Friday, April 30, 2021

আজ ১৮তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

 


আজ ১৮তম তারাবীঃ খতমে তারাবির নামাজে পঠিতব্য আয়াতের সারসংক্ষেপ বিষয়বস্তু

আজ ১৮তম তারাবিতে সূরা আনকাবুতের ৫ম রুকু থেকে ৭ম রুকু (আয়াত ৪৫-৬৯) পর্যন্ত, সূরা রুমের ১ম রুকু থেকে ৬ষ্ঠ রুকু (আয়াত ১-৬০) পর্যন্ত, সূরা লোকমানের ১ম রুকু থেকে ৪র্থ রুকু (আয়াত ১-৩৪) পর্যন্ত, সূরা সেজদার ১ম রুকু থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৩০) পর্যন্ত এবং সূরা আহজাবের ১ম রুকু থেকে ৪র্থ রুকু (আয়াত ১-৩০) পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২১তম পারা।

“মিম্বারের আহবান” পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু, আয়াত ও অর্থ  তুলে ধরা হলো,

 

বিস্তারিত দেখুন- www.membarerdhoni.xyz

 

১৮তম তারাবীহ

সূরা আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াত হতে সূরা আহজাবের ৩০ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২১তম পারা।)

সূরা আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াত হতে ৬৯ মোট ২৪ টি আয়াত

সূরা রুমের ১ নং আয়াত হতে ৬০ মোট ৬০ টি আয়াত

সূরা লোকমানের ১ নং আয়াত হতে ৩৪ মোট ৩৪ টি আয়াত

সূরা সেজদার ১ নং আয়াত হতে ৩০ মোট ৩০ টি আয়াত

সূরা আহজাবের ১ নং আয়াত হতে ৩০ মোট ৩০ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ২৪+৬০+৩৪+৩০+৩০ =১৭৮

 

করনীয়, বর্জনীয় এবং শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ

সূরা আনকাবুত : (আয়াত ৪৫-৬৯) :
সূরা রোম : (আয়াত ১-৬০) :
সূরা লোকমান : (আয়াত ১-৩৪) :
সূরা সেজদা : (আয়াত ১-৩০) :
সূরা আহজাব : (আয়াত ১-৩০) :

x

৫ম ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৪৫-৬৩) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর উম্মত অর্থা আমাদের প্রতি কিছু উপদেশ বাণী উচ্চারণ করেছেন। নিষ্ঠাবান ইহুদি ও খৃস্টানদের সঙ্গে আমাদের আচরণ কেমন হবে, কাফেরদের সঙ্গে কীভাবে সমাজে চলাফেরা করবো সে সম্পর্কেও বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআন সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।  

এমন নামাজ পড়তে হবে যা অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে।

اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ

আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। [ সূরা আনকাবুত ২৯:৪৫ ]

৭ম রুকুতে (আয়াত ৬৪-৬৯) বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষেপে কিছু কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন কাফেরদের অন্তর জাগ্রত হয়।

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) মুসলমানদের রোম বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। বলা হয়েছে মুসলমানরা অচিরেই রোম জয় করবে। রোম ছিলো সে যুগের সেরা সভ্যতা। অল্প কয়েক বছর পরেই মুসলমানরা রোম শহর জয় করে নেন।

২য় রুকুতে (আয়াত ১১-১৯) বলা হয়েছে, আল্লাহ প্রাণের সূচনা করেছেন। তিনিই আবার এর পুনরুত্থান করবেন। সেদিন বিশ্বাসী-অবিশ্বাসীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের কর্মফল দেওয়া হবে। 

আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে হবে সকাল ও সন্ধ্যায়

فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ

অতএব, তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা স্মরণ কর সন্ধ্যায় ও সকালে, [ সূরা রূম ৩০:১৭ ]

وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ

এবং অপরাহে? ও মধ্যাহে?। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে, তাঁরই প্রসংসা। [ সূরা রূম ৩০:১৮ ]

৩য় ও ৪র্থ রুকুতে (২০-৪০) আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উপমা দিচ্ছেন, বান্দা যেন এসব চিন্তা-গবেষণা করে আল্লাহমুখী হতে পারে। কিন্তু খুব কম মানুষই আল্লাহর দিকে ফিরে আসে; বরং তারা খুবই অকৃতজ্ঞের মতো আচরণ করে থাকে। 

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পারিক মহব্বতকে আল্লাহর দান মনে করতে হবে। (এছাড়াও আল্লাহর আরো নিয়ামত ও নিদর্শন হলো নিম্মোক্ত)

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [ সূরা রূম ৩০:২১ ]

وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّلْعَالِمِينَ

তাঁর আর ও এক নিদর্শন হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [ সূরা রূম ৩০:২২ ]

وَمِنْ آيَاتِهِ مَنَامُكُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَاؤُكُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَسْمَعُونَ

তাঁর আরও নিদর্শনঃ রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অন্বেষণ। নিশ্চয় এতে মনোযোগী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [ সূরা রূম ৩০:২৩ ]

وَمِنْ آيَاتِهِ يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَاء مَاء فَيُحْيِي بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ

তাঁর আরও নিদর্শনঃ তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যু, ভয় ও ভরসার জন্যে এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্দ্বারা ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [ সূরা রূম ৩০:২৪ ]

নিয়ামত পেয়ে উফুল্ল ও দুর্দশায় পড়লে হতাশ হওয়া যাবে না।

وَإِذَا أَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً فَرِحُوا بِهَا وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ

আর যখন আমি মানুষকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তারা তাতে আনন্দিত হয় এবং তাদের কৃতকর্মের ফলে যদি তাদেরকে কোন দুদর্শা পায়, তবে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। [ সূরা রূম ৩০:৩৬ ]

সুদের লেন-দেন বুদ্ধিমানের কাজ নয়

وَمَا آتَيْتُم مِّن رِّبًا لِّيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِندَ اللَّهِ وَمَا آتَيْتُم مِّن زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ

মানুষের ধন-সম্পদে তোমাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, এই আশায় তোমরা সুদে যা কিছু দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র অন্তরে যারা দিয়ে থাকে, অতএব, তারাই দ্বিগুণ লাভ করে। [ সূরা রূম ৩০:৩৯ ]

৫ম ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৪১-৬০) মানুষ নিজের কর্মের কারণেই নিজের বিপদ ডেকে আনে। তাই তাকে আরো সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। এ কথা বোঝানোর জন্য আরো কয়েক ধরনের উপমা দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ বলোা হয়েছে, এসব উপমা মানুষের বোঝার জন্য। তাই ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর পথে অটল থাকতে বলা হচ্ছে।

চিন্তা করতে হবে, আল্লাহ যেভাবে ভুমিকে জীবিত করেন তেমনি মৃতকেও জীবিত করবেন।

فَانظُرْ إِلَى آثَارِ رَحْمَتِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا إِنَّ ذَلِكَ لَمُحْيِي الْمَوْتَى وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। [ সূরা রূম ৩০:৫০ ]

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১১) কোরআনের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। যারা কোরআনের বিপরীতে অন্য কিছু গ্রহণ করে তাদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। 

মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এবং কুরআন থেকে দূরে রাখার জন্যে অবান্তর গল্প কাহিনী অশ্লীল গান-বাদ্যের প্রসার করা যাবে না।

مِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ

একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্ রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। [ সূরা লুকমান ৩১:৬ ]

২য় রুকুতে (আয়াত ১২-১৯) বিখ্যাত জ্ঞানী ব্যক্তি হজরত লোকমান হাকিম (রহ.) তার সন্তানকে যেসব মহামূল্যবান উপদেশ দিয়েছিলেন তা উম্মতে মুহাম্মদির জন্য তুলে দেয়া হয়েছে।

লোকমানের উপদেশ

وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ

যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বলোল, হে ব, আল্লাহর সঙ্গে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা মহা অন্যায়। [ সূরা লুকমান ৩১:১৩ ]

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ

আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। [ সূরা লুকমান ৩১:১৪ ]

وَإِن جَاهَدَاكَ عَلى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সঙ্গে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো। [ সূরা লুকমান ৩১:১৫ ]

يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِن تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُن فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ

হে ব, কোন বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি থাকে প্রস্তর গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ-গর্ভে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ গোপন ভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন। [ সূরা লুকমান ৩১:১৬ ]

يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

হে ব, নামাজ কায়েম কর, কাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ। [ সূরা লুকমান ৩১:১৭ ]

وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। [ সূরা লুকমান ৩১:১৮ ]

وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِير

পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলোম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর। [ সূরা লুকমান ৩১:১৯ ]

 

৩য় ও ৪র্থ রুকুতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে প্রশ্নছলে বিভিন্ন উপদেশ-উপমা দিয়েছেন। সর্বশেষ আল্লহতে সমর্পণ হওয়ার আহ্বান করে সূরার ইতি টানা হয়েছে।

সে দিনকে ভয় করতে হবে যেদিন পিতা-পুত্রের কিংবা পুত্র পিতার কোন কাজে আসবে না।

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَاخْشَوْا يَوْمًا لَّا يَجْزِي وَالِدٌ عَن وَلَدِهِ وَلَا مَوْلُودٌ هُوَ جَازٍ عَن وَالِدِهِ شَيْئًا إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلَا يَغُرَّنَّكُم بِاللَّهِ الْغَرُورُ

হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে। [ সূরা লুকমান ৩১:৩৩ ]

 

১ম রুকুতে (আয়াত ১-১১) আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্টিনৈপুণ্যের বর্ণনা দিয়েছেন।

২য় রুকুতে (আয়াত ১২-২২) বলা হয়েছে এত সুন্দর ও নিখুঁত সৃষ্টি বৈচিত্র্য দেখেও যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনবে না তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।

মৃত্যুর ফিরিশতা আসার আগেই নেক আমল করে প্রস্তুত থাকতে হবে।

قُلْ يَتَوَفَّاكُم مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ

বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। [ সূরা সাজদা ৩২:১১ ]

وَلَوْ تَرَى إِذِ الْمُجْرِمُونَ نَاكِسُو رُؤُوسِهِمْ عِندَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَسَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ

যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলোবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি। [ সূরা সাজদা ৩২:১২ ]

 

৩য় রুকুতে (আয়াত ২৩-৩০) বলা হয়েছে, কেন মানুষ তার মহান প্রভুর প্রতি ঈমান আনবে; কোন যুক্তির আলোকে সে নিজেকে মহান মাবুদের প্রতি সমর্পিত করবে।

সূরা আহজাব নাজিল হয়েছে মদিনায়। আয়াত সংখ্যা ৭৩ এবং রুকু ৯টি। আহজাব অর্থ বাহিনীসমূহ।

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৮) নবীজি (সা.)-কে বিশেষ কিছু বিষয় সম্পর্কে উপদেশ প্রদান করা হয়েছে।

২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ৯-২৯) মুমিন ও মুনাফিকদের চারিত্রবৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সর্বোত্তম আদর্শের  অধিকারী হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً

যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। [ সূরা আহযাব ৩৩:২১ ]

৪র্থ রুকুতে রাসূল (সা.) এর পারিবারিক জীবনের কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মুমিনদের জন্য এতে রয়েছে শেখার ও অনুসরণের অনেক কিছু। একজন মুমিনের ব্যক্তিজীবন থেকে পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনও হবে রাসূল (সা.) এর দেখানো পথে। আল্লাহ এতেই আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ রেখেছেন।

 

চলবে..........

 

 

আমি আবার বলছি

আজ ১৮তম তারাবীহ

সূরা আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াত হতে সূরা আহজাবের ৩০ নং আয়াত পর্যন্ত।

(পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২১তম পারা।)

সূরা আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াত হতে ৬৯ মোট ২৪ টি আয়াত

সূরা রুমের ১ নং আয়াত হতে ৬০ মোট ৬০ টি আয়াত

সূরা লোকমানের ১ নং আয়াত হতে ৩৪ মোট ৩৪ টি আয়াত

সূরা সেজদার ১ নং আয়াত হতে ৩০ মোট ৩০ টি আয়াত

সূরা আহজাবের ১ নং আয়াত হতে ৩০ মোট ৩০ টি আয়াত

সর্বমোট পঠিতব্য আয়াত ২৪+৬০+৩৪+৩০+৩০ =১৭৮

 

No comments:

Post a Comment