এই ক্লাসটি পিডিএফ ডাউনলোড করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।
মূল্যবোধ
মূল্যবোধ হলো আইনগত ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এমন কিছু বোধ ও বিশ্বাস যা উন্নত জীবনযাপনের জন্য অতি জরুরি অনুষঙ্গ। এ সকল মূল্যবোধ আমাদের সকলের জন্য অবশ্য অনুসরণীয় এবং আমাদের প্রয়োজনীয় পথ নির্দেশের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
৪। দেশপ্রেম
২। ভূমিকা
মা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমি এ তিনটি শব্দ প্রত্যেক মানুষের কাছে অতি পরিচিত শব্দ। আর স্বদেশ প্রেম বা নিজ দেশের প্রতি ভালবাসা মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নিজ দেশের আলো বাতাস, প্রকৃতি,পরিবেশ প্রভৃতির নিকট মানুষের দায়বদ্ধতা সীমাহীন। নিজ দেশ, দেশের মাটি, মানুষ ও দেশের ভাষাকে বাদ দিয়ে একজন সুস্থ মস্তিষ্ক সুশীল মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। দেশের প্রতি, দেশের জনগণ ও পারিপার্শ্বিকতার প্রতি ভালবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত করছে। সব মিলিয়ে স্বদেশ প্রেম সম্পর্কেও ইসলাম এক অবিস্মরণীয় বিধান প্রণয়ন করেছে।
৩। স্বদেশ প্রেমের পরিচিত
দেশপ্রেম অর্থ নিজের দেশের প্রতি ভালবাসা ও আকর্ষণ। এর আরবি প্রতিশব্দ حُبُّ الْوَطَنِপরিভাষায়, স্বদেশ বা নিজের দেশ বলতে সে দেশ বুঝানো হয়, যে দেশে ব্যক্তি স্থায়ীভাবে বাস করে, যে দেশে জন্ম গ্রহণ করে। যেখানে সে বড় হয়, যে স্থানের আলো বাতাসে সে বেঁচে থাকে। যে দেশের ফল-ফসল, খাদ্য পানি তার দেহে পুষ্টি যোগায়। এমন স্থানকে জন্মভূমি বা মাতৃভূমিও বলা হয়। এ মাতৃভূমির জন্যে মানুষের ভালবাসা সহজাত ও স্বভাবজাত। এ স্থানের জন্যে মমতা ও মায়া অন্তর থেকে উৎসারিত হয়। বড় হয়ে মানুষ অন্য কোথাও চলে যেতে বাধ্য হলেও এ মায়া ভুলতে পারে না। জন্মভূমির প্রতি, মাতৃভূমির প্রতি, শৈশবের লীলাভূমির প্রতি মানুষের এ আকর্ষণ বা ভালবাসাকেই বলে স্বদেশ প্রেম।
৪। স্বদেশ প্রেমের স্বরূপ
দেশপ্রেম মানব জনমের একটি শ্রেষ্ঠ গুণ। দেশপ্রেমের মুলে আছে দেশের ভূখন্ডকে ভালোবাসা, দেশের তাহযীব-তামাদ্দুনকে ভালোবাসা, দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে ভালোবাসা, দেশের জনগণকে ভালোবাসা, দেশের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা রক্ষা করা। যার প্রমাণ পাওয়া যায় মিশনে (বিদেশে) থাকা কালে যখন নিজ দেশের দুতাবাসে (এ্যাম্বেসিতে) পতাকা দেখা যায় তখন কত ভাল লাগে। কারণ মনে হয় সেখানে নিজ দেশের মানুষের সাথে নিজের মাতৃভাষায় মনের সকল কথা প্রাণ খুলে প্রকাশ করা যায়। তাই বলা যায় পরিবেশ, গাছপালা, বৃক্ষরাজি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত অনবরত দর্শন, ঋতু বৈচিত্র্যে লালিত-পালিত হওয়া ইত্যাদি কারণে স্বদেশের প্রতি যে মায়া-মমতা ও আকর্ষণ সৃষ্টি হয় তাকে স্বদেশ প্রেমের স্বরূপ বলা হয়।
৫। ইসলামের দৃষ্টিতে দেশপ্রেম
নিজ দেশের ভ‚খন্ড, প্রকৃতি, মানুষ, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা, স্বকীয়তাকে ভালবাসার পাশাপাশি ইসলাম প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় ব্যক্তির উপর আরোপিত দায়িত্ব বা কর্তব্যকে যথাযথভাবে আঞ্জাম দেয়ার বিষয়টিও স্বদেশপ্রেমের মধ্যে অন্তর্ভ‚ক্ত করেছে। ইসলামে স্বদেশপ্রেম বলতে দেশের প্রতি, দশের প্রতি, দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে স্ব স্ব দায়িত্ব ও কর্তব্যকে নিষ্ঠার সাথে আঞ্জাম দেয়াকেই বুঝানো হয়।
দেশের প্রতি ভালবাসা ঈমানের দাবী। মুমিনদের জন্য তাদের দেশ তাদেরই সম্পদ। এ প্রসঙ্গে আলাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ ﴿التوبة: ١١١﴾
“নিশ্চয় আলাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের প্রাণ ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে।’’ -সূরা আত-তাওবাহ ঃ ১১১
এতে প্রমাণিত হয় যে মুমিনদের প্রাণ ও সম্পদ এতই মূল্যবান যে, তা জান্নাতের বিনিময় হতে পারে।
৬। দেশপ্রেমের ইতিহাস
পৃথিবীতে আগমনকারী প্রত্যেক নবী, রাসূল, ওলী-আউলিয়া ও মহা মানবের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় দেশপ্রেম ছিল। তারা সকলেই স্বীয় জন্মভূমিকে ভালবাসতেন এবং নিজ জাতির লোকদেরকে সুরক্ষার জন্য আলাহর বাণী প্রচার করতেন। দেশ ও জাতির প্রতি ভালবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ও মহৎ গুণ। তাই আল কুরআনে দেশ প্রেমের আদেশ, উপদেশ ও দু‘আর উদাহরণ বর্ণিত হয়েছে। আল কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন নবী-রাসূলগণের দেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত নিম্মে তুলে ধরা হলো।
৭। আদম ও হাওয়া (আঃ)-এর দেশ প্রেম
সর্বপ্রথম মানব ও মানবী আদম ও হাওয়া (আঃ) তাদের বাসস্থান জান্নাতকে খুব আপন করে নিয়েছিলেন। জান্নাতকে তারা মনে প্রাণে ভালবাসতেন। সে কারণে পৃথিবীতে প্রেরিত হওয়ার পর জান্নাতকে ফিরে পাওয়ার জন্য তারা আলাহ্র নিকট ফরিয়াদ করেন। তখন আলাহ্ তাদেরকে জানিয়ে দিলেন,
وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ
‘পৃথিবীতে কিছু কালের জন্য তোমাদের বাসস্থান ও জীবিকা রয়েছে।’ -সূরা বাক্বারা ঃ ৩৬
তখন তারা বুঝতে পারলেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথিবী তাদের বাসস্থান। পৃথিবীই তাদের স্বদেশ। তখন তারা পৃথিবীকে ভালবাসতেন। اَدِيْمُ الْاَرْضِ ‘পৃথিবীর উপরিভাগ’ যুগ্ম শব্দ থেকে আদম (আঃ)-এর নাম ادم ‘আদম’ রাখা হয়েছে। এটা স্বদেশপ্রেমের স্বাক্ষর বহন করে।
৮। নূহ স-এর দেশপ্রেম
আপন জাতিকে বাঁচাবার জন্য নৌকা তৈরি করে জাতির লোকদেরকে মহাপ¬াবনের পূর্বাভাস দেন এবং ঈমান গ্রহণ করে তাঁর নির্মিত নৌকায় তাদেরকে আশ্রয় নিতে বলেন। যারা নূহ নবীর কথা বিশ্বাস করে ঈমান এনে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরকে নিয়ে নূহ স দীর্ঘ ৪০ দিন যাবৎ মহাপ্ল¬াবনের পানিতে ভাসলেন। প্ল¬াবন শেষে তাদেরকে নিয়ে নিজ জন্মভূমিতে নামলেন এবং সেখানে পূণরায় বসবাস শুরু করলেন। এ বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা সূরা হুদে পরপর ১২টি আয়াত নাযিল হয়েছে। তন্মধ্যে উলেখযোগ্য বানী হলো; আলাহ্র নবী নূহ (আঃ) স্বদেশকে দুষ্কৃতিকারীদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য আলাহ্র কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে,
وَقَالَ نُوحٌ رَّبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا ﴿نوح: ٢٦﴾
‘নূহ্ বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনি পৃথিবীতে কোন কাফের গৃহবাসীকে রেহাই দিবেন না।’ -সূরা নূহ ঃ ২৬
তিনি তার প্রার্থনায় আরো বলেছিলেন,
وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا ﴿نوح: ٢٨﴾
‘জালিমরা কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করে।’ -সূরা নূহ ঃ ২৮
৯। ইব্রাহিম স এর দেশপ্রেম
ইব্রাহীম স মাতৃভ‚মিতে ইসলাম প্রচার করে নমরুদের প্রস্তুতকৃত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হলেন। আলাহ্র হুকুমে আগুন ফুলের বাগিচায় পরিনত হলো। তারপর পরিবারসহ সিরিয়ায় হিজরত করলেন। আবার আদেশ এল হাজেরা ও ইসমাঈল স-কে নিয়ে মরুপ্রান্তরে যাওয়ার জন্য। তাদেরকে এখানে রেখে সিরিয়া চলে যাওয়ার নির্দেশ হল। অতঃপর ইবরাহীম স, হাযেরা স এবং তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশু পুত্র ইসমাঈলকে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। অবশেষে যেখানে বর্তমান কা‘বা ঘর অবস্থিত, ইবরাহীম স তাদের দু’জনকে সেখানে নিয়ে আসলেন এবং মসজিদের উচু অংশে যেখানে এখন যমযম কূপ অবস্থিত সেখানে একটি বড় গাছের নীচে তাদেরকে রাখলেন। তখন মক্কায় না ছিল কোন খাদ্য, না ছিল কোনরূপ পানির ব্যবস্থা। এছাড়া তিনি তাদের নিকট রেখে গেলেন একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর ও একটি মশকে কিছু পানি। অতঃপর ইবরাহীম স ফিরে চললেন। তখন হাযেরা তাঁর পিছে পিছে যেতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, হে ইবরাহীম! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আমাদেরকে এমন এক ময়দানে রেখে যাচ্ছেন যেখানে না আছে কোন সাহায্যকারী, আর না আছে খাদ্যের ব্যবস্থা। তিনি একথা তাঁকে বার বার বলতে লাগলেন। কিন্তু ইবরাহীম স তার দিকে ফিরেও তাকালেন না। তখন হাযেরা নিরুপায় হয়ে বললেন, আল−াহ কি আপনাকে এভাবে চলে যেতে বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। হাযেরা বললেন, তাহলে আল−াহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। তারপর হাযেরা ছেলের নিকট ফিরে আসলেন।
আর ইবরাহীম স সামনের দিকে চললেন। চলতে চলতে যখন তিনি গিরিপথের এমন বাঁকে পৌঁছলেন, যেখান থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে আর দেখা যাচ্ছে না কিংবা তারাও তাঁকে দেখতে পাচ্ছে না, তখন তিনি কা‘বা ঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি দু’হাত তুলে প্রার্থনা শুরু করলেন, যা আলাহ্ তা‘আলা কুরআনে উলেখ করেছেন,
رَّبَّنَا إِنِّي أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِّنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ ﴿ابراهيم: ٣٧﴾
“হে আমার পালনকর্তা! আমি আমার পরিবারের কতককে আপনার সম্মানিত কা‘বা ঘরের সন্নিকটে এক অনুর্বর চাষাবাদহীন উপত্যকায় রেখে গেলাম। হে আমার প্রতিপালক! যাতে তারা ছালাত কায়েম করতে পারে। অতঃপর আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন এবং তাদেরকে ফলাদি দ্বারা রুযী দান করুন, যেন তারা আপনার শুকরিয়া আদায় করতে পারে।” -সূরা ইবরাহীম ঃ ৩৭
কা‘বা এবং জমজমকে ঘিরে বর্তমানে যে জনপদ গড়ে উঠেছে। তা মূলত ইব্রাহিম স-এর দু’আর কারণেই হয়েছে। আলাহ তা‘আলা বলেন,
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ ﴿ابراهيم: ٣٥﴾
“যখন ইবরাহীম বললেন, হে পালনকর্তা, এ শহরকে শান্তিময় করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততিকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন।” -সূরা ইবরাহীম ঃ ৩৫
আলাহ তা‘আলা আরো বলেন,
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ﴿البقرة: ١٢٦﴾
“যখন ইবরাহীম বললেন, পরওয়ারদেগার। এ শহরকে তুমি শান্তি ও নিরাপত্তার শহর বানিয়ে দাও। আর এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আলাহ্ ও আখিরাতকে বিশ্বাস করে, তাদেরকে সব রকমের ফলের দ্বারা রিযিক দান কর।” -সূরা বাক্বারা ঃ ১২৬
ইব্রাহীম স-এর দু’আয় দেশ প্রেমের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তাফসীরে নুরুল কুরআনে উলেখ রয়েছে জর্দানের এক খন্ড জমি জিব্রাইল স উঠিয়ে তায়েফে প্রতিস্থাপন করেন, যার কারণে তায়েফ নগরী শষ্য ভান্ডার রূপে সৃষ্টি হয় এবং ঐ স্থানটি কা‘বায় সাত চক্কর দেয়াতে সে স্থানের নাম তায়েফ (তওয়াফকারী) হয়।
১০। দাঊদ স-এর দেশপ্রেম
দাঊদ স-কে আদেশ দিয়ে আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَىٰ فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ ﴿ص: ٢٦﴾
“হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে রাজত্ব কর এবং খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আলাহ্র পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আলাহ্র পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাব দিবসকে ভুলে যায়।” -সূরা সদ ঃ ২৬
বক্ষ্যমান আয়াতে আলাহ্ তা,য়ালা শাসকদেরকে তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে উৎসাহিত করেছেন।
তাছাড়া দাঊদ স জালুতের সাথে যুদ্ধ করে প্রিয় জন্মভূমিকে রক্ষা করেন। আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
فَهَزَمُوهُم بِإِذْنِ اللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُودُ جَالُوتَ وَآتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الْأَرْضُ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿البقرة: ٢٥١﴾
“তারপর ঈমানদাররা আলাহ্র হুকুমে জালুত বাহিনীকে পরাজিত করে দিল এবং দাঊদ জালুতকে হত্যা করল। আর আলাহ্ দাঊদকে দান করলেন রাজ্য ও অভিজ্ঞতা। আর তাকে যা চাইলেন শেখালেন। আলাহ্ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আলাহ্ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।” -সূরা বাক্বারা ঃ ২৫১
১১। ইউসুফ স-এর দেশপ্রেম
ইউসুফ স-এর বয়স যখন ১৪ বছর তখন তিনি স্বপ্নে দেখেন যার বিবরণ আলাহ্ তা‘আলা কুরআনে এভাবে দিয়েছেন,
إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سَاجِدِينَ ﴿يوسف: ٤﴾
‘‘যখন ইউসুফ পিতাকে বলল ঃ পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে, সূর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশ্যে সিজদা করতে দেখেছি।’’ -সূরা ইউসুফ ঃ ৪
এরপর তার বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে চক্রান্ত করে তাকে কূপে নিক্ষেপ করে। একটি কাফেলা সেই জর্দানের কুয়া থেকে উঠিয়ে নিয়ে তাকে বিক্রি করে। মিশরের প্রধানমন্ত্রী উপাধি (আজীজ) তাকে ক্রয় করে ক্রীতদাস হিসাবে নিজের কাছে রাখেন। আলাহ্ বলেছেন,
وَقَالَ الَّذِي اشْتَرَاهُ مِن مِّصْرَ لِامْرَأَتِهِ أَكْرِمِي مَثْوَاهُ عَسَىٰ أَن يَنفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا ۚ وَكَذَٰلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الْأَرْضِ ﴿يوسف: ٢١﴾
“মিসরে যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করল, সে তার স্ত্রীকে বলল ঃ একে সম্মানে রাখ। সম্ভবত ঃ সে আমাদের কাজে আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করে নেব। এমনিভাবে আমি ইউসুফকে এদেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম।’’ -সূরা ইউসুফ ঃ ২১
৩০-৪০ বছরের কোটায় ইউসূফ স প্রাসাদেই ক্রীতদাস হিসেবে কাটায়। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী (জুলায়খা) তাকে কুপ্ররোচনা দিয়ে যা বলেছিল কুরআনের ভাষায় তা হলো,
وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَن نَّفْسِهِ وَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ ۚ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ ۖ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ ﴿يوسف: ٢٣﴾
‘‘আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, ঐ মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং দরজাসমূহ বন্ধ করে দিল। সে মহিলা বলল, শুন। তোমাকে বলছি, এদিকে আস! সে বলল ঃ আলাহ্ রক্ষা করুন; তোমার স্বামী আমার মালিক। তিনি আমাকে সযতেœ থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমা লংঘনকারীগণ সফল হয় না।’’ -সূরা ইউসুফ ঃ ২৩
(বিস্তারিত ঘটনার এক পর্যায়ে জেল খানায় থাকা কালে) ইউসুফ স দেশে আসন্ন দুর্ভিক্ষের সময় দেশকে এবং দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করে খাদ্য মন্ত্রীর পদ কামনা করেছিলেন, যা তার দেশ প্রেমের স্বাক্ষর বহন করে। এ সম্পর্কে আলাহ্ তা‘আলা বলেন,
قَالَ اجْعَلْنِي عَلَىٰ خَزَائِنِ الْأَرْضِ ۖ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ ﴿يوسف: ٥٥﴾
‘‘ইউসুফ বলল ঃ আমাকে দেশের ধণ-ভান্ডারে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও অধিক জ্ঞানবান।’’ -সূরা ইউসুফ ঃ ৫৫
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তা যথাযথ পালনের মাধ্যমে দেশ প্রেমের স্বাক্ষর রাখার জন্য আলাহ্ উদ্বুদ্ধ করেছেন। আলাহ্ বলেন,
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَىٰ لَهُمْ ﴿النور: ٥٥﴾
‘‘তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আলাহ্ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসন কর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন।’’ -সূরা আন্-নূষ ঃ ৫৫
১২। মূসা স-এর দেশপ্রেম
মূসা স মাদায়েনে হিজরত করার পর পুণরায় আপন মাতৃভূমি ও নিজ জাতি বনি ইস্রাঈলকে ফেরাউনের নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছিলেন। উলেখ্য যে, কওমে মূসা ও ফেরাউন সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের মোট ৪৪টি -সূরায় ৫৩২টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
১৩। দেশপ্রেমের অপরিহার্য উপাদান
দেশপ্রেমের অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব টিকে রাখা, দেশের সীমান্ত অটুট ও সুদৃঢ় রাখার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪। দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ
আলাহ্ প্রেম, রাসূলুলাহ প্রেম, সৃষ্টি প্রেম, আত্ম প্রেম ইত্যাদি প্রেম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, দেশ প্রেমের গুরুত্বও প্রায় এমনি রকমের। যেমন বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ একটি আরবি প্রবাদ যা জ্ঞানীরা বলেছেন, حب الوطن من الايمانবা স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ”। এ গুরুত্ববহ প্রবাদটি ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয় জুড়ে এত বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে যে, তাদের (জ্ঞানীদের) কেউ কেউ এটিকে হাদীস বা রাসূলুলাহ ﷺ এর বাণী বলেও অভিহিত করেছেন। কিন্তু প্রবাদটি হাদীস বা কোন সাহাবীর উক্তি নয়, তা সন্দেহাতীতভাবে সত্য। তাই বলে প্রবাদটি ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষার ব্যতিক্রমও নয়, নয় আড়াআড়ি বিপরীতও।
১৫। দেশপ্রেমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
আমার দেশ আমার প্রাণ অর্থাৎ আমাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় আমাদের মাতৃভূমি। একজন নারী তার সতীত্ব রক্ষার জন্য যেমন তার প্রাণ বিসর্জন দিতে কুন্ঠাবোধ করে না, তেমনি একজন দেশ প্রেমিক সেনা সদস্য তার মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দেশ ও জাতির প্রয়োজনে এবং আলাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকালীন মুক্তির জন্য নিজ জীবন উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত। এ প্রসংগে মহান আলাহ কালামে পাকে এরশাদ করেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ ﴿البقرة: ٢٠٧﴾
“মানুষের মধ্যে এমন কতক মানুষ আছে, যারা আলাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত কুরবান করে দেয়। আর আলাহ এদের প্রতি খুবই করুণাময়।’’ -সূরা বাক্বারা ঃ ২০৭
তাঁদের মুখের ¯ে¬াগান হলো “আমার দেশ আমার প্রাণ”। আরও বলা হয় “বাঁচলে দেশ, বাঁচবে মান”। সেনা সদস্যগণ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন স্পর্শ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ গ্রহণ করে থাকে। সেই শপথ অনুযায়ী কাজ করা, সততা, সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার সাথে কর্তব্য পালন করা সেনা সদস্যদের বাস্তব দেশ প্রেমের উদাহরণ। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হচ্ছে,
بَلَىٰ مَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ وَاتَّقَىٰ فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ ﴿آلعمران: ٧٦﴾
‘‘হ্যাঁ, যারা ওয়াদা বা প্রতিশ্র“তি পূর্ণ করে এবং আলাহকে ভয় করে, নিশ্চয় আলাহ এরূপ খোদাভিরুদেরকে ভালবাসেন।’’ -সূরা আলে ইমরান ঃ ৭৬
তাছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য মনে করে, প্রকৃত ঈমান ছাড়া যেমন মুসলমান হওয়া যায় না। তেমনি দেশপ্রেম ছাড়াও পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়া যায় না। তাই ঈমান রক্ষার তাগিদে প্রতিটি সেনা সদস্য দেশপ্রেমকে অপরিহার্য বিষয় হিসাবে গণ্য করে।
আলাহ পাক খাঁটি ঈমানদার সেনা সদস্যদের জিহাদের (সংগ্রামের) জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা দান করেন এবং সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি (প্রশিক্ষণ) গ্রহণের কথা বলেছেন,
وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ﴿الأنفال: ٦٠﴾
“আর তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বাধিক পরিমাণ শক্তি (প্রশিক্ষণ) অর্জন কর এবং তোমাদের অশ্ব বাহিনীকে প্রস্তুত রাখ। যেন তোমরা তোমাদের শত্র“ ও আলাহ্র শত্র“দের ভীতসন্ত্রস্ত করতে পার আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদেরকেও পরাভূত করতে পার যাদেরকে তোমরা চেন না অথচ আলাহ্ তাদেরকে চেনেন। বস্তুত ঃ যা কিছু তোমরা আলাহ্র রাস্তায় ব্যয় করবে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপুর্ণ থাকবে না।’’ -সূরা আনফাল ঃ ৬০
যুদ্ধের সময় তাদের এ শক্তিকে আলাহ্ তা‘আলা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। এ প্রসংগে মহান আলাহ কালামে পাকে ঘোষণা করেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِن يَكُن مِّنكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُواْ مِئَتَيْنِ وَإِن يَكُن مِّنكُم مِّائَةٌ يَغْلِبُواْ أَلْفًا مِّنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لاَّ يَفْقَهُونَ ﴿الأنفال: ٦٥﴾
“হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করুন। যদি তোমরা খাঁটি ঈমান, ধৈর্য্যশীল ও দৃঢ়মনোবলের ২০ জন বীর পুরুষ হও, তবে তোমরা ২০০ জনের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে এবং যদি তোমরা ১০০ জন হও তবে কাফিরদের ১০০০ জনের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে। কারণ তারা জ্ঞানহীন।’’ -সূরা আনফাল ঃ ৬৫
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً ﴿التوبة: ١٢٣﴾
“হে ঈমানদারগণ! কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ কর। তারা যেন তোমাদেরকে বজ্রকঠোর, সুদৃঢ় ও শক্তিশালীরূপে দেখতে পায়।’’ -সূরা তাওবা ঃ ১২৩
সর্বোপরি দেশপ্রেমিক সৈনিক “ বাঁচলে গাজী, মরলে শহীদ” এ মন্ত্রে দীক্ষিত।
১৬। দেশপ্রেমিক সৈনিকের বৈশিষ্ট্য
একজন সৈনিক সত্যিকারের দেশপ্রেমিক কি না তা বুঝা যাবে তার প্রতিটি কাজ-কর্মের মাধ্যমে। যুদ্ধ করার জন্য যে সব বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন তা হলোঃ
ক। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। পিটি, গেমস, ওয়ার্কিং ও সহায়ক কর্মকান্ডে সাবলিল অংশগ্রহণ।
খ। দক্ষ ফায়ারার হওয়া। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফায়ারে অংশগ্রহণ সহায়ক।
গ। হাতিয়ার, যানবাহন ও সকল সরকারী দ্রব্যসামগ্রী সচল ও সংরক্ষণ।
ঘ। পেশাগত প্রশিক্ষণে মনোযোগি হয়ে ভাল ফলাফল অর্জন করা।
ঙ। সরকারী সম্পদের সঠিক ব্যবহার করা এবং অপচয় রোধ করা।
চ। ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত শৃঙ্খলার মান উন্নত করা।
ছ। পবিত্র ও উন্নত চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন ও বাস্তবায়ন করা।
জ। নিয়মিত সালাত আদায় ও ধর্মীয় অনুশাসন ও বিধানাবলী মেনে চলা।
১৭। উপসংহার
প্রত্যেকটি মানুষ জন্মগতভাবে তার মাতৃভুমিকে ভালবাসে। নবী-রাসূলগণও তাদের মাতৃভূমিকে ভালবাসতেন। আলাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে সকল নবী-রাসূলুলাহ স্ব স্ব গোত্রের ভাষায় কথা বলতেন, স্বগোত্রের হিদায়াতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তাদের অনেকেই স্বীয় মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছেন। সুতরাং নবী-রাসূলগণের সুন্নাতকে অনুসরণ করে আমাদেরকেও আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে ভালবাসতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। আলাহ্ আমাদের সবাইকে শান্তির পরশে থেকে দেশ ও জাতির খিদমত করার তাওফীক দান করুন।’’ -আমীন!!
সেনাবাহিনীর অন্যান্য মূল্যবোধ-দেখতে চোখরাখুন ।
চলবে------


No comments:
Post a Comment