Saturday, October 3, 2020

জুমার খুতবা (৩৮) মাযহাব প্রসঙ্গে ইসলামী বিধান

জুমার খুতবা-৩৮
احكام الاسلام عن المذهب
মাযহাব প্রসঙ্গে ইসলামী বধিান
الحمد لله رب العالمين، الذي نزل القران لإخراج الناس  من الظلمات ال النور ، الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، الذي ترك فينا كتاب الله يعنى القرآن واسوة حسنة، لا يضل الناس حتى يتبعوا هذا الموضوعين واحد منهما ألقران والأخر الحديث، يحل جميع الاحكام الاسلام والقانون والمسائل بالقرآن والحديث، ولكن المشكلة لا يمكن لكل واحد من المجتمع أن يحل المسئلة من القرآن والحديث، فلذا يسئل ألى الآخرين، بحث الأئمة بمحاولة شامل لحل هذه المسائل الدينية، لم يبحثوا لثبوت ای مذهب ، بل اجتهدوا لاخراج مسائل الصحيحة ولعملها وتعليمها الناس ، ثم بعده ثابت متبعونهم باسم المذهب، هكذا نشا أربع مذاهب في المسلمين،
মাযহাব প্রসংগে ইসলামী বিধানঃ
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার জন্য। যিনি কোরআন নাযিল করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য। যিনি তার রাসুলকে হেদায়েত ও সত্যদ্বীন সহ প্রেরন করেছেন , দ্বীন ইসলামকে সকল ধর্ম বা মতবাদের উপর শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। যিনি আমাদের জন্য রেখেগেছেন আল্লাহর কিতাব তথা আল-কোরআন ও উত্তম আর্দশ। যতদিন মানুষ এই দুটি বিষয়কে অবলম্বন করে চলবে, ততদিন মানুষ পথভ্রষ্ট হবেনা। কারন ইসলামী জীবন ব্যবস্থা দুটি বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, যার একটি হল আল-কোরআন অপরটি সুন্নাহ। কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারাই সমস্ত আইন-কানুন, মাসয়ালা-মাসায়েল ইত্যাদির সমাধান করতে হয়। কিন্তু সমস্যা হল সমাজের প্রতিটি মানুষের পক্ষে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে মাসয়ালার সমাধান বের করা সম্ভব নয়। যে কারনে অন্য একজনকে জিজ্ঞেস করতে হয়। এই জিজ্ঞাসার সমাধানের জন্য ইমামগন বিভিন্ন মাসয়ালা নিয়ে সর্বাতœক চেষ্টা চালিয়ে গবেষণা করতে থাকেন। তারা কোন মাযহাব বানানাের উদ্দেশ্যে গবেষণা করেননি বরং তাঁরা গবেষণা করেছেন ছহীহ বিষয়টি জেনে আমল করার জন্য এবং অন্যদেরকেও তা জানানোর জন্য। পরবর্তীতে তাদের অনুসারীগণ এটি মাযহাব বা মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এভাবেই মুসলমানদের মধ্যে চারটি মাযহাব বা মতবাদের সৃষ্টি হয়।

تعريف المذهب:
نشأ المذهب من مصدر الذهاب معناه مكان الذهاب ، مأوى ، وملجأ بدون ذالك له معني كثيرا كما رأي،طريق، دين، أسوة، نظرية وغير ذالك، وفي الاصطلاح المذهب الذي نشأ في الاسلام بمختلف الاراء في القانون وفي الأحكام وفي المسئلة المختلفة يقال المذهب، حاول العلماء المتقدمين لان يحل المعقول عن الأمر المختلفة بالقران والحديث، ومنهم الذين كسبوا الشهرة سمي المذهب بأسمهم، مثلا باسم امام ابوحنيفة رحمه الله سمي المذهب الحنفي، و باسم امام الشافعي رحمه الله سمي المذهب الشافعي، و باسم امام مالك رحمه الله سمى المذهب مالكی، و باسم امام احمد ابن حنبل رحمه الله سمى المذهب الحنبلي، وكلهم ثابت على الحق ، فلذا عوام الناس أن يتبعوا احدهم يقومون على الحق،

মাযহাবের পরিচয় ঃ
আযযিহাবু মাসদার থেকে মাযহাব শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ হল যাওয়ার জায়গা বা আশ্রয়স্থল। এছাড়াও মাযহাবের আরো অনেকগুলো অর্থ রয়েছে যেমন-মত, পথ, ধর্ম, আদর্শ, মতবাদ, তরীকা ইত্যাদি। পরিভাষায়-ইসলামের বিভিন্ন আইন-কানুন, বিধিবিধান বা মাসয়ালা-মাসায়েলের মতেপার্থক্যের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ইসলাম ধর্মে যে মতবাদ তৈরী হয়েছে তাকে মাযহাব বলে। পূর্বযুগের আলেমগন বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে অনেক গবেষণা করে কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী যৌক্তিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের মধ্যে যারা খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাদের নামেই মাযহাবের নামকরন করা হয়েছে। যেমন- ইমাম আবু হানিফা (রঃ)-এর নামানুসারে হানাফী মাযহাব, ইমাম শাফেয়ী (রঃ)-এর নামানুসারে শাফেয়ী মাযহাব, ইমাম মালেক (রঃ)-এর নামানুসারে মালেকী মাযহাব ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ)-এর নামানুসারে হামলী মাযহাবের নামকরণ করা হয়েছে। এই চার ইমামের প্রত্যেকেই হকের উপর প্রতিষ্ঠিত, সে জন্য একজন সাধারন মানুষ চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাবের অনুসরন করলেই সে হকের উপর চলতে পারবে।

وجهة نظر/ نظرية القران عن المذهب:
ایها الحاضرون الكرم ! امر الله تعالى - یا ایها الذين آمنوا اطیعوا الله واطيعوا الرسول و اولی الامر منکم (نساء=-৫৯) ان الله عز وجل لم يرسل الحكم علينا مباشرا بل ارسل برسوله صلى الله عليه وسلم، فلذا ضروری علينا أن نتبع رسوله ، اطاعة الرسول هو اطاعة الله ، قال الله تعالى - من يطع الرسول فقد اطاع الله ومن تولى فما ارسلناك عليهم حفيظا (سورة النساء- ৮০) وقال تعالى ايضا في اية اخرى قل ان کنتم تحبون الله فاتبعوني يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم والله غفور الرحيم (ال عمران-৩১) ان وافق المذهب بالقران والحديث لا مانع أن يتبع هذا المذهب، كما قال الله سبحانه وتعالى – اتبعوا ما انزل اليكم من ربكم ولاتتبعوا من دونه اولیاء - قليلا ما تذكرون (سورة اعراف-৩) وقال تعالى في اية استری وان هذا صراطی مستقیما فاتبعوه ولا تتبعوا السبل فتفرق بكم عن سبيله ذالكم وصكم به لعلكم تتقون(سورة الأنعام-১৫৩)
মাযহাব প্রসংগে কোরআনের দৃষ্টিভঙ্গিঃ
সম্মানীত উপস্থিতি। আল্লাহর নির্দেশ হল-তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর তার রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা দায়িত্বশীল তাদেরও। (সূরা নিসা-৫৯)। মহান আল্লাহ সরাসরি আমাদের কাছে কোন নির্দেশ পাঠাননি,বরং পাঠিয়েছেন তাঁর রাসূলের মাধ্যমে। তাই আমাদেরকে তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা জরুরী। আর রাসূলের আনুগত্য করা মানে আল্লাহর আনুগত্য করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন- যে লোক রাসূলের আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল।আর যে বিমুখ হল তাদের জন্য আপনাকে প্রহরী নিযুক্ত করে পাঠাইনি। (সূরা নিসা-৮০)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন -হে নবী তাদের বলুল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভাল বাস, তাহলে আমার অনুসরন কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন । (সূরা আলে ইমরান-৩১) মাযহাব যদি কোরআন ও হাদীসের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তাহলে সে মাযহাবের অনুসরন করতে কোন বাধা নেই। আল্লাহ বলেন, তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তার অনুসরন কর এবং তাকে ছাড়া অন্য অভিবাবকের অনুসরন করোনা। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহন কর। (সূরা আরাফ-৩)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন-আর এটিতো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরন কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরন করোনা, তাহলে তা তোমাদেরকে তার পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। (সূরা আনআম-১৫৩)।

وجهة نظر/ نظرية الحديث عن المذهب:
يتبع المذهب حتى يثبت المذهب على القران والحديث ، أن خالف المذهب او رأي العلماء بالقران والحديث ليس فيه اتباع، يجب علينا أن ننظر الى القران والحديث في حل كل امر، قال النبي صلى الله عليه وسلم- تركت فيكم امرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما كتاب الله وسنة نبيه-(رواه الموطا حسنا) روی في الحديث جاء ملائكة الى النبي صلى الله عليه و سلم وقال من اطاع محمدا صلى الله عليه وسلم فقد اطاع الله ومن عصى محمدا صلى الله عليه وسلم فقد عصى الله- و محمد صلى الله عليه وسلم فرق بين الناس، (رواه البخاری)

মাযহাব প্রসংগে হাদীসের দৃষ্টিভঙ্গিঃ
মাযহাব যতক্ষণ পর্যন্ত কোরআন ও হাদীসের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, ততক্ষণই মাযহাবের অনুসরন। কোন ভাবেই কোরআন ও হাদীসের বিপরীতে কোন মাযহাব বা আলিমের মতকে প্রাধান্য দেয়া যাবেনা। সকল ক্ষেত্রেই আমাদেরকে লক্ষ রাখতে হবে কোরআন ও হাদীসের আলোকে সমাধানের দিকে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন-আমি তোমাদের নিকট দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ তোমরা বিভ্রান্ত হবেনা। (মুয়াত্তা-হাসান সূত্রে) একবার রাসূল (সাঃ)-এর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন- যে ব্যাক্তি মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর আনুগত্য করল,সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে ব্যাক্তি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর অবাধ্য হল সে আল্লাহর অবাধ্য হল। আর মুহাম্মাদ (সাঃ) হলেন মানুষের মধ্যে পার্থক্যকারী অর্থাৎ-তাকে মানলে মুসলিম হওয়া যাবে অন্যথায় নয়। (বোখারী শরীফ-কোরআন ও সুন্নাহ 
আঁকড়ে ধরা অধ্যায়)।

هل اتباع المذهب ضروری ام لا؟
الذي ماهر في العلوم القران والحديث ويستطيع ان يحل المسئلة من القران والحديث ليس له حاجة ان اتباع المذهب ، ومن جانب اخرى الذي ليس له علم القران والحديث ولا يستطيع حل المسئلة ببحث القران والحديث ای ناس عادی واجب عليه ان يتبع المذهب، لا ينبغي لأحد أن يعمل على المسئلة بمخالف القران والحديث باسم المذهب ، واتهام المذهب او رأي العلماء خلف القران والحديث لا يقبل الى دين الاسلام ولا يقبل عند قلب سليم،

মাযহাব মানা জরুরী কিনা?
যিনি কোরআন ও হাদীসের উপর গভীর জ্ঞান রাখেন বিভিন্ন মাসয়ালার সমাধান কোরআন ও হাদীস পর্যালোচনা, গবেষণা করে বের করতে পারেন ,যিনি মুজতাহিদ তাঁর জন্য মাযহাব মানা জরুরী নয়। পক্ষান্তরে যিনি কোরআন ও হাদীসের উপর গভীর জ্ঞানের অধিকারী নন, কোরআন ও হাদীস গবেষণা করে মাসয়ালার সমাধান বের করতে অক্ষম, মোটকথা, সাধারণ মানুষ তার জন্য মাযহাব মানা জরুরী। জ্ঞাতব্য বিষয় এই যে, মাযহাবের দোহাই দিয়ে কোরআন ও সহীহ হাদীসের পরিপন্থী কোন মত বা মাসয়ালার উপর আমল করা যাবেনা। কোন অবস্থাতেই মাযহাবের দোহাই দিয়ে কোরআন ও সহীহ হাদীসের বিপরীতে কোন ব্যক্তি বা তার মতকে গুরুত্ব দেওয়া ইসলাম যেমন সমর্থন করেনা তেমনি কোন সুস্থ বিবেকও তা সমর্থন করতে পারেনা।

وفقنا الله تعالى أن نفهم خطبة اليوم وان نتبع به ذهب الصحيح بحسب القران والحديث (امین)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে আজকের খুতবা বুঝার এবং কোরআন ও হাদীসের মানদন্ডে সঠিক মাযহাবের অনুসরন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

No comments:

Post a Comment