اَلْـحَـمْـدُ
لِـلّٰـهِ رَبِّ الْـعَـالَـمِـيْـنَ - وَالْـعَـاقِـبَـةُ لِـلْـمُـتَّـقِـيْـنَ
وَالـصَّـلَاةُ وَالـسَّـلَامُ عَـلٰـي رَسُـوْلِـهِ الْـكَـرِيْـمِ - وَعَـلٰـي
اٰلِـهِ وَاَصْـحَـابِـهِ اَجـْـمَـعِـيْـنَ
اَمَّـا
بَـعْـدُ - فَـيَـا اَيُّـهَـا الْـمُـسْـلِـمُـوْنَ الْـكِـرَامُ ! اِنْـشَـاءَ
الـلّٰـه - اَلْـيَـوْمَ اِنِّـيْ اُرِيْـدُ اَنْ اَخْـطُـبَ اَمَـامَـكُمْ
حَـوْلَ مَــادَّةِ اهمية
صيامِ رمضانَ وفضائله
১। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্র জন্য। আর আল্লাহ্ভীরুদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম। দরুদ ও সালাম প্রিয় নবী (সাঃ) ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সমস্ত সাহাবায়ে কিরামের প্রতি।
অতঃপর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন! হে উপস্থিত সম্মানিত মুসল্লিগণ! আল্লাহ্ চান তো আজ আমি আপনাদের সামনে “সিয়ামের (রোজার) গুরুত্ব ও ফজিলত (২য় পর্ব)” সম্পর্কে খুৎবা (বক্তৃতা) প্রদান করবো।
ايها الناس! ان هذا الشهرَ قد فرض الله
علي المؤمنين والمسلمين فيه الصيام وسنَّ رسول الله (صلعم) لهمُ القيامَ فقَالَ اللهُ
سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى فِيْ سُوْرَةِ البقرة
بهذا الشان "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا
كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ"
২। আল্লাহ্ তা’আলা মুমিন মুসলমানদের উপর রমজানের রোজা ফরয করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রমজানের সালাতুুল কিয়ামকে সুন্নাত করেছেন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী (তাক্বওয়া) অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারাঃ ১৮৩)
ايها الاخوان !
يجيئ شهر رمضانَ المعظمُ وهو شهر رحمة وبركة وشهر مغفرة وشهر عتق من النار وشهر الصبر والمؤاساة وشهر التنافس في الاعمال
كما اخرج الطبرانـى عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى
اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَوْمًا وَحَضَرَ رَمَضَانُ: «أَتَاكُمْ رَمَضَانُ
شَهْرُ بَرَكَةٍ، فِيهِ خَيْرٌ يُغَشِّيكُمُ اللَّهُ [فِيهِ] ، فَتَنْزِلُ الرَّحْمَةَ،
وَتُحَطُّ الْخَطَايَا، وَيُسْتَجَابُ فِيهِ الدُّعَاءُ، فَيَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى
تَنَافُسِكُمْ، وَيُبَاهِي بِكُمْ مَلَائِكَتَهُ، فَأَرُوا اللَّهَ مِنْ أَنْفُسِكُمْ
خَيْرًا، فَإِنَّ الشَّقِيَّ مِنْ حُرِمَ فِيهِ رَحْمَةَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»
৩। পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। এটি রহমত ও বরকতের মাস। এটি মাগফিরাত এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। এটি ধৈর্য্যরে মাস। এটি সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটি আমল সংশোধন করার মাস। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, ‘বরকতপূর্ণ রমজান মাস তোমাদের মাঝে উপস্থিত। যাতে রয়েছে কল্যান যা আল্লাহ্ তোমাদের দান করছেন। সেথায় অবতীর্ন হয় রহমত, ক্ষমা করা হয় গুনাহ, কবুল করা হয় দু’আ। আল্লাহ্ তোমাদের অন্তরের দিকে লক্ষ্য রাখেন। তোমাদের ব্যাপারে ফিরিশতাদের নিকট গর্ব করেন। আল্লাহর যাবতীয় রহমত থেকে যে বঞ্চিত সে বড়ই হতভাগ্য।’ (তাবারানীঃ ২২৩৮)
اخرج
الامام احمد والنسائي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ
اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ
فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ
فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ لِلَّهِ فِيهِ
لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ» .
৪। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের নিকট রমজান উপস্থিত হয়েছে, যা একটি বরকতময় মাস। তোমাদের উপর আল্লাহ্ তা‘লা অত্র মাসের সওম ফরয করেছেন। এ মাসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের গলায় বেড়ী পরানো হয়। এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।’ (নাসাঈঃ ২১০৬; মিশকাতঃ ১৯৬২)
وَقَالَ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ
وَتَعَالَى فَرَضَ صِيَامَ رَمَضَانَ عَلَيْكُمْ وَسَنَنْتُ لَكُمْ قِيَامَهُ،
فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ
وَلَدَتْهُ أُمُّهُ» (نسائ)
৫। রাসূলুলাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘আলাহ্ তা’আলা তোমাদের উপর রমজান মাসের সাওম ফরয করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য রমজানের সালাতুুল কিয়ামকে (তারাবীহর সালাতকে) সুন্নাত করেছি। অতএব যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় সাওম পালন করে এবং সালাতুল কিয়াম (তারাবীহর সালাত আদায়) করে, সে স্বীয় গুনাহসমূহ থেকে ঐ দিনের মত পবিত্র হয় যে দিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।’ (নাসাঈঃ ২২১০)
وَبَيَّنَ
الْاِمَامُ الْبُخَارِيُّ وَالْمُسْلِمُ فِيْ كِتَابِهِمَا عن ابي هريرة (رض) قال قال رسول الله (ص) كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ
يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى
سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللَّهُ
عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي
وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ
وَطَعَامَهُ
مِنْ أَجْلِي"
৬। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি আমল দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, কিন্তু সাওম ব্যতীত। কেননা সাওম আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান দিব। কারণ সে আমার জন্য তার জৈবিক চাহিদা ও পানাহার পরিহার করেছে।’ (বুখারীঃ ১৯০৪; মুসলিমঃ ২৫৭৪)
وخرَّج الامام احمد أُعْطِيَتْ أُمَّتِي خَمْسَ خِصَالٍ فِي رَمَضَانَ لَمْ تُعْطَهَا أُمَّةٌ قَبْلَهُمْ- خُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ- وَتَسْتَغْفِرُ لَهُمْ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُفْطِرُوا- وَيُزَيِّنُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلَّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ ثُمَّ يَقُولُ يُوشِكُ عِبَادِي الصَّالِحُونَ أَنْ يُلْقُوا عَنْهُمْ الْمَئُونَةَ وَالْأَذَى وَيَصِيرُوا إِلَيْكِ- وَيُصَفَّدُ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ فَلَا يَخْلُصُوا إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُونَ إِلَيْهِ فِي غَيْرِهِ- وَيُغْفَرُ لَهُمْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ
রোজাদারকে বিশেষ পাঁচটি জিনিস প্রদান করা হবে।
৭। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতকে রমজান বিষয়ক পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী উম্মতকে দান করা হয়নি। (১) রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষাও উত্তম। (২) ইফতার না করা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ রোজাদারের জন্য মাগফিরাত কামনা করে। (৩) আল্লাহ্ তা’আলা প্রতিদিন রোজাদারের জন্য তাঁর জান্নাত সুসজ্জিত করেন। (৪) এ মাসে শয়তানদেরকে বেঁধে রাখা হয়। (৫) আর শেষ রাত্রে মাগফিরাত দান করা হয়।’ (মুসনাদে আহমদঃ ৭৯১৭)
قال
الصلحآء وههنا ستة اداب لصحة الصيام : ان يحفظ الصآئم عن القبآئح اجفانه وعن
الملاهي اسماعه وعن الكذب والغيبة واللغو وغيرها لسانه وعن المعاصي اعضائه ويأكل
عند الافطار لا بشبع بطنه وان كان من الحلال اكله ويكون بين الخوف والرجآء بصيامه-
৮। ইসলামী বিশেষজ্ঞগণ পূর্ণাঙ্গ সহীহ সিয়াম হওয়ার জন্য ছয়টি শর্তের কথা বলেছেন। (১) চক্ষুর হিফাজত করা। (২) জবানের হিফাজত করা। (৩) কানের হিফাজত করা। অর্থাৎ গান শোনা, মানুষের গীবত-শেকায়েত, কুটনামী এবং চোগলখোরী ইত্যাদি করা ও শোনা থেকে বিরত থাকা। (৪) অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা যে সব গোনাহ্ হতে পারে, তার থেকে বিরত রাখা। (৫) অতি ভোজন না করা। (৬) আল্লাহ্র রহমতের আশা ও আযাবের ভয় নিয়ে দিন অতিবাহিত করা।
فيا
عباد الله ! تعالوا الي ان نزين اعمالنا باداء الصيام وصلوةِ التراويح وننوِّرَ بيوتَنا
بتلاوةِ القران الكريمِ وَنُـحَـمِّـدَ رَبَّـنَـا علي استكمالِ صيامِنا ونقول من
صميْمِ قلوبِنا " اللهم تقبل صيامَنا وصلاتنا وقيامنا يا ارحمَ الراحمين –
৯। ওহে আল্লাহ্র বান্দাগণ! আসুন আমরা সিয়াম এবং সালাতের দ্বারা আমাদের আমলকে সুশোভিত করি। আর কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমাদের ঘর-বাড়িকে আলোকিত করি। সিয়াম পূর্ণ করতে আল্লাহ্র প্রশংসা ও প্রার্থনা করি। আর স্বহৃদয়ে বলি, হে দয়াময় আল্লাহ্ আপনি আমাদের সিয়াম, সালাতসহ যাবতীয় আমল কবুল করুন।



No comments:
Post a Comment