؤمنين والمسلمين فيه الصيام وسنَّ رسول الله (صلعم) لهمُ القيامَ فقَالَ اللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى فِيْ سُوْرَةِ  البقرة بهذا الشان "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ"

২। আল্লাহ্ তা‘আলা মুমিন মুসলমানদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রমজানের সালাতুুল কিয়ামকে সুন্নাত করেছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী (তাক্বওয়া) অর্জন করতে পার।’ (সূরা রাকারাঃ ১৮৩)

خطبات رسول الله (صلعم) في اهمية الصيام وفضائله

عَن سلمَان قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ شَعْبَانَ فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ عَظِيمٌ مُبَارَكٌ شَهْرٌ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مَنْ أَلْفِ شهر جعل الله تَعَالَى صِيَامَهُ فَرِيضَةً وَقِيَامَ لَيْلِهِ تَطَوُّعًا 

সিয়ামের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর ভাষণ

৩। সালমান ফারসী (রাঃ) বলেন, ‘শা’বান মাসের শেষ দিকে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাদের সম্বোধন করে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, ‘হে মানবমন্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করছে একটি মহান বরকতপূর্ণ মাস। এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ মাসে রোযা রাখা আল্লাহ তা’আলা ফরয করেছেন এবং রাতের ইবাদতকে নফল হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন।


مَنْ تَقَرَّبَ فِيهِ بخصلة من الْخَيْرِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ وَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فِيهِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ وَهُوَ شَهْرُ الصَّبْرِ وَالصَّبْر ثَوَابه الْجنَّة وَشهر الْمُوَاسَاة وَشهر يزْدَاد فِيهِ رِزْقُ الْمُؤْمِنِ مَنْ فَطَّرَ فِيهِ صَائِمًا كَانَ لَهُ مَغْفِرَةً لِذُنُوبِهِ وَعِتْقَ رَقَبَتِهِ مِنَ النَّارِ 

৪। যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি সুন্নাত বা নফল কাজ করল সে ঐ ব্যক্তির সমান; যে অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করল সে ঐ ব্যক্তির সমান; যে অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। ইহা সবরের মাস, আর সবরের প্রতিদান হল জান্নাত। ইহা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটি সেই মাস যাতে মুমিনের রিযিক বৃদ্ধি করা হয়। যে ব্যক্তি এই মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা ঐ ব্যক্তির জন্য গুনাহসমূহের ক্ষমা এবং জাহান্নামে আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে।


وَكَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَجْرِهِ شَيْءٌগ্ধ قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيْسَ كلنا يجد مَا نُفَطِّرُ بِهِ الصَّائِمَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রيُعْطِي اللَّهُ هَذَا الثَّوَابَ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا عَلَى مَذْقَةِ لَبَنٍ أَوْ تَمْرَةٍ أَوْ شَرْبَةٍ مِنْ مَاءٍ

৫। এছাড়া তার সওয়াব হবে সেই (আসল) রোজাদার ব্যক্তির সমান অথচ রোজাদারের সওয়াব কিছুমাত্র কম করা হবে না। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য রাখে না? রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা এই সওয়াব সে ব্যক্তিকেও দান করবেন যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে এক চুমুক দুধ অথবা একটি খেজুর অথবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করাবে।


وَمَنْ أَشْبَعَ صَائِمًا سَقَاهُ اللَّهُ مِنْ حَوْضِي شَرْبَةً لَا يَظْمَأُ حَتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ وَهُوَ شَهْرٌ أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ وَمَنْ خَفَّفَ عَنْ مَمْلُوكِهِ فِيهِ غَفَرَ الله لَهُ وَأعْتقهُ من النَّارগ্ধ (رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ)

৬। আর যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে তৃপ্তির সাথে খাওয়াবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে আমার হাউজ (কাওসার) থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে জান্নাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না। এটি এমন মাস যার প্রথমাংশ রহমত, মধ্যাংশ মাগফিরাত আর শেষাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্তির। আর যে ব্যক্তি এ মাসে নিজের অধীনদের (দাস-দাসীদের) প্রতি কার্যভার লাঘব করবে; আল্লাহ তা’আলা তাকে মাফ করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন।’ (মিশকাতঃ ১৯৬৫; বাইহাকীঃ ৩৩৩৬)


وهو شهر الموسم لاكتساب الثوابِ والتخلُّص عن المأثم فعلينا الاستعداد ذهنا لاستقبال شهر رمضان وادآء وظآئفه وكان النبي (صلعم) يستعدُّ له قبل مجيئه في رجب وشعبان ثبت ذالك بقوله ”اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَগ্ধ (رَوَاهُ البيهقي) 

৭। রমজান মাস হলো মুসলমানদের সাওয়াব অর্জন ও পাপ হতে মুক্ত হওয়ার সিজন। আমাদের উচিত রমজানের যথাযথ হক আদায় করে সহৃদয়ে তাকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করা। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) রমজান আসার  আগে রজব ও শা’বান মাস থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। আর বলতেন ‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শা’বান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত পৌছে দিন।’ (বাইহাকীঃ ৩৫৩৪)


الا وان صيام شهرِ رمضان من اعظم شعائر الدين واركانه وان الله تعالي اودع فيه من الحكم والاحكام ما دلَّ به علي عظم شانه وعلوِّ مكانته وعظموا شهر رمضان وصيامه بعدم اظهار المعاصي والذنوب لان الله تعالي قال وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ ﴿الحج: ٣٢﴾

৮। নিশ্চয়ই রমজান মাস ধর্মীয় নিদর্শন সমূহের একটি। প্রকাশ্য গুনাহ ও সীমালংঘন থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রমজান মাসের সম্মান রক্ষা করুন। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলা ধর্মীয় নিদর্শনের প্রতি ভক্তি ও শ্রোদ্ধার আদেশ দিয়ে বলেন, ‘ধর্মীয় নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা অন্তরে খোদাভীতি থাকার পরিচয়।’ (সূরা হজ্জঃ ৩২)


فيا عباد الله ! تعالوا الي ان نزين اعمالنا باداء الصيام وصلوة التراويح وننور بيوتنا بتلاوة القران الكريم وَنُـحَـمِّـدُ رَبَّـنَـا علي استكمال صيامنا ونقول من صميم قلوبنا " اللهم تقبل صيامنا وصلاتنا وقيامنا يا ارحم الراحمين –

৯। ওহে আল্লাহ্র বান্দাগণ! আসুন আমরা সিয়াম এবং সালাতের দ্বারা আমাদের আমলকে সুশোভিত করি। আর কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমাদের ঘর-বাড়িকে আলোকিত করি। সিয়াম পূর্ণ করতে আল্লাহ্র প্রশংসা ও প্রার্থনা করি। আর স্বহৃদয়ে বলি, হে দয়াময় আল্লাহ্! আপনি আমাদের সিয়াম, সালাতসহ যাবতীয় নেক আমলসমূহ কবুল করুন।



No comments:

Post a Comment