Sunday, December 13, 2020

১৬ ই ডিসেম্বরঃ বিজয় দিবসঃ মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে আমাদের করণীয়ঃ ইসলামী দৃষ্টিকোন।






১। ভূমিকা

আল্লাহ মানুষের জীবনে জাগতিক যত নিয়ামত প্রদান করেছেন তার অন্যতম নিয়ামত স্বাধীনতা। স্বাধীনতা মানবজাতির জন্য আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত। আর বিজয় দিবস হচ্ছে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণ। আমরা বাঙালি জাতিও আল্লাহ তায়ালার সে নেয়ামত বা দানে সিক্ত। বিজয় বা স্বাধীনতা যে কত বড় আকারের নেয়ামত, যারা এই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত, তারাই কেবল এর প্রকৃত ভুক্তভোগী। কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে  বাঙালি মুসলিম জাতি হিসেবে আমরাও গর্বিত। আমাদের স্বাধীনতার সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো হলো ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। কুরআন ও হাদীসের আলোকে স্বাধীনতা ও বিজয় উপলক্ষে ইসলামের দৃষ্টিকোণ কী? সে বিষয়ে আজ আমরা আলোচনা করব।

 

স্বাধীনতার স্বরূপ

১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ (নয়) মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানী শাষকবর্গের শোষণ, বঞ্চনা ও জুলুমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে আমরা স্বাধীনতার নিয়ামত লাভ করেছি। তাই এ নিয়ামতের প্রতি আমাদের বহুমূখী দায়িত্ব রয়েছে।

 

২। ইসলামে বিজয় উদযাপনের বৈশিষ্ট্য

বছরের চাকা ঘুরে যখন আমাদের ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস আসবে, তখন সে দিনগুলোতে কুরআন সুন্নাহ্র দৃষ্টিতে আমাদের করণীয় কী? এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, নিজের সম্পদ, প্রাণ, পরিবার বা বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলে, দাবি করে বা চেষ্টা করে যদি কেউ নিহত হন তবে তিনি শহীদ বলে গণ্য হবেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ্রمَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شهيدٌগ্ধ(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আব্দুল­াহ্ ইবন আমর য বলেন, যে ব্যক্তি নিজের অধিকার রক্ষা করতে নিহত হন তিনি শহীদ।” -বুখারী; মুসলিম; মিশকাতঃ ৩৫১২

অন্য হাদীসে এসেছে,

عَن سعيدِ بنِ زيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রمَنْ قُتِلَ دُونَ دِينِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دَمِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ أَهْلِهِ فَهُوَ شَهِيدٌগ্ধ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

৩। সাঈদ ইবন যাইদ য হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, যে লোক নিজের দ্বীনকে হিফাযত করতে গিয়ে মারা যায় সে শহীদ। যে লোক নিজের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করে সে শহীদ। যে লোক নিজের ধন মাল রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করে সে শহীদ। যে লোক তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে মারা যায় সেও শহীদ।” -তিরমিযী; আবূ দাঊদ; নাসাঈ; মিশকাতঃ ৩৫২৯

অন্য হাদীসে সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস য বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন,

نِعْمَ الْمَيْتَةُ اَنْ يَّمُوْتَ الرَّجُلُ دُوْنَ حَقِّهِ-(مسند احمد)

যে ব্যক্তি নিজের অধিকার বা হক্ক প্রতিষ্ঠা (রক্ষা) করতে মৃত্যুবরণ করেন তার মৃত্যু কতই না ভাল মৃত্যু।” -মুসনাদে আহমদঃ ১৫৯৮

হাদীসের আলোকে আমরা জানতে পারি যে, নিজের অধিকার, বৈধ সম্পদ বা প্রাণ রক্ষা করতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মৃত্যু শহীদি মৃত্যু।

 

৪। আমাদের দায়িত্ব বা করণীয়

বাস্তবপক্ষে প্রত্যেক বিজয় জাতিরই রয়েছে, মুসলমানেরও আছে। কিন্তু মুসলমানের বিজয় নানা দিক থেকে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র। চিন্তা-আদর্শ, মূল্যায়ন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, কর্মপন্থাসহ সব দিক থেকেই ভিন্ন মাত্রা ও ভিন্ন রকমের।

কোরআনে বিজয়ের দুটি রূপ খুব স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এক. স্বার্থ ও সাম্রাজ্যবাদী বিজয়ের রূপ।

দুই. কল্যাণকামী ও আদর্শবাদী বিজয়ের রূপ।

 

প্রথমটিতে আল্লাহ্ তাআলা বলেন,

إِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوا أَعِزَّةَ أَهْلِهَا أَذِلَّةً ﴿النمل: ٣٤﴾

রাজা-বাদশা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে তখন তা বিপর্যস্ত করে এবং সেখানকার মর্যাদাবান-লোকদের অপদস্থ করে।’ (সুরা নামলঃ ৩৪)

এ ধরনের যুদ্ধ ও যুদ্ধজয় যত দেশে হয়েছে, সেখানে কত জনপদ তছনছ হয়েছে, কত মানুষের রক্ত প্রবাহিত হয়েছে, কত নারীর সম্ভ্রম ভূলুণ্ঠিত করেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কিন্তু বিনিময়ে মানবতা শাসক-প্রভুর বদল ও শোষনের পালাবদল ছাড়া আর কিছুই পায়নি। এ কারণে বিজয়ের এ প্রকারটি মানবতার বিজয় নয়, বরং নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বিজয়।

 

৫। বিজয়ের আরেক রূপের ব্যাপারে কোরআনে বলা হয়েছে,

الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ- ﴿الحج: ٤١﴾

আমি এদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে এরা সালাত আদায় করবে, জাকাত দান করবে এবং সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে, আর সব কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইচ্ছাধীন। (সুরা হজঃ ২২)

 

এ ধরনের বিজয় হচ্ছে সত্য ও আদর্শের বিজয়। মানব, মানবতা ও সততার বিজয়। এই আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এই লেখার শেষাংশে আসবে ইনশা-আল্লাহ্।

 

ইসলামে বিজয় উদ্যাপনের রূপরেখা

মুসলিম হিসেবে আমাদের বিজয়ের গৌরববোধ থাকা উচিত। আর বিজয়ের দ্বিতীয় রূপটিই আমাদের আদর্শ ও মননে। শুধু নীতিগত দিক থেকে নয়, বাস্তব ইতিহাসেও এ রূপটিই আমাদের বিজয়ের রূপ। ইসলামধর্মে বিজয় দিবস উদযাপনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে কি করতে হবে, এ সম্পর্কে অনুসন্ধান করলে কুরআনের দুটি সূরা আমাদের দৃষ্টিতে পড়ে, একটি সূরার নাম হচ্ছে سُوْرَةُ الفَتْحِ (সূরা ফাতাহ্), اَلْفَتْحُ শব্দের অর্থ হচ্ছে বিজয়। আরেকটি সূরার নাম হচ্ছে سُوْرَةُ النَصْرِ (সূরা নাসর), اَلنَّصْرُ শব্দের অর্থ হচ্ছে মুক্তি ও সাহায্য।

৬। আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ (١) وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا (٢) فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا ﴿النصر: ١-٣﴾

যখন আসবে আল্লাহর  সাহায্য ও বিজয়। এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর  দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন, শুকরিয়া আদায় করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।” -সূরা নাসরঃ ১-৩

৭। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরায়ে নাসরে বিজয়ের দিনের তিনটি কর্মসূচী ঘোষণা করেছেনঃ

এক নম্বরঃ فَسَبِّحْবিজয়ের দিন যখন আসবে তখন তোমরা আল্লাহর তাসবীহ পাঠ কর, আল্লাহর বড়ত্ব ও পবিত্রতা বর্ণনা কর।

দুই নম্বরঃ بِحَمْدِ رَبِّكَআল্লাহর হামদ পাঠ কর, আল্লাহর প্রশংসা কর, শুকরিয়া আদায় কর।

তিন নম্বরঃ وَاسْتَغْفِرْهُ  মুক্তিযুদ্ধের সময়, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, জিহাদ চলাকালীন সময় যদি অজান্তে ভুল-ত্রটি হয়ে থাকে তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাও।إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًاনিশ্চয় বান্দা যখন আল্লাহ দরবারে ফিরে যাবে তখন আল্লাহ তার গুনাহকে ক্ষমা করে দেবেন।

لما كان عام الفتحِ، أتت رسولَ اللهِ -صلّى الله عليه وسلّم- وهو بأعلى مكةَ، فقام رسولُ اللهِ إلى غُسلهِ، فسترتْ عليه فاطمةُ رضي الله عنها، ثمّ أخذ ثوبهُ فالتحفَ بهِ، ثمّ صلى ثمانِ ركَعاتٍ سُبْحةَ الضحى

 

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى بَعْدَ مَا ارْتَفَعَ النَّهَارُ يَوْمَ الْفَتْحِ فَأُتِيَ بِثَوْبٍ فَسُتِرَ عَلَيْهِ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ

উম্মে হানী (রা) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন পূর্বাহ্নে রাসুলুল্লাহ (সা) এলেন এবং একটি কাপড় এনে তাঁর জন্য পর্দা করা হল । তিনি গোসল করলেন এবং দাঁড়িয়ে আট রাকআত সালাত আদায় করলেন।

 

৮। আজকের দিনের শপথ এবং দুআঃ

২৬ শে মার্চ ও ১৬ ই ডিসেম্বর যখন আসবে, মুসলমানদের জন্য আল্লাহর দরবারে বিনয়ের সাথে বলা উচিৎ যে, হে আল্লাহ! তুমি আমার জাতিকে স্বাধীন রাষ্ট্র দান করেছ, সে কারণে তোমার শুকরিয়া আদায় করছি। তোমার প্রশংসা করছি, তোমার দ্বারে আমাদের কৃত গুনাহর জন্যে মাপ চাচ্ছি। হে আল্লাহ! স্বাধীনতা অর্জন করা, স্বাধীনতা রক্ষা করা, স্বাধীনতার মাধ্যমে পৃথিবীতে দেশের সুনাম উজ্জল করা কঠিন। হে আল্লাহ! আমরা সেই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু এই স্বধীনতায় যদি তুমি সাহায্য না কর, কখনো আমরা তা হিফাজত করতে পারবনা। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের স্বাধীনতা হিফাজত কর। সম্মান ও মর্যাদার সাথে যেন পৃথিবীর মধ্যে টিকে থাকতে পারি, আমাদেরকে সে তাওফীক দান কর, এটাই হচ্ছে আজকের দিনের শপথ এবং দুআ।

 

৯। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমাদের আজকের দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচী হলোঃ

প্রথমত, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

দ্বিতীয়ত, শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

তৃতীয়ত, শহীদদের জন্য দুআ ও ইস্তেগফার করা এবং

চতুর্থত, স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় তাঁদের রেখে যাওয়া দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়া।

 

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রথম পর্যায়

যে কোন নিয়ামত স্থায়িত্বের এবং বৃদ্ধির প্রথম শর্ত হলো মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। মহান আল্লাহ বনী ইসরাঈলদেরকে ফেরাউনের শোষণ ও নিপীড়ন থেকে স্বাধীনতা প্রদান করে বলেন,

وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِن كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ ﴿ابراهيم: ٧﴾

এবং যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য আমার নিয়ামত বাড়িয়ে দিব। আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’’ -সূরা ইব্রাহীমঃ ৭

কিন্তু মানবীয় প্রকৃতির একটি দূর্বল দিক হলো মানুষ আল্লাহর নিয়ামত লাভ করার পরে তা নিজেদের যোগ্যতায় অর্জিত বলে দাবি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنَاهُ نِعْمَةً مِّنَّا قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَىٰ عِلْمٍ بَلْ هِيَ فِتْنَةٌ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿الزمر: ٤٩﴾

১০। যখন কষ্ট-দৈন্য মানুষকে স্পর্শ করে তখন সে আমাকে ডাকে। অতপর যখন আমি তাকে কোন নিয়ামত প্রদান করি তখন সে বলে, আমি তো তা লাভ করেছি নিজের জ্ঞানের মাধ্যমে। বস্তুত এটি একটি পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।’’ -সূরা যুমারঃ ৪৯

 

জীবনের সকল নিয়ামত ও সফলতাই মহান আল্লাহর দান। আবার প্রত্যেক নিয়ামত, সৌভাগ্য ও সফলতার পিছনে ব্যক্তির নিজের ও অন্য অনেক মানুষের অবদান থাকে। সকলের অবদানের স্বীকৃতি অত্যাবশ্যকীয়। তবে আমাদের সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে, নিজের যোগ্যতা, শ্রম বা অন্যান্য সকলের কষ্ট সবই ব্যর্থ হতো যদি আল্লাহর দয়া না হতো। যেমন

স্বাধীনতার কথাই ভাবুন। আমাদের চোখের সামনে স্বাধীনতার জন্য পৃথিবীর অনেক জনগোষ্ঠী যুগযুগ ধরে সংগ্রাম করছেন, আত্মহূতি দিচ্ছেন, সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু স্বাধীনতা লাভ করতে পারছেন না। অথচ আল্লাহ সীমিত সময়ের মধ্যে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সফলতা দান করেছেন। আমাদেরকে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে যে, এ সফলতা একান্ত আল্লাহর দান।

সর্বান্তকরণে এ উপলব্ধি না থাকা বা নিয়ামতটি নিজেদের ত্যাগ, কষ্ট বা বুদ্ধি-কৌশলের মাধ্যমে অর্জিত বলে বিশ্বাস করার অর্থ মহান আল্লাহর প্রতি কঠিনতম অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

 

১১। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হলো যে সকল মানুষের চেষ্টা ও ত্যাগের মাধ্যমে এ নিয়ামত অর্জিত হয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, তাদের অবদানের কথা স্মরণ ও আলোচনা করা, তাদের প্রশংসা করা এবং তাদের জন্য দুআ করা।

এ বিষয়ে কয়েকটি হাদীস বর্ণিত রয়েছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللَّهَগ্ধ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ

যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতিও অকৃতজ্ঞ।” -আহমদ; তিরমিযী; মিশকাতঃ ৩০২৫

অন্য বর্ণনায় এসেছে,

عَنِ الْأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّ أَشْكَرَ النَّاسِ لِلَّهِ أَشْكَرُهُمْ لِلنَّاسِগ্ধ

সে আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে বেশী কৃতজ্ঞ যে মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশী কৃতজ্ঞ।” -মুসনাদে আহমদঃ ২১৮৪৬

وَمَنْ صَنَعَ اِلَيْكُمْ مَعْرُوْفًا فَكَاْفِئُوْهُ فَاِنْ لَمْ تَجِدُوْا مَا تُكَاْفِئُوْنَهُ فَادْعُوْا لَهُ حَتَّي تَرَوْا أَنَّكُمْ قَدْ كَاْفَاْتُمُوْهُ (رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ)

১২। যদি কেউ তোমাদের কোন উপকার করে তবে তাকে প্রতিদান দিবে। প্রতিদান দিতে না পারলে তার জন্য এমনভাবে দুআ করবে যেন তোমরা অনুভব কর যে, তোমরা তার প্রতিদান দিয়েছ।” -আহমদ; আবূ দাঊদ; নাসাঈ; মিশকাতঃ ১৯৪৩

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রمَنْ أُعْطِيَ عَطَاءً فَوَجَدَ فَلْيَجْزِ بِهِ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُثْنِ بِهِ، فَمَنْ أَثْنَى بِهِ فَقَدْ شَكَرَهُ، وَمَنْ كَتَمَهُ فَقَدْ كَفَرَهُগ্ধ (رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد)

কাউকে যদি কিছু প্রদান করা হয় তবে সে যেন তাকে প্রতিদান দেয়। যদি প্রতিদান দিতে না পারে তবে সে যেন তার গুণকীর্তন ও প্রশংসা করে। যে ব্যক্তি উপকারীর গুণকীর্তন ও প্রশংসা করল সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। আর যে উপকারীর উপকারের কথা গোপন করল সে অকৃতজ্ঞ।” -আবূ দাঊদ; তিরমিযী; মিশকাতঃ ৩০২৩

عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: ্রمَنْ أُتِيَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ، فَلْيُكَافِئْ بِهِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ، فَلْيَذْكُرْهُ، فَمَنْ ذَكَرَهُ، فَقَدْ شَكَرَهُ ( احمد)

১৩। যদি কাউকে কোনভাবে উপকার করা হয় তবে সে যেন তাকে প্রতিদান দেয়। যদি প্রতিদান দিতে না পারে তবে সে যেন তার কথা স্মরণ করে ও উলে­খ করে। এতে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে।” -মুসনাদে আহমদঃ ২৪৫৯৩

 

এ সকল হাদীসের আলোকে আমরা বুঝতে পারি যে, জাতি, ধমর্, বণর্, দল, মত নির্বিশেষে স্বাধীনতা অর্জনের পিছনে যাদেরই অবদান রয়েছে তাদের সকলের প্রতি ব্যক্তিগত ও জাতীয়ভাবে হৃদয়, মন ও মুখ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এ জন্য সকল প্রকার পক্ষপাতিত্ব পরিত্যাগ করে তাদের ত্যাগের প্রকৃত তথ্য পরবর্তী প্রজন্ম ও বিশ্বকে জানানো, তাদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা, তাদের অবদানের সঠিক তথ্য উলে­খ করা, স্মরণ করা, আলোচনা করা, লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা, তাদের মধ্যে যারা জীবিত রয়েছেন তাদের প্রতিদানের চেষ্টা করা ও তাদের কল্যাণের জন্য দুআ করা এবং তাদের মধ্যে যারা তাওহীদ ও রিসালাতের ঈমান নিয়ে মৃত্যু বরন করেছেন তাদের জন্য আখিরাতের মুক্তি ও কল্যাণের দুআ করা আমাদের ঈমানী ও দীনী দায়িত্ব।

১৪। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চতুর্থ পর্যায়

আল্লাহ তাআলা বলেন,

الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ- ﴿الحج: ٤١﴾

আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করি তবে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, ন্যায় (সৎ) কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করবে।’’ -সূরা হাজ্জঃ ৪১

 

এখানে আল্লাহ তাআলা স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা লাভকারীদের (পরবর্তী শাসকদের) জন্য চারটি মৌলিক দায়িত্বের কথা উলে­খ করেছেন।

প্রথমত: সালাত কায়েম করা।

দ্বিতীয়ত: যাকাত প্রদান করা।

তৃতীয় ও চতুর্থত: ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ, তথা দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন।

 

১৫। বস্তুত, সমাজের অধিকাংশ মানুষই সততা পছন্দ করেন এবং ঝামেলা, দুর্নীতি, অন্যায় ও জুলুম থেকে দূরে থাকতে চান। কিন্তু সমাজে যদি আইনের শাসন না থাকে, দুষ্ট ব্যক্তি তার অন্যায় কর্মের শাস্তি না পেয়ে অন্যায়ের মাধ্যমে লাভবান হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি তার যোগ্যতার মূল্যায়ন ও পুরস্কার না পাওয়ার কারণে সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আর এটি হলো দেশ ও সমাজ ধ্বংসের একটি বড় পথ।

 

এজন্য স্বাধীনতা লাভকারী জনগোষ্ঠীর অন্যতম দায়িত্ব হলো সমাজের সর্বস্তরে আইনের শাসন, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের শক্তিশালী ধারা তৈরী করা। এটি সকল নাগরিকের দায়িত্ব। এ বিষয়ে অবহেলা করা, অবহেলার পরিবেশ তৈরী করা বা অবহেলা মেনে নেয়া সবই আমাদের জাগতিক ক্ষয়ক্ষতি ও আখিরাতের শাস্তির মুখোমুখি করবে। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন,

إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ ﴿الرعد: ١١﴾

আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।’’ -সূরা রাদঃ ১১

 

১৬। এ জন্য আল্লাহর ভয় ছাড়া প্রকৃত সততা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সমাজ, পৃথিবীর আইন বা রাষ্ট্রের কাছে নিন্দিত বা নন্দিত হওয়ার ভয় বা লোভ মানুষকে দুর্নীতির প্ররোচনা থেকে কিছুটা রক্ষা করতে পারে। কিন্তু সকলেই জানে সমাজ, রাষ্ট্র বা পৃথিবীর আইনকে ফাঁকি দেওয়া যায়। আবার সমাজ অধিকাংশ সময় সততার সঠিক মূল্যায়ন করতেও ব্যর্থ হয়। এজন্য প্রকৃত সততা তৈরি করতে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই।

 

আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) হলো আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে আতœরক্ষার অনুভূতি। অর্থাৎ দুর্নীতি, অসততা, অবৈধ উপার্জন, মানুষের ক্ষতি, জনগণ বা রাষ্ট্রের সম্পদ অপব্যবহার বা অপচয়, মানুষের অধিকার নষ্ট করা, অশ্লীলতা, মাদকতা ও অন্যান্য সকল হারাম কর্ম বর্জন করা এবং সকল ফরয ইবাদত ও দায়িত্ব পালন করাই তাকওয়া।

আর এ তাকওয়া অর্জন করতে পারলে জাগতিক উন্নতি ও বরকত উভয় লাভ করা অতি সহজ হবে বলে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন,

وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَالْأَرْضِ ﴿الأعراف: ٩٦﴾

আর যদি কোন জনপদের অধিবাসীরা (মানুষেরা) ঈমান আনত এবং তাকওয়া (পরহেযগারী) অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের নিয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম।’’ -সূরা আরাফঃ ৯৬

 

১৭। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, এবিষয়ে (তাকওয়ার ক্ষেত্রে) অবহেলা যদি ব্যাপকতা লাভ করে তবে স্বাধীনতা বিপন্ন হয়, বিজাতীয় শক্ররা জাতীয় সম্পদ লুন্ঠন করে এবং জাগতিক শাস্তি ও কষ্ট পাওনা হয়। যেমন

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، قَالَ : أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : " يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ ، خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ ، لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ ، حَتَّى يُعْلِنُوا ، بِهَا إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالْأَوْجَاعُ ، الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا ، وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ ، إِلَّا أُخِذُوا بِالسِّنِينَ ، وَشِدَّةِ الْمَئُونَةِ ، وَجَوْرِ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ ، وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ إِلَّا مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ ، وَلَوْلَا الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللَّهِ ، وَعَهْدَ رَسُولِهِ إِلَّا سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ ، فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ ، وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَّا جَعَلَ اللَّهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ " (ابن ماجة : ১৩৩২)

১৮। আব্দুল­াহ ইবন উমর য হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (একদিন) আমাদের নিকট আগমন করে বললেন, হে মুহাজিরের দল! তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয় দিয়ে পরীক্ষা করা হবে। আর আমি আল্লাহর  নিকট প্রার্থণা করছি যেন তোমাদের নিকট সেই বিষয়গুলোর আগমন না ঘটে। আর তা হলোঃ (১) যখন কোনো স¤প্রদায়ের মধ্যে অশ−¬ীলতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, তারা প্রকাশ্যে সেই অশ−ীলতায় লিপ্ত হতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে এমন সব রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে দেখা যায় নি। (২) যখন কোনো স¤প্রদায়ের মানুষেরা ওজনে কম বা ভেজাল দিতে থাকে, তখন তারা দুর্ভীক্ষ, জীবনযাত্রার কাঠিন্য ও প্রশাসন বা ক্ষমতাশীলদের অত্যাচারের শিকার হয়। (৩) যদি কোনো স¤প্রদায়ের মানুষেরা যাকাত প্রদান না করে, তাহলে তারা অনাবৃষ্টির শিকার হয়। যদি পশু-পাখি না থাকতো তাহলে তারা বৃষ্টি থেকে একেবারেই বঞ্চিত হতো। (৪) যখন কোনো স¤প্রদায়ের মানুষেরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওয়াদা বা আল্লাহর  নামে প্রদত্ত ওয়াদা ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের কোনো বিজাতীয় শক্রকে তাদের উপর ক্ষমতাবান করে দেন, যারা তাদের কিছু স¤পদ নিয়ে যায়। (৫) আর যদি কোনো স¤প্রদায়ের শাসকবর্গ ও নেতাগণ আল্লাহর  কিতাব (পবিত্র কুরআন) অনুযায়ী বিচার শাসন না করে এবং আল্লাহর  বিধানের সঠিক ও ন্যায়ানুগ প্রয়োগের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা না করে, তখন আল্লাহ তাদের পর¯পরের মধ্যে শক্রতা ও সংঘর্ষ বাধিয়ে দেন।” -ইবন মাজাহঃ ১৩৩২

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন,

وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا قَرْيَةً كَانَتْ آمِنَةً مُّطْمَئِنَّةً يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِّن كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ اللَّهِ فَأَذَاقَهَا اللَّهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ ﴿النحل: ١١٢﴾

১৯। আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন একটি জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেথায় আসত সবদিক থেকে প্রচুর জীবনোপকরণ। অতঃপর তারা আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কারণে স্বাদ আস্বাদন করালেন, ক্ষুধা ও ভীতির।’’ -সূরা নাহলঃ ১১২

 

স্বাধীনতা যেন স্বেচ্ছাচারিতায় পর্যবসিত না হয়, তাই স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে এবং এর সঠিক মর্যাদা দিতে আমাদের সবাইকে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় কাতারবন্দী (সারিবদ্ধ) হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُم بُنْيَانٌ مَّرْصُوصٌ ﴿الصف: ٤﴾

২০। “আল্লাহ ঐ সমস্ত সংগ্রামকারীদেরকে (মুজাহিদ) ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় কাতারবন্দী (সারিবদ্ধ) হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে।’’ -সূরা ছফ্ঃ ৪

 ২২। উপসংহার

উপরে বর্ণিত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, জীবন, সম্পদ ও ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা এবং জীবনোপকরণে সহজলভ্যতা বা স্বচ্ছলতা একটি স্বাধীন জনগোষ্ঠীর জন্য মহান আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত। আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হলে এর বিপরীতে ক্ষুধা, অস্বচ্ছলতা ও নিরাপত্তাহীনতার পোষাক আল্লাহ পরিধান করান। হৃদয়ের অনুভব দিয়ে, এ নিয়ামতকে আল্লাহর দয়ার দান বলে বিশ্বাস করে, স্বাধীনতা অর্জনে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, স্বাধীনতাকে আল্লাহর নির্দেশমত পরিচালনা করে তথা সালাত, যাকাত, তাকওয়া ও আইনের শাসনের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা করে আমাদেরকে এ নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার তাওফীক আল্লাহ আমাদের সবাইকে দান করুণ।’’ -আমীন!!

 

No comments:

Post a Comment