Saturday, November 20, 2021

আমানত সংরক্ষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বা দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদনে আমানতদারী



 আমানত সংরক্ষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

বা দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদনে আমানতদারী

তারিখঃ ১৯ নভেম্বর ২০২১

 

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ, وَالصَّلَوْةُ وَالسَّلَامُ عَلَيْ رَسُوْلِهِ الْكَرِيْمِ وَعَلَيْ اَلِهِ وَاَصْحَابِهِ اَجْمَعِيْنَ- امَّا بعد-

আজ ইংরেজী ...........মাসের .............তারিখ এবং আরবী..........মাসের .........জুমুআ। আজ আমরা ..............সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশা-আল্লাহ্।

 

 

ভূমিকা

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষ নৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন প্রাণী। মানুষ বলেই আমাদেরকে অনেক গুণ বা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হয় যা অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে পৃথক করেছে। আমানত সংরক্ষণ করা মানব জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ গুণ। এ গুণ বা বৈশিষ্ট্য অনুশীলন বা চর্চার মাধ্যমে একজন মানুষ নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। পরিবার, সমাজ, সংগঠন তথা জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি অধিকাংশ নির্ভর করে আমানত সংরক্ষণ করার উপর। কুরআন এবং হাদীসে আমানত সংরক্ষনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

আমানতের পরিচয়

আমানত শব্দটি আরবী। ইহা امن ধাতু থেকে নির্গত। এ শব্দের শাব্দিক অর্থ আস্থা রাখা, বিশ্বাস করা, গচ্ছিত রাখা ,তত্ত্বাবধানে রাখা, নিরাপদে রাখা, অভয় দান করা ইত্যাদি।

 

ইসলামের পরিভাষায় কারো কাছে কোন ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা, বস্তু, তথ্য এবং কারো প্রাপ্য অধিকার ইত্যাদির নিরাপত্তা বিধানের যে ব্যবস্থা উহাই আমানত। দায়িত্ব ও পদমর্যাদা, ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আর্ন্তজাতিক (শরয়ী ও দুনিয়াবী) আমানতও এর অর্ন্তভূক্ত। যিনি গচ্ছিত সম্পদ বা দ্রব্যকে যথাযথ ভাবে হিফাজত বা সংরক্ষণ করেন এবং চাওয়া মাত্র প্রকৃত মালিককে দিয়ে দেন তাকে اَمِيْنَ বা আমানতদার বলে। আমানতদারীতা মানব জীবনের একটি মহৎ গুণ।

 

আল্লাহর আহকামগুলো মুমিদের নিকট আমানতঃ

ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমরা যেগুলোর উপর ঈমান এনেছি সেগুলো আমানত অর্থাৎ আল্লাহ্ মানুষের জন্য যা কিছু ফরয করেছেন, সেগুলোই আল্লাহর আমানত। কালবী (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হওয়াই হচ্ছে খিয়ানত অর্থাৎ আল্লাহর ফরযের ব্যাপারে প্রত্যেকেই আমানতদার।’ (দ্রঃ কবীরা গুনাহ, পৃঃ ১৬৮

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন,

الصَّلَاةُ أَمَانَةٌ، وَالْوُضُوءُ أَمَانَةٌ، وَالْوَزْنُ أَمَانَةٌ، وَالْكَيْلُ أَمَانَةٌ،

সালাত আমানত । উযু আমানত । গোসল আমানত। সঠিক পরিমাপ আমানত । সঠিক ভাবে মেপে দেওয়া আমানত । বড়ো আমানত কারো কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখা। -বাইহাকীঃ ৪৮৮৫

 

আল-কুরআনে আমানতের গুরুত্ব

আল্লাহ্ কর্তৃক আমানতঃ

এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,

 "إِنَّـا عَـرَضْـنَـا الْأَمَـانَـةَ عَـلَـى الـسَّـمَـاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْـجِـبَـالِ فَـأَبَـيْـنَ أَن يَـحْـمِـلْـنَـهَـا وَأَشْـفَـقْـنَ مِـنْـهَـا وَحَـمَـلَـهَـا الْإِنْـسَـانُ إِنَّـهُ كَـانَ ظَـلُـوْمًـا جَـهُـوْلًا ﴿الأحْـزَابُ : ٧٢﴾

 আমি আকাশ, পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে এ আমানত (কুরআন) পেশ করেছিলাম, অতপর তারা একে বহন করতে অস্বীকার করে এবং তাতে ভীত হয়। কিন্তু মানুষ তা বহন করলো। নিশ্চয় সে জালেম ও অজ্ঞ।’ (সূরা আহযাবঃ ৭২

কর্মক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে দায়িত্ব সর্মপন করা আমানত

এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ الـلّٰـهَ يَـأْمُـرُكُمْ أَن تُـؤَدُّوْا الْأَمَـانَـاتِ إِلٰـى أَهْـلِـهَـا وَإِذَا حَـكَـمْـتُـمْ بَـيْـنَ الـنَّـاسِ أَن تَـحْـكُـمُـوْا بِـالْـعَـدْلِ إِنَّ الـلّٰـهَ نِـعِـمَّـا يَـعِـظُـكُم بِـهِ إِنَّ الـلّٰـهَ كَـانَ سَـمِـيْـعًـا مبَـصِـيْـرًا ﴿النساء: ٥٨﴾

নিশ্চয়ই আল¬াহ্ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায়ভিত্তিক। আল¬াহ্ তোমাদেরকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল¬াহ্ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।’ (সূরা নিসাঃ ৫৮

 

প্রাতিষ্ঠানিক, সাংগঠনিক, রাষ্টীয় গোপনীয়তাও আমানতঃ

রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। এটি রাষ্ট্রীয় আমানত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন মক্কা অভিযানের পরিকল্পনা করে ছিলেন তখন হাতিব ইবনে আবি বুলতা (রাঃ) নামক এক সাহাবী এই সংবাদ জানিয়ে গোপনে কুরাইশ সর্দারদের নিকট একটি চিঠি লিখেছিলেন যা ছিল রাষ্ট্রীয় আমানতের খিয়ানত। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আল্লাহ্ তাআলা নিম্মোক্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِالْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُوا بِمَا جَاءَكُم مِّنَ الْحَقِّ يُخْرِجُونَ الرَّسُولَ وَإِيَّاكُمْ أَن تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ رَبِّكُمْ إِن كُنتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَادًا فِي سَبِيلِي وَابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي تُسِرُّونَ إِلَيْهِم بِالْمَوَدَّةِ وَأَنَا أَعْلَمُ بِمَا أَخْفَيْتُمْ وَمَا أَعْلَنتُمْ وَمَن يَفْعَلْهُ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ * إِن يَثْقَفُوكُمْ يَكُونُوا لَكُمْ أَعْدَاءً وَيَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَأَلْسِنَتَهُم بِالسُّوءِ وَوَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ ﴿الممتحنة: ١-٢﴾

মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা যে সত্য তোমাদের কাছে আগমন করেছে, তা অস্বীকার করছে। তারা রসূলকে ও তোমাদেরকে বহিষ্কার করে এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্যে এবং আমার পথে জেহাদ করার জন্যে বের হয়ে থাক, তবে কেন তাদের প্রতি গোপনে বন্ধুত্বের পয়গাম প্রেরণ করছ ? তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব জানি। তোমাদের মধ্যে যে এটা করে, সে সরলপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। তোমাদেরকে করতলগত করতে পারলে তারা তোমাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং মন্দ উদ্দেশে তোমাদের প্রতি বাহু ও রসনা প্রসারিত করবে এবং চাইবে যে, কোনরূপে তোমরা কাফের হয়ে যাও।’ -সূরা মুমতাহিনাঃ ১-২

নিজেদের গোপন বিষয় গুলো নিজেদের মধ্যে আমানত। এগুলো ফাঁস করে দেয়া আমানতের খিয়ানত। আল্লাহ্ তাআলা বলেন,

يَـا أَيُّـهَـا الَّـذِيْـنَ اٰمَـنُـوْا لَا تَـخُـوْنُـوْا الـلّٰـهَ وَالـرَّسُـوْلَ وَتَـخُـوْنُـوْا أَمَـانَـاتِـكُمْ وَأَنْـتُـمْ تَـعْـلَـمُـوْنَ ﴿الأنْـفَـالُ : ٢٧﴾

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ্ ও (তাঁর) রাসূলের সাথে খিয়ানত করো না এবং জেনে-শুনে তোমাদের নিজেদের পরস্পরের আমানতেরও খিয়ানত করো না।’ (সূরা আনফালঃ ২৭

 

নিজেদের আমানতসমূহ অর্থ কারো উপর আস্থা স্থাপন করে যে সব দায়িত্ব অর্পন করা হয় তার আনুগত্য করা ও অংগীকার পালন করা। অথবা কোন সামাজিক চুক্তি পালন, সংস্থার গোপনীয়তা রক্ষা করা বা ব্যক্তিগত ও দলীয় সম্পত্তি রক্ষা করা কিংবা এমন কোন পদের অংগীকারও হতে পারে যা কোন ব্যক্তির উপর নির্ভর করে সংস্থা তা হাতে সোপর্দ করে দেয়। আল্লাহ্ তাআলা বলেন,

فَـإِنْ أَمِـنَ بَـعْـضُـكُم بَـعْـضًـا فَـلْـيُـؤَدِّ الَّـذِي اؤْتُـمِـنَ أَمَـانَـتَـهُ وَلْـيَـتَّـقِ الـلّٰـهَ رَبَّـهُ ﴿الـبَـقَـرَةُ : ٢٨٣﴾

যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে (কোন আমানতের ব্যাপারে) বিশ্বাস করে, এমতাবস্থায় যাকে বিশ্বাস করা হয় তার উচিত সে যেন সেই আমানত যথাযথ প্রত্যার্পণ (ফেরত) করে এবং তার প্রতিপালক আ¬হ তাআলাকে (আমানতের ব্যাপারে) ভয় করে।’ (সূরা বাকারাঃ ২৮৩

 

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে আরো দুস্থানে প্রকৃত ঈমানদার ব্যক্তির পরিচয় ও গুণাবলীর কথা উল্লেখ পূর্বক বলেন,

وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ﴿المؤمنون: ٨﴾/﴿المعارج: ٣٢﴾

এবং যারা নিজের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, (তারাই ঈমানদার এবং তারাই সফলতা লাভ করবে)।’ (সূরা মু-মমিুনঃ ০৮; সূরা মাআরিজঃ ৩২

 

আল-হাদীসে আমানতের গুরুত্ব

আমানত রক্ষা করা ঈমানের আলামত

এ ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে। যেমন আনাস (রাঃ) বলেন, এমন খুব কম হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ভাষণ দিয়েছেন অথচ তিনি এ কথা বলেন নি;

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَلَّمَا خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا قَالَ: ্রلَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُগ্ধ (رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ)

যার মধ্যে আমানতদারী নেই, তার ঈমান নেই আর যার মধ্যে ওয়াদা পালন নেই তার মধ্যে দ্বীন নেই।’ (বায়হাকী; মিশকাতঃ ৩৫

 

অন্য হাদীসে এসেছে,

عَن أبي هُرَيْرَة عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রأَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَগ্ধ (رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِيُّ)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তোমার নিকট আমানত রেখেছে তার আমানত তাকে ফেরত দাও। আর যে ব্যক্তি তোমার আমানত আত্মসাৎ করে তুমি তার আমানত আত্মসাৎ করো না।’ (তিরমিযী; আবূ দাঊদ; দারেমী; মিশকাতঃ ২৯৩৪)

 

আমানতের স্বরূপ বা কেক্ষসমূহ

আমানতের বিভিন্ন দিক, বিভাগ বা স্বরূপ রয়েছে। যেমন

ক। সম্পদের আমানত।

খ। কাজের আমানত।

গ। সময়ের আমানত।

ঘ। পদ মর্যাদার আমানত।

ঙ। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ক্ষমতার আমানত।

চ। আল্লাহর হক আমানত।

ছ। বান্দর হক আমানত।

জ। স্বামী-স্ত্রীর গোপন বিষয়ের গোপনীয়তা রক্ষা করা আমানত।  এছাড়াও রয়েছে,

 

১. মাতা-পিতার নিকট সন্তান আমানত স্বরুপ।

২. সন্তানের নিকট মাতা পিতা আমানত।

৪. ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র আমানত।

৫. কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট ঐ প্রতিষ্ঠান আমানত স্বরুপ।

৬. সরকারের নিকট রাষ্ট্রের সকল সম্পদ ও জনগণের অধিকার আমানত স্বরুপ।

৭.জনগণের নিকট রাষ্ট্র আমানত স্বরুপ।

 

আরো কিছু আমানতের ব্যাখ্যা

কথার বা তথ্যের আমানত

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ الْحَدِيثَ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَانَةٌগ্ধ (رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد)

যখন কোন ব্যক্তি (কারও সাথে) কথা বলে এবং এদিক ওদিক দৃষ্টি করে, তবে (বুঝতে হবে) কথাটি তার নিকট আমানত।’ (তিরমিযী; আবূ দাঊদ; মিশকাতঃ ৫০৬১)

 

দায়িত্বপূর্ণ পদের আমানত

নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ সম্পাদন করা অথবা কোন দ্রব্য-সামগ্রীর হিফাজত বা রক্ষণাক্ষেণ করা সংশ্লিষ্ট পদের অধিকারী ব্যক্তির জন্য আমানত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: ্রأَلا كلُّكُمْ راعٍ وكلُّكُمْ مسؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

তোমাদের প্রত্যেকেই একজন তত্ত্বাবধায়ক এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়িত্বপূর্ণ  বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। শাসক একজন তত্ত্বাবধায়ক, তিনি তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন।’ (বুখারী; মিশকাতঃ ৩৬৪৫-

 

দায়িত্বপূর্ণ পদে উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করাও একটি আমানত

যে সব পদের জন্য যেরূপ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন, সে সব পদের জন্য অনুরূপ যোগ্যতার লোককে নির্বাচন বা বাছাই না করে, কর্তা ব্যক্তিগন বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ যদি নিজেদের খেয়াল-খুশীমত অন্য (অযোগ্য) কাউকে নিয়োগ দেন, তবে তাও আমানতদারীতার খিয়ানত হবে। এক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতিও খিয়ানত। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,

 مَنْ اِسْتَعْمَلَ رَجُلًا مِنْ عَصَابَةٍ وَفِيْهِمْ مَنْ هُوَ اَرْضِ اللهِ مِنْهُ فَقَدْ كَانَ اللهَ وَرَسُوْلَهُ وَالْمُؤْمِنِيْنَ (كنز العمال)

যে ব্যক্তি নিজ সম্প্রদায়ের কোন লোককে কাজে নিয়োগ করলো, অথচ তাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট অধিকতর প্রিয় ও যোগ্য লোক বর্তমান রয়েছে সে আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করল।’ (কানযুল উম্মাল

 

সরকারী সম্পদ আমানত ইহা আত্মসাৎ করা বড় খিয়ানত

হাদীসে রয়েছে,

عَن عبدِ الله بنِ عَمْروٍ قَالَ: كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كَرْكَرَةُ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রهُوَ فِي النَّارِগ্ধ فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ فَوَجَدُوا عَبَاءَةً قَدْ غَلَّهَا (رَوَاهُ البُخَارِيّ )

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর আসবাব পত্র দেখাশুনার দায়িত্বে এক ব্যক্তি নিযুক্ত ছিল তার নাম হল কিরকিরা। সে যখন মারা গেল তখন নবীজি বললেন: সে জাহান্নামী! সাহাবীগণ তার বাড়িতে কারণ অনুসন্ধানের জন্য গেলেন এবং আবা নামক একটি বিশেষ ধরণের পোশাক অথবা পাত্র পেলেন, যা সে আত্মসাৎ করেছিল।’ (বুখারী; মিশকাতঃ ৩৯৯৮

 

আমানত সংরক্ষণের প্রতিদান

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জন

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন,

্রمَنْ سَرَّهُ أَنْ يحب الله وَرَسُوله أويحبه اللَّهُ وَرَسُولُهُ فَلْيُصَدِّقْ حَدِيثَهُ إِذَا حَدَّثَ وَلْيُؤَدِّ أَمَانَتَهُ إِذَا أُؤْتُمِنَ وَلِيُحْسِنَ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَهُগ্ধ (رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان)

যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তাকে ভালবাসুক অথবা সে আল্লাহ্ ও তার রাসূলকে ভালবাসবে তাহলে তার কর্তব্য হল; যখন সে কথা বলবে সত্য বলবে, কেউ তার নিকট আমানত রাখলে সে তা যথার্থভাবে প্রত্যার্পন করবে এবং যারা তার প্রতিবেশী হবে তাদের সাথে সদ্ব্যাবহার করবে।’ (বায়হাকী; মিশকাতঃ ৪৯৯০

 

আমানত সংরক্ষণে জান্নাতের নিশ্চয়তা

হাদীসে রয়েছে,

عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " اضْمَنُوا لِي سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنُ لَكُمُ الْجَنَّةَ: اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ وأدوا إِذا ائتمتنم واحفظوا فروجكم وغضوا أبصاركم وَكفوا أَيْدِيكُم " (احمد‘ بيهقى)

তোমরা আমার নিকট তোমাদের ছয়টি জিনিসের জামানত (হিফাযতের প্রতিশ্রুতি) দান কর, তাহলে আমি তোমাদেরকে জান্নাতের জামানত দান করব। যখন তোমরা কথা বলবে সত্য বলবে, যখন প্রতিশ্রতি দিবে রক্ষা করবে, যখন কেউ তোমাদের নিকট আমানত রাখবে তা যখার্থভাবে ফেরত দিবে, লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে, চক্ষু অবদমিত রাখবে এবং মানুষকে কষ্ট দেয়া থেকে নিজ হাতকে বিরত রাখবে।’ (আহমদ, বায়হাকী; মিশকাতঃ ৪৮৭০

 

আরশের ছায়ায় আমানতের স্থান

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন,

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثَةٌ تَحْتَ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْقُرْآنُ يُحَاجُّ الْعِبَادَ لَهُ ظَهْرٌ وَبَطْنٌ وَالْأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ تُنَادِي: أَلَا مَنْ وَصَلَنِي وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَنِي قَطَعَهُ اللَّهُ " (. رَوَاهُ فِي شرح السّنة ,مشكوة : ২১৩৩)

কিয়ামতের দিন তিনটি জিনিস আরশের নিচে অবস্থান করবে, প্রথম বস্তুটি হল কুরআন যা বান্দাদের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষী প্রদান করবে। কুরআনের গোপন ও প্রকাশ্য দুটি অর্থ রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি হল আমানত ও আত্মীয়তা। এদুটি জিনিস ঘোষণা করবে, সাবধান! যে আমার সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখবেন। আর যে আমার সাথে সম্পর্ক কর্তন করবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক কর্তন করবেন।’ (মিশকাতঃ ২১৩৩

 

সফলতার চাবিকাঠি

আল্লাহ সফলকাম মুমিনদের সাতটি নিদর্শন বর্ণনা করেন। তার মধ্যে ৫ম ও ৬ষ্ঠ নিদর্শন হিসাবে বলেন,

(قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ) وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ﴿المؤمنون: ٨﴾/﴿المعارج: ٣٢﴾

ঐ (সমস্ত মুমিনগন সফলকাম) যারা তাদের আমানতের সংরক্ষণ ও প্রতিশ্রতি পালনে সতর্ক।’ (সূরা মুমিনুনঃ ৮ ও -সূরা মাআরিজঃ ৩২

মূসা (আঃ)-এর আমানতদারিতার সাক্ষ্য দিয়ে শোআয়েব (আঃ)-এর দুই কন্যার একজন তাদের পিতাকে বলেছিল, আববা! এঁকে বাড়ীতে কর্মচারী হিসাবে রেখে দিন। কেননা আপনার কর্ম সহায়ক হিসাবে সেই-ই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত’ (ক্বাছাছ ২৮/২৬)। পরে শোআয়েব (আঃ) মূসাকে তাঁর জামাই করে নেন (ক্বাছাছ ২৮/২৭)।

 

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন,

أَفْرَسُ النَّاسِ ثَلاَثَةٌ : الْعَزِيزُ حِينَ قَالَ لِامْرَأَتِهِ أَكْرِمِي مَثْوَاهُ عَسَى أَنْ يَنْفَعَنَا أَوْ نَتِّخِذَهُ وَلَدًا، وَالَّتِي قَالَتْ : يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ، وَأَبُو بَكْرٍ حِينَ تَفَرَّسَ فِي عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا-

দুনিয়াতে তিন ব্যক্তি ছিলেন সর্বাধিক বিচক্ষণ।

(১) আযীযে মিছরবা মিসরের রাজস্ব মন্ত্রী (যিনি শিশু ইউসুফের চেহারা দেখেই তাকে চিনেছিলেন এবং স্ত্রীকে বলেছিলেন,) ‘একে সম্মানজনকভাবে থাকার ব্যবস্থা কর। সম্ভবতঃ সে আমাদের কল্যাণে আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করে নেব’ (ইউসুফ ১২/২১)।

(২) শোআয়েব (আঃ)-এর ঐ কন্যা, যে মূসা সম্পর্কে স্বীয় পিতাকে বলেছিল, হে পিতা! আপনি এঁকে আপনার কর্মসহযোগী হিসাবে রেখে দিন। কেননা উত্তম সহযোগী সেই-ই, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত হয়’ (ক্বাছাছ ২৮/২৬)।

(৩) হযরত আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ), যিনি ওমর (রাঃ)-কে তাঁর পরবর্তী খলীফা হিসাবে অছিয়ত করেছিলেন। (হাকেম ২/৩৭৬, হা/৩৩২০, হাকেম একে ছহীহবলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ ১/১৮৯।)

 

গোটা দুনিয়ার উপর আমানতদারীর প্রাধান্য

হাদীস শরীফে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " أَرْبَعٌ إِذَا كُنَّ فِيكَ فَلَا عَلَيْكَ مَا فَاتَكَ مِنَ الدُّنْيَا: حِفْظُ أَمَانَةٍ وَصِدْقُ حَدِيثٍ وَحُسْنُ خَلِيقَةٍ وَعِفَّةٌ فِي طُعْمَةٍ ্র (رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان)

আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,’ যদি তোমার মধ্যে চারটি জিনিস থাকে তবে পার্থিব কোন জিনিস হাত ছাড়া হয়ে গেলেও তোমার কোন ক্ষতি হবে না। ক। আমানতের হিফাযত বা সংরক্ষণ। খ। সত্য ভাষণ বা কথা। গ। সৎ তথা উত্তম চরিত্র। ঘ। পবিত্র রিযিক তথা খাদ্যে স্বনির্ভরতা।’ (আহমদ; বাইহাকী; মিশকাতঃ ৫২২১

 

আমানতদারীর জন্য উঁচু মর্যাদা

হাদীসে রয়েছে,

عَنْ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّهُ قِيلَ لِلُقْمَانَ الْحَكِيمِ: مَا بَلَغَ بِكَ مَا ترى؟ يَعْنِي الْفَضْلَ قَالَ: صِدْقُ الْحَدِيثِ وَأَدَاءُ الْأَمَانَةِ وَتَرْكُ مَا لَا يَعْنِينِي (رَوَاهُ فِي الْمُوَطَّأِ)

লোকমান হাকীম (রাঃ)-কে (তার কোন এক ভক্ত) জিজ্ঞেস করলেন, আপনার এমন উঁচু মর্যাদা কিভাবে অর্জিত হল? জবাবে তিনি বললেন, সত্য কথন, আমানত প্রত্যার্পন এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস (কথা ও কাজ) বর্জন (এসব স্বভাবের কারণে)।’ (তরজুমুআনুছ ছুন্নাহ-২/৫৬৭, মুআত্তা মালিক; মিশকাতঃ ৫২২৩

 

আমানত রক্ষা না করার পরিণতি

আমানতদারী উঠে যাওয়া কিয়ামতের আলামত

সরকারী বা বেসরকারী, ব্যক্তিগত বা সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কি আন্তঃরাষ্ট্রীয় যে কোন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার মাঝেও আমানতদারীতা রয়েছে। সুতরাং কেউ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন না করে তবে নিশ্চিত আমাতদারীতা পুরণ হবে না। সেটা হবে অবশ্যই আমানতের খিয়ানত। হাদীসে রয়েছে,

عَن أبي هريرةَ قَالَ: بَيْنَمَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: ্রإِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَগ্ধ . قَالَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا؟ قَالَ: ্রإِذَا وُسِّدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَগ্ধ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ)

যখন দেখবে আমানত বিনষ্ট হচ্ছে তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষায় থাকবে। সে বলল, কিভাবে আমানত বিনষ্ট হবে? তিনি জবাব দিলেন, যখন দেখবে কোন (দায়িত্বপূর্ণ)  বিষয় অযোগ্য ব্যক্তির নিকট অর্পন করা হচ্ছে তখন কিয়াতমের অপেক্ষা করতে থাকবে।’ (বুখারী; মিশকাতঃ ৫৪৩৯

 

খিয়ানত এক প্রকার মুনাফিকী

আমানত রক্ষা করলে যেমন তার পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি আমানতের খিয়ানত করলে তার ভয়াবহ পরিণতিও রয়েছে। যেমন হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ( ্রآيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌগ্ধ . زَادَ مُسْلِمٌ: ্রوَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌগ্ধ . ثُمَّ اتَّفَقَا: ্রإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤتمن خَانগ্ধ (مسلم)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি (ক) যখন কথা বলে মিথ্যা বলে (খ) যখন ওয়াদা (অঙ্গীকার) করে তা ভঙ্গ করে (ঘ) তার নিকট যখন আমানত রাখা হয় তখন সে তার খিয়ানত (আত্মসাৎ) করে।’ (বুখারী-৩৩, মুসলিম অপর এক বর্ণনায় আছে যদিও সে, সালাত পড়ে, রোযা রাখে এবং নিজেকে মুসলমান ধারণা করে (তথাপি সে মুনাফিক)।’ (মুসলিম; মিশকাতঃ ৫৫

যেহেতু আমানতের খিয়ানত কারীকে মুনাফিক বলা হয়েছে আর মুনাফিকের শাস্তি হলো জাহান্নামের সর্ব নিম্মস্তর। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,

إنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا ﴿النساء: ١٤٥﴾

নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা থাকবে দোযখের সর্বনিæ স্তরে। আর তোমরা তাদের জন্য কখনও কোন সাহায্যকারী পাবে না।’ -সূরা নিসাঃ ১৪৫

 

খেয়ানতকারী আল্লাহর সাহায্য থেকে দূরে থাকে

হাদীসে কুদসীতে রয়েছে,

عَن أبي هُرَيْرَة رَفَعَهُ قَالَ: " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: أَنا ثَالِث الشَّرِيكَيْنِ مَا لم يخن صَاحِبَهُ فَإِذَا خَانَهُ خَرَجْتُ مِنْ بَيْنِهِمَا ". رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَزَاد رزين: ্রوَجَاء الشَّيْطَانগ্ধ (ابو داؤد)

আল্লাহ তাআলা বলেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমি দুশরীকের তৃতীয় শরীক (অর্থাৎ আমার সাহায্য তাদের সাথে রয়েছে) যতক্ষণ না তাদের একজন অপরজনের সাথে খিয়ানত করেছে। যখনই তারা খিয়ানত করবে তখনই আমি তাদের মধ্য থেকে বের হয়ে যাই।’’-আবূ দাঊদ; মিশকাতঃ ২৯৩৩

 

আমানত লংঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ         

মহানবী (সাঃ) আমানতের খিয়ানতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম একটি কারণ বলেছেন,

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا فَعَلَتْ أُمَّتِي خَمْسَ عَشْرَةَ خَصْلَةً حَلَّ بِهَا الْبَلاَءُ‏.‏ فَقِيلَ وَمَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ إِذَا كَانَ الْمَغْنَمُ دُوَلاً وَالأَمَانَةُ مَغْنَمًا ...................الخ ( رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ)

যখন আমার উম্মতেরা পনেরটি অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়বে তখন তাদের উপর বালা-মসীবত আগমন অবধারিত হয়ে যাবে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: (১) যখন গনীমতের মালকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করা হবে, (২) আমানতকে গনীমত মনে করা হবে---------শেষ পর্যন্ত।’ (তিরমিযীঃ ২২১০

 

খিয়ানত থেকে মুক্তির উপায়

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) খিয়ানত থেকে বেচেঁ থাকার জন্য সর্বদা দুআ করতেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ্রاللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُوعِ، فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيعُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخِيَانَةِ، فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُগ্ধ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলতেন, ‘হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। কারণ তা (মানুষের) নিকৃষ্ট সাথী এবং আমি আপনার নিকট আরও আশ্রয় প্রার্থনা করি (খিয়ানত) প্রতারণা থেকে। কারন তা গোপন চারিত্রিক দোষ।নাসায়ীঃ ৫৪৬৮; আবূ দাঊদঃ ১৫৪৭; ইবন মাজাহঃ ৩৩৫৪

 

উপসংহারঃ

একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী ও শান্তিপূর্ণ সমাজের জন্য উলে­খযোগ্য শর্ত হচ্ছে সমাজের সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি ও আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক। আর আমানতদারী গুণটি সেই আস্থাকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ও সুসংহত করে। অপরদিকে খিয়ানত পারস্পরিক আস্থাকে বিনষ্ট করে দেয়। তাই আমাদের সকলকেই আমানতদার হওয়া বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকেই আমানতের সংরক্ষণের তৌফিক দান করুন।’ (আমীন!!

No comments:

Post a Comment