Saturday, October 10, 2020

জুমার খুতবাঃ (২৭) ওহী অবতরনের সূচনা ও পদ্ধতি

ওহী অবতরনের সূচনা ও পদ্ধতি

 بسم الله الرحمن الرحيم

শুরু করছি পরম দাতা ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أرسله الله بالحق بشيرا ونزيرا بين يدي الساعة*من يطع الله ورسوله فقد رشد ومن يعص الله ورسوله فقد غوى ولا يضر إلا نفسه*

১। আল্লাহর জন্য সকল প্রসংশা, আমরা তাঁরই প্রসংশা করছি এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি। এবং তার কাছেই ক্ষমা চাচ্ছি।আর আমাদের মনের অনিষ্ট ও মন্দ কর্ম থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।যাকে আল্লাহ হেদায়েত দান করেন তাকে কেউ পথ ভ্রষ্ট করতে পারে না,আর যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ সৎপথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, তিনি একক তাঁর কোন অংশীদার নেই, আর আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ কিয়ামতের পূর্বে তাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী রূপে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে সে সৎপথ প্রাপ্ত হবে, আর যে তাঁদের নাফরমানী করবে নিঃসন্দেহে সে পথভ্রষ্ট হবে এবং সে নিজেরই ক্ষতি করবে।

أما بعد. يا معاشر الحاضرين الكرام ! رحمه الله، موضوع خطبة اليوم "بدؤ نزول الوحي وكيفيته" قد بدأ نزول الوحي في غار حراء من أحد جبل مكه المكرمة يسمی به جبل النور، فئ السنة ستة مأة عشر الميلادي في مؤرخة سبعة عشر من رمضان المبارك. جاء جبريل عليه السلام بهذه الآية الكريمة " اقرأ باسم ربك الذي خلق * خلق الإنسان من علق* اقرأ وربك الأكرم* الذي علم بالقلم* علم الإنسان ما لم يعلم* (سورة العلق۔ ১-৫) وهذه الأيه أول ما نزل من أية الكريمة على رسول الله صلى الله عليه وسلم۔

২। অতঃপর মনোযোেগ সহকারে শ্রবন করুন, হে সম্মানিত উপস্থিতি! আমাদের আজকের খুৎবার আলোচ্য বিষয় হলো “ওহী অবতরণের সূচনা ও পদ্ধতি সম্পর্কে। ৬১০ খৃষ্টাব্দের ১৭ রমযান সম্মানিত নগরী মক্কার অন্যতম হেরা পর্বতের গুহায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর ওহী নাযিলের সূচনা হয়। হযরত জিব্রাঈল আঃ সেখানে এই আয়াত সমূহ নিয়ে নাযিল হন। “পড়–ন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন , শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।” (সূরা আলাক-১-৫) এটি ছিল রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর নাযিল হওয়া আল কোরআনের প্রথম অংশ।

معنى الوحي: الإشارة ، وإرسال الخط ، وإرسال الرجل بالكلام ، والنجوى، وأوحى وغير ذالك  كما قال الله تعالى: فأوحى إليهم أن سبحوا بكرة وعشيا* (سورة مريم. ۱۱)  كيفية نزول الوحى. كما قال الله تعالى: وما كان لبشر أن يكلمه الله إلا وحيا أو من وراء حجاب أو يرسل رسولا فيوحي بإذنه ما يشاء انه علي حكيم * (سورة شوری۔ ৫১) أيها الحاضرون الكرام! قال علامة سهیلی بناء هذه الآية ان كيفية نزول الوحي التالية

৩। ওহী শব্দের অর্থ ঃ

ওহী অর্থ ইশারা করা, কিছু লিখে পাঠানো, কোন কথাসহ লোক প্রেরণ, গোপনে অপরের সাথে কথা বলা ও ইঙ্গিতে কথা বলা, ইত্যাদি। যেমন মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেনঃ “অতঃপর আল্লাহ্ তাদেরকে ইঙ্গিতে বললেন, তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ কর।”(সূরা মারইয়াম-১৯ ঃ ১১) ওহী অবতরণের পদ্ধতিঃ মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেন “কোন মানুষই এ মর্যাদার অধিকারী নয় যে, আল্লাহ্ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তিনি কথা বলেন, হয় অহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার আড়াল থেকে, কিংবা তিনি কোন ফেরেশতা পাঠান এবং সে তাঁর হুকুমে তিনি যা চান অহী হিসেবে তা প্রদান করেন। তিনি সুমহান ও সুবিজ্ঞ।” (সূরা শূরা- ৪২ ঃ ৫১) সম্মানিত উপস্থিতি! এই আয়াতের উপর ভিত্তি করে আল্লামা সুহাইলী (রঃ) বলেন, ওহী। নাযিল হয়েছে নিম্নোক্ত পদ্ধতিসমূহে।

أولا: الرؤيا الصادقة: وكان هذا في أول زمان النبوة عن عائشة (رض) قالت كان أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصادقة في النوم فكان لا يري رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح۔ (بخاری) والثاني: نفث الوحي في الروح: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أن روح القدس نفث في روحى - (بیهقی) والثالث: جاء جبرائيل أحيانا بصورة البشر: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أحيانا يتمثل لى الملك رجلا فيكلمني فأعي ما يقول۔ (بخاری)

৪। প্রথমতঃ সত্য স্বপ্নযোগেঃ এটা নবুয়ত লাভের প্রাথমিক অবস্থা। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ওপর ওহীর সূচনা হয় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, মনে হতো যেন দিনের আলোয় তিনি তা দেখছেন। (বুখারী হা. ইং ৩, ওহী অধ্যায়) ২য়তঃ (অন্তরে ওহী ফুঁকে দেয়ার মাধ্যমে ও রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেনঃ জিবরাঈল (আঃ) আমার অত্মরে এই কথা ফুকিয়ে দিলেন।” (বায়হাকী) তৃতীয়ত ঃ মানুষের বেশে ফেরেশতার আগমনে মধ্যমে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ “কখনো কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারন করে আমার সাথে কথা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই। (বুখারী হা. ইং ২, ওহী অধ্যায়)

والرابع: من وراء الحجاب: في بعض اوقات أوحى الله سبحانه وتعالى إلى رسوله من وراء حجاب. كما قال تعالى: وما كان لبشر أن يكلمه الله إلا وحيا أو من وراء حجاب *(شوری۔ ৫১) والخامس: مثل صلصلة الجرس: يأتي الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم: مثل صلصلة الجرس وكان هذا أشده عليه. كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أحيانا يأتيني مثل صلصلة الجرس وهوا آشده علي فيفصم عنى وقد وعيت عنه ما قال- (بخاری)

৫। চতুর্থত? পর্দার অন্তরাল থেকে ও কোনো কোনো আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের কাছে ওহী পাঠাতের পর্দার আড়াল থেকে। যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন “কোন মানুষই এ মর্যাদার অধিকারী নয় যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তিনি কথা বলেন, হয় অহীর মাধ্যমে অথবা পর্দার আড়াল থেকে।” (সূরা শুরা-৪২ ঃ ৫১) পঞ্চমতঃ ঘন্টা ধ্বনীর ন্যায় ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট কোনো কোনো সময় ওহী নাযিল হতো ঘন্টার আওয়াজের ন্যায়। ওহীর এ পদ্ধতি ছিল রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট ওহীর কঠিনতম পদ্ধতি। যেমন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, কোনো কোনো সময় ওহী ঘন্টা বাজার মত আমার নিকট আসে। আর এটিই আমার উপর সবচেয়ে কষ্টদায়ক হয় এবং তা শেষ হতেই ফেরেশতা যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।” (বুখারী-২, ওহী অধ্যায়)

 مقصد نزول الوحي: أيها المسلمون الكرام! قال الله تعالى: الر كتاب أنزلناه إليك ليخرج الناس خانه من الظلمات إلى النور بإذن ربهم إلى صراط العزيز الحميد* (ابراهیم-۱) وفقنا الله وتعالي أن نفهم هذه الخطبه ونعمل بها. وبارك الله لنا ولكم في القرآن العظيم ونفعني وإياكم بما فيه من الآيات والذكر الحكيم- أقول قولي هذا واستغفر الله لي ولكم ولسائر المسلمين من كل تب فاستغفروه وتوبوا إليه انه هو التواب الرحيم 

৬। ওহী নাযিলের উদ্দেশ্য ও সম্মানিত মুসলিমবৃন্ধ! এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন “আলিফ লাম-রা; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি- যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন- পরাক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য পালনকর্তার নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে।” (সূরা ইব্রহীম-১৪ ঃ ১) মহান আল্লাহ আমাদেরকে আজকের খুতবা বোঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন এবং আমাকে ও আপনাদের সবাইকে উল্লেখিত আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ থেকে উপকার লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমি সকল প্রকার পাপকার্য থেকে আল্লাহর নিকট প্রার্থণা করছি নিজের, আপনাদের এবং সকল মুসলমানদের পক্ষ থেকে। সুতরাং আপনারাও আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করুন এবং তাওবা করুন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী এবং অসীম করুণাময়।


No comments:

Post a Comment