জুমুআর প্রথম খুৎবা
বিষয়ঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর মিরাজ
তারিখঃ ১২ মার্চ ২০২১
المؤلف
محمد عمر فاروق
اسـتاذ الديـنى لـجيش البنـغلاديـش
০১৭১৭-৯৫৪৩৪৭
اَلْـحَـمْـدُ لِـلّٰـهِ رَبِّ الْـعَـالَـمِـيْـنَ - وَالْـعَـاقِـبَـةُ لِـلْـمُـتَّـقِـيْـنَ وَالـصَّـلَاةُ وَالـسَّـلَامُ عَـلٰـي رَسُـوْلِـهِ الْـكَـرِيْـمِ - وَعَـلٰـي اٰلِـهِ وَاَصْـحَـابِـهِ اَجـْـمَـعِـيْـنَ
اَمَّـا بَـعْـدُ - فَـيَـا اَيُّـهَـا الْـمُـسْـلِـمُـوْنَ الْـكِـرَامُ ! اِنْـشَـاءَ الـلّٰـه - اَلْـيَـوْمَ اِنِّـيْ اُرِيْـدُ اَنْ اَخْـطُـبَ اَمَـامَـكُمْ حَـوْلَ مَــادَّةِ "اهــمــيــة الاسـرآء والــمــعــراج"
১। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহ্ভীরুদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম। দরুদ ও সালাম প্রিয় নবী (সাঃ) ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সমস্ত সাহাবায়ে কিরামের প্রতি।
অতঃপর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন! হে উপস্থিত সম্মানিত মুসল্লিগণ! আল্লাহ চাহেন তো আজ আমি আপনাদের সামনে “রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর মিরাজ” সম্পর্কে খুৎবা (বক্তৃতা) প্রদান করবো।
فيا ايها الحاضرون! انتم تعلمون ان الاسراء والمعراج حق * قد دل صريح الايات القرانية وصحيح الاحاديث النببوية * كما قال الله تعالي في سورة الاسراء بهذا الشان "سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ"
২। সম্মানিত উপস্থিতি! নিশ্চয়ই বিশ্ব শ্রষ্ঠা আল্লাহ তা’আলা তদীয় শ্রেষ্ঠতম প্রিয় নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) দ্বারা যে বিরাট অলৌকিক ঘটনার অবতারণা করেছিলেন সেই বিখ্যাত ঘটনার রাত্রিই পৃথিবীর সর্বত্রই শবে মিরাজ নামে পরিচিত। যা কুরআন ও হাদীস দ্বারা সত্য এবং প্রমানিত। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি, যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়েছি। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।’ (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ১)
وقال عليه الصلوة والسلام- اتاه ملكان فاتيا به عند الكعبة فشُق صدرُه وغُسل بماء " زمزم " كما بَيَّنَ الامام المسلم " قَالَ أَنَسٌ: فَكُنْتُ أَرَى أَثَرَ الْمِخْيَطِ فِي صَدْرِهِ"
৩। মিরাজের ঘটনার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন জিবরাঈল (আঃ) ও মিকাঈল (আঃ)। তাঁরা ঐ মহান রাতে মহানবী (সাঃ) কে পবিত্র কাবা চত্ত¡রে নিয়ে গেলেন। সেখানে তাঁরা মহানবী (সাঃ)-কে মহাভ্রমণের উপযোগী করার লক্ষ্যে আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় ‘জম জম’ পানি দ্বারা ‘সিনা চাক’ (বক্ষ বিদীর্ণ) করলেন। যেমন হাদীসে এসেছে, আনাস (রাঃ) বলেন, ‘অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর বক্ষ বিদীর্ণের চিহ্ন দেখেছি।’ (মুসলিমঃ ১৬২)
وانه اُتِيَ بالبراق وهو دابة ابيض طويلُ ما فوق الحمار ودون البغل * ثم اُسرِيَ به من المسجد الحرام الي المسجد الاقصي وكان ذالك يقظةً لا منامًا وجُمِعَ له الانبياء عليه السلام هناك فصلّي بهم اماما ثم عُرِجَ به الي السمواتِ العلي سماءً بعد سماءٍ وتلقَّاه الانبياءُ المخصوصون لكل سماءٍ بكمال الترحِيبِ والثناءِ حتي بلغ البيتَ المعمورَ وراي سدرةَ المنتهي ووصل النبيُ (ص) الي ما لا يعلمُه الا العليمُ الخبيرُ كما قال الله تعالي في سورة النجم "وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى عِندَ سِدْرَةِ الْمُنتَهَىٰ"
৪। এরপর তাঁরা তাঁকে বোরাক (বিশেষ চলমান সিঁড়ি) নামক দ্রুতগামী বাহনে বায়তুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেলেন। সেখানে মহানবী (সাঃ) অনেক নবীর সালাতের জামাতে ইমামতি করলেন। সবাইকে সালাম করে এবার তিনি বোরাকে আরোহন করে বায়তুল মামুরসহ (ফেরেশতাদের কেবলা) অনেক কুদরত ও নির্দশন দেখে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হলেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে।’ (সূরা নাজমঃ ১৩-১৪)
حتي رأي عزَّ وجلَّ كما قال الله تعالي سورة النجم "ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى ٰفَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ" ولما دنا محمدٌ (ص) ربَّه قال التحياتُ لله والصلواتُ والطيباتُ السلام عليك ايها النبي ورحمة الله وبركاته- فقال النبيُّ (ص) السلام علينا وعلي عِبادِ الله الصالحين- فقال الملائكةُ اشهد ان لا اله الا الله واشهد ان محمدا عبده ورسوله
৫। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আল্লাহর নিকট পৌছে তাঁর প্রশংসা করে বললেন, ‘আমার সমস্ত দৈহিক, আত্মিক ও মানসিক ইবাদত এবং সালাত ও পবিত্রতা আপনার জন্য। জবাবে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর রহমত, বরকত ও শান্তি। আল্লাহর সালাম গ্রহণ করে সমস্ত নেকবান্দাকে শামিল করে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) পুনরায় বলেন, আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর তাঁর শান্তি। সালাম প্রতিসালাম শুনে ফেরেশতাগণ বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমরা আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’
ايها الحاضرون الكرام! ورأي الجنة والنار ورأي كيف يعذَّبُ انواعٌ من العصاةِ والكفارِ وكيف يعذَّبَ الكذَّابون والزُناةُ واكلُ اموالِ اليتمي والِربو والرِشوَة والخمَّارون وغير ذالك
৬। স¤মানিত উপস্থিতি! ঐ রাতে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে যতগুলি বিষয় প্রদর্শন করানো হয়েছিল, তার মধ্যে জান্নাত এবং জাহান্নাম অন্যতম। তিনি (সাঃ) দেখেছিলেন কিভাবে জাহান্নামে আল্লাহদ্রোহী, সুদখোর, মদখোর, ব্যভিচারী, মিথ্যা শপথকারী এবং ইয়াতীম দুঃখির সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণকারীর শাস্তি হচ্ছে। (বুখারীঃ ১৩৮৬)
اَخِيرًا فَرَضَ عليه وعلي امَّتِه خمسِين صلاةً في كلِّ يومٍ وليلةٍ ثُمَّ سَألَه النبيُّ (ص) للتخفِيفِ فخَفَّفَ حتَّي جَعَلَ خمسَ صلواتٍ ولها أجرُ الخمسين واَعطَي خَوَاتِيمَ سورةِ البقرةِ وَغُفِرَ لِمَنْ لَمْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ مِنْ أُمَّتِهِ شَيْئًا الْمُقْحِمَاتُ
৭। অতঃপর উম্মতের কল্যাণার্থে কয়েকটি জিনিস নিয়ে মহানবী (সাঃ) আল্লাহর নির্ধারিত উপায়ে সেই মহান রাত্রিতেই এ পৃথিবীতে ফিরে আসেন। যথাঃ
ক। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যা প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত ছিল।
খ। মহান আল্লাহর বিশেষ করুনাসম্বলিত বাণী; সূরা বাকারার শেষ কয়েকটি আয়াত।
গ। যারা আল্লাহর সাথে কাউকে বিন্দু পরিমান র্শিক করে নাই তাদের জন্য মাগফেরাত।’’ -মুসলিম; মিশকাতঃ ৫৮৬৫
وَفَّـقَـنَـا الـلّٰـهُ سُـبْـحَـانَـهُ وَتَـعَـالٰـي اَنْ نَـفْـهَـمَ هٰـذِهِ الْـخُـطْـبَـةِ وَنَـعْـمَـلَ عَـلَـيْـهَـا - وَبَـارَكَ الـلّٰـهُ لَـنَـا وَلَـكُمْ فِـي الْـقُـرْاٰنِ الْـعَـظِـيْـمِ وَنَـفَـعْـنٰـي وَاِيَّـاكُمْ بِـمَـا فِـيْـهِ مِـنَ الْاَيَـاتِ وَالـذِّكْـرِ الْـحَـكِـيْـمِ- اَقُـوْلُ قَـوْلِـيْ هٰـذَاْ وَاسْـتَـغْـفِـرُ الـلّٰـهَ لِـيْ وَلَكُمْ وَلِـسَـآئِـرِ الْـمُـسْـلِـمِـيْـنَ مِـنْ كُـلِّ ذَنْـبٍ - فَـاسْـتَـغْـفِـرُوْهُ وَتُـوْبُـوْا اِلَـيْـهِ - اِنَّـهُ هُـوَ الـتَّـوَابُ الـرَّحِـيْـمُ
৮। মহান আল্লাহ আমাদেরকে আজকের খুৎবা বোঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন এবং আমাকে ও আপনাদের সবাইকে উল্লেখিত আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ থেকে উপকার লাভ করার তাওফিক দান করুন।
আমি সকল প্রকার পাপ কার্য থেকে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি নিজের, আপনাদের এবং সকল মুসলমানদের পক্ষ থেকে। সুতরাং আপনারাও আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং তাওবা করুণ। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী এবং অসীম করুণাময়।


No comments:
Post a Comment