রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
ছিলেন বিশ্বনবী হিসেবে সকলের স্নেহের,
স্বামী হিসেবে প্রেমময়, পিতা হিসেবে স্নেহের আধার,
বন্ধু হিসেবে বিশ্বস্ত, উপরন্তু তিনি ছিলেন সফল আদর্শ ব্যবসায়ী, দূরদর্শী শ্রেষ্ঠ সংস্কারক, বীর যোদ্ধা, নিপুন সেনানায়ক,
নিরপেক্ষ বিচারক, মহান রাজনীতিক এবং অপরাপর মহৎ গুণের অধিকারী। সর্বক্ষেত্রে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও অপুর্ব সাফল্য সহকারে তার কর্তব্য সম্পাদন করে্ছেন।
একদিন আলী (রাঃ) প্রিয় নবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার সাধারণ আচার-ব্যবহার কোন নীতিগুলো দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে? প্রিয়নবী (সাঃ) বললেন, জ্ঞান আমার সম্পদ, যুক্তি আমার ধর্মের ভিত্তি, ভালোবাসা আমার বুনিয়াদ, ইচ্ছা আমার চালিকা শক্তি, আল্লাহর স্মরণ আমার নিত্য সহচর, বিশ্বাস আমার পুঁজি, উৎকণ্ঠা আমার সাথী, বিজ্ঞান আমার শক্তি, সবর আমার আবরণ, পরিতৃপ্তি আমার অমূল্য সম্পদ, সংযম আমার অহংকার, আরাম-আয়েশ পরিহার করাই আমার কাজ, বিশ্বাসের দৃঢ়তা আমার পাথেয়, আনুগত্য আমার পরিতৃপ্তি, জিহাদ আমার জীবনের বৈশিষ্ট্য, ইবাদত আমার অন্তরের আলো। (সূত্রঃ বিভিন্ন হাদীসের সংক্ষিপ্তরূপ)
কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা তাকে রহমাতুল্লিল
আলামিন (সমগ্র জগতের রহমত), সাইয়েদুল মুরসালিন (সমস্ত নবীদের সরদার), উসওয়াতুন
হাসানাহ (উত্তম আদর্শ ও চরিত্রের অধিকারী) বলে উল্লেখ করেছেন। দুনিয়াতে তিনি
প্রেরিত হয়েছিলেন সিরাজুম মুনিরা (হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রদীপ) হিসেবে।
তিনি সমাজ
থেকে অন্যায়, অনাচার, অসত্য, অন্ধকার
দূরীভূত করে সত্য-সাম্য ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গড়ে গেছেন মানবজাতির জন্য। তার ৬৩ বছরে
সংক্ষিপ্ত জীবনের অনুপম শিক্ষা ও জীবন আদর্শ আমাদের ধর্মীয়, পার্থিব ও সামরিক জীবনে অনুসরণের মাধ্যমে শান্তি ও কল্যাণ
নিশ্চিত করা সম্ভব।
আল্লাহ
তায়ালা আমাদেরকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর (সাঃ) শিক্ষায় উদ্দীপ্ত হয়ে পরবর্তী দিনগুলো
অতিবাহিত করার তৌফিক দান করুন।

