الحمد لله رب
العالمين, والصلوة والسلام علي رسوله الكريم وعلي اله واصحابه اجمعين- امَّا بعد
সম্মানিত উপস্থিতি! আজ ইংরেজী ...........মাসের
.............তারিখ এবং আরবী..........মাসের .........জুমুআ। আজ আমরা
..............সম্পর্কে আলোচনা করব ইন্শায়াল্লাহ্।
ভূমিকাঃ
ইসলাম ধর্মের বিধি-নিষেধ আল-কুরআন, আল-হাদীস ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা দীনের অনেক কথা শুনি, জানি তবুও কেন দীনদার হতে পারি না। আমাদেরকে দীনের পথে পৌঁছাতে
যে সব বিষয় গুলো বাঁধা দেয়, তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য
দিক গুলো নিম্মে আলোচনা করা হলোঃ
১। শয়তানের প্ররোচনাঃ
শয়তান প্ররোচনা দিয়ে আমাদেরকে আগামীর চককরে ফেলে
রাখে। আজ করব না কাল করব; বার্ধক্যে করব। মুসলমান
মাত্রই উপলব্ধি করে আল্লাহ এবং রাসূলের হুকুম মানা উচিৎ, কিন্তু এ রোগ এসে বাধা দেয়। তাই হুকুম পালনে বিলম্ব
হয়।
বর্তমানকে কাজে লাগাতে হবে, এখন যতটুকু সুস্থ্য আছি কাজে লাগাতে হবে, এখন যে টাকা পয়সা আছে তা দ্বারা দান করতে হবে, অবসর কাজে লাগাতে হবে। এ প্রসংগে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,
عَنْ عَمْرِوبْنِ
مَيْمُونٍ الْأَوْدِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
لِرَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُهُ: " اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ
هَرَمِكَ وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ وَفَرَاغَكَ قَبْلَ
شُغْلِكَ وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ ". رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ (رواه الترمذي
,مشكوة-৩/১২২-৫১৭৪)
পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দাও। তা হচ্ছে: বয়স্ক হওয়ার
পূর্বে যৌবনকে, অসুস্থ্য হওয়ার পূর্বে সুস্থ্যতাকে, দরিদ্র হওয়ার পুর্বেই সচ্ছলতাকে, ব্যস্ত হওয়ার পূর্বে অবসরকে এবং মৃত্যু হওয়ার পূর্বে জীবিত অবস্থার
সময় গুলোর কালক্ষেপন করা যাবে না।’’ -তিরমিযী; মিশকাত-খ. ৩, পৃ. ১২২, হাঃ ৫১৭৪
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَا تَزُولُ قَدَمَا
ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ: عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا
أَفْنَاهُ وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلَاهُ وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ
وَفِيمَا أَنْفَقَهُ وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ؟ ". (رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
,مشكوة-৩/১৪৩৫-৫১৯৭)
পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত বান্দার
পা (কিয়ামতের দিন) নড়বে না । ১। প্রশ্ন করা হবে তার বয়স সম্পর্কে যে, কি কাজে সে তা শেষ করেছে; ২। তার ইলম সম্পর্কে তদনুযায়ী কি আমল করেছে সে; ৩। তার সম্পদ সম্পর্কে কোথা সে তা অর্জন করেছে এবং ৪। কোথায় তা ব্যয় করেছে; ৫। তার শরীর সম্পর্কে সে কিসে তা বিনাশ করেছে।’’ - তিরমিযী; মিশকাত-খ. ৩, পৃ. ১৪৩৫, হাঃ ৫১৯৭
শয়তান চায় কুরআনের ভাষায়,
قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي
لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ* ثُمَّ لَآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ
وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَائِلِهِمْ ۖ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ
شَاكِرِينَ ﴿الأعراف: ١٧-١٦﴾
সে বলল: আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। এরপর তাদের
কাছে ্আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ
পাবেন না। -সূরা আল আ‘রাফঃ ১৬-১৭
আগামীর চক্করের রোগ, মনের রোগ দুরস্ত করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,
أَلَا إِنَّ فِي
الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ , وَإنْ فَسَدَتْ فَسَدَ
الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ(مُتَّفق عَلَيْهِ ,مشكوة-২/৮৪৩-২৭৬২)
জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক
হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল কলব। বুখারি; মুসলিম;
শয়তান কখনো খারাপ আকৃতিতে কখনো উপদেষ্টা হিসেবে
আসে মানুষের কাছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,
عَنْ أَنَسٍ قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الانسان
مجْرى الدَّمগ্ধ(مُتَّفَقٌ
عَلَيْهِ ,مشكوة-১/২৬-৬৮)
নিশ্চয়ই শয়তান মানব দেহে রক্তের মত চলাচল করে।
বোখারীঃ ২০৩৮
২। খারাপ পরিবেশঃ
খারাপ পরিবেশ মানুষকে ধ্বংস করে। ভাল পরিবেশ ভাল
পথে চলতে সাহায্য করে। তাই আল্লাহ তা‘য়ালা ভাল হওয়ার নির্দেশের
সাথে সাথে ভাল লোকদেও সংশ্রবের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘য়ালা বলেছেন,
يَا
أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ ﴿التوبة:
١١٩﴾
‘‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।’’ -সূরা তাওবাঃ ১১৯
দুনিয়াতে যে যত বেশী ভাল মানুষের সাথে ওঠা বসা
করবে,
সে ততবেশী ভাল হতে পারবে। দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভাল মানুষ ছিলেন
রাসূলুল্লাহ সাঃ । রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর সাথে উঠা-বসার কারণে সাহাবীরা উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে ভাল
মানুষ হিসেবে আজও সমাদৃত।
৩। অমর্যাদাকর মনে করাঃ
দীনের উপর চলাকে অমর্যাদা মনে করা। শরীয়তের পোশাক
পরলে হুজুর/মোল্লা বলবে, এই লজ্জায় ধর্মের
কাজ থেকে দূরে থাকা। এটা আসলে লজ্জাবোধ নয় বরং হীনমন্যতা বোধ। আমি দীনের কাজ করবো কারো
পরওয়া করবোনা। এটাই হলো দ্বীনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। শরম হলো গুনাহ কওে কিভাবে কোন লজ্জায়
আল্লাহর সামনে দাড়াবো। অথচ টুপি, দাড়ি, পর্দা ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর সামনে কিভাবে মুখ দেখাবো? একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)সাহাবীদেরকে বললেন,
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ
أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ لِأَصْحَابِهِ: ্রاسْتَحْيُوا مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِগ্ধ قَالُوا: إِنَّا نَسْتَحْيِي مِنَ اللَّهِ
يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ قَالَ: ্রلَيْسَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ مَنِ اسْتَحْيَى مِنَ اللَّهِ
حَقَّ الْحَيَاءِ فَلْيَحْفَظِ الرَّأْسَ وَمَا وَعَى وَلْيَحْفَظِ الْبَطْنَ وَمَا
حَوَى وَلْيَذْكُرِ الْمَوْتُ وَالْبِلَى وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ تَرَكَ زِينَةَ
الدُّنْيَا فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدِ اسْتَحْيَى مِنَ اللَّهِ حَقَّ الْحَيَاءِগ্ধ " . رواه أحمد والترمذي ,مشكوة-১/৩৬২-১৬০৮)
‘‘তোমরা আল্লাহর শরম ভিতরে আনো, আল্লাহকে শরম কর। সাহাবায়েকেরাম (রাঃ) বললেন, এ শরমতো আমাদের আছে। নবীজি সাঃ বললেন এ শরম না, বরং আল্লাহকে শরম করা হচ্ছে তোমার মাথা এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট
অঙ্গ গুলোকে গোনাহ থেকে রক্ষা করা, পেট ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গগুলো গোনাহ হতে রক্ষা করা মৃত্যু ও তৎপরবর্তী বিপদ-আপদের
কথা স্মরণ রাখবে। যে আখিরাত চায় সে পার্থিব সৌন্দর্যকে পরিত্যাগ করে ও দুনিয়ার উপর
আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেয়। এটাই হলো প্রকৃত শরম। গুনাহ করলে আল্লাহর কাছে লজ্জিত হতে
হবে।’’ -আহমদ; তিরমিযী; মিশকাত-খ. ১, পৃ. ৩৬২, হাঃ ১৬০৮
শিখদের ধর্ম পালন-দাড়ি, পাগড়ি, হিন্দুরা ধুতি, পৈতা, সিদুর, তিলক পরে শরম নেই শরম শুধু মুসলমানদের।
৪। সম্পদের মোহঃ
সম্পদের মোহে হালাল হারাম এর ধার ধারেনা। ক্ষেত
খামার ব্যবসা-বানিজ্য, অফিস আদালতের ব্যস্ততার
কারণে দ্বীন পালন সম্ভব নয়। পরিবার আত্মীয় -স্বজনের খোঁজ-খবর নেওয়া যায় না, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ*
حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ﴿التكاثر: :٢-١﴾
‘‘প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে, এমনকি, তোমরা কবরস্থানে
পৌঁছে যাও।’’ - সূরা তাকাছুরঃ ১-২
হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ
مَالِكٍ قالَ : قالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " يَهْرَمُ
ابْنُ آدَمَ وَيَشِبُّ مِنْهُ اثْنَتَانِ الْحِرْصُ عَلَى الْمَالِ وَالْحِرْصُ عَلَى
الْعُمُرِ" (متفق عليه ,مشكوة-৩/১৪২-৫২৭০)
‘‘মানুষ বৃদ্ধ হয় তখন তার দু‘টি বিষয় জোয়ান হতে থাকে, একটি সম্পদের লোভ
অন্যটি বয়স বৃদ্ধির আকাংক্ষা।’’ -বুখারী; মুসলিম; মিশকাত-খ. ৩, পৃ. ১৪২, হাঃ ৫২৭০
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রلَوْ كَانَ [ص:১৪৫১] لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى
ثَالِثًا وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى
مَنْ تَابَগ্ধ (مُتَّفَقٌ
عَلَيْه ِ,مشكوة-৩/১৪৫০-৫২৭৩)
সম্পদের প্রয়োজন আছে। সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য
সম্পদ স’য় দোষনীয় নয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,
إِنَّكَ أَنْ
تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ
اَلنَّاسَ" (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ ,مشكوة-২/১৯৬-৩০৭১)
‘‘তুমি তোমার সন্তানের জন্য এতটা সম্পদ রেখে যাবে যেন অন্যের কাছে
তাদেরকে হাত পাততে না হয়।’’ -বুখারী; মিশকাত-খ. ২, পৃ. ১৯৬, হাঃ ৩০৩১
সম্পদের লোভ ভিতরে ঢুকানো যাবে না, সম্পদ আর মানুষের উদাহরণ হল পানি আর নৌকার মত। নৌকা চলার জন্য
পানির প্রয়োজন। পানি নৌকার নীচে ও আশেপাশে থাকলে উপকার; ভিতরে ঢুকলে ধ্বংসের কারণ। যে সন্তানদের জন্য আমি অবৈধ পন্থা
অবলম্বন করলাম সে সন্তানরা আমার পাপের বোঝা বহন করবে
না। আলহ তা‘আলাবলেন,
وَلَا تَزِرُ
وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ﴿الأنعام: ١٦٤﴾
‘‘একজনের বোঝা অন্যজন বহন করবে না।’’ -সূরা আন‘আমঃ ১৬৪
সম্পদ লোভের কারণ ও প্রতিকারঃ
লোভ আসে কয়েকটি কারণে।
ক। নিজের চেয়ে উপরের দিকে তাকানো। অন্যের গাড়ি, বাড়ি, জমি, ব্যাংক-ব্যালে›স ইত্যাদির দিকে
মনোনিবেশ করা।
প্রতিকারঃ
এ প্রসংগে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْظُرُوا إِلَى مَنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلَا تَنْظُرُوا
إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ
عَلَيْكُمْ (رواه المسلم- ৪/ ২২৭৫-
২৯৬৩ ومسند احمد-১৬/ ১৭৬- ১০২৪৬)
‘‘দুনিয়ার ব্যাপারে তোমার
চেয়ে যারা নীচে তাদের দিকে তাকাও, উপরে কারা আছে সে দিকে দৃষ্টি দিওনা।’’ -মুসলিম; মুসনাদে আহমদ
দ্বীনের ব্যাপারে বলা হয়েছে উপরের দিকে তাকাও, কে ইবাদত করে, দান-খয়রাত করে, সালাত, সিয়াম পালন করে। তাহলে দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগীতার মনোভাব
জাগ্রত হবে। এ প্রসংগে আল্লাহ তা‘আলাবলেন,
وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ
هُوَ مُوَلِّيهَا ۖ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا يَأْتِ بِكُمُ
اللَّهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿البقرة: ١٤٨﴾
‘‘আর সবার জন্যই রয়েছে কেবলা একেক দিকে, যে দিকে সে মুখ করে (এবাদত করবে)। কাজেই সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে
এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকবে, আল্লাহ্ অবশ্যই তোমাদেরকে
সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।’’ -সূরা বাক্বারাঃ ১৪৮
খ। অপব্যয়ঃ
অপব্যয় শুরু করার কারণে চাহিদা বেড়ে যায়।
এ প্রসংগে আল্লাহ তা‘আলাবলেন,
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا
وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ ﴿الأعراف: ٣١﴾
‘‘খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন
না।’’ -সূরা আ‘রাফঃ ৩১
গ। ধনীদের সংশ্রবঃ
ধনীদের সংশ্রবে নিজের মনে বড় হওয়ার স্পৃহা জেগে
উঠে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ)দু‘আ করেছেন,
عن أنس أن النبي
صلى الله عليه و سلم قال : " اللهم أحيني مسكينا وأمتني مسكينا واحشرني في زمرة
المساكين "(رواه الترمذي والبيهقي في شعب الإيمان ,مشكوة-৩/১৩৬-৫২৪৪)
‘‘হে আল্লাহ আমাকে মিছকীন করে রাখিও, মিছকীন করে মৃত্যু দিও এবং হাশরের মাঠে মিছকীনদের সাথে উঠাইয়ো।’’ -তিরমিযী; বাইহাকী; মিশকাত-খ. ৩, পৃ. ১৩৬, হাঃ ৫২৪৪
৫। সম্মানের মোহঃ
প্রশংসা, সুনাম অর্জনের মোহ গুলো অহংকার বোধ থেকে সৃষ্টি হয়। এই মোহ মানুষকে দীন থেকে দূরে
সরিয়ে দেয়। এই মোহ মনের মধ্যে ঢুকলে শুধু নিজের প্রশংসাই শুনতে মনে চায়, অন্যের প্রশংসা শুনতে খারাপ লাগে। এতে নিজে গোমরাহ হয়ে যাওয়া
ছাড়া উপায় থাকে না। যেমন শয়তান গোমরাহ হয়ে গেছে। এ প্রসংগে আল্লাহ বলেন,
قَالَ مَا مَنَعَكَ
أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ ۖ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ
وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ﴿الأعراف: ١٢﴾
‘‘আল্লাহ্ বললেন: আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বলল: আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি
করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা।’’ -সূরা আ‘রাফঃ ১২
وَإِذْ قُلْنَا
لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ
وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ ﴿البقرة: ٣٤﴾
অহংকার এবং বড় থাকার মোহ ইবলিম এর সর্বনাশ হলো
আল্লাহর অভিশাপের কারাগারে তাকে আবদ্ধ করলো।
নেতৃত্ব পাওয়ার লোভে বিরোধী পক্ষকে মেরে ফেলা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার এবং সকল অবৈধ পন্থার সমাহার সৃষ্টি হয়।
সম্মানের মোহে অনেক আমল থেকে দূরে থাকতে হয়। যেমনঃ- অধিনস্তকে সালাম দেওয়া থেকে বিরত
থাকা,
পর্দা ছেড়ে দেয়া, অনেক গোনাহের দিকে ধাবিত হওয়া। একথার অর্থ এই নয় যে আমি সমাজে অসম্মানী হয়ে থাকবো।
সম্মান বিসর্জন দেব, এ অর্থ আদো এটা নয়।
বরং ইসলাম নিজের সম্মান টিকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নিজেকে অসম্মানি করতে নিষেধ করেছে।
এ প্রসংগে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেন,
عن حذيفة قال
: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : " لا ينبغي للمؤمن أن يذل نفسه "
( رواه الترمذي وابن ماجه والبيهقي في شعب الإيمان ,مشكوة-২/৬৩-২৫০৩)
‘‘কোন মুমিনের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, সে এমন কাজ করবে যাতে সে অসম্মানি হয়ে যায়।’’ -তিরমিযী; ইবনে মাজাহ, বাইহাকী; মিশকাত- খ. ২, পৃ. ৬৩, হাঃ ২৫০৩
অতএব নিজের সম্মান টিকিয়ে রাখা মুমিনের জন্য কর্তব্য।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কর্তৃক সন্দেহের অপনোদন।
প্রতিকারঃ
মন যদি বড়ত্ব দেখতে চায়, তাহলে মনকে বুঝাতে হবে। কবির ভাষায় তোমার মধ্যে বড়ায়ী করার মত
কি আছে?
শুরুতে তুমি ছিলে এক ফোটা নাপাক দুর্গন্ধ, তোমার শেষ ফল হলো মরে পচে দুর্গন্ধময় লাশ, আর মাঝখানে নাপাক দুর্গন্ধময় কিছু সময়।’’ কাজেই বড়াই বোধ ছাড়। বিনয়ী শিখ। না হলে কিছুতেই শান্তি নাই।
তাই আল্লাহর স্মরণ ছাড়া কোন বিকল্প পথ নেই। কবিবলেন,
‘‘অতীব গভীর হয় রজনী যখন
নিরবে খোদার নাম জপিও তখন।’’
উপসংহারঃ



No comments:
Post a Comment